সারাদেশ

  • পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত

    পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ শনিবার নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে স্বাক্ষর করেন সংস্থার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

    ইসি জানায়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৬৮ (পাবনা-১) ও ৬৯ (পাবনা-২)-এর সীমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগ গত ৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই নির্বাচনি এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

    সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ইসি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলার সমন্বয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়।

    ইসির ওই গেজেটের এই দুটি আসন-সংক্রান্ত অংশের বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করে।

    তাতে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। তাতে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। এছাড়া পাবনা-২ আসনও বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়।

    অন্যদিকে হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও নির্বাচন কমিশন পৃথক আবেদন করে। আবেদন দুটি গত ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে।

    গত ৫ জানুয়ারি এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
    সুত্র আমারদেশ

  • হিরো আলম যোগ দেওয়ায় দল থেকে বেরিয়ে গেলেন সাধনা

    হিরো আলম যোগ দেওয়ায় দল থেকে বেরিয়ে গেলেন সাধনা

    এনসিপি ছাড়ছেন যারা, তাদের জন্য আমজনতার দলের দরজা খোলা রাখার কথা বলেছিলেন দলটির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। কিন্তু সেই ‘খোলা দরজা’ দিয়েই এবার দল ছাড়লেন তার নিজের দলের সহসভাপতি সাধনা মহল।

    রোববার রাত (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে আমজনতার দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। পোস্টে সরাসরি কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও মন্তব্যের ঘরে দেওয়া প্রতিক্রিয়াগুলোতে সিদ্ধান্তের পেছনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

    একই দিন সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, সদ্য নিবন্ধিত আমজনতার দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তার যোগদানের পরপরই সহসভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন সাধনা মহল।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, আমজনতার দল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তারেক রহমান ও দলের জন্য শুভকামনা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আগেই দলটি তাদের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ পাবে।

    এ/ আর♦

  • যেকোনো উসকানির বিরুদ্ধে আমাদের শান্ত থাকতে হবে

    যেকোনো উসকানির বিরুদ্ধে আমাদের শান্ত থাকতে হবে

    দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের মাটিতে পা রাখার পর যোগ দেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। শুরুতেই বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ।’

    তারপর দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে শুরু করেন বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া— আপনাদের দোয়ায় প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে দেশবাসীর উদ্দেশে দিলেন ‘ইনসাফের শাসনের বার্তা’।

    তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি চাই। মার্টিন লুথার কিং—নাম তো শুনেছেন না আপনারা? তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে, আই হ্যাভ আ ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সবার সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।’

    সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়, প্রিয় ভাইবোনেরা এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন ইনশা আল্লাহ আমরা আই হ্যাভ আ প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।’

    বিএনপি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো আমরা, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি। হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ারদিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী—আজ আপনি যদি আমাদেরকে রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে; আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এই দেশের মানুষের উপরে থাকে– ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে আমরা সবাই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

  • ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জরিমানা গুণলেন ব্যবসায়ী

    ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জরিমানা গুণলেন ব্যবসায়ী

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুইচিং মং মারমার স্বাক্ষর জাল করায় এক মাটি ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ওই ব্যবসায়ীর একটি মাটি ভর্তি ট্রাকও জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের চৌপাকিয়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ীর নাম মামুন হোসেন। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। তিনি জানান, ইউএনও সুইচিং মং মারমার স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে খননযন্ত্র দিয়ে ফসলি জমির মাটি খনন করে অন্যত্র বিক্রি করছিলেন মামুন। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই মাটি ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার রায়দলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ী পশ্চিমপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত গৃহবধূর নাম মোছাঃ দোলা খাতুন (২৫)। তিনি ওই এলাকার মোঃ আসিক মোল্লার স্ত্রী। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রফিক মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিবেশী লাইলী বেগম, পলাশ, পলি, সুমাইয়াসহ আরও কয়েকজন দাও, বটি ও বাটাম দিয়ে মোছাঃ দোলাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ সময় বাড়িতে অন্য কেউ উপস্থিত না থাকায় একা পেয়ে তাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আরও জানা যায়, ঘটনার আগে মোছাঃ দোলার ছোট ছেলে প্রতিবেশীদের বাড়িতে বড়ই কুড়াতে গেলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। মোছাঃ দোলা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে স্থানীয়রা জানান।

    আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাইলী বেগম বলেন, “সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশিক মোল্লাসহ তাদের বাড়ির লোকজন আমাদের মারধর করে। পরে বেলা ১১টার দিকে আমার মেয়ে গিয়ে দোলাকে আঘাত করে।

    এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছেড়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন (পুতুল)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

    গণপ্রতিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কোনো লাভজনক পদে থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

    জানা গেছে, ফারজানা শারমিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা, ক্যাপিটাল ল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, গ্রিন ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) স্বাধীন পরিচালকের পদ ছেড়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তিনি এসব পদ থেকে সরে এসেছেন।

    ফারজানা শারমিন বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো সময়ও দিতে পারছিলেন না।

  • ধুনটে বিএনপির অফিস ভাঙচুর মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    ধুনটে বিএনপির অফিস ভাঙচুর মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ার ধুনটে দোয়া মাহফিলে হামলা, বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও ব্যানারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাহমুদুল হাসান মিথু (৩২) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান মিথু ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য এবং নারায়ণপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ মে ধুনট বাজারে হোটেল আরাফাত ভবনের দোতলায় অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

    এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে দোয়া মাহফিলে হামলা চালায়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয় এবং কার্যালয় ভাঙচুর ও ব্যানারে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর যুবদল নেতা ইমদাদুল হক রনি বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৬১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ জনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে মাহমুদুল হাসান মিথুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোস্তাফিজ আলম জানান, মামলার এজাহারে গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম উল্লেখ না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকে বগুড়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা  শেরপুরে মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

    স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা শেরপুরে মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

    বিডটাইমস ডেস্কঃ

    বগুড়ায় একটি হিমাগারের পলাতক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টার অভিযোগে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    বগুড়ার শেরপুরের খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মিল্লাত হোসেন সম্প্রতি বগুড়ার অবকাশকালীন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা করেন।

    বিচারক সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির মামলাটি আমলে নিয়ে নথিপত্র ও প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব ও দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান, প্রধান কার্যালয়ের ইনচার্জ মাহমুদ হোসেন খান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ, বগুড়ার জোনাল শাখার ইনচার্জ সিকদার শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (বিআরপিডি) ও সদস্য সচিব, নীতি সহায়তা প্রদান বাছাই কমিটি বায়েজিদ সরকার এবং বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক বাজারে আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না (সভাপতি নাগরিক ঐক্য)।

    মামলায় কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম নাজমুল কাদির শাহজাহান চৌধুরী ও পরিচালক তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুসহ পাঁচজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

    বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা জালিয়াতি ও প্রতারণাকারী এবং আইন পরিপন্থি কাজের সঙ্গে জড়িত। তার সঙ্গে ২নং সাক্ষী এবিএম নাজমুল কাদির চৌধুরী ও ৩নং সাক্ষী ইসমত আরা লাইজুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিনামা সম্পাদক হয়। চুক্তিনামা অনুযায়ী এরা দুজন ও ৭নং আসামি মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করে তা বিক্রির জন্য চুক্তি হয়। চুক্তির দিন সাক্ষী ১০ কোটি টাকা বুঝিয়ে দেন এবং অবশিষ্ট ১৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের সময় পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়েও সম্মতি প্রকাশ করেন।

    পরে দেখা যায়, সাক্ষী এবিএম নাজমুল১ কাদির শাহজাহান চৌধুরী ও তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজু গত বছরের ১৯ আগস্ট আমেরিকা চলে যান। পলাতক অবস্থায় তাদের অনুপস্থিতিতে আসামি মাহমুদুর রহমান মান্না ওই দম্পতির স্বাক্ষর জাল করে ১ ডিসেম্বর বোর্ড সভার ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করেন। যেখানে ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    আসামিরা এই জাল রেজুলেশনকে বৈধ রূপ দিয়ে তা বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকে দাখিল করে ঋণ পুনঃতফশিলের আবেদন করেন। পরে তারা পরস্পর যোগসাজশে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে মিথ্যা কাগজপত্রের মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফশিলের অনুমোদন আদায়ের চেষ্টা করেন।

    গত ১১ ডিসেম্বর দাখিল করা ওই মামলায় আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বগুড়ার বড়গোলা শাখা থেকে খেলাপি ৩৮ কোটি চার লাখ ৭৬ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য আসামিদের ‘কল ব্যাক নোটিশ’ দেওয়া হয়।

    ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এরপরও আসামিরা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে পুনঃতফশিলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব বলেন, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিবগঞ্জের কিচক বাজারে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাহজাহান চৌধুরী, তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপরও তাদের উপস্থিত দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা করায় এ মামলা হয়েছে।

    দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল জানান, আদালতের আদেশের কপি বুধবার হাতে এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার আদেশের অনুলিপিসহ নথিপত্র দুদক ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সূত্রঃ যুগান্তর

  • সোনাতলায় বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ৫০ কোটি টাকার সেতু

    সোনাতলায় বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ৫০ কোটি টাকার সেতু

    বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালি নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। এতে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আড়িয়ারঘাট সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে।

    নদীপাড়ের বাড়িঘর বর্ষা মৌসুমে হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খরস্রোতা বাঙালি নদীর ভাঙন দেখা দিতে পারে।

    প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একশ্রেণির বালু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে জানান স্থানীয়রা।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির বালু ব্যবসায়ী উপজেলার আড়িয়ারঘাট থেকে পোড়াপাইকর (ছলুরঘাট) পর্যন্ত অর্ধশতাধিক স্থানে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে। ২০২০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার নামাজখালী, রানীরপাড়া, রংরারপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, হলিদাবগা, পোড়াপাইকর এলাকায় নদীর ডান তীর সংরক্ষণ কাজ করে।

    নদীর তীর সংরক্ষণের এ প্রকল্প হুমকির মুখে রয়েছে। নদীতে অবাধে বালু উত্তোলন করায় বাড়িঘর, ফসলি জমি, গাছপালাও হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য হারাতে বসেছে।

    এআর/নিই

  • দুপচাঁচিয়ায় আ.লীগ নেতা জিল্লুর গ্রেপ্তার

    দুপচাঁচিয়ায় আ.লীগ নেতা জিল্লুর গ্রেপ্তার

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমানকে (৪৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলার পশ্চিম আলোহালী গ্রামের মৃত হাসেন আলী আকন্দের ছেলে।

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

    তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণসহ জুলাই যোদ্ধা শহীদ মনির হত্যার মামলার আসামি হিসেবে অভিযোগ রয়েছে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত জিল্লুর রহমানকে বগুড়া বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • সারিয়াকান্দিতে বিএনপির মনোনয়ন: আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মিছিল, যুবদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি

    সারিয়াকান্দিতে বিএনপির মনোনয়ন: আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মিছিল, যুবদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি

    বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে তাঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে মিছিল সমাবেশ করার অভিযোগে সোনাতলা উপজেলায় দুই যুবদল নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    যাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম।

    জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দলীয় সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

    জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, ৮ নভেম্বর বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপি থেকে ঘোষিত সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্লোগান ও মিছিল সমাবেশ করা হয় শামিম হোসেন ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বে। এ বিষয়ে প্রমাণসহ অভিযোগ উঠলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    জানতে চাইলে অব্যাহতি পাওয়া যুবদল নেতা শামিম হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সে বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার আগে কৈফিয়ত তলব করা হয়নি।’

    শামিম আরও বলেন, ‘আমার নামে ১২ থেকে ১৪টি মামলা। গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর বিএনপিতে নতুন নতুন নেতার আবির্ভাব হয়েছে। আমাকে যুবদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও আমি ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদে আছি। এ কারণে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা নেই।’

  • কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে সন্ত্রাসী নিহত

    কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে সন্ত্রাসী নিহত

    বগুড়ার কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে মিলন রহমান ওরফে টাইগার মিলন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

    তিনি এক সপ্তাহ আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন।

    ঘটনার পরপরই পুলিশ স্ত্রী মেঘনা বেগম ও তাঁর ছেলে শামিমকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে কাহালু উপজেলার পালপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, তিন বছর আগে মিলন ও মেঘনা বিয়ের মাধ্যমে উভয়েই তৃতীয়বারের মতো সংসার শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। মিলন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি মারামারির এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি এক সপ্তাহ আগে জামিনে মুক্তি পান।

    বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মিলন ও মেঘনার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে মেঘনার প্রথম পক্ষের ছেলে শামিম সেখানে গিয়ে মা মেঘনার পক্ষ নিয়ে লাঠি দিয়ে মিলনের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ মেঘনা ও তাঁর ছেলে শামিমকে গ্রেপ্তার করে।

    কাহালু থানার ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে মেঘনা ও তাঁর ছেলে শামিমের নামে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদেরকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • বগুড়ার গাবতলী-শাহাজানপুরের সাবেক এমপি বাবলু ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    বগুড়ার গাবতলী-শাহাজানপুরের সাবেক এমপি বাবলু ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সাবেক স্বতন্ত্র (রাতের ভোটের) সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

    তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দেয়।

    বুধবার (২৪ডিসেম্বর) বিকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

    দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (২০১৮ সালের রাতের ভোটের) রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে। এর প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে ওই দম্পতিকে পৃথক নোটিশে তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়।

    ওই নোটিশ পাওয়ার পর রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুন গত ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়া কার্যালয়ে পৃথকভাবে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সম্পদ বিবরণী দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে যাচাই ও অনুসন্ধান করা হয়। তদন্তে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে দুদক বগুড়া কার্যালয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ওই দম্পতির বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ে মামলা করেন।

    তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলামকে। তদন্ত করে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে এক কোটি দুই লাখ ছয় হাজার ২৯৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পান। এরপর দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে দুদক আইনের বিভিন্ন ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এর প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক সম্প্রতি আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

  • বগুড়ার শিবগঞ্জে ফুলকপির কেজি দেড় টাকা

    বগুড়ার শিবগঞ্জে ফুলকপির কেজি দেড় টাকা

    প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশায় কারণে বগুড়ার মহাস্থানে হাটে ফুলকপির দরপতন হয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে দেড় টাকায়। শীতের প্রকোপে হাটে এ সবজির আমদানি বাড়লেও পাইকার কম থাকায় এই মূল্য পতন হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সবজির মোকাম মহাস্থানহাট ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশার চাঁদর ভেদে করে কৃষকরা ভোর থেকেই ভ্যানে করে ফুলকপি মহাস্থান মোকামে আনতে শুরু করেন। প্রথম দিকে ক্রেতা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানি বেশি হওয়ায় ব্যাপারিরা হারিয়ে যায়।

    সেই সময় ১০০ থেকে ১৩০ টাকা মণ দরে ফুলকপি বিক্রি কলেও পরে তা নেমে যায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা মণ দরে।

    ঘন কুয়াশার কারণে দুপুর ২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেনি। আর এ কারণে মোকামে পাইকারদের আগমন কম হয়েছে। এতে করেই দরপতন হয়েছে।

    রোববার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে, শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সামনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

    মহাস্থান হাটে দেখা গেছে, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সবখানেই সবজিতে ঠাসা। সকাল থেকে দূরদূরান্তের কৃষকরা অটোভ্যান, ইজিবাইক, ভটভটি, সিএনজি যোগে তাদের জমিতে উৎপাদিত সবজি হাটে আনেন ভাল দাম পাওয়ার আশায়। ক্রেতা-বিক্রেতা আর আড়তদারদের ভিড় ছিল নিত্যদিনের মতো। কিন্তু ছিল না কপির কাঙ্ক্ষিত দাম। শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুমে প্রতিদিনই বাজার নিন্মমুখী হওয়ায় লোকসানে পড়ছেন কৃষকরা।

    চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি, স্টক সুবিধা না থাকা ও ক্রেতা সংকট হওয়ায় জমিতে চাষ করা টাটকা সবজি বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছেন তারা। যার ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক, উৎপাদন খরচ নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ।

    মহাস্থান মোকামে ফুলকপি বিক্রি করতে আসা শিবগঞ্জ উপজেলার বালুয়া গ্রামের ফারুক ইসলাম বলেন, ১০ মণ ফুলকপি এনেছিলাম বিক্রির জন্য। কিন্তু আমদানি বেশি। ক্রেতা নেই। তাই বাধ্য হয়ে ৪৫০ টাকায় ১০ মণ কপি বিক্রি করে ভ্যান ভাড়া তুলেছি। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ১ টাকা ১৫ পয়সা।

    একই কথা জানালেন উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক হেলাল প্রামাণিক। তিনি ১৭ মণ ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ টাকা মণ দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়েছে এক টাকা পঁচিশ পয়সা।

    নারায়ণগঞ্জ থেকে সবজি কিনতে আসা ব্যাপারি এমদাদদুল হক জানান, তিনি মহাস্থানের গিয়াস উদ্দিনের আড়ত থেকে সবজি কিনেন। রোববার ফুলকপির দাম কমে যাওয়ায় তিনি ৫০ টাকা মণ দরে এক টন কিনেছেন। আরও কিনবেন।

    ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ী মিলন রহমান কামাল হাাজর আড়তে সবজি কিনেন। কপির দাম কম পাওয়ায় তিনি তিন টন কপি কিনেছেন। যার মণ ছিল গড়ে ৫০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

    মহাস্থানের ব্যবসায়ী বিশাল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী তাহেরুল ইসলাম বলেন, মহাস্থানে ছোটবড় আড়ত প্রায় ৪০টি। এখন প্রতিদিন মাল ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় ৪০ ট্রাক। বাজারে আমদানি বেশি, বাহির থেকে ব্যাপারি না আসায় সবজির দাম প্রতিদিন নিম্নমুখী। আমরা কৃষকের কষ্টের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে মালামাল ক্রয় করছি, এতে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমরা ব্যবসায়ীরাও হচ্ছি।

    শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, আবহাওয়াজনিত কারণে হঠাৎ করেই ফুলকপি দাম কমে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে দাম আবার বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

    বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে এবং রোগবালাই না থাকায় এবার প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়েছে। তাছাড়া একই সময় সব শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে এসেছে। নেমে গেছে কিছু সবজির দাম। কদিনে মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হবে। সূত্রঃ কালবেলা

  • পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’। কালের বির্বতনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খেলাটি। তাই এই খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন আয়োজন।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ) বিকালে উপজেলার পীরপাল গ্রামে এই খেলাটির উদ্বোধন করা হয়। খেলায় ৫ জন পাতা অংশ নেন এবং ৪টি গ্রুপের ২০ জন তান্ত্রিক দল অংশ নেয়।ঐতিহ্যবাহী খেলাটি দেখতে আশপাশ থেকে ছুটে আসেন সব বয়সের মানুষ। তবে খেলাটি প্রতি বছর ও বড় পরিসরে করার দাবী দর্শনার্থীদের। তবে আগামীতে সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে খেলাটি করার ইচ্ছে আয়োজকদের।

    কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে প্রাচীন বাংলার খেলাধুলা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছিত পাতা খেলা নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অচেনা। তাই তাদের নতুন করে পরিচয় করে দেবার জন্য আয়োজন করেছে পীরপাল গ্রামের যুবসমাজ। খেলাটি চলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।

    মাঠের চারপাশে মন্ত্র পড়ছে কিছু মানুষ। তান্ত্রিক দল মন্ত্র দিয়ে মানুষরূপী পাতাকে মাঠের মাঝখান থেকে নিজের দিকে টানার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। যে দল তাদের মন্ত্রের মাধ্যমে পাতাকে নিজের জায়গার মধ্যে নিয়ে আসতে পারবে সেই বিজয়ী। প্রতিযোগিতায় যাদের পয়েন্ট বেশি সেই দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

    খেলোয়াড়রা বলেন, এই খেলায় মন্ত্রবিদরা যেমন আনন্দিত তেমনি আনন্দিত খেলোয়াড়রা যা ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। তারা চান মাঝে মধ্যেই যেন এ বিনোদন খেলাটি মানুষেরা উপভোগ করতে পারেন। কোনো পুরস্কারের আশায় নয় খেলাটি খেলতে এসেছের দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য।এদিকে আয়োজকরা বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরা ও নতুনদেরকে এই খেলার সাথে পরিচয় করার জন্য এই খেলার আয়োজন। খেলাটি নিজেদের অর্থায়নে করা। যদি সরকার কিংবা জনপতিনিধিরা একটু সাহায্য করেন তাহলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করা যেতে পারে।খেলায় ৩ টি টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন উপজেলার আটটুল গ্রামের তান্ত্রিক দল । খেলা শেষে চ্যাম্পিয়নকে রাজহাঁস ও রার্নাস আপকে পাতী হাঁস পুরস্কৃত করা হয়।

  • জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠে নেমেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি।

    জয়পুরহাটের কালাই বাসস্ট্যান্ড, নিশ্চিন্তা, বটতলি, ইটাখোলা বাজার, গোপিনাথপুর, জামালগঞ্জ বাজার, মুঞ্জাহার বাজার, পাঁচগ্রাম ও পুনট বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যান তিনি।এ সময় কয়েকশ মোটরসাইকেলের বিশাল শোভাযাত্রা, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি এবং নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়। নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বাজার ও আশপাশের এলাকা। স্থানীয় জনসাধারণও বিএনপির এই গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া দেয়।

    গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালাই থানা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব ইব্রাহিম ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজউদ্দীন, সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান তালুকদার, পুনট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহীন, কালাই থানা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ কাফি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনজুমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    গণসংযোগ চলাকালে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি বলেন, “বিএনপি জনগণের দল, এ দলের রাজনীতি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ৩১ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো রাষ্ট্র মেরামত ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। দল যাকেই মনোনয়ন দিক, আমি তার পক্ষেই কাজ করব।”

  • কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপসারা মহল্লার কৃষক হাসান আলী এবার চাল কুমড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন।

    মাত্র ৮ শতাংশ পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করেছেন চাল কুমড়ার মাচা। এখন সেই মাচায় ঝুলছে সতেজ সবুজ চাল কুমড়া আর তার সঙ্গে দুলছে তাঁর স্বপ্নও।হাসান আলী জানান, জমিতে চাল কুমড়া চাষে তাঁর প্রথম পর্যায়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। মৌসুম শেষে এই ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭ হাজারে। ইতোমধ্যেই প্রথম দফায় ৫০টি চাল কুমড়া তুলেছেন তিনি।

    তাঁর আশা, আগামী তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি চাল কুমড়া তুলতে পারবেন তিনি। সব মিলিয়ে মৌসুম শেষে চাল কুমড়ার সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০০টিতে।

    তিনি আরও জানান, এখন প্রতিটি চাল কুমড়া পাইকারিতে গড়ে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি চাল কুমড়া থেকে ১০ টাকা করে লাভ থাকছে তাঁর। সে হিসাবে মৌসুম শেষে তাঁর সম্ভাব্য লাভ হবে প্রায় ৭ হাজার টাকা।

    তাঁর এই সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। একই এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মোমিন এবং রেজওয়ান বলেন, ‘ধান আর আলু ছাড়া আমরা আর কিছু চাষ করতাম না।

    হাসান আলীর চাল কুমড়া চাষ দেখে বুঝছি, এতে পরিশ্রম ও খরচ কম—কিন্তু লাভ বেশি। তাই আগামীতে আমরাও চাল কুমড়া চাষ শুরু করতে চাই।’

    কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চাল কুমড়া চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম, লাভ দ্বিগুণ—কিন্তু এ এলাকার কৃষকেরা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন না। হাসান আলীর এই উদ্যোগ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, ‘উদ্যোমী কৃষক হাসান আলী খরিপ-২ মৌসুম শুরুর আগেই চাল কুমড়ার মতো ফসল বাজারজাত করতে পেরেছেন, যা খুবই ইতিবাচক।

    প্রতিটি উপজেলায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ চলছে। হাসান আলীর মতো উদ্যোগী চাষিদের নিয়মিত প্রণোদনা দেওয়ার জন্য আমরা কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

  • আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    এক সময় শহর ও গ্রামের অলিগলিতে মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল প্যাডেল চালিত রিকশা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রিকশাচালকরা ঘুরিয়ে যেতেন জীবনের চাকা, আর তাদের ঘণ্টির ‘ক্রিং ক্রিং’ শব্দে মুখর থাকত পথঘাট। এই রিকশাই ছিল নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবারের জীবিকার উৎস।

    কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই প্যাডেল রিকশা হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোর দখলে। নিঃশব্দে বিলীন হচ্ছে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল ঐতিহ্য, রেখে যাচ্ছে কেবল স্মৃতির শব্দ—‘ক্রিং… ক্রিং…’জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের অলিগলিতে একসময় সকাল-বিকেল ভেসে আসত রিকশার ঘণ্টির সুর। কিন্তু এখন সে দৃশ্য প্রায় বিরল। ব্যাটারিচালিত অটোর দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন সেই বাহন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি পাল্টেছে পরিবহন সংস্কৃতিও।

    প্যাডেল রিকশায় পরিশ্রম বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কম শ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় চালকদের বড় একটি অংশ পেশা বদলেছেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই এখন দেখা যায় অটোরিকশার সারি, যা যাত্রীদের কাছেও দ্রুত ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    ৬৫ বছর বয়সী রিকশাচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘বাবা, অটো কিনতে টাকা লাগে, আমি গরিব মানুষ। এই রিকশাটাই আমার ভরসা। আগে যাত্রী তুলতাম, এখন আইসক্রিম বেচে খাই। দিনে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। এখন মানুষ হাঁটতেও চায় না, সবাই অটোতে ওঠে।’

    চোখের কোণে বিষাদ লুকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘণ্টির শব্দেই কেটেছে আমার জীবন। এখন সবাই বলে, ‘দাদু, এইটা চালাও কেন?’ কিন্তু আমি ফেলে দিতে পারি না, এটা তো আমার সঙ্গী।’

    একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

    অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

    জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

    যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

    সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

  • ক্ষেতলালে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান

    ক্ষেতলালে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা প্রদান করেছে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তরুণ মানবকল্যাণ যুব সংস্থার আয়োজনে সকালে পৌর সদরে থানা বাজার খোশবদন জি ইউ আলিম মাদ্রাসায় এ চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন করেন,উপজেলা নিবার্হী অফিসার জনাব সানজিদা চৌধুরী।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজ্জাদ পারভেজ। তিনি বলেন, বিনামূল্যে এই চক্ষু সেবা স্থানীয় মানুষের মাঝে স্বস্তি এনে দেয়। ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছি।দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে চোখের সমস্যা নির্ণয়,দৃষ্টি পরীক্ষা,পাওয়ার মাপা,ছানি রোগ সনাক্তকরণসহ বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যেসব রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের জন্য পৃথকভাবে রেফারেল করা হয়। সেবা নিতে আসা রোগী ছামছূল সহ একাধিক রোগী জানান,ফ্রি সেবা পাওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। গ্রামের মানুষ এমন সুযোগ খুব কম পায়।তরুণ মানবকল্যাণ যুব সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন,শীতকালকে সামনে রেখে পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে এই সেবা পৌঁছে দিতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। আগামীতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

  • পুকুরে বিষ দিয়ে ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

    পুকুরে বিষ দিয়ে ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

    নাটোরের সিংড়ায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের গোয়ালবাড়িয়া গ্রামে ১২ বিঘা আয়তনের ওই পুকুরে এই ঘটনা ঘটে।

    মাছগুলো বিক্রির উপযুক্ত হয়ে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে এমন ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে পুকুরে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি জানাজানি হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়ালবাড়িয়া গ্রামের মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন পুকুরটি গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন পাড়েরা গ্রামের মৎস্যচাষি সিদ্দিক প্রামাণিক। গত ছয় মাস ধরে তিনি সেখানে পাবদা, ট্যাংরা, রুই, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে ছিলেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি সিদ্দিক প্রামাণিক জানান, পুকুরটিতে দেড় লাখ পাবদা, ২ লাখ ট্যাংরা, ২ হাজার রুই, ১ হাজার মৃগেল, ২২০টি বিগহেড ও ৩৮০টি সিলভার কার্পসহ বিপুল পরিমাণ মাছ ছেড়েছিলেন তিনি। মাছের পোনা, খাবার ও পরিচর্যা বাবদ তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা ছিল, ৩৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে কে বা কারা শত্রুতা করে পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট (বিষ) প্রয়োগ করায় সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

    সিদ্দিক প্রামাণিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘শত্রুতা করে আমার সব শেষ করে দিলো। আমি তো পথে বসে গেলাম। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

  • নাটোরে রেললাইনে ফাটল

    নাটোরে রেললাইনে ফাটল

    নাটোরের নলডাঙ্গায় রেললাইনে ফাটল দেখা দিয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মাধনগর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফাটলটি নজরে আসে। তবে রেলকর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় মেরামত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মাধনগর রেলস্টেশনের দক্ষিণে এনড়ার পাড় এলাকায় ২৫৩ নম্বর পিলারের কাছে ১ নম্বর রেললাইনে ফাটল দেখতে পান এলাকাবাসী। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গ্রাম পুলিশ নাজমুল হোসেন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফাটল মেরামতের ব্যবস্থা নেয়।

    রেলওয়ের ট্রলিম্যান জুলফিকার হোসেন জানান, ফাটলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরই দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রেলওয়ের কর্মীরা মেরামত কাজ শেষ করেন। মেরামতের সময় ওই লাইনে সতর্কতামূলকভাবে ট্রেন ধীরগতিতে চলাচল করে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

    খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রেলকর্মী ও স্থানীয়দের ধারণা, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে রেললাইনের লোহা সংকুচিত হয়ে এ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী বীরকুৎসা রেলস্টেশনের উত্তরেও একইভাবে রেললাইনে ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা পরে মেরামত করা হয়।

  • নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রশিদপুর গ্রামের তরুণ কৃষক ইমরান হোসাইন ধানখেতে তৈরি করেছেন জাতীয় পতাকার আকৃতি। ধান গাছ দিয়ে সবুজ জমির মাঝে লাল বৃত্ত তৈরি করে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দেশের পতাকার রূপ। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    ইমরান হোসাইন জানান, দেশপ্রেম আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই উদ্যোগ। প্রায় ৪৫ শতক জমিতে দুই জাতের ধান রোপণ করে তিনি তৈরি করেছেন এই অনন্য চিত্র। সবুজ অংশে ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানি লং বাসমতী ধান, আর মাঝের লাল বৃত্তের স্থানে লাগিয়েছেন বেগুনি রঙের পারপোল রাইস। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ধানের শীষে আঁকা পতাকাটি যেন বাতাসে দুলছে।

    ইমরান বলেন, দেশকে ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়। কাজের মাধ্যমেই দেশপ্রেম প্রকাশ পেতে পারে। এই খেত আমার কাছে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার প্রতীক।

    তার এই ব্যতিক্রমী কাজ দেখতে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন ইমরানের সৃজনশীল এই প্রচেষ্টা।

    জামাল উদ্দিন নামের একজন বলেন, ইমরানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে দেখতে এসেছি। জীবন্ত ধান গাছের পতাকা আগে কখনো দেখেনি। দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

    গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, ইমরানের এই উদ্যোগ শুধু দেশপ্রেম নয়, কৃষিক্ষেত্রে সৃজনশীলতারও এক সুন্দর উদাহরণ। এমন উদ্যোগ তরুণদের কৃষির প্রতি উৎসাহিত করবে।

  • এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল!

    এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল!

    নাটোরের বড়াইগ্রামে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছেন দুই শিক্ষার্থী। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন, উপজেলার বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের আইটি সাপোর্ট অ্যান্ড আইওটি বেসিকস ট্রেডের পরীক্ষার্থী আরাফাত সরদার এবং আহমেদপুর ডিগ্রি কলেজের ফুড প্রসেসিং ট্রেডের পরীক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, আরাফাত সরদার ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ‘আইটি সাপোর্ট এন্ড আইওটি বেসিকস’ ট্রেডে অংশ নেয়। সে বছর ১৫টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে রসায়ন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এরপর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শুধু রসায়ন বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেন। তার প্রবেশপত্রেও শুধু রসায়ন বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের ১০ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি রসায়ন ছাড়াও কৃষি বিষয়েও ফেল করেছেন। অথচ কৃষি বিষয়টি তার পরীক্ষার অন্তর্ভুক্তই ছিল না।

    একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে আহমেদপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদের ক্ষেত্রেও। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ‘ফুড প্রসেসিং’ ট্রেডে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান বিষয়ে অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের পরীক্ষায় শুধু আত্মকর্মসংস্থান বিষয়েই অংশ নেন। তার প্রবেশপত্রেও শুধু ওই একটি বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ফলাফলে দেখা যায়, আত্মকর্মসংস্থান ছাড়া তাকেও কৃষি বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে।

    সাব্বির আহমেদ বলেন, আমি এক বিষয়ে ফেল করেছিলাম, সে বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিয়েছি। এখন ফলাফলে দেখি কৃষি বিষয়েও ফেল। অথচ কৃষি আমার প্রবেশপত্রেই ছিল না।

  • বাবার কবরের পাশে করপোরাল মাসুদ রানার দাফন

    বাবার কবরের পাশে করপোরাল মাসুদ রানার দাফন

    সুদানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে ড্রোন হামলায় নিহত করপোরাল মাসুদ রানার দাফন রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন তিনি।

    আজ বেলা আড়াইটার দিকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে করে তাঁর মরদেহ বহনকারী সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার লালপুর উপজেলার বোয়ালিয়াপাড়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িসংলগ্ন করিমপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মরদেহটি তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশের এই বীর সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন মানুষ।

    শহীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে শহীদ মাসুদ রানার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হেলিকপ্টারে মরদেহ নাটোরে আনা হয়। গ্রামের বাড়িতে কিছু সময় রাখার পর বিকেলে বোয়ালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

    সেনাবাহিনী জানায়, মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণসহ দাফনের আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশনের একটি দল।

    শহীদ মাসুদ রানা ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। গত ৭ নভেম্বর স্ত্রী ও আট বছরের একমাত্র মেয়েকে রেখে শান্তি রক্ষা মিশনে যোগ দিতে সুদান যান তিনি। মিশন শুরুর মাত্র এক মাস সাত দিনের মাথায় সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। শান্তিরক্ষী হিসেবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছাড়লেও কফিনে করে ফিরেছেন এই বীর।

    ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হন। তাঁদেরই একজন করপোরাল মাসুদ রানা।

  • নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছেড়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন (পুতুল)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।গণপ্রতিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কোনো লাভজনক পদে থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

    জানা গেছে, ফারজানা শারমিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা, ক্যাপিটাল ল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, গ্রিন ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) স্বাধীন পরিচালকের পদ ছেড়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তিনি এসব পদ থেকে সরে এসেছেন।

    ফারজানা শারমিন বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো সময়ও দিতে পারছিলেন না।

  • ছিনতাইকারীর লাঠির আঘাতে জামায়াত নেতার মৃত্যু

    ছিনতাইকারীর লাঠির আঘাতে জামায়াত নেতার মৃত্যু

    নওগাঁর সাপাহারে ছিনতাইকারীর লাঠির আঘাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাপাহার উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ হিল কাফির মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত জামায়াত নেতা সাপাহার উপজেলার কাওয়াভাসা গ্রামের মাওলানা আব্দুর রহিমের ছেলে।

    সাপাহার থানার ওসি পলাশ চন্দ্র দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ওসি জানান, শুক্রবার রাতে দলীয় কার্যালয় থেকে মিটিং শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন নিহত আব্দুল্লাহ হিল কাফি। পথে উপজেলার সাপাহার-জবই বিল সড়কের সৈয়দপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার গাড়ি থামিয়ে দেয়। এরপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট শুরু করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কিছু পরে দলীয় কিছু লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

  • এক মাদ্রাসার ৬০ শিক্ষার্থী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত

    এক মাদ্রাসার ৬০ শিক্ষার্থী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত

    নওগাঁর পোরশা উপজেলার আল-জামিয়া-আল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ (পোরশা বড় মাদ্রাসা) মাদ্রাসার ৬০ শিক্ষার্থী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    গুরুতর অসুস্থ ১২ জন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    খাবারের মধ্যে কোনো জীবাণুর সংক্রমণের কারণে শিক্ষার্থীরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন। এ ঘটনার পর মাদ্রাসা ১০ দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে ৩ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। দুপুরে আরও ২৮ জন, বিকালে ১২ জন ও বুধবার ১৭ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মুফতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমাদের মাদ্রাসায় প্রায় ১ হাজার ৬শ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী প্রায় ১০০ জন। সবাই আমরা মাদ্রাসার খাবার খাই; কিন্তু কী কারণে এই ৬০ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল বিষয়টি আমরা বুঝতে পারছি না। বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা ১০ দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম। তিনি অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

  • নওগাঁয় গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে আগুন

    নওগাঁয় গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে আগুন

    নওগাঁর রাণীনগরে গ্রামীণ ব্যাংকের কচুয়া বাজার শাখা অফিসের গেটের সামনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

    মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দিনগত রাত ১টার দিকে উপজেলার গহেলাপুর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    গ্রামীণ ব্যাংক কচুয়া বাজার শাখার সিনিয়র অফিসার লোটাস হোসেন বলেন, ‌‘ভোরের দিকে উঠে আমরা দেখতে পাই অফিসের সামনের গেটে ধোঁয়া উড়ছে। নাইট গার্ড মজিবর রহমানের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, তেমন কিছুই না। অফিসের সামনে ৪-৫টি বস্তায় কেউ আগুন দিয়েছিল। এরপর সে নিভিয়ে পাশে রেখে নামাজ পড়তে যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

    এ বিষয়ে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে আগুনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সেখানে রাস্তায় ধোঁয়া উড়ছিল।

  • নবজাতককে ফেলে পালিয়ে গেলেন মা

    নবজাতককে ফেলে পালিয়ে গেলেন মা

    নওগাঁর মান্দায় জন্মের কয়েকঘণ্টা পর নবজাতক কন্যাকে ফেলে রেখে পালিয়েছেন মা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বাবা। বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    নবজাতকের বাবার নাম তৌহিদ ইসলাম। তিনি জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চকহরি বল্লভ গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মান্দা উপজেলার সাহাপুর (ফজিদারপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীকে বিয়ে করেন তিনি।

    তৌহিদ ইসলাম জানান, স্ত্রী গত তিন মাস ধরে তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তার প্রসবের ব্যথার খবর পেয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ি যান। এরপর স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে যান। বিকেল ৫টার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তার স্ত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

    সন্তান জন্মের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আমি ওষুধ আনতে বাজারে যাই। ফিরে এসে দেখি, স্ত্রী ও শাশুড়ি নবজাতক সন্তানকে রেখে চলে গেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। স্ত্রী ও শাশুড়ির এমন আচরণে আমি হতবাক ও দিশেহারা। তাই বাধ্য হয়ে মান্দা থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’ বলেন তৌহিদ ইসলাম।

    এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তৌহিদ ইসলামের স্ত্রী বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের সঙ্গে আমার মনোমালিন্য চলছিল। আমি সন্তান নিতে চাইনি। কিন্তু তা হয়ে গেছে। যেহেতু আমি তৌহিদের সঙ্গে আর সংসার করব না। তাই সন্তান পালন করতেও আমি রাজি নই।

    মান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামছুর রহমান বলেন, তৌহিদ ইসলামের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবেন না এবং সন্তান লালনপালনে আগ্রহী নন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সুজানগরে বিএনপির সভামঞ্চে হামলা ভাঙচুর, আহত ৫

    সুজানগরে বিএনপির সভামঞ্চে হামলা ভাঙচুর, আহত ৫

    সুজানগরে বিএনপির সভামঞ্চে হামলা ভাঙচুর, আহত
    ডেস্ক নিউজ
    পাবনার সুজানগরে বিএনপির নতুন সদস্য নবায়ন ও সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী সভামঞ্চে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিসহ কমপক্ষে পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের পোড়াডাঙ্গা বাজার চত্বরে সভা শুরু হওয়ার ঘণ্টাঘানেক আগে এ ঘটনা ঘটে।
    পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিবের সমর্থকরা উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের পোড়াডাঙ্গা বাজার চত্বরে বিএনপির নতুন সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের এ সভামঞ্চ তৈরি করেন। একেএম সেলিম রেজা হাবিব ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন; কিন্তু প্রধান অতিথি আসার প্রায় এক ঘণ্টা আগে সভামঞ্চে হামলার ঘটনা ঘটে।
    হামলাকারীরা সভামঞ্চের টেবিল ও চেয়ার ভাঙচুরসহ সভায় যোগ দিতে আসা কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারপিট করে আহত করে। এতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তাঁতীবন্দ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল সালাম মুন্সী, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এরশাদ আলম, ছাত্রদল নেতা তানভীর হাসান মারুফের অবস্থা গুরুতর। তাদের সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
    এদিকে হামলার ঘটনার পরপরই র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
    সুজানগর থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, হামলার এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (বহিষ্কৃত) শেখ আব্দুর রউফের ভাতিজা সরোয়ার হোসেন, তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের বোরহান শেখের ছেলে আরিফুল শেখ ও সোলেমান শেখের ছেলে হৃদয়কে আটক করা হয়েছে।

    এদিকে সভা শুরু হলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম রেজা হাবিব হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    তাঁতীবন্দ ইউনিয়ন যুবদলের আহŸায়ক হাফিজুর রহমান সরাসরি অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (বহিষ্কৃত) শেখ আব্দুর রউফের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে।

    এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (বহিষ্কৃত) শেখ আব্দুর রউফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা মিথ্যা ও প্রতিহিংসামূলক। কারণ আমি তো আহত হয়ে মৃত্যুর ঘর থেকে ফিরে এসে এখন বিছানায় শায়িত। এ সময় তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন, সকালে আমার এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ওরা ভাঙচুর করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

  • ভটভটি উল্টে দুই গরু ব্যবসায়ী নিহত

    ভটভটি উল্টে দুই গরু ব্যবসায়ী নিহত

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে ভটভটি উল্টে দুই গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

    সোমবার দুপুরে নিয়ামতপুর-টিএলবি সড়কের সাংশাইল ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- উপজেলার দামকুড়া গ্রামের শরিফ উদ্দিন (৬২) একই উপজেলার বনগাঁ পাড়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে শামীম রেজা (২৮)।

    নিয়ামতপুর থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতরা দুপুরের দিকে ভটভটিযোগে গরু কেনার উদ্দেশে উপজেলার ছাতড়া গরুর হাটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থল পৌঁছালে ভটভটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে দু’জন নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

  • ধামইরহাটে ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    ধামইরহাটে ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    নওগাঁর ধামইরহাটে মজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মাধ্যমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ধামইরহাট সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট থেকে ৮ম শ্রেণির মোট ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২২৯ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।

    সুশৃঙ্খল পরিবেশে সকাল থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শক, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধানগণ এবং স্থানীয় প্রশাসন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন— মজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির।

    তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে মজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন নিয়মিত এই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করে থাকে। ভবিষ্যতেও আমরা আরও বিস্তৃত পরিসরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।

    মজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির আরও জানান, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে উপজেলার ১টি পৌরসভা এবং ৮টি ইউনিয়ন থেকে মোট ৩৬ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি থানা ট্যালেন্টপুলে আরও ৬ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন—অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার কাজল কুমার সরকার, চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও মাধ্যমিক বৃত্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক খেলাল ই রব্বানী, সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম লিটন, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিহা ইয়াসমিন প্রমুখ।

  • ফেসবুক লাইভে বাঁচার আকুতি, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

    ফেসবুক লাইভে বাঁচার আকুতি, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

    নওগাঁর পত্নীতলায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই যুবকের নাম সুমন হোসেন। তিনি বিল ছাড়া গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে বাড়ি ফেরার পথে নাপিত পকুরা এলাকায় সুমনকে হত্যা করে গলায় দড়ি বেঁধে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
    স্থানীয় একই এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন ও রুবেল হোসেন বলেন, রাতে আমরা ৪ জন এক জায়গায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এসময় রাত ১০টার দিকে ফোন দিয়ে সুমন বলতেছে ভাই আমাকে বাঁচা। কি সমস্যা তখন বলতেছে বুলবুল নামের একজন আমার থেকে দশ লাখ টাকা কাড়ে নিছে ও আমাকে মারার জন্য দাবড়াচ্ছে, লাঠি-চাকু নিয়ে তার সঙ্গে আর আট দশ জন আছে। ফোনে অনেকবার বলছে বুলবুল আমাকে মারে ফেলে দিবে ভাই। আমাকে চাকু নিয়ে দাবড়াচ্ছে ভাই। আমি ধান বাড়ির ভেতরে শুয়ে থেকে ফোন দিছি। যে ভাবেই হোক আমাকে বাঁচা। এর পর রাত সাড়ে ১০টায় নাপিত পকুরা নামক স্থানে গিয়ে কাঠাঁল গাছে রশি দিয়ে ঝুলন্ত আবস্থায় তাকে পাই আমরা। তার পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার সুমনকে মৃত ঘোষণা করে।

    পত্নীতলা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য মারুফ মোস্তফা বলেন, সুমন নজিপুর সরকারি কলেজের ডিগ্রি ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মৃত্যুর আগে সে ফেসবুক লাইভে ছাত্র জনতার কাছে বিচার চেয়েছিল। এই স্টেটমেন্ট দেওয়ার পর তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এটা পুরোটাই হত্যাকাণ্ড ছিল। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।

    সুমন নজিপুর মসজিদ মার্কেটে কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করতো। গত প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে ‘সুমন হোসেন’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে করা লাইভে কিছু কথা বলতে শোনা যায়। পাঁচ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ওই অডিওতে অভিযোগ করা হয়, বুলবুল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সুদের বিনিময়ে ৭০ হাজার টাকা ধার করেন সুমন। সঙ্গে ফাঁকা ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়। কিন্তু পরে বুলবুল তার কাছ থেকে ১০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পান বলে চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে গত রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধাওয়া করা হয়। ওই রেকর্ডে দাবি করা হয় তার মৃত্যু জন্য বুলবুল নামে ওই ব্যক্তিই দায়ী।

    পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, সকালে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, ওই ফেসবুক আইডিটি আসলেই সুমনের কিনা কিংবা লাইভের অডিও ওই ব্যক্তিটির কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুলবুল নামে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সুমনের আসলেই কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এসবের সত্যতা বের হলেই আসল রহস্য উন্মোচন হবে।

  • পাবনা-১ আসনে নিজামীর ছেলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    পাবনা-১ আসনে নিজামীর ছেলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    পাবনা-১ আসনে নিজামীর ছেলের মনোনয়নপত্র সংগ্র
    নিউজ ডেস্ক
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন
    জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দলটির সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে
    ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

    বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) তার পক্ষে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী
    অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রিজু তামান্নার কাছ থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন
    জামায়াত নেতারা।

    মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন- সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা
    মোখলেসুর রহমান, সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান, সাঁথিয়া পৌর আমির হাফেজ
    আব্দুল গফুর, পৌর কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মালেক, উপজেলা শ্রমিক
    কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তফা কামাল মানিক, সাবেক উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আবু
    তালেব, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য সহকারী অধ্যাপক আবুল বাশারসহ অন্যরা।

  • চৌগাছায় একদিনে তিন জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

    চৌগাছায় একদিনে তিন জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

    যশোরের চৌগাছায় আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে ও আত্মহত্যায় একদিনে তিন জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

    ২৪ ডিসেম্বর বুধবার এসব মৃত্যুর ঘঠনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়ুয়া গ্রামের মৃত কার্তিক পরামানিক বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী ফেকসি বালা (৮০) বাড়ির অন্য সদস্যদের সাথে শীত নিবারণের জন্য আগুন পোহাচ্ছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত তার শাড়িতে আগুন লেগে যায়। তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় যশোর আড়াইশো শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে বুধবার দুপুরবেলা তিনি মৃত্যবরণ করেন।

    অপরদিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের ওমর গাজীর পুকুরে ডুবে ঢাকার উত্তরার তানজিমুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র হাফেজ আব্দুল্লাহ (১৬) মৃত্যবরণ করেছে। আব্দুল্লাহ নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে। তার পিতার চাকুরী সুবাদে তারা ঢাকার নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। ওমর গাজী জানান, আব্দুল্লাহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গত দুই দিন পূর্বে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। বুধবার দুপুরে সে আমাদের পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসল করার এক পর্যায়ে সে পুকুরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পুকুর থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের সলেমান আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩০) স্বামীর সাথে গোলমাল করে বুধবার সকাল ১০ টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম তিনটি মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন এসব বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

  • নওগাঁয় বেড়েছে শীতের তীব্রতা

    নওগাঁয় বেড়েছে শীতের তীব্রতা

    নওগাঁয় বাদলগাছিতে দুদিনেও দেখা মেলেনি সূর্যের। সকাল পেরিয়ে দুপুরে হয়েছে। তবুও দেখা নেই আলোর। ফলে ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারদিক। ঝরছে বৃষ্টির মতো কুয়াশা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঠান্ডা হিমেল বাতাস। এ অবস্থাতে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    পৌষের শুরুতেই উত্তরের এ জেলায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতের দাপট বেড়েছে। আকাশে হালকা কুয়াশা ও মেঘের কারণে গতকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শ্রমজীবী এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের মানুষকে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন থেকে নওগাঁর বাদলগাছিতে হিমেল হাওয়া শুরু হয়েছে। সেই হিমেল হাওয়া দিন-রাত বইছে। এ কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে।

    নওগাঁর বরুণকান্দি এলাকার ভ্যানচালক জয়নাল আবেদীন ও রাণীনগর উপজেলা থেকে আসা অটোরিকশা চালক তপন বলেন, দুদিন থেকে শীত অনেক বেশি। ভ্যান চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। হাত কাঁপাকাঁপি করে, রিকশার চালাতে কষ্ট হয়। লোকজনও সেভাবে বাইরে বের হচ্ছে না। পেটের দায়ে ঠান্ডা লাগলেও বাইরে আসতে হচ্ছে।

    এদিকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা জানান, তীব্র শীত উপেক্ষা করে তাদের দৈনন্দিন কাজে বের হতে হয়। গরম মোটা কাপড়ের অভাবে তাদের শীতকে উপেক্ষা করে কাজে যেতে হয়। আজ সকাল থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঝরছে ফোঁটা ফোঁটা পানি। হাজারও শীতকে উপেক্ষা করে তাদের পেটের তাগিদে কাজে যেতে হবে বলে জানান তারা।

    বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, জেলায় আজকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল থেকে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় আজকে শীত কিছুটা বেশি। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা এরকম থাকতে পারে।

    বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আকাশে মেঘের প্রাদুর্ভাব থাকায় সূর্যের তাপ ক্ষীণ হয়ে পড়ছে জেলায়। তবে আজ সকালে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশা। এর ফলে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। এর ফলে যুক্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত নানান রোগবালাই। খুব প্রয়োজন ছাড়া সকালে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

  • আট কুকুর ছানা হত্যা সেই কর্মকর্তার স্ত্রী কারাগারে

    আট কুকুর ছানা হত্যা সেই কর্মকর্তার স্ত্রী কারাগারে

    আট কুকুর ছানা হত্যা সেই কর্মকর্তার স্ত্রী কারাগার
    ডেস্ক নিউজ
    পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুর ছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত নিশি রহমানের (৩৮) জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকালে নিশি রহমানকে ঈশ্বরদী থানা থেকে পাবনার আমলি আদালত-২-এ সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তরিকুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
    এর আগে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে নিশি রহমানকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর মঙ্গলবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    নিশি রহমান ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।
    এদিকে ঈশ্বরদীতে ৮ কুকুরের বাচ্চাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মর্ম¯পর্শ করেছে। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় পশুপ্রেমীদের। ৮টি দুধের বাচ্চাকে হারিয়ে মা কুকুরটি এখনো শোকে কাতর। মাঝে মাঝে কুকুরটি ইউএনওর অফিসের দরজার কাছে গিয়ে উচ্চস্বরে বিলাপ করছে।

    বুধবারও সকাল থেকে ছানাগুলোর খোঁজে মা কুকুরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ উপজেলা চত্বর এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। সন্তানহারা কুকুরটির এ অবস্থা দেখতে প্রতিদিনই ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে অসংখ্য নারী-পুরুষ ভিড় করছেন এবং তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।

  • ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্য
    নিউজ ডেস্ক
    পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনেরছেলে। স¤পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।
    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করলেন কৃষক দল সভাপতি

    মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করলেন কৃষক দল সভাপতি

    মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করলেন কৃষক দল সভাপতি
    ডেস্ক নিউজ
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন।

    বৃহ¯পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুসা নাসের চৌধুরীর কাছ থেকে তিনি মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল, সাবেক সাধারণ স¤পাদক ভিপি আব্দুল হাকিম,চাটমোহর পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ, হাসান জাফির তুহিনের সহধর্মিণী নিলুফা জাফির।

    এ সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী।

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সবার সহযোগিতা কামনা করে এ সময় হাসান জাফির তুহিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে একটি ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পরে আমরা আজকে মুক্ত বাংলাদেশে বাস করছি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে আমি পাবনা-৩ এলাকার মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি। আগামীতে আমি এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এজন্য তিনি এলাকার মানুষের দোয়া প্রার্থনা করেন।

  • ভাঙ্গুড়ায় ডাকাতি ৫ সোনার দোকান ও ৩ বাড়ি লুট

    ভাঙ্গুড়ায় ডাকাতি ৫ সোনার দোকান ও ৩ বাড়ি লুট

    • ভাঙ্গুড়ায় ডাকাতি ৫ সোনার দোকান ও ৩ বাড়ি লু
      ডেস্ক নিউজ
      পাবনায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ভয়ঙ্কর অভিযানে পাঁচটি সোনার দোকান এবং কয়েকটি ব্যবসায়ীর বাড়ি লুট হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    এই ঘটনায় প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ডাকাতির সময় স্থানীয়দের ফোন করে সাহায্য চাওয়া হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
    পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের দ্রæত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন।
    সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, ১০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ¯িপডবোটে করে গুমানী নদী দিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে বাজারের দুই নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে রাখে। এরপর দোকানের তালা ভেঙে সোনার দোকানগুলোতে লুটপাট শুরু করে। বাজার সংলগ্ন বাড়িঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে অর্থ-স¤পদ ছিনিয়ে নেয়। লুটপাটের পর ডাকাতরা ভোর সাড়ে চারটার দিকে ¯িপডবোটে করে নদীর ভাটির দিকে পালিয়ে যায়।

    ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন-ডাকাতদের হাতে বন্দুক, ধারালো অস্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ছিল, যা তাদের প্রতিরোধ করা অসম্ভব করে তুলেছিল।

    ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, লুট হয়েছে অন্তত ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২ কোটি টাকার নগদ অর্থ। আফতাব জুয়েলার্সের নগদ ৪০ লাখ টাকা এবং প্রচুর স্বর্ণালংকার, তপন জুয়েলার্সের নগদ ৪২ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার, রতন জুয়েলার্সের নগদ অর্থসহ ৪৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের মারধর করে আহত করা হয়েছে।

    অন্যান্য দোকান-উত্তম জুয়েলার্স, মধু জুয়েলার্স, মা জুয়েলার্স এবং আখি জুয়েলার্স থেকেও স্বর্ণালংকার ও নগদ লুট হয়েছে, যা মোট লুটের পরিমাণকে বাড়িয়ে তুলেছে।

    রতনের ছেলে রঞ্জন কর্মকার জানান, দুর্বৃত্তরা দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণ লুট করে, তারপর বাড়িতে ঢুকে আমার মা ও আমাকে মারপিট করে দশ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ১৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
    ভাঙ্গুড়া থানার ওসি বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের দ্রæত গ্রেফতার করা হবে।

  • বেড়ায় নদীর ঘাট নয়িন্ত্রণ নয়ি দুপক্ষরে সংর্ঘষ-গোলাগুলি

    বেড়ায় নদীর ঘাট নয়িন্ত্রণ নয়ি দুপক্ষরে সংর্ঘষ-গোলাগুলি

    • বেড়ায় নদীর ঘাট নয়িন্ত্রণ নয়ি দুপক্ষরে সংর্ঘষ-গোলাগুল

      ডেস্ক নিউজ
      পাবনার বেড়া পৌর এলাকার নদীর ঘাটরে নয়িন্ত্রণ ও দখল নয়ি দুপক্ষরে মধ্যে ব্যাপক সংর্ঘষ ও গোলাগুলরি ঘটনা ঘটছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ঘাট এলাকায় অবস্থতি একটি বিএনপি র্কাযালয় ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সোমবার বিকালে বড়ো পৌর এলাকার বৃশালিখায় এ ঘটনা ঘটে
      স্থানীয় বাসন্দিারা ও পুলিশ জানায়, বেড়ার হুরাসাগর নদীর বৃশালিখা ঘাট আগে নিয়ন্ত্রণ করত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপির একাধিক গ্রæপ ও বৃশালিখা গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী সমার্থকরা মিল ঘাটের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। এরই মধ্যে সোমবার হাসান আলী ও সালমান নামক দুজন বিএনপি সমার্থক ঘাটে যায় দখল নিতে।
      এ সময় ঘাটের কুলি-মজুর ও বৃশালিখা গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া পালটাধাওয়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে হাসান ও সালমানের পক্ষে সান্দারপাড়া গ্রামবাসী যোগ দেয়। এ নিয়ে সংর্ঘষ ব্যাপক রূপ নেয়।
      এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং ঘাটে একটি বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

    বেড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান ফকির বলনে, চাঁদাবাজি গ্রæপের সঙ্গে নামধারী বিএনপির মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন চাঁদাবাজি কারা করে পুলিশ সবই জানেন। এর চেয়ে বেশি বলতে পারব না।

    বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতা একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, দুপক্ষের মধ্যে ঘটনা ঘটেছ। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সবই আছে। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিক এ সংর্ঘষ ও গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • পাবনার আটঘরিয়ায় শিক্ষকের পিটনিতে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    পাবনার আটঘরিয়ায় শিক্ষকের পিটনিতে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    পাবনার আটঘরিয়ায় শিক্ষকের পিটনিতে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে

    নিউজ ডেস্ক
    অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে সোমবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শহীদ আব্দুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি খিদিরপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
    মৃত জেসমিন উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের হাতিগাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে। সে খিদিরপুর শহীদ আব্দুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    অভিযোগে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে ক্লাশে প্রবেশ করে জেমি। এ সময় ক্লাশ শিক্ষিকা মিনোয়ারা খাতুন শিক্ষার্থী জেমি খাতুনের কাছে মোবাইল ফোন দেখে ক্লাশরুমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করেন। পরে খন্ডকালীন শিক্ষিকা সালমা খাতুন শিক্ষার্থী জেমি খাতুনকে ক্লাশরুম থেকে ডেকে কমনরুমে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বেত দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে জেমির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। অপমান অপদস্থ করে স্কুল থেকে বের করে দেন।

    শিক্ষিকার এই বেধড়ক মারপিট ও অপমান সহ্য করতে না পেরে শিক্ষার্থী জেমি ঘটনার দিন বিকালে দাদির বাড়িতে বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে জেমির পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে জেমিকে আটঘরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থা অবনতি ঘটলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে নেওয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার সময় জেসমিন মারা যায়।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মিনোয়ারা ও সালমা খাতুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
    আটঘরিয়া থানার ওসি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • যমুনা নদীর পাড়ে  ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    যমুনা নদীর পাড়ে ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনা নদীর পাড়ে একটি ড্রেজার থেকে হাফিজুল ইসলাম হাফিজ (৩০) নামের গণঅধিকার পরিষদের এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাড়ামোহনপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    নিহত হাফিজুল ইসলাম ওই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের মৃত কমল মুন্সীর ছেলে। তিনি গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর আড়কান্দি ও পাড়ামোহনপুরসহ আশপাশের এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধের পাশে বালুর ব্যবসা চলছিল। হাফিজুল ইসলামও ওই কাজে যুক্ত ছিলেন। রোববার রাতে একটি ড্রেজারের বাল্কহেডের ইঞ্জিন অংশে চার সহযোগীর সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে এনায়েতপুর থানা-পুলিশ ও চৌহালী নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা জামাল প্রামাণিক জানান, নদীভাঙনে বসতভিটা হারানোর পর হাফিজুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করতেন। কয়েক মাস আগে এলাকায় ফিরে এসে তিনি বালুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি নিজেকে গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন।

    এ বিষয়ে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর    মতবিনিময় 

    সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর   মতবিনিময় 

    চুয়াডাঙ্গা:

    চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গায় ২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের জন্য সঠিক নেতৃত্ব উঠে আসবে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, সড়ক অবকাঠামো, কৃষি ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হবে।

    মতবিনিময় সভায় দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

    সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তেই চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত হলে তিনি এ আসনকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আদর্শ সংসদীয় আসনে পরিণত করতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সরদার আল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

  • যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ


    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াত মনোনিত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    ২২ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা মোছা: রনি খাতুনের দপ্তর থেকে প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    এসময় প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আসন পরিচালক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরশাদুল আলম, চৌগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম ও ঝিকরগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম।

    মনোনয়নপত্র প্রদানকালে সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সকল ধরনের নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামায়াতের দলীয় আসন পরিচালক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‌‌”আমরা প্রথমেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে ঝিকরগাছা-চৌগাছা আসনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পেরেছি। তিনি বলেন এই আসনে আমরা অতীতে কয়েকবার বিজয়ী হয়েছি। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা এখানে আবারো বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো ইনশায়াল্লাহ।

    চৌগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, চৌগাছায় দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমরা বিজয়ী করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

  • কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি- ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড

    কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি- ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড

    সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই ব্যবসায়ীর নাম ফিরোজ মাহমুদ(৩০)। তিনি ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকার বাদশা মিয়ার পুত্র ও কীটনাশক বিক্রেতা।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে নয়টা থেকে ঘন্টাকালব্যাপী উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকায় মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় ওই দোকানে অবৈধভাবে টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীকে কুড়ি হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসাথে ওই দোকান থেকে জব্দকৃত ৮৩ কেজি টিএসপি, ৯০ কেজি ইউরিয়া ও ৮৬ কেজি এমওপি সার ডিলারদের ডেকে নিলামে ছয় হাজার ৩৯১ টাকায় বিক্রি করা হয়।

    এবিষয়ে গণমাধ্যমকে ইউএনও জানান,“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরল স্বীকারোক্তি প্রদান ও অপরাধের উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করায় মানবিক দিক বিবেচনা করে সার বিক্রির অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬ এর ৮ ধারায় ওই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

  • বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিয়েবাড়িতে বরের জুতা লুকিয়ে রাখা নিয়ে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরপক্ষ বউ না নিয়েই ফেরত চলে গেছে।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের গুলিয়াখালীর চর গ্রামের কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ায় একদিন পর জানাজানি হয়।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ওই ইউনিয়নের গুলিয়াখালী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ৬০-৭০ জন বরযাত্রী নিয়ে গুলিয়াখালীর চরে কনের বাড়িতে আসে। বিয়ে উপলক্ষে ওই বাড়িতে সেদিন প্রায় ২০০ লোকের আয়োজন ছিল। কিন্তু জুতা লুকানোকে কেন্দ্র করে বর পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ে সম্পন্ন না করে কনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যায়।

    কনের মা খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বরকে স্মার্টফোন ও ১০ আনা সোনার চেইন দিয়ে আমরা বরণ করেছিলাম। শুধু তাই নয় বাড়িতে ২০০ লোকের আয়োজন করতে এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু ও পাঁচ মণ দই কেনা হয়েছিল। সবাই খাবার খাওয়া শেষ করেছে। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও লুটপাট হওয়ায় বিয়ে ভেঙে গেছে।শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে

    দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে

    শুঁটকির গ্রাম হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভর তেঁতুলিয়া গ্রাম। এখানকার উৎপাদিত দেশীয় ছোট মাছের শুঁটকি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ায় কদর রয়েছে দেশজুড়ে। শুধু দেশেই নয়, ভারতে রয়েছে এখানকার শুঁটকির কদর। তবে এখন ভরা মৌসুম হলেও মাছের অভাবে ভাটা পড়েছে শুঁটকি উৎপাদনে। অল্পস্বল্প যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।

    আত্রাই উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এখানকার উৎপাদিত শুঁটকির বাজার মূলত দেশের রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও ঢাকা। রপ্তানি হয় ভারতেও। এ উপজেলায় একসময় ৪০ জন ব্যবসায়ী শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত থাকলেও বর্তমানে আছেন ১৫-১৮ জন।

    সম্প্রতি দেখা গেছে, আত্রাই রেলস্টেশনের দুই পাশে রয়েছে শুঁটকি মাছ শুকানোর চাতাল। নারী-পুরুষেরা মাছ কাটা, ধোয়া, লবণ লাগিয়ে চাতালে শুকাতে দিচ্ছেন। সকালে রোদে দেওয়া ভেজা মাছগুলোও কেউ কেউ এপিঠ-ওপিঠ উল্টে রাখছেন। মাছের অভাবে অনেক চাতাল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আত্রাই উপজেলা একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। পাশাপাশি ছোট যমুনা নদী ও আরও রয়েছে শতাধিক খাল-বিল। এসব নদী ও খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করলে বাজারে উঠতে শুরু করে দেশীয় প্রজাতির ট্যাংরা, পুঁটি, খলসে, টাকি, শোল, চাঁদাসহ নানা জাতের মাছ। কিন্তু চায়না দুয়ারি, সুতি, কারেন্ট ও ভাদাই জালের অবাধ ব্যবহারে পানি কমলেও এ বছর দেখা নেই মাছের। মাছের অভাবে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বন্ধ ছিল অধিকাংশ চাতাল। এতে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছেন না। এ ছাড়া শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

    শুঁটকি ব্যবসায়ী ভর তেঁতুলিয়া গ্রামের রামপদ শীল বলেন, ‘এ বছর মাছের খুব অভাব। বাজারে যেটুকু মাছ পাওয়া যাচ্ছে তাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজি ১০০-২২০ টাকা কেজিতে মাছ কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২০-২৫ মণ মাছের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাজার ও মৎস্য আড়ত ঘুরে ৭-১০ মণের বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছি না।’

    ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এই সময় শুঁটকিপল্লি মুখর থাকত। কিন্তু এখন বর্ষার শুরুতেই সুতি, দুয়ারি ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরায় বাজারে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ পাওয়া গেলে এত দিন দুই-আড়াই মাস ব্যবসা করা যেত। মাছের অভাবে অনেক চাতাল বন্ধ আছে। এ অবস্থায় চাতালের কাজে জড়িত নারী-পুরুষ শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়ছেন।’ নারী শ্রমিক আনজুমান বেগম বলেন, ‘মাছের অভাবে কাজ কমে গেছে। এই শুঁটকি মাছের চাতালে কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। কাজ না পেয়ে অনেকে বসে থাকে।’

    এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘শুঁটকির সঙ্গে জড়িতদের নিরাপদ ও মানসম্মতভাবে শুঁটকি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অসাধু উপায়ে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • নওগাঁয় মাদকের বিরুদ্ধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান, আটক

    নওগাঁয় মাদকের বিরুদ্ধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান, আটক

    নওগাঁ, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস):জেলা জুড়ে চলছে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান।চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকে জেলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে একের পর এক বড় বড় অভিযান পরিচালনা করে আসছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। শুধু মাদকের বিরুদ্ধেই নয় অভিযান অব্যাহত রেখেছেন ডেভিলদের বিরুদ্ধেও। প্রতিদিন জেলার কোন না কোন উপজেলাতে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলমান রাখা হয়েছে।

    মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকালে শহরের মাদকের আখড়া নামে পরিচিত সুইপার কলোনি এলাকায় সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে ৪৫কেজি গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে গাঁজা ছাড়াও বাংলা মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদক বিক্রির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    অভিযান চলাকালে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ সময় যশোর জেলার শার্শা উপজেলার কদমতলা বারোপুতা গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (২৪) কে আটক করা হয়। তাকে সহায়তা করার অপরাধে জেলার বদলগাছী উপজেলার লক্ষিকুল গ্রামের মৃত আব্বাস মন্ডলের ছেলে জলিল মন্ডল (৫০) কে আটক করা হয়।

    পুলিশ সুপার জানান, নওগাঁ জেলা ভারতীয় সীমান্তঘেষা হওয়ার কারণে মাদককারবারীরা নওগাঁকে মাদক চালানের জন্য উত্তম পথ হিসেবে ব্যবহার করে। বর্তমান সময়ে এই অঞ্চলে মাদকের কারবার কিছুটা বেশি হয়েছে। আগের চেয়ে বর্তমান সময়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে সর্বদা সজাগ রয়েছে।

    জেলা জুড়ে এই ধরনের অভিযান আগামীতে আরো বেশি পরিচালনা করার কথা জানান তিনি।

  • ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটায় ছোট সোনামসজিদ

    ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটায় ছোট সোনামসজিদ

    ঐতিহ্য, ইতিহাস আর স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনামসজিদ। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে দিন দিন বাড়ছে এর কদর। শুধু ইতিহাসপ্রেমী নয়, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। তাই শুধু সারাদেশের মানুষ নয়, বিদেশ থেকেও আসছেন একনজর দেখতে।

    শত শত বছরের পুরোনো স্থাপনাটি যেমন নিখুঁত কারুকাজে পরিপূর্ণ; তেমনই এটি দাঁড়িয়ে আছে গৌরবময় অতীতের সাক্ষী হয়ে। সুলতানি আমলে নির্মিত মসজিদটি ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটন সম্ভাবনার বিশাল ক্ষেত্র। ইতিহাসের পাতায় যার নাম ‘সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর রত্ন’। যা চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতির সম্ভাবনাময় স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। ছোট সোনামসজিদকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ ‘ঐতিহাসিক পর্যটন করিডোর’ গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের। আশপাশেই আছে দারসবাড়ি মসজিদ, খনিয়া দিঘি মসজিদ, তোহাখানা প্রাসাদসহ বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা।

    নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা থেকে ছোট সোনামসজিদ দেখতে এসেছেন আয়েশা বেগম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল ছোট সোনামসজিদ নিজ চোখে দেখবো। কিন্তু কোনো দিন হয়ে ওঠেনি। আজকে এসে দেখলাম। খুবই ভালো লাগলো।’পাকিস্তানের করাচি থেকে এসেছেন তারেক জামিল খান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ১০ দিন আগে বাংলাদেশে এসেছি। চারদিন ধরে রাজশাহীতে অবস্থান করছি। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল সোনামসজিদ দেখবো। বড় সোনামসজিদ ভারতে হওয়ায় দেখার সুযোগ হয়নি। তাই ছোট সোনামসজিদ দেখতে এসেছি। এখানে নামাজ আদায় করলাম।’তিনি বলেন, ‘পাথরের তৈরি মসজিদটি আয়তনে খুব বড় না হলেও শিল্পসৌন্দর্য নজর কেড়েছে। জানতে পারলাম, উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে নির্মিত মসজিদটির ছাদে আছে ১৫টি গম্বুজ—যার মাঝে তিনটি ‘চৌচালা’ ধাঁচের এবং বাকি ১২টি অর্ধগোলাকৃতির। চার কোণে আছে চারটি অষ্টকোণীয় মিনার। যা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। নামাজ আদায় করে শান্তি পেলাম। কারণ দেওয়ালগুলো খুবই মোটা, ভেতরটা শীতল হয়ে আছে।’ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন মাহবুব হক। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় এসে দেখলাম ছোট সোনামসজিদে দুই শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করছেন। দেখে খুবই ভালো লাগলো। মসজিদের দেওয়ালে, দরজায়, জানালায় খচিত খোদাই ও নকশা আজও নজর কাড়ছে। দেখে মনে হচ্ছে, খুব যত্ন করে বানানো হয়েছে মসজিদটি।

    মসজিদটির অভ্যন্তরভাগে আছে তিনটি মেহরাব। যার মাঝখানেরটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং পাথরের নিখুঁত কারুকার্যে অলংকৃত। মসজিদের ভেতরের দেওয়ালজুড়ে যে নিপুণ নির্মাণশৈলী দেখা যায়, তা বাংলার মধ্যযুগীয় শিল্পকলার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও আশপাশের জেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক দর্শনার্থী এখানে আসেন। কেউ আসেন ইতিহাস জানতে, কেউবা ফটোগ্রাফি করতে, কেউ আসেন পাথরের ছোঁয়া আর প্রকৃতির নীরবতায় সময় কাটাতে।

    ঢাকার নতুন বাজার এলাকা থেকে চাঁপাইনবাগঞ্জে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন স্বজল আহমেদ। তিনি বিকেলবেলায় ছোট সোনামসজিদ দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তো ইতিহাস বইয়ে পড়ে এসেছি ছোট সোনামসজিদ সম্পর্কে। আজ বাস্তবে এসে যেন ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখলাম। খুবই ভালো লাগছে।’

  • সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৯০০ মেক্টিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।

    সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ৩০টি অনুমোদনপত্রের বিপরীতে সোনামসজিদ বন্দরে দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর গিয়ে ভারতের মোহদীপুর থেকে দুটি ট্রাকে ৬০ টন পেঁয়াজ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। এতে স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
    সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ এসেছিল বলে জানান সমীর চন্দ্র ঘোষ।

  • বিএনপি প্রার্থী   সরকার গঠন করলে আমি যা বলবো তাই আইন, তাই আল্লাহর হুকুম

    বিএনপি প্রার্থী সরকার গঠন করলে আমি যা বলবো তাই আইন, তাই আল্লাহর হুকুম

    ‘দুইদিন পরেতো ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করবে। তখন কথা বলার মানুষই থাকবে না। আমি যা বলবো তাই আইন, আল্লাহর হুকুম’ বলে মন্তব্য করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার বিকেল থেকে তার এই বক্তব্যের ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

    ভাইরাল ওই ৪২ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘এটাকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে, মন মানসিকতা দিয়ে। সবখানে হাজি (আমিনুল ইসলাম) করে দিবে তা না। আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। বিল আছে, বিল তো কেউ উঠিয়ে নিয়ে বাইরে চলে যাবে, কারোও ক্ষমতা আছে। ফের আগের নিয়মে চলবে। যা ভাগ করে দিয়েছি তার বাইরে একটা সুচ লড়বে না। ভোটের আগে এগ্লা (এগুলো) লিয়ে (নিয়ে) আর বসবো না। এক দুই মাসের জন্য সমস্যা হবে না। আল্লাহর ওপর ভরসা করেন আগামী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করবে। তখন কথা বলার মানুষই থাকবে না। আমি যা বলবো তাই আইন, আল্লাহর হুকুম। তাই এখন ভয় করতে হবে না।’

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে কয়েকটি মৌজা নিয়ে ছোট বিল্লা-বড় বিল্লা নামে একটি বিল আছে। যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজমান এবং বিলটির উপর হাইকোর্টে মামলা চলমান আছে। এছাড়া বিলটি থেকে সরকার প্রতি বছর রাজস্বও হারাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলামের বাড়িতে রাধারনগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও কর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উঠান বৈঠকে বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে বিলটি নিয়েই বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে এমন বিতর্কিত বক্তব্য
    নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন বলেন, আমিনুল হাজির এমন বক্তব্যে আমরা চরমভাবে বিব্রত। তিনি দলীয় আদর্শ থেকে এমন বক্তব্য দিতে পারে না। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রে জানাবো।

    তবে এ বক্তব্যের বিষয়ে একাধিকবার আমিনুল ইসলামকে কল করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • মহাসড়কে জব্দের পর ১৪ হাজার লিটার তেল আত্মসাতের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

    মহাসড়কে জব্দের পর ১৪ হাজার লিটার তেল আত্মসাতের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান আদর্শ গ্রুপের ১৩ হাজার ৯৫০ লিটার পাম তেল জব্দের পর তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। জব্দ করা তেলের দাম ২৩ লাখ ২১ হাজার ২৫০ টাকা।

    গতকাল শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আদর্শ গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাদিকুল ইসলাম।

    অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই তেল অন্য একটি মামলার চোরাই পণ্য হিসেবে জব্দ করে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা আদালতই যাচাই করবে।

    সাদিকুল ইসলামের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে তাঁদের নিজস্ব ট্রাকে ১৩ হাজার ৯৫০ লিটার (৭৫ ড্রাম) পাম তেল চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনা হচ্ছিল। পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায় রায়গঞ্জ থানা-পুলিশ ট্রাকসহ তেল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ওসি মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মালামালের প্রমাণপত্র দিতে বলেন। পরে ক্রয়কৃত মালামালের মেমোর ফটোকপি থানায় জমা দেওয়া হয়, তবে ওসি তা বিবেচনায় নেননি। পরে তিনি জানান, আদালতের মাধ্যমে ট্রাক ও তেল ফেরত নিতে হবে।

    সাদিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘২৫ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের আদালতে গিয়ে জানতে পারি ট্রাকটি অন্য একটি মামলায় জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকে থাকা পাম তেল কোথাও জব্দ তালিকায় নেই।’ তিনি বলেন, ২৬ নভেম্বর রায়গঞ্জ থানার ওসি মাসুদ রানা ও এসআই ফিরোজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তেল ও ট্রাক আত্মসাতের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের আমলি আদালতে মামলা করা হয়েছে। ট্রাকটি যমুনা সেতুর টোল প্লাজা পার হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে আছে।

    অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ থানার ওসি (সদ্য বদলি) কে এম মাসুদ রানা বলেন, ওই ট্রাকে যে তেল পাওয়া গেছে, তা একটি চোরাই গোডাউন থেকে লোড করা হয়েছে। পুলিশ তেলসহ ট্রাকটি জব্দ করে আদালতে জমা দিয়েছে। এখন আদালতই সত্য-মিথ্যা যাচাই করবে।

    একই দাবি করেছেন রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, পাম তেল আত্মসাতের অভিযোগ অবান্তর। তেল আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অন্য একটি ডাকাতি মামলার তেল একটি চোরাই গুদাম থেকে লোড করা হয়েছিল। তা জব্দ দেখিয়ে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

  • চাল বিক্রেতা থেকে বড় উদ্যোক্তা প্রতিবন্ধী তরিকুল

    চাল বিক্রেতা থেকে বড় উদ্যোক্তা প্রতিবন্ধী তরিকুল

    স্কুলে ভর্তি হয়েও দ্বিতীয় শ্রেণির গণ্ডি পেরোতে পারেননি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মোকরামপুরের আলীনগর গ্রামের তরিকুল ইসলাম। তারপর শৈশবেই পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে শরীরের একটি অংশের কার্যক্ষমতা হারান। সেই থেকে চলতে–ফিরতে ক্রাচ তাঁর নিত্যসঙ্গী।

    শরীরের একাংশের কার্যক্ষমতা হারিয়েও দমে যাননি তরিকুল। কঠোর চেষ্টা ও উদ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা। স্থানীয়ভাবে অনেকের জন্য অনুকরণীয়। তরিকুল এখন ফিন্টু সুপার অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তাঁর অধীন কাজ করেন ছয়জন মহাব্যবস্থাপক আর ২০০ কর্মচারী। বর্তমানে দুটি অটো রাইস মিলের মালিক তিনি।

    সমাজের চোখে প্রতিবন্ধী এই ব্যবসায়ীর ডাকনাম ফিন্টু। এই নামেই নামকরণ করেন নিজের প্রতিষ্ঠানের। তাঁর চালকল কারখানা অবস্থিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের এনায়েতপুর গ্রামে। এই চালকলের প্রতিদিনের উৎপাদনক্ষমতা তিন হাজার মণ। তাঁর চালকলে উৎপাদিত চাল দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অত্যন্ত সুপরিচিত। ‘ফিন্টু রাইস’ ব্র্যান্ড হিসেবে একনামে বিক্রি হয়। এই চালের চাহিদা এতটাই বেশি যে স্থানীয় চালের চেয়ে প্রতিবস্তা ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও কানাইপুর; মাদারীপুরের টেকেরহাট, বরিশাল, ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা এসব এলাকায় এই চাল বেশি বিক্রি হয়। কুষ্টিয়া ও কিশোরগঞ্জে প্রতিদিন দুই ট্রাক করে চাল যায়। নারায়ণগঞ্জে যায় প্রতিদিন এক থেকে তিন ট্রাক, ঝিনাইদহে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ ট্রাক। কালীগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গায়ও যায় এই চাল।

    সম্প্রতি কথা হয় ৬০ বছর বয়সী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে। শৈশবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কীভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন, সেই গল্প তিনি শোনান আলাপকালে। গল্পে গল্পে জানা যায়, শৈশবে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন প্রথম শ্রেণিতে; কিন্তু প্রথম শ্রেণির পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। তরিকুল বলেন, যখন পরীক্ষায় পাস করতে পারলাম না, তখন বাবা বললেন, তোকে দিয়ে লেখাপড়া হবে না। বাবার এই কথার পর লেখাপড়া আর বেশিদূর এগোয়নি। শুরু হলো জীবনযুদ্ধ। শৈশবেই যুক্ত হয়ে যান ব্যবসার সঙ্গে, তা–ও কিছু না জেনে, না বুঝে।

    তরিকুল জানান, সেই ছোটবেলাতেই প্রতিদিন ১০ কেজি চাল নিয়ে ট্রেনে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে যেতেন তিনি। সেই চাল বিক্রি করে আবার ফিরে আসতেন। প্রতিদিন চাল বিক্রি করে পাঁচ থেকে আট টাকা লাভ হতো। তখন ঈশ্বরদীতে ফুটপাতের দোকানে প্রতি প্লেট ভাত বিক্রি হতো আট আনায়। এভাবে একটু একটু করে বিক্রি বাড়তে থাকে। ঈশ্বরদীর পরে কুষ্টিয়ায় গিয়ে চাল বিক্রি শুরু করেন তিনি। হঠাৎ একদিন যাত্রীবাহী ট্রেনে অবৈধভাবে চাল পরিবহনের অভিযো

    বিয়ের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা বিষণ্ন হয়ে পড়েন তরিকুল। কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, বিয়ের পরপরই বাবা দুই মণ ধান ও পাঁচটি ঢেউটিন দিয়ে আলাদা করে দিলেন। এরপর শুরু হলো জীবনের প্রকৃত লড়াই। তরিকুলের মনের মধ্যে শুধু ব্যবসার চিন্তা। সেই চিন্তা থেকে বাবার দেওয়া দুই মণ ধান বিক্রি করে কিনলেন আম; কিন্তু সেই আম বিক্রি করে ২০ টাকা লোকসান গুনতে হলো। লোকসানের পর ভাবলেন, বাড়িতে নতুন বউ, লোকসানের কথা বললে মন খারাপ করতে পারে। তাই লোকসানের কথা ভুলে মাছ কিনে বাড়ি ফিরলেন হাসতে হাসতে। আমের ব্যবসার এক লোকসানেই আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। এ অবস্থা দেখে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আতাউর রহমান দুই হাজার টাকা ধার দিলেন কিছু একটা করতে। সেই টাকা দিয়ে প্রথম মুদিদোকান খোলেন তরিকুল। কারণ, আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যেভাবেই হোক ব্যবসায় করবেন তিনি। এভাবেই চলল কয়েক বছর। ১৯৯১ সালে আবার পুঁজিসংকটে। বাড়িঘরও নেই। এ সময় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ২ হাজার টাকা ঋণ পেলেন। নগদ হাতে পেলেন ১ হাজার ৮৫০ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে একটি গরু কিনলেন। সাত-আট মাস পর গরুটা ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করলেন। গরু বিক্রির ৩ হাজার ৬০০ টাকার সঙ্গে দোকানের জমানো ৪০০ টাকা যোগ করে মোট ৪ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করলেন আতপ চালের ব্যবসা।

    তরিকুল জানান, ব্যবসায়ীরা চাল নিয়ে কোথায় বিক্রি করেন, কেউ কাউকে বলেন না। একদিন এক ব্যবসায়ী ঠিকানা দিলেন কুষ্টিয়ার বড়বাজারের ব্যবসায়ী প্রবীর বাবুর। চাল নিয়ে তাঁর কাছে গেলেন। তখন বিকেল হয়ে গেছে। প্রবীর বাবু চাল না কিনে ফিরিয়ে দিলেন তাকে। তিনি ঘুরতে থাকলেন কুষ্টিয়ার বড়বাজারে এ–দোকান, ও–দোকান। একপর্যায়ে এক ব্যবসায়ী তাঁর চাল কিনতে রাজি হলেন। সেই থেকে কুষ্টিয়ায় তাঁর চালের ব্যবসা শুরু। তরিকুলের মতে, এখন কুষ্টিয়ার চালের বাজারে যদি ১০০ বস্তা চাল বিক্রি হয়, তার মধ্যে ৯০ বস্তাই ‘ফিন্টু রাইস’, অর্থাৎ তরিকুলে চালকলের চাল। তরিকুল বলেন, ‘কোনো ভেজাল চাল বিক্রি করি না। তাই আমার চালের চাহিদা বেশি।’

  • লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

    লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

    লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভুঁইয়ার পক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এতে দিনব্যাপী ৫ শতাধিক মেডিসিন, শিশু, চর্ম ও যৌন, চক্ষু ও ডায়াবেটিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

    শনিবার সকালে সদর উপজেলার রসুলগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়েছে।

    চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভুঁইয়া।

    রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, জামায়াত ইসলাম মানবিক সেবায় নিয়োজিত একটি আদর্শ ইসলামী সংগঠন। আমাদের ভিশনের শুরুর লাইনটি হলো মানবতার সেবা। মানবতার সেবা, দেশ পরিচালনায় যোগ্যতা অর্জন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এই তিনটি কথা নিয়েই জামায়াত ইসলামীর ভিশন। এরমধ্যে শুরুটাই হলো মানবতার সেবা।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল রাসেল, আলিফ মীম হাসপাতালের চেয়ারম্যান আমির হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা কমিটির সহ সেক্রেটারি আবুল বাশার, চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলী আহমেদ, রসুলগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামছুল আলম রিটু প্রমুখ।

  • কবরস্থানে মিললো নতুন ৬ আগ্নেয়াস্ত্র

    কবরস্থানে মিললো নতুন ৬ আগ্নেয়াস্ত্র

    নোয়াখালীর একটি কবরস্থান থেকে নতুন ৫টি রাইফেল ও একটি এলজি উদ্ধার করেছে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারে এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল অভিযান চালায় চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ। এসময় একটি কবরস্থান থেকে কাগজে মোড়ানো ৬টি প্যাকেটে উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটে ৫টি রাইফেল ও ১টি এলজি ছিল।
    চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। অস্ত্রগুলো জব্দ দেখানো হয়েছে। এই অস্ত্র কার তা জানা যায়নি। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।গত ১ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরের পশ্চিম চন্দ্রগঞ্জ বাজারে একটি ওয়ার্কসপে অস্ত্র তৈরির সন্ধান মিলে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

  • ওয়ার্কশপের আড়ালে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, যুবক গ্রেফতার

    ওয়ার্কশপের আড়ালে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, যুবক গ্রেফতার

    লক্ষ্মীপুরে ওয়ার্কশপ ব্যবসার আড়ালে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করার ঘটনায় নুর উদ্দিন জিকু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোনা থানাধীন গহীন অঞ্চল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে।

    জানা গেছে, গ্রেফতার জিকু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে জগদীশপুর গ্রামের আব্দুল গোফরানের ছেলে ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের নোহা অটো ট্রেডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক।

    জেলা পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমীর দিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটোর নেতৃত্বে রাঙ্গমাটির চন্দ্রঘোনা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরিকারক নুরউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি চন্দ্রগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত মামলার পলাতক আসামি ছিল। ১ ডিসেম্বর দুপুরে তার ওয়ার্কশপ থেকে ১টি দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওয়ার্কশপের আড়ালে তিনি সেখানে অস্ত্র তৈরি করতো। ওইদিন তার বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তবে তিনি পালিয়ে থাকায় তখন তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ৬ দিন পর ৭ ডিসেম্বর সকালে গোয়েন্দা তথ্যেরভিত্তিতে নোয়াখালীর জগদীশপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের বাড়ির কবরস্থান থেকে ৫টি দেশীয় ১ নলা বন্দুক ও একটি এলজি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রগুলো তার ওয়ার্কশপে প্রস্তুতকৃত। অস্ত্রগুলো নতুন ছিল।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ওয়ার্কশপের আড়ালে নুরউদ্দিন আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করতো। তার দোকান ও বাড়ির কবরস্থান থেকে অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযান চালিয়ে তাকে রাঙ্গামাটি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

  • মাছ-মুরগি-তরকারি রান্নায় গরুর চর্বি, জরিমানা ৫০ হাজার

    মাছ-মুরগি-তরকারি রান্নায় গরুর চর্বি, জরিমানা ৫০ হাজার

    লক্ষ্মীপুরে হোটলে মুরগি-মাছসহ তরকারি রান্নায় জমিয়ে রাখা গরুর চর্বি ব্যবহার করায় হোটেল মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হোটেলে পচা ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগেরও সত্যতা মিলেছে।

    বুধবার বিকেলে বিসমিল্লাহ হোটেলে এ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।এদিকে একই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে একতা ফার্মেসি নামে এক দোকানিকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমুধু চক্রবর্তী ও জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালের সামনে বিসমিল্লাহ্ হোটেলে গরুর জমানো চর্বির তেল দিয়ে মাছ, মুরগির মাংসসহ বিভিন্ন তরকারি রান্নায় ব্যবহার করা হতো। এছাড়াও হোটেল থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটিসহ ফ্রিজ থেকে বাসি মাছ ও মাংস জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় হোটেল মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় পচা ও বাসি খাবারসব বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে।নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমুধু চক্রবর্তী বলেন, হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা এ হোটেলে খাবার খায়। কিন্তু হোটেলটির পরিবেশ নোংরা, ফ্রিজে বাসি খাবার সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তাছাড়া গরুর চর্বির জমানো তেল দিয়ে রান্না করা হয়। এছাড়া একটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে। দুই দোকানিকে জরিমানাসহ ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

  • সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর সম্ভাবনা

    সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর সম্ভাবনা

    লক্ষ্মীপুরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) গড়ে ওঠেনি আশানুরূপ শিল্প-কারখানা। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পরও বিভিন্ন সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্লট বরাদ্দ নিলেও অর্ধেক প্রতিষ্ঠানই উৎপাদনে যেতে পারেনি। অথচ মেঘনাপাড়ের এ জনপদে সস্তা শ্রম, দেশের ২১ জেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যাপক কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়। বিসিকে পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বদলে যাবে এ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান, এমনটাই আশা স্থানীয়দের।এদিকে বিসিক এলাকায় গ্যাস-পানি সংকট, ভেতরের অংশে সড়ক খানাখন্দে ভরপুর, অপরিকল্পিত ড্রেনেজে ব্যবস্থা, লোডশেডিং, বাতিহীন ল্যাম্পপোস্ট ও নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকা উদ্যোক্তাদের সমস্যার অন্যতম কারণ। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর সুফল আসছে না বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর শহরে বাঞ্ছানগর এলাকায় ১৬ একর জমিতে ১৯৯৭ সালে শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধান ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। ২০০০ সাল থেকে প্লট বরাদ্দ হয়। এরমধ্যে তিন স্তরে ৫৪টি শিল্প ইউনিটের জন্য ৯৯টি প্লট বরাদ্দ হয়। বর্তমানে ৩০টি ইউনিট চালু রয়েছে।

    লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে বিসিকের দিকে একটু এগুলেই দেখা যায় বেশ কয়েকটি বড় গর্তে পানি জমে আছে। ভেতরে রাস্তা, ড্রেনেজ সমস্যা প্রকট। সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত; মালামাল পরিবহনে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানসহ যানবাহন চলছে হেলেদুলে। ধুলাবালিতে একাকার। ড্রেনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে মশা-মাছির দাপট চলছে। বর্ষা এবং সামান্য বৃষ্টি হলে ভেতরে হাঁটু পানি জমে থাকে। ভেতরে ২০-২৫টি প্লট খালি রয়েছে। সেখানে আশপাশের লোকজন গরু-ছাগল চরায়। এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এখানে উল্লেখযোগ্য অয়েল মিল, বেকারি, চকলেট তৈরি, সয়াবিন প্রক্রিয়াকরণ, অটোরাইস মিল ও মবিল রিপ্যাকিং মিল রয়েছে।

    পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার নারী শ্রমিক ফাতেমা বেগম জানান, বিসিকে তিনি প্রতিদিন হেঁটে আসেন। মাঝেমধ্যে রিকশা নিলেও ভেতরে আসতে চান না রিকশাচালক। একটু বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি মাড়িয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তরুণ উদ্যোক্তা জানান, এখানে পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে। তবে সহজে আশানুরূপ ব্যাংকঋণ পাওয়া যায় না। অনেক সময় শ্রমিকের বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় লোকসানের কারণে ফ্যাক্টরি বন্ধ রেখেছেন।

  • মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    চুন–সুরকি খসে পড়েছে অনেকাংশে। বেরিয়ে এসেছে লাল ইট। বাড়িটির এখন জীর্ণ দশা। হবেই না কেন। বয়স তো কম হলো না—প্রায় দেড় শ বছর। বলছি মকিমপুর জমিদারবাড়ির কথা। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদর থেকে কিলোমিটার দুয়েক উত্তরে গেলে মকিমপুর গ্রামে দেখা মিলবে বাড়িটির।

    সম্প্রতি বাড়িটিতে গিয়ে কথা হয় জমিদার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে। তাঁরা জানালেন বাড়িটির ইতিহাস–ঐতিহ্যের নানা কথা। বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী। তাঁর ছিল দুই ছেলে। জমিদার জীবিত থাকা অবস্থায় এক ছেলের মৃত্যু হয়। আরেক ছেলের বংশধরেরা বর্তমানে এখানে রয়েছেন।

    মকিমপুরের মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করা হয় ১৮৮৫ সালে। এই ভবনে সাতটি কক্ষ। জমিদার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম কয়েক বছর আগেও এই ভবনেই বসবাস করতেন। এখন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনের উত্তর ও পশ্চিম পাশে আলাদা বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। তবে বাড়ির সামনে ১৮৮৭ সালে নির্মাণ করা মন্দিরে এখনো পূজা হয়।

    মন্দিরটিতে বিশেষ করে লক্ষ্মীপূজা হয় বেশ ঘটা করে। আগের দিনের নিয়ম মেনে এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বী এবং আত্মীয়স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে জমিদার পরিবার। পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য অমল কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের দাদু মকিমপুর জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। তিনি বাড়ির সামনে এই মন্দিরও নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপূজায় সবাইকে আমরা ডাকি।’

    জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী সম্বন্ধে ভালো ও মন্দ—দুই ধরনের জনশ্রুতিই রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন প্রজাদরদি জমিদার। আবার কেউ বলেন অন্য কথা। তাঁর দাপটের কারণে প্রজারা নাকি জমিদারবাড়ির সামনে দিয়ে ছাতা মাথায় ও জুতা পায়ে যেতে পারতেন না। খাজনা আদায়ের বেলায়ও নাকি জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী ছিলেন ভীষণ কড়া।

    একসময় মকিমপুর গ্রামে বসবাস করতেন জামাত আলী সেখ। এখন উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে থাকেন। জামাত আলী বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে জমিদার পরিবারের লোকজনের সহায়তায় এখানে আসা। তাঁরা ভালো জমিদার ছিলেন।

    তবে জমিদার নিয়ে ভালো–মন্দ যে জনশ্রুতিই থাকুক না কেন—বাড়িটি একনজর দেখতে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

    সে কথাই বলছিলেন জমিদার পরিবারের সদস্য অশোক কুমার রায়। তিনি জানালেন, জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী মানুষজন আসেন। বিভিন্ন তথ্য জানতে চান তাঁরা। জমিদারবাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের পুত্রবধূ আঁখি রায়ও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জানাশোনা যা আছে, তা তাঁদের জানাই।’

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার স্কুলশিক্ষক মো. মোকসেদ আলমের সঙ্গে দেখা হয় জমিদারবাড়িতে। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের খোঁজে সারা দেশে ঘুরে বেড়াই। মকিমপুর জমিদারবাড়িতে এসে পুরোনো দিনের নকশার বাড়ি ও মন্দিরটি দেখে খুব ভালো লাগল।’ জমিদার ভবনের করুণ দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সংস্কার করে আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা দরকার।

    একই আহ্বান রায়গঞ্জ: ইতিহাস সমাজ ও সংস্কৃতি বইয়ের লেখক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিমেরও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগের দিনের নির্মাণশৈলী খুবই সুন্দর ছিল। জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি নির্মাণে স্থাপত্যশিল্পের চমৎকার ব্যবহার লক্ষণীয়। কালের বিবর্তনে এ বাড়িটি ধ্বংসের পথে কিন্তু এটি রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন মকিমপুর জমিদারবাড়িটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।