চট্টগ্রাম

Chattogram district

  • ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপাচার্য প্রবেশের চেষ্টা করলেই কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    তারা বলছেন, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এড়াতেই তারা ক্লাসে ফিরতে চান। এ জন্য শিক্ষকদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে ঠিক কবে তারা ক্লাসে ফিরছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। অপরদিকে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বুধবার চুয়েট পরিদর্শনে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি। ওই দিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন কমিটির সদস্যরা।

    রোববার শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে রোববারের সাধারণ সভায় একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে একই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে চুয়েটের রেজিস্ট্রারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বুধবার কমিটির সদস্যরা চুয়েট পরিদর্শন করবেন। এ সময় তারা পৃথক সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

    শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। তারা আর এই ক্ষতি বাড়াতে চান না এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, এক দফা দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন চলছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    শিক্ষার্থীরা আরো জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা আবারো কঠোর আন্দোলনে যাবেন। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

    এ বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। তবে ক্লাসে ফেরা মানে আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়।’

    একই দিন চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাধারণ সভা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। ওই সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চায় বলে তারা জানিয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।’ ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নির্ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

  • সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী বাপ্পী হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ গ্রেফতার ৬

    সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী বাপ্পী হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ গ্রেফতার ৬

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত দেশী-বিদেশী তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাপ্পীকে মেরে নিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

    আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম।

    এর আগে নিহত বাপ্পীর মা জমিলা খাতুন ছাত্রদলের উত্তর জেলা কমিটির যুগ্ন সম্পাদক আরিফ হোসেনকে প্রধান আসামি করে শনিবার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মোট আঠার জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের সবাই যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড মধ্যম মাহমুদাবাদের মো: আরিফ হোসেন (২৮), রনি ওরফে নুর আহমদ রনি (২৭), অলিনগর এলাকার ফখরুল ইসলাম (৩১), নডালিয়া এলাকার আব্দুল মান্নান (২৮) এবং মুরাদপুর হাসনাবাদ এলাকার আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫)।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম বলেন, ‘নিহত তারেক হোসেন বাপ্পির সাথে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তার সহযোগীদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।’

    পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা সীতাকুণ্ডের অলিনগর এলাকায় যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে বাপ্পির মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা তাফসির আলম শাওনও হামলার শিকার হন। তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। হামলাকারীরা তাদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে।

    ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

    সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকাশ্যে গুলি করে বাপ্পিকে হত্যার ঘটনায় তার মা জমিলা খাতুন শনিবার রাতে মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার ছয়জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • চুয়েটে ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে ছুটির দিনেও পাহারায় শিক্ষার্থীরা

    চুয়েটে ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে ছুটির দিনেও পাহারায় শিক্ষার্থীরা

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এক সপ্তাহের ছুটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। এদিন দুপুর থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে ছুটির সুযোগে নতুন উপাচার্যের (ভিসি) ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে পাহারায় থাকার কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। একই সঙ্গে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।

    শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে আর পা না রাখার শর্তেই নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ডিসি ও এসপির সহযোগিতায় ক্যাম্পাস ছাড়েন। তাকে সেই শর্তেই মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে আবারও তিনি প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

    বৃহস্পতিবার চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী জানান, ‘চুয়েটে দুর্গাপূজার সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দুদিন সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটি এবং রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন পূজার ছুটি। এ সময়ে আমাদের কর্মবিরতি চলবে; সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’

    ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রবীর চন্দ্র ভৌমিক জানান, ‘একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে পাঁচ দিন পূজার ছুটি। তবে প্রতিবার আগাম নোটিশ দেওয়া হলেও এবার কোনো নোটিশ জারি হয়নি। আমি নিজেও কোনো নোটিশ হাতে পাইনি। তবে ছুটি শুরু হয়েছে, এটি সঠিক।’

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্গাপূজার ছুটির আগে বৃহস্পতিবারই ছিল চুয়েটে শেষ কর্মদিবস। এদিন অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হল ছেড়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে চুয়েটে স্বাভাবিক কর্মদিবস শুরু হবে। টানা সাত দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হলেই অবস্থান করবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যদিও ছুটির দিনগুলোতে সরাসরি কোনো আন্দোলন কর্মসূচি থাকছে না।

    এর আগে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দাবি আদায়ে অনড় থাকবেন। চলমান সংকট নিরসনে তারা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রফেসর ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনকে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এমনকি ছাত্রলীগের একটি পেজ থেকেও সেটিতে সমর্থন জানিয়ে প্রচার করা হয়েছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দাবিকে কেউ সরকারবিরোধী, কেউ রাষ্ট্রবিরোধী অসন্তোষের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টাকে আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো দলকে ক্ষমতায় আনা বা ক্ষমতা থেকে সরানো, রাষ্ট্রকে হেয় করা কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালানো আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নয়।’

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা জানিয়ে দিতে চাই, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বয়ানের কাঁচামাল নয়। আমাদের কণ্ঠস্বরকে বিকৃত করে অন্যের এজেন্ডা প্রতিষ্ঠার অধিকার কারও নেই। তাছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির স্মৃতি আমাদের কাছে গভীর বেদনা ও জবাবদিহির প্রশ্ন। সেই অভিজ্ঞতা অস্বীকার করে কিংবা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক প্রচারণার আড়াল বানিয়ে কোনো সংগঠন আমাদের আন্দোলনের নৈতিক সমর্থক সেজে উঠতে পারে না।’

    চুয়েটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছুটিতে সব শিক্ষার্থী বাড়িতে যাচ্ছে না, অনেকেই হলে থাকছে। আমরা নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকাতে সজাগ থাকব। বন্ধের দিনেও আমাদের নিয়মিত পাহারা থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

    এদিকে চুয়েটের উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর নিজ দপ্তরে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি)। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

  • মিরসরাইয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি

    মিরসরাইয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের শেখেরতালুক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে রাতেই মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মতিন উল্লাহ জানান, দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খুন্তি দিয়ে দরজা ভেঙে মুখোশ পরিহিত ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। ডাকাতরা পাঁচ ভরি আট আনা স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট প্রায় ১৭ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বিপুল কর্মকার বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডাকাতির ঘটনা সংঘঠিত হয়। খবর পেয়ে ওসি মহোদয়সহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।’ এ,আর

  • জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

    জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র ও চাঁদা আদায় তালিকার একটি খাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সীতাকুণ্ড থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ত্র উদ্ধার ও চারজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রাসেল বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর বাহাদুরঘোনা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো: মোরশেদ (৩৩), মো: রাসেল (৩০), মো: বাবু (৩২) ও মো: সাব্বির (৩২)। তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তারা বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকার বিভিন্ন সমাজে বসবাস করছেন।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্যদিকে মোরশেদ, বাবু ও সাব্বিরের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দু’টি ডাকাতি ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে অভিযান চালিয়ে একটি শর্টগান, একটি চাইনিজ পিস্তল, নয়টি সীসার বুলেট, ছয়টি কার্তুজ, একটি টেঁটা, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক ও চাঁদা আদায়ের তালিকাসংবলিত একটি খাতা উদ্ধার করা হয়।

    সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • আনোয়ারায় বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা লাখ টাকা

    আনোয়ারায় বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে চার ব্যবসায়ীকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার কালাবিবির দিঘী ও চাতরী চৌমুহনী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার।

    অভিযানকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিনিময় ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী খোরশেম আলম (৪৪) ও সাদিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: সাদিম উদ্দিনকে (২৯) ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া চাতরী চৌমুহনী বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের ক্রয় রশিদ না থাকা ও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে জহির স্টোরের স্বত্বাধিকারী জহির উদ্দিন আহমদ (৪০) ও ইব্রাহিম স্টোরের স্বত্বাধিকারী ইব্রাহিমকে (৫৮) ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার জানান, জনস্বার্থে আনোয়ারা উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • অস্ত্র হাতে ভাইরাল ‘বুলেট শিবলু’ গ্রেফতার

    অস্ত্র হাতে ভাইরাল ‘বুলেট শিবলু’ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা মো: শিবলু ওরফে বুলেট শিবলুকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি ওই এলাকার নাছির মেম্বারের বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে। এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নগরের ষোলশহর এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা মামলায় ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শিবলু ওই মামলার ৬৯ নম্বর আসামি।

    এ ছাড়া আনোয়ারায় এক মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় শিবলুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্সে কর্মরত সদস্য মো: আরিফুল ইসলামকে মারধর, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়া ও হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র হাতে শিবলুর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি এলাকায় ফিরে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

    আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারের সময় শিবলুর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিবলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্য কোনো থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।’ এ,আর

  • মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রধান শাখা খাল ধুরুং। এ খালের বুকজুড়ে জেগে ওঠা একটি চর এখন পরিণত হয়েছে সবজি চাষের উর্বর ভূমিতে। এ চরের তিন দিক দিয়ে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’ আকৃতিতে বয়ে চলেছে খালের পানি। আর মাঝখানে জেগে থাকা চরের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। চরের কোথাও শসার লতাপাতা মাটিজুড়ে ছড়িয়ে আছে, কোথাও মাচাজুড়ে ঝুলছে বরবটি ও ঝিঙা। কোনো জমিতে দুলছে লাউ, শিম, চিচিঙ্গা ও বেগুনের গাছ। এমনকি এ চরে চাষ হচ্ছে পটলও। আগাম সবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

    স্থানীয়ভাবে ‘মুজরি চর’ নামে পরিচিত এ চরটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও পাইন্দং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেড়াজালীর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১৬০ হেক্টর আয়তনের এ চরে পুরো বছর কৃষিকাজ করেন ২৪০-২৫০ জন কৃষক। তবে শুষ্ক মৌসুমে ধুরুং খালের পানি কমে গেলে তখনই চরজুড়ে শুরু হয় সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ। উর্বর পলিমাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই এ চরে বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। কৃষকেরা আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। খালের পানিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ চর যেনো মৌসুমি কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার এক সবুজ অধ্যায়।

    চরের কৃষকরা জানান, তিন পাশ দিয়ে খালের পানি প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার জমিতে পলি পড়ে। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আগাম সবজি চাষ করেন। বাজারে যখন এ সব সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন ফসল তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে।

    মুজরি চরের কৃষক মো. আফজল হোসেন আড়াই কানি জমিতে এবার বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। তার জমিতে রয়েছে বরবটি, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, বেগুন, লাউ, শিম ও তিতকরলা।

    কৃষক আফজল হোসেন বলেন, ‘লাভের আশায় আমরা চরের জমিতে আগাম শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি ও বেনটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করি। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠে না। কৃষি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি-সহায়তা নিয়মিত পাই না। তাই চরের কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি সহায়তা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাই। এতে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং কষ্টের ফসলের যথাযথ মূল্যও পাবেন।’

    কৃষক আলী আহমদ বলেন, ‘আমাদের এ চরে প্রায় আড়াই শত কৃষক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু চরে কাজ করতে এসে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে কৃষকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি টংঘর বা ছাউনি থাকলেও দুর্যোগের সময় আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারতাম। তাই কৃষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চরে একটি টংঘর বা ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’ শুধু আফজল বা আলী আহমদ নন, মুজরি চরের অধিকাংশ কৃষকই আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তাদের লক্ষ্য, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফসল তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া। তবে ভালো ফলন হলেই যে কৃষকের লাভ নিশ্চিত হবে, তা নয়। উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরের ওপর নির্ভর করে তাদের লাভ-লোকসান।

    মো. মহিন উদ্দিনসহ অন্য কৃষকের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজির সব সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাঠ থেকে সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারে সবজির দাম বেশি হলেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আসে না।

    বর্গাচাষী মো. এরশাদ বলেন, ‘সব ধরনের কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি, কিন্তু সে তুলনায় সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ বছর যদি সবজির দাম ভালো না পাই, তাহলে উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে সেটাও তুলে আনতে পারব না। কৃষকরা এত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে আমাদের জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’

    মুজরি চরের কৃষকদের আরেকটি বড় সমস্যা পানি। খালের পাশে চাষ হলেও সবজি খেতে প্রয়োজনের সময় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কৃষককে নিজেদের উদ্যোগে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া চরে কৃষকদের বসার বা বিশ্রামের জন্য কোনো ছাউনিও নেই। প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিয়মিত পরামর্শ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে সহযোগিতা পেলে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘মুজরি চরের সম্ভাবনা অনেক। এখানকার মাটি বেশ উর্বর এবং সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগাম সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। সেচ, রোগবালাই দমন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। মুজরির চরের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    ধুরুং খালের বুকে জেগে ওঠা মুজরি চর তাই শুধু একটি চর নয়। কয়েক শত কৃষকের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ সবুজ জমিতে এখন তারা আগাম সবজি ফলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ফসল ভালো হবে, বাজারে ভালো দাম মিলবে, আর ঘরে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত লাভ।

  • সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নানিয়ারচরে সেলাই প্রশিক্ষণ

    সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নানিয়ারচরে সেলাই প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাহাড়ি-বাঙ্গালি তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে সেলাই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানিয়ারচর জোন।

    রোববার (৪ অক্টোবর) নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মশিউর রহমানের দিক নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম।

    এ প্রশিক্ষণের আওতায় পাহাড়ী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মোট ১৬ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। প্রশিক্ষণটি আজ রোববার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    আয়োজকেরা জানায়, প্রশিক্ষণার্থীদের দর্জি প্রশিক্ষণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেলাই ও কাটিং বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ারা জানায়, দর্জি প্রশিক্ষণ একটি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক দক্ষতা। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটিকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ নিজস্ব দর্জি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন বলেও জানায় তারা।

    সকল জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে প্রশিক্ষনার্থীদের অংশ নেয়ার সুযোগ পাওয়ায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহাদ্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ নানিয়ারচর গড়ে তোলা সম্ভব বলেও জানান প্রশিক্ষনার্থীরা।

    এবিষয়ে নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নানিয়ারচর জোন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • রাউজানে সন্ত্রাসীর গুলিতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত

    রাউজানে সন্ত্রাসীর গুলিতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত

    দুই অস্ত্র ও ১২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধসহ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময় হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি ও ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার দিবাগত রাতে রাউজান থানার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

    আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই (নিরস্ত্র) জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই রবিউল হোসেনসহ ১২ জন।

    পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাসী জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় জানে আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ।

    তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) ও মো. বাঁচা (৪৫)সহ অন্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    গুলিবিনিময়ের সময় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। এ,আর

  • উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

    শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলনে আছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারাও। এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিও যোগাদানের বিষয়ে অটল। এরইমধ্যে অনলাইনে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। এতে বিষয়টি সুরাহা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    সপ্তম দিনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে চুয়েট গেটে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সাদা কাপড়ে গণসাক্ষ্য কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবেন আন্দোলনরতরা। ছাড়া প্রশাসনিক ভবনের দরজাও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। টানা আন্দোলনে সেশনজটের শঙ্কা বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এমতাবস্থায় দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নিয়ে সংকট সমাধানের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

    মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর আগের ভিসি আবু সাদাত মো সায়েমকে বদলি করে ড শেখ শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। আগের ভিসিকে দক্ষ ও চুয়েট বান্ধব দাবি করে প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

  • বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে চট্টগ্রাম নগরী। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর জন্য বেড খালি নেই। শত চেষ্টা করেও হাসপাতালের বারান্দা কিংবা ভেতরে বেড মিলছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর অনেকে জ্বরের যন্ত্রণায় আইসিইউতে কাতরাচ্ছেন। কয়েক দিনের যুদ্ধ শেষে জীবনের কাছে হার মানতে হচ্ছে জ্বরে আক্রান্তদের। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো।

    বর্তমানে আক্রান্তের দিক থেকে শহর এলাকা গ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের নামও। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিধনে চসিক ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের ওপর আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। চসিকের দেওয়া ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক ক্রাশ প্রোগ্রাম চললেও ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে না। তা ছাড়া ওষুধ প্রয়োগের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া উচিত। অথচ চসিক তা করছে না। সংস্থাটির ব্যবহৃত বিটিআই ওষুধ মশা নিধনে আদৌ কাজে আসছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোয় কোনো বেড খালি নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৪ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন করে রোগী ভর্তি করতে নারাজ সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।

    চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ইশতিয়াক আহমেদ মেহেরাজ বলেন, বহু কষ্টে সন্তানের জন্য একটি বেড পেয়েছি। ২০ দিন ধরে আমার চার বছর বয়সি সন্তানের গায়ে জ্বর কমছেই না। অথচ কোনো ভাইরাসই ধরা পড়ছে না। উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, নগরীর হালিশহর ডেঙ্গুর হটস্পট। অথচ সেখানে তেমন কোনো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চসিকের কর্মীদের অবহেলা অথবা ওষুধ প্রয়োগে অদক্ষতার কারণে মশা মরছে না বলে মনে করেন তিনি।

    আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে কোনো বেড পেলেও সেখানে চিকিৎসা নেই বললেই চলে। চসিকের কোনো লোকজনকে মশার ওষুধ দিতে দেখিনি। তিন মাস আগে একবার এলেও তাদের মতো করে ফগিং করে চলে যান। এতে মশার আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে না।

    দুই নম্বর গেটের বাসিন্দা রেজাউল রাজু বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ে। কাজ থেকে ফিরে মশা মারতে নানা আয়োজন করতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। অথচ সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তার অভিযোগ, ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে লোকদেখানো প্রচার চলছে। ওষুধ কাজ করে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ।

    এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। চলতি মাসে চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার নগরীর বেসরকারি সাজিনাস হাসপাতাল থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে নেন মনি আক্তার নামে এক নারী। ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার আট বছর বয়সি ছেলে আবু জাহেদও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে।

    আবু জাহেদের বাবা আল আমিন জানান, স্ত্রী হারানোর আগেই ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হন। সাজিনাস হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসার বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা বকেয়া রেখে তিনি চলে যান। সেদিনই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোক এখনো কাটেনি। এখন ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) উদ্বেগে রয়েছেন।

    এদিকে জেলার ১৫টি উপজেলার ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও নাজুক। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে। ওই উপজেলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে সিরাজুল মুনিরা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর কোরবান আলী রিফাত নামে ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উপদ্রব কমাতে সেই উপজেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্য উপজেলায় আক্রান্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

    বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমানে পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় কোনো কাউন্সিলর-মেম্বার ও মেয়র-চেয়ারম্যান নেই। সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ দেওয়ার স্থানও তারা পাচ্ছেন না। মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।

    জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ২,৫১৫ জন। বিপরীতে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২২ জন। এর মধ্যে জেলার ১৫ উপজেলায় ১,৭১১ জন। আর চসিক এলাকায় ১,৭৭০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্ত বেড়েছে ১,৪০৭ জন।

    তবে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৯৩৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে আক্রান্ত ১,৭৮৬ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ৯১.০২ শতাংশ এবং মৃত্যু ২২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহী জানান, ১৫৮টি স্প্রে মেশিন ও ৮৬টি ফগার মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। ৬০ জনের একটি বিশেষায়িত টিমও মাঠে রয়েছে। স্প্রে ও ফগিংÑএই দুভাবে মশা নিধন করা হচ্ছে। বিটিআই ওষুধটি একটি ব্যাকটেরিয়া। সরাসরি মশার পাকস্থলীতে আক্রমণ করে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওষুধটি ব্যবহার করা হবে।

    এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। পাঁচটি হটস্পটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করতে গেলে কিছুটা গ্যাপ থেকে যায়। আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিটিআই আগের চেয়ে ভালো করছে বলেই আমরা এটি ব্যবহার করছি।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চসিকের সঙ্গে আমরা ওষুধ নিয়ে কথা বলব। নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সিজন থাকবে। আমরা মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যৌথভাবে কাজ করছি।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রধান অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, তিন কারণে ডেঙ্গু বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, বিদ্যমান তাপমাত্রা ও বাতাসে ৮০ শতাংশের ওপরে আর্দ্রতা। এটি এডিস বৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য সহায়ক। এতে বৃষ্টির সংস্পর্শে এডিস মশার পেড়ে রাখা ডিম তিন দিনের মধ্যে অ্যাডাল্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা নভেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। আর থেমে থেমে বৃষ্টি কমে গেলে আরো আগে কমে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চার ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে চট্টগ্রামের ডেঙ্গুর ধরন জানতে নমুনা দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

  • নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।

  • পটিয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    পটিয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের পটিয়ার শ্রীমাই খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার উত্তর ছনহরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমাই খাল থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে শ্রীমাই খালের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউল হক এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উত্তর ছনহরার খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর হতে পারে। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

    তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ওই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’ এ,আর

  • আনোয়ারায় স্বাস্থ্য শিবিরে ৫০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

    আনোয়ারায় স্বাস্থ্য শিবিরে ৫০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্বাস্থ্য শিবিরে উপকূলীয় এলাকার ৫০০ হতদরিদ্র রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চশমা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাকাত ফান্ড থেকে ৯০ জন হতদরিদ্র রোগীকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গহিরা মোহাম্মাদীয়া দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে নীডি ফাউন্ডেশন ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, আগ্রাবাদ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত হয়।

    চিকিৎসা শিবিরে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, চর্ম, চক্ষু ও দন্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। চিকিৎসাসেবা শেষে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চক্ষু রোগীদের বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আগ্রাবাদ শাখার সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট আবদুল আজিজ রিয়াদ, হিসাব কর্মকর্তা ইকরামুল হক, মার্কেটিং কর্মকর্তা সাম মোহাম্মদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন, মো: রাকিব হোসেন, নীডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো: আলম খান, উপদেষ্টা কামাল হোসাইন, মহাসচিব আজম কুতুবী, প্রকল্প পরিচালক হাফেজ মো: ইসহাক, যাকাত দাতা ইরফানুল করিম ইমন, মোস্তফা কামাল, ইকবাল হোসেন সিফু, মো: নাছির, অ্যাডভোকেট আবু জাফর মো: সাদেক চৌধুরী ও মনির মেম্বার। এ,আর

  • ডেঙ্গুর হটস্পট সীতাকুণ্ড, ১৬ দিনে দুই শিশুসহ মৃত্যু ৫

    ডেঙ্গুর হটস্পট সীতাকুণ্ড, ১৬ দিনে দুই শিশুসহ মৃত্যু ৫

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। গত ১৬ দিনে উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৮ জন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুণ্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট বিবেচনায় নিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংসে সমন্বিত মাঠপর্যায়ের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    লামিয়া সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আউলিয়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা মৃত ইমাম হোসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন জ্বরে ভোগার পর স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে লামিয়ার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাকে ফৌজদারহাটের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, লামিয়া চার দিন জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে তাকে চমেকে রেফার করা হলেও পরিবারের সদস্যরা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, ‘সীতাকুণ্ড এখন ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৫০৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন দুই শিশুসহ পাঁচজন।’ জ্বরকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পুরুষ, নারী ও শিশু ওয়ার্ডে মোট ১০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের ঘাটতি নেই। জটিল রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরের উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। সীতাকুণ্ডের শিল্পাঞ্চল, জাহাজভাঙা ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোসহ বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে। পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি, পুরোনো টায়ার, ক্যান, ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিও এ ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নজরদারি না থাকলে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড পৌর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংসে প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এককালীন অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রজননস্থল ধ্বংসের ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন। পাঁচজনের মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চুয়েটের নতুন ভিসি

    ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চুয়েটের নতুন ভিসি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টানা তিনদিনের সর্বাত্মক শাটডাউনে নিয়োগের পরও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ফলে বাধ্য হয়ে অনলাইনে যোগ দেন চুয়েটের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এ ভিসি। তবে তার যোগদানের দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। একই দিন তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠান।

    অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি আজ অনলাইনে যোগদান করেছি। আমার যোগদানপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষাসচিব যোগদানপত্র পেয়েছেন বলে আমাকে নিশ্চিত করেছেন। ’

    চুয়েটের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি চুয়েটের ছাত্র ছিলাম। চুয়েটের প্রতি আমার আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে চুয়েটের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও জানান তিনি।

    এদিকে নতুন উপাচার্যের যোগদানের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা ‘ভিসি কে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?’ ও ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচি থেকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খোলা চিঠি উপস্থাপন করেন তারা।নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো অবস্থান নেই জানিয়ে শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত অবস্থান নেই। আমরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল চাই। ’

  • আ.লীগ সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

    আ.লীগ সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

    আ.লীগ সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক ও আইনগত—উভয় দিক থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটির বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।

    বুধবার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। তাই এখানকার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে পূর্ণ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, সেটির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে খোলামেলা আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

  • শিশু জুলিয়া হত্যা: আমীর হোসেন খালাস

    শিশু জুলিয়া হত্যা: আমীর হোসেন খালাস

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২১ বছর পর শিশু জুলিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে আমীর হোসেন ওরফে জামালকে খালাস দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

    বুধবার সকালে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। আদালত বলেছে, মূল আসামিকে না ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আমীর হোসেনকে।

    এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিশু জুলিয়া আক্তার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমীর হোসেনকে ২১ বছর পর খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত কনডেমড সেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শিশু জুলিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।

    মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু জুলিয়া আক্তার। ওই বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আসামি আমীর হোসেন।

  • চুয়েট উত্তাল, নতুন ভিসিকে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধা

    চুয়েট উত্তাল, নতুন ভিসিকে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

    সকালে চুয়েটের প্রধান ফটকে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মূল ফটকে তালা দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।

    একই দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন চুয়েটের শিক্ষকরা। এ সময় তারা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান এবং বিভিন্ন বক্তব্য দেন।

    চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘এক মাস ২২ দিনে আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখেছি। কাজের মধ্যে গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জীবন ফিরে এসেছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। মাত্র এক মাস ২২ দিনের মধ্যে তাকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, এর সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক কারণ আমরা জানতে চাই।’

    তিনি বলেন, ‘নতুন উপাচার্য চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। তার প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। তবে আমরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল চাই, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। যৌক্তিক ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থানে থাকব।’

    চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির জিসান বলেন, ‘একজন উপাচার্যকে পদে রাখার দাবিতে আন্দোলন-এমন ঘটনা বিরল। কিন্তু এখানে শিক্ষার্থীরা তা করছে, কারণ তিনি শিক্ষার্থীদের একটি ভিশন দিয়েছেন। সরকার যাচাই-বাছাই করে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তাহলে আবার কেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো?’

    তিনি আরও বলেন, ‘এতে শিক্ষক সমাজ ও চুয়েটকে হেয় করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তার পুনর্বহাল চান। নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে নতুন যিনি এসেছেন, তাকেও যেন কোনোভাবে অপমানিত হতে না হয়। পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে।’

    মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানান।

    যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ‘আমাদের উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে কোনো কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল রাত থেকেই আমাদের কর্মসূচি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ক্যাম্পাস অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। সায়েম স্যার চুয়েট ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। আমরা তার পুনর্বহাল চাই।’

    সোমবার রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ শেষে উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

  • চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অটোরিকশার যাত্রী-চালকের মৃত্যু

    চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অটোরিকশার যাত্রী-চালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কালিয়াইশ এলাকায় কক্সবাজারমুখী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালকের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কালিয়াইশ পূর্বকাঠগড় রেলগেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— অটোরিকশাচালক ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর মুহুরীপাড়ার মরহুম সাহেব মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুল সক্কুর (৩৫) ও যাত্রী কালিয়াইশ ইউনিয়নের মাইঙ্গাপাড়া গ্রামের মরহুম হাজী আহমদ হোসেনের ছেলে আবু তাহের (৫৫)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু তাহের তার ছোট ছেলেসহ চন্দনাইশ-দোহাজারী সদরে বাজার করেন। পরে বিওসির মোড়ে তার ছেলেকে চুল কাটার জন্য নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশাযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে রেলগেইট পার হওয়ার সময় ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলেই আবু তাহের ও দোহাজারী হাসপাতলে নেয়ার পথে সুক্কুর মারা যান।

    নিহত আবু তাহেরের প্রতিবেশী আবুল বশর জানান, ওই রেলগেইটের পাশে জঙ্গল থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় ভাল করে দেখা যায় না।

    যোগাযোগ করা হলে জিআরপি থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন কান্তি দে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ,আর

  • মিরসরাইয়ে বিধবা প্রনতি রাণীর বসতঘরে আগুন, শেষ আশ্রয়ও পুড়ে ছাই

    মিরসরাইয়ে বিধবা প্রনতি রাণীর বসতঘরে আগুন, শেষ আশ্রয়ও পুড়ে ছাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বিধবার বসতঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাছড়া এলাকার মহাজন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    আগুনে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে স্বামীর ভিটায় থাকা ৬৮ বছর বয়সী প্রনতি রাণী দাশের শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে গেছে।

    প্রনতি রাণী দাশের অভিযোগ, সম্পত্তি বিরোধের জেরে এর আগে তার লাগানো গাছপালা কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিরসরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

    অভিযোগ দেয়ার আট দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়নি। এর মধ্যেই তার বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    প্রনতি রাণী জানান, তার স্বামী অমরেন্দ্রে দাশ রায় ওরফে দুলাল ২০১৫ সালে মারা যান। এরপর তিন মেয়েকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় বসবাস করে আসছেন তিনি। স্বামীর নামে থাকা তফসিলভুক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে তাদের বিরোধ চলছে।

    গাছ কাটার ঘটনায় থানায় দেয়া অভিযোগে চোটন কর্মকার (৩৭), মো: সোহেল, আজিম উদ্দিন ও আজাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করেন প্রনতি রাণী। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে গাছপালা কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

    প্রনতি রাণী বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বারবার মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে। আদালতও রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা তা মানছে না। গাছ কাটার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এখন রাতের আঁধারে আমার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে উচ্ছেদ করে জমি দখল করতেই এসব করা হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ঘটনার সাথে আগের গাছ কাটার ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

    এদিকে বিরোধ মীমাংসায় ১৯ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে জানান মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দীন।

    তিনি বলেন, দুই পক্ষের একজন করে প্রতিনিধি এবং তার পক্ষের একজন প্রতিনিধিকে নিয়ে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা ছিল। তবে প্রনতি রাণী বৈঠকে উপস্থিত হলেও অপর পক্ষ উপস্থিত হয়নি।

    গাজী নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘প্রনতি রাণীর ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমি তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

    অভিযোগের বিষয়ে চোটন কর্মকার বলেন, ‘আজকের বৈঠকের বিষয়ে আমি জানতাম না। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ প্রনতি রাণী দাশ ও সুমনের মধ্যে। সুমনের সাথে আমার সম্পর্কের কারণে বিরোধ মীমাংসার জন্য আমি সম্পৃক্ত হয়েছি। এখন আমাকে বিবাদী করে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

    মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঘরে আগুন দেয়ার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। ১৪ সেপ্টেম্বর গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বলতে পারেননি তিনি। তবে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর বিষয়টি জানানো হবে।’

  • চট্টগ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে দুইজনকে পুলিশে দিল জনতা

    চট্টগ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে দুইজনকে পুলিশে দিল জনতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পৌরসভার কাগজীপাড়া এলাকায় এক শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন- কচুয়াই ইউনিয়নের আবুল ফয়েজের ছেলে মো. ফারুক (৪২) এবং কুতুপালং এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে শাহাজাহান বেগম (৪০)। অভিযুক্ত শাহজাহান বেগম উপজেলার বাদামতল এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটিয়া সদরের কাগজীপাড়া এলাকার আশরাফ আলী একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে সালমা ইকরা (৯) ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় এক রিকশাচালক ও এক নারী তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে রিকশায় তুলে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পরে তাকে বাড়ির সামনে না নামিয়ে রিকশাটি অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে রিকশাসহ ওই দুইজনকে আটক করেন।

    শিশুটির বাবা প্রবাসী শাহনেওয়াজ মামুন বলেন, আমার মেয়েকে বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন বের হয়ে আসেন। পরে সবার সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পটিয়া পৌরসভা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ছেলেধরার ঘটনায় আমরা অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছি।

    পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ছেলেধরা অভিযোগে দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • হাটহাজারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের স্বপ্নের ঘর; ক্ষয়ক্ষতি ৪-৫ লাখ টাকা

    হাটহাজারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের স্বপ্নের ঘর; ক্ষয়ক্ষতি ৪-৫ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় আরও একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারহাট বাজারের পশ্চিম পাশে সোমপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবার হলো—মিলন দে, তপু দে, প্রভা রানী নাথ, তপন নাথ ও খোকন নাথের পরিবার।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে একটি বসতঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় পাঁচ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ সময় আরও একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে তাদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মন্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিটারের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

  • চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় না করা, প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা এবং জরুরি সংস্কারকাজে ধীরগতিসহ নানা কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ ছাড়া খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও প্রভোস্টের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তারা।

    আলাওল হল সংসদের জিএস নুরুন্নবী বলেন, তিনি হল সংসদের কোনো কাজে সহায়তা করেন না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। হলটির সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তার কাছে গেলে নানা বিষয়ে হয়রানির শিকার হন। আমরা তার পদত্যাগ চাই।

    চবির সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম সুজন বলেন, আলাওল হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি সমস্যা সমাধানের জন্য হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছে।

  • আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।

    এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

    এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

  • লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

    লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার দক্ষিণ লোহাগাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মাহি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শাহারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশিক জানান, দক্ষিণ লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাহিকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল পৌনে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এসআই নুরুল আলম।

  • আনোয়ারায় মাদক সেবনে দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড

    আনোয়ারায় মাদক সেবনে দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বটতলী নতুন গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আকতার কবির (৩৬) ও হান্নান (২২)।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে আকতার ও হান্নান নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড ও ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    চট্টগ্রামের দামপাড়ায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল করেছে।

    আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে মিছিল নিয়ে চলে যায় ছাত্রলীগ।

    মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।’ মিছিলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ ও যুবক অংশ নেন।

    পুলিশ লাইনে নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কার্যালয় রয়েছে। পুলিশ কমিশনার লালদিঘির পাড়স্থ নবনির্মিত ভবনের পাশাপাশি দামপাড়া পুলিশ লাইনের অফিসেও মাঝে মধ্যে বসেন।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর হোসেন মামুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘৫ সেকেন্ডের জন্য তারা মিছিল করেছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। তবে কাজ চলছে।’

  • চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্বজনদের অভিযোগ, ভ্যান বসানো চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে সিফাতকে (২০) আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও শুক্রবার সেখানে আবার ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন। এ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার তা বসানো হয়। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ‘চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। মারামারি বেশি হয়নি, তবে ঘুষির আঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ভাসমান ভ্যান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ফজল আমিন শাহজাহানের কাছে জানতে চেয়েছিল বলে শুনেছি। গরিব মানুষ ভাসমান দোকান বসিয়ে জীবিকা চালায়, তাদের কাছ থেকে কেন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে শাহজাহান ফজল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

    নিহতের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা চাই, তার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা জড়িত তাদের বিচার হোক। ৫ আগস্টের পর এলাকায় নতুন করে নেতৃত্বে আসা কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।’

    চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

    এদিকে, ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় আনার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিজ দলের কর্মীর হাতে তার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

  • চাঁদপুরের পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস চট্টগ্রামের পটিয়ায় আটক

    চাঁদপুরের পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস চট্টগ্রামের পটিয়ায় আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুর সদরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসকে (৪৫) চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে সপরিবারে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানার একটি দল পটিয়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজীর নেতৃত্বে পুলিশের দলটি অভিযান পরিচালনা করে।

    চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস অ্যান্ড অপস) মো: লুৎফর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, পিন্টু দাসের সাথে তার স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। তাদের সবাইকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলছে। পিন্টুর বাড়ি চট্টগ্রামে এবং তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লায়।

    পুলিশ জানায়, পিন্টু দাস গত ১০-১১ দিন ধরে সপরিবারে আত্মগোপনে ছিলেন। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা নিয়ে হঠাৎ আত্মগোপনে যাওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তার কাছে স্বর্ণ বিক্রির টাকা পাওনা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আজও কয়েকজন তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে থানায় অভিযোগ করেছেন।

  • সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আটক

    সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আটক

    চাঁদপুরের আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি ও ২ ছেলে তার সঙ্গে ছিলেন। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে সপরিবারে তাকে আটক করা হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই কালামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযানটি পরিচালনা করে।

    জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

    চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, সিসিটিভিতে ট্রাকে মালামাল তোলার ফুটেজের সূত্র ধরে আমরা পিন্টু দাসকে সপরিবারে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এর আগে ২২ আগস্ট তিনি নিখোঁজ হন বলে আমরা জানতে পারি। পিন্টু দাসের সঙ্গে তার স্ত্রী রিমি ও দুই ছেলেও রয়েছেন।

    সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, দুই দিন অভিযানের পর অবশেষে সফল। মূলত ঋণের চাপেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে যান। আটকের পর তাকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ‘স্যার, কসম করেন’, গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী মোবারকের কথোপকথন

    ‘স্যার, কসম করেন’, গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী মোবারকের কথোপকথন

    ঘরের ফলস ছাদে অস্ত্রসহ লুকিয়ে ছিলেন ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে গলা কাটা মোবারক। দরজার বাইরে ছিল পুলিশ। ঘরে পুলিশ সদস্যরা ঢোকার চেষ্টা করতেই গুলি ছুড়তে থাকেন মোবারক। পরপর ছয়টি গুলি ছোড়েন তিনি। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। অভিযানের একপর্যায়ে মোবারককে প্রাণে বাঁচতে আত্মসমর্পণ করতে বলে পুলিশ। জবাবে মোবারক বলেন, ধরা দেওয়ার আগে তিনি নিজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান।

    গত বুধবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় ‘সন্ত্রাসী’ মোবারককে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় মোবারকের সঙ্গে পুলিশের সদস্যদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এক সদস্য মোবারকের উদ্দেশে বলছেন,‘জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা জীবন বাঁচাব। আমরা খবর পাইছি, তোরে বাইরে কেউ মারার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা তোরে বাঁচানোর জন্য আসছি।’

    তখন জবাবে মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য আবার বলেন, ‘মোবারক, তোর ভালোর জন্য আসছি। তুই সারেন্ডার কর। তোর বাঁচার সুযোগ নেই। তোকে আমরা বাঁচানোর জন্য আসছি। তুই অস্ত্র ফেল, সময় নষ্ট করিস না। বের হওয়ার এখান থেকে আর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বর্তমানে কাউকে মারে না।’

    গ্রেপ্তারের আগে অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ফলস ছাদে লুকিয়ে থাকা মোবারকের কথোপকথন চলছে ছবি: ভিডিও থেকে

    এরপরও মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র ফেলব না।’ তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের একজন বলেন, ‘অস্ত্র দিলে কেউ মারবে না তোকে। কেন মারব? আমি ওসি বলছি, অস্ত্রটা দিয়ে দে।’ মোবারক তখন পুলিশকে সরে যেতে বলেন।

    জবাবে পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘না, যাব না। মোবারক, অস্ত্রটা দে। অস্ত্রটা ফেল। নিচে নাম, আগে নিচে নাম।’ একপর্যায়ে মোবারক বলেন, ‘আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’

    পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না। এই মুরুব্বির (ঘরে থাকা বৃদ্ধ) কাছে অস্ত্র দে, চিন্তা থাকবে না। মুরুব্বির কাছে অস্ত্রটা দে।’ পুলিশ সদস্যদের একজন তখন বলেন, ‘আমাদের কাছে কিন্তু চায়না রাইফেল, এসএমজি—সবকিছুই আছে। মোবারক, ইমন (ডেভিড ইমন) গ্রেপ্তার হয়েছে। ইমনের চেয়ে তুই বড় সন্ত্রাসী না।’

    জবাবে মোবারক বলেন, ‘স্যার, আমি একটু পরে বলব স্যার। একটা অনুরোধ…আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ তখন এক পুলিশ সদস্য আবারও বলেন, ‘কসম করলাম তো। খোদার কসম, কিছু করব না। কিছু করব না। অস্ত্র ফেলে দে। খোদার কসম, কিছু করব না আমরা। তোর কিচ্ছু হবে না।’

    জবাবে মোবারককে বলতে শোনা যায়, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য ঘরে থাকা বৃদ্ধকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুরুব্বি, অস্ত্রটা নিয়ে আসেন। মুরুব্বি, অস্ত্র নিয়ে নেন।’

    মোবারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    মোবারকের সঙ্গে তাঁর তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মোবারককে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মোবারক অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের গুলি ছুড়তে থাকেন। মোবারকের ছোড়া গুলিতে তিনি নিজেসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মোবারককে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভবনের ছাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুর আলম (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বিষুমিয়ারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নুর আলম জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার জামশেদ আলীর ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে নুর আলম কখনো রাজমিস্ত্রি, কখনো ডেকোরেশনের হেলপার, আবার কখনো কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিষুমিয়ারহাট এলাকায় একটি ভবনের ছাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নুর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ইমন বলেন, নুর আলম একেক সময় একেক কাজ করতেন। তিনি সব সময় মানুষের উপকার করতেন।

    মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভ্রা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

  • হাটহাজারীতে আমন চাষে বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

    হাটহাজারীতে আমন চাষে বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রোপা আমন চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

    উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আমন চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে পাওয়ার টিলারে জমি চাষ, চারা রোপণ, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি কৃষকদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে।

    চারিয়া এলাকার কৃষক মো. আজগর আলী বলেন, এক কানি জমিতে আমন চাষে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক, সেচ ও ধান কাটাসহ প্রতিটি ধাপেই খরচ হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে প্রয়োজনের সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    মির্জাপুর এলাকার কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘এবার জমি তৈরি, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেশি। ধানের দাম যদি উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে কৃষকের লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে।’

    ধলই ইউনিয়নের কৃষক মো. সেলিম বলেন, ‘আমন চাষে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরিতে। এর সঙ্গে সার ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে। ধানের ভালো দাম না পেলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে।’

    কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় কোথাও কোথাও সার ও কৃষি উপকরণ কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে। তারা সার ও কৃষি উপকরণের বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ টাকা কেজি দামের কিছু সার ৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি তিন টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে সব দোকানে এমন চিত্র দেখা যায়নি।

    হাটহাজারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে হাটহাজারীতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। উপজেলায় সার ও বীজের কোনো সংকট নেই। সার ও বীজের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সার ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা হচ্ছে।

    কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। পাশাপাশি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে রড বহনকারী চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জোরারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো: রিয়াদ হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার হাফিজ মোল্লার ছেলে ট্রাকের হেলপার মো: হাদিছ মোল্লা ও নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর থানার মরহুম কাঞ্চন শেখের ছেলে আবুল বাশার ওরফে বাঁশি।

    পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আকারের ১৩ টন লোহার রড একটি ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছিল। পথে রডবোঝাই ট্রাক চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই চুরি যাওয়া রড উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করি। পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একইসাথে আন্তঃজেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর বাজারের আয়ান এন্টারপ্রাইজ থেকে ১২ টন ১০০ কেজি চুরি যাওয়া রড উদ্ধার করা হয়। পরে ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রড বহনকারী ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির সাথে আরো কেউ জড়িত কিনা ও চুরি যাওয়া বাকি রডের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া রড ও ট্রাক পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। গ্রেফতারদের মধ্যে রিয়াদ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

  • মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

    মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামে নিখোঁজের পর দুই দিন হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল ১৫ বছর বয়সী কিশোর সায়েদ মুনিফ আহমেদ শানের লাশ। এদিকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা পরিবারকে অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের প্রকাশ করা ছবি দেখে মর্গে থাকা লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে পরিবার।

    শান চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার হালিশহরের চুনা ফ্যাক্টরি এলাকার বাসা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয় সে। পরে আর বাসায় ফেরেনি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর মধ্যে পরদিন এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে ফিরে পেতে টাকা দাবি করে ওই ব্যক্তি। পরে ষোলশহর এলাকায় আসতে বলা হয় পরিবারকে।

    বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শানের মামার বিকাশ নম্বর থেকে ওই নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, নম্বরটি লোহাগাড়া উপজেলার এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।

    অন্যদিকে, শনিবার রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের দেওয়া ছবি দেখে পরিবার ও হালিশহর থানা পুলিশ লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে।

    পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. পারভেজ জানান, দুই দিন আগে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হলে পরিবার ও হালিশহর থানার পক্ষ থেকে কিশোরটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

    পুলিশ জানায়, শান পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে কোচিং শেষে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়েছিল। সেখানে সবাই পানিতে নামলে ঢেউয়ের তোড়ে শান ভেসে যায়। ভয়ে তার চার বন্ধু বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এ ঘটনায় শানের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, শান বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গায় গিয়ে পানিতে ভেসে যায়। পরে বন্ধুরা ভয় পেয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। অপহরণের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

    শানের চাচা গোফরান উদ্দিন অভিযোগ করেন, দুই দিন ধরে পরিবার তাকে খুঁজলেও মর্গে থাকা লাশটি যে শানের, সে তথ্য তারা আগে জানতে পারেনি। অপহরণের কথা বলে যারা টাকা নিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

  • পুলিশ দেখে প্রাইভেটকার রেখে পালাল মাদক কারবারিরা, গাড়িতে মিলল ৫০ কেজি গাঁজা

    পুলিশ দেখে প্রাইভেটকার রেখে পালাল মাদক কারবারিরা, গাড়িতে মিলল ৫০ কেজি গাঁজা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কারসহ ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় বেদেপাড়া এলাকায় আরসিএল ফিল্ডের সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো: সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সিলভার রঙের একটি প্রাইভেট কার (চট্ট মেট্রো-গ-১২-৯৯৬৪) তল্লাশি করে প্লাস্টিকের তিনটি বস্তায় থাকা ২৫টি পোঁটলা থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    প্রতিটি পোঁটলায় ছিল দুই কেজি করে গাঁজা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ মাদক কারবারি পালিয়ে যায়।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

  • চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে এক সাংবাদিকসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মনসুরাবাদ এলাকায় জড়ো হন। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনি-সংলগ্ন হাজী ফজলুল করিম চৌধুরী ‘রয়েল টাচ’ অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ, চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম রুপা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সুজলা অন্তরা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন নিশু।

    এ ছাড়া সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, সাংবাদিক যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান আবীর, আয়েশা হেভেন ও মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১২। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • সীতাকুণ্ডে জাহাজের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দুই সহোদরসহ মৃত বেড়ে ৮

    সীতাকুণ্ডে জাহাজের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দুই সহোদরসহ মৃত বেড়ে ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ কাটিংকালে বিষাক্ত গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই সহোদরসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩০ শ্রমিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোড সমুদ্র উপকূলে মো: লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটলেও ইয়ার্ডের কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে বাইর থেকে কাউকে ঢুকতে দেয়নি এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। যার কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি পুরাতন এলএনজিবাহী জাহাজ কাটিং করার জন্য আনা হয়। সেটি কাটিং করতে যান ইয়ার্ডে কর্মরত প্রায় ৩৫ জন শ্রমিক।

    স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজগর জানান, শ্রমিকরা তখন জাহাজের ভেতরে ঢুকে কাটিং করার শুরুতে গ্যাসের ট্যাঙ্ক থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটির বিস্ফোরণ ঘটে। কাটিংকালে কোনো সেফটির ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী অন্য শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয় বলে জানান চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা: ইশতিয়াক আহম্মেদ।

    মারা যাওয়া আট শ্রমিকের মধ্যে সাতজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (২৬), দুই সহোদর মনসুর আলী (৪১) ও নাসির উদ্দিন (৩৭), হাবিবুর রহমান, মো: রানা (২৫) ও মো: সানি। তারা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ৩০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফের দাবি, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। কিন্তু সকাল ১০টার সময় স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বহিরাগত কিছু লোক তা দেখতে আসে। এ সময় জমে থাকা গ্যাসে কয়েকজনের মৃত্যু ও কয়েকজন আহত হন।

    স্থানীয় জেলে সর্দার চাঁদ জলদাস জানান, কারখানাটির ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানাটির পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম মাহমুদ বলেন, হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুরু হয়। তারা কারখানা এলাকায় গেলে দেখতে পান, অসুস্থ কিছু লোককে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা কারখানার ভেতরে ঢোকেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিহত দুই সহোদর মনছুর ও নাছিরের ভগ্নিপতি মহিউদ্দিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগেও কারখানায় কাজ করতে কষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মনছুর ও নাছির। এমনকি চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন তারা।

    নিহত খোকনের চাচা ও কারখানাটির সাবেক শ্রমিক আঙ্গুর আলী জানান, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পান। বিস্ফোরণের পর শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন। গ্যাসের কারণে প্রথম দিকে ভেতরে ঢোকাও সম্ভব হচ্ছিল না।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ফখরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের পরিবারকে বিএসবিএ-এর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

    কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, বিস্ফোরণ ও বিষক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত  ৮

    সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত ৮

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন শুক্রবার দুপুরে আমার দেশকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত আট শ্রমিকের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

    এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, শিপইয়ার্ডটিতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে পুরোনো একটি জাহাজ কাটার কাজ চলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন। পরে সহকর্মী, স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ কাটার কাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো জাহাজের ভেতরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বা বাষ্পের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। জাহাজ কাটার আগে সেটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কিনা, ট্যাংক ও পাইপলাইন পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

    সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এর আগেও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর জাহাজ কাটার আগে গ্যাস পরীক্ষা, ‘গ্যাস ফ্রি’ সনদ, শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে শুধু বিস্ফোরণের কারণ নয়, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি সর্বশেষ কী ধরনের পণ্য বা জ্বালানি বহন করেছিল, ইয়ার্ডে আনার পর কী ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল, কাটিংয়ের অনুমোদন ও ঝুঁকি মূল্যায়ন হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।

    এদিকে নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বারবার দুর্ঘটনায় শ্রমিকের প্রাণহানিতে এ শিল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর তাই শুধু দায় নির্ধারণ নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকশা চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়েছেন স্থানীয়রা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ধরা খাওয়া চোরদের মধ্যে দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বারইয়ারহাট এলাকার বেলাল হোসেন ও পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে তিন সদস্যের একটি চক্র মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। সবশেষ গতকাল রাতে চক্রটির তিন সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাদের আর চুরি করবেন না, এ মর্মে তওবা পড়ানো হয়। এরপর ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন না করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন মিয়া বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। বুধবার তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে কোনো ধরনের আঘাত না করে তওবা পড়িয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।

  • ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি

    ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি

    চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের হামজারবাগে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ওই ব্যবসায়ীর ছেলের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। নম্বরটি ব্লক করে দেওয়ার পর রাতেই বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।

    সোমবার রাত ১১টার দিকে হামজারবাগ এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুলি দুটি বাড়ির গেটে লাগে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। ঘটনার পর আতঙ্কে বাড়ির বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    বাড়ির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ শওকত দুবাইপ্রবাসী। সোমবার দুপুরে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ভয়েস রেকর্ড পাঠানো হয়। এতে এক ব্যক্তি নিজেকে কাতারপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

    ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অনেক টাকা রয়েছে। ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা নেওয়ার জন্য একজনকে পাঠানো হবে। তাঁর হাতে টাকা তুলে দিতে হবে। টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

    বিষয়টি বাবাকে জানান শওকত। ইউসুফ তাঁকে কোনো উত্তর না দিয়ে নম্বরটি ব্লক করে দিতে বলেন। এরপরই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ভয়েস রেকর্ডটি মুছে ফেলা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

    ইউসুফ বলেন, ‘গুলি করার সময় বিকট শব্দ হয়। সবাই ভয় পেয়ে ঘরে বসে ছিলাম। পরে নিচে নেমে দেখি বাড়ির গেটে গুলির চিহ্ন। দুটি গুলি গেটে লেগেছে।’

    তিনি জানান, গুলি করার সময় বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়। এ কারণে তিনি দ্রুত গেট বন্ধ করে ভেতরে চলে যান। ফলে হামলাকারীদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।

    মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলায়। প্রায় ২৫ বছর ধরে তাঁরা হামজারবাগের নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছেন। ইউসুফ নিজেও দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তাঁর ছেলে শওকত কয়েক মাস আগে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুরবাড়ি। আজিজ চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুদিন পর তিনি গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

    পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে কে বা কারা বাড়িটি লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করেছে। আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’

    ওসি বলেন, ‘চাঁদা দাবির ভয়েস রেকর্ডের বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। গুলির ঘটনা, চাঁদা দাবি এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—সবকিছু তদন্ত করা হচ্ছে।’

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একাধিক দল। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাড়ির মালিক। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

  • জন্মনিবন্ধনের কথা বলে হোটেলে এসআই, সকালে মিলল ঝুলন্ত লাশ

    জন্মনিবন্ধনের কথা বলে হোটেলে এসআই, সকালে মিলল ঝুলন্ত লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড়তাকিয়া বাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক এসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৮) ও ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান ফাতেয়া আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ‘রিলেক্স জোন’ আবাসিক হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ লাইনে এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।

    হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন আমিনুল ইসলাম। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিকেল ও রাতে তারা দুবার কক্ষের বাইরে বের হন। এরপর রাতে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা চিৎকার শোনা যায়নি।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার তাদের কক্ষের দরজায় একাধিকবার ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি বিষয়টি অন্যদের জানান। পরে কক্ষের ভেতর থেকে স্ত্রী তাহমিনা রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। এ সময় খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ভেতরে ১০ মাস বয়সী শিশুটিও ছিল।

    হোটেল ম্যানেজার সোহান বলেন, রোববার দুপুরে তারা কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেল ও রাতে দুবার বাইরে বের হন। এরপর রাতে আমি নিজের কক্ষে চলে যাই। কোনো ধরনের সাড়াশব্দ শুনিনি। সকালে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সবাইকে জানাই।

    মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একই কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর মরদেহ পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে তারা হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্তানের জন্মনিবন্ধন করানোর কথা বলে স্ত্রী ও শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আমিনুল। অথচ বাড়ির পাশের বাজারের একটি হোটেলে গিয়ে কেন তারা রাত কাটালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, প্রস্তুত সাত ভেন্যু

    প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, প্রস্তুত সাত ভেন্যু

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাংগঠনিক সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার চট্টগ্রামের তিনটি সাংগঠনিক ইউনিটের মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। এটা তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন। এই দর্শনকে ধারণ করেই তিনি দেশ ও দলকে এগিয়ে নিতে চান।’

    প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সফরের সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

    শনিবার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কয়েকটি ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড, বাবুনগর মাদ্রাসা, হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠ এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন।

    মহেশখালী দিয়ে সফর শুরু

    সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টায় মহেশখালী পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাঁশখালীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করবেন। সেখানে জনসভা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হতে পারেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    ফটিকছড়িতে বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

    বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

    হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর শপথের সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা রাখতেই এই সফর।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।

    হাটহাজারীতে পুনর্বাসন সহায়তা

    ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

    এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

    নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

    প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালন করছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রতিটি ভেন্যু ঘুরে দেখা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    সন্ধ্যায় বিএনপির সাংগঠনিক সভা

    সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা ও দলীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ বলছে গ্রেপ্তার দুজন সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার জেলার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দিদার ও আবছার ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই মামলার আসামি সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আজ সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতার হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। কী কারণে ও কার নির্দেশে মাসুদুর হককে হত্যা করা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তরে এসপি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনো বলা যাচ্ছে না।

    গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলে অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান ছিল।

    হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান এসপি মাসুদ আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম নামের একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’

  • স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী আর তিন ছেলের সবাই থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। আবদুর রহমান (৬৫) একাই থাকতেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গ্রামের বাড়িতে। গতকাল সোমবার ছেলেরা ফোন করে তাঁর সংযোগ পাচ্ছিলেন না। ওই দিন বিকেলে তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে খোঁজ নিতে এসে দেখেন, ঘরের দরজা বন্ধ। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলার পর দেখা যায়, আবদুর রহমানের পচা-গলা লাশ পড়ে আছে খাটে।

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুর রহমান নিজেও দুবাইয়ে থাকতেন। দেড় বছর আগে দেশে আসেন তিনি। এরপর আর ফিরে যাননি। বাড়িতে একা থাকতেন, নিজের রান্না নিজে করতেন। গত শুক্রবার শেষবার তাঁকে গ্রামের একটি চা–দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর গতকাল তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, তিন-চার দিন আগে আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর মরদেহে পচন ধরেছিল। নানা স্থানে পোকা ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান। পুলিশ জানায়, আবদুর রহমানের স্ত্রী, তিন ছেলে ও বড় ছেলের স্ত্রী দুবাইয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, আবদুর রহমান এলাকায় অনেকটা একা চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না।

    চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশের চোখে–মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খুলে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু বেশ কয়েক দিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রিটন মিয়া বলেন, তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে গেছেন। এরপর তাঁকে আর বাইরে দেখা যায়নি।

    প্রতিবেশীরা জানান, গত জানুয়ারি মাসে চন্দনাইশের বাড়িতে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও আবদুর রহমান যাননি। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে নিজের বাবার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে এসে শ্বশুরকে দেখে যান তিনি। গত সোমবার তিনি খোঁজ নিতে এসে আবদুর রহমানকে মৃত অবস্থায় পান।

    পরিদর্শক রিটন মিয়া বলেন, ছোট ছেলের স্ত্রী পুলিশকে জানায়, দুবাই থেকে ছেলেরা বাবাকে বারবার ফোন করে খবর পাচ্ছিলেন না। তাই সোমবার খোঁজ নিতে এসে মেজ ছেলের স্ত্রী শ্বশুরের লাশ দেখতে পান। তিনি স্ট্রোক করেছেন কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।

  • চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

    চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

    চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ রোববার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়–ভাটিয়ারী লিংক রোড–সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ সশস্ত্র ব্যক্তি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বাড়ির সামনে টেম্পোতে এসে নামে। তখন ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনটিতে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সশস্ত্র ব্যক্তিরা ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করতে থাকে। এরপর ভবনের দরজা–জানালা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামের এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তারা। এ সময় মারধর করা হয় ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজন শ্রমিককেও। পরে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

    ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে সন্ত্রাসীদের হামলার পর স্থানীয় লোকজনের ভিড়ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

    জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বাড়িটিতে হামলার ঘটনা তাঁরা দেখেছেন। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। হাটহাজারী থানার বড় দিঘিরপাড় এলাকায় তাঁর পাইকারি দোকান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ১০ তলা বহুতল ভবনে নির্মাণকাজ শুরু করেন। জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে সন্ত্রাসীরা। শহরে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার পর সবাই প্রতিবাদ করলে তারা একটু নীরব ছিল। এক সপ্তাহ ধরে আবার ফোন করছে চাঁদার জন্য। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছিল। রোববারের ঘটনায় থানায় মামলা করব।’ কারা তাঁকে হুমকি দিয়েছে জানতে চাইলে, তিনি নাম জানেন না বলে জানিয়েছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, শুধু জসিমের নির্মাণাধীন ভবন নয়, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্বাধীনতার পর তাঁদের এলাকায় এভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।

    সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হন নির্মাণাধীন ভবনের দুই শ্রমিক ছবি: সংগৃহীত

    উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মুঠোফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তারা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এই চাঁদা দাবি করেছেন বলে মামলায় বলা হয়। তবে ঘটনার পর ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুঠোফোনের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁরা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাঁদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।

  • কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা, জানাজা শেষে অভিযুক্ত ইরানকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

    কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা, জানাজা শেষে অভিযুক্ত ইরানকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নাঈম (১৫) নামে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে নুরুল ইসলাম ইরান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। ইরানকে চিহ্নিত মাদক কারবারি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তার বাড়িঘর ও মাদক সেবনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    শনিবার রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নাঈম ও ইমরান (২০) নামে দুইজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ইরান ও তার সহযোগীরা।

    অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নাঈমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রাখা হয়। আর ইমরানকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।

    গুরুতর আহত নাঈমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নাঈমের জানাজা শনিবার বিকেল ৫টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, জানাজার পর মাইকে নাঈমের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে চার গ্রামের কয়েকশ মানুষ ইরানকে খুঁজতে বের হন।

    স্থানীয়দের দাবি, রাতে তাকে পাশের একটি বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ধরে আনা হয়। রাত ১১টার দিকে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ইরানকে হত্যার পর তার বাড়িঘর ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোববার দুপুরেও মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আলতাপ (৪৫) ও বাদশা (৫০) নামে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তারা ইরানের সহযোগী। আলতাপকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আহত বাদশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক বলেন, ‘নাঈম দরিদ্র পরিবারের ছেলে। সে ভালো ছেলে ছিল। ইরানের ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে ও ইমরানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নাঈমের নখ ও শরীরের চামড়া তুলে নেওয়া হয়।’

    ইমরানের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘ইরানের লোকজন আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। অনেক অনুরোধ করেও তাকে ছাড়াতে পারিনি। পরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে আনি।’

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান বলেন, ‘আমাকে বাড়ি থেকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার সামনে নাঈমকে কুপিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে আমার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

    নিহত ইরানের ছেলে রিফাত বলেন, তাঁদের ২২টি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরের মালামাল লুটের পাশাপাশি একটি সিএনজি, দুটি পাওয়ারটিলার, একটি ভ্যান ও তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা এ হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত।

    তবে মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এজাহারুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা ছিল না।

    সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় মামলা হয়েছে। পরে নাঈমের জানাজা শেষে উত্তেজিত এলাকাবাসী ইরানকে হত্যা করে। তাঁর বাড়িঘর ও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয়দের দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল সীতাকুণ্ড পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শামীমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনাতেও ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

  • ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত হয়েছে। ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে ঘাতক ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে (৩৮) আটক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ওই এলাকার মৃত রেবতি দাশ গুপ্তার ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও রাখা হয়েছিল।

    শনিবার সকালে মা-বাবাকে নিয়ে বাইরে যায়। পরে সকাল পৌনে ১২টার দিকে তারা বাড়িতে ফেরে।
    কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ছেলেটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে বাবা এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তখন স্থানীয়রা চিৎকার করে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার মা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর গুরুতর আহত বাবাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৩টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

    আটকরা হলেন- খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গুচ্ছবিল এলাকার মরহুম আলাল হোসেনের ছেলে মো: মামুন হোসেন প্রকাশ ইমন (৩৭) ও একই উপজেলার গবমারা এলাকার পরলোকগত আচই মারমার ছেলে ঞোলাপ্রু মারমা (২৭)।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ ধুমঘাট বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি, করেরহাট রেঞ্জের সহযোগী স্টেশন কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তাদের সাথে থাকা ব্যাগে তল্লাশি করে দু‘টি জীবিত তক্ষক উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল হালিম বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

  • চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু মারা গেছে। টাকার অঙ্কে এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া বন্যায় ১০ হাজার ৯৯১টি খামার। বন্যা-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা। এছাড়া কক্সবাজারে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা, বান্দরবানে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার, রাঙামাটিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার এবং খাগড়াছড়িতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পশু ও হাঁস-মুরগি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মাঠ পর্যায়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাতে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে।

    তথ্যমতে, গবাদিপশুর ৪ হাজার ৭৫৬টি খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা, হাঁস-মুরগির ৬ হাজার ২৩৫টি খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা, ৯১০ টন দানাদার খাবারে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড় ২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাস, যার মূল্য ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা। মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিতে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় মারা গেছে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস।

    এছাড়া পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০টি গরু, ৪ হাজার ৭৫৫টি মহিষ, এক লাখ ৬০ হাজার ৮৭টি ভেড়া, ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৮টি মুরগি এবং ৭০ হাজার ৩৭০টি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ পশু ও হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

  • চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’

    চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’


    চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার পানির নিচে চলে গেছে রেললাইন। এর ফলে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ আটকে থাকায় ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন এলাকায় রেললাইনে পানি জমলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় ভারী বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এর পর থেকে ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে থামিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে পুনরায় পেছনে টেনে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে কক্সবাজারগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন।

    পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন

    চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) পণ্য খালাসের কাজে ব্যবহৃত একটি আরটিজি (রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি) ক্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর যৌথ ও তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৪ নম্বর বার্থ এলাকায় থাকা ‘আরটিজি-৪০১৪’ নম্বর ক্রেনটিতে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে টার্মিনালের ভেতরে আগুন লাগার খবর পান তারা। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি চটজলদি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

    এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরের দিকে এনসিটির দক্ষিণ প্রান্তের ৪ নম্বর বার্থে অবস্থানরত একটি আরটিজি ক্রেনে আকস্মিক আগুন জ্বলে ওঠে। ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই বন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দল দ্রুত সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে হাত দেয়।

    তিনি জানান, আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দলও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। এই তিন বাহিনীর সমন্বিত ও অক্লান্ত পরিশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

    বন্দর সচিব আশ্বস্ত করে বলেন, আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আগুনের ধাক্কা সামলে বর্তমানে বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম যথানিয়মে চলছে।

  • নাসিরনগরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

    নাসিরনগরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পান্না সরকার (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২১ জুন) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    পান্না উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আলাকপুর গ্রামের মৃণাল সরকারের ছেলে। সে পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলাকপুর গ্রামে শিশুটি বাড়ির পাশের অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা শেষে শনি পূজা দেখতে পাশের একটি বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় পান্না শিশুটিকে নির্জন রাস্তা থেকে কোলে তুলে নিয়ে আলাকপুর লালমোহন সরকার প্রাইমারি স্কুলের দক্ষিণ পাশের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে আসে। পরিবারের সদস্যরা তাকে অস্বাভাবিক ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় থাকতে দেখে বিস্তারিত জানতে চাইলে সে ঘটনার কথা জানায়। পরে স্বজনরা রাতেই তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা নাসিরনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পান্নাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগীর বাবার মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শিশুটির চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • চট্টগ্রামে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান-শ্রমিক-জনতার অধিকার আদায়ে আন্দোলন চলবে

    চট্টগ্রামে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান-শ্রমিক-জনতার অধিকার আদায়ে আন্দোলন চলবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত শ্রমিক জনতা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের রায়কে সম্মান না করলে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান থাকবে।

    তিনি শুক্রবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ও মুহাম্মদ ইসহাক, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও অধ্যক্ষ খায়রুল বাশার।

    অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর বিধান ও ইসলামী আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মানব রচিত মতবাদ দিয়ে জনগণের প্রকৃত মুক্তি ও শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, দেশের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠিত শক্তি গড়ে তুলতে হবে। ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের সমর্থন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটকে আরও জনবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব করা প্রয়োজন। বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তবে সরকারের যেকোনো ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা—দুটিই জামায়াতে ইসলামীর নীতিগত অবস্থান। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান শ্রমিক সমাজকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎ, দক্ষ ও আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমেই শ্রমিক সমাজের কল্যাণ এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে শ্রমিক ময়দানে কর্মরত সকল নেতাকর্মীকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের ধারাবাহিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং শতাধিক শ্রমিকের আত্মত্যাগের পরও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে শ্রমিকদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখা হয়নি। একই সঙ্গে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোও প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল জাতীয় বাজেটের ০.০৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ০.০৪ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশের শ্রমিকদের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।

    মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ভোটের পূর্বে দেশে মদিনার শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল। আমরা সেই কথা তাদেরকে স্মরণ করে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারী আপনাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। তাদের কথায় চললে আপনি বিভ্রান্ত হবেন। ভুলভাল বলবেন। নিজের মর্যাদা হানি করবেন। দেশ ও জনগণকে লজ্জিত করবেন। আমরা এইরকম অবস্থা চাই না। আপনি ১৮ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের পরিপূর্ণ সীমার প্রধানমন্ত্রী। কাজেই বাংলাদেশের সকল মানুষের মর্যাদা, দেশের মর্যাদা রক্ষা করা হচ্ছে আপনার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শুরু করে সর্বত্র আবার ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে প্রতিষ্ঠা করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সেই বিষয়েও আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন নগর ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া।

  • ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই ডুবলো চট্টগ্রাম, ছুটির দিনেও দুর্ভোগ

    ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই ডুবলো চট্টগ্রাম, ছুটির দিনেও দুর্ভোগ

    মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীজুড়ে। সকালের এই বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ছুটির দিনেও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও শ্রমজীবীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট স্থায়ী এ বৃষ্টিতেই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যায়।

    সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়। এরপরই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় হাঁটু পানি আবার কোথাও কোথাও কোমর সমান পানি জমে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টিতে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। জমে থাকা পানির কারণে অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে। ফলে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় যেমন বেশি লাগছে, পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তিও। পথচারীদের অনেককে দেখা গেছে হাঁটু পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে।

    কাতালগঞ্জ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ ফরহান বলেন, বছরের পর বছর তাদের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না।

    রিকশাচালক ফয়েস আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের আয়-রোজগারও কম হচ্ছে।

    চট্টগ্রামের ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের চাকরিজীবী মো. নাইম বলেন, রাস্তায় পানি জমায় যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করছি। এ সুযোগে অনেক যানবাহনের চালক অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকাচ্ছেন।

    তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার অন্যতম কেন্দ্র প্রবর্তক মোড়ে এবার তুলনামূলক কম পানি জমতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালে চলমান কাজের কারণে সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক দুর্ভোগ কমেনি।

    চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণের কারণে নিচু এলাকায় পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টি হতে পারে।

    নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, খাল পুনর্খনন ও সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও এ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।

  • বান্দরবানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা শুরু

    বান্দরবানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা শুরু

    ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ২০২৬।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস।

    পরে উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধনী উপলক্ষে এক সভার আয়োজন করা হয়।

    এ সময় বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো: ওহাবুল ইসলাম খন্দকার সহ বিভিন্ন চাষিরা।

    সভা শেষে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন চাষীর হাতে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করেন অতিথিরা।

  • আইফোন চুরির অভিযোগে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, বিক্ষোভ-ভাঙচুর

    আইফোন চুরির অভিযোগে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, বিক্ষোভ-ভাঙচুর

    লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক ছাত্রাবাসে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৪) এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের দাবি, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    নিহত মেহেদী উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে এবং ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী।

    প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর একটি আইফোন হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় মেহেদীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাকে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করে।

    একাডেমির আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ফোন হারানোর ঘটনায় সন্দেহের জেরে কয়েকজন শিক্ষার্থী মেহেদীকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। আমরা খবর পেয়ে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর মৃত্যুর কারণ আড়াল করার উদ্দেশ্যে মেহেদীর মরদেহ গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

    ইসমাইল হোসেন আরও দাবি করেন, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরে প্রতিষ্ঠানের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    মেহেদীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা প্রধান ফটক, অভ্যর্থনা কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। কয়েকটি যানবাহনেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর গভীর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    নিহতের চাচা জুয়েল রানা বলেন, ‘আমার ভাতিজা কোনো অপরাধ করেনি। তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

    উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পুলিশ তদন্ত করছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

    রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছিল। তবে শুধুমাত্র মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়েছে কিনা, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

    একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর মরদেহ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় তারা দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।