সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • মন্ত্রিসভায় ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের খসড়া অনুমোদন

    মন্ত্রিসভায় ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের খসড়া অনুমোদন

    বগুড়া শহর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে পরিকল্পিত আধুনিক নগর গড়ে তুলতে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবিষ্যতে নির্ধারিত এলাকায় কোনো ধরনের ভবন নির্মাণ বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল বা ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

    এজন্য ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৪তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য হলো বগুড়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রতিরোধ, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা।

    খসড়া আইন অনুযায়ী, বগুড়া সিটি করপোরেশন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করা হবে। কর্তৃপক্ষ গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প ও স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। আইনে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ল্যান্ড রিডজাস্টমেন্ট (ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ভূমিমালিকের সম্মতিতে) এবং ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্টের মতো আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া অননুমোদিত নির্মাণ, জলাধার ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি নির্ধারণ, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষার ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন–২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা কাঠামো প্রণয়ন করবে কর্তৃপক্ষ। সেই পরিকল্পনার বাইরে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া ভবন নির্মাণ কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণও নিষিদ্ধ থাকবে।

    আইনে কর্তৃপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি আদায়, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষা পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।

  • সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল শুক্রবার দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল থাই এয়ারওয়েজে ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি।

    গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক সফরে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সফর সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে তিনি শুক্রবারই দেশে ফিরবেন।’

    কি কারণে দ্রুত দেশে ফিরছেন স্পিকার এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল থেকেই বিভিন্ন গুঞ্জন (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ) শুনছি। সে কারণে হয়তো সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। আশা করি সবকিছু কালকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।

  • এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন।

    এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’

    শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।

    এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে। ছবি: এএফপি

    পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত
    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।

    আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।

    আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।

  • উপস্থাপনায় ফিরলেন রুমানা মালিক মুনমুন

    উপস্থাপনায় ফিরলেন রুমানা মালিক মুনমুন

    ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৬’ প্রতিযোগিতা দিয়ে শোবিজে পথচলা শুরু রুমানা মালিক মুনমুনের। অভিনয়ে আসেন তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমা দিয়ে। এরপর নাটকেও অভিনয় করেছেন। তবে অভিনেত্রীর পরিচয় ছাপিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন উপস্থাপনায়।

    কয়েক বছর আগেই কানাডায় স্থায়ী হওয়ায় দীর্ঘদিন শোবিজ থেকে দূরে ছিলেন মুনমুন। সম্প্রতি দেশে এসেছেন তিনি। একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে জানিয়েছিলেন, রিসার্চবেজ কোনো শোর প্রস্তাব পেলে আবারও তিনি বসতে চান সঞ্চালকের আসনে। তবে, শুধু স্ক্রিনে থাকার জন্য নয়, মানসম্পন্ন কাজ করতে চান, যা মানুষের মন ছুঁয়ে যাবে।

    মুনমুনের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। সম্প্রতি তিনি যুক্ত হয়েছেন ‘লিজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি’ নামের একটি শোতে। এতে মুনমুনের অতিথি হিসেবে দেখা যাবে অভিনয়, সংগীত, শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনের মানুষদের। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠানটির প্রচার। প্রথম পর্বে মুনমুনের অতিথি হয়ে এসেছেন নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা। সামনের পর্বগুলোতে মুনমুন কথা বলবেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, তারিক আনাম খান, সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান, অদিতি মহসিন, নকীব খান, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান, স্থপতি রফিক আজম প্রমুখের সঙ্গে।

    লিজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি পরিচালনা করছেন সাজ্জাদ হুসাইন। তিনি এক যুগের বেশি সময় পরিচালনা করেছেন ‘আমার আমি’ নামের টক শোটি। আমার আমি দিয়েই উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছেন মুনমুন।

    নতুন এই অনুষ্ঠান নিয়ে সাজ্জাদ হুসাইন বলেন, ‘বিভিন্ন অঙ্গনের গুণী মানুষদের নিয়ে সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানটি। বাংলাদেশের ইতিহাস বিবেচনায় বিভিন্ন অঙ্গনে যাঁদের ভূমিকা রয়েছে তাঁদেরকে অতিথি হিসেবে রাখার চেষ্টা করেছি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কাহিনি স্টুডিওস এমন একটা অনুষ্ঠান করতে চাইছিল যেটা আর্কাইভ হিসেবে থাকবে। যেখানে গুণীদের জীবনের গল্পগুলো দর্শকের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। সেভাবেই আমরা অনুষ্ঠানটি ডিজাইন করেছি।’

    মুনমুনকে দিয়ে উপস্থাপনা করানোর বিষয়ে সাজ্জাদ বলেন, ‘অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ঠিক করার পর আমরা কয়েকজন উপস্থাপকের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারও সঙ্গে মিলছিল না। এরপর আমার মনে হলো এখানে মুনমুন হলে খুব ভালো হয়। প্রযোজকের সঙ্গে আলোচনা করে মুনমুনের সঙ্গে কথা বলি। যেহেতু মুনমুনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক। বছরের পর বছর আমরা একসঙ্গে শো করেছি। তাই সে আমার পরিকল্পনাটা সহজেই বুঝতে পারে। মুনমুন দেশে এলে আমরা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ থেকে ৮ জুলাই শুটিং করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমার আমি অনুষ্ঠানের নতুন কিছু পর্ব শুট করলাম। কারণ, ওই অনুষ্ঠানের রিফ্লেকশন পাওয়া যাবে এতে।’

    কাহিনি স্টুডিওস ইউটিউব চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে প্রচারিত হচ্ছে লিজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি। প্রতি সপ্তাহে মুক্তি পাবে ১৩ পর্বের এই অনুষ্ঠানের নতুন পর্ব।

  • ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বদলে গেল সমীকরণ, শীর্ষে কারা?

    ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বদলে গেল সমীকরণ, শীর্ষে কারা?

    ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের কারণে অনেক খেলোয়াড়ের অবস্থান বদলে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ দাবিদারদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে রয়েছেন লিওনেল মেসি, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    ১. রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি ও স্পেন): ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন রদ্রি। স্পেনের মাঝমাঠে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও পান। বিশ্বকাপে তার প্রভাব এবং মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে।

    ২. লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা ও স্পেন): মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ক্লাব ও জাতীয় দলে সমানতালে নজরকাড়া মৌসুম কাটিয়েছেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি জিতেছেন লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে স্পেনের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

    ৩. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা): ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের কারণে তার নবম ব্যালন ডি‘’অর জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ৪. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড): ক্লাব ফুটবলে আবারও দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৩৬ গোল করে লিগ ও কাপের ডাবল জিতেছেন। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিক থেকে তিনিও অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

    ৫. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স): লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধারাবাহিক গোল করে আলোচনায় ছিলেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুট জিতে এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। তবে দলীয় সাফল্যের দিক থেকে তিনি পিছিয়ে থাকায় লড়াই আরও জমে উঠেছে।

    আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের অনুষ্ঠানে জানা যাবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম।

  • ভোজিনহার পরিবারকে যে উপহার দিলেন মেসি

    ভোজিনহার পরিবারকে যে উপহার দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও লিওনেল মেসিকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে একটি মানবিক ঘটনা। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোর দাবি, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশ্বকাপের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন মেসি।

    লাতোর তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যের পক্ষে স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে মেসি নিজের উদ্যোগে তাদের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করেন, যাতে তারা গ্যালারি থেকে ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।

    সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতো জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্থিক কারণে যাদের পক্ষে মাঠে গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব ছিল না, তাদের অনেকের জন্য নিজ খরচে টিকিট কিনেছিলেন মেসি। সেই তালিকায় ছিলেন কেপ ভের্দের গোলকিপার ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যও। মেসির উদ্যোগেই তারা স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল গ্যালারি থেকে দেখার সুযোগ পান। এই ঘটনা বিশ্বকাপ চলাকালে প্রকাশ্যে আসেনি। ফাইনালের পর বিষয়টি সামনে আসে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একের পর এক সেভ করে দলকে ম্যাচে লড়াইয়ে রাখেন তিনি। সেই ম্যাচের পর মেসি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে আলিঙ্গন করে তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। মেসির ভাষায়, ‘তুমি অসাধারণ। তোমার দেশের তোমার জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।’

    চলতি বিশ্বকাপে মোট ১৮টি সেভ করা ভোজিনহা নিজের অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন বারবার। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তার নাম জড়িয়েছিল লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির সঙ্গেও। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটিতে তার সম্ভাব্য যোগদানের গুঞ্জন ছড়ায়। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে রূপ নেয়নি।

  • ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বৃহস্পতিবার নতুন নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

    তিনি বলেন, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস অ্যাডমিরাল মিজবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমকে গত ১৬ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দেয় সরকার।

    তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের ছাত্র মিজবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন পান।

    চাকরি জীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ডেন্টের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১- এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

    অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণ করার প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

    রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১-এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

  • জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত আসামি মোজাফফর হোসেনকে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনা হয় তাকে। সেখানে প্রসিকিউশনের আবদনের প্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনুমতি।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে এক এগারোর সরকারের বির্তকিত কর্মকাণ্ড থেকে ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে নানা অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

    এর আগে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

  • সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে বহুল আলোচিত শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশীরা। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনের দিকে নেয়ার সময় তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে জাকিরকে মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আসামিকে নিরাপদে আদালতে নিয়ে যান।

    এর আগে, গত ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকির হোসেনের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।

    তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিমার এক চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এতে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।

    এদিকে, বারবার আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামির ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই আদালতে আনা-নেয়া করা হয়। তারপরও কিভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির হোসেন একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার মরহুম তোতা মিয়ার ছেলে এবং সম্পর্কে ফাহিমার চাচা।

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মে ভোরে ফাহিমার লাশ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, জাকির হত্যার পর লাশ গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।

    গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশ ও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, পুলিশ জোর করে তার কাছ থেকে ওই জবানবন্দি আদায় করেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর গলা টিপে হত্যা করে লাশ প্রথমে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তদন্তের সময় অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাদর ও একটি ব্রিফকেস উদ্ধার করে পুলিশ।

    ফাহিমা হত্যাকাণ্ড সিলেটসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এবং অভিযুক্তদের বাড়িতে দুই দফা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মামলাটি বর্তমানে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

    মামলার অগ্রগতি :
    ১১ মে রাতে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে এবং তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে এসব সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

    খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

    এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদারদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় দেখা দিলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন ওই ১৯টি বালুমহালে পরবর্তী ইজারা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
    উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালুবাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত থাকায় প্রশাসন কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
    স্থানীয়রা জানান, বালুখেকো চক্রটি খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে দ্রুত পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের লোহজনের আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে সরে পড়েন সংশ্লিষ্টরা এবং অভিযান শেষ হলেই পুনরায় কাজে নেমে পড়েন।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার জানান, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি ঠেকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা মূলত উচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করছেন।
    অভিযানের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আসা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেওছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীকালে সিলিকা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে প্রশসনের পক্ষ থেকে অভিযানে পাঠানো হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছড়াগুলো থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ,আর

  • জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

    সাত দফা দাবিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের অধিকাংশের তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। এসব ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেফতার হননি। অনেকে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বাইরে সংঘটিত বহু ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগসহ সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের অনেক চিহ্নিত ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    এছাড়া গুম-খুন, লাশ গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগে জড়িতদের সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরনের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মাঝে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

  • তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণপত্র ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
    তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঠিয়েছি।

    আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

    সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তাদের জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে বলে ঢাকা আশা করে।

    এ সময় আগামী ৩০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সম্ভাব্য ঢাকা সফরের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমান সরকারের আমলে আরও জোরদার হচ্ছে। আসন্ন সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাবে বলে সরকার আশা করছে।

    এ ছাড়া প্রেসিডেন্টকে ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো তথ্য সত্য প্রমাণিত হলে সরকার প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে।
    পাসপোর্টের অবনমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান কমেনি। বিভিন্ন দেশে ভিসা-সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো সমাধানে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। অবৈধ অভিবাসন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

  • খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল রাখায়, ক্যান্টিন বয় আটক

    খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল রাখায়, ক্যান্টিন বয় আটক

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতের এই ঘটনায় হলজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান (পিতা: আসাদুজ্জামান) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ’২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনার পর থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    এদিকে, কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং সেসব ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, নারী আবাসিক হলের মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, নারী আবাসিক হলে বহিরাগত ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

    ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

  • রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেই।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে, স্বাস্থ্যগত কারণে বা অন্য যেকোনো কারণে, তাঁর সেই সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় যা দেখছেন, সেটাই দেখছেন। যদি এমন কিছু ঘটে, তখন আমরাও দেখব।’

    রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে চলা গুঞ্জনের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনিই তো বললেন, এটি গুঞ্জন। গুঞ্জন তো গুঞ্জনই।’ স্বাস্থ্যগত কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তাঁকেই (রাষ্ট্রপতি) জিজ্ঞেস করতে হবে।’

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় তিনি অপমানবোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁর দুঃসময়ে বিএনপি শতভাগ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল।

  • দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে। তিনি দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, আমাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছি। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈচিত্রময় করছি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

    ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপরই একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

    সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ উদ্যোগে তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।

    তারেক রহমান বলেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায়, আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন।

    তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যাই হোন, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি। তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি।

    তিনি বলেন, তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।

    তারেক রহমান বলেন, তাই আমরা আপনাদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছি। সে অনুযায়ীই কাজ শুরু করেছি।

    তিনি বলেন, আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি। এছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি।

    একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসমূহ সহজ এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজড করছি।

    এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

    ঢাকার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬শ’ বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ।

    সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর।

    তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    তারেক রহমান বলেন, আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

    বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না, ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি।

    প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

    সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

    সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

  • থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

    থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

    চার বছর আগে আর্জেন্টিনা যখন কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, তখন সবাই ধরে নিয়েছিল সেটিই লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ৩৯ বছর বয়সেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন মেসি। স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও সবুজগালিচায় মেসি ছিলেন ফুটবলের শিল্পী। ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩। এই বয়সে বিশ্বমঞ্চে তাঁকে না দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কিংবদন্তি মেসিকে না পেলেও আগামী বিশ্বকাপে তাঁর ছেলে থিয়াগোকে আকাশি-নীল জার্সিতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইনরা।

    মেসির বড় ছেলে থিয়াগোর বর্তমান বয়স ১৩। তার এই বয়সের কারণেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে একটা গাণিতিক হিসাব বেশ নজর কেড়েছে, যা ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০৩০ সালের আসরটি বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তির আসর। ততদিনে রোজারিওতে জন্ম নেওয়া ফুটবলের মহাতারকা মেসির জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো প্রাপ্তবয়স্ক হবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরে পা দেবে ১৮ বছরে। তাই থিয়াগো মেসিকে নিয়ে স্বপ্নটা দেখছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা।

    সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা একটি গাণিতিক হিসাব নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সবচেয়ে আশাবাদী সমর্থকরা বলছেন, থিয়াগো যদি তার নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খুব দ্রুত পেশাদার ফুটবলে পা রাখতে পারে, তবে জাতীয় দলে বাবার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম বা মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্নের বাস্তবায়ন অসম্ভব কিছু নয়। ১৩ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার বর্তমানে ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমি থেকে ফুটবলের প্রথম পাঠ নিচ্ছে। ফ্লোরিডার এই একাডেমিতে তার পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন ভক্তরা, যারা এই মেসি পরিবারের রাজত্বকে আরও এগিয়ে যেতে দেখতে চান।

    যদিও বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির বর্ণিল সময়ের মধ্যেই থিয়াগোর জন্ম, তবুও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণ এই ফুটবলার নিজের স্পষ্ট অবস্থান বেশ কয়েকবার প্রকাশ করেছে। চাইলে স্পেনের জার্সিতে খেলতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারে থিয়াগো নিজেই জোর দিয়ে বলেছে, বাবার পথ অনুসরণ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। এককথায় বলা যায়, জাতীয় দলের হয়ে বাবার সঙ্গে একই দল বা মাঠে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা ২০৩০ আসরকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মেসি পরিবারে ফুটবলের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা দেখা যায়। তিন ভাই থিয়াগো, মাতেও ও চিরো– তিনজনেই তাদের শৈশবে ফুটবলের প্রাথমিক স্তরে খেলছে এবং অল্প বয়সেই নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছে।

    বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থিয়াগো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে ফুটবল খেলছে এবং দলটির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে। তবে ভক্ত থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকরা সবাই উচ্চপর্যায়ের ফুটবলের কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন। তারা মানেন, তাদের বাবার অর্জিত কিংবদন্তিতুল্য উচ্চতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা। সমর্থকদের উদ্দেশে কেবল একটি চমৎকার সম্ভাবনা উপভোগ করা, তরুণ থিয়াগোর ওপর তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই কোনো অতিরিক্ত চাপ বা দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়। আপাতত সময়ই বলে দেবে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এই রঙিন স্বপ্ন সত্যি হবে কিনা।

  • পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

    পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

    • অসুস্থতাকে পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে।
    • বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে।
    • সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে সরকার ও দলে আলোচনা।
    • পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িক দায়িত্ব পালন করবেন।
    • ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

    সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

    বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

    পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।

    বঙ্গভবন

    মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রথম আলোকে জানান।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

    এ পদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম হঠাৎ আলোচনায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

    যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে

    সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

    এর মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এসব বিবেচনা থেকে তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

    গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

    পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।

    সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়ে আওয়ামী লীগের সময়েই নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও প্রকাশ্যে আসে। দুদকের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তখন এই দুটি ব্যাংকের মালিক ছিল আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম। ব্যাংক দুটিতে তখন সবচেয়ে ব্যাপক লুটপাট হয়।

    তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

    ইসলামী ব্যাংকের পদে থাকা অবস্থায় মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকার। ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা মিলে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা ছিল। তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে দায়িত্ব ছাড়েন কি না, তা দেখতে ক্ষমতাসীন দল কিছুটা সময় নিয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের মনোভাব জানানো হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

  • দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পারভীনা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কোমরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূ পারভীনা খাতুন একই গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাড়িতে কাজ করছিলেন গৃহবধূ পারভীনা খাতুন। এ সময় ঘরের একটি টিন সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সেটি তারের উপর পড়ে তার ছিড়ে যায়। পরে টিনটি বিদ্যুতায়িত হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অতিরিক্ত পরিচালক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে, একইদিন ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবি জানায়, ভোর ৪টার দিকে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দর্শনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৭৬/৪-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গেদে ক্যাম্পের সদস্যরা একজন পুরুষ, তিনজন নারী ও এক শিশুকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির টহলদল বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে এবং ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে তাদের সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ফলে অবৈধ পুশইনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

    সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

    কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সবার কাছে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও কমিটিকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

    গণমাধ্যমকে একটি বহুপাক্ষিক ক্ষেত্র উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

    কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায়।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয় হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক চিন্তার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।

    প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির নবগঠিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    মোদি সরকারের কোনো প্রকার সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। যখনই কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ ওঠে, তা নিয়ে অভিনেত্রীর মুখের আগল খুলে যায়। আরও একবার তার প্রমাণ মিলল শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে।

    গত সোমবার লোকসভা অভিযানের কর্মসূচি ছিল তাদের। এমনিতেই মাসখানেক ধরে ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে একই দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানে বসেছে। সেখানে অনশন ধর্মঘটে ছিলেন সোনম ওয়াং চুক। সব মিলিয়ে দিল্লি উত্তপ্ত। এর মধ্যেই মুখ খুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। ককরোচ জনতা পার্টি তথা তরুণদের এই প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন একেবারে তাঁর নিজস্ব চেনা কায়দায়।

    এ তথ্যের পাশাপাশি আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বক্তব্য, কে পদে থাকবেন আর কে থাকবেন না, বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা ঠিক করা যায় না।

    সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, জনস্বার্থের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সঠিক জায়গা হলো সংসদ। নিট প্রশ্ন-ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে কঙ্গনা বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারি।’

    বিক্ষোভের জেরে সংসদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি কঙ্গনার। তাঁর বক্তব্য, ‘জনগণ ভোট দিয়ে যে সরকারকে নির্বাচিত করেছেন, সেই সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদেরই রয়েছে। বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা ঠিক নয়। সরকার কীভাবে দেশ চালাবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদের রয়েছে। যদি এতই আপত্তি থাকে, তা হলে নিজেরাই নির্বাচনে দাঁড়ান। জানি সেই সাহস কারও নেই। তাই ধীরে ধীরে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবেন। কারণ, এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি।

    বাকি সবই বাইরে থেকে ধার করা।’ এমন বক্তব্যের জেরে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েছেন কঙ্গনা। অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষ নয় বলেই দাবি করছেন তারা।

  • জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন বার্তা

    জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন বার্তা

    জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট নেই। বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২০ দিনের জেট ফুয়েল এবং ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা থেকেই এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    মনির হোসেন জানান, জ্বালানির আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং আগামী আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসে পৌঁছাবে। ফলে জ্বালানি পণ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে যৌথ সচিব বলেন, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দৈনিক ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এ ঘাটতি বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্যমান। অতীতে গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত জোর দেওয়া না হলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

    সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি জানান, একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। কারিগরি টিম ইতোমধ্যে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুদিনের মধ্যেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং সিএনজি স্টেশনের সাময়িক চাপ কেটে যাবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি আমদানি প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রধানত অপরিশোধিত খনিজ তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করা হয়। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পর থেকে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে লোহিত সাগর বন্ধ হয়ে গেলেও বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

  • একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুরের সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন এবং দেশের মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ।

    বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত আটটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো—সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (প্রথম সংশোধন), বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।

    এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন), সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধন) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন) অনুমোদন পেয়েছে।

    জ্বালানি খাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার নতুন কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

    সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ইতোমধ্যে অনুমোদিত ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিভিন্ন মহাসড়ক উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড সম্প্রসারণ এবং বিটাকের নতুন কেন্দ্র স্থাপনের মতো উদ্যোগ রয়েছে।

  • চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে চৌগাছা-যশোর সড়কের সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় আহতদের চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।

    আহতরা হলো— সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিমি খাতুন (১৩), সুরাইয়া রহমান (১২), চায়না খাতুন (১৫), শরিফা খাতুন (১২) ও সিয়াম হোসেন (১৫)। এছাড়া মোটরসাইকেল চালক উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের বড় নিয়ামতপুর গ্রামের দিপু হোসেন (৩২), তার স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (২০) ও মেয়ে সিনথিয়া (৩)।

    জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় যশোর থেকে চৌগাছাগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং চালকসহ আরোহীরাও আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী জিমি, চায়না, শরিফা, সিয়াম ও মোটরসাইকেল চালক দিপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। একটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চায়নাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

  • যুগে যুগে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে, দালালরা ফের সক্রিয় হয়: মঞ্জু

    যুগে যুগে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে, দালালরা ফের সক্রিয় হয়: মঞ্জু

    আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ৫ মের নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে মরেছে। মা-বোনেরা ঘরে বসে কেঁদেছেন, দোয়া করেছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের ঘটনা কেন্দ্র করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাস্তায় নেমেছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এটাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা ও তাৎপর্য।

    বুধবার (২২ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এবি পার্টি আয়োজিত ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়ে আবার সংগঠিত হয়। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন নানাভাবে ফ্যাসিবাদকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপসহীন।

    মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হয়। এরপর নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামলে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়।

    খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আলেম-ওলামারা সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। দেশপ্রেমিক সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন এসেছে।’

    তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগ ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে ছিল।

    ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও তারা আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।

    খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।

    আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ এবং মো. আলিফ।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী।

  • গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    বৈষম্যবিরোধী তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রাক্কালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগকে ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে— পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়িভর্তি করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা সঙ্গে নিয়ে যান। পরে সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ছেলের কাছে পাঠানো হয়।

    ৪ আগস্ট গভীর রাতে বরিশাল ছাড়লেও ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি খুলনায় প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাসায় অবস্থান করেন। পরে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রথমে আসাম ও পরে কলকাতা যান খোকন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহ। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আর পেট্রোল পাম্প খুলে নিজেকে বিনিয়োগকারী প্রমাণ করে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

    চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো-খুলনায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন খোকন। বরিশাল থেকে চেক খুলনায় নিয়ে সই করিয়ে আবার বরিশালে আনার কাজটি করেন খোকনের তৎকালীন এপিএস রুবেল। তাকে সহায়তা করেন বিসিসির প্রকৌশল (সিভিল) ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের নেতা। আর চেক সই করার বিনিময়ে মোট বিলের শতকরা ২০ থেকে ৪০ পার্সেন্ট টাকা নেন শেখ মুজিবের ভগিনীপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র সাবেক এই মেয়র। টাকা হাতে পাওয়ার পর চেকে সই করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক।

    ৪ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে গুলি ছুড়তে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা যান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল চৌধুরী। ওই ঘটনায় ভীত হয়ে পড়েন খোকন। রাতে তার আলেকান্দা সড়কের ভাড়া বাসায় ডেকে নেন আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগের দুই নেতাকে। তখনই বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    ওই রাতে খোকনের বাসায় থাকা ওই ৩ নেতার একজন জানান, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলেও যাওয়ার সময় কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ চলে যান খোকন। রাত ৩টা নাগাদ বিশেষ একটি বাহিনীর দুটি গাড়ি সামনে পেছনে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় সাবেক এই মেয়র ও তার স্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি। তার বেড়িয়ে যাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পর আমরা জানতে পারি যে তিনি চলে গেছেন। বরিশাল থেকে সোজা খুলনায় গিয়ে ওঠেন সোনাডাঙ্গা এলাকায় শ্যালক মিঠুর বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর আশ্রয় নেন খুলনা বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার বাসায়। আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময় ওই নেতাকে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করেছিলেন খোকন। তিনি নিজেও ছিলেন মোংলা বন্দর স্টিভেডর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতেন সমুদ্রগামী জাহাজে। রাতের বাকিটা সময় আমরা ওই বাসায় থেকে খুব ভোরে চলে আসি।’

    ৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে শুনেছি যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি বা তার স্ত্রী। বিপুল অঙ্কের ওই টাকা নিয়েই তারা ওঠেন খুলনায় শ্যালক মিঠুর বাসায়। সেখান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয় ৫ আগস্টের পর মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়া এক যুবলীগ নেতার কাছে। মালয়েশিয়া থেকে পরে তা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে মেয়র খোকনপুত্র প্রত্যুষের নামে থাকা একাধিক নামসর্বস্ব কোম্পানির হিসাবে। প্রত্যুষ আগে থেকেই মার্কিন নাগরিক।

    যুক্তরাষ্ট্রে টাকা নিতে হলে যেহেতু অর্থের উৎস জানাতে হয়, তাই সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে সেখানে টাকা পাঠাতেন খোকন। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ এভাবেই পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য করে আয় করা অর্থও পাচার হয়েছে সেখানে। তবে শেষ চালানের ১৬ কোটি টাকা পাঠাতে গিয়ে ৩ কোটি খোয়ান তিনি। মালয়েশিয়ায় যার কাছে হুন্ডি করে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠানো হয়, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সেখান থেকে ৩ কোটি টাকা মেরে দেন তিনি। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়াও হয় খোকনের।’

    খুলনায় বিএনপি নেতার আশ্রয়ে থেকে চলে তার দেশছাড়ার চেষ্টা। প্রথমে চারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সবশেষ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ঢোকেন ভারতের আসামে। গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে বিমানে পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতার নিউ টাউন অ্যাকশন অ্যারিয়া-১-এর কাছে ভাড়া নেওয়া বাসায় ওঠেন স্ত্রীকে নিয়ে।

    কলকাতায় অবস্থানরত বরিশালের এক আ.লীগ নেতা বলেন, ‘এখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। গাড়ি ও ড্রাইভার তার বাসাতেই থাকত। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা গেছে কলকাতার এক্সেস মলে। কলকাতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থাকা ছেলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন খোকন। ছেলে প্রত্যুষ যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন হওয়ায় খুব একটা কষ্ট হয়নি তাদের। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা থেকে উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্র যান খোকন।

    বর্তমানে টেক্সাসে অবস্থানরত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘ট্রাম্প সরকারের সর্বশেষ গোল্ডেন ভিসা সুযোগের আওতায় খোকন ও তার স্ত্রী প্রায় ১৬ কোটি টাকায় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। সেই সুযোগেই টেক্সাসে আছেন তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কিনেছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ একটি পেট্রোল পাম্প। এসব বিনিয়োগ আর ব্যবসা-বাণিজ্য দেখিয়ে চলছে সেখানে তাদের দুজনের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা। টেক্সাসে প্রত্যুষ সেরনিয়াবাতের নামে আগে থেকেই কেনা ছিল ২টি বাড়ি। তার একটিতে থাকছেন খোকন ও লুনা।’

    কলকাতায় অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘খোকন আব্দুল্লাহ মেয়র হয়েছিলেন কেবল টাকা কামাইয়ের জন্য। দায়িত্ব পালনের ৭ মাস তিনি সেটাই করেছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকা। সেই টাকায় এখন আয়েশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর আমরা খেয়ে-না-খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

    এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য খোকন আব্দুল্লাহর প্রচলিত সবকটি নম্বরে কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। দলের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তার একসময়কার ঘনিষ্ঠরা।’

  • মার্কার প্রতিবেদন; ১২৮ দলের বিশ্বকাপ, অসম্ভব নয়

    মার্কার প্রতিবেদন; ১২৮ দলের বিশ্বকাপ, অসম্ভব নয়

    স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। শিরোপার উচ্ছ্বাসে চাপা পড়ে গেছে আসরের আগে আলোচিত অনেক বিষয়। টিকিটের উচ্চ মূল্য, স্বাগতিক শহরগুলোর দীর্ঘ দূরত্ব, ৪৮ দল নিয়ে আয়োজনের ফলে মান কমে যাওয়ার শঙ্কা, ভিসা জটিলতা এবং স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ—এসব নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, টুর্নামেন্ট শেষে তা অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

    বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আসর হিসেবে তুলে ধরবে, এমনটা অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল। সফল আয়োজন, বিপুল আয় এবং দর্শক আগ্রহকে সামনে রেখে এখন ভবিষ্যতের বিশ্বকাপকে আরও বড় করার আলোচনা শুরু হয়েছে।

    বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি ধারণা বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে—যদি ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফল হয়, তাহলে আরও বড় আসর আয়োজনেও আপত্তির কারণ নেই। সেই ভাবনা থেকেই ৬৪ দল কিংবা আরও বড় পরিসরের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    যদিও ৬৪ দলের বিশ্বকাপ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়, তবু এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সমর্থকদের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।

    অনেকের মতে, অংশগ্রহণকারী দল বাড়লে প্রতিযোগিতার মান কমতে পারে। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। তাদের যুক্তি, ফুটবলের সাফল্য এখন শুধু মান দিয়ে নয়, দর্শকসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব এবং আয় দিয়েও পরিমাপ করা হয়।

    এই ধারণা আরও এক ধাপ এগিয়ে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আটটি স্বাগতিক দেশে ১৬টি করে দল নিয়ে আলাদা আটটি পর্ব আয়োজন করা যেতে পারে। প্রতিটি পর্ব থেকে দুটি করে দল পরের ধাপে উঠবে।

    এরপর শেষ ১৬ দলকে নিয়ে নবম একটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে চারটি গ্রুপে ভাগ করে খেলা শেষে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন।

    প্রথম দেখায় এমন আয়োজন অসম্ভব মনে হলেও হিসাব বলছে, সময় খুব বেশি বাড়বে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে ৩৯ দিনে। প্রস্তাবিত ১২৮ দলের বিশ্বকাপও কয়েকটি ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৪১ দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের সময় কিছুটা কমানো গেলে সেটিও ৩৯ দিনের সূচির মধ্যেই রাখা সম্ভব।

    অবশ্য এত বড় আসরের জন্য বাছাইপর্ব আগের মতোই থাকবে। স্বাগতিক দেশগুলো সরাসরি মূল পর্বে খেলবে, আর বাকি দলগুলোকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নিতে হবে।

    এই পরিকল্পনার সমর্থকদের মতে, এতে ইতালির মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিশ্বকাপে না থাকার সম্ভাবনা কমবে। একই সঙ্গে চীন, ভারতসহ বড় বাজারের দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বকাপের একটি পর্ব আয়োজন করতে পারবে।

    তাদের বিশ্বাস, এতে সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য এবং বাণিজ্যিক আয় আরও অনেক বেড়ে যাবে। কারণ ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ কমার কোনো লক্ষণ নেই।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন একটি পরিকল্পনায় অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি। এমনকি ভবিষ্যতে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়িত হলেও তিনি বিস্মিত হবে না।

  • ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মে বড় ধরনের সহজীকরণ এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক আয় দেশে আনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার-সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে নমনীয়তা। ফলে প্রচলিত কাগজপত্রের জটিলতা কমবে, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বৈদেশিক আয় আনা সহজ হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আজ বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা বাণিজ্যের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব করা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে-ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, অনলাইন ইনভয়েস কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, প্রচলিত রপ্তানি নথি বা কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য অর্থ দেশে আনতে আর আগের মতো জটিলতার মুখে পড়তে হবে না।

    লেনদেন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এসব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

    ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সহজ ও আধুনিক সেবা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সুযোগ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) আওতায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন, সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা বিদেশে ব্যবসায়িক ব্যয় নির্বাহে তারা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু ফ্রিল্যান্সারদের জন্য লেনদেন সহজ করবে না; বরং বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাহিত হতে আরও উৎসাহিত করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, সেবা রপ্তানির স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিকতা জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা খাত বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

  • অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

    অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

    ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারছেন।আজ বুধবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২৭ করবর্ষের অনলাইন আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিলের সেবা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    এনবিআর জানায়, ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এনবিআরের বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা কাগজে (পেপার) রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

    এছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো ব্যক্তি অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

    কর পরিশোধ বিষয়ে এনবিআর জানায়, www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমের মাধ্যমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

    ই-রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা পাওয়া যাবে। তবে এ সময়ের পর রিটার্ন দাখিল করলে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। আর ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

  • প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা হলেন এসিল্যান্ড

    প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা হলেন এসিল্যান্ড

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদে পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তার চাকরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করেছে সরকার। আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এতে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পরবর্তী পদায়নের জন্য তাদের চাকরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হলো। তারা ঢাকা ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মৌলিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স সম্পন্ন করার পর ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারীগণের পদায়ন নীতিমালা, ২০২২’ অনুসরণ করে তাদের এসিল্যান্ড পদে পদায়ন করা হবে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    ৫০ কর্মকর্তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে।সাক্ষাৎকালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের কর্মজীবনের সাফল্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    একই সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে বিদায়ী নৌ প্রধানকে নিয়ে মধ্যহ্নভোজ করেন।

    ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই নৌ বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এম নাজমুল হাসান।নাজমুল হাসান ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই কমিশন লাভ করেন। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন স্টাফ, ইস্ট্রাকশনাল এবং কমান্ড দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

    এছাড়া তিনি নৌ সদরে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স), সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (পার্সোনেল), পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও নৌ গোয়েন্দা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অসামরিক-সামরিক সংযোগ পরিদফতরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ওমর ফারুকসহ চারটি যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপিসহ দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মার্কিন প্রতিনিধি দলে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং আন্তর্জাতিক সেলের সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।

    বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।

    আলোচনার একপর্যায়ে এনসিপি নেতারা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদল এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন এবং চুক্তিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

    এছাড়া গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
    এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

    গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
    বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্ট রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    দলটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতাল মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে গত ২২ বছরে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু স্বল্প খরচে চিকিৎসা পেয়েছে। এর মধ্যে ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু বহির্বিভাগ ও এক লাখ ১৫ হাজার শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা পেয়েছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে সেবা নিতে আসে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে শিশু হাসপাতালটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০০৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা হাসপাতালটি বাণিজ্যিক চিন্তার ঊর্ধ্বে গিয়ে সাশ্রয়ী খরচে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে। যার সুফল পেয়েছে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু।

    হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু এখানে এসে বহির্বিভাগের সেবা নিয়েছে এবং এক লাখ ১৫ হাজার রোগীকে ইনডোরে ভর্তি রেখে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতকদের জটিল রোগ ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যার চিকিৎসায় হাসপাতালটি এক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। অনেক সময় অন্য কোথাও ব্যর্থ হয়ে হতাশ হওয়া অভিভাবকরা এখানে এসে সন্তানদের সুস্থ করে বাড়ি ফিরেছেন।

    আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় সেবা গ্রহণ করতে আসা যশোর শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার রাবেয়া সুলতানা লাইবার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার বেবিদের (বাচ্চাদের) নিয়ে আমি যশোরের অন্য হাসপাতালে গিয়ে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে এখানে এনেছি। এখানে সাশ্রয়ী খরচে ভালো চিকিৎসা পেয়েছি।’

    লুৎফুন্নাহার মঞ্জু নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমার পুত্রবধূর জমজ সন্তান হয়েছে। এদের যে আমি পাবো এমন কল্পনা করতে পারিনি। সাত মাসের গর্ভে এদের একজনের ওজন হয়েছিল এক কেজি তিন গ্রাম আরেকজনের এক কেজি পাঁচ শ’ গ্রাম। শিশদের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আনার পর তারা এখন স্বাভাবিক।’

    মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া থেকে আসা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে আমার জমজ নবজাতক। ১৮ দিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো। বাচ্চারাও এখন সুস্থ।’

    ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নিলা খাতুন বলেন, ‘শ্বাসকষ্টে আমার সন্তান নীল হয়ে যাচ্ছিল। এখানে চিকিৎসায় অনেকটা সুস্থতার দিকে যাচ্ছে।’ হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতার প্রশংসার করেন তিনি।

    হাসপাতালের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সেবার মান ধরে রাখতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা প্রযুক্তি। কম ওজনের নবজাতকের চিকিৎসায় সাতটি উন্নত ইনকিউবেটর সুবিধা, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা নিজস্ব ফার্মেসি, নির্ভুল রিপোর্টের জন্য আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবসহ রয়েছে চমৎকার ওয়ার্ড ও কেবিন সুবিধা। মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য কম খরচে বিশ্বস্ত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় এখান থেকে। সেবা নিতে আসা লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেই যান, এটিই আমাদের অর্জন।’

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত

    চুয়াডাঙ্গা সদরে ট্রাকের চাপায় আব্দুল্লাহ (১৫) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের আলুকদিয়া বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কিশোর আব্দুল্লাহ সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের শাহবুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।

    স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলুকদিয়া বাজারে একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কাজ করত আব্দুল্লাহ। ঘটনার সময় একটি মোটরসাইকেলের ত্রুটি চিহ্নিত করতে পরীক্ষামূলক সেটি চালাচ্ছিল সে। এ সময় আলুকদিয়া বাজারের তেল পাম্পের অদূরে পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গামুখী একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় কিশোর আব্দুল্লাহ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেগুলো দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

    আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির ১২তম কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

    সকাল ১১টা থেকে দিনব্যাপী এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন ।

    আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলার পরিষদের যে আইনগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা রয়েছে।

    তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ঋণখেলাপী ও জামিনদাররাও প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য হবেন। এছাড়া ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য হবেন।

    ইসি সচিব জানান, এ সকল প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

    আখতার আহমেদ বলেন, ‘এখন আমরা ১৬ বছর ও তদুর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির জন্য বা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান, আর তার আগ পর্যন্ত এটা ডরম্যান্ট থাকে। তো এই ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়— সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাথমিক যেটাই হোক না কেন, একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্তে আসব।’

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে সিআইডির ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে।

    সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের আগের একটি বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

    র‌্যাব ও পুলিশ সদর দপ্তরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে র‌্যাবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের আ ফ ম নিজাম উদ্দিন এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

  • হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

    হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

    কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি’র) ড্রামা ক্লাব তার কালজয়ী নাটক ‘নিমফুল’ মঞ্চস্থ করেছে।

    আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রযোজনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটির মানবিক আবেদন, গ্রামীণ জীবন ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ দর্শকদের সামনে প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেন। পুরো পরিবেশনা জুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

    নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ (হেদায়েত চৌধুরী), ফারজানা মুন্সি সীমা (মদিনা), রিফাত হাসান (মাস্টার), ইমতিয়াজ ইমতি (ফজলু), সফল দাশ (কুদ্দুস), সাওয়াদ সামি (মনা ডাকাত), আরিয়ান (মনা ডাকাতের ছেলে), মারুফ চৌধুরী (হেডমাস্টার), সিয়াম (মেম্বার), জয়নাল (অর্নব দত্ত), তাওছিন আক্তার (সালেহার আম্মা) এবং উম্মে সামিহা (সালেহা)। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দেন মায়া দত্ত।

    হেদায়েত চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করা জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করা আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় একটি দায়িত্বও। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আমরা দীর্ঘদিন মহড়া করেছি। দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

    নাটকের নির্দেশক মায়া দত্ত বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নাটক শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি।’

    নাটকটি দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিনয় ছিল আন্তরিক ও পরিণত। সীমিত আয়োজনের মধ্যেও তারা নাটকের আবহ সুন্দরভাবে তৈরি করতে পেরেছে। পুরো প্রযোজনা উপভোগ্য ছিল।’

    আরেক দর্শক জানান, ‘হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দর্শকরা অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশককে অভিনন্দন জানান। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বাংলা নাট্যসাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

  • মিমের ছবি দেখে প্রশংসায় ভাসালেন ভক্তরা

    মিমের ছবি দেখে প্রশংসায় ভাসালেন ভক্তরা

    জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও মডেল বিদ্যা সিনহা মিম। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব তিনি। ফেসবুকে প্রায়শই নানা মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসা কুড়াতে দেখা যায় ‘মালিক’ সিনেমার এই অভিনেত্রীকে।

    গেল শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গোলাপি রঙের পোশাকে একগুচ্ছ ছবি আবারও অনুরাগীদের কাছে ধরা দেন জনপ্রিয় এই নায়িকা। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনরাও তাকে প্রশংসার সাগরে ভাসান। এসব ছবি দেখতে দেখতে ভক্তদের মন্তব্য ও অভিনেত্রী সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক—

    নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একগুচ্ছ ছবি সম্বলিত পোস্টের ক্যাপশনে ভালোবাসার ইমোজি দিয়ে মিম লিখেছেন, ‘গোলাপি রঙে রাঙা আমি, ভালোবাসায় ভরা মন।’ তবে ছবিগুলো কোনো ওয়েব সিরিজ নাকি সিনেমার দৃশ্যের, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানাননি। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে অনুরাগীরা অভিনেত্রীর সৌন্দর্যেরে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নানা বিশেষণে তারা প্রিয় অভিনেত্রীকে বর্ণনা করছেন। এই যেমন, সজীব নামের একজন লিখেছেন, ‘আমাদেরও একজন মিম আছেন, যিনি বলিউড–হলিউড, তামিল নায়িকাদের হার মানায়।’ ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    রিশা মনি নামের আরেক নেটিজেনের মন্তব্য, ‘সেরার যদি সেরা সুন্দরী নায়িকা যদি বর্তমানে বাংলাদেশে থাকে সেটা হচ্ছে মীম।’ ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    আরেক ব্যবহারকারীর মন্তব্য যেন বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রিয় তারকাকে নিয়ে একজন লিখেছেন, ‘বিদ্যা সিনহা সাহা মিম সৌন্দর্য, আভিজাত্য, প্রতিভা এবং এক মুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের অপূর্ব সমন্বয়ে আপনি সত্যিই এমন এক তারকা, যিনি বিশ্বের প্রতিটি কোণ আলোকিত করে তোলেন।’ ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    এদিকে, নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী শমী কায়সার প্রযোজিত একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন মিম। সরকারি অনুদানে তৈরি সেই ছবির শুটিং ২০২৩ সালে শেষ হলেও মুক্তির কোনো খবর নেই। ছবির নাম ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’।

    সর্বশেষ গেল ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় মিম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘মালিক’। এতে তিনি অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভর বিপরীতে। যদিও দীর্ঘদিন পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটি আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    ‘মালিক’ মুক্তির পর জুনে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। কাজী আসাদ পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করে বেশ আলোড়ন তোলেন এই অভিনেত্রী। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

  • ছাগলের জন্য ৩১ ফুটের টাওয়ার!

    ছাগলের জন্য ৩১ ফুটের টাওয়ার!

    পৃথিবীতে কত কী ঘটে!

    এই যেমন ছাগলের জন্যও নাকি বানানো হয়েছে একটি টাওয়ার!

    শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর উইন্ডসরে সত্যিই এমন এক ব্যতিক্রমী স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে। ৩১ ফুট উঁচু ইটের এই টাওয়ারটি দূর থেকে যেন রূপকথার কোনো দুর্গ। কিন্তু এর বাসিন্দা মানুষ নয়, একদল সানেন জাতের ছাগল। অদ্ভুত এই নির্মাণশৈলী আর অভিনব ধারণার কারণে ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।টাওয়ারটির নির্মাতা কৃষক দম্পতি ডেভ ও মার্সিয়া জনসন। প্রায় পাঁচ হাজার হাতে তৈরি ইট দিয়ে গড়া এই স্থাপনায় রয়েছে ২৭৬ ধাপের সর্পিল পথ। বাইরের ঘুরপথ বেয়ে ছাগলগুলো অনায়াসে ওপরে উঠে যায়, আর ভেতরের ছোট ছোট কক্ষে রাত কাটায়। তবে এই টাওয়ারের গল্প শুরু হয়েছিল আরও আগেই। নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ওয়াইনারিতে ছাগলের জন্য তৈরি একই ধরনের একটি টাওয়ারের ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হন ডেভ। সেই ছবিই তাঁকে নিজের খামারে এমন একটি টাওয়ার নির্মাণের স্বপ্ন দেখায়। মজার বিষয় হলো, তখন তাঁর খামারে একটি ছাগলও ছিল না! টাওয়ার তৈরি শেষ হওয়ার পরই তিনি ১১টি সানেন ছাগল কিনে আনেন।

    পাহাড়ি স্বভাবের ছাগলের জন্য বিশেষ নকশা
    প্রশ্ন জাগতেই পারে, ছাগলের জন্য এত আয়োজন কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের স্বভাবেই। সানেন ছাগলের আদি নিবাস সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চল। প্রকৃতিগতভাবেই তারা উঁচু জায়গায় উঠতে ভালোবাসে। পাহাড়ে বাস করার এই স্বভাব তাদের নিরাপদ থাকতে এবং চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করত। সমতল কৃষিজমিতে সেই সুযোগ না থাকায় জনসন দম্পতি ছাগলগুলোর জন্য কৃত্রিমভাবে এমন একটি উঁচু পরিবেশ তৈরি করেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়, একঘেয়েমি দূর করে এবং তাদের স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
    টাওয়ার নির্মাণের সময়ও ঘটেছিল মজার এক ঘটনা। ছবির মাপ দেখে নির্মাণ করতে গিয়ে টাওয়ারটি পরিকল্পনার চেয়ে বড় হয়ে যায়। ফলে এটি অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ছাগল টাওয়ারে পরিণত হয়। এমনকি অতিরিক্ত ইটও আনাতে হয়েছিল, যদিও শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি তৈরির পর বেঁচে যাওয়া ইট ব্যবহার করা!

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়।

    আজ এই টাওয়ার শুধু ছাগলের আবাস নয়, বরং পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে। দর্শনার্থীরা এসে ছাগলগুলোর টাওয়ারে ওঠানামা দেখেন, ছবি তোলেন, তাদের আদর করেন। একসময় নিছক শখ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন প্রাণীর কল্যাণ, সৃজনশীল কৃষি এবং গ্রামীণ পর্যটনের এক অনন্য উদাহরণ। প্রমাণ করে, একটু ভিন্নভাবে ভাবতে পারলেই সাধারণ একটি খামারও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ।

    সূত্র: অ্যাটলাস অবস্কিউরা, নাইনটি নাইন পারসেন্ট ইনভিসিবল

  • মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

    মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি মনে করেন, মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য ভালো ‘পারফর্ম’ করতে পারছেন না, তাহলে তাঁর জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেবেন। তবে এটি সরকারের ১৮০ দিনের পর, নাকি আরও সময় লাগবে, সেটা নিশ্চিত নয়। এসব কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হওয়ার আলোচনা আছে কি না? এ প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।

    জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন। একটি উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছেন। যেটুকু ওনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বুঝি, ওনার (প্রধানমন্ত্রী) যদি কখনো মনে হয়, কেউ ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না, তাঁর জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দেওয়া, এগুলো যদি প্রয়োজন হয়, সেটা তিনি করবেন। কারণ, দিন শেষে জনগণের কল্যাণ সাধন করা…প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কোনো চয়েস বা সিদ্ধান্ত আরও বেটার করার সুযোগ যদি থাকে, তিনি সেটা করবেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এটা মনে হয়েছে। এটা এখন ১৮০ দিনের (সরকারের ১৮০ দিন) পরপর হবে, নাকি তার চেয়ে একটু সময় লাগবে, এটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।’

    সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রোধে আইনগত বিষয় দেখভালের জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন উপদেষ্টা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ।

  • বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন ফুটবল দল। সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা এবং রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা।

    মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর দলের প্রথম গন্তব্য ছিল সারসুয়েলা প্রাসাদ। সেখানে স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানান। এ সময় রাজা ফেলিপে বলেন, ‘এই শিরোপা শুধু একটি দলের অর্জন নয়, এটি পুরো স্পেনের গর্ব।’

    এরপর দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো সমর্থক করতালি, পতাকা ও স্লোগানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান।

    প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কোয়ার। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০ লাখ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। আলোকসজ্জা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে উঠে খেলোয়াড়রাও সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।

    উৎসবের মঞ্চে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। দুই বছর আগে বলেছিলাম, আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী। আজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখলাম।’

    মাদ্রিদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। আগামী কয়েক দিনে স্পেনের বিভিন্ন শহরেও দলটির সম্মানে সংবর্ধনা ও বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

  • সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর

    সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কার্যালয়ের জাদুঘরের গ্যালারিতে যে কটি দলগত ছবি রয়েছে, কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি তাতে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারার মেলায় কিছু তারকাকে যেমন খুব সহজে আলাদা করা যায়, দেশটির ফুটবল আকাশে তেমনই উজ্জ্বল নক্ষত্র তারা। ম্যারাডোনাকে আবর্তিত করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ জিতেছেন সার্জিও বাতিস্তা, মার্সেলো বোচিনিরা। সময়ের সেরা দল ছিল সেটি। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত তৈরি হয়েছিল ম্যারাডোনাকে দেখে। টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ম্যারাডোনার বিদায়ের পর সাদামাটা একটি দলে পরিণত হয়েছিল আলবিসেলেস্তারা।

    লিওনেল মেসির দলটিকে দেশটির ফুটবলের সোনালি প্রজন্ম বলা হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের খেলোয়াড়দের দলগত ছবি দেখলে সমর্থকদের চোখে খেলে খুশির ঝলক। কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নিয়ে এই দলটিকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন মেসি। এই সোনালি প্রজন্মের দলেও হয়তো বিচ্ছেদের রাগিণী বাজবে খুব তাড়াতাড়ি। কারণ, পরের বিশ্বকাপ নিয়ে এখন থেকেই যে ভাবতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

    মেসি ৩৯ বছর বয়সে খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের দল ইন্টার মায়ামিতে। তিনি চাইলে জাতীয় দলে আরও দুই বছর খেলতে পারবেন অনায়াসে। তবে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখা বেশি কিছু চাওয়া। কারণ, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। ওই বয়সে বিশ্বকাপের মতো হাইভোল্টেজ টুর্নামেন্টে খেলা ভীষণ কঠিন। মেসির মতো কিংবদন্তি অতটা স্বার্থপর না হওয়ারই কথা। আর তাঁর না খেলা মানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে এক সুতায় বেঁধে রাখা কঠিন। দেশটির বর্তমান দলে মেসি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো তারকা নেই। তাই নতুন ম্যারাডোনা বা নতুন মেসির খোঁজ করতে হবে তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনাকে। সোনালি প্রজন্মের দল থেকে এক-দুই বছরের মধ্যেই মেসি, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোদের সময় ফুরিয়ে যেতে পারে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নতুন তারকার খোঁজ করতে হবে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।

    যদিও স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে কোচ মিডিয়ায় বলেছেন, ‘এখন ওর বয়স ৩৯ বছর। এককথায় সে অবিশ্বাস্য। তার থেকে আমি নতুন কিছু আর বের করতে পারব না। এই কথা আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি। মেসি যত দিন চায় খেলে যেতে পারে। সব সমর্থক, সতীর্থ তাঁর পাশে থাকবে। আমি নিশ্চিত, প্রত্যেকে ওকে নিয়ে গর্বিত। ও যা অর্জন করেছে, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।’

    আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটিকে অভিজ্ঞ আর তরুণ খেলোয়াড়ে ভারসাম্য এনেছিলেন কোচ। যেখানে হেভিওয়েট খেলোয়াড় মেসি। বাকিরা সাধারণ। ক্লাব ফুটবলে তাদের প্রভাব থাকলেও মেসিকে ছাড়া কখনও খেলেনি। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর্জেন্টিনাকে বিকল্প ভাবতে হতে পারে শতবর্ষী বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। যদিও এই দল নিয়েই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। সদ্য শেষ হওয়া উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের রানার্সআপ তারা। শেষ চার বিশ্বকাপের তিনটিতে ফাইনাল খেলে রানার্সআপ দুবার। কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে দুবার।

    সাফল্যে মোড়ানো এই দলটিকে কোচ হয়তো এক সুতায় বেঁধে রাখার চেষ্টা করবেন আরও কিছুদিন। কারণ, মেসিদের সাফল্যে সফল তিনিও। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ কোচ স্কালোনির এই দলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুয়ান মুসো। মিডফিল্ডে লিওনার্দো বালেরদি, গঞ্জালো মন্তিয়েল, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ফাকুন্দো মেদিনা, নাহুয়েল মলিনা। মিডফিল্ডে ভালেন্তিন বার্কো, জিওভান্নি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেজ, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকোলাস পাজ, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ, লাউতারো মার্তিনেজরা হয়তো দলকে এগিয়ে নেবেন। তবে সময়ের আবর্তে একটি-দুটি তারা ঝরে পড়া স্বাভাবিক। সেখানে গোলক্ষক হেরোনিমো রুইয়ি, মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ঢুকে যেতে পারেন সেই ঝুঁকির তালিকা।

  • মেজর (অব.) মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

    মেজর (অব.) মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

    এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাঁকে হাজির করতে আবেদন করেন।

    পরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, মোজাফফর হোসেনের মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি ভারতে আসা-যাওয়া করতেন। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাই তাঁকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হাজির করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

  • ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারক। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‍্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এই কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য প্রসিকিউশনের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই সম্মতি দেন।

    যে তিনজন বিচারক পরিদর্শন করবেন তারা হলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আবেদনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরাশাসনের আমলে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অনেক গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জেআইসি অথবা টিএফআই হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন জায়গায় আটকে রাখা হতো।

    সুনির্দিষ্ট পরিদর্শনের জায়গাগুলোর কথা জানিয়ে তিনি তুলে ধরেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের একটি কেন্দ্র, র‍্যাব-১-এর একটি টিএফআই সেল এবং ডিবি কার্যালয়ের বন্দিশালাসহ এ ধরনের কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনি বৈধতা প্রসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের নজির তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, দেশের প্রচলিত আইনের ৫৩৯-বি ধারা এবং রোম স্ট্যাটিউটের রুল ৭ ও রুল ৭৩ অনুযায়ী মামলার স্বার্থে বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। এর আগে রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনালেও বিচারকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিচারিককাজে তা মেমোরেন্ডাম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন এবং বিচারকরা দিন-তারিখ নির্ধারণ করে অপরাধস্থল হিসেবে পরিচিত এই বন্দিশালাগুলো পরিদর্শনে যাবেন। পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিস দেওয়া হবে এবং আসামিপক্ষের কেউ চাইলে তাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

  • কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারজানা কাজলা গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তাকে না পেয়ে কালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬) নামে এক নারীর বসতঘরের বক্স খাটের ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

    এদিকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

    এ,আর

  • মাগুরায় পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় মোহাম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রাম থেকে দুইজন ও কালিনগর গ্রামের একজন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে মোহাম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রাম থেকে দুই চাচতো বোনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহতরা ওই গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে রাফিয়া (৩) এবং আমিনুরের আপন ভাই আলিনুরের মেয়ে রাইসা (২)।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাফিয়া ও রাইসা বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পাড়ে খেলাধুলা করছিল। অসাবধানতাবশত প্রথমে রাইসা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে রাফিয়া পানিতে ঝাঁপ দিলে সেও তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত দুই বোনকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মোহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু আহসান দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মোহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামীম আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    অন্যদিকে, রোববার বিকালে ইয়াসিন মোল্লা (৯) মধুমতি নদীর পাড়ে চাচার সাথে পাট জাগ দেয়ার কাজে সহযোগিতা করার সময় পা পিছলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকালে খবর পেয়ে মধুমতি নদীর বাগবাড়িয়া এলাকা থেকে মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

    মৃত ইয়াসিন মাগুরা সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামের শহর আলী মোল্লার ছেলে এবং কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

  • গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।’

    ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এবিষয়ে আরো খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

  • নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল সিকদারকে (৩৫) দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে।

    জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিবেশী ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল ঘটনার পর পালিয়ে যান।

    জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী ফুফাতো ভাই রবিউল তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেয়। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝো থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। রবিউল একাই তার ঘরে থাকতেন। বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।

    এ ব্যাপারে সীমাখালী গ্রামের এনামুল সরদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, ধর্ষণের পর শিশু জান্নাতুলকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অভিযুক্ত রবিউলসহ তার পরিবারের কোনো সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, ‘শিশু জান্নাতুলকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃতীয় শহীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর মা পরিছন নেছার (৯১) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়ে।

    জানাজায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হাফেজ নুরুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের অফিস সম্পাদক মানাজির আহসান এবং রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।

    জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নুর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা প্রচার সম্পাদক ও সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, শ্রমিক বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরক, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নাগদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম, জেলা শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি ও সাবেক শিবির সভাপতি প্রভাষক শফিউল আলম বকুল এবং সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ।

    এছাড়াও ঝিনাইদহ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইউসুফ আলী, জিএ আমির আব্বাস আলী, আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন, কামরুল হাসান সোহেল, ইসলামী ছাত্রশিবির আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সেক্রেটারি বাইজিদ মুন্সিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেন।

    জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তেব্যে বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ আইয়ুব আলীর হাত ধরে অনেকেই দ্বীনের এই উত্তপ্ত ময়দানে এসেছেন, আর সন্তানের এই ত্যাগের পেছনে এই মহীয়সী মায়ের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।

    জানাজা শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতারা শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহীদ আইয়ুব আলীর মা বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান।

  • দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার সচিবালয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন তিনি।

    সাক্ষাতে জুলাই আন্দোলনে হাবিবুর রহমানের ভূমিকা, তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই আন্দোলনে আহত হাবিবুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চান তিনি।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলের জন্য তোমার যে অবদান, তা দল কখনো ভুলবে না। তুমি যেভাবে দলের জন্য সময়, শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছ, ইনশাআল্লাহ দল তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।’

    আন্দোলনের সময়কার শারীরিক যন্ত্রণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি যে যন্ত্রণা নিয়ে আজও বেঁচে আছ, সেই যন্ত্রণা আমিও এখনো বহন করে চলেছি। আল্লাহ আমাদের সবার ত্যাগ কবুল করুন।’

    হাবিবুর রহমান জুলাই আন্দোলনের অগ্রসারির একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই শনির আখড়া এলাকায় সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

    হাবিবুর রহমান জানান, আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত এখনো তাঁকে শারীরিকভাবে ভোগাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই অভিশপ্ত জুলাই আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, যা কোনো কিছুর বিনিময়ে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কীভাবে যে এখন বেঁচে আছি, সেই কষ্ট আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না।’

    তিনি বলেন, ‘দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি, রাস্তায় থেকেছি, রক্ত দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, দল আমাদের সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আজ প্রধানমন্ত্রী আমাকে দোয়া করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং বলেছেন—আমার অবদানের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে।’

    হাবিবুর রহমান এর আগে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য, সহ-অর্থ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জুবাইদা রহমানের

    দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জুবাইদা রহমানের

    যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবতার সর্বোচ্চ প্রকাশ; এটি সমাজে মমত্ববোধ ও একাত্মতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘২১ জুলাই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জুবাইদা রহমান বলেন, জাতীয় যেকোনো দুর্যোগের সময়ে সবার আগে মানুষের কথা ভাবতে হবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। মানবিক সহযোগিতাই সমাজে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

    জুবাইদা রহমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে সাহস তাঁরা দেখিয়েছেন, তা সবার জন্য অনুপ্রেরণার।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা দেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা। তিনি আগুনে দগ্ধ শিশুদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারানো শিক্ষিকা মাহেরিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকেরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা মানবিক সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসকেরাও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের স্কিন ব্যাংক ও চিকিৎসাসেবার মানের প্রশংসা করেছে।

    নিহত ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. জুবাইদা রহমান তাঁদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করবেন।

    সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এককভাবে এই ব্যয় বহন করা কঠিন। তাই বার্ন প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, উন্নত দেশগুলো সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে।

    তিনি ২১ জুলাইকে সরকারিভাবে ‘বার্ন সচেতনতা দিবস’ ঘোষণা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের সব দগ্ধ রোগীর জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ ও সম্পূর্ণ অটোমেটেড হাসপাতাল ব্যবস্থার কাজ চলছে জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট দেশের প্রথম সম্পূর্ণ অটোমেটেড হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করতে পারবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এবং ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুনুর রশীদসহ অনেকে।

    স্মরণসভায় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনায় উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে অবদান রাখা কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

  • মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত কোটি ভক্তের মতোই স্পর্শ করেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশীকে। ম্যাচশেষে মেসির কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি হৃদয়ছোঁয়া স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমার এ অভিনেত্রী পোস্টের শুরুতেই মেসির প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং সব সময় ভালোবাসব। তুমি সর্বকালের সেরা। মেসি, তুমি দয়া করে কেঁদো না।’

    নিজেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক উল্লেখ করে শশী লেখেন, জীবনে সবাই সবকিছু পায় না—এটাই বাস্তবতা। তাই একটি পরাজয় কখনোই মেসির অসাধারণ অর্জন ও কিংবদন্তি মর্যাদাকে ম্লান করতে পারে না। তার ভাষায়, ‘আজকের দিনটি হয়তো তোমার ছিল না। কিন্তু তাই বলে তুমি কোনো অংশেই কম নও। তোমার ছোট ছোট অপূর্ণতাগুলোই তোমাকে আরও সুন্দর করে তোলে।’

    ফাইনাল শেষে স্পেন যখন শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে, তখন নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘স্পেন যখন উদ্‌যাপনে ব্যস্ত ছিল, আমি দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে টেলিভিশনের পর্দায় শুধু ১০ নম্বর জার্সিটির দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। আমার চোখ সেখানেই আটকে ছিল।’

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মেসির নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে শশী বলেন, জয়-পরাজয়কে কীভাবে গ্রহণ করতে হয়, তা মেসিই শিখিয়েছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ধন্যবাদ জানান।

    স্ট্যাটাসের শেষেও মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের অটুট ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করে শশী লেখেন, ‘আজকের দিনটা একসময় হারিয়ে যাবে, কিন্তু মেসি কখনো হারিয়ে যাবে না। তাই এখনো আমার কণ্ঠে একটাই ধ্বনি—মেসি সর্বকালের সেরা, আর সেরা আর্জেন্টিনা।’

    শশীর এই আবেগঘন স্ট্যাটাসে আর্জেন্টিনা ও মেসির অসংখ্য সমর্থক একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, একটি হার কখনোই লিওনেল মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ার বা তার প্রতি ভালোবাসাকে ম্লান করতে পারবে না।

  • হিনা-শিল্পা দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ‘লক আপ ২’ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

    হিনা-শিল্পা দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ‘লক আপ ২’ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

    নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’ সিজন ২-এ বড় চমক নিয়ে হাজির হতে পারেন অভিনেত্রী হিনা খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে তার অংশগ্রহণের জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। আর তাতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিযোগী শিল্পা শিন্ডের সঙ্গে তার পুরোনো দ্বন্দ্ব।

    ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া ফোরামসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পর্বগুলোতে বিশেষ অতিথি হিসেবে হিনা খান ও উরফি জাভেদ শোতে যোগ দেবেন। যদিও এখনো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি নির্মাতারা।

    হিনা ও শিল্পার বিরোধ নতুন নয়। ‘বিগ বস ১১’-এ অংশ নেওয়ার সময় থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। সম্প্রতি সেই বিতর্ক আবারও সামনে আসে, যখন ভরতি সিংয়ের পডকাস্টে শিল্পা স্বীকার করেন যে, প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির সঙ্গে আইনি বিরোধ চলাকালে তিনি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন।

    শিল্পার এই স্বীকারোক্তির পর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান হিনা। তিনি লেখেন, ‘কোনো বিরোধে জিততে নিজের লিঙ্গ পরিচয় ব্যবহার করে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর বিরুদ্ধে মানুষ যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং বিচার চাইছে, সেটাই স্বাভাবিক। আমি সত্যিই হতবাক।’

    হিনা আরও দাবি করেন, এই ঘটনায় প্রকৃত ভুক্তভোগী ছিলেন সঞ্জয় কোহলি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, অভিযোগের পরও কেন ওই প্রযোজক আবার শিল্পার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘শেষ পর্যন্ত হাসির পাত্র তো আমরাই।’

    এরপর পরোক্ষভাবে হিনাকে নিশানা করেন শিল্পা শিন্ডে। তিনি হিনার ক্যানসারের চিকিৎসা এবং বাবার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘মানুষ কবে যে আমার নাম ব্যবহার করে প্রচার পাওয়া বন্ধ করবে, জানি না। চলন্ত ট্রেনে উঠতে যাবেন না, আঘাত পাবেন। প্রচার পাওয়ার জন্য আপনার নিজের অসুস্থতা আছে, পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাও আছে। তাহলে শিলপা শিন্ডেকে কেন দরকার? আপনি তো আগেই যথেষ্ট প্রচার পেয়েছেন।’

    হিনা যদি সত্যিই ‘লক আপ ২’-এ হাজির হন, তাহলে বহুদিনের এই দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন দর্শকরা। তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। সূত্র: এনডিটিভি

  • মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির সময় চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের বাসিন্দা রানী খাতুন তার শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। শিশু বিশেষজ্ঞের চেম্বারের সামনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আটক ছয়জন নারী কৌশলে তার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করে। পরে মোবাইল ফোন নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী, রোগীর স্বজন ও উপস্থিত লোকজন ছয় নারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিকভাবে আটক নারীরা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর চক্রটির সদস্যরা ধরা পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে হাসাপাতাল থেকে জনতা আটক করে। তদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, পুকুরে মিলল ৩ শিশুর মরদেহ

    বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, পুকুরে মিলল ৩ শিশুর মরদেহ

    বগুড়ার কাহালুতে পুকুরে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ভালতা গুচ্ছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো—ভালতা গুচ্ছ গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৯) এবং ফারুক মণ্ডলের ছেলে ফাহিম (৮) ও মেয়ে সুরাইয়া (৫)।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিন শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাদের খোঁজ করতে থাকেন। দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা সালমা খাতুন পুকুরের পানিতে জাকিরুলের মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ফাহিম ও সুরাইয়াকে খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে মিন্টু প্রামাণিক পানিতে নেমে ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরাইয়ার সন্ধান না পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে সুরাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    কাহালু থানার ওসি শফিকুল ইসলাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

  • জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হাসাদহ–মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, যানবাহন চলাচলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সাথী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারাধীন অংশ জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে কাদাময় হয়ে পড়ছে পুরো সড়ক। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝার উপায় নেই। মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্য যানবাহন চলাচলের সময় কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে। একইসাথে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।

    স্থানীয় হাসাদহ গ্রামের স্কুল শিক্ষক ফরমান আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কর্মস্থল জীবননগর সরকারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকি। প্রায় তিন বছর আগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হলেও আজও তা শেষ হয়নি। এতে দুই উপজেলার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

    হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মতিয়ার রহমান বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সামান্য ৩০০ ফুট রাস্তা করতে তিন বছরের বেশী সময় লাগে, তা ইতোপূর্বে কোনো দিন দেখিনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেক দিন পর কাজটি শুরু করলেও কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকি সামান্য কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হাজার জনগণ রাস্তাটির কারণে ভোগান্তির শিকার হলেও তা যেন দেখার কেউই নেই।’

    স্থানীয় একাধিক মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। তারা জনস্বার্থে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ হলে মহেশপুর ও জীবননগর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

    এ ব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুল ওয়াহেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

    তবে জীবননগর উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন জানান, হাসাদহ থেকে মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট অংশে সংস্কারের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ড্রেন নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার বিলম্ব এবং নির্ধারিত স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত কয়েকটি পাকা দোকান অপসারণ না হওয়ায় কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে। দোকানগুলো সরিয়ে দেয়া হলে দ্রুত সংস্কার কাজ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে। অন্যদিকে বর্তমান সময়ে বর্ষার কারণে কাজটি আরো বিলম্বিত হচ্ছে।’

  • চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ, এক ক্লিকেই মিলবে জেলা প্রশাসনের সেবা

    চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ, এক ক্লিকেই মিলবে জেলা প্রশাসনের সেবা

    ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে চালু হয়েছে ‘হ্যালো ডিসি’ মোবাইল অ্যাপ। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ঘরে বসেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা, অভিযোগ, আবেদন ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাবেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে এ অ্যাপটি hellodc.bd থেকে ডাউনলোড করা যাবে। গুগল প্লে-স্টোরে রিভিউ শেষে অ্যাপটি প্লে-স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর থেকেও ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ঢাকার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকেও অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেবা নেওয়া যাবে। এছাড়া ০১৯৬১৬০৬০৬০ নাম্বারটিতে সরাসরি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কল করা যাবে।

    জেলা প্রশাসন জানায়, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ভূমি, আইনশৃঙ্খলা, ত্রাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, লাইসেন্স, জন অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন, অভিযোগ ও পরামর্শ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও অ্যাপ থেকেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    জানা গেছে, এখন থেকে এ অ্যাপের মাধ্যমেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে, এনজিও এবং লাইসেন্সিং সেবা, মিউটেশন, অর্পিত সম্পত্তি, সহায়তাসহ নানা ধরনের নাগরিক সেবা এক অ্যাপেই মিলবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, খরচ ও হয়রানি কমবে। জেলা প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করতেই ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে।

    এ সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নাগরিক সেবাকে সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের সেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেবে এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ সেই প্রচেষ্টারই একটি কার্যকর উদাহরণ। তিনি এ উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের মতামত ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি কার্যকর ডিজিটাল সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপটি ধাপে ধাপে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। ভবিষ্যতে নতুন সেবা সংযুক্ত করে এটিকে জেলা প্রশাসনের একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ফ্যামিলি কার্ড, এমসিবিপি, মিড-ডে মিল, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    মন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ফ্রান্স সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য মন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনু্যায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন। যা বর্তমান সরকারের নারী নীতিরই অংশ।

    মন্ত্রী আরও বলেন, নারী শিক্ষাকে স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করায় দেশে নারী শিক্ষার হার বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মজীবী নারীরা যাতে তাদের সন্তানদের নিরাপদে রেখে কাজে যেতে পারেন, সেজন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শনও করেছেন।

    সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা অর্জন এবং দুস্থ শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগসমূহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মত প্রকাশ করেন।

    এছাড়া রাষ্ট্রদূত নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

    আলোচনাকালে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কেয়ার ইকোনোমিকে গুরুত্ব দিয়ে নারীদেরকে কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ করে তুলছে। ইতোমধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে আরব দেশগুলোতে গমন করেছেন, ফ্রান্সেও যাতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশের নারীরা যাতে তাদের হাতে তৈরি পণ্যসমূহ ফ্রান্সে রপ্তানি করতে পারে, সে ব্যাপারে মন্ত্রী বিশেষ সহায়তা চাইলে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    সবশেষে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফেমিনিস্ট ফরেন পলিসি (এফএফপি) বিষয়ক সম্মেলনে মন্ত্রীকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।