সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • নিয়মিত শসা খাওয়ার যত উপকারিতা

    নিয়মিত শসা খাওয়ার যত উপকারিতা

    তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধে নিয়মিত শসা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। গ্রীষ্মকালীন ফল ও সবজির মধ্যে শসাকে অন্যতম সেরা খাবার হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, গরমের নানা শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    পুষ্টিবিদদের মতে, শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। ফলে প্রচণ্ড গরমে এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি ও গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ এই সবজিটি হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করার পাশাপাশি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।

    শসায় রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, ট্যানিন এবং পলিফেনলের মতো প্রচুর পরিমাণে জৈবিকভাবে সক্রিয় উপাদান, যেগুলোতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (প্রদাহরোধী) গুণাগুণ রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের ভেতরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

    শুধু অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যই নয়, গরমের দিনে ত্বকের সুরক্ষায়ও শসা সমান উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরকে সতেজ রাখে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে। পুষ্টিবিদরা জানান, শসার শীতলকারী উপাদান ত্বকের রোদে পোড়া ভাব (সানবার্ন) এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এর প্রদাহরোধী গুণ ত্বকের যেকোনো ধরনের জ্বালাপোড়া শান্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য শসাকে একটি আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। প্রতি ১০০ গ্রাম শসায় মাত্র ১৬ ক্যালরি থাকে। একই সঙ্গে এতে থাকা আঁশ বা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয় এবং হজমে সহায়তা করে।

    প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক (ডাইইউরেটিক) গুণের কারণে শসা শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, যা সরাসরি কিডনির কার্যকারিতাকে সচল রাখে। এছাড়া শসায় থাকা ভিটামিন বি (বি১, বি৫ এবং বি৭), পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরকে ক্লান্তিমুক্ত রেখে সারাদিন হালকা শক্তির জোগান দেয়।

    মুখের স্বাস্থ্যের জন্যও শসা উপকারী। শসার টুকরো চিবিয়ে খেলে মুখে লালা উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এবং খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

  • ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো  অবহেলা করা যাবে না

    ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

    দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ডেঙ্গু আতঙ্ক নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যায়, ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গ ও রোগের ধরনে আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে ডেঙ্গু বলতে অনেকেই ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তীব্র জ্বরকে প্রধান লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু এখন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জ্বর নাও থাকতে পারে, এমনকি মাঝারি বা তুলনামূলক কম জ্বর নিয়েও তারা গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন। কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, তীব্র দুর্বলতা, পেটব্যথা কিংবা শরীরে লালচে দাগের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    * ডেঙ্গু এখন কেন ছদ্মবেশী

    ডেঙ্গুর একাধিক সেরোটাইপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকার কারণে রোগের প্রকৃতি বদলেছে। অনেক রোগীরই এখন মৃদু জ্বর, অল্প সময়ের জ্বর বা শুধু জ্বর-জ্বর ভাব থাকে। ফলে রোগী ও স্বজনরা ভাবেন, ‘সামান্য জ্বর, এমনিই সেরে যাবে’। কিন্তু এ অবহেলার কারণেই ডেঙ্গু শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে।

    * সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় কখন

    জ্বর কমলেই নিশ্চিন্ত হবেন না। ডেঙ্গু জ্বরে ৩-৭ দিনের মাথায় জ্বর আপনাআপনি কমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে ‘Critical Phase’ বা বিপজ্জনক সময়। জ্বর কমার পরের ১-২

    দিনেই রক্তনালি থেকে প্লাজমা লিক, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বা শকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় রোগীকে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও ভেতরে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে।

    * এ লক্ষণগুলো কখনো অবহেলা করবেন না

    জ্বর থাকুক বা না থাকুক, নিচের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যান-

    ▶ বারবার বমি : দিনে ৩ বারের বেশি বমি, কিছুই পেটে রাখতে না পারা।

    ▶ তীব্র পেটব্যথা : বিশেষ করে পেটের ডানদিকে চেপে ধরার মতো ব্যথা। এটি লিভার ফুলে যাওয়ার সংকেত।

    ▶ অতিরিক্ত দুর্বলতা : উঠে দাঁড়াতে না পারা বা হঠাৎ ভেঙে পড়া।

    ▶ শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব : অস্থিরতা, ছটফটানি বা অতিরিক্ত ঘুম।

    ▶ শরীরে র‌্যাশ, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত।

    * প্রতিরোধের উপায় : এডিসকে জায়গা দেবেন না

    ডেঙ্গুর মূল উৎস এডিস মশা, যা পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে। বাসার টব, এসির পানি, টায়ার, ডাবের খোসা, নির্মাণসামগ্রীর নিচে জমা পানিই এডিসের প্রজননক্ষেত্র।

    * যা করবেন

    ▶ প্রতি সপ্তাহে একদিন বাসার সব জায়গায় জমা পানি ফেলে দিন।

    ▶ মশার কামড় এড়ান : দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকালে ফুলহাতা জামা পরুন। মশারি বা মশা নিরোধক ব্যবহার করুন।

    ▶ দ্রুত পরীক্ষা করান : জ্বরের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে NS1 টেস্ট করলে ডেঙ্গু দ্রুত নিশ্চিত হওয়া যায়।

    * যা করবেন না

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জ্বর কমানোর জন্য ডাইক্লোফেন, আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাবেন না। এগুলো ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল নিরাপদ।

    * পরিশেষে

    ডেঙ্গুতে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা। জ্বর মৃদু হলেও, জ্বর চলে গেলেও শরীরের ভাষা বুঝতে হবে। একটু দেরি হলেই রোগীকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হতে পারে। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এডিস মশার বিস্তার রুখতে। সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন।

    লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা।

  • ‘হ্যাঁ’ ভোট বাস্তবায়নে ধানাইপানাই চাই না-জামায়াত আমির

    ‘হ্যাঁ’ ভোট বাস্তবায়নে ধানাইপানাই চাই না-জামায়াত আমির

    ‘‘নির্বাচনের সময় সবাই জনগণের কাছে ভোট চাইতে গেছে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটে সমর্থন দিয়েছে। তাই এখন সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কোনো ধানাইপানাই চাই না।’’ আজ শনিবার নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বললেন এমনই।

    তিনি জানাচ্ছিলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। যদি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে যান, তাহলে শেখ হাসিনার মতো পরিণতি হবে। আমরা জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করব না। দেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। জনগণের পাশে থেকে আমরা আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।’

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট।

    এ সময় সিলেটের রাস্তাঘাট নিয়ে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন, ‘সিলেটের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে নড়াচড়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো কিনারা লাগছে না। সমুদ্রের ঢেউ দেখতে সমুদ্রে যেতে হবে না, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে গেলেই তা দেখা যাবে।’

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

    বিশেষ অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক তার বক্তব্যে সংবিধান সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

    এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে সিলেট জুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায় জামায়াতে ইসলামী ও জোটভুক্ত দলগুলো। সমাবেশে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ এবং আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমাগম দেখা যায়।

    এর আগে শুক্রবার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বললেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।

  • কুষ্টিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে পুকুরের পানিতে ডুবে কাওসার হোসেন (২৫) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ডিসি পার্কের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কলেজছাত্র কাওসার হোসেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ইসলাম পাড়া এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে। কুষ্টিয়া শহরের উদিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করতেন তিনি। কাওসার কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

    নিহত কলেজছাত্রের বন্ধু শাওন জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা কয়েকজন বন্ধু ডিসি পার্কের পুকুরে গোসল করতে নামেন। তারা পুকুরের একপাশ থেকে সাঁতরে আরেক পাশে যান। পরে পেছনে তাকিয়ে দেখেন কাওসার পুকুরের মাঝ বরাবর এসে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছে। এ অবস্থায় শাওন দ্রুত গিয়ে বন্ধু কাওসারকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা দু’জনেই তলিয়ে যান। এরপর শাওন বন্ধুকে ছেড়ে পানির উপরে উঠে আসেন।

    খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালিয়ে কাওসারের লাশ উদ্ধার করেন।

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো: ওয়াদুদ হোসেন জানান, পুকুরে ডুবে নিখোঁজের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার কার্যক্রমের পর কাওসারকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় ও স্বতঃস্ফূর্ত গণবিপ্লব। এটি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত দেশের সর্বস্তরের, সব ধর্মের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের দাবিতে। আর সর্বস্তরের মানুষের জেগে ওঠার এই লড়াইয়ে নারীদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য। তাদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদান ছিল বহুমাত্রিক। শুরু থেকেই তারা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আন্দোলনে সহযোদ্ধা ভাইদের আড়াল করে রাখাসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকে বেগবান করতে সহায়তা করেছেন। স্বৈরাচারীর ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতি এতটাই নির্মম ছিল যে, তা যেমন রাজপথের লড়াকু তরুণীদের স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল, তেমনি ঘরের নিরাপদ বারান্দা কিংবা ছাদে অবস্থানরত নিষ্পাপ শিশু ও

    মা-বোনদেরও প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ২৪-এর ডিসেম্বর মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা ১০ জন নারী শহীদের পরিচয় জানতে পারি। তারা হলেন— মায়া ইসলাম (৬০), শাহিনুর বেগম (৫৫), নাছিমা আক্তার (২৪), মেহেরুন নেছা (২২), লিজা আক্তার (২১), সুমাইয়া আক্তার (২০), নাঈমা সুলতানা (১৯), নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭), রিতা আক্তার (১৭) ও রিয়া গোপ (৬)। তাদের মধ্য থেকেআজ আমরা দুজন নারী শহীদের বীরত্বগাথা ও অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

    নাঈমা সুলতানা

    জুলাইয়ের প্রথম নারী শহীদ ১৬ বছর বয়সি নাঈমা সুলতানা। সে ছিল মাইলস্টোন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাঈমাদের পরিবার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় ভাড়া থাকত। বাবা ছিলেন একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি গ্রামের বাড়ি ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করতেন। শুধু নাঈমার পড়াশোনার জন্যই মা সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

    নাঈমার অবসর কাটত আঁকাআঁকি করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে সে বাসায় বসে খাতায় নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী ছবি এঁকে সময় কাটিয়েছে। মারা যাওয়ার আগের দিন, ১৮ জুলাই ২০২৪, উত্তরায় পুলিশের গুলিতে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-জনতা নিহত হন। ওইদিন রাতে নাঈমা আন্দোলনের পোস্টার আঁকছিল এবং মায়ের সঙ্গে গল্প করছিল। একপর্যায়ে সে মাকে বলল, ‘আম্মু, ধরো আমি যদি আন্দোলনে গিয়ে মারা যাই, তুমি মানুষকে কী বলবা?’ মাকে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আবার নিজেই বলে উঠল, ‘বলবা যে শহীদ হয়েছে। আমার মেয়ে শহীদ হয়েছে।’

    ১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার। তাদের বাসা থেকে একটু দূরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলের সামনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ এবং তাদের সহযোগী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও কিছু পুলিশ আশপাশের গলিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে নাঈমা তার রুমে বসে ‘বয়কট ছাত্রলীগ’, ‘কোটা সংস্কার চাই’সহ নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী পোস্টার রঙিন কালিতে আঁকছিল। একটু পর বাসার সামনে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সে দৌড়ে বারান্দায় আসে। তার বাসার নিচে তখন আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছুড়ছিল। সে হাতে থাকা মোবাইলে ভিডিও অন করে নিচের দিকে তাক করতেই তাকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছোড়ে। গুলির আঘাতে মুহূর্তেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নাঈমা।

    নাঈমার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মেঝেতে তার মস্তিষ্কের অংশ ছিটকে পড়ে। গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে ‘মা’ বলে চিৎকার করে ওঠে নাঈমা। পেছনের রুমে থাকা মা ও বড় বোন তার চিৎকার শুনে দৌড়ে বারান্দায় এসে দেখেন, নাঈমা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। সারা বারান্দায় ছড়িয়ে গেছে তার রক্ত। মেয়ের এ অবস্থা দেখে মা জ্ঞান হারান। বোনের কান্নার আওয়াজে আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও নিচে থাকা ছাত্ররা এসে নাঈমাকে ধরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে নিয়ে যান। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয় নাঈমা।

    সেদিন রাতেই নাঈমার মরদেহ নেওয়া হয় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দা গ্রামে, তাদের গ্রামের বাড়িতে। পথে পুলিশের নানা হয়রানির শিকার হতে হয় পরিবারকে। মরদেহ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, কোথায় নেওয়া হচ্ছে—এমন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নাঈমাকে। মাইলস্টোনের মেধাবী ছাত্রী নাঈমা পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল। প্রতিদিন তার ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল। বড় বোন প্রতিবছর জন্মদিনে কীভাবে তাকে সারপ্রাইজ দেন এ কথাও পাওয়া যায় নাঈমার ডায়েরিতে। বেঁচে থাকলে সে এ বছর ২৫-এ জুলাই ১৭ বছরে পা রাখত। জুলাইয়েই মায়ের কোলজুড়ে পৃথিবীতে এসেছিল নাঈমা, সেই জুলাইয়েই তাকে হারালো। প্রতিবছর জুলাই এলে তার পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণা আরো বেড়ে যায়।

    রিতা আক্তার

    রিতা আক্তার, বয়স মাত্র ১৭ বছর। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে দরিদ্র বাবা-মায়ের অভাব-অনটন ঘোচাবে। কিন্তু স্বপ্নপূরণের আগেই তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামে রিতাদের বাড়ি। বাবা আশরাফ আলী একজন রিকশাচালক, মা রেহেনা বিবি গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রিতা ছিল মেজো। বড় ভাই খুব বেশি পড়াশোনা করেননি; তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট ভাই মাত্র প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় রিতাই ছিল পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা।

    অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা-মা অদম্য রিতাকে বাল্যবিয়ে দিতে চাইলে সে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, সে বিয়ে করতে চায় না। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াতে চায়। পরিবারের হাল ধরতে চায়। তাই মেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে বাবা-মা সাধ্যমতো সব চেষ্টা করেছেন। মা রেহেনা বাসাবাড়িতে কাজ করে যে আয় করতেন, সেই টাকা দিয়েই মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতেন।

    গ্রামের মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর উচ্চমাধ্যমিকে শহুরে প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করানোর জন্য বাবা সপরিবারে ঢাকায় আসেন। মিরপুর দুয়ারীপাড়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করান মেয়েকে। মেয়ের পড়ালেখার সুবিধার জন্য কলেজের পাশেই মিরপুর-২ এইচ ব্লকে কম ভাড়ায় একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া নেন। বাবা মিরপুর এলাকায় রিকশা চালাতেন। আর মা বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।

    ৫ আগস্ট সকালে বাবা-মা তাদের কাজে বের হন। এ সুযোগে রিতা বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যায়। দুপুরে মা ঘরে ফিরে দেখেন, মেয়ে নেই। তিনি খুঁজতে বের হন। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে কোথাও পাননি। সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মর্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    এক মেডিকেল থেকে আরেক মেডিকেলে দৌড়াদৌড়ি করে রাত ১০টার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মেয়ের মরদেহ খুঁজে পান তারা। গায়ের জামাকাপড় দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন। আহত রিতাকে মেডিকেলে নিয়ে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, তার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিয়ে আসার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা মেলেনি; চিকিৎসা দিতে বিলম্ব হয়। চিকিৎসকরা যখন রিতার চিকিৎসা শুরু করেন, ততক্ষণে সে আর বেঁচে ছিল না। পরদিন মেয়ের মরদেহ নিয়ে বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। গ্রামের কবরস্থানে রিতাকে দাফন করা হয়।

    ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিল রিতা। ইসলামি গান, হামদ ও নাতে রাসুলবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কয়েকবার প্রথম হয়েছে সে। শিক্ষকদেরও স্বপ্ন ছিল, রিতা একদিন অনেক বড় হবে। মেধাবী এই ছাত্রী আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। কিন্তু অকালেই ঝরে গেল আরেকটি ফুল।

  • বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে চায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটি আমলা অথবা শিক্ষকের বদলে বেছে নিতে পারে দলের অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিককেই। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের পর্যবেক্ষণ— রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে চাপ নিতে পারেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির বাইরে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করে অতীতে তারা পড়েছিলেন সংকটের মুখে। দলের নেতারা উদাহরণ টানলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে বিএনপির নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বিদায় নিয়েছিলেন চাপের মুখে। এতে করে পথ প্রশস্ত হয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ এক রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে যায় বিএনপি। অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার অত্যন্ত সতর্ক বিএনপি।

    দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব পর্যায়ে অভিমত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, দলের নীতি-আদর্শ-দর্শন ধারণ করেন, রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংকটে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম— রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া উচিত। তারা বলছেন, সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির এই হঠাৎ পদত্যাগের ক্ষেত্রে জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে ‘সবুজসংকেত’ পেয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন। সরকার চাইছিল যে তিনি পদত্যাগ করুক। কেননা, গত কয়েক মাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে এক ধরনের শিথিলতা তৈরি হয়, যেটা দৃশ্যমানও হয়।

    সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিতের রেওয়াজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন— এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি। তাই অনেকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার কথা বলছিলেন।

    বিএনপির ভেতর থেকে কেউ কেউ বলছেন, গত মে মাসে রাষ্ট্রপতি (সদ্য সাবেক) মো. সাহাবুদ্দিন যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান, তখন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মারফতে ওই ফোনালাপের বিষয়টি সরকারের কাছে চলে আসে, যেটাকে গুরুত্বসহকারে আমলে নেয় সরকার। এরপরই মূলত সরকার থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাদের ধারণা, সেই সূত্র ধরেই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন ওই ফোনালাপের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে এটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছেন।

    অনেকের ধারণা, ওই ফোনালাপই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অন্যতম কারণ। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেছেন যে মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর তাদের যে আস্থা ছিল, ওই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে চিড় ধরেছে তাতে। তবে এটাও ঠিক, মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ। পদত্যাগপত্রে সেটি তিনি উল্লেখও করেছেন।

    সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলটি মনে করছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ চার নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে কেউ কেউ বলছেন, তাদের বাইরে থেকেও চমক আসতে পারে। সেটি একান্তই নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদের আগামী অধিবেশনে সেটি হতে পারে।’

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বললেন, ‘সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হয়। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। এতে করে হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।’

    ‘রাষ্ট্রপতি পদে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে হয়তো কথা বলবেন’— যোগ করেন নূরুল ইসলাম মনি।

  • বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যায় পুরোপুরি নষ্ট সবজি ক্ষেত। মাঠে নেই কোনো সবজি। একসপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলের সবজি চাহিদা মেটাচ্ছে উত্তরবঙ্গ। তাই চড়াদামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকুল থাকলে নতুন সবজি বাজারে আসতে লাগবে কমপক্ষে দুই মাস। ততদিন উত্তরবঙ্গের সবজির ওপর নির্ভর করেই চলতে হবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের।

    কৃষি বিভাগের হিসাব, বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ৯ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি নষ্ট হয়ে মোট ৫৬ হাজার ৭৩০ টন সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে যা প্রায় ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৮৭৫ কৃষক পরিবার। অর্থাৎ সাড়ে ৫৬ হাজার টন সবজি মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ সবজি দিয়ে চট্টগ্রাম অন্তত দুই মাস চলত।

    চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, ‘কৃষি ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিপূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষায় আছি অনুমোদনের।’

    ক্ষেত বিলীন হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আড়ত থেকে খুচরা বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। বন্দরনগরী রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তে সবচেয়ে কমদামি সবজি হচ্ছে পেঁপে। কেজি ২২ টাকা। আর দামি সবজি ঝিঙা ১০০ টাকা।

    এছাড়া বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৫০, লাউ ৪০, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০, কচুর ফুল ৩৫, বরবটি ৯০, ঢেড়স ৭০, করলা ৮০, কাকরোল ৯০, ঝিঙা ১০০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ টাকায় আড়তগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা টমেটো কেজি ১০০ টাকা। মরিচ ২০০ টাকা। কেজি ২০০ টাকার লেটুস পাতা এখন ১৬০০ টাকা। ১৫০ টাকা পেঁয়াজ পাতা ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আড়ত থেকে অন্তত দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

    রিয়াজউদ্দিন বাজার একতা বাণিজ্যালয়ের মালিক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘একসপ্তাহ ধরে সবজির সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে কোনো সবজি আসছে না। উত্তরবঙ্গের সবজিই এখন চট্টগ্রামের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাই দাম চড়ে গেছে। এভাবে কতদিন চলবে জানি না।’
    রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তে দুই ধরনের সবজি আসে। চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া থেকে। এগুলো টাটকা, দাম কিছুটা বেশি, স্বাদও বেশি। বাকিটা উত্তরবঙ্গ থেকে। ‘লাইনের সবজি’ হিসেবে পরিচিত এই সবজির দাম কিছুটা কম। আড়তে আগে প্রতিদিন শুধু উত্তরবঙ্গ থেকে ৬০ ট্রাক সবজি আসত। এখন সেটি অর্ধেকে নেমে ৩০ ট্রাকে নেমেছে। ৩০ ট্রাক মানে ৪৫০ টন সবজি। এর বাইরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের আশপাশের উপজেলা ও চকরিয়া-পেকুয়া থেকে আসত ১-৩ টনের ট্রাকে। এই সবজির পরিমাণও দিনে ২৫০ টন। এই ২৫০ টন পুরোটাই বাজারে সরবরাহ বন্ধ। এতেই মূলত দাম চড়ে গেছে।

    চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত এখন বন্যায় বিলীন। শুধু সবজির মাচা দেখা মিলছে। কৃষক আবু তাহের জানিয়েছেন, ‘আজকে সবজি রোপণ করলে ফলন আসতে সময় লাগবে ৫০ দিন। তাও যদি নতুন করে বন্যা না হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকে। কিন্তু আজকে রোপণের জন্য তো চারা তৈরি নেই। ফলে চারা রোপণ করে সবজি বাজারে আসতে সময় লাগবে দুই মাস।’

    আগে চকরিয়া ও পেকুয়া থেকে উৎপাদিত সবজি কক্সবাজারেও সরবরাহ দেওয়া হত। এখন উত্তরবঙ্গের সবজি সেখানকার চাহিদা মেটাচ্ছে।

    পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা জামান খারেচ জানালেন, ‘বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ হাজার ৮৭৫টি কৃষক পরিবারকে উঠে দাঁড়াতে বীজ, চারা, কৃষি উপকরণসহ আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধকল কাটানো কঠিন হবে।’

  • শিশুকে ধমক দেওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

    শিশুকে ধমক দেওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাড়ির আঙিনা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার সময় বাইসাইকেলের চাকা পায়ে লাগার প্রতিবাদ করায় রেহানা বেগম লিলি (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রেহানা বেগম লিলি জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়ার গাইনহাটি এলাকার হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। তাঁর স্বামী মৃত সুরত আলী মিয়া।

    অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রিমা বেগম একই এলাকার আনু মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে রেহানা বেগম বাড়ির আঙ্গিনা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে আলিফ আঙিনায় বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে কয়েকবার বৃদ্ধার পায়ের ওপর চাকা তুলে দেয়। এতে তিনি শিশুটিকে ধমক দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী ঘরে ঢুকে বাঁশের লাঠি দিয়ে রেহানা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের বড় মেয়ে সৌরভী বলেন, ‘আমার মা ঘরের সামনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। প্রতিবেশীর ছেলে সাইকেলের চাকা আমার মায়ের পায়ে লাগায়। ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী রিমা আমাদের ঘরে ঢুকে আমার মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আজ সকালে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ল্যাপটপ ব্যবহারে মানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

    ল্যাপটপ ব্যবহারে মানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

    ফিচার

    কাজ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন ল্যাপটপের ব্যবহার বাড়ছে। সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় অনেকের কাছেই এটি প্রথম পছন্দ। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার ও যত্ন না নিলে ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললেই দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব এই গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস।

    প্রথমত, ল্যাপটপ সব সময় চার্জারে সংযুক্ত রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় চার্জে থাকলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চার্জ দিয়ে ব্যাটারির স্বাস্থ্য বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ ও ফাইল নিয়মিত মুছে ফেলা প্রয়োজন। এগুলো স্টোরেজের জায়গা দখল করার পাশাপাশি ল্যাপটপের গতি কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে ডিভাইস দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করে।

    তৃতীয়ত, অপারেটিং সিস্টেম এবং ইনস্টল করা সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা জরুরি। নতুন আপডেট শুধু নতুন সুবিধাই যোগ করে না, নিরাপত্তা দুর্বলতাও দূর করে এবং ডিভাইসের স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

    এ ছাড়া চার্জ দেওয়ার সময় ল্যাপটপ সব সময় শক্ত ও সমতল জায়গায় রাখা উচিত। বিছানা বা নরম পৃষ্ঠে রাখলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়ে ডিভাইসের ক্ষতি হতে পারে।

    সবশেষে, অজানা ইউএসবি ডিভাইস বা অনিরাপদ চার্জিং কেবল ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। এতে তথ্য চুরি বা ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ল্যাপটপ দিয়ে নিয়মিত মোবাইল ফোন বা পাওয়ার ব্যাংক চার্জ না দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ল্যাপটপের ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে এর কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শনিবার ভাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) দেওয়ান শামীম খানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুই বান্ডিল তাস এবং নগদ ২৪ হাজার ২৩০ টাকা জব্দ করা হয়।

    অভিযানের একপর্যায়ে তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের মো: আবুল হোসেনের মুদি দোকানের পেছনের একটি ছাপড়া ঘরে অর্থের বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় ছয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: হাসান (৩০), ওবায়দুর (৪০), মো: ইবরাহিম (৩০), আলীম শেখ (৪৫), শাকিল মাতুব্বর (৩০) ও শহিদুল মোল্লা (৪৫)। তারা সবাই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

    ভাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • দামুড়হুদায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড

    দামুড়হুদায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানা পুলিশ ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পরে আদালতে হাজির করলে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই দিনে পৃথক অভিযানে এক পরোয়ানাভুক্ত আসামিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের দিকনির্দেশনা এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই মাহাবুল হকের নেতৃত্বে জয়রামপুর মালিথা পাড়ায় অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানকালে বাড়ির সামনে মাদক সেবন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মো: টোটন (২৪) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১ পিস ইয়াবা ও ১ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।

    আটক টোটনকে সংক্ষিপ্ত বিচারের (সামারি ট্রায়াল) জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো চার দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    এদিকে, দলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মো: ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো: লিটন মিয়াকে ছুটিপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুইজনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • ডলি সায়ন্তনীকে বিয়ে করাটা বড় ভুল ছিল: রবি চৌধুরী

    ডলি সায়ন্তনীকে বিয়ে করাটা বড় ভুল ছিল: রবি চৌধুরী

    চলতি বছর একটি পডকাস্টে সাবেক স্ত্রী ডলি সায়ন্তনীর সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণ জানিয়ে তুমুল আলোচনায় আসেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। তিনি দাবি করেন- তার অজান্তে ডলি এক কোরিয়া প্রবাসী গাড়িচালকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরেই তিনি ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রবি চৌধুরী এবার জানান, তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল তার প্রথম বিয়ে। তবে অতীত নিয়ে আর আলোচনা করতে চান না বলেও জানান এই শিল্পী।

    রবি চৌধুরীর কথায়, ‘আমার প্রথম বিয়েটাই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। সুযোগ থাকলে সেই অতীত পুরোপুরি মুছে ফেলতে চাইতাম। কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব নয়। তাই সেই অতীত নিয়ে এখন আর কথা বলতে চাই না।’

    নব্বই দশকের শেষভাগে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে রবির। ২০০০ সালের দিকে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় দ্বৈত গানে কণ্ঠ দেন তারা। কাজের সূত্রেই দুজনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং ২০০১ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ ও কলহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সংসার জীবনের ইতি ঘটে।

    সাক্ষাৎকারে রবি চৌধুরীর জনপ্রিয় গান ‘কাল নাগিনী’ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ‘ঘুরাও দু নয়ন’ অ্যালবামের এই গান কি তার সাবেক স্ত্রী ডলি সায়ন্তনীকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে রহস্য বজায় রাখেন তিনি।

    হাস্যরসের সুরে রবি চৌধুরী বলেন, ‘সবসময় তো আর বন্দুক দিয়ে মারতে হয় না, মাঝে মাঝে কলম দিয়েও মারা যায়। গানটি আমার নিজের লেখা। তবে কাকে নিয়ে লিখেছিলাম, সেটা এখন আর বলতে চাই না।’

  • কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    রাজধানীতে বাজারে শাক-সবজির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় এখন ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কাঁচামরিচ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও কেজি ৩২০ টাকা, কোথাও ৩১০ কিংবা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে দাম বাড়ছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

    বিক্রেতারা বলেন, বাজারে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, আর পুরোনো কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন তারা, যা এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা।

    এক সবজি বিক্রেতা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুরই দাম বেড়েছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়াও হচ্ছে।

    ওই বিক্রেতার দাবি, তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এখন কীভাবে কমে বিক্রি করবেন- এ প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

    বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতা জানান, কাঁচামরিচ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। কিন্তু এটার দাম এখন নাগালের বাইরে। দাম বেড়েই চলছে। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করব কীভাবে।এছাড়া শাক-সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনলেও ২০০-২৫০ টাকা লাগে। এভাবে তো চলা যায় না।

  • ‘ইত্যাদি’ এবার লক্ষ্মীপুরে

    ‘ইত্যাদি’ এবার লক্ষ্মীপুরে

    লোকজ ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি, অনন্য পর্যটন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা সব বৈচিত্র্যময় গৌরবগাথাকে দর্শকের সামনে তুলে ধরে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নদীঘেরা উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুরকে। স্থানীয় ইতিহাস ও সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল শতবর্ষ প্রাচীন দালাল বাজার জমিদারের স্মৃতিবহনকারী নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।

    ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো লক্ষ্মীপুরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। দুপুরের পর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন দর্শকরা। প্রতিবারের মতো এবারও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই দর্শকদের জন্য আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়। দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জেলা সদরে আয়োজিত হলেও দূর-দূরান্তের উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও ছুটে এসেছিলেন নানা শ্রেণী-পেশার দর্শক।

    এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে দুটি বিশেষ গান। একটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমা এবং ফেনীর কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গীতিকার কবির বকুলের কথায় দরদী সুরে গানটি সৃষ্টি করেছেন আকাশ মাহমুদ।

    অন্যদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও থাকছে জেলা-পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর-সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায়, এস কে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে মঞ্চ মাতিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।

    দর্শকপর্বে লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে থেকে চারজনকে নির্বাচন করা হয়। তারপর এই নির্বাচিত দর্শকরা তাদের জেলারই কৃতিসন্তান জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয় করেন।

    পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী, লক্ষ্মীপুরের সন্তান নিশাত মজুমদারের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। বলেছেন পর্বতারোহণ ও ইত্যাদি নিয়ে তার অনুভূতির কথা।

    প্রতিবারের মতো এবারের পর্বেও থাকছে কয়েকটি অনবদ্য প্রতিবেদন। লক্ষ্মীপুরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বিস্তৃত মাঠজুড়ে সয়াবিনের সমারোহ, নারিকেল ও সুপারিগাছের সারি। এসবের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান-স্থাপনার ওপর রয়েছে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। শিক্ষা ও উদ্দীপনার অনন্য এক উদাহরণ হিসেবে সেখানকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর রয়েছে উদ্দীপনামূলক প্রতিবেদন।

    এ ছাড়াও রয়েছে নদী আর ভাগ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করা লক্ষ্মীপুরের এক নিঃস্ব মাঝিকে নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন। একসময় নদী যার আয়ের উৎস ছিল, আজ সেই নদীই তাদের নিঃস্ব করেছে।

    এবারের বিদেশি পর্বে রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত সৈনিকদের তৈরি অন্যতম জনপ্রিয় ও চোখধাঁধানো উপকূলীয় পথ বিশ্বের দীর্ঘতম যুদ্ধস্তম্ভ ‘গ্রেট ওশান রোড’।

    থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। এ ছাড়াও ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে বেশকিছু সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর তীক্ষ্ম ও তীর্যক নাট্যাংশ। তৈল টিভি, মুখোশের অন্তরালে, স্ক্রিনবন্দি জীবন, উন্নয়ন প্রতারণা, বিয়ে যন্ত্রণা, সবাই ডাক্তার, ইউটিউব ফিভার, ডিজিটাল চিকিৎসা, খাঁটি সোনা ও নকল সোনাসহ বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ।

    এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন সোলায়মান খোকা, আজম খান, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, জিল্লুর রহমান, আব্দুল আজিজ, বড়দা মিঠু, শরাফ আহমেদ জীবন, হারুন রশিদ বান্টি, আশরাফুল আলম সোহাগ, সুমন পাটোয়ারী, আমিন আজাদ, মুকিত জাকারিয়া, আনন্দ খালেদ, সাইদুর রহমান পাভেল, এমএনইউ রাজু, আনোয়ারুল আলম সজল, আনোয়ার শাহী, জামিল হোসেন, সাবরিনা নিসা, জাহিদ শিকদার, কামাল বায়েজিদ, সাজ্জাদ সাজু, নূরে আলম নয়ন, সুজাত শিমুল, সুবর্ণা মজুমদার, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, সূচনা শিকদার, নিপু, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে। শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

    আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচার হবে দর্শকপ্রিয় ইত্যাদির এই পর্ব। রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

  • ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই দিনে ডিএমপির ৩২৫৭ মামলা

    ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই দিনে ডিএমপির ৩২৫৭ মামলা

    রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গত দুই দিনে ৩ হাজার ২৫৭টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই সময়ে ৯০৮টি যানবাহন ডাম্পিং এবং ৪২৬টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার (২৩ ও ২৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব মামলা করা হয়। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ডিএমপি জানায়, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯২টি এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৪৫০টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৪৫৮ টি, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪০১টি, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৬৭০টি, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৩৭২টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ২৪৬টি এবং ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১৬৮টি মামলা করা হয়েছে।

    অভিযানে বিভিন্ন বিভাগের আওতায় বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১১০ বোতল মাদকদ্রব্য কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ তুষার শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোর ৪টার দিকে শ্রীনগর থানার দেলভোগ দয়হাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেফতার তুষার শেখ দেলভোগ দয়হাটা এলাকার মরহুম শেখ করিমের ছেলে।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোহাম্মদ কামরুল হাসান (পিপিএম) সঙ্গীয় ফোর্সসহ ভাড়া করা একটি বসতবাড়ির উঠানে অভিযান চালান। এ সময় তুষার শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

    অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১১০ বোতল ‘উইন কোরেক্স’ (ফেনসিডিল জাতীয় মাদক) এবং ৩২ রাউন্ড পিতলের তৈরি কার্তুজ (গুলি) উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একইসাথে তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: কামরান হোসেন বলেন, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ,আর

  • ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি ইজিবাইক, আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেল এ তথ্য জানায়।

    পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের ১৪ বছর বয়সী ইজিবাইকচালক মিশকাতের গাড়িতে যাত্রীবেশে চারজন ওঠে। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাঠ এলাকায় নিয়ে গিয়ে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

    এ ঘটনায় ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশ এবং কুষ্টিয়ার জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০), আখতার মোল্লা (৪০), রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৪২)।

    পুলিশ জানায়, প্রথমে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই ইজিবাইক ও মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত আরও ছয়জনকে কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    যশোরের চৌগাছায় চলতি আমন মৌসুমে ১৭ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও রোপণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ধান চাষিরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এবার বিআর-৫১, বিআর-৮৭, বিআর-৭৫, প্রতীক, লাল স্বর্ণ, কাশ্মিরী স্বর্ণ, ইন্ডিয়ান মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধানের আবাদ হবে।

    উপজেলার আন্দারকোটা গ্রামের আশাদুল ইসলাম, সিংহঝুলি গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও সাবের আলী সরদার, স্বরূপদাহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সাগর খান, সামছুল হুদা দফাদার, ইছাহাক আলী দফাদার এবং মিজানুর রহমান কাটু বিশ্বাসসহ একাধিক কৃষক জানান, মাঠে এখন আমন ধান রোপণের ব্যস্ত সময় চলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মাওলানা সুলাইমান হোসেন বলেন, জমি প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চারা রোপণ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় সব কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ধান চাষ করেও কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই চাষাবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন।

    রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, আগে নিজের সব জমিতেই ধান চাষ করতাম; কিন্তু লোকসানের কারণে এবার মাত্র এক বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছি। গরীবপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন মুজাম বলেন, তিনি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেন। এবারো ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমনের চাষ করবেন; কিন্তু উৎপাদন ব্যয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, উপজেলার প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে।

  • পে স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা

    পে স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা

    দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা তুঙ্গে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

    নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে স্কেল সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটির আশঙ্কা।

    আইএমএফ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

    এ ছাড়া ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। এ অর্থ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।

    তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আদায় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে একসঙ্গে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে এবং দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও তারল্য সংকটের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

    সরকারি সূত্রগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এক ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।

    এদিকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটির আশঙ্কা।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশলই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হতে পারে।

    এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দিকে।

  • বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে শহরের হাড়িখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার বাসিন্দা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকবদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে তাল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

    নিহত শান্তর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা জনায়, শান্ত প্রতিদিনের মতো চেম্বারে কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

    আইনজীবী নিহতের খবর পেয়ে শনিবার সকালে বাগেরহাট ২৫০ বেড হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হন আইনজীবী নেতারা। তারা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।

  • নির্বাচন কমিশনের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, নির্বাচিত ২৭২০

    নির্বাচন কমিশনের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, নির্বাচিত ২৭২০

    বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর আওতাধীন মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচিত প্রার্থী ২ হাজার ৭২০ জন। এই প্রার্থীরা ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়েছেন।

    প্রার্থীদের জন্য পরবর্তী নির্দেশনাবলি

    লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তী সময় আবেদনকারীর মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে জানানো হবে। এ ছাড়া ফলাফল–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।

    ফলাফল দেখুন এখানে https://asset.ecs.gov.bd/media/uploaded_files/notices/2026/07/3167fcab-6b03-401a-a09e-abcccd17a5ba.pdf

  • মহেশপুর সীমান্তে ছয়জন পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

    মহেশপুর সীমান্তে ছয়জন পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে ওই চেষ্টা প্রতিহত করেছে।

    শনিবার মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: রফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, সকাল আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীন সামন্তা বিওপির সীমান্ত পিলার ৫৫/এমপি সংলগ্ন গেটে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিপক্ষ ৫৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সিঙ্গামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন পুরুষ ও দুইজন মহিলাসহ মোট ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। ঘটনাটি সামন্তা বিওপির টহলদলের নজরে আসার সাথে সাথে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় অবস্থানের ফলে বিএসএফের পুশইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, বর্তমানে ওই ছয়জন ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: রফিকুল আলম জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • ‘একবারে চোখ তুইল্লালবাম’—খেলাফতের এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি

    ‘একবারে চোখ তুইল্লালবাম’—খেলাফতের এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি

    ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদুল্লাহর চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। হুমকির একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিওতে তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গালাগাল করতে এবং তাঁকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বিএনপির নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের নামও উল্লেখ করেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আন্দোলন করো এমপি সাব? ওই যে ওয়াহাবি এমপি সাব, রাজাকারের বাচ্চা। আজকে কইতাছে তারে বুলে পিটাইছে মোতাহার তালুকদারের লোকে। এই…মোতাহার তালুকদারের লোকে পিটাইলে তুই এলাকায় থাকতারবি? এলাকায় আন্দোলন করো? রাস্তায় না, আন্দোলন…দেয়াম। দেশটা ভালোভাবে চলতাছে, তোর সহ্য হয় না রাজাকারের বাচ্চা? এই সরকার খারাপভাবে চালাইতাছে দেশ?’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। পরে মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

    ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।

    মুহাম্মদুল্লাহ, সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)

    বিএনপির কর্মী সোহরাব হোসেনকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘দেশের মধ্যে কত সংকট, জ্বালানি তেলের অভাব, অন্য দেশে যুদ্ধ চলতেছে—এসব বাদ দিয়া তুই আন্দোলন করস। আর কোনো দিন যদি রাস্তায় নামছস, একটারেও ঘরে ফিরে যাইতে দিতাম না। তুই এমপির যোগ্য? তোরে এমপির মতো লাগে? রাজনীতি করতে সবকিছু মিলায়া যোগ্যতা লাগে। রমজান মাস আইলে টুপি পইরা দাওয়াত খাইছস, এখন এমপি হইয়া গেছস। ভোট চুরি কইরা নির্বাচন কইরা এখন আবার আন্দোলন মারাও? তোমারে কেউ কিছু করতে পারবো না?…দেখছস কী, একবারে চোখ তুইল্লালবাম…। আজকে লাস্ট কথা কইয়া দিলাম—আর কোনো দিন যদি লাইভে আইয়া তালুকদারের বিষয়ে কথা কইছস, তোর অবস্থা খারাপ কইরালবাম।’

    স্থানীয়রা জানান, সোহরাব হোসেন স্থানীয় বিএনপির কর্মী। তাঁর বাড়ি রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামে। ভিডিও বার্তার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোহরাব হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী আজ বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেনছবি: প্রথম আলো

    হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ। তাঁরা এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি ও সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছেন। তবে এ ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত নন বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য, ‘জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। উসকানি দিয়ে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছে। ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।’

    সংসদ সদস্যকে হুমকি বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদধারী নন; সর্বোচ্চ একজন সমর্থক হতে পারেন। বিষয়টি জানার পরই তিনি ভিডিওটি ডিলিট করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এমন আচরণ বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে আমার ধারণা। আমি এ ধরনের আচরণ অ্যালাউ করি না। যে কেউ হতে পারে, আমার শত্রু হতে পারে—তার ব্যাপারে এমন কথা কেন বলবে? ভিডিও না মুছে ফেললে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে জানিয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ বলেন, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী আজ শনিবার বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক খবর। ভারতের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর এই ম্যাচটির সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে আসছে কলকাতার নাম। ‘ইএসপিএন ব্রাজিল’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) এবং ভারতীয় আয়োজকদের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও!

    বিশ্বকাপে ভারতীয় সমর্থকদের অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখে মুগ্ধ হয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই সমর্থনের ছবিগুলোই মূলত ব্রাজিল দলকে ভারতে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। আসন্ন সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে সেলেসাওদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর টাউন্সভিল এবং ২৯শে সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে এই ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ম্যাচটির জন্য ভারতকে বেছে নিতে আলোচনা চালাচ্ছে সিবিএফ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারে ম্যাচটি আয়োজনের আলোচনা ছিল। তবে এই মুহূর্তে শুধু ভারতের সঙ্গেই আলোচনা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে।
    সবকিছু চূড়ান্ত হলে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা আরও একবার চাক্ষুষ করবেন বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের। এর আগে ১৯৭৭ সালে মোহনবাগানের বিপক্ষে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে ইডেন গার্ডেনসে খেলেন কিংবদন্তি পেলে। সেই ঐতিহ্যবাহী শহরেই এবার পা রাখতে পারে সেলেসাওরা।

    চলতি বিশ্বকাপটা অবশ্য ভালো কাটেনি ব্রাজিলের। শেষ ১৬তে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় কার্লো আনচেলোত্তির দলকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও দলকে টিকিয়ে রাখতে পারেননি। ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম বিশ্বকাপ বিদায়।

    তবে বিশ্বকাপের ক্ষত ভুলে নতুন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। নতুন ‘সুপার ফিফা উইন্ডো’-র অধীনে এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোটি ১৬ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ফলে দলগুলো কয়েকটি প্রীতি বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন কলকাতার উত্তরপাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলি সেজে ওঠে নেইমার ও ভিনি জুনিয়রের ম্যুরালে। কলকাতার মানুষের এই ফুটবল উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে কলকাতার সবুজ ঘাসে খুব শীঘ্রই দেখা মিলবে হলুদ জার্সির সাম্বা তারকাদের।

  • মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    মেসির খুব কাছের মানুষদের একজন পারেদেস। এলএমটেনের জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের সতীর্থ বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার। পিএসজিতেও দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। তাই পারেদেসের মুখ থেকে মেসির অবসর ভাবনার কথা উঠে আসায় তা বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

    সাংবাদিকদের পারেদেস বলেন, ‘এটা কষ্ট দেয়, কারণ বিশ্বকাপজুড়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা চাইনি মেসি শেষ ম্যাচটি আসুক। আমার মনে হয়, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জাতীয় দলের হয়ে সেটিই (বিশ্বকাপ ফাইনাল) ছিল তার শেষ ম্যাচ।’

    তবে পারেদেসের আশা, আপাতত অবসরের বিষয়টি একপাশে রেখে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি, ‘আশা করি, এমনটা হবে না। আশা করি, সে আরও খেলতে পারবে। সিদ্ধান্তটা তারই হবে। সে যা করলে খুশি থাকবে, সেটাই আমাদের জন্যও আনন্দের হবে।’

    মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত নন পারেদেস। আর্জেন্টিনার হয়ে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি, ‘আমি জানি না, এটা একটা প্রক্রিয়া। আমাদের বিষয়টি হজম করতে হবে, ভাবতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

    পারেদেস আরও যোগ করেন, ‘অনেকের জন্যই চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। এটা ছিল সুন্দর, অসাধারণ একটি প্রক্রিয়া। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করেছি। এই পর্যায় ধরে রাখা এবং দলকে এভাবে কার্যকর রাখা কঠিন হবে। আমাদের অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে, কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

  • অনেক কেঁদেছিলাম: ভাবনা

    অনেক কেঁদেছিলাম: ভাবনা

    সম্প্রতি ওমরাহ পালন করে দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। যা তিনি নিজেই জানিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। প্রকাশ করেছেন একাধিক ওমরাহ সফরের ছবিও। এবার ফেসবুকে জানালেন ওমরাহর পেছনের গল্প।

    গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, ‘আমাদের ওমরাহ করতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা হুট করে হয়। যদিও হুট করে বললে ঠিক হবে কি না। কারণ বাবা-মা সবসময় যেতে চাইতেন। আমিও যেতে চেয়েছি গত তিন বছরে, তবে সত্যি কথা হলো আমি সিদ্ধান্তে অটুট ছিলাম না। কারণ যাব ভেবেছি তারপর আর হয়নি। এবার ঈদের পর ব্যাংককে যাই। তারপর যেদিন ব্যাংককে আমার শেষ রাত পরদিন বাংলাদেশে চলে আসব। জুনের ৬ তারিখ। আমি রাতে অনেক কাঁদছিলাম আর দিয়াকে (আমার বান্ধবী) বলছিলাম আমি আল্লাহর ঘরে যেতে চাই, যত দ্রুত সম্ভব। আমার যেন কিছুতেই মন মানছিল না। মনে হচ্ছিল আমি অনেক কাঁদব আল্লাহর ঘরে গিয়ে। জুনের ২৫ তারিখ আমরা সবাই ওমরাহ করতে রওনা হই।’

    এরপর লিখেছেন, ‘আমি ফেসবুকে ততটুকুই বলি, যতটুকু বলতে চাই। এই কথাটা এজন্যই বললাম যে, আল্লাহ আমাকে তার ঘরে আসার সুযোগ দিয়েছেন। ৬ তারিখ রাত থেকে ২৫ তারিখ, কয়েকদিনের মধ্যেই আমি আল্লাহর মেহমান হতে পেরেছি।’

    নেটিজেনরা অভিনেত্রীর ওমরাহ’র ছবিগুলো দেখে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। যারা সমালোচনা করেছেন তাদের উদ্দেশে ভাবনা লিখেছেন, ‘আমার ওমরাহ নিয়ে আপনারা অনেক উত্তেজিত (সবাই না কিছু মানুষ)। আমার ওমরাহ হবে কি হবে না? আজেবাজে মন্তব্য করা, এটা নতুন কিছু নয়। আপনারা যারা বাজে মন্তব্য করেন তারা সংখ্যায় খুবই কম। তবে এতটুকু আপনারা নিশ্চিত জানেন, আল্লাহ যদি না চায় আপনি কি তার ঘরে যেতে পারবেন?’

    অভিনেত্রীর কথায়, ‘আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে অনেক ভালোবাসেন, আল্লাহ তার সব বান্দাদের ভালোবাসেন। জানি না আমার ওমরাহ কবুল হয়েছে কি না। আমি কিছু জানি না। তবে এতটুকু জানি আল্লাহ আছেন। আল্লাহ সব দেখেন। আমার মনে কি আছে, আমার নিয়ত কি আল্লাহ সব বোঝেন। আমি অন্য কাউকে প্রমাণ দেব না আমি কে? আমার আল্লাহ ছাড়া আমি আর কাউকেই কিছু প্রমাণ করতে চাই না।’

    সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, ফেসবুকে কেন ওমরাহর ছবি দিলাম। আমি মক্কা-মদিনায় প্রতিটি মুহূর্ত কী কী অনুভব করেছি তা আমি আপনাদের বলতে পারিনি। তবে যারা আমাকে ফলো করে, যারা পজিটিভ মানসিকতার মানুষ তারা আমার এই সময়টা আমাকে দোয়া দিয়েছেন। সে কারণে ছবি দিয়েছি, যাতে আমাকে দেখে আরও কেউ যদি অনুপ্রাণিত হয় সেখানেই আমার সার্থকতা হবে।’

  • অফিস করবেন বঙ্গভবনে, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে

    অফিস করবেন বঙ্গভবনে, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বঙ্গভবনে, তবে বসবাস করবেন জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবনে। আজ শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    এরই মধ্যে সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকেই এ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জিয়ারত করবেন।

  • সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকা শক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতিমধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

    আজ শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬ এর আয়োজন করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর।

    সেমিকন্ডাক্টরকে চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, মুঠোফোন থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুযোগ আছে। তাঁর বিশ্বাস, ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশকে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতীয় মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর বিতরণপ্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্ডেড সুবিধা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

    ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ ঢাকার নভোথিয়েটারেছবি: বাসস

    আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

    ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’—প্রতিপাদ্যে দুই দিনের এ সামিটের আয়োজন করেছে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ।

    সামিটের পাশাপাশি আয়োজিত বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

  • ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তাঁর দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর খাবারে বিষক্রিয়ার কথাই আসছিল। সেই কারণে মামলাটি হয়েছিল অপমৃত্যুর। কিন্তু একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে লাগে খটকা। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জট খোলে এই হত্যাকাণ্ডের। এখন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি ওই নারীর জামাতা মো. রবিন।

    রবিন (২২) এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। মামলাটি এখন বিচারের জন্য ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রয়েছে।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    যে তথ্যে খটকা

    ২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নিজেদের ঘর থেকে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার তখন জানিয়েছিলেন, ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা জড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল তাঁর মা ও ভাইদের মরদেহ। নারগিসের পরিবার থেকে তখন ধারণা দেওয়া হয়েছিল, খাবারে বিষক্রিয়া এই মৃত্যুর কারণ।

    আবার এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সম্পত্তির বিরোধ থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনকে মারা হয়েছে।

    পুলিশ খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে সেদিন অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছিল। দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার নেন ঢাকা জেলা পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

    ২০২৫ সালের ২ জুন ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় নারগিস বেগম ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ। তখন খাবারে বিষক্রিয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে তদন্তে উদ্‌ঘাটিত হয়, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল তিনজনকে।

    তদন্ত শুরু করে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনজুর রহমান জানতে পারেন, সেদিন রবিন ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানও নারগিসের বাড়িতেই রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন আসে, একই খাবার খেয়ে কেউ মারা গেলেন, আবার কেউ বেঁচে থাকলেন কীভাবে?

    মনজুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই বিষক্রিয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সন্ধ্যা রাতে খাওয়াদাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন রবিন। কিন্তু তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এরপর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের আবার শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর গভীর রাতে রবিনের আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিতির তথ্যই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।

    শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    মনজুর রহমান, উপপরিদর্শক, পিবিআই

    ক্ষোভ থেকে হত্যা

    রবিন ছিলেন ঘরজামাই। শ্বশুর রাজা মিয়া মারা যাওয়ার পর পরিবারের ডেকোরেটর ব্যবসা তিনি দেখাশোনা করতেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রবিন কোনো হিসাব শাশুড়িকে দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাঁকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় রবিন খুব ক্ষুব্ধ হন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। বেশ কিছুদিন পরই সেদিন শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন।

    ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ২০২৫ সালের ৩ জুন ঘরের ভেতর থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর ভিড় জমিয়েছিল গ্রামের মানুষ

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা–কাটাকাটি হয়। এই ঘটনায় শাশুড়ির ওপর রবিনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাতে খেয়ে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝেমধ্যে ব্যবসা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বড় শ্যালক শামীমের ঝগড়া হতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবার ওপরই তাঁর ক্ষোভ ছিল।

    মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তা নিয়ে বিরোধ থেকে একপর্যায়ে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেন। তার প্রতিশোধ নিতেই শাশুড়ি ও শ্যালকদের হত্যা করেন রবিন।

    জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা

    স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চেপে ধরে তাঁকে হত্যা করেন তিনি। পরে একই কায়দায় শাশুড়ি নারগিস ও সোলাইমানকে হত্যা করেন। এরপর তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন, যাতে কারও দেখে মনে হয় যেন তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোর চারটার দিকে তিনি বেরিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান।

    রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি বালিশ ও মুঠোফোন উদ্ধারের কথা জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

    রবিনের গ্রাম থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব বেশি নয়; মাঝে দুটি গ্রাম। তাই সহজেই তাঁর যাতায়াত করার সুযোগ ছিল।

    লাশ উদ্ধারের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্প বলতে থাকেন। শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করেন।

    তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখা।

    আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।

    আবদুর রশীদ, মামলার বাদী

    স্ত্রী এখনো সন্দিহান

    স্বামী রবিনই মা-ভাইদের হত্যা করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনো সন্দিহান নাসরিন আক্তার।

    নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। সে (রবিন) বলেছে, পুলিশের ভয়ে সে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

    তবে ব্যবসা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মা ও ভাইয়ের দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্বীকার করেন নাসরিন। তিনি বলেন, এ কারণেই তাঁর মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

    নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন শুরু থেকেই রবিনকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তবে তদন্ত ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে।

    মামলাটি করেছিলেন নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।’

    এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া দরকার।’

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

  • ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত হয়েছে। ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে ঘাতক ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে (৩৮) আটক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ওই এলাকার মৃত রেবতি দাশ গুপ্তার ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও রাখা হয়েছিল।

    শনিবার সকালে মা-বাবাকে নিয়ে বাইরে যায়। পরে সকাল পৌনে ১২টার দিকে তারা বাড়িতে ফেরে।
    কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ছেলেটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে বাবা এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তখন স্থানীয়রা চিৎকার করে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার মা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর গুরুতর আহত বাবাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • ভৈরবে বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    ভৈরবে বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে লিলি বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীর উপর। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ভৈরব থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া (গাইনহাটি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত লিলি বেগম জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকার মরহুম সুরুত আলীর স্ত্রী ও হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।

    অভিযুক্তরা একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) ও তার স্ত্রী লিমা বেগম (৩০)। জাহাঙ্গীর মিয়া ওই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ও তার পরিবার বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব নারী লিলি বেগম। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ১০ বছর বয়সী ছেলে আলিফ সাইকেল চালাচ্ছিল। এ সময় আলিফ লিলি বেগমের শরীরে সাইকেল লাগিয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে আলিফের পরিবারের সাথে বাগ্বিতণ্ডা হয় লিলি বেগমের। একপর্যায়ে লিলি বেগমকে মারধর করে জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী লিমা বেগম।

    মারধরে বাঁশের একাধিক আঘাতে ও ইটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন লিলি বেগম। স্থানীয়রা লিলি বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    প্রতিবেশীরা বলেন, লিলি বেগম ও তার সন্তানরা এলাকার নিরীহ মানুষ। জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলের সাইকেল চালনোর ঘটনায় তর্ক-বিতর্কের মধ্যে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে লিলি বেগমকে হত্যা করেছে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী। আমরা প্রতিবেশীরা চাই, জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিচার করা হোক।

    তারা আরো বলেন, লিলি বেগমের স্বামী মারা গেছে তিন সন্তান রেখে। মেয়ে দুইটার বিয়ের বয়স হয়েছে। একমাত্র ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। লিলি বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালাতো।

    এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে সৌরভি বলেন, আমার মা আমাদের লালন পালন করতেন। আমাদের এখন কী হবে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জাহাঙ্গীর আমাদের এতিম করে দিয়েছে।

    এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কুষ্টিয়ায় টিটির ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত

    কুষ্টিয়ায় টিটির ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত

    কুষ্টিয়ায় ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত করেছেন টিটি।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার পলাশীপাড়ার আব্দুর রহিম (৬০) ও তার ছেলে সুমন (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ট্রেনের যাত্রী রিয়াজ জানান, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে সুন্দরবন ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে একজন যাত্রী ট্রেনে নিজ বগিতে উঠতে না পেরে ‘খ’ বগিতে উঠতে গেলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় টিটি এবং ট্রেনের কর্মচারিদের সাথে বাকবিতন্ডার জেরে টিটি নিজেই দেশীয় ছুরি দিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনার সাথে সাথে ট্রেনটি স্টেশন থেকে কিছু এগিয়ে থেমে যায়।

    আহতদের স্বজন কাকলী নামের একজন জানান, তার বোন বেবি (৫০) ক্যান্সারে আক্রান্ত। কুষ্টিয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গা নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তারা আড়ুয়াপাড়া বাসা থেকে স্টেশনে এসে ট্রেনে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তার বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনা। স্টেশন পৌঁছানোর সাথে সাথে ট্রেন ছেড়ে দেয়ায় তাড়াতাড়ি করে তার ভগ্নিপতি ও তার ছেলে অসুস্থ বোনকে ‘খ’ বগিতে উঠাতে গেলে টিটির সাথে বাকবিতন্ডা হয়। ট্রেনটি পোড়াদহের উদ্দেশে ছেড়ে দিলে ট্রেনের টিটি একটি ধারালো ছুরি দিয়ে প্রথমে তার ভগ্নিপতিকে আঘাত করে। এ সময় ছেলে সুমন এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদের পেট ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রীরা ট্রেনের শিকল টেনে ট্রেন থামালে ঘটনাস্থলে থেকে টিটি এবং ট্রেনের অন্য স্টাফরা গা ঢাকা দেন।

    খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে আহতদের দু’জন স্বজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    পরে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেনটি ২টা ১৪মিনিটের দিকে কোর্ট স্টেশন ছেড়ে পোড়াদহে অভিমুখে যায়।

    ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খবর শুনেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ট্রেনের দুই হাজার যাত্রীর কথা বিবেচনা করে দোষীদের পরে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রেনটি ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

    ওসি কবির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করেই ট্রেনের স্টাফদের সাথে এই ঘটনা। শুনেছি টিটি নিজেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে যাত্রীদের জখম করেছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’

    কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি বেগম জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৭২৬ ডাউন সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন ৫২ মিনিট বিলম্বে ১২টা ২২মিনিটে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছে যাত্রী নামিয়ে ছাড়ার মুহূর্তে আবার ট্রেন থেমে যায়। পরে জানা গেল যাত্রীর সাথে ট্রেনের স্টাফদের সাথে বাকবিতন্ডায় ট্রেনের মধ্যেই টিটি কর্তৃক ছুরিকাঘাত করার ঘটনার জেরে ট্রেনটি স্টেশনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছে। প্রশাসনের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা শেষে ট্রেনটি ২টা ১৪মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

  • উজিরপুরে বাসে পিষ্টে অটোর চালক নিহত

    উজিরপুরে বাসে পিষ্টে অটোর চালক নিহত

    বরিশালের উজিরপুরে বেপরোয়া গতির বিএমএফ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দ্বিখণ্ডিত হয়ে মোসারফ বালি (৬১) নামে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জয়শ্রী এলাকার সাজু পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিকশাচালক মোসারফ বালি উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মহাসড়ক দিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মোসারফ বালি। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বিএমএফ পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটি দুই দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এবং বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রিকশাচালক মোসারফ।

    গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহসীন হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে।

  • প্রতারকের খপ্পরে ভ্যান হারানো শাহাদৎ পেল নতুন ভ্যান ও আর্থিক সহায়তা

    প্রতারকের খপ্পরে ভ্যান হারানো শাহাদৎ পেল নতুন ভ্যান ও আর্থিক সহায়তা

    নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবেশী প্রতারকের খপ্পরে একমাত্র সম্বল ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া পিতৃহীন কিশোর শাহাদৎ হোসেন (১৪) পেয়েছে দু’টি ব্যাটারিচালিত ভ্যানসহ মোট আট লাখ ৩৪ হাজার টাকার সহায়তা।

    তার অসহায়ত্বের খবর নয়া দিগন্তের অনলাইন সংস্করণসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রচার হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কান্নার ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

    তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মানবতার ফেরিওয়ালা বলে পরিচিত মামুন বিশ্বাস। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পর দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকা সহায়তা দেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে মামুন বিশ্বাস নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শালাইনগর গ্রামে গিয়ে শাহাদৎ হোসেনের ও তার মায়ের কাছে নতুন একটি ভ্যান, খাদ্যসামগ্রী, নতুন পোশাক ও নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা পরিষদ চত্বরে শাহাদতের হাতে নতুন আরেকটি ভ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন শহরের সমাজসেবী রেন্টু মৃধা। সেইসাথে আমির হোসেন নামে এক প্রবাসী তাকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেন।

    এছাড়া বড়াইগ্রাম ও বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহাদতের পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে থাকা অসংখ্য দানশীল ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠান।

    নতুন ভ্যান ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহাদৎ বলেন, ‘ভ্যানটি হারানোর পর মনে হয়েছিল আমার সব শেষ। মা আর দুই ভাই-বোনকে নিয়ে কিভাবে চলব, ঋণের কিস্তি কিভাবে দেবো, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এত মানুষ আমার পাশে দাঁড়াবেন, তা কখনো কল্পনাও করিনি। যারা আমার এই দুঃসময়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন তাদের সবার ভালো করেন।’

    শাহাদাতের মা জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, ‘এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তার মধ্যে ৮০ হাজার টাকায় ছেলেটাকে ভ্যান কিনে দিয়েছিলাম। ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই প্রতি মাসে নয় হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। ছোট্ট বয়সেও সংসারের চাপে ছেলেটাকে এই কঠিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। টাকা-পয়সার অভাবে ছেলেটাকে পড়ালেখা করাতে পারিনি। সবাই যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এভাবে পাশে থাকলে ছেলেটা পড়াশোনা করতে পারবে, আর ভ্যান চালাতে হবে না।’ টাকা দিয়ে একটি দোকান করবেন বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌর শহরে যাত্রীবেশী দুই প্রতারক কৌশলে শাহাদতের ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। তার ভ্যান হারানোর খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেশ ও দেশের বাইরে থাকা অজস্র মানুষ তার পাশে দাঁড়ালে সব মিলিয়ে সহযোগিতার পরিমাণ দাঁড়ায় আট লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় নতুন ভ্যান পেয়ে আবারো জীবিকা নির্বাহের নতুন আশা ফিরে পেল কিশোর শাহাদৎ তার পরিবার।

  • মাদারগঞ্জে নাস্তা খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অচেতন

    মাদারগঞ্জে নাস্তা খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অচেতন

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে সকালের নাস্তা খেয়ে এক প্রবাসীর পরিবারের পাঁচ সদস্য অচেতন হয়ে পড়েছেন। অচেতন ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চরনাংলা গ্রামের প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪০), ছেলে রিপন ইসলাম (২৩) ও রিমন (১৭), মেয়ে সাথী আক্তার এবং তিন বছরের নাতনি হুমাইরা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের সবাইকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাঁধের মাথা বাজারে প্রবাসী শাহ আলমের বড় ছেলে রিপন ইসলামের একটি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও দোকান খোলার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান বন্ধ দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। রাত ৯টার দিকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

    পরে জ্ঞান ফিরলে রিনা আক্তার বলেন, সকালে খাবার ও টিউবওয়েলের পানি পানের পর থেকেই সবার মাথা ব্যথাসহ গভীর ঘুম আসে। এরপর কী হয়েছিল বলতে পারি না।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা: জাকিয়া জানান, বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার বা পানির সাথে চেতনানাশক কিছু মেশানো ছিল।

    এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ এলাকায় বাঁশের মাচা থেকে সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সামিরুল শাহ উপজেলার তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চা বিক্রির পাশাপাশি ধর্মদহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে একটি মাঠের বাঁশের মাচার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি মাঠ থেকে হাসেম আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সার দিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উসমানপুর বিশ্বাসপাড়া এলাকার কাটাখালী মাঠ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসেম আলী উসমানপুর বিশ্বাসপাড়ার মৃত রস্তম মণ্ডলের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কৃষিজমিতে সার দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন হাসেম আলী। রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী মাঠে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কেন সরব হলেন আলিয়া ভাট?

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কেন সরব হলেন আলিয়া ভাট?

    শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলতে শুরু করেছেন বলিউডের একাধিক তারকা। নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন তারকাদের নীরবতা নিয়ে সমালোচনা চললেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর কয়েকজন অভিনেতা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে শিক্ষার্থীদের সংকট নিয়ে কথা বলেন সালমান খান। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন গত ২০ জুলাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আলিয়া ভাট বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তবে একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থান তাকে আশাবাদীও করেছে।

    অভিনেত্রীর ভাষায়, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষার দাবি বা ব্যক্তিগত সমস্যাকে কেন্দ্র করে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ, পরিবারের স্বপ্ন এবং দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম। তার মতে, আন্দোলনকারীরা নিজেদের অধিকারের পাশাপাশি একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

    শিক্ষার্থীদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে আলিয়া আরও বলেন, তাদের অটল অবস্থান সমাজের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছে। যাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার কথা, তাদের কথা কি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    শেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ভবিষ্যত তাদেরই। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের প্রতি আলিয়া ভাটের প্রকাশ্য সমর্থনকে অনেকেই তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন।

  • স্টার সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আন্তর্জাতিক সিনেমা

    স্টার সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আন্তর্জাতিক সিনেমা

    সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এই সপ্তাহান্তে থাকছে একসঙ্গে চারটি ভিন্নধর্মী আন্তর্জাতিক ছবি। শুক্রবার থেকে ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাবে হরর, মনস্তাত্ত্বিক সাসপেন্স, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর অ্যানিমেশন ও কনসার্ট চলচ্চিত্র চার ঘরানার চার সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে ‘এভিল ডেড বার্ন’, ‘প্যাসেঞ্জার’, ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’ এবং বিলি আইলিশ অভিনীত কনসার্ট চলচ্চিত্র ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর’।

    একই দিনে এত ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শকদের সামনে পছন্দের সুযোগও তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি। যারা ভৌতিক অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য রয়েছে ‘এভিল ডেড বার্ন’। রহস্য ও সাসপেন্স পছন্দ করা দর্শকদের জন্য ‘প্যাসেঞ্জার’। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে চাইলে বেছে নেওয়া যেতে পারে অ্যানিমেশন ছবি ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’। আর বিলি আইলিশের ভক্তদের জন্য রয়েছে বিশেষ কনসার্ট অভিজ্ঞতা।

    ‘এভিল ডেড বার্ন’: ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন

    জনপ্রিয় ‘এভিল ডেড’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন ছবি ‘এভিল ডেড বার্ন’ পরিচালনা করেছেন সেবাস্তিয়ান ভানিচেক। ছবির সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন স্যাম রাইমি ও রব ট্যাপার্ট। গল্পে দেখা যায়, স্বামীকে হারানোর পর এক তরুণী আশ্রয়ের সন্ধানে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি প্রত্যন্ত বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের আবহ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। রহস্যময় ও অভিশপ্ত ‘বুক অব দ্য ডেড’ সক্রিয় হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরা একে একে ভয়ংকর শক্তির প্রভাবে বদলে যেতে থাকেন।সুহেইলা ইয়াকুব, হান্টার ডুহান ও লুসিয়ান বুকানন অভিনীত ছবিটিতে রক্তাক্ত দৃশ্য, অন্ধকার পরিবেশ ও ভৌতিক আতঙ্কের সমন্বয় দেখা যাবে।

    ‘প্যাসেঞ্জার’: গাড়ির ভেতরেই শুরু অশুভ আতঙ্ক

    আন্দ্রে ওভ্রেডাল পরিচালিত ‘প্যাসেঞ্জার’ এক তরুণ দম্পতির গল্প। দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকতে তারা ভ্যান নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন। কিন্তু পথেই ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যা তাদের পুরো যাত্রাকে বদলে দেয়। একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর তারা আহত এক ব্যক্তিকে সাহায্য করেন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মনে হতে থাকে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে শুধু ওই মানুষটিকেই তারা সঙ্গে আনেননি তাদের গাড়িতে যেন আরও কিছু উঠে এসেছে। অদৃশ্য সেই অশুভ উপস্থিতিকে ঘিরেই শুরু হয় আতঙ্ক, সন্দেহ ও বাঁচার লড়াই। ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাকব সিপিও, লু লোবেল ও মেলিসা লিও।

    ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’: ইতিহাস বাঁচানোর অভিযানে চার শিক্ষার্থী

    শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের সবার জন্য উপযোগী অ্যানিমেশন ছবি ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’। গল্পের শুরু ভবিষ্যতের ২০৫০ সালে। চার মেধাবী শিক্ষার্থী একটি সময়ভ্রমণ যন্ত্রের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে যায় অতীতের ৮২৫ খ্রিষ্টাব্দের বাগদাদে।

    সেখানে তারা জানতে পারে, এক দুষ্ট রসায়নবিদ সময়ভ্রমণের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইতিহাস থেকে বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলো মুছে ফেলার পরিকল্পনা করছে। এরপর চার শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে পড়তে হয় এক রোমাঞ্চকর অভিযানে। মানবসভ্যতার জ্ঞান ও ইতিহাস রক্ষাই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    বিলি আইলিশের কনসার্ট এবার বড় পর্দায়

    বিলি আইলিশের ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর’। এটি প্রচলিত অর্থে শুধু একটি কনসার্ট রেকর্ডিং নয়। ছবিটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে জেমস ক্যামেরনের ত্রিমাত্রিক ধারণপ্রযুক্তি।

    চলচ্চিত্রটিতে বিলি আইলিশের বিশ্বভ্রমণ কনসার্টের ম্যানচেস্টার পর্বের পরিবেশনা তুলে ধরা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ও ডলবি সাউন্ডের কারণে দর্শকেরা বড় পর্দায় কনসার্টের আবহ আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন। ছবিতে থাকছে ‘বার্ডস অব আ ফেদার’ ও ‘লাঞ্চ’-এর মতো জনপ্রিয় গানও। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া বিভাগের প্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নতুন সিনেমা বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা সব সময়ই থাকে তাদের। একই দিনে চার ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শকেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। হরর, রহস্য, অ্যানিমেশন কিংবা সংগীত এই চার ভিন্ন স্বাদের ছবির মধ্যে শুক্রবার বড় পরয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের গান শোনাবেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

  • মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৩টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

    আটকরা হলেন- খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গুচ্ছবিল এলাকার মরহুম আলাল হোসেনের ছেলে মো: মামুন হোসেন প্রকাশ ইমন (৩৭) ও একই উপজেলার গবমারা এলাকার পরলোকগত আচই মারমার ছেলে ঞোলাপ্রু মারমা (২৭)।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ ধুমঘাট বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি, করেরহাট রেঞ্জের সহযোগী স্টেশন কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তাদের সাথে থাকা ব্যাগে তল্লাশি করে দু‘টি জীবিত তক্ষক উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল হালিম বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

  • ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

    ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

    ফেনীর পরশুরামে একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারহানা আক্তার প্রিয়া (১৬) নামে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা গেট-সংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয়তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত প্রিয়া নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলাম ও ফারজানা আক্তারের মেয়ে। পারিবারিক সমস্যার কারণে প্রায় তিন বছর আগে পরশুরামে একটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে শুরু করে প্রিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান জাহেদা আক্তার তিমু। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় প্রিয়ার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ধাতব ‘লাভ’ আকৃতির বস্তু এবং ডায়েরির একটি পাতায় ইংরেজি অক্ষরে ‘কে+পি’ লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আলামতের সাথে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

    গৃহকর্ত্রী জাহেদা আক্তার তিমু বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে প্রিয়াকে ভাত রান্না করে খেয়ে নিতে বলেছিলাম। তাকে আমি নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখতাম।

    পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অবৈধভাবে সম্প্রচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যৌথ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, কপিরাইট লঙ্ঘন ও ডিজিটাল পাইরেসির বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পরিচালিত হয়।

    ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি ডোমেইন বন্ধ করা হয়েছে। একই সংখ্যক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে কলম্বিয়ায়। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিল ও ডোমিনিকান রিপাবলিকেও আরও ৮৩০টি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অপারেশন অফসাইডস’ এবং ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ অংশ নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনআইপিআরসিসি) পরিচালক ইভান জে. আরভেলো বলেন, অনুমতি ছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার শুধু মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি অপরাধী চক্রগুলোকেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে।

    ডিওজে জানায়, গত মাসের শেষ পর্যন্ত অবৈধ বিশ্বকাপ স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০০টি ওয়েবপেজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী অভিযানে আরও শত শত ওয়েবসাইট ও ডোমেইন বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে।

    ডিওজের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, ‘বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারে ব্যবহৃত এক হাজারেরও বেশি ডোমেইন জব্দ করা প্রমাণ করে যে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (এসিই)-এর চেয়ারম্যান চার্লস রিভকিন বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক সরাসরি সম্প্রচারিত আসরকে লক্ষ্য করে পাইরেসি নেটওয়ার্কগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    অভিযানে ফিফা, বিআইএন মিডিয়া গ্রুপ, এনবিসি ইউনিভার্সাল, আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সও সহযোগিতা করেছে। সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি থেকেই ফিফার আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

    কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযানের সময় ‘লস সিবেরইনফিলত্রাদোস’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রবেশাধিকার অর্জন ও তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়া অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি কলম্বিয়ায় জাল ক্রীড়া পোশাকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তল্লাশি ও জব্দ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিওজে জানিয়েছে, নকল ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ও বিতরণের অভিযোগে দেশটিতে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ স্ট্রিমিং ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পের মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

  • বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন কিংবা রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক যুগের অবসানের সাক্ষীও হয়ে থাকবে এই আসর। বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিলের নেইমার, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওতামেন্দি, মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শিরোপা ও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকারা নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন।

    ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ২০১৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত অভিষেকের পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার খেলার সুযোগ সীমিত ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের ম্যাচে মাত্র ৫৫ মিনিট খেলেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘সবকিছুর শুরু হয়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাকে ‘অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার’ বলে অভিহিত করে বলেন, তার বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য দুঃখের মুহূর্ত।

    জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন। ইউরো ২০২৪-এর পর অবসর নিলেও এবারের বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলে দলে ফেরেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর ২৩তম ও শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। পরে নয়্যার বলেন, ‘শেষটা তিক্ত হলেও ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’

    চেক প্রজাতন্ত্রের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেললেও দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’ চেক ফুটবল ফেডারেশন তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

    মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া, যিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন, এবারের আসরে সীমিত সময় খেললেও শেষ ম্যাচে সতীর্থদের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পান। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোর হয়ে খেলতে পারা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

    আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করলেও শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নেয় আলজেরিয়া। অবসরের ঘোষণা দিয়ে মাহরেজ বলেন, ‘নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল।’

    ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছয় গোল করলেও এবারের আসরে আর গোলের দেখা পাননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে বিদায়ের পর তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশন তাকে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দিও বিশ্বকাপের আগেই জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ আসর। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বেশিরভাগ ম্যাচ খেললেও এবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপর থেকে আমি শুধু একজন সমর্থক।’

    অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মার্কো আরনাউটোভিচ নিজের প্রথম ও শেষ বিশ্বকাপেই দুটি গোল করেন। স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়ার হয়ে খেলাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন থেকে দ্বিতীয় পরিবারের সঙ্গে আর দেখা হবে না এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’

    সেনেগালের তারকা সাদিও মানে ২০১৮ বিশ্বকাপে খেললেও চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে তার অবসরের খবর প্রকাশ পেলেও সেটির সত্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তবুও সেনেগাল ফুটবল মহলে তার অবদানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে।

    স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের ফুটবল থেকেই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

    আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার জ্যঁ মিশেল সেরি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অবসরের ঘোষণা দিলে সতীর্থ ও অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসিয়েসহ অনেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    বিশ্বকাপ শেষে একসঙ্গে এতগুলো অভিজ্ঞ ফুটবলারের বিদায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেও, নেইমার, নয়্যার, ওচোয়া কিংবা ওতামেন্দিদের স্মরণীয় অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জার্মানির দায়িত্বে ক্লপ

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জার্মানির দায়িত্বে ক্লপ

    ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে জার্মানি ফুটবল। ইউলিয়েন নাগেলসম্যানের বিদায়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৫৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত করেছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)।

    এবারের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপরই নাগেলসম্যানের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি বাতিল করে জার্মানি। এরপর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লপকে দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। আগামী ১৫ই আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন সাবেক লিভারপুল মাস্টারমাইন্ড।

    জার্মান ফুটবলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি ক্লপ। চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিনি বলেন, ‘জাতীয় দল জার্মানদের যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, অন্য কিছু তা পারে না। আর এটাই এই কাজটিকে আমার কাছে এত বিশেষ করে তুলেছে। আমরা বিনয় এবং ধৈর্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব। এমন একটি দল তৈরি করবো, যারা একে অপরের জন্য লড়াই করবে এবং ফুটবলের আনন্দ ফিরিয়ে আনবে।’

    জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ নিশ্চিত করেন, শুরু থেকেই ক্লপ ছিলেন তাদের প্রথম পছন্দ। ক্লপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ইয়ুর্গেন ক্লপ আবেগ, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার রূপক। নাগেলসম্যানের পদত্যাগের পর কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি আমাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন।’

    এছাড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হান্স-জোয়াকিম ওয়াটজকে এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার কাছে ইয়ুর্গেন বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। খেলোয়াড়দের বিকাশ ঘটানো এবং পুরো জাতিকে একসূত্রে বাঁধার দারুণ দক্ষতা রয়েছে তার। আর ঠিক এই জিনিসটাই এখন জার্মান দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

    ক্লপের কোচিং স্টাফে সহকারী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন পেপিন লিন্ডার্স, পিটার ক্রাভিয়েৎস এবং সভেন বেন্ডার। এর আগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২টি জার্মান বুন্ডেসলিগা জেতান ক্লপ। পরের অধ্যায়ে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লীগ ও দীর্ঘ ৩০ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি।

    আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উয়েফা ন্যাশনস লীগের ম্যাচ দিয়ে জার্মানির ডাগআউটে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হতে যাচ্ছে ক্লপের।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু মারা গেছে। টাকার অঙ্কে এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া বন্যায় ১০ হাজার ৯৯১টি খামার। বন্যা-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা। এছাড়া কক্সবাজারে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা, বান্দরবানে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার, রাঙামাটিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার এবং খাগড়াছড়িতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পশু ও হাঁস-মুরগি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মাঠ পর্যায়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাতে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে।

    তথ্যমতে, গবাদিপশুর ৪ হাজার ৭৫৬টি খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা, হাঁস-মুরগির ৬ হাজার ২৩৫টি খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা, ৯১০ টন দানাদার খাবারে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড় ২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাস, যার মূল্য ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা। মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিতে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় মারা গেছে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস।

    এছাড়া পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০টি গরু, ৪ হাজার ৭৫৫টি মহিষ, এক লাখ ৬০ হাজার ৮৭টি ভেড়া, ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৮টি মুরগি এবং ৭০ হাজার ৩৭০টি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ পশু ও হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

  • ডিউটিতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ উদ্ধার করলেন পুলিশ বাবা

    ডিউটিতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ উদ্ধার করলেন পুলিশ বাবা

    কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ১০ বছরের ছেলে মোহাম্মদ তুহিনের লাশ উদ্ধার করতে হলো কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হককে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় তুহিন নিহত হয়।

    নিহত মোহাম্মদ তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শামসুল হক কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় গাড়িচালক পুলিশ সদস্য হিসেবে কর্মরত।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, সকালে জনতা স্কুল রোড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানার একটি টহলদল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। টহলদলের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শামসুল হক। ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধারের সময় তিনি জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তারই ছেলে তুহিন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিল তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন জানান, সকালে থানায় ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেয়া হয়। ফোনে জানানো হয়, সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে তখনও নিহত শিশুটির পরিচয় জানা যায়নি।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবুল কালাম ভূঞা জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ

    শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি।

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের তথ্য জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছি। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসসিনক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রধান করা হলো।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধানে, ইতোমধ্যেই আপনারা হয়তো জানেন, যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকার সাহেব, তিনিও যখন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেন, তখন বলা থাকে, যখন প্রয়োজন হবে কোনো কারণে স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে তখন ডেপুটি স্পিকার, স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল।’

    প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে।

  • ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। বিকেল পাঁচটায় এই সংবাদ সম্মেলন হবে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার সহকারী পরিচালকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলন জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    স্পিকার আজ শুক্রবার দুপুরে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন। গত ১৯ জুলাই তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে যান।

    দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন না করবেন, সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করবেন না করবেন, তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছে করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংসদীয় রীতি।’

    সফর সংক্ষিপ্ত করলেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমার ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে। আর গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই আমি দেশে ফিরে এসেছি।’

    রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ট্র্যাডিশনাল বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ, সেটি তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটাই সংসদের পজিশন।’

    ১৯ জুলাই স্পিকার ঢাকা থেকে ব্যাংককে যান চিকিৎসার জন্য। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তিনি দেশে ফিরলেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।

    কয় দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায়। তিনি আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন বলে বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

  • গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। স্পিকার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন

    আজ বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামের রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    রাষ্ট্রপতি আরও লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

  • রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

    সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

    আরও পড়ুন

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

    দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার। তবে দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

  • ‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’— পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি

    ‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’— পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি

    সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’

    পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’

    এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার।

    রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

    সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে।

    আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রবিবার তার ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতনামা দুইজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুইজন ট্রান্সজেন্ডারসহ মোট আটজনকে নদীপথে সাঁতার কেটে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে ওই ব্যক্তিরা নদীপথেই পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • ইরান-সৌদি ‘গোপন সমঝোতা’, নেপথ্যে পাক সেনাপ্রধান?

    ইরান-সৌদি ‘গোপন সমঝোতা’, নেপথ্যে পাক সেনাপ্রধান?

    সৌদি আরবকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে গোপনে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি-সদৃশ সমঝোতা করাতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল চাঞ্চল্যকর এক রিপোর্টে এমন দাবি করেছে।
    রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার বিনিময়ে ইরানের তেল গোপনে পাকিস্তানে রপ্তানির ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় গত মার্চের শেষ দিকে এই সমঝোতা হয়েছে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল।

    যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থতা
    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কর্মকর্তার বরাতে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, আসিম মুনির ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদির সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত একটি তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি সামনে এনে এই সমঝোতায় মধ্যস্থতা করেন।
    রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত বছরের শেষ দিক থেকে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নীরবে ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল পরিবহন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি দুই সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধের মধ্যেও তাদের জন্য বিপুল আর্থিক সুবিধা তৈরি করেছে।

    সমঝোতার পর সৌদির ওপর হামলা কমে যায়
    যুদ্ধের প্রথম মাসে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ বারবার ইরানের হামলার মুখে পড়ে। তবে সমঝোতা হওয়ার পর সৌদি আরবের ওপর হামলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ তথ্য দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকজন কর্মকর্তা।
    তবে প্রায় তিন মাস কোনো উল্লেখযোগ্য হামলা না হওয়ার পর গত সপ্তাহান্তে ইরান সৌদি আরবের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
    এরপর আসিম মুনির আইআরজিসি প্রধান আহমাদ বাহিদিকে সতর্কবার্তা পাঠান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মুনির জানান যে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এরপর থেকে সৌদির দিকে ইরানের আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।

    কেন সক্রিয় ছিল পাকিস্তান?
    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে- দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
    এ ছাড়া সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং রিয়াদকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তোলার আগ্রহও পাকিস্তানের ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ কারণেই আসিম মুনির এই মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

    সমালোচনার মুখে সমঝোতা
    মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক এই সমঝোচনার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কার্যত এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা চলমান যুদ্ধে হামলার লক্ষ্যবস্তু না হওয়ার বিনিময়ে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে যে অর্থ বা সুবিধা দাবি করছে, তাকে এক ধরনের “মুক্তিপণ” হিসেবে বৈধতা দিয়েছে।
    তবে গোপন এই সমঝোতার বিষয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

    পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

    পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।’

    তিনি লেখেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’

    পদত্যাগের কারণ নিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    সবশেষে তিনি লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল।’

    প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে।

  • জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয় : শফিকুর রহমান

    জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয় : শফিকুর রহমান

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়। আমরা মানুষ, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়। আমরা একটা কথা পরিষ্কার বলেছি, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের রুকন সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, আমরা দাবি করি না যে আমাদের কোনো ভুল হয় না। বরং আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই, আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। আমরা তা সংশোধনের চেষ্টা করব। নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত কোনো ছাড় দেয় না।

    দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সাদা কাপড়ে যেমন সামান্য দাগও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি একটি আদর্শিক দলের কর্মীদের সামান্য বিচ্যুতিও মানুষের নজরে আসে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কিন্তু অপরাধের মাত্রা গুরুতর হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও দল পিছপা হবে না।

    তিনি বলেন, শয়তান সবসময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই নেতাকর্মীদের সব বিষয়ে সৎ ও নৈতিক হতে হবে। নেতৃত্বের সততা নিশ্চিত হলে সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, প্রত্যেক যুগেই কিছু অপরাধপ্রবণ মানুষ ছিল। সে কারণেই যুগে যুগে নবী-রাসুলদের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা নিজেদের সংশোধনের চেষ্টা করি। তারপরও ধানের মধ্যে যেমন চিটা থাকতে পারে, তেমনি সমাজ বা সংগঠনের মধ্যেও ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

    দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণ-আন্দোলনের চেতনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রভাব ফেলছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে। জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়। একটি গণরায়ের ফল মেনে নিয়ে আরেকটি অস্বীকার করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    তিনি বলেন, যদি সংসদে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে জনগণ রাজপথেই সমাধান খুঁজে নেবে—যেমনটি ২০২৪ সালে হয়েছিল। একই সঙ্গে সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংবিধানকে অতিরিক্ত টানাটানি করবেন না। আমরা দেখতে চাই সরকার জনগণের রায়কে সম্মান জানায়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে খুন, সন্ত্রাস ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যদের বিষয়ে যতটা সক্রিয়, নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে ততটা মনোযোগী নন। তিনি যেন নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গুরুত্ব দেন এবং দেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করেন।

  • গার্দিওলার আগে আনচেলোত্তির শরণাপন্ন হয়েছিল ইতালি!

    গার্দিওলার আগে আনচেলোত্তির শরণাপন্ন হয়েছিল ইতালি!

    চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ফুটবলে এখন যেন চরম দুর্দিন! টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর ফাঁকা পড়ে আছে জাতীয় দলের কোচের পদ। তবে এই শূন্যস্থান পূরণে কোনো ছাড় দিতে নারাজ ইতালি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। পেপ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে তাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ও ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি।

    সম্প্রতি ইতালির নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং ক্লাব কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় দলের দায়িত্বে বিশ্বের সেরা কোচদেরই আনতে চান তারা। এসি মিলানের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার মালদিনি বলেন, ‘পেপের (গার্দিওলা) সঙ্গে কথা বলার আগে আমি কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের কাছে মনে হয়েছে বিশ্বের সেরা যাদের ভাবা হয়, তাদের দিয়েই শুরু করা উচিত। শুরুতেই তাদের সাধারণ আগ্রহ এবং তারা খালি আছেন কি না, সেটা যাচাই করে দেখা আমাদের দায়িত্ব ছিল।’
    অবশ্য ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন আনচেলোত্তি। ফলে এই স্বদেশি মাস্টারমাইন্ডকে পাওয়া ইতালির জন্য সম্ভব হচ্ছে না।
    অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটিতে সফল ১০ বছর কাটানোর পর দল ছাড়ায় পেপ গার্দিওলাকে কোচ করার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখছে ইতালি। যদিও গুঞ্জন ছিল স্প্যানিশ এই কোচ বছরে ২০ মিলিয়ন ইউরো পারিশ্রমিক দাবি করেছেন, যা ইতালির বাজেটের দ্বিগুণ। তবে মালদিনি এই তথ্যকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘পেপের ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয় বা পারিশ্রমিক মোটেও কোনো বাধা বা বড় বিষয় নয়।’

    গত এপ্রিলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ইতালি। এর পরপর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেনারো গাত্তুসো। বর্তমানে আনচেলোত্তি খালি না থাকায় গার্দিওলার পাশাপাশি সাবেক ইউরো বিজয়ী কোচ রবার্তো মানচিনি এবং ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যাজিশিয়ান আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও আলোচনায় রয়েছে। আগামী ২০৩২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে পুরো ইতালি ফুটবলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে ফেডারেশন।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন।

    আজ শুক্রবার২৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯৫০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭১৫ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জনে। এরই মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ১৫ হাজার ১৯৪ জন। মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

    পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনে ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়ে কথা বলবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরই মধ্যে সংসদে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রটোকল প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল।

    দুদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করা হয়নি। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। আজ দুপুরের দিকে নির্ধারিত সফরসূচির দুদিন আগেই দেশে ফেরেন তিনি।

  • দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

    দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

    অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের বিবেচনায় রয়েছে একবারে পুরো বেতন-ভাতা না বাড়িয়ে দুই ধাপে পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    বর্তমান বিধান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনার কথা থাকলেও গত এক দশকে নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ কারণে নতুন সরকারের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা। যদিও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিপুলসংখ্যক কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

    তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমান রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতিতে এই অর্থের সংস্থান কঠিন হওয়ায় ঘাটতি বাজেটের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

    এদিকে আইএমএফের আশঙ্কা, একসঙ্গে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ ফেলবে। পাশাপাশি প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না বাড়ায় দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে কমিশনের সুপারিশ এবং অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে একাধিক বৈঠক করেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আরও দুই থেকে তিনটি কারিগরি বৈঠকের পর কমিটি তাদের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

    যদিও গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবুও বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

  • সরকারি প্রাথমিকে আস্থা কমছে!

    সরকারি প্রাথমিকে আস্থা কমছে!

    • এক যুগে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যের বই, উপবৃত্তি, বেতনমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাসহ নানা সুবিধার পরও কমছে শিক্ষার্থী। শুধু রাজশাহী বিভাগেই গত এক যুগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমেছে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ওই সময়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই পরিবর্তন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

    প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের বিনিয়োগ প্রতি বছরই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যালয় পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যের পাঠ্যবই, উপবৃত্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাসহায়তা কার্যক্রমে।

    রাষ্ট্রের এই বিপুল বিনিয়োগের পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের। অবশ্য অভিভাবকদের বড় অংশের ভাষ্য, তারা এখন শুধু বিনামূল্যের শিক্ষা নয়; সন্তানের শেখার মান, নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা, শিক্ষক-অভিভাবক যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত নজরদারিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বাড়তি খরচ হলেও সন্তানকে পাঠাচ্ছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে রাজশাহী বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৯ হাজার ৭৫ জন। ২০২৬ সালে সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯২ জনে।

    অন্যদিকে একই সময়ে কিন্ডারগার্টেন ও অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেড়েছে। ২০১৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯৬৬ জন। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৩০ জনে।

    এদিকে সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের জনসংখ্যা ২ কোটি ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১১৬ জন। ২০১১ সালের জনশুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫৮ জন। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে বিভাগে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৬৮ হাজার।

    অভিভাবকদের দাবি, নিয়মিত ক্লাস, বাড়ির কাজ, পরীক্ষা, ইংরেজি শিক্ষা, শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সন্তানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে।

    রাজশাহীর শাহীন স্কুলে ছেলেকে পড়ান সাজু নামের এক অভিভাবক। তিনি বললেন, ‘সন্তানকে প্রাথমিকে পড়ানোর কথা চিন্তাই করতে পারি না। সেখানে আধুনিক শিক্ষার বালাই নেই। ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তোলাসহ একজন শিক্ষার্থীকে মানসম্মত পাঠদানের জন্য ভালোমানের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ানোর বিকল্প নেই।’

    সরেজমিনে রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। পবা উপজেলার কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ১০ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আশপাশে কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠার পর অনেক শিক্ষার্থী সরকারি বিদ্যালয় ছেড়ে সেখানে চলে গেছে।

    উপজেলার আকশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কমেছে শিক্ষার্থী। পাঁচ বছরের ব্যবধানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৫০ থেকে কমে প্রায় ৩৫০ জনে নেমে এসেছে। একই সময়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে গড়ে উঠেছে একাধিক কিন্ডারগার্টেন।

    তবে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার কারণ নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এর পেছনে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, অভিভাবকদের আর্থসামাজিক অবস্থা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তারসহ একাধিক বিষয় কাজ করতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক গবেষণা।

    প্রাথমিক শিক্ষার রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীর সংখ্যা কেন কমেছে, এটি এক কথায় বলা সম্ভব নয়। এটি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আকতার বানু বললেন, ‘অভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করেই বিদ্যালয় নির্বাচন করেন। যেখানে তারা বেশি আস্থা পান, সেখানেই সন্তানকে ভর্তি করেন। তাই সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।’