আল কোরআন আল্লাহর বাণী

  • রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে পড়া হল সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত, অর্থ কী

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে পড়া হল সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত, অর্থ কী

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআনের সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা সাইফুল কবির।

    আয়াতের অর্থ: হে নবী যারা তোমার হাতে বাইয়াত করছিলো প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর কাছেই বাইয়াত করছিলো। তাদের হাতের ওপর ছিল আল্লাহর হাত। যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার অশুভ পরিণাম তার নিজের ওপরেই বর্তাবে। আর যে আল্লাহর সাথে কৃত এ প্রতিশ্রুতি পালন করবে, আল্লাহ অচিরেই তাকে বড় পুরস্কার দান করবেন।

    রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে চারজন শপথ নিয়েছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

    শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

  • মালয়েশিয়ায় পুরোনো কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

    মালয়েশিয়ায় পুরোনো কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

    মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যে জীর্ণ ও পুরোনো পবিত্র কোরআনের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা এবং সম্মানজনকভাবে দাফনের জন্য পরিবেশবান্ধব বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য বোর্নিও পোস্ট জানায়, সম্প্রতি রাজ্যটির কর্মকর্তারা ১ হাজার ৮০২ কিলোগ্রাম কোরআনের ছাই ২১২টি বিশেষ ‘একিউ-০১’ জৈব-বিয়োজ্য কাগজের ব্যাগে ভরে কুচিং উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ চীন সাগরের নির্ধারিত স্থানে নিক্ষেপ করেন।

    সারাওয়াকের বিভিন্ন জীর্ণ কোরআন নিষ্পত্তি কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করে এসব ছাই প্রক্রিয়াজাত করার পর এই বিশেষ ব্যাগে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি ব্যাগের ওজন প্রায় সাড়ে আট কিলোগ্রাম এবং পানিতে ফেলার পর চার মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ডুবে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে বিলীন হয়ে যায়।

    সারাওয়াক ইসলামিক ধর্মীয় দপ্তরের (জেইস) কোরআন ইউনিটের প্রধান আব্দুল রহিম রশিদ জানান, জাতীয় ফতোয়া কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কোরআনের মর্যাদা রক্ষা করে ইসলামী বিধান অনুসরণ করেই এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, “সারাওয়াকের এই পদ্ধতি দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এটি ধর্মীয় ও পরিবেশগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    দক্ষিণ সারাওয়াকে এ ধরনের এটিই প্রথম বৃহৎ কর্মসূচি। এতে সারাওয়াক মুফতি দপ্তর, উপকূলীয় প্রহরী বাহিনী, নৌ-পুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর, নদী বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ এম

  • মক্কায় প্রদর্শিত ৪০০ বছরের পুরোনো কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    মক্কায় প্রদর্শিত ৪০০ বছরের পুরোনো কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ‘হলি কুরআন মিউজিয়ামে’ ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো পবিত্র কোরআনের একটি বিরল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ইসলামি সভ্যতার শিল্পকলা, ক্যালিগ্রাফি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে এটি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিটি হিজরি ১১শ শতাব্দীর বলে জানা গেছে। এতে সূক্ষ্ম সোনালি অলঙ্করণ, উজ্জ্বল রঙের নকশা এবং নিখুঁত ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে সে সময়ের ইসলামি শিল্পকলার উৎকর্ষ ফুটে উঠেছে।

    পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠা পুষ্পশোভিত নকশা ও কারুকার্যময় অলঙ্করণে সাজানো। বিশেষ করে সূরা আল-ফাতিহা সংবলিত সূচনাপর্বে জ্যামিতিক নকশা ও সোনালি কারুকাজের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।

    জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পাণ্ডুলিপি ইসলামি ক্যালিগ্রাফার ও অলঙ্করণ শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার সাক্ষ্য বহন করে। সেই সময়ের শিল্পীরা সুন্দর হস্তাক্ষর ও নান্দনিক অলঙ্করণের মাধ্যমে কোরআনের লিখনশৈলীকে এক অনন্য শিল্পরূপে উপস্থাপন করেছিলেন।

    মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত জাদুঘরটিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কোরআনের লিখন ও অলঙ্করণশৈলীর বিবর্তন তুলে ধরা হচ্ছে।

    প্রদর্শনী ঘুরে দর্শনার্থীরা ইসলামি পাণ্ডুলিপি শিল্পের বিকাশ, কোরআনের প্রতি মুসলমানদের গভীর শ্রদ্ধাবোধ এবং ইসলামি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা লাভ করছেন। আয়োজকদের মতে, কোরআন শুধু ধর্মীয় গ্রন্থই নয়, এটি বিশ্ব সংস্কৃতি ও শিল্পকলারও এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার উৎস।

    বর্তমানে শতবর্ষী এই মূল্যবান নিদর্শনটি জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের মনোযোগ কাড়ছে।

    সূত্র: গালফ নিউজ

  • কোরআনের বর্ণনায় যাদের ধ্বংস অনিবার্য

    কোরআনের বর্ণনায় যাদের ধ্বংস অনিবার্য

    ওয়াইল মানে দুর্ভোগ বা ধ্বংস। কেউ কেউ বলেন, ওয়াইল জাহান্নামের একটি উপত্যকার নাম।পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন শ্রেণির পাপীদের জন্য এই ‘ধ্বংস’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নে তাদের বিষয়ে বর্ণনা করা হলো :

    চরম মিথ্যাবাদী ও পাপাচারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপাচারীর জন্য।’ (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৭)

    আজ হোক, কাল হোক, মিথ্যাবাদীর পতন অনিবার্য।

    কাফিরদের জন্য ধ্বংস : পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘(তিনি) আল্লাহ, যাঁর জন্য আছে আসমান ও জমিনের সব কিছু।আর কাফিরদের জন্য আছে কঠিন শাস্তির দুর্ভোগ।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ২)

    আয়াতের মূল কথা হলো, যারা কোরআনের নিয়ামত অস্বীকার করে এবং অন্ধকারেই থাকতে পছন্দ করে, তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংস ও বিপর্যয়।

    (তাফসির ফাতহুল কাদির)

    সামনে ও পেছনে নিন্দাকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।’ (সুরা : আল-হুমাজাহ, আয়াত : ১)

    আয়াতে ‘হুমাজাহ’ ও ‘লুমাজাহ’ দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।বেশির ভাগ তাফসিরকারের মতে, হুমাজাহ এর অর্থ গিবত অর্থাৎ পশ্চাতে পরনিন্দা করা এবং লুমাজাহ অর্থ সামনাসামনি দোষারোপ করা ও মন্দ বলা। এ দুটি কাজই জঘন্য গুনাহ। (আদওয়াউল বায়ান)

    সম্পদ জমাকারী ও বারবার গণনাকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘(দুর্ভোগ তারও) যে ধন-সম্পদ জমা করে আর বারবার গণনা করে।’ (সুরা : হুমাজাহ, আয়াত : ২)

    আয়াতের অর্থ হলো যে সম্পদ জমা করে ও গুনে গুনে রাখে; গুছিয়ে গুছিয়ে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তার জন্য ধ্বংস। সাধারণভাবে মাল সঞ্চয় করে রাখা কোনো নিন্দনীয় কাজ নয়।নিন্দনীয় তখনই হয় যখন তার জাকাত দেওয়া না হয়, দান-খয়রাত এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ না করা হয়।

    সালাতে উদাসীন ও অমনোযোগী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন।’

    (সুরা : মাউন, আয়াত : ৪-৫)

    নামাজে অমনোযোগী বা উদাসীন বলে ওই সব লোককে বোঝানো হয়েছে, যারা মোটেই নামাজ পড়ে না অথবা প্রথম দিকে পড়ত, অতঃপর তাদের মধ্যে অলসতা এসে পড়েছে অথবা নামাজ যথাসময়ে আদায় করে না; বরং যখন মন চায় তখন পড়ে নেয় অথবা দেরি করে আদায় করতে অভ্যাসী হয় অথবা বিনয়-নম্রতার (ও একাগ্রতার) সঙ্গে নামাজ পড়ে না ইত্যাদি। এসব ত্রুটি ওই অর্থের শামিল। অতএব, নামাজের ব্যাপারে এসব আচরণ থেকে বাঁচা প্রয়োজন।

    লোক-দেখানো আমলকারী ও ক্ষুদ্র গৃহসামগ্রী দানে অনীহা প্রকাশকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘(ধ্বংস তাদের জন্যও) যারা লোক-দেখানোর জন্য তা (সালাদ আদায়) করে এবং প্রয়োজনীয় গৃহসামগ্রী ছোটখাটো সাহায্য দানে বিরত থাকে।’ (সুরা : আল-মাউন, আয়াত : ৬-৭)

    মাউন ছোট ও সামান্য পরিমাণ জিনিসকে বলা হয়। এমন ধরনের জিনিস, যা লোকদের কোনো কাজে লাগে বা এর থেকে তারা ফায়দা অর্জন করতে পারে।

    সাধারণত প্রতিবেশীরা একজন আরেকজনের কাছে সাধারণ মানবতারূপে গণ্য হয়; যথা—কুড়াল, কোদাল অথবা রান্নাবান্নার পাত্র—এসবই মাউনের অন্তর্ভুক্ত। প্রয়োজনে এসব জিনিস প্রতিবেশীর কাছ থেকে চেয়ে নেওয়া দোষণীয় মনে করা হয় না। কেউ এগুলো দিতে অস্বীকৃত হলে তাকে বড় কৃপণ ও নীচ মনে করা হয়। কারো কারো মতে, আলোচ্য আয়াতে মাউন বলে জাকাত বোঝানো হয়েছে। জাকাতকে মাউন বলার কারণ সম্ভবত এই যে জাকাত পরিমাণে আসল অর্থের তুলনায় খুবই কম। অর্থাৎ ৪০ ভাগের এক ভাগ হয়ে থাকে।

    প্রতিদান দিবসকে অস্বীকারকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন ধ্বংস রয়েছে অস্বীকারকারীদের জন্য, যারা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করে।’

    (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ১০-১১)

    যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় : পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহর (পথ), আসমানসমূহ ও জমিনের সবকিছুই যার মালিকানায় এবং কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাবের দুর্ভোগ। যারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাত থেকে অধিক পছন্দ করে, আর আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং তাতে বক্রতার সন্ধান করে; তারা ঘোরতর ভ্রষ্টতায় আছে।’ (সুরা : ইব্রাহিম, আয়াত : ২-৩)

    মতভেদ তৈরি করা ও সত্য গোপন করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘এরপর তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ করল। কাজেই মহাদিবস প্রত্যক্ষকালে কাফিরদের ধ্বংস অনিবার্য।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৩৭)

    আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রটনাকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘বরং আমি মিথ্যার ওপর সত্য নিক্ষেপ করি; ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং নিমিষেই তা বিলুপ্ত হয়। আর তোমাদের জন্য আছে দুর্ভোগ, তোমরা যা বলছ (আল্লাহ সম্পর্কে) তার জন্য।’

    (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১৮)

    সৃষ্টিজগেক অনর্থক মনে করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আসমান, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যে যা আছে তা আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা, সুতরাং কাফিরদের জন্য আছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।’

    (সুরা : সোয়াদ/সদ, আয়াত : ২৭)

    আল্লাহর জিকির থেকে যাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেছে : পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষ খুলে দিয়েছেন, ফলে সে তার রবের পক্ষ থেকে নুরের ওপর আছে (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়?); অতএব, ধ্বংস সে লোকদের জন্য যাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেছে আল্লাহর স্মরণ থেকে। তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ২২)

    নিজ হাতে কিতাব লিখে আল্লাহর বাণী বলে দাবি করা : মহান আল্লাহ বলেন, “সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে। তারপর বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে তা তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করতে পারে। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার পরিণামে তাদের জন্য ধ্বংস, আর তারা যা উপার্জন করেছে তার কারণেও তাদের জন্য ধ্বংস।” (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৭৯)

    আল্লাহর সঙ্গে শিরককারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো, ‘আমি কেবল তোমাদের মতো একজন মানুষ। আমার কাছে ওহি পাঠানো হয় যে তোমাদের ইলাহ কেবলমাত্র এক ইলাহ। অতএব, তোমরা তাঁর পথে দৃঢ়ভাবে অটল থাকো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। আর মুশরিকদের জন্য ধ্বংস।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৬)

    পরিমাপে ও ওজনে কম দানকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা পরিমাপে কম দেয়।’

    (সুরা : আল-মুতাফফিফিন, আয়াত : ১)

    ইসলামে মাপ ও ওজনে কম দেওয়া হারাম করা হয়েছে এবং সঠিকভাবে ওজন ও পরিমাপ করার জন্য কড়া তাগিদ করা হয়েছে। তবে আয়াতে উল্লিখিত নিন্দা শুধু মাপ ও ওজনের মধ্যেই সীমিত থাকবে না; বরং মাপ ও ওজনের মাধ্যমে হোক, গণনার মাধ্যমে হোক অথবা অন্য কোনো পন্থায় প্রাপককে তার প্রাপ্য কম দিলে তা এই নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে হারাম হবে।

    এ এম

  • পবিত্র কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল ইরান

    পবিত্র কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল ইরান

    আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলার আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও অনুশীলনের জন্য দলটি মেক্সিকোতে অবস্থান করছে। যাত্রা শুরুর আগে দলটি তাদের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কোরআন শরীফে চুমু খেয়ে, তার নিচ দিয়ে হেঁটে গিয়ে যাত্রা শুরু করে।

    মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রার আগে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা পবিত্র কোরআনে চুম্বন দিচ্ছেন এবং কোরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ইরানি সংস্কৃতিতে এই রীতি দীর্ঘদিনের। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সফর বা অভিযানের আগে কোরআন চুম্বন ও তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করাকে আল্লাহর সুরক্ষা, দিকনির্দেশনা ও সফলতার আশীর্বাদ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, বিশ্বাস ও গর্বেরও বহিঃপ্রকাশ।

    যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। যার মূল কারণ ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সমস্যার কারণে ইরানকে তাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে স্থানান্তর করতে হয়, যা ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। এর আগে দলটি তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্টালিয়াতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল এবং সেখান থেকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে সরাসরি মেক্সিকোতে এসে পৌঁছায়।

    চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেছিলেন। খেলোয়াড়দের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেছিলেন এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ‘উপযুক্ত’ বলে তিনি মনে করেন না।

    তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরদিনই ইরানের জাতীয় দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ইরানকে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বাদ দেওয়ার বা ‘বর্জন করার ক্ষমতা কারো নেই’। সব বাধা পেরিয়ে ইরানি দল এখন মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

  • হাজিদের ৮০ ভাষায় কোরআন উপহার

    হাজিদের ৮০ ভাষায় কোরআন উপহার

    সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে হাজি এবং হজের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মীদের মাঝে পবিত্র কোরআন ও এর অনুবাদের কপি বিতরণ শুরু করেছে দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএর খবরে জানানো হয়েছে, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন লাউঞ্জগুলোতে পবিত্র কোরআনের এই কপি বিতরণের কাজ শুরু করা হয়েছে।

    বিদেশি হাজিরা নিজ নিজ দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে তাদের হাতে এই উপহার পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। মদিনার কিং ফাহদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সে মুদ্রিত মোট ১৯ লাখ কোরআনের কপি হাজিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

    হাজিরা যেন নিজ মাতৃভাষায় কোরআনের বাণী বুঝতে পারেন, সেজন্য ৮০টিরও বেশি ভাষার অনুবাদসহ কোরআনের কপি সরবরাহ করা হয়েছে।

    ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে দেশের সব বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে ২৪ ঘণ্টা এই কোরআন বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকবে।

    সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী শেখ আব্দুল লতিফ আল শেখ বলেন, এই উপহার বিশ্বজুড়ে পবিত্র কোরআনের বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের নেতৃত্বের আন্তরিক প্রয়াসেরই বহিঃপ্রকাশ।

    এদিকে সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদপ্তর পাসপোর্টস নিশ্চিত করেছে যে, হজ পরবর্তী সময়ে হাজিদের নির্বিঘ্নে নিজ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেশের সব স্থল, আকাশ ও সমুদ্রবন্দরে পূর্ণ প্রস্তুতি এবং উচ্চ সক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটি সব আন্তর্জাতিক হাজির প্রতি তাদের নির্ধারিত ভ্রমণ সূচি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজে অংশ নেওয়া মোট হাজির সংখ্যা ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩১০ জনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২.০৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বিভিন্ন পথ দিয়ে সৌদি আরবে এসেছেন ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জন বিদেশি হাজি। অন্যদিকে সৌদি আরবের নাগরিক ও বাসিন্দা মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ হাজির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।

    এ এম

  • ১১ মাসে কোরআনের হাফেজ নাঙ্গলকোটের দশ বছরের শিশু মুনতাসির

    ১১ মাসে কোরআনের হাফেজ নাঙ্গলকোটের দশ বছরের শিশু মুনতাসির

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মাত্র ১১ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আবদুল্লাহ আল মুনতাসির নামে দশ বছর বয়সী এক শিশু। এ বয়সে অনেকেরই ত্রিশ পারা কোরআন মুখস্থ করা অসম্ভব হলেও মুনতাসিরের পক্ষে তা সম্ভব হয়েছে।

    এতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে ফুলের মালা ও পাগড়ি পরিয়ে দেয়। এছাড়াও তার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারি ফয়সাল মাহমুদকে পুরস্কৃত করা হয়।

    শিশু হাফেজ আবদুল্লাহ আল মুনতাসির উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের পিপড্ডা গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী মুহাম্মদ খুরশীদ আলমের ছেলে। খুরশীদ আলমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মুনতাসির সবার ছোট।

    দেড় বছর আগে নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের চারিজানিয়া নেছারিয়া হামীদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নাজেরা শুরু করে মুনতাসির। ৭৫ জনের মধ্যে নাজেরা শেষ করে ১১ মাসে পুরো ৩০ পারা কোরআন শরিফ মুখস্থ করে হাফেজ হয় সে।

    শিশু হাফেজ আবদুল্লাহ আল মুনতাসির জানায়, বিশ্ব বিখ্যাত আলেম হয়ে ইসলামের খেদমত করা, মা-বাবা ও প্রিয় শিক্ষকদের নাম যেন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এটা এখন তার স্বপ্ন। সবার কাছে দোয়া চায় এই শিশু হাফেজ।

    হাফেজ মুনতাসিরের মা কামরুজ্জাহান রুমি জানান, তার ছোট সন্তান আবদুল্লাহ আল মুনতাসির মাত্র ১১ মাসে ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছে। ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন সন্তানকে অনেক বড় আলেম বানানোর। তাই দেশবাসীসহ সবার কাছে দোয়া চান মা।

    চারিজানিয়া নেছারিয়া হামীদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারি ফয়সাল মাহমুদ কালবেলাকে বলেন, আবদুল্লাহ আল মুনতাসির কোরআনে হাফেজ হওয়ার পেছনে তার অনেক চেষ্টা ও মেহনত থাকায় হাফেজ হওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে শিক্ষকদেরও মেহনত রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কবুল করায় ১১ মাসে হাফেজ হতে পেরেছে মুনতাসির। সূত্রঃকালবেলা

  • যে গোনাহের কারণে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয় কোরআনে বর্ণিত সেই জাতিটি

    যে গোনাহের কারণে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয় কোরআনে বর্ণিত সেই জাতিটি

    শহিদুল ইসলাম কবির ইতিহাসের পাতা এবং কোরআনের আদ্যোপান্ত বিবরণে মানবজাতির সামনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বহু জাতির উত্থান-পতনের গল্প। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সঠিক পথের প্রতি আহ্বান করা এবং অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা। এমনই একটি জাতি হলো কওমে সামূদ, যাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভয়াবহ ভূমিকম্প ও প্রচণ্ড ধ্বনির মাধ্যমে ধ্বংস করেছিলেন। কওমে সামূদ ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী একটি জাতি। পাহাড় কেটে তারা ঘরবাড়ি নির্মাণ করত, উন্নত নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্যের জন্য তারা প্রসিদ্ধ ছিল। আল্লাহ তাদের কাছে হযরত সালেহ আ:-কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদে ডেকে আনলেন, অন্যায়-অবিচার পরিহার করতে বললেন এবং আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানালেন। কিন্তু এই জাতির অধিকাংশ মানুষ নবীর ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টো তাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দেয়।

    আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়—মিরাকল উষ্ট্রী। এটিকে কষ্ট দেয়া বা হত্যা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বিদ্রোহী সম্প্রদায় নবীর সতর্কতা অমান্য করে ওই উষ্ট্রীকে হত্যা করে। এটাই ছিল তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাজিল হওয়ার কারণ।

    পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ ভূমিকম্প (আর-রজফাহ) এবং আকাশবিদারী প্রচণ্ড ধ্বনি (আস-সাইহাহ)। মুহূর্তের মধ্যেই তারা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের বিলাসী জনপদ এক ভয়াল নিস্তব্ধতায় পরিণত হয়। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এ ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে—

    ‘অতঃপর তাদেরকে ভূমিকম্প গ্রাস করল; ফলে তারা তাদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।’ (সূরা আল আ’রাফ, আয়াত : ৭৮)

    ‘ভয়াবহ শব্দ তাদেরকে গ্রাস করল; তারা তাদের ঘরে মুখ থুবড়ে পড়ে রইল।’ (সূরা হুদ, আয়াত : ৬৭)

    কওমে সামূদের এই পরিণতি মানবইতিহাসে সতর্কবার্তা হিসেবে চিরস্মরণীয়। উন্নয়ন, শক্তি কিংবা সম্পদ কাউকে রক্ষা করতে পারে না, যদি ন্যায়-নীতি, সত্য এবং আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে যায়।আজকের পৃথিবীতেও ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ যত শক্তিশালীই হোক, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছার কাছে সে সর্বদাই অসহায়। কওমে সামূদের ঘটনা তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়; বরং মানুষের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা।

    সাম্প্রতিক সময়ে ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪টি ভূমিকম্পের ঘটনা আমাদেরকে সতর্ক করিয়ে দিয়েছে। তাই আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে মহান আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলতে হবে এবং রাসূলে কারীম সা:-এর দেখানো পথে বাকি জীবন পরিচালনা করতে আবারো অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। অতীতের গুনাহের থেকে পরিত্রাণ পেতে অধিক পরিমাণে তাওবা ইস্তেগফার পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

    লেখক : সম্পাদক, মাসিক মদীনার পয়গাম

  • কোরআন-হাদিসে ভুমিকম্প  সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

    কোরআন-হাদিসে ভুমিকম্প সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

    পৃথিবীতে প্রাকৃতিক যত দুর্যোগ রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে ভূমিকম্প। কারণ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও ভূমিক্ম্প এর ব্যতিক্রম। ভূমিকম্পের আগে কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। ফলে এতে ব্যাপক জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসলামিক দৃষ্টিতে ভূমিকম্প মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের সতর্কবার্তা। এমন দুর্ঘটনার সময় মানুষের উচিত মহান আল্লাহর কাছে অতি দ্রুত তাওবা করা। তার কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা। মহান আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা ও তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

    মানুষকে সতর্ক করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘জনপদের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আজাব (নিঝুম) রাত তাদের কাছে আসবে না, তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর হয়ে) থাকবে!’ (সুরা আরাফ: ৯৭)

    বান্দার অপরাধ ক্ষমা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা: ৩০)

    পবিত্র কোরআনে ভূমিকম্প বিষয়ে ‘যিলযাল’ এবং ‘দাক্কা’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘যিলযাল’ অর্থ হচ্ছে একটি বস্তুর নড়াচড়ায় আরেকটি বস্তু নড়ে ওঠা। ‘দাক্কা’ অর্থ হচ্ছে প্রচণ্ড কোনো শব্দ বা আওয়াজের কারণে কোনো কিছু নড়ে ওঠা বা ঝাঁকুনি খাওয়া।

    ভূমিকম্প সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের মুখোমুখি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, কখন সেটা হবে হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদপানের সয়লাব হবে।’ (তিরমিজি: ২২১২)

    অন্যত্র বলা হয়েছে, ভূমিকম্প হচ্ছে কিয়ামতের একটি অন্যতম আলামত। কিয়ামত যতই নিকটবর্তী হবে, ভূমিকম্পের পরিমাণ ততই বাড়তে থাকবে।

    ভূমিকম্পের বিভীষিকা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে মানব জাতি, তোমরা ভয় করো তোমাদের রবকে। নিশ্চয়ই কেয়ামত দিবসের ভূকম্পন হবে মারাত্মক ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, স্তন্যপায়ী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানের কথা ভুলে যাবে আর সব গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। মানুষকে মাতালের মতো দেখাবে, আসলে তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’ (সুরা হজ: ১-২)

    ভূমিকম্পের বেশকিছু কারণ সম্পর্কে জানা যায় হাদিসের মাধ্যমে। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যখন অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জিত হবে। কাউকে বিশ্বাস করে সম্পদ গচ্ছিত রাখলে তা আত্মসাৎ করা হবে। জাকাতকে মনে করা হবে জরিমানা হিসেবে। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া বিদ্যা অর্জন করা হবে। পুরুষ তার স্ত্রীর বাধ্যগত হয়ে মায়ের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবে। বন্ধুকে কাছে টেনে নিয়ে বাবাকে দূরে সরিয়ে দেবে। মসজিদে শোরগোল (কথাবার্তা) হবে। সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি সমাজের শাসক হবে। সে সময় তোমরা অপেক্ষা করো—রক্তিম বর্ণের ঝড়ের, ভূকম্পনের, ভূমিধসের, লিঙ্গ পরিবর্তন, পাথর বৃষ্টির এবং সুতো ছেঁড়া (তাসবিহ) দানার ন্যায় একটির পর একটি নিদর্শনগুলোর জন্য।’ (তিরমিজি: ১৪৪৭)

    তাই বলা যায়, বর্তমানে যেসব ভূমিকম্প হচ্ছে, তা মহান আল্লাহর পাঠানো সতর্কবার্তার নিদর্শনগুলোর একটি। এগুলো দিয়ে তিনি বান্দাদের সাবধান করেন। মূলত এগুলো মানুষের পাপ ও অপরাধের ফল। কেননা আল্লাহ অধিকাংশ জাতিকে ভূমিকম্পের গজব দিয়ে ধ্বংস করেছেন।