খালেদা জিয়ার শৈশব-কৈশোর কাটানো বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শোক ব্যানার

Mourning banner hangs at Dinajpur school where Khaleda Zia spent her youth

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

যে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে কেটেছে শৈশব ও কৈশোরের মধুময় দিনগুলো, স্কুলড্রেস পরে বই-খাতা হাতে নিয়ে যে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রতিদিন উচ্ছ্বাসে যাওয়া আসা করতেন খালেদা জিয়া, সেই দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এখন ঝুলছে ওই বিদ্যালয়ের সাবেক কৃতী ছাত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোক ব্যানার।

শোক ব্যানারে লেখা আছে- ‘দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক কৃতী শিক্ষার্থী তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত’।

দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ইয়াসমিন বলেন, দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ১৯৫৪ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে খালেদা জিয়া ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৬০ সালে এই বিদ্যালয় থেকেই তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। পরবর্তীতে ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি কলেজে (পূর্বের নাম সুরেন্দ্রনাথ কলেজ)।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক নাজমা ইয়াসমিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের গর্ব। আমরা গর্ব করে বলি-এই মহীয়সী নারী এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। তিনি প্রথম নারী হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এই দেশের তিনবার সফলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শুধু এই বিদ্যালয়ের নয়, দেশের গর্ব। দেশ একজন অভিভাবককে হারাল। এই সময়ে দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে তিনিসহ ওই স্কুলের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী সবাই শোকাহত বলে জানান তিনি। আজকে (বুধবার) সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও প্রায় সব শিক্ষক-শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে এসেছেন, শোক প্রকাশ করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার স্কুলে পড়াশোনাকালে বান্ধবী দিনাজপুর শহরের মিশন রোডের সুরেন্দ্রনাথ শীলের কন্যা ঊষারাণী শীল (৮০) বলেন, আমি এবং বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একসঙ্গে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা করেছি। স্কুলজীবন থেকেই খালেদা জিয়া একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার কোনো অহংকার ছিল না। তিনি স্কুলে সবার সঙ্গে হাসিখুশি মনে কথাবার্তা বলতেন এবং সবসময় হাসি-খুশি থাকতেন।

তিনি বলেন, সেই সময় দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সবচেয়ে সুন্দরী একজন স্কুলছাত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

এদিকে শুধু দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নয়, দিনাজপুরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শহরের দোকানপাটগুলোতে টাঙানো হয়েছে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ব্যানার, উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা। শুধুমাত্র ব্যানার টাঙিয়ে নয়, আন্তরিকভাবেই শোকে মুহ্যমান দিনাজপুরবাসী। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার দিনাজপুর শহরের প্রায় সব দোকানপাট দুপুর পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দ্বিতীয় দিনও বুধবার দিনাজপুর শহরের জেল রোডের জেলা বিএনপি কার্যালয় এবং শহরের বালুবাড়ীর বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ি তৈয়বা ভিলায় (বেগম খালেদা জিয়ার মাতা তৈয়বা মজুমদার) চলে কুরআনখানি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ