স্ত্রীকে ভালোবাসেন, সম্পর্কও ঠিক আছে। তবে রাতে একই বিছানায় ঘুমাতে চান না অনেক দম্পতি। এই প্রবণতার নাম ‘স্লিপ ডিভোর্স’। বিশ্বজুড়ে এমন প্রবণতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের (এএএসএম) ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৩১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ঘুমের সমস্যা এড়াতে কখনো না কখনো সঙ্গীর থেকে আলাদা বিছানায় বা অন্য ঘরে ঘুমিয়েছেন।
ঘুমবিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রেসমেডের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক জরিপে ১৩টি দেশের ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, ভারতের ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা জীবনে কখনো না কখনো সঙ্গীর থেকে আলাদা ঘুমিয়েছেন। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এই হার যথাক্রমে ৬৭ ও ৬৫ শতাংশ। এসব সংখ্যা নিয়মিত আলাদা ঘুমানোর হিসাব নয়, বরং এমন অভিজ্ঞতার কথা জানানো ব্যক্তিদের হার।
আলাদা ঘুমের সিদ্ধান্ত কেন
সঙ্গীর নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে বারবার নড়াচড়া, ভিন্ন সময়ে ঘুমাতে যাওয়া কিংবা ঘরের তাপমাত্রা নিয়ে পছন্দের পার্থক্য রাতের ঘুমে বাধা তৈরি করতে পারে। রেসমেডের জরিপেও সঙ্গীর নাক ডাকা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাকে ঘুমের ব্যাঘাতের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনেকের কাছে আলাদা ঘুমানো তাই বিলাসিতা নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক স্বস্তির উপায়
আলাদা ঘুমালে কি ভালোবাসা কমে
এমন ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্লিপ ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদা ঘুমানোর অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তিদের ৫৩ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাদের ঘুমের মান উন্নত হয়েছে। অর্থাৎ, সঙ্গীর থেকে আলাদা ঘুমিয়ে অনেকেই বেশি স্বস্তি পাচ্ছেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই আলাদা থাকতে চান। সঙ্গীর সান্নিধ্য মিস করা কিংবা একসঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাসের কারণে অনেকে আবার একই বিছানায় ফিরে আসেন।
স্লিপ রিসার্চ সোসাইটির প্রকাশিত এক পর্যালোচনায়ও বলা হয়েছে, একই বিছানায় ঘুমানোই যে ভালো দাম্পত্যের একমাত্র শর্ত, এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নির্ভর করে পারস্পরিক বোঝাপড়া, যোগাযোগ ও একে অপরের প্রতি যত্নের ওপর।
তাই আলাদা ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। একজনের ইচ্ছায় অন্যজনকে এমন সিদ্ধান্তে বাধ্য করলে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা ঘুমিয়েও দিনের অন্য সময়ে একসঙ্গে সময় কাটানো, কথা বলা ও ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা সম্ভব।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
