ক্যাটাগরি মানসিক স্বাস্থ্য

  • জ্ঞান ফিরেছে মেঘমল্লার বসুর

    জ্ঞান ফিরেছে মেঘমল্লার বসুর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুর জ্ঞান ফিরেছে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্যসচিব সজীব তানভীর এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই তরুণ রাজনীতিক এখন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন। জ্ঞান ফেরার পর তাকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে। মেঘমল্লারের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা তানভীর বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ১২টার পর মেঘমল্লারের জ্ঞান ফেরে। এরপর থেকেই তাকে আর কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। ’

    তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নিজে এবং এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমি, নাজিফা জান্নাত ও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায়, বাকি বিল্লাহ, শামীম আরা নীপা ও মনোয়ার নাঈম মেঘমল্লারের সঙ্গে কথা বলেছেন। ’

    চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তানভীর বলেন, ‘শারীরিক অবস্থার উন্নতি অব্যাহত থাকলে শনিবার সকালে মেঘমল্লারকে আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হলে শিগগিরই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তানভীর। ’

    এর আগে, সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার বন্ধুরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • আত্মহত্যার চেষ্টা, মেঘমল্লার বসু আইসিইউতে

    আত্মহত্যার চেষ্টা, মেঘমল্লার বসু আইসিইউতে

    ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত সোমবার রাতে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কেবিনে নেওয়া হয়েছিল। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    জানা গেছে, রাজনীতি, পারিবারিক বিষয়সহ নানা হতাশা থেকে মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই পোস্ট দেখেই তার খোঁজ শুরু করেন সহকর্মীরা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেঘমল্লারের ফেসবুক পোস্ট দেখে তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হয়। পরে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খোঁজ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেটের কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

    মেঘমল্লার বসু নিজের ফেসবুক সুইসাইড নোটে লিখেন, ‘জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শূন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হতো। একটা ২০২০ সালের গোড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে তখন সে ভুলে যায় শূন্যতাই তার নিয়তি।’

    তিনি আরো লেখেন, ‘আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মায়ের সঙ্গে। আমি জানি তার আর কেউ নেই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব! কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি আপনারা আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।’

    মেঘমল্লার লেখেন, আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হলো আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয়নি, যতটা তিনি দিয়েছেন। আমার গত অ্যাটেম্পটের পর সবাই ভেবেছে দোষ তার। তিনি একটি ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। অথচ বাস্তবতা হলো আমি তাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করিয়েছি, তাতে তার দশবার অ্যাটেম্পট করার কথা ছিল।

  • স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    তরুণদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডিজিটাল যোগাযোগ ও তথ্য প্রচারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণরা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় অনলাইনে কাটায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য প্রদান ও সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

    গত ১২ থেকে ১৪ আগস্ট তানজানিয়ায় তিন দিনের একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে দেশটির ১৩টি উচ্চ ও তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী সহপাঠী শিক্ষকরা অংশ নেন। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সঙ্গে বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে।

    প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় ও তরুণবান্ধব ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে অনলাইনে যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্লেষণী তথ্য ব্যবহার করে পাঠক ও দর্শকদের আগ্রহ বোঝার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    ইউনেস্কো জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে এসব সহপাঠী শিক্ষক নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে তরুণদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করবেন। তাদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা বাড়ানো এবং তরুণদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তরুণরা যেসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত ব্যবহার করে, সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুস্থতা বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে মাদকাসক্তি, বলছে গবেষণা

    ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে মাদকাসক্তি, বলছে গবেষণা

    বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণেই নয়, মদ ও কিছু মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে নতুন গবেষণায়।

    ওষুধ দুটি জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এসব ওষুধ শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন জিএলপি-১ হরমোনের কার্যকারিতা অনুকরণ করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া ধীর করা এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

    তবে বিজ্ঞানীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ওষুধগুলো মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’-এর ওপরও প্রভাব ফেলে কি না। এই সিস্টেমই ক্ষুধা, আনন্দ অনুভূতি এবং আসক্তিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    আসক্তি কমাতে সম্ভাবনা

    গবেষণায় দেখা গেছে, জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে অ্যালকোহল পান করেন। এছাড়া প্রাণীদের ওপর পরিচালিত প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এসব ওষুধ কোকেন, অ্যামফেটামিন, ওপিওয়েড ও নিকোটিনের মতো পদার্থের ব্যবহারও কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    গবেষকদের ধারণা, মস্তিষ্কের পুরস্কার ও প্রেরণাসংক্রান্ত স্নায়ুপথের সঙ্গে জিএলপি-১ ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়ার কারণেই এমন প্রভাব দেখা যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা মাদক গ্রহণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ তৈরি হয় মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের কারণে। এই ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠলে স্থূলতা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং মাদকাসক্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    তবে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, আসক্তি কমানোর ক্ষেত্রে জিএলপি-১ ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, বিশেষ করে মানুষের ক্ষেত্রে।

    গবেষকদের মতে, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির মতো ওষুধ ভবিষ্যতে মাদকাসক্তি বা পদার্থ-নির্ভরতার চিকিৎসায় ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বড় পরিসরের এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন।

    বর্তমানে এসব ওষুধ প্রধানত টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসার জন্যই অনুমোদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে।

  • ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত হয়েছে। ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে ঘাতক ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে (৩৮) আটক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ওই এলাকার মৃত রেবতি দাশ গুপ্তার ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও রাখা হয়েছিল।

    শনিবার সকালে মা-বাবাকে নিয়ে বাইরে যায়। পরে সকাল পৌনে ১২টার দিকে তারা বাড়িতে ফেরে।
    কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ছেলেটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে বাবা এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তখন স্থানীয়রা চিৎকার করে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার মা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর গুরুতর আহত বাবাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    দেশে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দেশের ৭টি জেলায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।

    সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭টি জেলা বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির শিকার। বন্যাকবলিত এই জেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

    নিহত ও আহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    অপরদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত মানুষদের জরুরি আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এরইমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

  • শাহবাগে ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    শাহবাগে ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার তিনটি ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার আনন্দবাজার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের সামনের সড়কের ফুটপাত থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, পৃথক তিন স্থানে তিন ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা থানায় খবর দেন। বেলা ১১টার দিকে দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর ও অপরজনের বয়স ৫৫ বছর।

    এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এই তিনজনই ভবঘুরে। তাঁদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ দুর্যোগে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব জেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া জেলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় এবং পাঁচ জন রোহিঙ্গা। নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

    চট্টগ্রামে বন্যায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ছয় জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি।

    এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০ জন, মৌলভীবাজারে ২৬ হাজার ৫৪৪ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে সাত জেলায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন অবস্থান করছেন। বান্দরবানের ২২০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

    এ ছাড়া মৌলভীবাজারের ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন এবং কক্সবাজারের ২৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি।

    সাত জেলায় বরাদ্দ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও চাল

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ির জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

    একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য সাধারণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করেছে মন্ত্রণালয়।

    চলছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৭১০ মেট্রিক টন চাল, ৬০ লাখ টাকা, ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    বান্দরবানে ৬৮ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২৩৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট রান্না করা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১১০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৪১৭ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।


    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

  • সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জমির উদ্দিন সরকারের কনিষ্ঠ পুত্র নওফেল জমির এক ফেসবুক পোস্টে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার রাতেই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন।

    জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন এবং ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    তার মৃত্যুর সংবাদে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এক শোক বার্তায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জানান।

    এদিকে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এক শোক বার্তায় চিফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এছাড়া আলাদা শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাবেক স্পকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

  • বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

    বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    শনিবার (১১ জুলাই) অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো: মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    এর আগে, ১০ জুলাই রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় বন্যাকবলিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা বজায় রাখতে, প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ সাত দফা বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবেন এবং তাদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করতে হবে।

    বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত সব উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিক্যাল টিম গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একইসাথে বন্যা মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

    এ লক্ষ্যে আগামী ১২ জুলাই বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম তুলে ধরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
    এছাড়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আক্রান্ত সব উপজেলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে সমন্বয় করার কথাও বলা হয়েছে।

    বন্যাকবলিত উপজেলা ও জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।