মানসিক স্বাস্থ্য

  • মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দিয়ে হাসপাতালে এসিল্যান্ড

    মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দিয়ে হাসপাতালে এসিল্যান্ড

    আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’—পরপর ফেসবুকে এমন দুটি পোস্ট দিয়েছেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে পোস্ট দুটি দেখে পুলিশসহ অনেকে তার বাসায় ছুটে যান। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে আরিফুর রহমানকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছেন। আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে বসবাস করেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘এসিল্যান্ড মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ। গতকাল রাতে উপজেলা সদরে যা ঘটেছে, তা সবাই দেখেছেন। ’

    ফেসবুক পোস্টে ইউএনওকে দায়ী করার কারণ জানতে চাইলে শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘এটা আমারও প্রশ্ন। আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। পোস্ট দেওয়ার ছয় মিনিট আগেও তিনি আমার বাসায় ছিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর কথা বলি, এরপর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো। ’

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউএনও জানান, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ছিল ইউএনওর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন। রাতে কেক কাটার আয়োজনে আরিফুর রহমান স্ত্রীসহ তার বাসায় উপস্থিত হন। সেখান থেকে বের হওয়ার পরই আরিফুর ফেসবুকে পোস্ট দুটি দেন। এরপর অনেকে তার বাসায় যান। পুলিশও সেখানে যায়। বাসায় গিয়ে তাকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকও সেখানে আসেন। ওষুধ দেওয়ার পরও তার আচরণ স্বাভাবিক হয়নি। পরে স্ত্রী তাকে সিলেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    ইউএনও আরও জানান, আরিফুরের স্ত্রীর কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, তার আগে থেকেই মানসিক সমস্যা রয়েছে। তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির মরদেহ দেখার পর থেকে আরিফুর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে তার স্ত্রী ইউএনওকে জানিয়েছেন।

    ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অবস্থায় গতকাল রাতে আরিফুর এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং তার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। রাস্তায় যাদের পেয়েছেন, তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।

    ফেসবুকে পোস্ট দেখে আরিফুরের বাসায় গিয়েছিলেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী। তিনি বলেন, ‘আরিফুরকে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে হয়েছে। তখন সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রীর কথামতো একটি ঘুমের ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়। তবে তাতে কাজ না হওয়ায় ইনজেকশন দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। সেটি না পাওয়ায় রাত ১টার দিকে তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। ’

    ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে আরিফুর রহমানের দাফতরিক মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি রাতেই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন ইউএনও শিল্পী রানী।

    শনিবার বিকালে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘এসিল্যান্ডের মুঠোফোন হ্যাক হয়েছে। এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আরিফুর রহমানের মুঠোফোন হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন জামালগঞ্জ থানার ওসি। ’

    এদিকে পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পেজ থেকে দাবি করা হয় এসিল্যান্ডের আইডি হ্যাক হয়েছে। তবে কোনও যাচাই-বাছাই না করে এমন পোস্ট দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়।

  • চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। পরে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কক্ষটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের এমন আচরণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    পরিদর্শনকালে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • সবুজ বাংলাদেশ গড়তে গ্রীন ভয়েসের উদ্যোগ

    সবুজ বাংলাদেশ গড়তে গ্রীন ভয়েসের উদ্যোগ

    বাংলাদেশের প্রথম ও সবচেয়ে বড় স্বাধীন স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী যুবসংগঠন হলো গ্রীন ভয়েস। এটি দেশের পরিবেশ রক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবতাবাদী কাজ করে থাকে। এই সংগঠনটি মূলত বাংলাদেশের জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলা, প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও বন উজাড় রোধ করতে এবং নদী-নালা, খাল-বিল, খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত রাখতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

    গ্রীন ভয়েসের যাত্রাপথ : সূচনা

    ২০০৫ সালে যখন বাংলাদেশে নির্বিচারে গাছ কাটা শুরু হয়, নদী-নালা, খাল-বিলে দূষণ হতে থাকে এবং অতিমাত্রায় প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বেড়ে যায়, তখনই একদল তরুণের জাগরণী ভূমিকা শুরু হয়। তারা পরিবেশ দূষণ, শব্দদূষণ ও পানিদূষণ নিয়ে সোচ্চার হতে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে ২০০৫ সালের ১৮ এপ্রিল শুরু করেন গ্রীন ভয়েসের পদযাত্রা। আর এই যাত্রাপথের নেতৃত্ব দেন পরিবেশ-সচেতন সংগঠক মো. আলমগীর কবির এবং তার কয়েকজন দূরদর্শী বন্ধু। ধীরে ধীরে সেই সংগঠন আজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও প্রথম সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

    গ্রীন ভয়েসের অঙ্গসংগঠন ‘বহ্নিশিখা’বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশ সংগঠন গ্রীন ভয়েসের অঙ্গসংগঠন হলো বহ্নিশিখা নারী ও শিশুবিষয়ক অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে দীর্ঘ পাঁচটি বছর। মেয়েদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, জ্ঞানগত ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের পথচলায় মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস উপলব্ধি করে সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য নারীদের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও অধিকার সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সুবাদেই ২০২০ সালে গঠিত হয় নারী ও শিশু অধিকার-বিষয়ক অঙ্গসংগঠন ‘বহ্নিশিখা’।

    বহ্নিশিখা : সাত কর্মপরিধিতে নারীর উন্নয়ন

    গ্রীন ভয়েসের অঙ্গসংগঠন বহ্নিশিখা সাতটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করেই কাজ করে যাচ্ছে। গ্রীন ভয়েস শুধু একজন নারীকে নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকেই পারদর্শী করছে না, বরং নারীকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী, প্রযুক্তিগত শিক্ষা, আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে আইনগত বিষয়ের ওপরও সচেতন করছে।

    আত্মনির্ভরশীলতা : একজন নারীকে নিজের ওপর নির্ভরশীল হতে হলে তাকে দক্ষ ও যোগ্য হতে হবে। আর এরই মাধ্যমে একজন নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। আর এই নির্ভরশীলতাই একজন নারীকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত করে তুলবে।

    সমাজবিদুষী : সমাজবিদুষী নারীর মূল লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীকে তাদের অধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নেওয়া। আর সেই অধিকার যথাযথভাবে তখনই পালিত হবে, যখন একজন নারী মনোবল, আত্মবিশ্বাস ও সাহসী হবেন। এর মাধ্যমেই একজন নারী প্রথাগত কুসংস্কার ও সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন অন্যায়ের মোকাবিলা করতে পারবেন।

    আলোকিত নারী : একটা সময় ছিল যখন নারীদের চারদেয়ালের মাঝে বন্দি করে রাখা হতো। কিন্তু সেই চারদেয়ালের বন্দি শেকল থেকে মুক্ত হয়ে বেগম রোকেয়া তার সৃজনশীলতা, অসীম সৎ সাহস, তীক্ষ্ণ জ্ঞান ও প্রখর বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আজ সমাজকে আলোকিত করেছেন। তেমনই এ যুগের নারীদেরও শিক্ষা, জ্ঞান, নেতৃত্বদান ও বুদ্ধি দিয়ে সমাজকে পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

    প্রযুক্তিপূর্ণতায় নারী : বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একজন নারীকে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলাই হলো প্রযুক্তিপূর্ণতায় নারী শাখার প্রধান কাজ। এর মাধ্যমে একজন নারী অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ অথবা অনলাইন আয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

    বলীয়ান নারী : নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাই হলো বলীয়ান নারী শাখার মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে একজন নারী আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে শক্তিশালী, সচেতন ও সাহসী হয়ে ওঠে, যা নারী ক্ষমতায়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। তাছাড়া এটি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে পাবলিক স্পিকিং, প্রেজেন্টেশন, ইভেন্ট পরিচালনা, টিম গাইড করা ছাড়াও অসংখ্য ক্ষেত্রে নারীকে আত্মবিশ্বাসী থাকতে সাহায্য করে।

    পরসেবায় নারী : একজন নারীর পাশে থেকে তাকে সাহস জোগানোই হচ্ছে পরসেবায় নারীর মূল লক্ষ্য। প্রয়োজনে নারীদের সঠিক দিকনির্দেশনা, মানসিক সাহস জোগানো এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অসহায় নারীর সেতুবন্ধ তৈরি করাও পরসেবায় নারী শাখার এক অন্যতম কাজ।

    ন্যায়পাল নারী : নারী ও শিশু অধিকার-বিষয়ক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সঠিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ন্যায়পাল নারী শাখার প্রধান কাজ ।

    প্রতিটি সৌন্দর্যে রয়েছে একেকটি জনপদের গল্প। একটি গাছ কাটলে শুধু একটি গাছ হারায় না, হারিয়ে যায় সেই গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া কত-শত জীবনের গল্প; একটি মাঠ হারালে হারিয়ে যায় একটি প্রজন্মের খেলার মাঠের শৈশব। তাই তরুণরাই যদি পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসে, তবেই এক সুন্দর পৃথিবী উপহার পাওয়া সম্ভব হবে।

    সর্বোপরি নদী ও গাছ বাঁচলেই কেবল টিকে থাকবে আমাদের প্রকৃতি, জনপদ আর জীবনের গল্প।

  • চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির ৩ বিজ্ঞানী

    চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির ৩ বিজ্ঞানী

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। বিজয়ীরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

    অন্যদিকে, গবেষণাগারে ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচটি কাজ করে।

    আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিটি বর্তমানে ‘অপটোজেনেটিকস’ নামে পরিচিত। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল অ্যাসেম্বলি বলে, অপটোজেনেটিকস এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে তা দেখা সম্ভব।

    এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পান কানাডার ফ্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস।

    ২০২৫ সালে যারা পেয়েছিলেন

    ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য গত বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও জাপানের শিমন সাকাগুচি।

    তখন নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, মানবদেহে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। তা না হলে এটি অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছে।

    মেরি ই ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার। ফ্রেড রামসডেল সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকস এর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক।

    কবে কোন পুরস্কার

    মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান ও বুধবার রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী শুক্রবার। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১২ অক্টোবর।

    পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

    মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

  • নিত্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে খাদ্যনিরাপত্তা

    নিত্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে খাদ্যনিরাপত্তা

    টুথপেস্ট থেকে রান্নার তেল, দুধ, চিনি কিংবা দেশি মাছ—নিত্যদিনের খাবার ও ব্যবহার্য পণ্যের সঙ্গে অজান্তেই মানবদেহে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। দেশের বিভিন্ন গবেষণায় মাছ, দুধ, তেল, চিনি ও টুথপেস্টে এসব অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে এসব কণার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। এ অবস্থায় খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি নিরূপণ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক গবেষণায় আড়িয়ল বিলের কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি—এই পাঁচ ধরনের দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। কই মাছে এর উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।

    সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শুধু সয়াবিন তেল থেকেই বছরে গড়ে ৬,৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছে, শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিইউপির যৌথ গবেষণায় খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৪৫ থেকে ৭০ হাজার এবং বোতলজাত তেলে ৪৪ থেকে ৫৪ হাজার কণা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান ড. শফি মুহাম্মদ তারেক এই মাত্রাকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    দুধেও মিলেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক। গবেষণায় প্যাকেটজাত দুধের প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬টি এবং কাঁচা দুধে প্রায় ৯৩টি কণা পাওয়া গেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমর ফারুকের গবেষণায় দুধে টেফলন, পিইটি, নাইলন-৬ ও পিভিসির মতো বিভিন্ন পলিমার শনাক্ত হয়েছে। ঢাকার সাত ধরনের চিনির নমুনা নিয়ে আরেক গবেষণায় ৯৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে ৪০৩টি কণা শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষকদের মতে, খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের প্রধান উৎস হলো প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও বস্তার সংস্পর্শ, কারখানার যন্ত্রাংশের ঘর্ষণ, প্লাস্টিকের গ্লাভস ও পরিবেশ দূষণ। বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৮,০০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার অর্ধেকের বেশি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা হয় না। এসব বর্জ্য ভেঙে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে।

    এর আগে ইএসডিওর গবেষণায় দেশের বাজারের ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। শিশুদের ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন, যেখানে স্বাস্থ্য-পরিবেশ-বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে বিবাদী করা হয়েছে।

    বিএসটিআই জানিয়েছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে সংস্থাটি বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    মানবদেহেও মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

    বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের রক্ত, হৃদযন্ত্রের ধমনী, পেশি ও মস্তিষ্কেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ ক্যাম্পেনের এক গবেষণায় ডিমেনশিয়ায় মৃত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আরেক গবেষণায় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রো-ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়; সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৩২ শতাংশ।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন, এই কণা রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে হৃদরোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, অন্ত্রে প্রদাহ ও হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং হরমোনের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।

    গত রোববার রাতে গবেষণা দলের প্রধান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহান আমার দেশকে বলেন, মাছের মাংসপেশিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগের কারণ।

    আরেক গবেষণায় ব্রহ্মপুত্র, চলনবিল, হাওড়াঞ্চল ও সমুদ্রের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, সবচেয়ে বেশি শুঁটকিতে। অধ্যাপক শাহজাহান জানান, সমুদ্রে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের দূষণ জমা হওয়ায় সেখানকার মাছেই এই মাত্রা তুলনামূলক বেশি।

    তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশের পর কী ধরনের ক্ষতি করছে, সে বিষয়ে দেশে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। তবে মাছের অন্ত্র ও মাংসপেশিতে প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা বা ফাইবারের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও জলজ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ (নাজিব ওয়াদুদ) আমার দেশকে বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতির মাত্রা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এ নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট গবেষণা বেশি হয়নি। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরের প্রায় সব তন্ত্র ও অঙ্গের ওপরই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

    তার মতে, এসব কণা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে কোষের ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে রক্তনালির ক্ষতি, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, হরমোনের ভারসাম্য ও কার্যকারিতা নষ্ট, পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি এবং স্নায়ুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া প্রজননক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

    সম্প্রতি এ বিষয়ক এক গণশুনানিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক টুথপেস্টের পাশাপাশি খাবার-পানিতেও ছড়িয়ে পড়েছে, তাই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং সরকার জনস্বার্থে ব্যবস্থা নেবে। তবে স্কয়ার, প্রাণ-আরএফএল, নেসলেসহ শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা গণশুনানিতে দাবি করেন, গবেষণা প্রকাশের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা উচিত, নয়তো ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যে ব্যবসায়িক সুনাম অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকও বলেন, গবেষণার ফল প্রকাশের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হলে ভালো হতো।

    দ্রুত ব্যবস্থা চায় ক্যাব

    এদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, খাদ্যমান তদারকি সংস্থার গাফিলতি খতিয়ে দেখা এবং দূষিত পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি কমাতে প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি মানবদেহে এর প্রভাব ও সহনীয় মাত্রা নির্ধারণে দ্রুত ও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন।

  • জ্ঞান ফিরেছে মেঘমল্লার বসুর

    জ্ঞান ফিরেছে মেঘমল্লার বসুর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুর জ্ঞান ফিরেছে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্যসচিব সজীব তানভীর এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই তরুণ রাজনীতিক এখন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন। জ্ঞান ফেরার পর তাকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে। মেঘমল্লারের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা তানভীর বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ১২টার পর মেঘমল্লারের জ্ঞান ফেরে। এরপর থেকেই তাকে আর কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। ’

    তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নিজে এবং এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমি, নাজিফা জান্নাত ও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায়, বাকি বিল্লাহ, শামীম আরা নীপা ও মনোয়ার নাঈম মেঘমল্লারের সঙ্গে কথা বলেছেন। ’

    চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তানভীর বলেন, ‘শারীরিক অবস্থার উন্নতি অব্যাহত থাকলে শনিবার সকালে মেঘমল্লারকে আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হলে শিগগিরই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তানভীর। ’

    এর আগে, সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার বন্ধুরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • আত্মহত্যার চেষ্টা, মেঘমল্লার বসু আইসিইউতে

    আত্মহত্যার চেষ্টা, মেঘমল্লার বসু আইসিইউতে

    ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত সোমবার রাতে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কেবিনে নেওয়া হয়েছিল। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    জানা গেছে, রাজনীতি, পারিবারিক বিষয়সহ নানা হতাশা থেকে মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই পোস্ট দেখেই তার খোঁজ শুরু করেন সহকর্মীরা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেঘমল্লারের ফেসবুক পোস্ট দেখে তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হয়। পরে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খোঁজ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেটের কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

    মেঘমল্লার বসু নিজের ফেসবুক সুইসাইড নোটে লিখেন, ‘জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শূন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হতো। একটা ২০২০ সালের গোড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে তখন সে ভুলে যায় শূন্যতাই তার নিয়তি।’

    তিনি আরো লেখেন, ‘আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মায়ের সঙ্গে। আমি জানি তার আর কেউ নেই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব! কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি আপনারা আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।’

    মেঘমল্লার লেখেন, আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হলো আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয়নি, যতটা তিনি দিয়েছেন। আমার গত অ্যাটেম্পটের পর সবাই ভেবেছে দোষ তার। তিনি একটি ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। অথচ বাস্তবতা হলো আমি তাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করিয়েছি, তাতে তার দশবার অ্যাটেম্পট করার কথা ছিল।

  • স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    তরুণদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডিজিটাল যোগাযোগ ও তথ্য প্রচারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণরা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় অনলাইনে কাটায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য প্রদান ও সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

    গত ১২ থেকে ১৪ আগস্ট তানজানিয়ায় তিন দিনের একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে দেশটির ১৩টি উচ্চ ও তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী সহপাঠী শিক্ষকরা অংশ নেন। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সঙ্গে বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে।

    প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় ও তরুণবান্ধব ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে অনলাইনে যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্লেষণী তথ্য ব্যবহার করে পাঠক ও দর্শকদের আগ্রহ বোঝার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    ইউনেস্কো জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে এসব সহপাঠী শিক্ষক নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে তরুণদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করবেন। তাদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা বাড়ানো এবং তরুণদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তরুণরা যেসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত ব্যবহার করে, সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুস্থতা বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে মাদকাসক্তি, বলছে গবেষণা

    ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে মাদকাসক্তি, বলছে গবেষণা

    বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণেই নয়, মদ ও কিছু মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে নতুন গবেষণায়।

    ওষুধ দুটি জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এসব ওষুধ শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন জিএলপি-১ হরমোনের কার্যকারিতা অনুকরণ করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া ধীর করা এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

    তবে বিজ্ঞানীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ওষুধগুলো মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’-এর ওপরও প্রভাব ফেলে কি না। এই সিস্টেমই ক্ষুধা, আনন্দ অনুভূতি এবং আসক্তিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    আসক্তি কমাতে সম্ভাবনা

    গবেষণায় দেখা গেছে, জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে অ্যালকোহল পান করেন। এছাড়া প্রাণীদের ওপর পরিচালিত প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এসব ওষুধ কোকেন, অ্যামফেটামিন, ওপিওয়েড ও নিকোটিনের মতো পদার্থের ব্যবহারও কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    গবেষকদের ধারণা, মস্তিষ্কের পুরস্কার ও প্রেরণাসংক্রান্ত স্নায়ুপথের সঙ্গে জিএলপি-১ ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়ার কারণেই এমন প্রভাব দেখা যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা মাদক গ্রহণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ তৈরি হয় মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের কারণে। এই ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠলে স্থূলতা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং মাদকাসক্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    তবে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, আসক্তি কমানোর ক্ষেত্রে জিএলপি-১ ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, বিশেষ করে মানুষের ক্ষেত্রে।

    গবেষকদের মতে, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির মতো ওষুধ ভবিষ্যতে মাদকাসক্তি বা পদার্থ-নির্ভরতার চিকিৎসায় ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বড় পরিসরের এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন।

    বর্তমানে এসব ওষুধ প্রধানত টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসার জন্যই অনুমোদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে।

  • ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত হয়েছে। ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে ঘাতক ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে (৩৮) আটক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ওই এলাকার মৃত রেবতি দাশ গুপ্তার ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও রাখা হয়েছিল।

    শনিবার সকালে মা-বাবাকে নিয়ে বাইরে যায়। পরে সকাল পৌনে ১২টার দিকে তারা বাড়িতে ফেরে।
    কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ছেলেটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে বাবা এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তখন স্থানীয়রা চিৎকার করে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার মা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর গুরুতর আহত বাবাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    দেশে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দেশের ৭টি জেলায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।

    সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭টি জেলা বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির শিকার। বন্যাকবলিত এই জেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

    নিহত ও আহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    অপরদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত মানুষদের জরুরি আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এরইমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

  • শাহবাগে ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    শাহবাগে ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার তিনটি ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার আনন্দবাজার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের সামনের সড়কের ফুটপাত থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, পৃথক তিন স্থানে তিন ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা থানায় খবর দেন। বেলা ১১টার দিকে দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর ও অপরজনের বয়স ৫৫ বছর।

    এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এই তিনজনই ভবঘুরে। তাঁদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ দুর্যোগে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব জেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া জেলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় এবং পাঁচ জন রোহিঙ্গা। নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

    চট্টগ্রামে বন্যায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ছয় জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি।

    এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০ জন, মৌলভীবাজারে ২৬ হাজার ৫৪৪ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে সাত জেলায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন অবস্থান করছেন। বান্দরবানের ২২০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

    এ ছাড়া মৌলভীবাজারের ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন এবং কক্সবাজারের ২৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি।

    সাত জেলায় বরাদ্দ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও চাল

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ির জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

    একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য সাধারণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করেছে মন্ত্রণালয়।

    চলছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৭১০ মেট্রিক টন চাল, ৬০ লাখ টাকা, ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    বান্দরবানে ৬৮ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২৩৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট রান্না করা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১১০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৪১৭ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।


    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

  • সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জমির উদ্দিন সরকারের কনিষ্ঠ পুত্র নওফেল জমির এক ফেসবুক পোস্টে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার রাতেই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন।

    জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন এবং ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    তার মৃত্যুর সংবাদে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এক শোক বার্তায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জানান।

    এদিকে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এক শোক বার্তায় চিফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এছাড়া আলাদা শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাবেক স্পকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

  • বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

    বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    শনিবার (১১ জুলাই) অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো: মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    এর আগে, ১০ জুলাই রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় বন্যাকবলিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা বজায় রাখতে, প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ সাত দফা বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবেন এবং তাদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করতে হবে।

    বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত সব উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিক্যাল টিম গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একইসাথে বন্যা মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

    এ লক্ষ্যে আগামী ১২ জুলাই বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম তুলে ধরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
    এছাড়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আক্রান্ত সব উপজেলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে সমন্বয় করার কথাও বলা হয়েছে।

    বন্যাকবলিত উপজেলা ও জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

  • উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের প্রমাণভিত্তিক ফলাফল, বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা এবং এ কার্যক্রম থেকে অর্জিত শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় জানানো হয়, এসব অভিজ্ঞতা নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সরকার জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজ করছে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশের দুর্গম এলাকায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স এবং ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ বক্তব্য দেন।

    কর্মশালায় জানানো হয়, নগর জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এখনো অনেক শিশু ও পরিবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত ছয়টি ‘আলো ক্লিনিক’ জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজের আওতায় বিনামূল্যে, সমন্বিত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

    আলো ক্লিনিকের মাধ্যমে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করছেন। এছাড়া চারটি ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে।

  • অতিবৃষ্টি-ঢলে চট্টগ্রামে নিহত ৩০

    অতিবৃষ্টি-ঢলে চট্টগ্রামে নিহত ৩০

    চট্টগ্রাম বিভাগে গত পাঁচ দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় বলছে, দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ, চাল ও শিশু খাদ্য বাবদ জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি ও জেলা প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

    সেখানে দেখা যায়, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে, সেখানে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটি জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২০৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    তবে কক্সবাজার জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও সেখানে বর্তমানে কোনো আশ্রিত লোক নেই। দুর্গতদের সহায়তায় গত ৭ ও ৯ জুলাই দুই দফায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    এর মধ্যে গত ৭ জুলাই প্রতিটি জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ১০ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা নগদ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    পরবর্তীতে ৯ জুলাই শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    একই দিনে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং বাকি তিন জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের এই পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    পাশপাশি, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষদের জন্য সুপেয় পানি, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং শিশু খাদ্যসহ তিন বেলা খাবারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

  • প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার উপায়

    প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার উপায়

    ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। আজ আপনার দল হেরেছে, আগামীকাল তারাই আবার জিততে পারে। একটি ম্যাচের ফলাফল যেন আপনার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব না ফেলে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বকাপে প্রিয় দলের হার মানতেই অনেক সমর্থকের মন ভেঙে যায়। কেউ হতাশ হয়ে পড়েন, কেউ আবার সারাদিন ম্যাচ নিয়েই ভাবতে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হতাশা থেকে সহজেই বেরিয়ে আসা সম্ভব।চলুন জেনে নেওয়া যাক মন ভালো করার সাতটি কার্যকর উপায়।

    . নিজেকে কিছুটা সময় দিন। দল হারার পর মন খারাপ হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তাই নিজের অনুভূতিকে চাপা না দিয়ে কিছুটা সময় দিন। কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের মন খারাপ কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

    .সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকুন। দল হারার পর ট্রল, মিম ও খোঁচামূলক পোস্ট হতাশা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কিছু সময় সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে পরিবার, বই কিংবা গানের সঙ্গে সময় কাটান।.বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন। একই দলের সমর্থক হলে একসঙ্গে হতাশা ভাগ করে নিন। আর প্রতিপক্ষের সমর্থক বন্ধুদের মজাকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে খেলাধুলার অংশ হিসেবেই দেখার চেষ্টা করুন।

    .ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো মনে করুন। শুধু হার নয়, দলের ভালো মুহূর্তগুলোও স্মরণ করুন। ভালো আক্রমণ, দুর্দান্ত সেভ কিংবা শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা—এসবও ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্য কোনো প্রিয় কাজে মন দিন। সিনেমা দেখা, বই পড়া, রান্না করা কিংবা হাঁটতে বের হওয়ার মতো কাজ আপনাকে দ্রুত হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

    .সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন স্বপ্নের অপেক্ষা করুন। একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, হারের সময়ও দলের পাশে থাকেন। সামনে নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন ম্যাচ আর নতুন সুযোগ অপেক্ষা করছে।মনে রাখবেন, ফুটবলের আসল আনন্দ শুধু ট্রফি জেতায় নয়; বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা, উল্লাস করা এবং কঠিন সময়েও নিজের দলের পাশে থাকাতেই একজন প্রকৃত সমর্থকের পরিচয়। তাই প্রিয় দল হেরে গেলেও আশা হারাবেন না। কারণ ফুটবল শেখায়—হারের পরও আবার ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

  • পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র গরম। এসময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনার চাপ সব মিলিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম মানুষের মেজাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বাড়লে বিরক্তি, রাগ এবং মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে বা মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব

    গরমের কারণে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

    হাইড্রেশন ও সুষম খাদ্য

    শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় ফলে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ফলমূল, সবজি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

    পড়াশোনায় সঠিক পরিকল্পনা

    গরমের দিনে দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করা কষ্টকর হতে পারে। তাই ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর। সকালে বা রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।

    মানসিক চাপ কমানোর কৌশল

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শরীরচর্চা কিংবা কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বস্তি দেয়।

    অভিভাবকদের ভূমিকা

    এই সময়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তুলনা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কখন পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন

    যদি কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হতাশায় ভোগে তবে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্রুত সহায়তা পাওয়া গেলে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।