সৌদি আরবে কীভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়

প্রতিবেদন:

·

, ,

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দেশটির সরকারের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার পাঠানো কূটনৈতিক চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি রিয়াদ। দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, আদালতের রায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনজীবীর সহায়তা এবং তাদের লাশের অবস্থান জানতে চেয়েছে ঢাকা।

গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাদের পরিচয় নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের আগে বাংলাদেশ সরকার বা দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনকে জানানো হয়নি বলে ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শরিয়াহ আইনে ‘তাজির’ কী?

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ‘তাজির’ ধারায়। ইসলামি ফৌজদারি আইনে তাজির বলতে এমন অপরাধের শাস্তি বোঝায়, যার জন্য কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক নির্দিষ্ট দণ্ডের পরিবর্তে বিচারকের বিবেচনার সুযোগ থাকে। অপরাধের ধরন, পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনি কাঠামো বিবেচনায় শাস্তি নির্ধারিত হতে পারে।

ইসলামি ফৌজদারি আইন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত তিনটি শ্রেণির কথা আসে—হুদুদ, কিসাস ও তাজির। হুদুদে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তির বিধান রয়েছে; কিসাস মূলত হত্যা বা শারীরিক ক্ষতির মতো অপরাধে প্রতিশোধমূলক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত; আর তাজিরের ক্ষেত্রে শাস্তি নির্ধারণে বিচারিক বিবেচনার ভূমিকা থাকে।

তবে তাজির ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক রয়েছে। কোনো একটি দেশের বিচারিক ব্যাখ্যা বা প্রয়োগকে ইসলামি আইনের সব মতের অভিন্ন অবস্থান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সৌদি আরবের এই দুই মামলায় ঠিক কোন আইনি যুক্তি, প্রমাণ ও বিধানের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তা বোঝার জন্য আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রয়োজন।

হুদুদ ও কিসাসের সঙ্গে তাজিরের পার্থক্য

ইসলামি ফৌজদারি আইনের তিনটি শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারলে সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থার বিতর্কটি আরও পরিষ্কার হয়।

হুদুদ: ইসলামি আইনশাস্ত্রে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তিকে হুদুদ বলা হয়। প্রচলিত আলোচনায় অবৈধ যৌন সম্পর্ক বা জিনা এবং চুরির মতো অপরাধ এর অন্তর্ভুক্ত। তবে কোন অপরাধ হুদুদের আওতায় পড়বে, তার সংখ্যা ও ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এ ধরনের শাস্তি প্রয়োগে প্রমাণের কঠোর শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।

কিসাস: হত্যা বা মানুষের জীবনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রতিদানমূলক বিচারব্যবস্থাকে কিসাস বলা হয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী প্রতিদানের প্রশ্ন আসে। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষমা করতে পারে বা দিয়াত—অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ—গ্রহণ করতে পারে।

তাজির: যেসব অপরাধ নির্দিষ্ট হদ্দ শাস্তির আওতায় পড়ে না কিংবা কিসাসের অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির ব্যবস্থা হলো তাজির। অপরাধের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হয়।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রে তাজির বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই শ্রেণিতে বিচারকের শাস্তি নির্ধারণের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হতে পারে। ফলে কোন আচরণকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং কেন নির্দিষ্ট শাস্তি দেওয়া হচ্ছে—এসব প্রশ্নের জবাব নির্ভর করে মামলার তথ্য, প্রযোজ্য বিধান ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর।

ইসলামি আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনের সম্পর্ক

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রধানত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধানের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবে ইসলামি শরিয়াহ দেশটির আইনি ব্যবস্থার একটি প্রধান ভিত্তি। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইন, বিধিবিধান ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও বিচার ও শাসনব্যবস্থায় ভূমিকা রাখে।

সৌদি আরবের বিচারিক ব্যাখ্যায় ঐতিহাসিকভাবে হাম্বলি মাজহাবের প্রভাব রয়েছে। এই মাজহাব কোরআন ও হাদিসভিত্তিক বিধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তবে দেশটির বর্তমান বিচারব্যবস্থাকে শুধু একটি মাজহাবের ব্যাখ্যা দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যায় না; রাষ্ট্রীয় বিধান ও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত আইনি চর্চাও এতে ভূমিকা রাখে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামি ফৌজদারি আইন কোনো একক ও সর্বজনস্বীকৃত দণ্ডবিধি নয়। একই বিষয়ে বিভিন্ন আইনবিদের ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সৌদি আরবে দেওয়া কোনো নির্দিষ্ট শাস্তিকে ইসলামী আইনের একমাত্র বা সর্বজনীন ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।

বিচারকের বিবেচনাধীন ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক

তাজিরের ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনাধীন ক্ষমতার পরিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনবিদদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে যখন এ ধরনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তখন অপরাধের সংজ্ঞা, শাস্তির আইনি ভিত্তি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আইনবিদ চিবলি মাল্লাতের ম্যাপিং সৌদি ক্রিমিনাল ল গবেষণায় সৌদি আরবের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় আইন এবং হুদুদ, কিসাস ও তাজিরের মতো ঐতিহ্যগত শ্রেণির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তাজিরের আওতায় শাস্তি নির্ধারণে বিচারকের বিবেচনার সুযোগ থাকলেও সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কীভাবে সীমাবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, প্রমাণের মান, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কে স্বচ্ছতা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

দুই বাংলাদেশির মামলায় এসব বিষয় প্রকাশ্যে স্পষ্ট না হওয়ায় বাংলাদেশের সরকারের ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টি আরো তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদির কাছে ছয়টি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা

জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। এতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের পেছনের ঘটনা ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জানতে চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল, ঘটনাটি কখন ও কোথায় ঘটেছিল এবং কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং তাদের লাশ বর্তমানে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তারা নিজেরা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। লাশ সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে, নাকি বাংলাদেশে পাঠানো হবে—এ বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। দ্রুত এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

বন্দির তালিকায় ছিল নাম, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না

সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিদের তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম থাকলেও সেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য উল্লেখ ছিল না। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব বাংলাদেশকে বন্দিদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তারের নাম ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়—একজনের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধ এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে ব্যভিচারের অভিযোগ। তালিকায় মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ ছিল না।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি গোপনীয় স্মারকলিপি ও বন্দিদের তালিকায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। ওই নথি অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট এবং সিথিকে পরদিন আটক করা হয়েছিল। দুজনই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার দায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বন্দির তালিকায় থাকা অভিযোগের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রকাশ করা অভিযোগের সম্পর্ক কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

আপিল আদালতের রায় নিয়ে যা জানা গেছে

সৌদি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, মামলাগুলো আদালতের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়েছে এবং ১৩ বিচারকের একটি আপিল প্যানেল মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছিল। তবে বন্দিদের তালিকায় মৃত্যুদণ্ডের তথ্য না থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পায়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বিচারিক অনুমোদনের পর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, অভিযুক্তরা নিজেদের পক্ষে কীভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তাদের আইনজীবী ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নথি এখনো বাংলাদেশের হাতে আসেনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, রায়ের কপি ও অন্যান্য নথি হাতে পাওয়ার পরই বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হবে।

১৮ অক্টোবর সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে। ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করে। এরপর ১৮ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম। ওই বৈঠকে আগের কূটনৈতিক চিঠির একটি অনুলিপিও রাষ্ট্রদূতের হাতে দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

দুই পরিবারের প্রশ্ন, লাশ ফেরানোর অনিশ্চয়তা

নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। কাজের উদ্দেশ্যে তিনি ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে যান। তার পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পরও তারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগাম কিছু জানতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

সিথি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। তার পরিবারের ভাষ্য, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরেও পরিবার বিস্মিত হয়েছে। তবে পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে সৌদি আদালতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশ্ন

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি শ্রমবাজার। দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে দেশটিতে আটক বা বিচারাধীন বাংলাদেশিদের বিষয়ে সময়মতো তথ্য পাওয়া এবং প্রয়োজন হলে কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নয়; বন্দিদের তালিকায় নাম থাকার পরও তাদের চূড়ান্ত দণ্ডের তথ্য কেন বাংলাদেশের কাছে ছিল না, বিচার চলাকালে তারা যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং কূটনৈতিক মিশনকে কেন আগাম জানানো হয়নি—এসব বিষয়ও সামনে এসেছে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নথি ও সরকারি ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই থাকছে।

বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক জবাব ও প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে। আপাতত ঢাকার অপেক্ষা আদালতের রায়, অভিযোগের বিস্তারিত এবং দুই বাংলাদেশির মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের জন্য।