নিজের পা নিজেই কাটলেন !

প্রতিবেদন:

·

, ,

রুশ বাহিনীর ড্রোন হামলায় প্রথমে একটি পা হারান ইউক্রেনের সেনা কস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেঙ্কো। অন্য পা-ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকে বাঁচার আশায় শেষ পর্যন্ত নিজের সেই পা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলেন তিনি। এরপর প্রায় ৪৯১ দিন ধরে ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় আটকে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয় ভারী একটি ড্রোনের সাহায্যে।

গত ৪ অক্টোবরের এই উদ্ধার অভিযানে ভ্লাসেঙ্কোকে একটি নিরাপত্তা বেল্টে বেঁধে ছয় পাখার বড় ড্রোনে তোলা হয়। ড্রোনটি তাকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় ড্রোনটি মাটি থেকে প্রায় ৭০ মিটার উঁচুতে উড়ছিল। পুরো উড্ডয়ন শেষ করতে সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট।

ভ্লাসেঙ্কোর এ ঘটনার বিবরণ দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীও তার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযানের সময় ড্রোনে ধারণ করা ভিডিওতেও ঘটনার কিছু অংশ দেখা গেছে। তবে ঘটনার সব খুঁটিনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন ভ্লাসেঙ্কো। গত বছরের মে মাসে তাকে সেখানে পাঠানো হয়। ওই এলাকায় রুশ ড্রোনের হামলার ঝুঁকি এত বেশি ছিল যে সেখানে চলাচল করাই ছিল প্রাণঘাতী।

ভ্লাসেঙ্কোর সঙ্গে থাকা সহযোদ্ধা ‘বাসকি’ গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত হন। নিজের ৫০তম জন্মদিনে প্রাণ হারান তিনি। ওই হামলায় ভ্লাসেঙ্কোর বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডান পা-ও মারাত্মকভাবে আহত হয়।

আহত অবস্থায় তিনি একটি পুরোনো ধাতব বয়লারের নিচে আশ্রয় নেন। জায়গাটি ছিল মাত্র ৮০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৬০ সেন্টিমিটার চওড়া। সেখানেই আটকে পড়েন তিনি। সময়ের সঙ্গে তার বাম পায়ের ক্ষত পচে যেতে থাকে। ডান পায়ের হাড়ও বাইরে বেরিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশায় ছুরি দিয়ে নিজের ডান পা কেটে ফেলেন ভ্লাসেঙ্কো। রক্তপাত বন্ধ করতে ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ বাঁধেন।

দীর্ঘ সময় ওই সংকীর্ণ জায়গায় আটকে থাকার পরও উদ্ধারের আশা ছাড়েননি তিনি। অক্টোবরে তার কাছে সরবরাহের একটি প্যাকেট পৌঁছায়। তাতে ছিল একটি নিরাপত্তাবেল্ট ও একটি মোবাইলফোন। ফোনে তাকে উদ্ধারের সময় কীভাবে বেল্ট ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনামূলক ভিডিও ছিল।

এরপর তাকে উদ্ধারে ভারী ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান গুরজুফ ডিফেন্স তৈরি করেছে ছয় পাখার এই ড্রোন। এটি সর্বোচ্চ ৯০ কেজি ওজন বহন করতে পারে এবং একবারে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।

উদ্ধার অভিযান সহজ ছিল না। ভ্লাসেঙ্কোকে বহনকারী ড্রোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনটি ছোট ড্রোন সেটিকে অনুসরণ করে। এ ছাড়া আরো চারটি ছোট ড্রোন, কামান এবং বড় পাখাযুক্ত ড্রোন দিয়ে রুশ ড্রোনের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এই অভিযান।

উদ্ধারকারী দল ভ্লাসেঙ্কোকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেলেও সেই স্থানের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন ও বিপজ্জনক এলাকায় আটকে থাকা এক আহত সেনাকে উদ্ধার করতে ইউক্রেনের বাহিনীকে একাধিক ড্রোনের সমন্বয়ে অভিযান চালাতে হয়েছে। ঘটনাটি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারও দৃষ্টান্ত।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ