বিনিয়োগ করলেই নাগরিক!

প্রতিবেদন:

·

, ,

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটিতে কমপক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। লাতিন আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি আর্জেন্টিনা গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও মেক্সিকোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)।

অর্থনীতিবিদ মার্সেলো এলিসোন্দো বলেন, তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো অপেক্ষা করছেন আর্জেন্টিনার অস্থির অর্থনীতি সময়ের সঙ্গে এসব সংস্কার টেকসই কি না, তা প্রমাণ করার জন্য।

শুক্রবার সরকার ঘোষিত ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য দুটি সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা উইক উপলক্ষে কর্মসূচিটি ঘোষণা করা হয়।

প্রথম পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীকে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার সরাসরি অনুদান দিতে হবে। এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে সরকার বিশেষভাবে এই কর্মসূচির জন্য যে ৮ লাখ ডলারের বন্ড তৈরি করবে, তাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর জন্য প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে কোষাগারে ১ লাখ ডলার এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আর্জেন্টিনা সরকার বলেছে, এই বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ দেশের রাজস্ব ও আর্থিক অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, বিনিয়োগগুলো একটি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে অর্থের উৎস ও লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অর্থপাচার ঠেকানো ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা হবে।

মিলেই চলতি সপ্তাহে প্যারিস সফর করেন এবং ওইসিডিতে আয়োজিত আর্জেন্টিনা উইক অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সফরে তিনি বেশ কয়েকটি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পান। এর মধ্যে ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস প্যাটাগোনিয়ায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের খনিশিল্প প্রতিষ্ঠান গ্লেনকোর একটি তামা প্রকল্পে ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিলেই সরকারের এই ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি চলতি বছরের শেষ দিকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার আদালত মিলেই সরকারের ২০২৩ সালের একটি ডিক্রি বহাল রাখে। ওই ডিক্রির মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানায় থাকা ১৫ শতাংশ সীমা বাতিল করা হয়েছিল।

ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আর্জেন্টিনা ৩.১৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ পেয়েছে।

এর তুলনায় একই সময়ে ব্রাজিল পেয়েছে ৭৬.৮৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং মেক্সিকো পেয়েছে ৪০.৮৭১ বিলিয়ন ডলার।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ