সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র না পাওয়াদের তালিকা আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরে জমা হচ্ছে। কী কারণে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি-এর মতামতসহ এই তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠাতে হবে।
রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আগের সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা যে চিঠি দিয়েছি ওইটাই বহাল থাকবে। নতুন কোনো নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি। আমরাও মাঠ পর্যায়ে কিছু জানাইনি।
এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সূচি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র জারি করার নির্দেশনা ছিলো। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি করা না হলে কারণ ও মতামতসহ তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। এরপর আগের ঘোষণা অনুযায়ী ১ অক্টোবর নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়ন আদেশ জারি করা হবে।
সূত্র জানায়, অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। ৪ অক্টোবর পদায়ন আদেশ জারির পর প্রশিক্ষণের তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
এদিকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন। সব জেলায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
তারা বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। বিষয়টি তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বাকি ৬১ জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীর নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সব জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগে অবস্থান করবেন।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও সভায় জানানো হয়।এ বিষয়ে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন-ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
