চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আরও বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। চট্টগ্রামে এক লাফে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা করে। এর পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকার বেশি বেড়েছে। মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত। বেশি বেড়েছে সামুদ্রিক মাছের দাম। অন্য ভোগ্যপণ্যের সঙ্গে চালের দামও বেড়েছে। বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েকদিনে বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সবজি বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক চড়া দামে। এরই মধ্যে আরও বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। দুই সপ্তাহ আগে কাঁচামরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে দিনদিন অস্থির হয়ে পড়ছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। কোনো পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমে থাকলেও বাজারের কোথাও এ দামে বিক্রি হচ্ছে না। বেশির ভাগই পণ্যই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। টিসিবির হিসাব বলছে, পেঁয়াজের দাম এক মাসের ব্যবধানে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, এবারে পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে এবং আমদানি করতে হবে না। এ অবস্থায় হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তদার রবিন হোসেন জানান, উত্তরবঙ্গের সরবরাহকারীরা হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। আমরা কমিশনে মাল বিক্রি করি। এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, তা এখন ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে আরও কয়েক টাকা বেশি তা স্বাভাবিক। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যার প্রভাবে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দামও বেড়েছে। মোটা চালের (স্বর্ণা) কেজি ৫২-৫৫ টাকা ছিল তা এখন ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালের (পাইজাম ও বিআর-২৮) কেজিপ্রতি ৭২-৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম। কেজিপ্রতি মাঝারি মানের চালের দাম ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে চিকন চাল নাজিরশাইল চাল ৮৩ থেকে ৮৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি মানের বিআর ২৮ ও ২৯ নম্বর চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং গুটি, চায়না ইরিসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। যা আগে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কম ছিল।
ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আগে আদার কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে আগের মতোই আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য করা হলেও খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার দাম কমেনি। আগের মতোই লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০, জিরা ৬০০, কিশমিশ ৮০০ থেকে ৯০০, গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ ও এলাচ ৫ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচাবাজারে সবজির দামও আকাশচুম্বি। টমেটো কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, এছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ কেজি, কাঁচকলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। বাজারে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাকে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজনভেদে রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও টেংরা ৭০০ টাকাদরে বিক্রি হয়েছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
