টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারী বৃষ্টিতে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার মরিচক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পচে ও মারা গেছে অধিকাংশ মরিচগাছ। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষিপ্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে এর মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের মরিচচাষিরা।রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. টুকু মণ্ডল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে তার পুরো ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে। এখন মরিচক্ষেত তুলে সেখানে ধানের আবাদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
টুকু মণ্ডল বলেন, ‘চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও তুলতে পারিনি। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’
আরেক কৃষক মো. খসরু মিয়া বলেন, ‘সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’
কৃষক মো. শফিক শেখ বলেন, ‘মরিচগাছ আর বাঁচবে না। তাই ক্ষেতের গাছ তুলে এখন ধানের আবাদ করাই একমাত্র উপায়।’
কৃষক মো. লালচান মোল্লা বলেন, ‘সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা আবার কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারব।’
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী বলেন, ‘মধুখালী উপজেলায় এ বছর ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য কৃষকদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
