তিন বছর আগের প্রতিরক্ষাচুক্তি অনুমোদন করল কুয়েত

প্রতিবেদন:

·

,

তিন বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সই হওয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে কুয়েত। দেশটির সরকারি গেজেটে চুক্তিটি প্রকাশের মাধ্যমে কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো কার্যকর হলো।

কুয়েত টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুনে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তিটি গত রোববার সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়ুম-এ প্রকাশ করা হয়েছে।

চুক্তির আওতায় কুয়েত ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষাপ্রযুক্তি, গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এর লক্ষ্য দুই দেশের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সামরিক গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও সহযোগিতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি যৌথ সামরিক মহড়া, সরকারি সফর এবং অন্যান্য সহযোগিতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করবে।

চুক্তিটি পাঁচ বছর কার্যকর থাকবে। এরপর কোনো পক্ষ বাতিলের সিদ্ধান্ত না নিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। পাশাপাশি গোপন সামরিক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চুক্তি-সংক্রান্ত বিরোধ কূটনৈতিক উপায়ে নিষ্পত্তির বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কুয়েত ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এ অনুমোদন দেওয়া হলো। এসব বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে কুয়েত। সেই ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি কার্যকর হলো।

সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতও ছিল। তেহরানের দাবি, ওই হামলার লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। তবে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ