ইরানের জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে ইতিবাচক বলছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদন:

·

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ঘটনাটিকে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন নিজের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থও ত্বরান্বিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যান্ড কর্পোরেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম কোর্টনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ইউক্রেনীয়রা ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়াকে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে ওয়াশিংটন বেশ ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে।’

উইলিয়াম কোর্টনি আরো বলেন, রাশিয়াকে ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করা নিয়ে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র উদ্বেগ ছিল। বর্তমানে রাশিয়ার একটি কারখানায় শাহেদ ড্রোনের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি হচ্ছে। ফলে ইরানি সরবরাহের ওপর ইউক্রেনের আক্রমণ মার্কিন প্রশাসনকে স্বস্তি দেবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের সরাসরি জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানান তিনি।

তার মতে, ‘রাশিয়াকে ড্রোন পাঠানো ঠেকিয়ে ইউক্রেন নিজেদেরই উপকার করেছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই মুহূর্তের এক নম্বর শত্রু ইরানের ওপর আঘাত হেনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত করছে, যা তাদের জন্য ইতিবাচক।’

কোর্টনি সতর্ক করে আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পশ্চিমাদের কাছে বেশ অপ্রিয়। তাই ইউক্রেন কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে নিজেদের সরাসরি জড়াতে বা অতিরিক্ত তুলে ধরতে চাইবে না।’

এমন সময়ে এই মন্তব্য এল যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছেন। সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও তাদের আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ