আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) তুলার দাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল রফতানি প্রতিবেদন, ব্যবসায়ীদের মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর ফাইবার টু ফ্যাশন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হওয়া চলতি বছরের ডিসেম্বর মেয়াদের চুক্তিতে তুলার দাম ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। পাউন্ডপ্রতি তুলার দাম এখন ৭৯ দশমিক ৩০ সেন্টে নেমে এসেছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটিই তুলার একদিনে সর্বোচ্চ দরপতন। এর ফলে ৬ জুলাইয়ের পর এ প্রথম তুলার দাম ৮০ সেন্টের নিচে নেমে গেল। অন্য মেয়াদের চুক্তিতেও ৫৫-২৮৭ পয়েন্ট পর্যন্ত দাম কমেছে, যা পুরো বাজারজুড়ে একটি বড় মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
তুলার এ দরপতনের প্রধান কারণ ছিল মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাপ্তাহিক রফতানি প্রতিবেদন। ৯ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে তুলার নিট বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪ হাজার ৩৬০ বেল-এ (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড বা ২২০ কেজি), যা চলতি বিপণন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন সাপ্তাহিক রেকর্ড। এ ছাড়া আগামী মৌসুমের তুলার রফতানি আদেশও আশানুরূপ হয়নি। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একধরনের হতাশা কাজ করছে।
রফতানি চাহিদা কমার পাশাপাশি ডলারের দরবৃদ্ধিও কৃষি পণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ইউএস ডলার ইনডেক্স টানা চার কার্যদিবস ধরে বেড়ে প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য মার্কিন তুলা কেনা আরো ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এতে করে বৈশ্বিক বাজারে এ তুলার প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে গিয়েছে। এর প্রভাবে গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। জুনে মার্কিন খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ ইতিবাচক তথ্য মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বা বন্ডের মুনাফা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কমে গেছে, যা ডলারকে আরো শক্তিশালী করেছে।
যদিও বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি থাকার কথা ছিল, তবে দুর্বল চাহিদার ধাক্কায় সেই প্রভাব পুরোপুরি ঢাকা পড়ে গেছে। পরবর্তী কার্যদিবসে ডিসেম্বরের চুক্তি দাম আরো কমে ৭৮ দশমিক ৩৮ সেন্টে কেনাবেচা হয়। মার্কিন আবহাওয়া ও চীনের রাষ্ট্রীয় তুলার নিলাম আগামী দিনগুলোয় বাজার স্থিতিশীল করতে পারে কিনা তাই এখন সংশ্লিষ্টরা পর্যবেক্ষণ করছেন।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
