অবরোধ কার্যকরে ২০ যুদ্ধজাহাজ, কয়েক শ উড়োজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিবেদন:

·

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ওয়াশিংটন সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা (২০:০০ জিএমটি) থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় আবার নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী নৌ অবরোধ কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গতকাল বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ‘বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক সামরিক উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অভিযান পরিচালনা করছে। মার্কিন বাহিনী সর্বদা সতর্ক, লড়াকু ও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক–পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।

তেহরান গত মার্চ মাস থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে ওয়াশিংটন এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দরগুলো ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ জারি করে। এর ফলে ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশ ও সেখান থেকে সেগুলোর বের হওয়া আটকে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক সই হলে জুন মাসে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা–পাল্টা হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উভয় দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে থেমে থেমে হামলা চালাতে ও চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করতে থাকে। গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের আওতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি হঠাৎ বাতিল ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প আবার নৌ অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দেন।

শুধু নৌ অবরোধ কার্যকর করা নয়, বরং গতকাল টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তেহরান যদি আবার আলোচনায় না ফেরে, তবে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে।

ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের সেনাবাহিনী আজ বুধবার ভোরে জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অবস্থানগুলোয় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন এবং কুয়েতেও অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ