ভারতে পাসপোর্টবিহীন সাবেক ‘মার্কিন নৌসেনা’ গ্রেপ্তার

প্রতিবেদন:

·

,

উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় ভারত-নেপাল আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আর্মড বর্ডার ফোর্স (এসএসবি)। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ওই নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অনুমোদিত ইমিগ্রেশন পথ এড়িয়ে একটি অননুমোদিত পায়ে চলা পথ দিয়ে নেপালে প্রবেশের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পায়ে দড়ি বাঁধা অবস্থায় ওই বিদেশিকে গ্রামবাসী ও অস্ত্রধারী এসএসবি সদস্যরা নিয়ে যাচ্ছেন। চারপাশে ভিড় থাকলেও তাকে শান্তভাবেই থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজের নাম জর্ডান ব্রাউন বলে দাবি করেন। তার বয়স ৩৬ বছর। তিনি জানান, প্রায় ছয় বছর মার্কিন নৌবাহিনীতে (ইউএস নেভি) কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় পড়াশোনা করেছেন বলেও দাবি করেন।তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো নথি বা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

কীভাবে আটক হলেন
ভারতীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সোনৌলি থানার মৈনিহওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে নিয়মিত টহলের সময় ২২তম ব্যাটালিয়নের এসএসবি সদস্যরা তাকে দেখতে পান। তিনি নির্ধারিত ইমিগ্রেশন রুটের বাইরে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন।
নিরাপত্তা বাহিনী তাকে থামার সংকেত দিলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়।

পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবস্থান
তল্লাশিতে অভিযুক্তের কাছ থেকে ৩১ হাজার ৪৬০ রুপি নগদ অর্থ এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ, তার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিজের পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং ভারতে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। জর্ডান ব্রাউন দাবি করেন, তিনি পর্যটক ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। এরপর সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় যান এবং সেখান থেকে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেন। তারপর থেকে প্রায় আট মাস তিনি গোয়ায় অবস্থান করছিলেন।

মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গোয়া থেকে তিনি বেঙ্গালুরু হয়ে উত্তর প্রদেশে আসেন এবং সেখান থেকে নেপালে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় এসএসবি তাকে আটক করে। বর্তমানে তার দেয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ ও ২৩ ধারায় সোনৌলি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জর্ডান ব্রাউনের আটক হওয়ার ঘটনায় ভারতে সন্দেহজনকভাবে বিদেশি নাগরিকদের চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) মিয়ানমার হয়ে মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরেক মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইক এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। এনআইএর দাবি, তারা ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।

তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তাদের অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করত এবং প্রশিক্ষণ দিত। সংস্থাটির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে, তারা একে-৪৭ রাইফেলধারী সশস্ত্র জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন। এনআইএর তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে গুয়াহাটি এবং পরে মিজোরামে যান। এরপর তারা অনুমতি ছাড়া মিয়ানমারে প্রবেশ করেন এবং সেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি ইউরোপ থেকে ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম বিদ্রোহী নেটওয়ার্কের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন।

ভ্যান ডাইক ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর বিভিন্ন ধারায়, যার মধ্যে ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে, মামলা দায়ের করেছে এনআইএ। সংস্থাটি কথিত এই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ