শিক্ষা ডেস্ক:
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) গত এক সপ্তাহে একাধিক মহড়া দিয়েছেন পাঠ্যবই ছাপার ঠিকাদার ও প্রেসমালিকদের একাংশ। মূল লক্ষ্য কাগজের কৃত্রিম সংকট ও নিয়ন্ত্রিত পিডিআই রিপোর্ট এবং ব্যাংক লোন অজুহাত দেখিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই আগের মতোই অধিক মুনাফা ও গোঁজামিল দিয়ে ছেপে ঠিকমতো বিলা আদায় করা। দোসরা জুলাইকে সামনে রেখে মহড়া দেওয়া হয়েছে। এদিন টেন্ডার ওপেনিং ডেট।
এই চক্রটিই গত ১৭ বছর ধরে বই ছাপিয়ে ইচ্ছেমতো বিল জমা ও তা তুলে নিয়েছেন। তাদেরকে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও নুরুল ইসলাম নাহিদ ও তাদের আত্মীয়রা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কতিপয় আমলা ও এনসিটিবির কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। সর্বশেষ এনসিটিবির সদস্য পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসানো হয়েছে। এতে সর্বাত্মক সহায়তা করেছে কয়েকটি নোট-গাইড কোম্পানী। শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র প্রিন্ট জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমাদের বার্তার অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মহড়ার নেপথ্যে পাঞ্জেরী ও বারতুপা প্রেসের মালিক পক্ষ ছিলেন। অভিযোগ আছে পাঞ্জেরী প্রকাশনীতে পলাতক ঢাকার পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, দুবাইতে আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরসহ অনেকের বেনামীতে বিনিয়োগ রয়েছে। গত ১৬ বছরে প্রায় সব ঘুষখোর আমলাকে লেখক তকমা দিয়েছে পাঞ্জেরী। পাঞ্জেরীর মালিকদের একজন বিদেশে পলাতক। মহড়া চক্রের নেপথ্যে আরো রয়েছেন কয়েকমাস এনসিটিবির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা একজন অতিরিক্ত সচিব, সাবেক উৎপাদন ও বিতরণ নিয়ন্ত্রক সম্পাদনা শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা, প্রেস মালিকদের মধ্যে দুলাল সরকার, হেলালী, রাব্বানী জব্বার, ওসমান গণি, মো. নজরুল ইসলাম কাজলসহ অনেকে। অনেক দুর থেকে কলকাঠি নেড়েছেন কর্ণফুলী ও অগ্রনী এবং কচুয়া প্রেসের মালিকরা। বারতুপা, টাঙ্গাইল প্রেস, ফরাজী প্রেস এন্ড পাবলিকসেন্স, মুত্তাহিদা প্রিন্টার্স, সুবর্না প্রিন্টার্স, অটো প্রিন্টার্স, নিউ সুজন আর্ট প্রেস, দিগন্ত অফসেট প্রেস, বর্নশোভা প্রিন্টার্স, বর্ণশোভা, রাব্বিল প্রিন্টিং প্রেস, রেজা প্রিন্টার্স, সরকার প্রেস এন্ড পাবলিকেনন্স, সরকার প্রিন্টিং প্রেস, সরকার প্রেসসহ আরো অনেক প্রেসের মালিক।জানা যায়, গত কয়েকমাস ধরে এনসিটিবির চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। অথচ চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিকের বইয়ে বাড়তি ফর্মার জন্য কেন অনুমোদন নেওয়া হয়নি এমন অজুহাত দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ই ৭৩ জন প্রেস মালিককে তাদের প্রায় ৮৫ কোটি টাকার বিল আটকে রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে পাঞ্জেরী প্রকাশনী একাধিক প্রভাবশালীকে ব্যবহার করেছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
