নিঃসঙ্গ মমতা ছুটলেন সোনিয়ার কাছে

প্রতিবেদন:

·

, ,

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বিধানসভা এবং সংসদে ব্যাপক বিদ্রোহের মুখে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র নেত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিঙয় মমতা কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে গিয়েছেন। তবে মঙ্গলবার সংবাদ বৈঠকে বিদ্রোহীদের আক্রমণ করে মুখ খুলেছেন মমতা অনুগত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন সাংসদ কীর্তি আজাদ।

দলের মধ্যে বিদ্রোহ প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, “ওরা (বিদ্রোহী সাংসদরা) ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেখানে গিয়েছিলেন, এর মানে হলো ওরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। ওরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে নেতা বানিয়েছে।” কল্যাণের আক্রমণের জবাব দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম ‘মুখ’ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও।

বিদ্রোহী নেতাদের এনডিএ-তে যোগ দেয়ার পদক্ষেপে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “আপনাদের (বিজেপি) কাছে মুখ্যমন্ত্রী, ইডি, সিবিআই এবং অন্যান্য ক্ষমতা আছে, কিন্তু আমার আছে ‘মা, মাটি, মানুষ’, আমার দল, আমার দলের কর্মীরা এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।” বিদ্রোহী হওয়া তারকা সাংসদদেরও নিশানা করে তিনি বলেন, “ফিল্মস্টাররা সব ভিনদেশি তারা। এদের ধারণা হলো, যেহেতু পাবলিক আমাদের দেখে দৌড়ে আসে, সংসদে সবাই আমাদের পেছন পেছন দৌড়ে যাবে।

এদিকে বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দাবি- দুর্নীতি থেকে শুরু করে দলনেত্রীর নাগাল না পাওয়া পর্যন্ত, বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য সমস্যা জমে উঠেছিল এবং এমন এক অসন্তোষ তৈরি করেছিল যা এখন মমতার নেতৃত্বাধীন দলটিকে তাড়া করে ফিরছে।

চারবারের সাংসদ ও বিদ্রোহীদের অন্যতম মুখ শতাব্দী রায়, যিনি ২০০৯ সাল থেকে মমতার পাশে রয়েছেন, দাবি করেছেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী- যিনি ‘দিদি’ নামে জনপ্রিয়-সমপ্রতি “বদলে গেছেন”, এই পরিবর্তনটি তিনি ভালোভাবে নেননি। রায় আরও বলেন যে, মানুষ প্রায়ই জিজ্ঞাসা করে কেন তারা আগে এই বিষয়গুলোতে চুপ ছিলেন এবং কেবল যখন দল সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে, তখনই কেন বিষয়টি উত্থাপন করছেন। তিনি বলেন, “এর কারণ হলো, এখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন কী হয়েছিল তা আমরা দেখেছি। আমি এখনকার পরিস্থিতি বুঝতে পারছি, কিন্তু আমাকে এটা আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য করতে হবে।”

এ.জেড

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ