ফুকুদা আর নেই

প্রতিবেদন:

·

, ,

চীনের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য পরিচিত জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন। ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মকর্তা সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওই কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, গত ২২ অক্টোবর ফুকুদা মারা যান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এক বছর জাপানের নেতৃত্ব দেন ফুকুদা। আবের প্রথম দফার প্রধানমন্ত্রিত্ব মাত্র ১২ মাস স্থায়ী হয়েছিল।

ক্ষমতায় থাকাকালে ফুকুদা চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন এবং তৎকালীন চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

২০০৮ সালের মে মাসে হু’র ওই সফরের মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান জাপান সফর করেন।

দুই নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে ‘অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

জনসমর্থন কমে যাওয়ায় ফুকুদা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। ২০১২ সালে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেন।

তবে বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ফুকুদা ২০১৪ সালে চীন সফর করেন।

এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন। তার এই উদ্যোগ শি’র সাথে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আবের দ্বিতীয় দফার শাসনামলে অনুষ্ঠিত একটি শীর্ষ বৈঠকের পথ সুগম করে।

বেইজিং তাকে ‘পুরোনো বন্ধু’ হিসেবে স্মরণ করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মি. ইয়াসুও ফুকুদা চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু ছিলেন এবং চীন-জাপান সম্পর্কের উন্নতি ও বিকাশে ইতিবাচক অবদান রেখেছেন।’

গুও ‘জাপানের প্রবীণ প্রজন্মের রাষ্ট্রনায়কদের সততা ও দায়িত্ববোধের’ কথা উল্লেখ করেন এবং ‘জাপানের বর্তমান নেতৃত্বকে’ গভীরভাবে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান।

চীনের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করা তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দেয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ