হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে নিয়োগের মাত্র পাঁচ দিন পর বরখাস্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের প্রাইমটাইম শোতে উপস্থাপক শন হ্যানিটির কঠোর জেরার মুখে পড়েন কেটি জাকারিয়া। নিজেকে আইনজীবী হিসেবে দাবি করার পর জাকারিয়ার আইনি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, হ্যানিটি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জাকারিয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে হিমশিম খান এবং নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।
হ্যানিটি তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি বার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু পাস করতে পারেননি। তাই তো?’ জাকারিয়া উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, শন, ঠিক তাই।’
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুসি ওয়াইলস এই সাক্ষাৎকারটির আয়োজন করেছিলেন—যা ছিল মূলত একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। কারণ, ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জাকারিয়া তার পছন্দের প্রার্থী ছিলেন না। সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন।
একটি সূত্রের বরাতে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সুসি ওয়াইলস ও শন হ্যানিটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, ‘হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল আলভারেজ এবং সুসি মিলে তাকে হ্যানিটির সামনে ঠেলে দিয়েছিলেন।’
হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সুসি ও শনের মধ্যে কথাবার্তা হয় ঠিকই, কিন্তু সুসির পক্ষে কাউকে যেমন জাকারিয়াকে শনের বা অন্য কারও সামনে ঠেলে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। এটি তার কাজের ধরন নয়।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আর হ্যানিটির সাক্ষাৎকারই যে জাকারিয়ার বিদায়ের একমাত্র কারণ, তা নয়। বরং জাকারিয়ার দেওয়া অদ্ভুত সাক্ষাৎকার এবং আইনজীবী হওয়া নিয়ে অসংলগ্ন উত্তরই মূলত তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
তবে ফক্স নিউজ মিডিয়ার এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কাকে সাক্ষাৎকার দেওয়া হবে এবং কী প্রশ্ন করা হবে, তা সম্পূর্ণ শন হ্যানিটির নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
জাকারিয়া হ্যানিটিকে জানান, ২০১১ সালে তিনি পেপারডিন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং একই সপ্তাহে বিয়ে করেন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু তার এবং তার স্বামীর দ্রুত চীনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তাই তিনি স্টেট বার পরীক্ষার ফলাফলকে ‘গুরুত্বহীন’ বলে মনে করেছিলেন।
তিনি কেবল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কারণ তিনি আগেই নিবন্ধিত ছিলেন এবং নিজের একাডেমিক রেকর্ডে ‘পরীক্ষা থেকে নাম প্রত্যাহারের’ তকমা যুক্ত করতে চাননি।
জাকারিয়া জানান, পরে তিনি একটি চীনা ল ফার্মের আন্তর্জাতিক অনুশীলন বিভাগে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি আন্তঃসীমান্ত করপোরেট লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করতেন। এই ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ থাকার প্রয়োজন ছিল না।
জাকারিয়া নিজেকে ‘অ্যাটর্নি’ না বলে ‘লয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ল স্কুল শেষ করার পর তিনি পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল যে, তিনি নিজেকে ‘লয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন, কিন্তু ‘অ্যাটর্নি’ বলতে পারবেন না।
হ্যানিটি যখন এমন কয়েকটি পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করেন যেখানে তাকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তখন জাকারিয়া উত্তরে বলেন, ‘আমার মনে হয় সেগুলো ছিল রিটুইট, আর আমি পরে তা সংশোধন করে দিয়েছিলাম।’
এই বিতর্ক এবং সাক্ষাৎকারের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেটি জাকারিয়া তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, জাকারিয়া জুন মাস থেকে ‘ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপে’ সিনিয়র কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
