যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি উড়ন্ত বিমানও ভূপাতিত করতে পারে চীনের ‘নজিরবিহীন’ অস্ত্র। এমন অস্ত্রের মজুদ রয়েছে চীনের হাতে। চীন এমন হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি) তৈরি করেছে। এগুলো দিয়ে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু, যেমন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ বিমান ধ্বংস করতে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ এ তথ্য জানিয়েছেন।
চীনের অস্ত্রভাণ্ডারে এই নতুন সক্ষমতা এমন এক সময়ে যুক্ত হলো, যখন ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং দীর্ঘপাল্লার হামলার অস্ত্রের সরবরাহ সংকটে রয়েছে। নতুন এই অস্ত্র আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান, এয়ারবোর্ন আর্লি-ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি) বিমান এবং উড়ন্ত কমান্ড পোস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে
এর মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর ই-৪বি নাইটওয়াচও রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তি ব্লুমবার্গকে জানান, চীনের সামরিক বাহিনী কিছু হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রেও আকাশ থেকে আকাশে হামলার সক্ষমতা যুক্ত করেছে। পাশাপাশি কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে জাহাজবিধ্বংসী সক্ষমতাও সংযোজন করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, চীনই বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি) পরিচালনা ও উন্নয়ন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উন্নয়ন চীনের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডারকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে ব্যবহারের প্রচেষ্টার বড় ধরনের সম্প্রসারণ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার চীনের কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়; এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ৩ হাজার ১৫০টিরও বেশি।
হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল বা এইচজিভি হলো এমন একটি ওয়ারহেড, যা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের পর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে হাইপারসনিক গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি পথে দিক পরিবর্তন করতে পারে।
ফলে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ওয়ারহেডের তুলনায় এর পাল্লা বাড়ে এবং প্রতিপক্ষের জন্য এটিকে শনাক্ত ও প্রতিহত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। চীনের ডিএফ-১৭ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উৎক্ষেপিত একটি এইচজিভি প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এই দূরত্ব চীন থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি গুয়াম পর্যন্ত দূরত্বের তুলনায় কিছুটা কম।
চীনের আরও উন্নত ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার। এর অর্থ হলো, সম্ভাব্যভাবে হাওয়াই পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুও এর আওতায় আসতে পারে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উদ্ভূত কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে এত দূরের একটি বিমানকে আক্রমণ করা ব্যয়বহুল, জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
সর্বোচ্চ পাল্লায় ছোড়া হলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এ কারণে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভুল এবং নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন হয়।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
