কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর এক লাখ টন কাঁচা তেলবাহী একটি জাহাজ বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পূর্ণ উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।‘
এমটি নাইনেমিয়া’ নামের জাহাজটি বুধবার দুপুরে বন্দরে ভিড়ে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শরীফ হাসনাত বলেন, ‘আজ দুপুরে জাহাজটি বন্দরে এসেছে। আনলোডিং শেষ হলে আমরা পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করব।’
ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, আনলোডিং প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ৮ বা ৯ মে’র মধ্যে রিফাইনারিটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে জাহাজ চলাচলের সূচি ব্যাহত হওয়ায় রিফাইনারিটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় কাঁচা তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, চালানটি মূলত সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে সঙ্ঘাতজনিত ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।
বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় এক হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেলের দাম ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় চালু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাঁচা তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে।অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
