ইরান যুদ্ধে আমেরিকা মাস্কের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে

প্রতিবেদন:

·

, ,

ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ‘গ্রক’ ব্যবহার করা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের একটি আইনি নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর একটি বিশাল ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত গ্যাস টারবাইন নিয়ে পরিবেশগত মামলার জবাবে মার্কিন বিচার বিভাগ এই তথ্য ফাঁস করে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পরিবেশবাদী মামলার কারণে এই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হলে তা মার্কিন জাতীয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। কারণ এই এআই উদ্ভাবনটি সরাসরি মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের সামরিক অভিযান পরিচালনা ও সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

পেন্টাগনের এআই প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এআই-সহায়ক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণী কর্মসূচি ‘প্রজেক্ট মেভেন’-এ ইতিমধ্যেই গ্রক ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন এই প্রজেক্টের মেভেন স্মার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজার আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে দুই হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

এই অভিযানের পেছনে মাস্কের প্রযুক্তি ও বিশেষ ‘গ্রক গভ মডেল’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে স্বীকার করে পেন্টাগন কর্মকর্তা গ্রকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

অবশ্য এই প্রজেক্টটি শুরুতে অ্যানথ্রপিক কোম্পানির ‘ক্লদ’ মডেল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু শতভাগ স্বয়ংক্রিয় হামলা চালাতে এবং মার্কিন নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারিতে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানালে গত ফেব্রুয়ারির শেষে অ্যানথ্রপিকের সাথে চুক্তি বাতিল করে মার্কিন সরকার।

এরপর পেন্টাগন গুগল, ওপেনএআই ও এক্সএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর দিকে হাত বাড়ায়। যদিও গুগল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শত শত কর্মী সামরিক বাহিনীর গোপন অভিযানে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই এআই প্রযুক্তিতে রূপান্তর পুরোপুরি সফল হতে সময় লাগছে। ফলে গত মার্চ মাসেও সরকার স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তখনো ‘ক্লদ’ মডেলের ব্যবহার করা হচ্ছিল।

এদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন এনএএসিপি ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট লঙ্ঘনের দায়ে মাস্কের এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, কোনো অনুমতি ছাড়াই ডজন খানেক টারবাইন চালিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ প্রধান এলাকাগুলোতে ব্যাপক দূষণ ছড়ানো হচ্ছে । তবে এক্সএআই-এর দাবি, এই টারবাইনগুলো অস্থায়ী ও স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায় এগুলো নীতিমালার আওতায় পড়ে না।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্ক গত ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআইকে তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের সাথে যুক্ত করেন, যা গত ১২ জুন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও সম্পন্ন করেছে।

এ/জেড

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ