সন্তান মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। তাই সন্তান জন্মের পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে আকিকা করার প্রতি ইসলাম উৎসাহিত করেছে। তবে অনেকের মধ্যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, আকিকা না করলে সন্তানের অকল্যাণ বা বিভিন্ন বিপদ-আপদ নেমে আসে। এ বিষয়ে ইসলামের বক্তব্য কী, তা নিয়ে রয়েছে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য।’ (সুরা আল-কাহফ, আয়াত: ৪৬)
হাদিসে সন্তান জন্মের পর আকিকা করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হজরত সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ আকিকার পশু জবাই) করো এবং তার অশুচি (চুল ইত্যাদি) দূর করে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৭৬)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখা, মাথা মুণ্ডন করা এবং আকিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৮৩২)
সুন্নত অনুযায়ী, ছেলে সন্তানের জন্য দুটি এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল আকিকা করা উত্তম। ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা, মাথার চুল ফেলে দেওয়া এবং সুন্দর নাম রাখা সুন্নত।
আকিকার পশু অবশ্যই নর হতে হবে—এমন ধারণারও ভিত্তি নেই। উম্মু কুরয (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ছেলের জন্য দুটি ছাগল এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল। পশু নর হোক বা মাদি হোক, এতে কোনো অসুবিধা নেই।’ (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১৫২২)
আকিকা না করলে সন্তানের ক্ষতি হয় বা সারাজীবন বিপদ-আপদ লেগে থাকে—এমন দাবির বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আকিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং সন্তানের কল্যাণের উদ্দেশ্যে এটি করা উচিত। তবে আকিকা না করলে সন্তান অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন কোনো বক্তব্য সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সন্তানের কল্যাণ কামনায় আকিকা করা উত্তম।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
