রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত রেলপথ: নিরাপত্তা দেবে আফগানিস্তান

প্রতিবেদন:

·

রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেলপথের সুরক্ষায় শতভাগ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এই রেলপথ চালু হলে সরাসরি ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে মস্কো।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আরটি বুধবার (১২ আগস্ট) এক খবরে এই তথ্য জানিয়েছে।

আরটি ইন্ডিয়ার সংবাদ প্রধান রুনঝুন শর্মাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল রহমান হাবিব বলেন, ‘হাঁ, আফগানিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। এই প্রকল্প চালু হলে আফগানিস্তানে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আমরা এই ধরনের যেকোনো প্রকল্পকে সব সময়ই সমর্থন করি।’

তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি হবে না।

আরটি ইন্ডিয়ার সংবাদ প্রধান রুনঝুন শর্মাকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন আফগানিস্তানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল রহমান হাবিব |

কেন এই নতুন রেলপথ?

রাশিয়া থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত নতুন এই রেললাইনের ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। গত সপ্তাহে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী বা সমুদ্রপথে যেকোনো জটিলতা ও ঝুঁকি এড়াতেই এই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে মস্কো।

খুসনুলিন জানান, ভারতের সাথে সংযোগ তৈরি করে এমন যেকোনো প্রস্তাবই রাশিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য। এর জন্য তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য সব রুট বা পথ খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

আফগানিস্তান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি একটি চারপাশ স্থলবেষ্টিত দেশ, অর্থাৎ এর নিজস্ব কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ভারত মহাসাগর ও ভারতের সাথে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালু হলে কাবুলের বাণিজ্যিক আয় অনেকটাই বেড়ে যাবে।

২০ বছরের যুদ্ধের পর ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের পর কাবুলের ক্ষমতায় বসে তালেবান। তারা আসার পর থেকে দেশটিতে সার্বিক শান্তি অনেকটাই ফিরে এসেছে।

রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণও এখানে বেশ স্পষ্ট। মধ্য এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে গত মে মাসে তালেবান সরকারের সাথে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে মস্কো।

অন্যান্য দিক থেকেও এই প্রকল্প বেশ অর্থবহ। ভারত হলো রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। বর্তমানে এই তেলবাহী জাহাজগুলোকে লোহিত সাগরের বিপজ্জনক ‘বাব-এল-মানদেব’ নৌপথ এবং হরমুজ প্রণালী ও ওমানের সংঘাতপূর্ণ এলাকা পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

এর বাইরেও নয়া দিল্লি ও মস্কোর সম্পর্ক বহুদিনের পুরনো বন্ধুত্বের। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সামরিক ও প্রতিরক্ষা যোগাযোগ রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত ও রাশিয়া। নতুন এই সুরক্ষিত রেল যোগাযোগ চালু হলে সেই লক্ষ্য পূরণ অনেক সহজ হবে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ