ক্রীড়া ডেস্ক:
আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজকীয় সূচনা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করে কানসাস মাতিয়েছেন লিওনেল মেসি। স্বভাবতই ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গোল ডটকম’এর ম্যাচ রেটিংয়ে দশে ১০ পেয়েছেন এই জাদুকর।
চ্যাম্পিয়নদের এমন দাপুটে শুরুর পর সমর্থকদের মনে কৌতুহল, মেসির জাদুকরী রাতে আলবিসেলেস্তেদের বাকি ফুটবলাররা কে কেমন খেললেন? গোল ডটকমের রেটিং অনুযায়ী স্কালোনির শিষ্যদের পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ নিচে তুলে ধরা হলো:
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (৭/১০): পুরো ম্যাচে আলজেরিয়ার আক্রমণভাগ আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে না পারায় খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি ‘দিবু’কে। তবে পাসিং ও ব্যাক-পাস থেকে বল বণ্টনে ছিলেন দারুণ কার্যকর। পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র একবার বল ক্লিয়ার করতে হয়েছে তাকে।
লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (৮/১০): রক্ষণে আজ তিনি ছিলেন অনবদ্য ও চীনের প্রাচীর। আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ডদের কোনো সুযোগই দেননি। দুর্দান্ত লড়াই করে চারবার বল ক্লিয়ার করার পাশাপাশি দুটি নিখুঁত ট্যাকল ও একটি ইন্টারসেপশন দিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রথমাংশেই ভেঙে দেন।
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৭/১০): ম্যাচে আলজেরিয়া অন-টার্গেটে শট নিতে পেরেছে মাত্র একটি। এতেই প্রমাণ হয় রোমেরো-লিসান্দ্রো জুটি কতটা জমাট ছিল। রক্ষণ সামলে প্রতিপক্ষের চারটি বিপজ্জনক আক্রমণ নস্যাৎ করেছেন তিনি। ৭৯ মিনিটে তাকে তুলে ওটামেন্ডিকে নামানো হয়।
ফাকুন্দো মেদিনা (৭/১০): নিকোলাস টাগলিয়াফিকোর অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে প্রতিপক্ষ উইঙ্গারদের বোতলবন্দী করে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। পুরো ম্যাচে দুটি সফল ট্যাকল, একটি ব্লক এবং একবার বল ক্লিয়ার করেছেন এই ডিফেন্ডার।
গঞ্জালো মন্তিয়েল (৭/১০): প্রথমার্ধে নিজের পজিশন ধরে রেখে রক্ষণে দারুণ অবদান রেখেছেন। তবে আগে থেকে ঠিক করে রাখা কোচের রণপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দ্বিতীয়োর্ধের শুরুতে তাকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে মাঠে নামানো হয়।
রদ্রিগো ডি পল (৮/১০): মাঝমাঠে বরাবরের মতোই কড়া প্রহরী ও ইঞ্জিন ছিলেন ডি পল। ৯০ মিনিটে ৬৮ বার বল টাচ করে ৯২ শতাংশ সফল পাস দিয়েছেন। এ ছাড়া লিওনেল মেসির সেই চোখধাঁধানো প্রথম গোলটির অ্যাসিস্টও আসে তার পাস থেকেই।
আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার (৭/১০): আক্রমণ ও রক্ষণ, উভয় ক্ষেত্রেই বল পায়ে এবং বল ছাড়া দারুণ খেলেছেন। ৯৪ শতাংশ সফল পাসের পাশাপাশি একটি সফল ট্যাকল, ছয়টি রিকভারি ও দুটি বল ক্লিয়ার করেছেন। তার নেওয়া নিচু শট থেকেই মূলত মেসির দ্বিতীয় গোলটি আসে।
এনজো ফার্নান্দেজ (৭/১০): পাসিংয়ে বরাবরের মতোই নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার ফুটবল খেলেছেন। মাঝমাঠের বল দখলে রাখতে এবং আক্রমণ সচল রাখতে পুরো ম্যাচেই কার্যকর ভূমিকা ছিল তার।
থিয়াগো আলমাদা (৬/১০): বাম উইং ধরে গতি দিয়ে আলজেরিয়ার বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। তবে শুরুর দিকে কিছু আক্রমণ শাণানো ছাড়া মাঠের বাকি সময়টায় তেমন বিশেষ কোনো অবদান রাখতে পারেননি এই উইঙ্গার।
লিওনেল মেসি (১০/১০): পুরো ম্যাচেই ছিল কেবল ‘মেসি ম্যাজিক’। ৫৭ বার বল টাচ করে ৩০টি সফল পাস ও ২টি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছেন। পেনাল্টি বক্সে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখার পাশাপাশি নিয়েছেন ৬টি শট, যার ৪টিই ছিল অন-টার্গেট এবং ৩টিই গোল! এমন পারফরম্যান্সের পর দশে ১০ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না খোদ সমালোচকদেরও।
লাউতারো মার্টিনেজ (৫/১০): দলের বড় জয়ের রাতে একমাত্র হতাশার নাম লাউতারো। মাঠে কাটানো ৫৫ মিনিটে একেবারেই চেনা ছন্দে ছিলেন না ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড। শট ও পাসের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেছেন বারবার। আক্রমণে দলের জন্য কোনো গোলস্কোরিং সুযোগ বা ফাঁকা জায়গাও তৈরি করতে পারেননি।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
