শিক্ষা ডেস্ক:
বরিশালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উভয় পক্ষই বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং সড়ক অবরোধ করে। এতে পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে এ উত্তেজনা চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের জিয়া সড়কে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব আল আমিন মৃধার মধ্যে আকস্মিক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতুল কলেজের অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী।
দুপুরের সেই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার পর আল আমিনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রদল কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অশ্বিনী কুমার হলে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে রাতুলসহ হলের সাধারণ ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হলের ভেতরে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ছাত্রাবাস থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হয়ে আসেন এবং কলেজ সংলগ্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে ওই ব্যস্ততম সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
তবে ছাত্রদলের অপর অংশের দাবি, সোমবার সন্ধ্যার দিকে নগরীর জিয়া সড়ক এলাকায় জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিনের ওপর হামলা চালায় বিএম কলেজ ছাত্রদলের একাংশের নেতা রাতুল ও তার সহযোগীরা। খবর ছড়িয়ে পড়লে সদস্য সচিবের অনুসারীরা ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করা হয়েছে। রাতুল লোকবল নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশসহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষের উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
