স্পেন

  • ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ছয়টা ম্যাচ, সাতটা শট, সাতটা গোল!
    একজন নাম্বার নাইনের কাছে দল আর কী চাইতে পারে। তার ওপর সেই নাম্বার নাইন যদি দলের মূল স্ট্রাইকার না হন, যদি তিনি খেলেন স্রেফ বদলি নেমে, তাহলে এই পরিসংখ্যানটা কীভাবে দেখবেন? দুর্দান্ত নয় কি? পিএসজির সেই নাম্বার নাইনের নাম ফেরান তোরেস।

    বিশ্ব ফুটবলে ঠিক ওই অর্থে তিনি বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। অথচ স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়া গোলটা তাঁর। দুই মাস আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের একমাত্র গোল তাঁকে এনে দিয়েছিল ম্যাচসেরার পুরস্কারও। কী কাকতাল, ওই ম্যাচেও তিনি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। বদলি নেমেছিলেন ৬২ মিনিটে।

    প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ইনস্টাগ্রাম

    বিশ্বকাপে ওই রকম একটা কীর্তির পরও কিন্তু স্পেন দলে রদ্রি বা ইয়ামালদের যে তারকাখ্যাতি, ফেরান তোরেস তার ধারেকাছে যেতে পারেননি। কিছুটা অলক্ষ্যেই তাই নতুন মৌসুমে দলবদল করে বার্সেলোনা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্যারিসে। পিএসজিও তাঁকে নিয়ে কোনো ঢাকঢোল পেটায়নি, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। আসলে লুইস এনরিকে তাঁকে নিজের দলে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে নেননি, নিয়েছিলেন বিকল্প হিসেবে। কিন্তু তোরেস শুধু বিকল্প হয়ে থাকতে চাননি যে!

    প্যারিসে পা রাখার পর তাই তিনি খুব বেশি সময় নিলেন না। লিগ আঁ-তে রেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বদলি নেমে জোড়া গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির জার্সিতে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক, কী অবিশ্বাস্য শুরু! বার্সেলোনায় তিনি যে তোরেস ছিলেন, প্যারিসে গিয়ে যেন হয়ে উঠেছেন সেটারই এক আপগ্রেড ভার্সন। আরও ধারালো, আরও নির্দয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লুইস এনরিকের দলে তাই তিনি হয়ে উঠেছেন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তোরেস।ইনস্টাগ্রাম

    গত রাতে মার্শেইয়ের বিপক্ষে ক্লাসিকো ম্যাচটাই দেখুন না। গোল পাচ্ছিল না পিএসজি। কোচ এনরিকের তখন এমন কাউকে দরকার, যে গোল করতে পারবে, ম্যাচ বদলে দিতে পারবে। ৫৯ মিনিটে বদলি নামানো হলো তোরেসকে। ৬৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দিলেন পিএসজিকে। ছয় মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে মার্শেই, গোল করেন অ্যাঞ্জেল গোমেস। কিন্তু সেই সমতা টিকল মাত্র তিন মিনিট। ৭৫ মিনিটে মার্কিনিওস গোল করে আবার এগিয়ে দেন পিএসজিকে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানেই জয়।

    জয়টা শুধু পিএসজিকে তিন পয়েন্টই দেয়নি, দিয়েছে মৌসুমের শুরুর দিকের জড়তা কাটিয়ে জেগে ওঠার আত্মবিশ্বাসও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন জয় বলছে, পিএসজি আবার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। আর সেই ছন্দের কেন্দ্রে তোরেস।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। তিনটায় শুরুর একাদশে, কোনোটিতেই পুরো সময় খেলেননি। বাকি তিনটায় বদলি হিসেবে। সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, গোলমুখে সাতটা শট নিয়েছেন, সাতটাই গোল! প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’ জানাচ্ছে, পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। পিএসজিতে প্রথম ছয় ম্যাচে তাঁর গোল ছিল আটটি। তোরেস কি আরও একজন ইব্রা হতে যাচ্ছেন?

    পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ইনস্টাগ্রাম

    তুলনাটা এখন আর শুধু কথার কথা নয়, সংখ্যাই বলছে। তবে তোরেস নিজে সংখ্যার মোহে ভাসতে চান না। তাঁর সহজ-সরল কথা, ‘সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে হয়। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় বারবার।’

    কিন্তু এই পরিসংখ্যান শুধু ভাগ্যের ছোঁয়া পাওয়ার গল্প নয়। বক্সে অবস্থান নেওয়া, সতীর্থদের মুভমেন্ট পড়া, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া আর শেষ ছোঁয়ার যথার্থতা—সব মিলিয়ে নিখুঁত এক স্ট্রাইকার, যেমনটা একজন কোচ চান।

    তোরেসের এমন পারফরম্যান্স তাই দোটানায় ফেলে দিয়েছে এনরিকেকেও। আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, খিচা কাভারাস্কেইয়া, দেজিরে দুয়ের মতো তারকার ছড়াছড়ি পিএসজিতে। সেখানে বেঞ্চের বিকল্প হিসেবে প্যারিসে পা রাখা তোরেস এখন শুরুর একাদশের জন্য তীব্র দর-কষাকষি শুরু করেছেন। ৪ গোল নিয়ে এখন তিনি লিগ আঁ-তে দলটির শীর্ষ গোলদাতাও। তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে।

    ৪ গোল নিয়ে এখন তোরেস লিগ আঁ-তে পিএসজির শীর্ষ গোলদাতা। ইনস্টাগ্রাম

    লুইস এনরিকেও তা বুঝছেন। নতুন এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সন্তুষ্টির কথা লুকাননি তিনি। বলেছেন, ‘নতুন যারা এসেছে, সবাই দলকে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ফেরান অসাধারণ খেলছে। ডিফেন্সের পেছনে ফাঁকা জায়গা বের করা এবং তা কাজে লাগানোর চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে তার। মাঝমাঠে যখন ওর মতো খেলোয়াড় থাকে, খেলা সহজ হয়ে যায়। ও এখন নিজের সেরা ছন্দে আছে।’

    আর তোরেস? শুরুর একাদশে নিয়মিত না থাকা নিয়ে কথা বলতে তিনি খুব একটা আগ্রহী নন। বলার দরকারও নেই অবশ্য। সংখ্যাই তো তাঁর হয়ে কথা বলছে, এনরিকেকে চাপ দিচ্ছে। সেই চাপ খুব বেশি দিন উপেক্ষা করা মনে হয় সম্ভব হবে না পিএসজি কোচের জন্য।

  • পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়দের মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বার্সেলোনা।

    তবে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী প্রতীক এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার পর সেই আয়োজন বাতিল করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    বৃহস্পতিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে স্প্যানিশ লিগের হোম ম্যাচে নামার আগে ক্যাম্প ন্যুতে এস্তেলাদার সমর্থনে একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় একটি সংগঠনের আয়োজনে সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ছোট পতাকা বিতরণ করা হয়। গ্যালারিতেও দেখা যায় বড় আকারের বেশ কিছু পতাকা ও ব্যানার। বার্সার সংগীত বাজানোর সময় সমর্থকেরা পতাকাগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

    ম্যাচের আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার সমর্থক ক্যাম্প ন্যুর আশপাশে এস্তেলাদা হাতে মিছিলও করেন।

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলে বার্সার আটজন খেলোয়াড় ছিলেন। এরা হলেন জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পেদ্রি, পাউ কুবার্সি, গাভি, রদ্রি, দানি ওলমো ও লামিনে ইয়ামাল। কোনো ক্লাবের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ কারণেই তাঁদের সম্মান জানাতে বিশেষ সংবর্ধনার পরিকল্পনা করেছিল বার্সা।

    তবে গত সপ্তাহে এলচের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বার্সার এক তরুণ সমর্থকের কাছ থেকে পুলিশ এস্তেলাদা পতাকা নিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই সমর্থক পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে আটক করা হয়।

    এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বার্সা। ক্লাবটির দাবি, এস্তেলাদা একটি আইনসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রতীক এবং এটি প্রদর্শন করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বৈধ প্রয়োগ। একই সঙ্গে সমর্থককে আটকের পদ্ধতিকেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে বার্সা। পুলিশের বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যৌক্তিকতা ছিল না বলে মনে করে ক্লাবটি।

    বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা বাতিলের ব্যাখ্যায় বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন কিছু আয়োজন করা যাচ্ছে না। ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা উচিত। সংঘাত তৈরি করা যাবে না।’

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে এর আগে দেশটির অন্যান্য ক্লাবও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন আয়োজন করেছে। সেসব অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনের পাশাপাশি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকেও উপস্থিত রাখা হয়েছিল। তবে বার্সার ক্ষেত্রে এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে তৈরি উত্তেজনার কারণে সেই ধারাবাহিকতা আর থাকল না।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • স্পেন-মরক্কোর সংকটে কলকাঠি নেড়েছে ইসরাইল

    স্পেন-মরক্কোর সংকটে কলকাঠি নেড়েছে ইসরাইল

    সম্প্রতি মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটায় প্রবেশ করেছিল। এই ঘটনার পেছনে ইসরাইলের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেনের এক মন্ত্রী।

    জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন শুক্রবার এক্সে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘স্পেন, যারা ইসরাইলকে জ্ঞান দেওয়ার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করে না, তারা এখন তাদের অভিবাসন নীতি নিয়ে সংকটের মুখে সেউটায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের জ্ঞান দেওয়ার আগে হয়তো তাদের বিশ্বকে ব্যাখ্যা করা উচিত, কেন তারা এখনো আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক ছিটমহল ধরে রেখেছে।’

    ড্যাননের এই পোস্ট শেয়ার করে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে মন্তব্য করেন, ‘বেশ, পুরো ব্যাপারটা এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।’

    স্পেনের অনেক রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষক আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতা করার প্রতিশোধ হিসেবে স্পেনের জন্য সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

    বামপন্থী দল রিপাবলিকান লেফট অব কাতালোনিয়ার সংসদীয় মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল রুফিয়ানও দাবি করেন, এই সংকট আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থই রক্ষা করছে।

    স্পেনের সাংবাদিক হোসে ভিজনার এদিকে ২০১৯ সালের একটি পুরোনো পোস্ট শেয়ার করেন। এটি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুর করা একটি পোস্ট, যেখানে সেউটায় বিচ্ছিন্নতাবাদে ইসরাইলের সমর্থনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

    স্পেনের বিখ্যাত অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমও একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিযোগ করেন, এই সীমান্ত পারাপারের পেছনে ইসরাইলের হাত রয়েছে।

    পর্তুগালের সাবেক মন্ত্রী ও বিশ্লেষক ব্রুনো মাকায়েস বলেন, ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত না হলেও ঘটনার পর তারা গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্তমান স্পেন সরকারের বিরুদ্ধে এই ঘটনাকে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল তারা।

    মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত সেউটা স্পেনের একটি অঞ্চল। দেশটির উত্তর উপকূলে আরেকটি স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিয়া। এই দুটি জায়গাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার মধ্যে একমাত্র স্থল সীমান্ত।

    স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউটায় প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিশু।

    অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তের বেষ্টনী ঘুরে সাঁতরে ছিটমহলে ঢুকছেন অনেকে। কেউ কেউ সাঁতারের পোশাক পরে ও ভাসমান রিং ব্যবহার করে এই বিপজ্জনক যাত্রা করেন।

    ফ্রান্স জানায়, তারা স্পেনের সাথে তাদের সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইতালি হুমকি দেয়, ইইউর মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা থেকে স্পেনকে স্থগিত করা হতে পারে।

    তবে শনিবার স্পেন জানায়, প্রায় ৪৮ হাজার অভিবাসী ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেছে। স্পেনের সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

    অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু অভিবাসী সুড়ঙ্গে লুকিয়ে আছেন, আবার কেউ কেউ সেউটার রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন।

    ছিটমহলে পৌঁছাতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কী কারণে এই পারাপারের স্রোত শুরু হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের মে মাসে পশ্চিম সাহারা নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মরক্কান নাগরিক সেউটায় প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় স্পেন অভিযোগ করেছিল, মরক্কো অভিবাসীদের চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে। জবাবে মরক্কোর এক মন্ত্রী বলেছিলেন, কূটনৈতিক বিরোধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা তাদের জন্য যৌক্তিক ছিল।

    কিছু বিশ্লেষক এবার মরক্কোকেও দোষারোপ করছেন। তাদের মতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সম্প্রতি আলজেরিয়া সফরে ক্ষুব্ধ হয়েছে মরক্কো সরকার। আলজেরিয়া স্পেনের সবচেয়ে বড় গ্যাস সরবরাহকারী দেশ।

    বার্সেলোনার পম্পেউ ফাব্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেনজো গাব্রিয়েলি সেউটায় অভিবাসন নিয়ে গবেষণা করেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এক দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মরক্কো-স্পেন সীমান্ত পার হওয়া, মরক্কোর সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়।’

    সেউটার প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস এই অভিবাসনকে স্পেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানান।

    স্পেনে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত কারিমা বেনইয়াইচ বলেন, ‘আমরা সবসময় সবার জন্য বৈধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সীমান্ত পারাপার মরক্কো সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ঘটেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় না থাকলে আমাদের দেশ এমন মাত্রায় আক্রান্ত হবে, যার তুলনায় স্পেনের ঘটনাকে সামান্যই মনে হবে।’

  • রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে রোদ্রিকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইয়ান দিওমান্দের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।

    স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘মার্কা’–এর দাবি, রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস ৩০ বছর বয়সী রোদ্রিকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনায় এরই মধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ালের প্রধান কোচ হোসে মরিনহো প্রথমে মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে এনসো ফের্নান্দেস এবং মাতেউস ফের্নান্দেস সহ আরও কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রোদ্রিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে রোদ্রির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং গোল্ডেন বল জেতা এই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।

    রোদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ৬ কোটি ইউরোর বিনিময়ে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানো সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করছে রিয়াল মাদ্রিদ।

  • ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    বিশ্বকাপজয়ী দলের কথা উঠলে সাধারণত আলোচনায় আসে কৌশল, ফরমেশন কিংবা তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স। কিন্তু স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের আরেকটি বড় সূত্র আছে। তাঁর ভাষায়, দলে শুধু ভালো ফুটবলার থাকলেই হয় না, ভালো মানুষও থাকতে হয়।

    বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্পেনের সাফল্যের নেপথ্যের দর্শন তুলে ধরেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে একই ফুটবল-দর্শনে অবিচল থাকা, সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ধরে রাখা স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে।

    ভালো ফুটবলারের পাশাপাশি ভালো মানুষ কেন দরকার, সেই ব্যাখ্যায় ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে একসঙ্গে ৫২ দিন কাটিয়েছি, অলিম্পিকে ৪৫ দিন এবং অনূর্ধ্ব-২১ দলের সঙ্গে ৪৩ দিন থেকেছি। ভালো মানসিকতার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে চাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। এতে দল পরিচালনা করাটা অনেক সহজ হয়।’

    ফুয়েন্তে জানান, স্পেনের দীর্ঘ সময়ের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে একটি সমস্যাও হয়নি। এমনকি যাঁরা এক মিনিটও খেলেননি, তাঁরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, ‘বয়সভিত্তিক ফুটবলে বহু বছর কাজ করার কারণে তাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই আমরা খুব ভালোভাবে চিনি। তারা আমাদের কাঁচামাল। আমরা জানি কারা মানসিকভাবে শক্ত, বা ক্যাম্পের ৫২ দিন এক মিনিটও খেলার সুযোগ না পেলেও কারা মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে না।’

    ফুয়েন্তেকে জিজ্ঞাসা করা হয় ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সঙ্গে এই দলের কী কী মিল তিনি দেখতে পান? এই স্পেনও কি সেই ‘টিকিটাকা’র ধারকবাহক কি না। জবাবে মূল মডেল একই আছে জানিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘টিকিটাকার মতো বহুল প্রচলিত শব্দের আমার পছন্দ নয়। এটাকে আমার ‘কম্বিনেশন ফুটবল’ বলতে ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে ‘টিকিটাকা’ শব্দটিকে কিছুটা নেতিবাচকভাবেও ব্যবহার করা হতো। তা সত্ত্বেও এই ফুটবল দর্শন স্প্যানিশ ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে, যার সূচনা হয় ক্লাব পর্যায়ে। জাতীয় দল কেবল এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছে।’

    ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেনএএফপি

    ফুয়েন্তের মতে এখনকার ফুটবলে শুধু বল দখলে রাখলেই সাফল্য সম্ভব নয়। একটি দল ৩০ শতাংশ বলের দখল রেখেও ৩-১ ব্যবধানে জিততে পারে। স্পেন বর্তমানে যে মডেল ব্যবহার করে, সেটি বোঝার জন্য ইউরোপের অন্য পরাশক্তিরা জানতে আসে বলেও জানান ফুয়েন্তে, ‘ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি—সবাই এসেছে। একটা সময় ইতালি খুব ঘনঘন আসত। জার্মানিরও একটা সময় আমাদের মতো খুব শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। তবে এটি খুব সহজ নয়, বেশ জটিল। প্রথমত, এর জন্য বছরের পর বছর কাজ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, এটি ক্লাবগুলোর ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করে। কারণ, ক্লাবের কোচেরাই তরুণদের গড়ে তোলেন। একদম ছোটবেলা থেকে পাওয়া এই শিক্ষার কারণেই ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা বিশ্বের সেরা।’

  • বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন ফুটবল দল। সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা এবং রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা।

    মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর দলের প্রথম গন্তব্য ছিল সারসুয়েলা প্রাসাদ। সেখানে স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানান। এ সময় রাজা ফেলিপে বলেন, ‘এই শিরোপা শুধু একটি দলের অর্জন নয়, এটি পুরো স্পেনের গর্ব।’

    এরপর দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো সমর্থক করতালি, পতাকা ও স্লোগানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান।

    প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কোয়ার। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০ লাখ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। আলোকসজ্জা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে উঠে খেলোয়াড়রাও সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।

    উৎসবের মঞ্চে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। দুই বছর আগে বলেছিলাম, আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী। আজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখলাম।’

    মাদ্রিদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। আগামী কয়েক দিনে স্পেনের বিভিন্ন শহরেও দলটির সম্মানে সংবর্ধনা ও বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

  • মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবারসির

    মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবারসির

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর উচ্ছ্বাসের মধ্যেও প্রতিপক্ষের কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সি সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি।

    শৈশব থেকেই মেসিকে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখে আসা কুবারসি বলেন, প্রিয় খেলোয়াড়কে পরাজিত হতে দেখা তার জন্য সহজ ছিল না। তার ভাষায়, ‘তিনি আমার আদর্শ। তাই তাকে এভাবে হারতে দেখা আমার ভালো লাগেনি।’

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার প্রতি কুবারসির এই আবেগঘন মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে ফাইনালেই। তবে পরাজয়ের বেদনার মাঝেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাতে ভোলেননি লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেসি লিখেছেন, “ব্যথাটা অনেক গভীর এবং এই ক্ষত শুকাতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু আমি ভালো স্মৃতিগুলোকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই।”

    টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার নামের পাশে এখন ২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট।

    তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত সাফল্যই যে তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই ফুটে উঠেছে পুরো বার্তাজুড়ে। তিনি লিখেছেন, “যে ম্যাচগুলোতে আমরা সবটুকু উজাড় করে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, সেগুলো চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে থাকবে। পুরো দেশের সমর্থন এবং এই দলের পরিশ্রম আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে জায়গা করে দিয়েছে। আজ আমরা যা করেছি, তার মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে।”

    সমর্থকদের উদ্দেশেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, “প্রতিটি শুভেচ্ছা এবং বার্তার জন্য হৃদয় থেকে অনেক ধন্যবাদ। আবারও আমরা দেশ হিসেবে একত্রিত হতে পেরেছি এবং সবাই একসঙ্গে আর্জেন্টাইন হওয়ার বিশাল গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।”

    নিজেদের স্বপ্নভঙ্গের মাঝেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। পোস্টের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, “আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।”

    ফাইনালের পর মেসির এই বার্তা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। হতাশা, কৃতজ্ঞতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান—সবকিছু মিলিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এই পোস্টকে অনেকেই একজন সত্যিকারের কিংবদন্তির ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

  • ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। অবিশ্বাস্য এই ফাইনাল শেষে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মনে হয়েছে, ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।

    রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন তোরেস। তার সেই গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন।

    ম্যাচ শেষে ফিফার সম্প্রচারমাধ্যমকে তোরেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত এই গোলটি শুধু আমাদের কয়েকজনের নয়, স্পেনের ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। এই শিরোপা আমাদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। আজ আমরা আমাদের দেশের মানুষ থেকে অনেক দূরে আছি, কিন্তু যতটা সম্ভব তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল সব সময়ই কঠিন হয়। প্রতিপক্ষে যখন লিওনেল মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকে, তখন অবশ্যই কিছুটা দুশ্চিন্ত থাকে। কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, সেটি আমরা আবারও করে দেখাতে পেরেছি।’

    গোলের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোল করতে পেরে বিশাল স্বস্তি পেয়েছি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি সব সময় আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন। আর শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মানুষদেরই প্রাপ্য জিনিসটি দেন, যারা সত্যিই তার যোগ্য।’

  • গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

    গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। এই সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি। গোল কিংবা অ্যাসিস্টের ঝলক না থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতে নিয়েছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট ছাড়া কীভাবে সেরা হলেন তিনি?

    একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রির মূল দায়িত্ব গোলের হিসাব মেলানো নয়, বরং খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের মাঝমাঠকে সুতোয় বেঁধে রেখেছিলেন। বলের দখল রাখা, রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে ওঠার সংযোগ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই তা নস্যাৎ করে দেওয়ায় রদ্রি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। স্পেনের রক্ষণভাগ যে পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করেছে, তার পেছনে রদ্রির রক্ষণাত্মক দক্ষতার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।

    রদ্রির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানের পাতায়। টুর্নামেন্টের ৮ ম্যাচে তিনি সফল পাস দিয়েছেন ৬৫০টিরও বেশি। মাঠে তার দৌড়ের পরিধি এবং উচ্চগতির দৌড়ের সংখ্যা ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিলেন রদ্রি। দলের প্রতিটি আক্রমণ বা রক্ষণাত্মক জমাট বাঁধার মুহূর্তে তিনি ছিলেন এক অবিচল স্তম্ভ।

    কেন মেসিকেও পেছনে ফেললেন রদ্রি?ফাইনালে হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেও গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে হেরেছেন রদ্রির কাছে। অনেকের কাছে এটি অবাক করা বিষয় হলেও, ফিফার মূল্যায়নের মানদণ্ড ভিন্ন। ফিফা শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান বা গোল-অ্যাসিস্ট দেখে সেরা নির্বাচন করে না। একজন ফুটবলারের খেলার সামগ্রিক প্রভাব, দলের প্রতি অবদান, ধারাবাহিকতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। রদ্রি টুর্নামেন্টজুড়ে যে অসামান্য ভারসাম্য এবং দলগত শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন, সেটিই তাকে সবকিছুর উর্ধ্বে জায়গা করে দিয়েছে।

  • স্পেনের লাল ঝড়ে, সোনালি বিজয়

    স্পেনের লাল ঝড়ে, সোনালি বিজয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন শেষ বাঁশিটা বাজল, লিওনেল মেসির বিষণ্ন মুখের ওপর তখন ডুবে যাওয়া সূর্যের আলো– চার বছর আগের লুসাইলের সেই রূপকথার এক নির্মম, নিষ্ঠুর বৈপরীত্য! ‘দিবু’ মার্টিনেজের ১৩টি অতিমানবীয় সেভের সেই অবিশ্বাস্য দেয়াল, এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের পর ১০ জনের আর্জেন্টিনার সেই আদিম ডিফেন্স– সবকিছু স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ফুটবলের স্বর্গীয় সিংহাসন ছিনিয়ে নিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।

    লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসদের গতিময় উইং-প্লে আর মাঝমাঠের নিখুঁত তিকিতাকার অলকানন্দায় ভেসে গেল স্কালোনির রক্ষণাত্মক সাম্রাজ্য। ১-০ গোলে স্পেনের রক্তকরবীর কাছে মাথা নত করতে হলো আর্জেন্টিনাকে। ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে মেসি-যুগের এক মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্ব ফুটবল দেখল এক নতুন সূর্যোদয়, যেখানে মেসির রাজমুকুট কেড়ে নিয়ে নিউ জার্সির বুকে রাজ্যাভিষেক হলো একুশ শতকের নতুন ফুটবল সম্রাট– স্পেনের! ২০১০ সালের পর ফের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    যারা বিশ্বাস করেছিলেন, ফুটবল-ঈশ্বর মেসিকে শূন্য হাতে ফেরাবেন না, তারা এদিন এক মহাসত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্তব্ধ। স্প্যানিশ ফুটবলের সেই উদ্ধত, তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নিখুঁত জ্যামিতির কাছে পরাস্ত হলো লাতিন আমেরিকার চিরন্তন ঘরানা। স্পেনের তিকিতাকার সেই মরণকামড়ে নীল-সাদার স্বপ্ন আজ যেন ডানাভাঙা পাখির মতো আছড়ে পড়ল মাঠের সবুজ ঘাসে। ৩৯ বছরের এক ক্লান্ত জাদুকর, যাঁর কাঁধে চেপে বিগত কয়েক বছর এক অবিনাশী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল আর্জেন্টিনা, আজ তাঁর শরীরেও যেন ভর করেছিল এক অসহনীয় ক্লান্তি এবং অবসাদগ্রস্ততা। মাঝমাঠে রদ্রি-ইয়ামালদের সেই ত্রাসজাগানিয়া ক্ষিপ্রতা আর স্পেস-ফুটবলের আগ্রাসনের সামনে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছিল।

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচ রিপোর্ট লিখতে বসে পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে যে কোনো ফুটবল রোমান্টিকের বুক কেঁপে উঠবে– পুরো ৯০ মিনিটে অবিশ্বাস্য ৬৬.৩ শতাংশ বল পজেশন ধরে রেখেছিল স্প্যানিশ আর্মাডা, যেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা স্রেফ ৩৩.৭ শতাংশ বলের মালিকানা নিয়ে কোণঠাসা হয়ে ধুঁকেছে। গোলমুখের নির্মম সত্যটা আরও ভয়াবহ– যেখানে স্পেনের আক্রমণাত্মক ঝড়ের ১৭টা কামানের গোলা আছড়ে পড়েছে, সেখানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার পাশে জ্বলজ্বল করছে এক বড় শূন্য! ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে এই নীল-সাদা ব্রিগেডকে চেনাই যায়নি। ভাগ্যদেবীর অশেষ কৃপায় বারবার নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে বেঁচেছে তারা। কিন্তু ৯০ মিনিটে নাটকের আসল ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি ছিল। স্পেনের ২৩ বার প্রতিপক্ষের বক্সে সশব্দে ঢুকে পড়ার বিপরীতে স্কালোনির দল মাত্র দুবার পা ছোঁয়াতে পেরেছিল লা রোজাদের দুর্গে। স্প্যানিশদের ৬৪৭টি নিখুঁত পাসের আলপনার সামনে মেসিদের ৩৩৭টি পাস আর ৭৯.৫ শতাংশ পাসিং অ্যাকুরেসি স্রেফ খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে। তার ওপর ম্যাচের অন্তিমলগ্নে যখন এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন, তখন আর্জেন্টিনাকে বাধ্য হয়েই অলআউট ডিফেন্সের এক নরক যন্ত্রণার গহ্বরে সেঁধিয়ে যেতে হলো।

    সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের সমস্ত ট্যাকটিকসকে একা বুক দিয়ে রুখে দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; একের পর এক ১৩টি অতিমানবীয় গোল সেভ করে তিনি যেন একাই আস্ত একটা প্রাচীর! ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিকো উইলিয়ামসের সেই হৃৎস্পন্দন থামিয়ে দেওয়া বুলেট কিক কিংবা তার আগে লামিনে ইয়ামালের বিষাক্ত ফ্রিকিক– সবকিছুই এসে আছড়ে পড়ল দিবুর ওই ইস্পাতকঠিন গ্লাভসে। ১৯টি ফাউল করে ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করা আর্জেন্টিনাকে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও যে কোনো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেননি রদ্রি-পেদ্রিরা, তার একমাত্র কারণ মাঝমাঠের ওই সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

    একটা চেষ্টা ছিল আর্জেন্টাইনদের– যদি কোনো অলৌকিক উপায়ে টাইব্রেকার বা অতিরিক্ত সময়ে ভাগ্য বদলে দেওয়া যায়। কিন্তু প্রতিবারই কি ভাগ্য সহায় হয়! তা ছাড়া ভাগ্য তো থাকে সাহসীদের সঙ্গে। এত ভিতু আর্জেন্টিনাকে এর আগে কবে দেখা গেছে? প্রেসবক্সে গজগজ করতে থাকা পাশের আর্জেন্টাইন সাংবাদিক বলে দিলেন– মেসি-উত্তর এই দল আরও বিপদে পড়বে সামনে!

  • স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফুটবল বিশ্বের সব অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। শিরোপার মহারণ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন, কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

    এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার প্রকাশ করেছে নিজেদের পূর্বাভাস। তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

    অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫.১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ।

    অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    তবে ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। এর মধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল, আর ২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ের এই ভারসাম্যই ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে ধারাবাহিক, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল। তাই সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে ১২০ মিনিটের লড়াই। প্রয়োজনে টাইব্রেকারের নাটকীয়তাও হতে পারে এই মহারণের শেষ অধ্যায়।

  • মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের সবচেয়ে বড় ভাবনার নাম লিওনেল মেসি। তাকে আটকাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেণ তারা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে। প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

  • মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড মার্টিনেজ

    মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড মার্টিনেজ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ কেবল একজন প্রথাগত গোলরক্ষক নন, মাঠের একজন দুর্দান্ত পারফর্মার এবং খাঁটি ম্যাচ-উইনারও। ফুটবল ইতিহাসে খুব কম গোলরক্ষকই আছেন যারা একক দক্ষতায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের পুরো দলের ওপর মানসিক আধিপত্য বিস্তার করতে পারেন। মার্টিনেজ ঠিক সেই বিরল ঘরানার একজন খেলোয়াড়। বিশেষ করে নকআউট পর্বের চরম চাপের মুখে এবং পেনাল্টি শুটআউটের সময় প্রতিপক্ষের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করায় বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা মাস্টারমাইন্ড।

    মার্টিনেজের খেলার মূল শক্তি তার অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স, বিশাল শারীরিক উপস্থিতি এবং শূন্যে বল দখলের কৌশলে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ। ডি-বক্সের ভেতর নিজের রাজত্ব বজায় রাখতে দারুণ পটু। অন্য অনেক গোলরক্ষক যেখানে শুধু ট্যাকটিক্যাল পজেশনিংয়ের ওপর নির্ভর করেন, মার্টিনেজ সেখানে নিজের সহজাত প্রবৃত্তির ওপর ভরসা করেন বেশি। যখনই দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তখনই নিজের সেরা সেভটি বের করে আনেন—যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক শেষ মুহূর্তের সেভ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

    মাঠে মার্টিনেজ চলেন তীব্র আগ্রাসন আর আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাসের জোরে। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিপর্যস্ত করতে নানারকম অঙ্গভঙ্গি, কথা বলা ও স্লেজিং ব্যবহার করেন। তার এই আক্রমণাত্মক মনোভাব অনেক সময় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বিতর্কের জন্ম দিলেও আর্জেন্টিনার জন্য তা সব সময়ই এক জাদুকরী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আলবিসেলেস্তেদের জন্য একজন অভেদ্য দেয়াল এবং দলের খেলোয়াড়দের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। চাপের মুখে দমে না গিয়ে আরো বেশি জ্বলে ওঠেন, যা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও স্মরণীয় গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরার পর থেকে এখনো প্রতিদিনই ব্যথা অনুভব করেন মার্টিনেজ। তারপরও অস্ত্রোপচার না করিয়ে খেলে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই বাজপাখি। ফাইনালেও একই কাজ করতে প্রস্তুত।

  • মেসিকে থামাতে স্পেনের ‘তিন স্তরের ফাঁদ’

    মেসিকে থামাতে স্পেনের ‘তিন স্তরের ফাঁদ’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসিকে থামানোই স্পেনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ চলতি আসরে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করা আর্জেন্টাইন অধিনায়কই আলবিসেলেস্তাদের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি। তাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে।

    প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

    ফলে ফাইনালে লড়াইটা শুধু মেসি বনাম স্পেন নয়; বরং দুই কোচের কৌশলগত দাবা খেলাও। একদিকে মেসির সৃজনশীলতা ও আর্জেন্টিনার অভিযোজন ক্ষমতা, অন্যদিকে স্পেনের সংগঠিত প্রেসিং ও সমন্বিত রক্ষণ। বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা নির্ধারণে এই কৌশলগত দ্বৈরথই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

  • ২০১০ থেকে ২০২৬—ফাইনালে স্পেনের দুই দলে পার্থক্য কেমন

    ২০১০ থেকে ২০২৬—ফাইনালে স্পেনের দুই দলে পার্থক্য কেমন

    ষোলো বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন। মাঝের তিনটি বিশ্বকাপের স্মৃতি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে লা রোহারা। এই তিন বিশ্বকাপে জয়ের দেখা পায়নি একটি নকআউট ম্যাচেও। একবার বাদ পড়েছে গ্রুপ পর্বে, দুবার শেষ ষোলোতে। অবশেষে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে এসে ফর্মে ফিরেছে দল। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন।

    ১৯ জুলাই মাঠে নামতে যাওয়া দে লা ফুয়েন্তের স্প্যানিশ দলের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে ১৬ বছর আগে খেলে যাওয়া দেল বস্কের। দুই দলই বিশ্বকাপের আসরে পা দিয়েছিল ইউরো শিরোপা নিয়ে। ফেবারিট হিসেবে শুরু করা স্পেন দুই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই খেয়েছিল হোঁচট। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ স্পেন শুরু করেছিল সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচনা হয়েছিল কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে।

    ভিসেন্তে দেল বস্কের ২০১০ দলের সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের ২০২৬ দলের মিল কতটুকু? কারাই–বা থাকবে এগিয়ে?

    গোলরক্ষক

    ইকার ক্যাসিয়াস (অধিনায়ক) বনাম উনাই সিমন

    বয়স: ২৯ বনাম ২৯

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার সময় ইকার ক্যাসিয়াসের বয়স ছিল ২৯, উনাই সিমনেরও তাই। কিন্তু ক্যাসিয়াস তত দিনে স্পেনের অধিনায়ক, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ। অন্যদিকে উনাই সিমন কিছুটা পিছিয়ে আছেন অভিজ্ঞতায়, কোচ দে লা ফুয়েন্তের প্রিয়পাত্র বলেই হয়তো টানা সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু এই বিশ্বকাপে হজম করেছেন মাত্র এক গোল, ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট। দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৬০২ মিনিট হজম করেননি কোনো গোল।

    ফুলব্যাক

    সার্জিও রামোস ও জোয়ান ক্যাপডেভিয়া বনাম পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া

    বয়স: ২৪ ও ৩২ বনাম ২৬ ও ২৮

    টটেনহাম ও চেলসিতে হতাশাজনক একটি মৌসুম কাটানোর পর তাঁদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেননি কেউই। বরং কথা উঠেছিল, দে লা ফুয়েন্তের দলে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দুই উইংব্যাক। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই পাশার দান বদলে দিয়েছেন পেদ্রো ও কুকুরেয়া। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেই কুকুরেয়াকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। এর পর থেকে তাঁদের জুটি যেন দারুণভাবে জ্বলে উঠেছে। গোল-অ্যাসিস্টে পেদ্রো-কুকুরেয়া জুটি এই বিশ্বকাপের ত্রাস।

    দারুণ ছন্দে আছে এই স্পেনএএফপি

    অন্যদিকে রামোস-ক্যাপডেভিয়া জুটি পুরো বিশ্বকাপজুড়েই ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। রামোস ছিলেন ২০১০ বিশ্বকাপের সেরা ড্রিবলার। সবচেয়ে বেশি (৩১) টি সফল ড্রিবল করেছিলেন তিনি। রক্ষণ আর আক্রমণ, দুই ক্ষেত্রেই সমান ভূমিকা রেখেছিলেন তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। ক্যাপডেভিয়া ফর্মের তুঙ্গে না থাকলেও নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতেন। নামের পাশে ইউরো আর বিশ্বকাপের ট্রফি সেটাই যেন জানান দিয়ে যায়।

    সেন্টারব্যাক

    কার্লোস পুয়োল ও জেরার্ড পিকে বনাম এমেরিক লাপোর্ত ও পাউ কুবারসি

    বয়স: ৩২ ও ২৩ বনাম ৩২ ও ১৯

    সবাই যেন পুয়োল-পিকে জুটির ছায়া দেখছেন লাপোর্ত-কুবারসির জুটি মধ্যে। ২০১০ বিশ্বকাপে বার্সেলোনা তারকাদের জুটি হজম করেছিল দুই গোল। এবার লাপোর্ত-কুবারসি জুটি হজম করেছে মাত্র এক গোল। বয়সের দিক থেকে লাপোর্ত ও পুয়োল সমানে সমান হলেও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে কার্লোস পুয়োল। অন্যদিকে অভিজ্ঞতা থাকায় পিকেও কাগজে–কলমে এগিয়ে। কিন্তু এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রয়ীকে যেভাবে রুখে দিয়েছেন তারা, তাতে ফাইনালের আগে একটু এগিয়েই রাখতে হবে কুবারসিকে।

    ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড

    সার্জিও বুসকেটস ও জাবি আলোনসো বনাম রদ্রি (অধিনায়ক) ও ফাবিয়ান রুইজ

    বয়স: ২২ ও ২৮ বনাম ৩০ ও ৩০

    ২০১০ বিশ্বকাপ ছিল সার্জিও বুসকেটসের উত্থানের বিশ্বকাপ। জাবি আলোনসোর সঙ্গে মিলে রক্ষণকে যেমন রক্ষা করতেন, তেমনি লম্বা পাসে পুরো ম্যাচের চিত্রও ঘুরিয়ে দিতে পারতেন। তিকিতাকায় পুরো মাঝমাঠের যে নিয়ন্ত্রণ দরকার হয়, পুরো কাজটাই নিচ থেকে করতেন দুজনে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই জায়গাটা দখল করেছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি এবং টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ফ্যাবিয়ান রুইজ। বুসকেটস-আলোনসোর মতো অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে না পারলেও নিজেদের কাজটা একেবারে পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে করেছেন দুজনে। যে কারণে স্প্যানিশ মাঝমাঠকে কোনো বেগই পেতে হয়নি।

    ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনএএফপি

    অ্যাটাকিং মিডফিল্ড

    জাভি ও ইনিয়েস্তা বনাম দানি ওলমো ও আলেক্স বায়েনা

    বয়স: ৩০ ও ২৬ বনাম ২৮ ও ২৫

    চলতি বিশ্বকাপে ওলমো-বায়েনা জুটি পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই। প্রতি ম্যাচেই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স পাচ্ছে স্পেন। কিন্তু জাভি-ইনিয়েস্তা জুটির ধারেকাছে নেই কেউ। জাভির পাস থেকে সেমিতে পুয়োলের গোল, ইনিয়েস্তার ফাইনালে গোল স্পেনকে এনে দিয়েছিল অধরা শিরোপা। ওলমো-বায়েনা জুটির সামনে এখন সেটাই পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ।

    আক্রমণভাগ:

    ডেভিড ভিয়া ও পেদ্রো বনাম লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওয়ারসাবাল

    বয়স: ২৮ ও ২৩ বনাম ১৯ ও ২৯

    অভিজ্ঞ সেনানির সঙ্গে তরুণ তুর্কি। স্পেনের আক্রমণভাগটা ষোলো বছর পর এসেও সাজানো হয়েছে একইভাবে, একই ধাঁচে। দুর্দান্ত ফর্মের ভেডিড ভিয়ার সঙ্গে পেদ্রো ছিলেন সঙ্গী। এখানে অবশ্য কিছুটা উলটো। লামিনে ইয়ামাল দলের নতুন মুখ হলেও গোল পেয়েছেন মাত্র একটি। অন্যদিকে ওইয়ারসাবাল স্পেনের হয়ে প্রতি দুই ম্যাচে গোল পান একটি করে। ফাইনালেও ইয়ামাল-ওইয়ারসাবাল জুটির কাছ থেকে দারুণ কিছু পাওয়ার অপেক্ষা থাকবে সমর্থকদের।

    কোচ:

    ভিসেন্তে দেল বস্ক বনাম লুইস দে লা ফুয়েন্তে

    বয়স: ৫৯ বনাম ৬৫

    বয়সের দিক থেকে বড় হলেও অভিজ্ঞতায় বেশ এগিয়ে ছিলেন ভিসেন্তে দেল বস্ক। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন রিয়ালের হয়ে, প্রথম বড় টুর্নামেন্টে হিসেবে পেয়েছিলেন বিশ্বকাপ। সেখানেই দলকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশলে খেলিয়ে পেয়েছেন সাফল্য। সেই তুলনায় দে লা ফুয়েন্তে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ। তবে স্প্যানিশ দলের সঙ্গেই তাঁর বড় হওয়া। গত ১৩ বছর ধরে স্পেনের কোনো না কোনো দলের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। এই দলকে নিয়ে জিতেছেন ইউরো, উঠেছেন ন্যাশনস লিগের ফাইনালেও।

  • স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র

    স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র

    ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে ভিসেন্তে দেল বস্ক নামটা যেন এক রূপকথার জাদুকর। চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে ১৬ বছর আগের সেই সোনালি দিন, যখন তাঁর হাত ধরেই স্পেন প্রথমবার ছুঁয়েছিল বিশ্বকাপের আদিগন্ত আকাশ।

    সময়ের নদী বেয়ে এক যুগেরও বেশি পথ পেরিয়ে স্পেন আবারও দাঁড়িয়ে এক মহা–উদ্‌যাপনের আঙিনায়। কিন্তু এবার ওপারে যে দল দাঁড়িয়ে, তারা কোনো সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা তো বর্তমান বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা, যাদের পায়ে এখন ফুটবলের মোহিনী জাদু!

    আগামীকাল যখন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিকেল নামবে, তখন সবুজ ঘাসের বুকে লেখা হবে এক নতুন মহাকাব্য।

    তবে এই মহারণের ঠিক আগে ফেলে আসা দিনের সেই মহানায়ক দেল বস্ক স্পেনের তরুণ রক্তকে মনে করিয়ে দিলেন আকাশি-সাদার ভেতরের দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্রের কথা—তাদের অনিশ্চিত খেলার মায়াজাল আর অভিজ্ঞতার গভীরতা।

    যে দলে মেসির মতো একজন আছেন তাঁরা তো এমনই কনমেবল

    স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসের পাতায় যেন নিজের মনের কোণের সেই আশঙ্কা আর মুগ্ধতার কথাই বুনেছেন দেল বস্ক, ‘আমি মনে করি, ফাইনালে স্পেনই জিতবে। তবে আর্জেন্টিনার অনিশ্চিত খেলার ধরন ও তাদের অভিজ্ঞতার ব্যাপারে স্পেনকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় আর্জেন্টাইন সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছি, তাই আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী এবং কতটা লড়াকু মানসিকতার।’

    সত্যিই তো, সেমিফাইনালের রাতে যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, কে ভেবেছিল এমন এক প্রত্যাবর্তন অপেক্ষা করছে। খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার এই যে অদম্য জেদ, একেই তো ভয় দেল বস্কের।

    তাই তো আবেগের চাদর সরিয়ে তিনি অকপটেই বললেন, ‘ফুটবলের অন্যতম বড় সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা; এই রোববার কী ঘটবে, তা আমরা কেউই জানি না। আর্জেন্টিনা খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ—ক্ষমা করবেন কথাটা বলছি, কিন্তু তারা সত্যিই ভীষণ চতুর দল। তারা খুব ভালো করেই জানে কীভাবে খেলতে হয় এবং কী করতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখলেই সেটা বোঝা যায়।’

  • ‘পয়া’ জার্সি পরেই নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা

    ‘পয়া’ জার্সি পরেই নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা

    ৪০ দিনের ফুটবল বিশ্বকাপের ইতি ঘটছে আগামীকাল। যে উন্মাদনায় বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী বুঁদ হয়ে ছিল, আগামীকাল শেষ হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে পয়া জার্সি পরে নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন।

    ফিফা গত রাতে নিশ্চিত করেছে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেনের জার্সি। দুই দলই হোম জার্সি পরে খেলবে। তবে দুই দলকে আলাদা করে চেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির সঙ্গে সাদা শর্টস ও সাদা মোজা পরবে। এই জার্সি পরে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এদিকে স্পেন লাল জার্সির সঙ্গে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) শর্টস ও মোজা পরে খেলবে। স্প্যানিশরা ২০১০ সালে একই জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের চোখে সাধারণত নীল জার্সি ‘কুফা’। এই জার্সি পরে খেলে ১৯৯০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছিল আলবিসেলেস্তেরা। দুবারই আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল জার্মানি। তবে ফাইনাল বাদে অন্য নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর হিসাব আলাদা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। আসতেকার ৪০ বছরের পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবারও। আটলান্টায় এবার সেমিফাইনালে নীল জার্সি পরে আর্জেন্টিনা হারিয়ে দেয় ইংলিশদের।

    এবার চ্যাম্পিয়ন হলে ইতালি, জার্মানির রেকর্ডে ভাগ বসাবে আর্জেন্টিনা। ইতালি, জার্মানি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। আলবিসেলেস্তেরা তিনবার জিতেছে বিশ্বকাপ।

    নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।

  • ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ডালাসের মাঠে ফরাসিদের দাপটের সাথে বিদায় করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। গত রাতে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফাইনালে স্প্যানিশ আর্মাডাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা জানতে ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

    আজ বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জয়ী দলই আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বখ্যাত ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’র সুপারকম্পিউটার হিসাব কষে জানিয়েছে, ফাইনালে স্পেনের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে আসলে কারা এগিয়ে। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ফেভারিট ঘোষণা করলেও সুপার কম্পিউটারের সেই পূর্বাভাস মাঠে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফরাসিদের বিদায় দিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন।

    ফরাসি জুজু কাটার পর এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস দিল অপটা’র সুপারকম্পিউটার। অপটার ২৫,০০০ প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশনের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়ে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে থমাস টুহেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫২.৫৩ শতাংশ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪৭.৪৭ শতাংশ।

    পরিসংখ্যান বলছে, থ্রি লায়ন্সদের লড়াকু ফুটবল আর ট্যাকটিক্যাল শক্তির কারণে লিওনেল মেসির দলের টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন আজ রাতে বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।

    প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখার পর ট্রফি জয়ের দৌড়েও পরিবর্তন এসেছে। সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, তিন সিংহের দল কিংবা আলবিসেলেস্তেরা যারাই ফাইনালে উঠুক না কেন, শিরোপা জয়ের জন্য এখন সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসাব মতে, স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখন ৫৬.১৫ শতাংশ।

  • ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন

    ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে দেখা গেল সেটাই। মাঠে ফ্রান্স ছিল। তবে বেশিরভাগ সময় তারা শুধু বলের পেছনে দৌড়েছে। আর ফুটবলটা শুধু খেলেছে যেন স্পেন।

    মাঠে ছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু আলো কেড়েছে ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল, রদ্রি, ফ্যাবিয়ানরা। মাঠে ছিল গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ। কিন্তু ফুটবল খেলেছে যেন আগামী দিনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।২-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। আর কাগজে-কলমে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স ধরল বাড়ি ফেরার বিমান।

    ম্যাচ শুরুর আগে সব হিসাব ছিল ফরাসিদের পক্ষে। এমবাপ্পের বিস্ফোরণ, দেম্বেলের গতি, ওলিসের সৃজনশীলতা, বারকোলার ড্রিবল—এই চার অস্ত্রই ছিল ফ্রান্স কোচ দেশমের সবচেয়ে বড় ভরসা। এই আক্রমণভাগই তাদের সেমিফাইনালে এনে দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু ফুটবল কেবল তারকার খেলা নয়; ফুটবল কৌশলেরও খেলা। আর সেই কৌশলের দাবার বোর্ডে শুরু থেকেই ফ্রান্সকে কিস্তিমাত করে দেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    প্রথম বাঁশি থেকেই স্পেন যেন ঘোষণা করে দেয়—আজ বল আমাদের, ছন্দও আমাদের। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা বল পেলেই চারদিক থেকে লাল জার্সির ঢেউ। মাঝমাঠে এক সেকেন্ড সময় নেই। ডান দিকে পথ বন্ধ। বাঁ দিকে ফাঁদ। সামনে প্রেস। পেছনে কভার। আধুনিক ফুটবলের

    ‘পজিশনাল প্রেস’ আর ফাইভ সেকেন্ড ‘কাউন্টার প্রেস’-এর এমন নিখুঁত প্রয়োগ এই বিশ্বকাপে খুব কমই দেখা গেছে। ফলও মিলেছে হাতেনাতে।

    এমবাপ্পে কখনো একা বল পেলেনই না তেমন। দেম্বেলের সামনে তৈরি হয়নি একটিও স্বাভাবিক ওয়ান টু ওয়ান। ওলিসে বল পেলেই পাশে হাজির দুজন স্প্যানিশ। বারকোলার গতি শুরু হওয়ার আগেই থেমে গেছে। ফ্রান্সের আক্রমণ যেন কর্ক লাগানো বোতলের ভেতর বন্দি। শক্তি আছে, বিস্ফোরণ নেই।

    ১৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে স্পেন প্রথম ধাক্কাটা দিল। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। পেছন থেকে তার পায়ে আঘাত করেন লুকাস ডিগনে

    রেফারি ইভান বার্টনের বাঁশি বাজতে সময় লাগেনি।

    পেনাল্টি। স্পটে দাঁড়ালেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ফরাসি গোলকিপার মাইক মেইনিয়ান ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু শট গোলরক্ষকের জন্য নয়। ইতিহাসের জন্য। ওয়ারজাবালের ডান পায়ের শট তীরের মতো ছুটে জড়িয়ে গেল জালের উপরের কোণে। ম্যাচে স্পেনের লিড ১-০।

    গোলের পর রক্ষণে নামেনি স্পেন। বরং আরো সাহসী হয়েছে। আরো উঁচুতে উঠেছে। আরো দ্রুত বল ঘুরিয়েছে। পুরো মাঠকে করেছে বিশাল। আর ফ্রান্সকে আটকে দিল সেই প্রশস্ত সবুজ চত্বরে।

    মাঝমাঠে রদ্রি যেন অর্কেস্ট্রার পরিচালক। তার একেকটি পাসে বদলে গেছে আক্রমণের দিক। ফ্যাবিয়ান রুইজ ছন্দ বুনেছেন। দানি ওলমো দুই লাইনের মাঝখানে ঘুরে ঘুরে ফরাসি মিডফিল্ডকে টেনে বের করেছেন। আর ইয়ামাল? মাত্র কয়েক সেকেন্ডে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বয়স ক্যালেন্ডারে লেখা থাকে, ফুটবলে নয়। উনিশ নম্বর জন্মদিনটা দারুণ জয়ে উপভোগ করলেন স্পেনের প্লেমেকার।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পে একবার রাবিওর থ্রু বলে ছুটে উঠেছিলেন। কিন্তু বক্সের অনেক বাইরে উঠে এসে উনাই সিমন মুহূর্তেই নিভিয়ে দেন সেই আশার প্রদীপ। বিরতিতে মনে হচ্ছিল, এক গোলের নয়; দুই ফুটবল দর্শনের লড়াই চলছে।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করে ফ্রান্স। কিন্তু যতই সামনে উঠেছে, ততই স্পেনের জন্য খুলেছে নতুন নতুন পথ।

    আর সেখানেই আসে শেষ আঘাত। ৬৭ মিনিটে মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে চোখের পলকে আক্রমণে যায় স্পেন। রদ্রির নিখুঁত পাস থেকে ওলমো বাম দিকে ছেড়ে দেন পেদ্রো পারোর জন্য। পারো এক স্পর্শে সামনে এগিয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু ক্রসে বল পাঠান ফ্রান্সের জালে। বেচারা ফ্রান্সের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

    স্কোর তাতেই ২-০। ফ্রান্সের জন্য ম্যাচও কার্যত ওখানেই শেষ।

    শেষ বিশ মিনিটে ফ্রান্সের শরীর ছিল

    মাঠে, মন যেন বিমানে। এমবাপ্পে ক্রমশ হতাশ। দেম্বেলের পাসে ধার নেই। ওলিসে হারিয়ে গেছেন স্প্যানিশ প্রেসের ভেতর। বারকোলার পা থেকে উধাও গতি। যে আক্রমণভাগকে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলা হচ্ছিল, তারা যেন একসঙ্গে ফর্ম হারিয়ে ফেলেছে।

    আসলে তারা ফর্ম হারায়নি। স্পেন তাদের খেলতেই দেয়নি। এই জয়ের নায়ক শুধু গোলদাতারা নন। এই জয়ের নায়ক ছিল একটি পরিকল্পনা। একটি দর্শন। একটি সংগঠিত দল।

    স্পেন এ রাতে শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি। জিতেছে মাঝমাঠ। জিতেছে কৌশলের যুদ্ধ। জিতেছে মানসিক লড়াই। সবচেয়ে বড় কথা, জিতেছে ফুটবলের সৌন্দর্য। ফাইনালে উঠে এখন তাদের সামনে আর মাত্র একটি ধাপ।

    আর ফ্রান্স? তারা ডালাস ছাড়ছে একটি কঠিন শিক্ষা নিয়ে। বিশ্বকাপে শুধু বড় নাম যথেষ্ট নয়। এই সেমিফাইনাল আরেকবার চিরসত্য সেই কথাটাই জানিয়ে গেল, তারকারা ম্যাচ জেতাতে পারে। কিন্তু ইতিহাস লেখে পুরো একটা সম্মিলিত দল।

    আর সেই ইতিহাসের পাতায়, বিশ্বকাপে ডালাসের এই রাতটি একটি নামেই—স্পেন।

    সেই স্পেন এখন ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে অপেক্ষা করছে হয় আর্জেন্টিনা না হয় ইংল্যান্ডের জন্য।

  • আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, কাউকে ভয় পাই না

    আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, কাউকে ভয় পাই না

    সোমবার ১৯ বছরে পা দিয়েছেন স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। জন্মদিনের আবহে ডলাসে বসে তিনি যেভাবে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন, তাতে বয়সের চেয়ে তার মানসিক পরিপক্কতাই বেশি ফুটে উঠল। ফ্রান্স কি স্পেনকে ভয় পাচ্ছে? এমন প্রশ্নে ইয়ামাল যেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ফরাসিদের। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন, আমরা কাউকে ভয় পাই না।’

    এর আগে ইয়ামাল বলেছিলেন, ফ্রান্সের স্পেনকে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবারও তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো দ্বিধা না করে বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই কি না, আমি বলেছি না। আমরা ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন। ফুটবল মাঠে আমরা কাউকে ভয় পাই না। আমার সেই মন্তব্যকে তারা কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, তা তাদের ব্যাপার।’

    ফ্রান্সের জুলস কুন্দে অবশ্য ইয়ামালের মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি কিছুটা উপেক্ষা করেই বলেছেন, ‘ইয়ামাল কেমন তা আমার জানা আছে।’ কিন্তু মাঠে নামার আগে ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাস যে ফরাসি রক্ষণভাগের জন্য বড় চাপের কারণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে ইয়ামালের গোল মাত্র একটি, সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। কোনো অ্যাসিস্ট নেই।

    সমালোচকরা অনেকেই বলছেন, বড় মঞ্চে ইয়ামাল তার সেরা ছন্দে নেই। কিন্তু এই সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘তারা যদি মনে করে আমি আমার সেরা ছন্দে নেই, তবে মঙ্গলবারের ম্যাচের জন্য আমার কাছ থেকে কোনো প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। এটিই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা সবাই ২০১০ সালের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। কেন আমরা পারব না?’

    পরিসংখ্যান বলছে, বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইয়ামাল বরাবরই বিধ্বংসী। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের জালে গোল করেছিলেন তিনি। আবার নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও জোড়া গোল করেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে তার এই ধারাবাহিকতা কি এবারও অব্যাহত থাকবে? সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসই বলে দিচ্ছে, নিজের জন্মদিনে নিজেকে নিশ্চয়ই আরেকটি গোল উপহার দিতে চাইবেন।

  • ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে।

    দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।

    সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।

    অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যান

    এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।

    তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। তাই এবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো স্মৃতি ফিরবে—সেই উত্তর মিলবে ডালাসের মাঠেই।

  • পাসে সেরা স্পেন, ফিনিশিংয়ে ফ্রান্স

    পাসে সেরা স্পেন, ফিনিশিংয়ে ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্পেনের কাছে বেলজিয়ামের হারের পর নিশ্চিত হয়ে গেছে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সেমিফাইনাল লাইনআপ। শেষ চারে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ফর্মে থাকা দুই পরাশক্তি—ফ্রান্স ও স্পেন। বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বলেই দিয়েছেন, এই ম্যাচে যে জিতবে, বিশ্বকাপ যাবে তার কাছেই। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই এই ম্যাচটি রূপ নিয়েছে ফাইনালের আগে ফাইনালে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে পরিসংখ্যানে কোন দল এগিয়ে?
    ফিফার তথ্য অনুযায়ী, পাস আদান-প্রদানের দিক থেকে স্পেনের রাজত্ব স্পষ্ট। প্রথম ছয় ম্যাচে স্প্যানিশরা মোট ৪ হাজার ৭৫টি পাস দিয়েছে, যার অর্থ প্রতি ম্যাচে তাদের গড় পাস ৬৭৯ দশমিক ২টি। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রতি ম্যাচের গড় পাস ৫৬১ দশমিক ৫টি। অর্থাৎ ফ্রান্সের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি পাস খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে স্পেন। পাস সফলতার হারেও স্পেন (৯১ শতাংশ) সামান্য ব্যবধানে ফ্রান্সের (৯০ শতাংশ) চেয়ে এগিয়ে।
    তবে বল পজিশনে স্পেন এগিয়ে থাকলেও, আক্রমণের কার্যকারিতা ও ফিনিশিংয়ে সেরা দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুদলই সমান ১১০টি করে শট নিয়েছে। কিন্তু ফ্রান্সের ৪৭টি শট লক্ষ্যে ছিল, যার মধ্যে ১৬টিই গোলে পরিণত হয়েছে। বিপরীতে, স্পেনের ৪০টি শট লক্ষ্যে ছিল এবং তারা গোল করতে পেরেছে ১১টি।
    আক্রমণের কৌশলে স্পেন মূলত ক্রসের ওপর বেশি নির্ভর করে। প্রতি ম্যাচে তারা গড়ে ২৪.৩টি ক্রস করে, যেখানে ফ্রান্সের ক্রসের গড় ১৬.৫টি। শৃঙ্খলার দিক থেকেও ফরাসিরা কিছুটা এগিয়ে। ফ্রান্স এখন পর্যন্ত ৫৯টি ফাউল ও ৪টি হলুদ কার্ড পেয়েছে, যেখানে স্পেনের ফাউল ৬৮টি ও হলুদ কার্ড ৫টি। অবশ্য সেমিফাইনালের আগে কার্ডের হিসাব মুছে যাওয়ায় কোনো খেলোয়াড়ই নিষেধাজ্ঞায় পড়ছেন না।
    মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দুই বছর আগের ইউরো সেমিফাইনালের স্মৃতি স্পেনকে আত্মবিশ্বাস দেবে, যেখানে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল লামিন ইয়ামালরা। সব মিলিয়ে, স্পেনের পাসিং ফুটবলের বিপক্ষে ফ্রান্সের নিখুঁত ফিনিশিংয়ের এই মহালড়াইয়ে মাঠের কৌশলে যে দল স্নায়ু ধরে রাখতে পারবে, তারাই কাটবে ফাইনালের টিকিট।

  • কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালসহ আর মাত্র চারটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা আসরের। ৪৮ দলের মহারণ পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ৪টি দলেরই সেমিফাইনালে খেলার কথা বলেছিল ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। সেই সুপারকম্পিউটার এবার নেমেছে চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ে। নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর তারা জানিয়েছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নামও।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেমিফাইনালের ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিক থেকে তারা ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    সুপারকম্পিউটারের ধারণা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের হাতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা স্পেনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালের মঞ্চে খেলার সম্ভাবনা ৫০.৯ শতাংশ।

    এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০.৬ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জয়ের পূর্বাভাস প্রায় সমানে সমান। ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৯.১ শতাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে। অর্থাৎ, এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

    প্রসঙ্গত, অপ্টার সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য প্রায় ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালায়। এছাড়াও দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা, অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বেছে নেওয়া চারটি দলই কোয়ার্টারের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

    এর আগে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ৬টির ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচের বিজয়ীও তারা সিমুলেশনের মাধ্যমে আগেভাবেই নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

  • একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    খুদে বিস্ময় লামিন ইয়ামালের কপাল মন্দ। শত চেষ্টা করেও গোল পেলেন না। তবে তার স্পেন জয়ের মালা পরেছে। বেলজিয়াম হেরে গেছে। অথচ ফুটবল ইতিহাস বলছে, ম্যাচটা ছিল বদলা নেয়ার। ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে স্পেন হেরেছিল শেষ আটের লড়াইয়ে। সে কারণে এই ম্যাচ ঘিরে জল্পনা-কল্পনা ছিল বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে। একদিকে ইয়ামাল। অন্যদিকে জেরেমি ডকু। এক অনবদ্য ফুটবল লড়াই। মাঠ জুড়েই ইয়ামাল। ম্যানচেস্টার সিটির লেফট উইঙ্গার, বেলজিয়ামের গোলশক্তি ডকুও গোল পাননি। অথচ তিনি মাঠ মাতিয়েছেন। খেলার শেষ মুহূর্তে স্পেন একটা চমকই দেখায় বটে। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে বদলি নামা মিকেল মেরিনো গোল করে বসেন। ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেলজিয়ামের বিদায় নিশ্চিত করেন। এই মেরিনোই বদলি নেমে রোনালদোকে গুডবাই জানান । তিনিই হলেন এই ম্যাচের স্প্যানিশ তারকা। বিজয়ের নায়ক। পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে দক্ষ। একইসঙ্গে রক্ষণ ও আক্রমণেও বেশ পারদর্শী। জানিয়ে রাখা ভালো- তার বাবা আনহেল মেরিনোও একজন পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন এই ম্যাচের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। এর আগে বেলজিয়ামের কপাল পুড়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে। পরিবর্তে নামেন সেনে লামেন্স। কিন্তু তিনি আর কোনো দেয়াল তৈরি করতে পারেননি। কোর্তোয়া অনেকগুলো বল রুখে দিলেও লামেন্স তেমন সুযোগ আর পেলেন না। তার হাতছাড়া হয়ে ফিরে আসা বলেই স্পেনের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেন আর্সেনালের মেরিনো। এর মধ্য দিয়েই বেলজিয়ামের এক সোনালী প্রজন্মের বিদায় নিশ্চিত হয়। বলা হয়ে থাকে, এই প্রজন্মের ফুটবলাররাই বেলজিয়ামকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলে বেলজিয়াম যে একটি শক্তি তা প্রমাণের। কিন্তু সে স্বপ্নের মৃত্যু হয় লামেন্সের হাতেই। ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটে। তবে রূপকথার মতো বিদায় সাধারণতো হয় না। যেটা হয়েছে সোফি স্টেডিয়ামে। যাইহোক, দুই খেলায় দুই গোল করেই স্পেনের ভাগ্য নির্ধারণ করেন মেরিনো। লামিন ইয়ামাল শুরু থেকেই বেলজিয়ামের দুর্গে আঘাত হানতে থাকেন। কিন্তু চমৎকারভাবে বেলজিয়াম তার সাজানো ছক ভেঙে দেয়। অনেকগুলো শট নিলেও বেলজিয়ামের গোলরক্ষককে পরাভূত করতে পারেননি। শুধু শটই নয়, ফ্রি কিক থেকেও ইয়ামাল গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর সুযোগ আসে আরেকটি। কিন্তু সেটাও তিনি কাজে লাগাতে পারলেননা। ইয়ামালের কপাল এমনই খারাপ গোল্ডেন বুটের কাফেলায় তিনি নাম লেখাতে পারেননি। তবে স্পেন যেভাবে খেলছে এবং ভাগ্য যেভাবে তাদেরকে সাহায্য করছে- তাতে মনে হয়, তারা অনেকদূর যাবে। এর প্রমাণ পূর্বেই দেখিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে জাপানের কাছে গোল হজম করার পর টানা ৬৪৯ মিনিট তাদের জালে কেউ বল পাঠাতে পারেননি। যদিও এই ম্যাচে ৪১ মিনিটে তাদের দীর্ঘসময় গোল না খাওয়ার অবস্থান ভেঙে দেয় বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামের ৭০ হাজার দর্শক এই জমজমাট ফুটবল লড়াই উপভোগ করেন। এখন কী হবে? এমবাপ্পের মুখোমুখি হতে হবে স্পেনকে। এমবাপ্পে আর ইয়ামালের লড়াইটা কেমন হবে- তা দেখার জন্য মুখিয়ে রইলো ফুটবল দুনিয়া।

  • ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়ামকে। ফুটবলপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত এই লড়াইকে ফাইনালের আগেই ‘ফাইনাল’ বলে মনে করছেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। তার বিশ্বাস, এই ম্যাচের বিজয়ী দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠে আসে স্পেন। আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টা) ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

    বেলজিয়ামের বিদায়ের ম্যাচে শেষদিকে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় কর্তোয়াকে। তার পরিবর্তে নামা সেনে ল্যামেন্সের উপস্থিতিতেই স্পেন জয়সূচক গোলটি করে। ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক।

    কর্তোয়া বলেন, “আমার বিশ্বাস, ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনালের বিজয়ী দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে স্পেনই ফেভারিট। তারা ফ্রান্স কিংবা অন্য যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে, সেটি তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পেনের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি। অনেকে যেমনটা ভেবেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পেরেছি।”

    পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুতগতির পাসিং এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সও অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

  • ফ্রান্সের বিপক্ষে পরিসংখ্যানের ‘সুখস্মৃতিই’ স্পেনের অনুপ্রেরণা

    ফ্রান্সের বিপক্ষে পরিসংখ্যানের ‘সুখস্মৃতিই’ স্পেনের অনুপ্রেরণা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া স্পেনের জন্য এই ম্যাচের আগে আশার বার্তা হয়ে এসেছে সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান। কারণ, সবশেষ দুই দেখাতেই জয় পেয়েছে লা রোহা।

    দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে। সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৫-৪ গোলের জয় তুলে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। তারও আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। পরে শিরোপাও জেতে তারা।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও সামান্য এগিয়ে স্পেন। প্রীতি ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮ দেখায় স্প্যানিশদের জয় ১৮টি, ফ্রান্সের ১৩টি। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে শুধু অফিসিয়াল প্রতিযোগিতার হিসাব করলে চিত্রটা ভিন্ন। সেখানে ১০ ম্যাচে ফ্রান্সের জয় ছয়টি, স্পেনের চারটি।

    বিশ্বকাপে অবশ্য একবারই মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেনকে। সেবার ফাইনালেও উঠেছিল লে ব্লুরা।

    তবে বিশ্বকাপে এবার নতুন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে স্পেন। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে খেলছে তারা। সেই সুখস্মৃতি আবারও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে স্প্যানিশ শিবিরকে।

    অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় মঞ্চে স্পেনের কাছে টানা দুই পরাজয় ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ফ্রান্স। তাই সেমিফাইনালের এই লড়াই শুধু ফাইনালের টিকিট নয়, সাম্প্রতিক হিসাব-নিকাশ মেটানোরও মঞ্চ হতে যাচ্ছে।

    আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। ইউরোপের দুই জায়ান্টের লড়াইয়ে কে পাবে ফাইনালের টিকিট, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

  • লড়াইয়ের আগেই ফ্রান্সকে ইয়ামালের বার্তা

    লড়াইয়ের আগেই ফ্রান্সকে ইয়ামালের বার্তা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। গোল না পেলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে সামনে রেখে এখন থেকেই রোমাঞ্চিত স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড। তার লক্ষ্য, ইউরোর মতো এবারও ফরাসিদের বিপক্ষে গোল করা।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইয়ামাল বলেন, ‘আমিও সেটাই আশা করছি। আবারও ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করতে আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি।’

    ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোল করেছিলেন ইয়ামাল। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। তবে গোলের চেয়ে দলগত সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। তার ভাষায়, ‘আমি খুবই আনন্দিত। এখন পুরো মনোযোগ পরের ম্যাচে। সেমিফাইনালে উঠতে পেরে আমরা খুশি। মাঠে নিজেকে দারুণ অনুভব করেছি।’

    ফ্রান্সের শক্তিমত্তার কথাও স্বীকার করেছেন ইয়ামাল। তবে বলের দখল ধরে রেখে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস তার, ‘ওরা এমন একটি দল, যারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করবে। যদিও পুরো ৯০ মিনিট সেটা করতে পারবে না। তারা শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখা। আমি বিশ্বাস করি সবকিছু ঠিকঠাক হবে। আমি পুরোপুরি প্রস্তুত, ম্যাচের জন্য আর তর সইছে না।’

    বেলজিয়ামের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাননি ইয়ামাল। তবে সেটি নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তার। তিনি বলেন, ‘না, এতে আমি মোটেও হতাশ নই। যতক্ষণ দল টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ আমি খুশি। দিনশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের সাফল্য।’

    নিজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথাও জানিয়েছেন স্পেনের এই উদীয়মান তারকা।, ‘আমি খুব ভালো অনুভব করছি। প্রতি সপ্তাহে আমার পারফরম্যান্স আরও উন্নত হচ্ছে। আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছি।’

    আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টা) ডালাসে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। ইউরোর পর এবারও ফরাসিদের বিপক্ষে নিজের ছাপ রাখার অপেক্ষায় রয়েছেন ইয়ামাল।

  • মোরিনোর জাদুতে সেমিফাইনালে স্পেন

    মোরিনোর জাদুতে সেমিফাইনালে স্পেন

    বিশ্বকাপে স্পেনের স্বপ্নযাত্রা থামছেই না। কঠিন লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা। শেষ চারের লড়াইয়ে আগামী মঙ্গলবার তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় তারা ৩০ মিনিটে। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর কাটব্যাক থেকে দানি ওলমোর শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোয়র্তোয়া। তবে ফিরতি বলে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন ফাবিয়ান রুইজ। তাতেই এগিয়ে যায় স্পেন। বিশ্বকাপ মঞ্চে এটি ছিল রুইজের প্রথম গোল। রুইজ এখন পযন্ত স্পেনের হয়ে যে কয়টি ম্যাচে খেলেছে সেই ম্যাচে কখনোই হারেনি তার দল। এই ম্যাচেও সেই রেকর্ড অক্ষুন্ন রইল।

    গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে টিমোথি কাস্তানিয়ের দারুণ ক্রস থেকে চার্লস ডি কেটেলারে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান। এই গোলের আগে টানা ৬৪৯ মিনিট বিশ্বকাপে কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। সেই রেকর্ডও ভেঙে যায় ডি কেটেলারের হেডে।

    বিরতির পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে। স্পেন আক্রমণের পর আক্রমণ চালালেও সামনে বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কোয়র্তোয়া। কিন্তু ৭২ মিনিটে ইনজুরিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বেলজিয়ামের এই তারকা গোলরক্ষক। তার জায়গায় নামেন সেনে ল্যামেন্স। আর সেখানেই যেন বদলে যায় ম্যাচের ভাগ্য।

    নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে দূরপাল্লার শটে ল্যামেন্স বল ঠিকমতো তালুবন্দি করতে পারেননি। ফিরতি বল চলে আসে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মোরিনোর সামনে। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

    শেষ দিকে মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে বেলজিয়াম। যোগ করা সময়ে একটি ভালো সুযোগও পেয়েছিল তারা। তবে স্পেনের রক্ষণ আর গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন। ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আরেকবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল তারা। আর এবার তাদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা—ফ্রান্স। দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াইয়ে কে যাবে ফাইনালে, সেটাই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

  • বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    কিছু দল আছে, যারা প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে নয়, বরং সুযোগের অপেক্ষা করে ঠিক সময়ে আঘাত হানার। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনও এমনই ছিল। ১৬ বছর পর সেই পুরোনো চেহারার আরেকটি ঝলক দেখা গেল ডালাসে। পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিশ্বাসে ভর করে শেষ হাসিটা হাসল স্পেন। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়ল নতুন রেকর্ড।

    ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোচ্ছিল, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাও তত বাড়ছিল। ঠিক তখনই নিজের বেঞ্চের শক্তির পরিচয় দিল স্পেন। বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস যোগ করা সময়ে দারুণ একটি পাস বাড়িয়ে দেন। সেই পাস ধরে দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন আরেক বদলি মিকেল মেরিনো। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মানির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নায়ক হওয়ার পর বিশ্বকাপেও স্পেনকে বাঁচালেন তিনি।

    ম্যাচ শেষে মেরিনোকে নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ‘মিকেল মেরিনো কখনোই আমাদের হতাশ করে না। সে নিশ্চিত ভরসা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়েছে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সব সময় সে হাজির থাকে। নিজের পজিশনে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমাদের বেঞ্চে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা অন্য যেকোনো জাতীয় দলে শুরুর একাদশে খেলত।’

    কয়েক মাস আগেও বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন মেরিনো। তাই জয়সূচক গোলের পর তাঁর কণ্ঠে ছিল স্বস্তির সুর, ‘কয়েক মাস আগেও এখানে থাকা কল্পনাতীত ছিল। আর এখন আমি বিশ্বের শীর্ষে আছি, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলোর একটি উপভোগ করছি। প্রতিটি পরিশ্রম আর প্রতিটি সন্দেহের মুহূর্ত আজ সার্থক।’

    ডালাসের রাতটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গল্প নয়, রেকর্ডের রাতও। পর্তুগালকে গোল করতে না দিয়ে স্পেন টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার কীর্তি গড়েছে। এর আগে ইতালি (১৯৯০) ও সুইজারল্যান্ড (২০০৬-১০) টানা পাঁচ ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল। সেই রেকর্ড এখন স্পেনের একার।

    এই কীর্তির কেন্দ্রে আছেন গোলরক্ষক উনাই সিমোনও। পর্তুগালের বিপক্ষে আরেকটি ক্লিন শিট রেখে তিনি বিশ্বকাপে টানা ৬০৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তবে এই অর্জয়ের কৃতিত্ব শুধু গোলরক্ষকের নয় বলেই মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘এই রেকর্ড শুধু উনাইয়ের নয়, তার সতীর্থদেরও। তাদের সংহতি, উদারতা, পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের ফল এটি। সবাই একে অপরের জন্য দৌড়ায়।’

    এটি ছিল রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। পরাজয়ের হতাশা ছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেও দ্বিধা করেননি তিনি, ‘আমরা এমন একটি দলের কাছে হেরেছি, যাদের আমি মনে করি ফাইনালে উঠবে, কিংবা অন্তত তার খুব কাছাকাছি যাবে। আমি খুবই দুঃখ নিয়ে যাচ্ছি। আমরা ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি, দুই দলই জিততে পারত। ফুটবল এমনই। এভাবে বিদায় নেওয়া হতাশাজনক, কিন্তু আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়েই যাচ্ছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’

    রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তির রাতে স্পেন পেল নতুন এক নায়ক। আর টানা ছয় ক্লিন শিটের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দে লা ফুয়েন্তের দল জানিয়ে দিল, এই বিশ্বকাপে শিরোপার দৌড়ে তাদের নামটি এখন আর শুধু সম্ভাবনার নয়, প্রধান দাবিদারেরও। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।

  • পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম উত্তপ্ত লড়াই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলবিশ্বে।

    একদিকে স্পেনের দৃষ্টিনন্দন পাসিং ফুটবল, অন্যদিকে পর্তুগালের গতিময় আক্রমণ ও তারকাখচিত স্কোয়াড- সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ এক মহারণ। শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে হাসি— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই মানেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একই আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়, যেখানে হার মানেই বিদায়। তাই এই ম্যাচে কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং ছোট ছোট মুহূর্তের সিদ্ধান্তই গড়ে দিতে পারে ফল।

    শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এবং রক্ষণে দৃঢ়তা- সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে লা রোহা। অন্যদিকে, পর্তুগাল কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

    স্পেনের শক্তির মূল জায়গা তাদের মিডফিল্ড। ছোট ছোট পাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতায় তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তরুণ তারকাদের গতির সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় স্পেনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় ভরসা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের আক্রমণভাগের। স্পেনের রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। তাদের মধ্যে স্ট্রাইকার লামিনে ইয়ামাল অন্যতম। আরও আছে- পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ওলমো, নিকো আর ওয়ারাবাজালের মতো খেলোয়াড়। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছেন। ৫১৯ মিনিট গোলবার আগলে রেখে।

    অন্যদিকে পর্তুগাল বিশ্বকাপে ফেবারিট দল হিসেবে এলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তিন গোল করলেও খেলার ধরন ছিল গড়পড়তা। এখনও দল হিসেবে খেলতে পারছে না কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রজন্মের লড়াইও। একদিকে অভিজ্ঞ তারকাদের নেতৃত্বে পর্তুগাল, অন্যদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভর করে এগিয়ে চলা স্পেন। নকআউট ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকে দুদলই সতর্ক থাকবে। ফলে ম্যাচের প্রথম ভাগে মাঝমাঠের লড়াই এবং বলের দখল নিয়ে টানটান উত্তেজনা দেখা যেতে পারে।

    ইতিহাসও বলছে, স্পেন-পর্তুগাল দ্বৈরথে খুব কম ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হয়। দুদলের আগের বেশির ভাগ লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা একঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১০ সালের একমাত্র দেখায় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।

    সবমিলিয়ে এটি শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার অপেক্ষায়। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল নাকি পর্তুগালের কার্যকর পাল্টা আক্রমণ— কোন কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ছোট একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই হয়তো নির্ধারণ করবে, আইবেরিয়ান ডার্বিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।

    স্পেন ও পর্তুগাল এ পর্যন্ত মোট ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের জয় ১৭টি। পর্তুগালের ৭টি। বাকি ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ মোকাবিলায় ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র ছিল, পরে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পর্তুগাল। বিশ্বকাপে ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারায় পর্তুগিজদের। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল দুদল।

  • স্পেনের পুরোনো হিসাব চুকানোর ম্যাচ

    স্পেনের পুরোনো হিসাব চুকানোর ম্যাচ

    ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগ যখন চেনা ছন্দে ডানা মেলে, তখন প্রতিপক্ষের ডাগআউটে স্বস্তি থাকার কথা নয়। লামিনে ইয়ামালের পায়ের জাদু আর রদ্রি-পেদ্রিদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে থাকা স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে যেকোনো দলেরই একটু কেঁপে ওঠার কথা। উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে যেভাবে ‘লা রোহা’রা শাসন করেছে, তাতে আজ রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচে অনেকেই হয়তো অস্ট্রিয়ার কোনো সুযোগই দেখছেন না।

    খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো দলগুলোই অনেক সময় সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাগজে-কলমে হয়তো স্পেনই যোজন যোজন এগিয়ে, কিন্তু নকআউটের এই মঞ্চে ফেবারিটের তকমা যে কত দ্রুত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে, তা দেখা গেছে অনেকবার। স্পেন সেটা ভালোভাবেই বোঝে।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা স্প্যানিশরা অবশ্য চেনা রূপে ফিরতে বেশি সময় নেয়নি। ইয়ামালের জাদুকরি পায়ের ছোঁয়ায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পরই মূলত তাদের আক্রমণভাগ আসল ধার ফিরে পায়। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টি তাদের এনে দেয় গ্রুপ ‘এইচের’ শীর্ষ স্থান।

    মাঠের সেই তুমুল লড়াই প্রসঙ্গে পাউ কুবারসি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাসী। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একটি যুদ্ধ ছিল, তবে এটি আমাদের এই আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে যে আমরা লড়াই করতে জানি। আমাদের ভেতরে সেই লড়াকু মানসিকতা আছে, আর আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

    অস্ট্রিয়ার এই পর্যন্ত আসার গল্পটা যেন কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা। জর্ডানকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলের হারে এক ধাক্কায় মাটিতে আছড়ে পড়েছিল তারা। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক অবিশ্বাস্য নাটকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সাশা কালাইদজিচের সেই সমতাসূচক গোল অস্ট্রিয়াকে এনে দিয়েছে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ।

    তবে নকআউটের কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের শক্তি খুব একটা ভাবছেন না অস্ট্রিয়ান অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই ধরনের ম্যাচের জন্যই তো স্বপ্ন বুনেছেন তিনি। নিজের রোমাঞ্চ লুকিয়ে না রেখে আলাবা বলেন, ‘টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট তো আর আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। তা ছাড়া বিশ্বকাপে আপনি আসেনই এই ধরনের ম্যাচ খেলার জন্য। এই প্রতিযোগিতায় আপনাকে কেবল সেরা দলগুলোরই মুখোমুখি হতে হবে এবং আপনি যত সামনে এগোবেন, প্রতিপক্ষ তত কঠিন হবে। আমরা এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি; আমরা শতভাগ অনুপ্রাণিত এবং জয়ের উদ্দেশ্য নিয়েই মাঠে নামব। আমরা জানি আমাদের সেরা ফর্মে থাকতে হবে এবং এটি একটি অত্যন্ত কঠিন লড়াই, তবে ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

    দুই দলের দ্বৈরথে স্পেনের আধিপত্যই চোখে পড়বে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বারের মুখোমুখি দেখায় স্প্যানিশরা জিতেছে ৯ ম্যাচে। বিপরীতে অস্ট্রিয়ার জয় চারটিতে, আর বাকি ৩ ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। তবে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় অস্ট্রিয়া ২-১ ব্যবধানে জিতে স্তব্ধ করে দিয়েছিল স্পেনকে।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের এই ম্যাচ তাই স্পেনের জন্য যেমন পুরোনো হিসাব চুকানোর মঞ্চ, অস্ট্রিয়ার জন্য তেমনি চার দশক আগের সেই গৌরবের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর হাতছানি।

  • ইতিহাস যখন ইয়ামালদের ভয়

    ইতিহাস যখন ইয়ামালদের ভয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের সোফি স্টেডিয়ামটি জমজমাট রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বকাপ ঘিরে মাঠের ভেতরে ও বাইরে ভক্তদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, বর্ণিল আয়োজনে পুরো পরিবেশকে একটি সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো করে তুলেছে। আর হলিউডের শহর খ্যাত লস অ্যাঞ্জেলেসের এই স্টেডিয়ামের কাছের একটি ভবনে স্পেনের তারকা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালকে চিত্রিত করে প্রদর্শিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন। তাঁর অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং, ক্ষিপ্রতা এবং দর্শনীয় গোল করার ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘সিবিএস’ প্রচার করেছে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ডের মতো তারকা দ্যুতি ছড়ালেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অন্যতম বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা বার্সেলোনার এ সুপারস্টার এখন পর্যন্ত তাঁর সেরাটা দেখাতে পারেননি। গ্রুপ পর্বে স্পেন যে তিনটি ম্যাচ খেলেছে, তার কোনোটিতেই পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন না ফুটবলের এ জাদুকর। তাই তো শেষ বত্রিশে আজ

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ইয়ামাল-শোর অপেক্ষায় পুরো ফুটবল দুনিয়া।

    ইতিহাস আর ঐতিহ্যে এই স্পেন দুর্দান্ত। অস্ট্রিয়ার মতো দল বড় বাধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের একটি পরিসংখ্যান যে ইয়ামালদের জন্য ভয়ের কারণ। ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ীদের (ইতালি, স্পেন ও জার্মানি) কেউই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ফুটবলের মহাযজ্ঞের কোনো নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি স্পেনের সোনালি প্রজন্ম পরপর তিনটি বড় টুর্নামেন্ট (ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০, ইউরো ২০১২) জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু এর পর থেকে বৈশ্বিক মঞ্চে স্পেনকে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আর গত দুটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যথাক্রমে রাশিয়া ও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। লা ফুরিয়া রোজারা অবশ্যই এই ধারা ভাঙতে মরিয়া হয়ে থাকবে। প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানি বিদায় নেওয়ার পর স্পেনও যে আতঙ্কে আছে, তা ফুটে উঠেছে দলটির সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজের কণ্ঠে, ‘আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে বর্তমানে যে কোনো দলই যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে। আমি মনে করি, আমরা এর জন্য প্রস্তুত এবং ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে আছি।’স্পেন বর্তমানে ইউরো চ্যাম্পিয়ন। দলটির লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ ১৬ বছরের জয়ের খরা কাটানো। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের শুরুটা হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে নকআউটে পা রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলটি। বিপরীতে এই পর্যায়ে আসার পথটি অস্ট্রিয়ার জন্যও ছিল নাটকীয়। গ্রুপ ‘জি’-তে শেষ দিনে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি নিষ্প্রাণ এক লড়াই হবে বলেই সবাই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচটি মোটেও তেমন ছিল না; বরং ৩-৩ গোলের এক রোমাঞ্চকর ড্র দিয়ে এটি শেষ হয়। ম্যাচের ৯৪ মিনিটে সাশা কালাইজিচ যদি হেড থেকে সমতাসূচক গোলটি না করতেন, তবে অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিয়ে নিত। জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় এবং আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ ব্যবধানের পরাজয় স্পষ্ট করে দেয় যে তাদের এই যাত্রা কতটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।স্পেনের এই দলটিতে বার্সেলোনার প্রভাবই বেশি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একতাবদ্ধতা এবং ইয়ামালের ওপর ভরসা করছে লা ফুরিয়া রোজারা। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই ইয়ামালকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেন স্পেন কোচ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১৯ মিনিট, সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪৫ মিনিট খেলে একটি গোলও করেছিলেন ইয়ামাল। উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৭৬ মিনিট। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ২৩ বছর বয়সী উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস উরুগুয়ে ম্যাচে চোটে পড়ায় তাঁকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নেবেন না লুইস দে লে ফুয়েন্তে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচের শুরু থেকেই ইয়ামালকে দেখা যেতে পারে। তাই ইয়ামালের জন্য মঞ্চটা এবার নিজেকে মেলে ধরার।

  • এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    ফুটবল বিশ্বের নয়া পোস্টার বয় লামিনে ইয়ামাল। নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে তার বিশাল ছবি। ভাবা যায়! মাত্র ১৮ বছর বয়সে টাইম স্কয়ারের মতো স্থানে ইয়ামালের এই উপস্থিতি। বলুনতো এতে কী প্রমাণ হয়। স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের তাবৎ মিডিয়া বিস্ময়বালক হিসেবেই তাকে চিহ্নিত করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের এক নম্বর মুকুটহীন সম্রাট। অনেকে তার মধ্যে আরেক মেসির ছায়া স্পষ্ট দেখতে পান। লামিনে ইয়ামালের গায়ে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। স্পেনের হয়েই ইউরো ২০২৪ জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোল করেছেন ৫৩টি। তার ক্যারিয়ার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেই বড় হন। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। লামিনে’র দাদি এসেছিলেন মরক্কো থেকে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে এখানে-ওখানে থাকতেন। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় স্পেনের মাতারো শহরে। মা আসেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে। মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না। যাযাবরের মতো থাকতেন। দারিদ্র্যতা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এখন বিবেচনা করলে মনে হবে, এটা এক রোমাঞ্চকর বাস্তব জীবন। যা কিনা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। আর্থিক কষ্টের মধ্যে মাতারো শহরের দুইজন সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ান। এই মুহূর্তে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন লামিনে। তবুও কোচ তাকে মাঠে নামাবেনই। কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন ড্র করে। বিশ মিনিট মাঠে নামেন অবশ্য। সৌদি আরবের সঙ্গে খেলেছেন একটু বেশি সময়। গোলও পেয়ে গেছেন। গোলের পর দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে ৩০৪ চিহ্নটি দেখান। এর পেছনে একটা ইতিহাস রয়েছে। এটা আসলে রোকো ফন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে পিছিয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পরিচয়কে তুলে ধরতে চান। খ্যাতির চূড়ায় এখন অনেকটা শীর্ষে। এর মধ্যে লামিনের জীবনে যুক্ত হয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ইয়ামালের মূল অনুপ্রেরণা কিন্তু ব্যালন ডি’অর বা কোটি টাকার জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নয়। তিনি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান। ইয়ামালের মা কাজ করতেন ম্যাকডোনাল্ডসে। হাড়ভাঙা খাটুনি। তারকা হয়ে ওঠার পর লামিনে তার মা’র জীবনটা বদলে দিয়েছেন। কিনে দিয়েছেন এক বিলাসবহুল বাড়ি।

    মার সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল

    চাচা কাজ করতেন এক বেকারিতে। তার জীবনও পাল্টে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এখনও তিনি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে স্মরণ করেন। তার বুটে আঁকা থাকে ওই দুটি দেশের পতাকা। এতে তিনি প্রমাণ করতে চান-অতীত যত কুয়াশাছন্নই হোক না কেন- সেটা তিনি ভুলতে চান না। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার অবিশ্বাস্য চাপ। অন্যদিকে জীবনের নানামুখী আইনি বিতর্ক। মিডিয়ার নজর তো আছেই। বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, লামিনের জীবন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এসব ধরে রাখতে। অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতার পাশাপাশি বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান স্পষ্ট। রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিশেল সালগাডো ইয়ামালের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আমাদের সামনে এক নতুন মেসিকে দেখা যাচ্ছে। জনপ্রিয় খেলার কাগজ মার্কা বলেছে, এই তরুণ তারকা তার ক্যারিয়ারের সঠিক পথটি বেছে নিয়েছেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করার পর বলা হচ্ছে, স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছানো এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। একটি বাস্তব সম্ভাবনা। বিশ্বকাপের আসরে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে অনেকেই অংক মেলাচ্ছেন। বলছেন, এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ!

  • যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    নারী ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ছিল স্পেনের জন্য স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দেশটি। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়কে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে একটি চুম্বন—যে চুম্বন শুধু একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করেনি, বরং স্পেনের ক্রীড়া প্রশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে এক অভূতপূর্ব সামাজিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

    সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্র ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’। কী আছে এই তথ্যচিত্রে

    বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ থেকে বিতর্কের ঝড়
    ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দিচ্ছিলেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। সেই সময় তিনি স্পেনের তারকা ফুটবলার হেনি হেরমোসোকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খান। ঘটনাটি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তেই সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইনস্টাগ্রাম লাইভে হেনি হেরমোসো জানান, ওই চুম্বন তাঁর অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তিনি সেটি পছন্দ করেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক, প্রতিবাদ এবং জবাবদিহির দাবি।

    ‘সে আকাবো’—এক আন্দোলনের জন্ম
    স্প্যানিশ ভাষায় ‘সে আকাবো’ অর্থ—‘এবার শেষ’ বা ‘আর নয়’। স্পেন দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস প্রথম এই স্লোগান ব্যবহার করেন। তিনি এবং তাঁর সতীর্থরা ঘোষণা দেন, ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে তাঁরা জাতীয় দলে ফিরবেন না।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ‘সে আকাবো’ হ্যাশট্যাগ। কেবল ফুটবলার নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ, জাতিসংঘ, স্পেন সরকার এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

    একটি চুম্বনের ঘটনা ধীরে ধীরে নারীদের প্রতি বৈষম্য, হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

    ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

    কী দেখায় তথ্যচিত্রটি?
    তথ্যচিত্রটিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেনি হেরমোসো, অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস, আইতানা বোনমাতি, ওলগা কারমোনা, ইভানা আন্দ্রেস প্রমুখ। তথ্যচিত্রে শুধু বিতর্ক নয়, বিশ্বকাপ জয়ের আগের অস্থির সময়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব, বিশ্বকাপ অভিযানের সংগ্রাম এবং পরবর্তী আন্দোলনের নেপথ্যের গল্পও উঠে এসেছে। তথ্যচিত্রে ফুটবলারদের অনেকেই বলেছেন, তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের আনন্দ শেষ পর্যন্ত অন্যরা ছিনিয়ে নিয়েছিল।
    দলের অধিনায়ক ইভানা আন্দ্রেস বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট করেছি, এত ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সাফল্যের গল্পটা অন্য কেউ দখল করে নিল।’

    পরিচালকের ভাষ্য
    তথ্যচিত্রটির পরিচালক হোন্না পারডোস বলেছেন, খেলোয়াড়েরা এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে বলেননি। তাঁর মতে, এটি শুধু ফুটবলের গল্প নয় বরং এমন এক সময়ের দলিল, যা স্পেনের ক্রীড়া ও সামাজিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

    রুবিয়ালেসের পতন
    চুম্বন-কাণ্ডের পর রুবিয়ালেস প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। বরং তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দেন।
    ঘটনাকে ঘিরে আরও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন তাঁর মা স্থানীয় একটি গির্জায় অবস্থান নিয়ে অনশন শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপক চাপের মুখে রুবিয়ালেস তাঁর পদ হারান এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও নিষিদ্ধ হন।

    শুধু ফুটবল নয়, সমাজের গল্প
    তথ্যচিত্রটি মূলত একটি ফুটবল নিয়ে হলেও এর পরিধি ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
    এটি এমন এক ঘটনার গল্প, যেখানে বিশ্বকাপজয়ী নারীরা নিজেদের সাফল্যের জন্য নয়, বরং নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্যও লড়াই করেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন কীভাবে গোটা দেশের ক্ষমতার কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, সেই ইতিহাসই তুলে ধরবে নেটফ্লিক্সের এই তথ্যচিত্র।