ভারত

  • পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    শেষ পর্যন্ত একা লড়াই চালিয়ে গেলেন হাসান নাওয়াজ। তবে অন্যরা তাঁকে সঙ্গ দিতে না পারায় চিন্তা করতে হয়নি ভারতকে। এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতে নিল শ্রেয়াশ আইয়ারের দল।

    নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২১১ রানের পুঁজি পায় ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় ১৯২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখেন নাওয়াজ। শিবম দুবের করা ইনিংসের শেষ বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে খেলেন ৯৬ রানের ইনিংস।

    ৫১ বলে ৫ চার ও ৭ ছক্কা মারেন নাওয়াজ। ফাইনালে পাকিস্তানের সুখস্মৃতি হয়ে থাকল কেবল তাঁর সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংস। দলীয় ৩৬ রানে উসমান খানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাওয়াজ। চতুর্থ উইকেটে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে ৮৭ রান যোগ করেন। ২২ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করে সাইম বিদায় নেন।

    সাইম ফিরলেও নাওয়াজের ব্যাটিং ঝড় অব্যাহত ছিল। আব্দুল সামাদ ও শান মাসুদকে নিয়ে কঠিন সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু তাঁর ঝড় কেবল দলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে ২৩ রান করেন মাজ সাদাকাত। অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর ও দুবে দুটি করে উইকেট নেন।

    জোড়া ফিফটিতে বড় পুঁজি পেয়েছিল ভারত। ২৮ বলে অভিষেক শর্মার অবদান ৬১ রান। ৫১ রান করেন তিলক ভর্মা; ২২ বল খেলেন তিনি। শেষ ৪ ওভারে তিলক ও দুবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৬৯ রান তোলে ভারতকে ২০০ পার করা সংগ্রহ এনে দেন। দুবে ২৭ ও আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। পাকিস্তানের হয়ে আহমেদ দানিয়েল ও মিনহাজ দুটি করে উইকেট নেন। ৩ ওভারে মিনহাজ ২৫ রান দিলেও দানিয়েলের খরচ ৪৩ রান। সবচেয়ে বেশি ৪৭ রান দিয়েছেন সাইম আইয়ুব।

  • ভারতে পাচার করে বিক্রি, এক যুগ পর দেশে ফিরল কিশোরী

    ভারতে পাচার করে বিক্রি, এক যুগ পর দেশে ফিরল কিশোরী

    ভারতে পাচারের এক যুগ পর বাংলাদেশি এক কিশোরীকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত থেকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কিশোরীকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে ৫১ বিজিবির রংপুর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    উদ্ধার কিশোরীর বাড়ি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায়। সে জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে একটি নারী পাচারকারী দল তাঁকে ভারতে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে বিক্রি করে দেয়।

    বিজিবি ও সীমান্ত সূত্র জানায়, গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ী গ্রামের পাইকারপাড়া সীমান্ত এলাকায় দিগ্‌বিদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল ওই কিশোরী। স্থানীয়রা বিষয়টি পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে জানালে বিজিবির সদস্যরা কিশোরীকে উদ্ধার করেন। পরে কিশোরীর দেওয়া পরিচয় ও ঠিকানায় যোগাযোগ করে তার বাবাকে ডাকা হয়।

    আজ মঙ্গলবার সকালে কিশোরীর বাবা ও তার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে এসে কিশোরীকে শনাক্ত করেন। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে বিজিবি ওই কিশোরীকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়।

    মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন বলেন, বিজিবির হেফাজতে থাকা কিশোরীকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ভারতে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

    ভারতে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের মঙ্গলবার বিকেলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চল্লিশোর্ধ্ব বয়েসের এক স্কুল শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী গৌরব রাথি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।

    নিহত শিক্ষকের নাম নওশাদ আহমেদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে তার বয়স ৪০ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। দুপুর ২টার দিকে স্কুলের গেটের কাছে রাথি নওশাদকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ।

    এতে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নওশাদ। স্কুলশিক্ষক তরুণা চৌরাসিয়া তাকে উদ্ধার করে একটি ই-রিকশায় নাজিবাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঋষিকেশের এআইআইএমএসে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    পুলিশ জানায়, গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ পরই দুটি দেশীয় তৈরি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড কার্তুজসহ রাথি থানায় হাজির হন। সংবাদমাধ্যম আমর উজালার বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, রাথি কথিতভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি তিনবার গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি নৌশাদের বিরুদ্ধে কথিত ‘লাভ জিহাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন, যা পুলিশ তদন্ত করছে।

    বিজনোরের পুলিশ সুপার কে কে বিষ্ণোই জানান, অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলেও হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত নৌশাদ রাহাতপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রামের মুখিয়া মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, হত্যার নির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

    নৌশাদ মৃত্যুর পর তার মা, দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং হত্যার উদ্দেশ্য তদন্তাধীন রয়েছে।

    সূত্র: মুসলিম মিরর

  • কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ। একসময় দেশের ইলিশ বিদেশেও রপ্তানি হতো। অথচ এখন দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। এই ইলিশের বড় অংশই এসেছে ভারতের গুজরাট থেকে।

    আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আরো ইলিশ বাংলাদেশে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে এসব মাছ ঢুকছে।

    পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে।

    তার দাবি, এর প্রায় পুরোটাই গুজরাট থেকে এসেছে।

    প্রশ্ন উঠছে, দেশের ইলিশের মৌসুমে ভারত থেকে এত মাছ কেন আমদানি করতে হচ্ছে?

    বাজারে ইলিশের সংকট

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল কারণ দামের পার্থক্য। বাংলাদেশে যে দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, তার তুলনায় ভারত থেকে আমদানি করা মাছের দাম কয়েক গুণ কম পড়ে। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

    যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করছে। তবে কেন এই আমদানি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইলিশ আমদানিকারকদের হয়ে কাজ করা একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানি করছেন।

    তার ভাষায়, লাভ না থাকলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতেন না।

    তবে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়ে এ ধরনের আমদানি শুরু হয়েছিল।

    উৎপাদন কমছে বাংলাদেশে

    দেশে প্রায় দুই দশক ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ার পর গত তিন বছর ধরে তা কমছে। একই সঙ্গে মাছটির গড় ওজনও কমতে শুরু করেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন গবেষকেরা।

    মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরো কমে হয় ৫ লাখ ৪ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া না গেলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমেছে।

    ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, নদীদূষণ, কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা নিধন, বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশের প্রাপ্যতা কমেছে। সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আসার পথ বা মাইগ্রেটরি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও এর কারণ হতে পারে।

    তিনি বলেন, নানা ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা এবং কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার স্থানও হুমকির মুখে পড়েছে। ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    আমদানি করা ইলিশে বড় লাভ

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের কয়েকজনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা ইলিশের সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য পড়ে কেজিপ্রতি দুই ডলার বা প্রায় ২৪৬ টাকা, কখনো এরও কম। এরপর কাস্টমসসহ বিভিন্ন শুল্ক ও অন্যান্য খরচ যোগ হলেও বাংলাদেশের বাজারে একই ওজনের ইলিশের তুলনায় দাম কম থাকে।

    একজন কর্মকর্তা বলেন, এ কারণে আমদানিতে ব্যবসায়ীদের ভালো লাভ হচ্ছে। গত দুই মাসে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় যশোর অঞ্চলে আমদানি করা মাছও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

    ঢাকার বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রেও ইলিশের উচ্চমূল্য দেখা গেছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৭০০ গ্রামের মাছ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। বাংলাদেশে বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করে, বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।

    উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্প, প্রশ্ন কার্যকারিতা নিয়ে

    ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২০২০ সালে ছয় বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমতে থাকায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, গত সরকারের সময়ে প্রকল্পটি কতটা কাজে লাগানো হয়েছে বা কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইলিশের উৎপাদন কমার কারণও বের করতে হবে।

    ভারত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে অল্প পরিমাণে ইলিশ এসেছে। এবার বাজারে ইলিশ কম থাকায় ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    তার মতে, ইলিশ সাগরের মাছ। প্রজননের জন্য নদীতে আসে। ভারতের জেলেরা হয়তো সাগর থেকেই বেশি মাছ ধরে ফেলছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের মজুত কমছে। এসব কারণেই অল্প পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    গুজরাটে ইলিশের জোগান বেশি

    বাংলাদেশে যে ইলিশ আসছে, তার বড় অংশ গুজরাটের। পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানিকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, এ বছর গুজরাটে ইলিশের জোগান অনেক বেশি হয়েছে। এতে সেখানে উদ্বৃত্ত মাছ তৈরি হয়েছে এবং দামও কমেছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু ইলিশের নয়, ইলিশের ডিমেরও বড় চাহিদা রয়েছে। গুজরাটের ইলিশ আকারে বড় এবং ডিমে ভরা থাকে। বাংলাদেশে ইলিশের ডিম প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের বাজারেও রপ্তানি করা হয়।

    মাকসুদের তথ্য অনুযায়ী, গুজরাটের ভারুচ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত ইলিশের এই বাণিজ্যিক পথ বিস্তৃত হয়েছে।

    ভারুচের ভাদভূতের কাছে মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে ইলিশের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। সাধারণত এসব মাছ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশেও রপ্তানি করা হয়।

    তার ভাষ্য, ভাদভূত থেকে সরাসরি রেফ্রিজারেটেড ট্রাকেও বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হয়। পরিমাণ কম হলে ট্রেনের কনটেইনার ব্যবহার করা হয়। তবে বড় চালান সাধারণত ট্রাকে যায়।

    চিমন ট্যান্ডেলের হিসাবে, প্রতিদিন ভারুচ থেকে তিনটি ট্রাক ছাড়ে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ২৫০টি বাক্স থাকে। প্রতি বাক্সে থাকে ৬০ কেজি ইলিশ।

    মৎস্যজীবী দীপকভাই মাচ্ছি বলেন, গুজরাটে ইলিশের মৌসুম জুনের মাঝামাঝি থেকে নবরাত্রি পর্যন্ত। বর্তমানে সেখানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ ভারতীয় রুপি। তিন মাসের মৌসুমে ছোট আকারের জেলেদের কেউ কেউ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন বলে দাবি তাঁর।

    গুজরাটে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায় ভাদভূতের কাছে, যেখানে নর্মদা নদী সাগরে মিশেছে। এ ছাড়া জম্বুসার ও হানসোটেও ইলিশ পাওয়া যায়।

    পশ্চিমবঙ্গের বাজারেও বাংলাদেশি ক্রেতা

    হাওড়ার কালীবাবুর বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রথীকান্ত বার দাবি করেন, এ বছর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও পশ্চিমবঙ্গের বাজারে গিয়ে খুচরা পরিমাণে ইলিশ কিনছেন। তাদের কেনা মাছের পরিমাণ প্রায় দেড় থেকে তিন মেট্রিক টন। তবে তারাও গুজরাট ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা বড় আকারের ইলিশ বেশি পছন্দ করছেন।

    পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা জয়কৃষ্ণ হালদার ইলিশের জোগানের এই পরিবর্তনের জন্য জলদূষণ ও শিল্পভিত্তিক মাছ ধরাকে দায়ী করেছেন।

    তিনি বলেন, নিষিদ্ধ গাছের ওষুধের ব্যবহার এবং শহরের বর্জ্য পানিতে ফেলা বন্ধ করতে বারবার বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রায় সারা বছর বড় মোটরচালিত নৌযান দিয়ে শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার কারণে সাধারণ জেলেদের মাছের জোগানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ইলিশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি। কর্মকর্তাদের হিসাবে, ১ হাজার ২০০ টন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সে বছর ১১০ টনেরও কম ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।

    ফলে একদিকে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে আমদানি বাড়ছে। ইলিশ উৎপাদনে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে উৎপাদন কমার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দেশে ২৫২টি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ দেওয়া হয়েছে। বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই ‘খারিজি মাদ্রাসা’।

    রাজ্যটির বিজেপি সরকারের দাবি, এসব মাদ্রাসা কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যায় গত ২২ জুলাই কলকাতাসহ সব জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে সমীক্ষা চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা সমীক্ষা করতে হবে। এরপর জেলায় জেলায় শুরু হয় যাচাই পর্ব।

    সেই সমীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় রাজ্যের প্রায় দুই হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসায় সরকারি অনুমোদন নেই। পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নেয় দপ্তর।সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নোটিশের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে মাদ্রাসাগুলোকে শোকজ করা হয়েছে, তাদের যথেষ্ট পরিকাঠামো নেই। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।ভারতে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকারও। এরমধ্যে সেখানে একাধিক মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক চাই। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলেছিলেন। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না।’

    সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ব্রিকসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত এখন পর্যন্ত খোলাখুলিভাবে কোনো নীতি জানায়নি। এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। এটিকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ মনে করে না বাংলাদেশ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আশা করব ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক চাই।’

    আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক সময় লাগবে।

    জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন-কানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

    নিজেকে নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আশা করি, বিএনপি ও বিরোধী দল মিলে যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।’

    স্পিকার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে এর প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে এবং জনগণ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।

    এ সময় জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া, গুম-খুন-হত্যা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।

    পরে ‘আমরা ভোলাবাসী’র নেতৃবৃন্দ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। নতুন মহাসড়কেরও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এর মধ্যে যেটি ভালো হবে, সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।

    চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

    এ সময় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।

    বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।

  • আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং।

    কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।

    ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।

    গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।

    সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে ভারতের চিঠি

    দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে ভারতের চিঠি

    ভাষা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের মিলের কারণে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের অন্যতম প্রতীক পদ্মার ইলিশ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আবার পদ্মার ইলিশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে ভারতের ব্যবসায়ীরা।

    দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার লাখ লাখ ইলিশপ্রেমীর আগ্রহ পূরণ হচ্ছে না। এ অবস্থায় পূজার বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভারতের এই ব্যবসায়ী সংগঠন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে।

    শুধু চিঠি নয়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সফরও করেছেন ভারতের ফিশ ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তারা বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

    ভারতের ব্যবসায়ীদের দাবি, দুর্গাপূজার সময় দুই বাংলার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা থাকে ব্যাপক। এ কারণে পূজার আগে সীমিত পরিমাণে হলেও পদ্মার ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চান তারা।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পূজা উপলক্ষে ইলিশ মাছ রপ্তানির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পেয়েছি। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায় তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

    ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হচ্ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার কেবল দুর্গাপূজার সময় নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত অনুমতি শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনে না।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, স্থায়ীভাবে ইলিশ রপ্তানি উন্মুক্ত করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে এবং ভারতের জনগণ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যপ্রেমী মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে তা স্মরণ রাখবে।

    চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও, এবার তা আরো আগে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো কঠোর সময়সীমা জুড়ে না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে সর্বোচ্চ পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি করা সম্ভব হয়।

    অভিযোগ রয়েছে, অতীতে অনেক সময় শিল্পের বাইরের ব্যক্তিদেরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা কার্যকরভাবে কোনো ইলিশই ভারতে পাঠাতে পারেননি। তাই ভুঁইফোড় ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কেবল প্রকৃত ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারকদেরই এই অনুমতি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ বিরতির পর ভারতে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। এরপর ২০২০ সালে এক হাজার ৮৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরিমাণ অনুযায়ী রপ্তানি হয়নি। ২০২১ সালে চার হাজার ৬০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে পাঠানো হয় ১২০০ টন ইলিশ।

    ২০২২ সালে দুই হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে তিন হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও ভারতে গেছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে দুই হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর এক হাজার ২০০ টন রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ।

    পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ আমার দেশকে বলেন, আমরা আশাবাদী, এ বছর বেশি পরিমাণ ইলিশ আনতে পারব। ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

    তিনি আরো বলেন, রপ্তানির সময় এক মাস বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময় অনুমোদন পাওয়া সব মাছ আমরা আনতে পারি না। এজন্য সময়সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইলিশের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে ভালো হয়।

  • ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের সার্কিট হাউসে নামাজ আদায়ের অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্ক করা গাড়ির পেছনে উসমান নামাজ আদায় করছেন। পুলিশের দাবি, এতে সার্কিট হাউসে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি।

    উসমান সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। দলীয় নেতাদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন।

    পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। এর আগে নামাজের ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি নয়।

    সূত্র: দ্য ওয়্যার

  • ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে  মাদরাসা

    ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মাদরাসা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরাখণ্ডে একের পর এক মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে ২০টি মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। অজুহাত হিসেবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, এসব মাদরাসার অনুমোদন নেই এবং এগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয় না।

    এরই ধারাবাহিকতায় দেরাদুন ও হালদোয়ানিতে কয়েকটি মাদরাসা সিলগালা করেছে প্রশাসন। উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, দেরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজাদ কলোনিতে অবস্থিত মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাজরায় অবস্থিত মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম এবং মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ঢাকাতে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১৭টি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে রাজ্যে মোট ২০টি মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।’

    এদিকে, নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানিতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। শহরের গৌজাজালি নর্থের শনি বাজার রোডে অবস্থিত মাদরাসা জামিয়া নূরিয়া বরকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    হালদোয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ বি বাজপেয়ী জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী সিলগালার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নির্ধারিত বিধি ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত না হয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    একজনেরই তিন জন্মদিন!

    বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে কাগজে-কলমে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবের জন্মসাল তিনটি—২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০। মাসখানেক আগেও শ্রীলঙ্কা সফর করে আসা এই ক্রিকেটারকে বয়সের তথ্য জালিয়াতির দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

    ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) তাদের খেলোয়াড়দের জন্য প্রাক্‌–মৌসুম নথিপত্র যাচাই কর্মসূচি পরিচালনা করার সময় রোহিতের বিষয়ে গরমিল পায়। পিটিআই জানিয়েছে, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০—এই তিনটি ভিন্ন জন্মসনদ পাওয়া গেছে তাঁর নামে।

    ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, রোহিতের আধার কার্ডের তথ্যেও ছিল গরমিল। সিএবির নিবন্ধনে তাঁর জন্মসাল ২০০৭। অন্যদিকে ২০১৭ ও ২০২০ সালে হালনাগাদ করা আধার রেকর্ডে জন্মসাল ছিল ২০০৬। পরে ২০২১ সালে সেটি পরিবর্তন করে করা হয় ২০০৯।

    বয়স নিয়ে এত রকম তথ্য পাওয়ার পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে রোহিতকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    রোহিত একা নন। একই ধরনের বয়সের গরমিলের কারণে আরও ৬৪ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। তাঁদের মধ্যে আছেন ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের পেসার রবি কুমারও। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর সব রেকর্ড বাতিল বলে গণ্য হবে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে বয়সের গরমিল ছিল ৪০ মাসের বেশি।

    বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমার একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছিল সংস্থাটি। সেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়েরা স্বেচ্ছায় বয়সের গরমিল স্বীকার করে সঠিক জন্মতারিখ জমা দিলে সাময়িক বরখাস্ত এড়াতে পারতেন। তবে পরে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাঁদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতো।

  • দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার

    ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চার শর্ত সামনে আনছে ঢাকা। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ লাইনে যাবে কিনা, নেপাল-ভুটান থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ আনার সুযোগ মিলবে কিনা এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ কত— এসবের উত্তর না মিললে করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সরকার।

    ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো— ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কিনা। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    দ্বিতীয় শর্ত হলো- নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো— ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো— বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’

    জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে একটি গ্রিড লাইন নির্মাণ জরুরি। এর মধ্যে বাংলাদেশ যার কাছ থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে, তার থেকে আমদানি করতে পারে।’

  • ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারতের বিপক্ষে ইব্রাহিম জাদরানকে অধিনায়ক করে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

    দলে ফেরানো হয়েছে পেস বোলার নবীন উল হককে। ডান কাঁধের চোটের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। খেলতে পারেননি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। দলে রয়েছেন ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাইয়ের মতো পেসার। অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইও।

    দলে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবকেও। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোতের মতো নিয়মিত ক্রিকেটারেরাও আসছেন ভারতে। প্রথম উইকেটরক্ষক হিসাবে দলে রয়েছেন রহমাউল্লাহ গুরবাজ। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে রয়েছেন নুর রহমান।

    এসিবির সিইও নাসিব খান জানিয়েছেন, ভারসাম্যযুক্ত দল নির্বাচন করা হয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং, স্পিন বোলিং-জোরে বোলিং, অভিজ্ঞতা-তারুণ্য সব কিছুরই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

    ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ম্যাচই হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলি হবে ১৩, ১৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর।

    আফগানিস্তান দল: ইবরাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), নুর রহমান (উইকেটরক্ষক), রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, সেদিকুল্লাহ অটল, দারউইশ রাসুলি, নবিন-উল হক, ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাই, মুজিব-উর রহমান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোত।

    রিজার্ভ: ইজাজ আহমেদজাই, শহিদুল্লাহ কামাল, ফরিদ আহমেদ মালিক।

  • ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

    ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করেছে ঢাকা। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    দিল্লি সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য যে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

    হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ভারতের কাছে পাঠিয়েছে। গত জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, হাদী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা ভারতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিচার চলমান অবস্থাতেও তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।এর আগে হাদী হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়।

  • ভারতে ১৭ দিন পানি ও বিদ্যুৎহীন  ৫০০ মুসলিম পরিবার

    ভারতে ১৭ দিন পানি ও বিদ্যুৎহীন ৫০০ মুসলিম পরিবার

    পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমবিদ্বেষ বেড়েই চলেছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বৈষম্য আরও বেড়েছে বলেও । গত ১৭ দিন ধরে কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় বন্ধ রয়েছে সুপেয় পানি সরবরাহ। ল্যাম্পপোস্টেও নেই বিদ্যুৎ সংযোগ।

    কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন জ্যোতিনগর কলোনিতে দেখা দিয়েছে এই নাগরিক দুর্ভোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার সিংহভাগ বাসিন্দা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। একাধিকবার কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।

    জানা গেছে, জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর। নিম্নবিত্ত শ্রেণির হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কিছু ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

    তবে এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। যদিও তারা বারবার ক্ষমতাসীন বিজেপি ও দলটির কট্টরপন্থি অংশের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন। সমস্যা সমাধানের আশায় বিজেপি নেতাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েও তেমন কোনো সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাদের। তবে কিছু ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।

    জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় ৫০০ সংখ্যালঘু পরিবার রয়েছে। তাদের কেউ ৫০-৬০ বছর, আবার কেউ ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। গত ১৭ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন তারা। অনেকেই কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি গঙ্গায় পড়ায় সেই পানি গোসল ও রান্নার কাজে ব্যবহার করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বাসিন্দাদের দাবি, কলোনিতে থাকা পাঁচটি পানির কলের সরবরাহ বন্ধ করে মূলত বস্তি উচ্ছেদের ফন্দি আঁটছে সিটি কর্পোরেশন। তবে এ বিষয়ে কলকাতার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। বিজেপি নেতৃত্বও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    সম্প্রতি রাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, সংখ্যালঘুরা তাকে ভোট দেননি। তাই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কোনো কাজ করবেন না। বিধায়কের এমন বক্তব্য স্থানীয়দের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • ভারত কি সত্যিই স্বাধীন!

    ভারত কি সত্যিই স্বাধীন!

    রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই বিল আইনে পরিণত হলে ভারত ও চীনসহ শীর্ষ রাশিয়ার তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এই প্রেক্ষাপটে মোদি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য ও নেতা পবন খেরা। তিনি প্রয়াগরাজে গণমাধ্যমের কাছে প্রশ্ন তোলেন, ‘ভারত কি সত্যিই স্বাধীন?’

    তিনি বলেন, বিদেশ থেকে এসে যে কেউ ভারতকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছে; কোন্ দেশ থেকে তেল কেনা যাবে বা কতটুকু কেনা যাবে-সে বিষয়ে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।

    পবন খেরা বলেন, ‘দেশের যারা নিজেদের ‘বিশ্বগুরু’ বলে দাবি করে বেড়ায়, তাদের উচিত এই বিষয়ে জবাব দেওয়া। কিন্তু সংসদে এসে এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তাদের নেই, কারণ তারা সবকিছু নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে ভয় পায়।’

    রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ভারতের স্বাধীন বৈদেশিক নীতি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দেশটির কেন্দ্র সরকারকে সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করেছে।

  • ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটিই দুই দেশের সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা। তবে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার ভাষ্য, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবে কি না।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।

    ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারে-সরকারে সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না। জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে।

    তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপনের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দলটি অতীতের মতো এখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ সামনে আনার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করত। বিদেশে অবস্থান করেও তারা একই কৌশল অনুসরণ করছে।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।

    তিনি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল।

    তার ভাষ্য, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।

    ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে। এখন ভারতের জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

  • মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই চালান প্রত্যাখ্যানের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন ভারতের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মহলের অনেকে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেসলাইনের খবরে বলা হয়, চালানটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এরপর চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ২২ জুলাই চালানটির যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরীক্ষার পর মানবদেহের জন্য নিরাপদ বা ‘মানুষের খাওয়ার উপযোগী’ বলে সনদ দেওয়া হয়। চালটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সরকার টু সরকার চুক্তির আওতায় আনা।চাল খাওয়ার উপযোগী বলে সনদ পাওয়ার পর জাহাজটিকে চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ২৩ ও ২৪ জুলাই চালের একটি অংশ খালাস করা হয়। খালাস করা চালের কিছু অংশ ঢাকার তেজগাঁও, হালিশহর ও দেওয়ানহাটের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি কিছু চাল জয়দেবপুরের স্থানীয় সংরক্ষণাগারেও পাঠানো হয়।

    এরপর, গত ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা জানান, ‘চালের মান ভালো নয় এবং এটি মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়।

    ভারতীয় চাল নিয়ে বাংলাদেশ হঠাৎ করে কেন সমস্যায় পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এক ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর বাংলাদেশে চাল সরবরাহ করে আসছি। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান থেকে চাল কিনতে গিয়েছিল এবং সেটি ব্যয়বহুল বলে মনে হয়েছিল, তখন তারা আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসে। এখন তারা খেলায় নেমেছে।’

    আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক খেলা’ আরও কিছুদিন চলতে পারে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন যখন একটি এল নিনো বছর চলছে এবং এর স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, তখন এ ধরনের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।’ বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে চাননি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার নামের জাহাজটি থেকে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হয়েছে। বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রথম ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘পুরো চালানটিই এখন ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’ তবে তিনি মনে করেন, এই একটি চালান প্রত্যাখ্যানের কারণে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

    এদিকে, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সরকার টু-সরকার চাল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এক ভারতীয় রপ্তানিকারক একটি বহুজাতিক কোম্পানির মজুত থেকে চাল সংগ্রহ করেছিলেন। তৃতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের ভেতরে থাকা কিছু সংস্থাকে ঘিরে, যারা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একচেটিয়া বা একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

    তাঁর দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরোধীরা এখন একজোট হয়ে তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এর পরোক্ষ শিকার হয়েছে ভারতীয় চালের এই চালান।প্রসঙ্গত, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন বাসমতী নয়, এমন জাতের চাল রপ্তানি করেছে। এর বেশির ভাগই ছিল সেদ্ধ চাল। এসব চালের মোট রপ্তানি মূল্য ছিল ৫৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৮ লাখ ৯ হাজার টন নন-বাসমতী চাল রপ্তানি করেছিল, যার মূল্য ছিল ৩৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ভারত ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে। এর মোট মূল্য ছিল ৮ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

  • বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    ভারতের তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা আবারও রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় একটি বিলাসবহুল আবাসনে প্রায় ১৮ কোটি ২৯ লাখ রুপি মূল্যের নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফ্ল্যাটটির আয়তন ২ হাজার ৬৪৪ বর্গফুট। বহুতল ভবনের ওপরের দিকের একটি তলায় অবস্থিত এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত ৩১৬ বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য জায়গা। এছাড়া তিনটি গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং সুবিধাও রয়েছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ের ওরলি এলাকার সমুদ্রঘেঁষা একটি আবাসনের ৩৫তম তলায় ৭ হাজার ১৭১ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট প্রায় ৩৪ কোটি রুপিতে বুক করেছিলেন বিরাট। চার শয়নকক্ষের সেই ফ্ল্যাটের বুকিং পরে বাতিল করা হয়। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়নি।

    নতুন এই ফ্ল্যাটের মাধ্যমে বিরাট-আনুশকার সম্পত্তির তালিকায় আরও একটি সংযোজন হলো। এরই মধ্যে মুম্বাই, গুরুগাঁও ও আলিবাগে তাদের একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে আসছেন এই তারকা দম্পতি।

    পশ্চিম দিল্লিতে বেড়ে ওঠা বিরাটের গুরুগ্রামের ডিএলএফ ফেজ-১ এলাকায় প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে। শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি রুপি। সেখানে ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, আধুনিক জিমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলিবাগের আওয়াস সমুদ্রসৈকতের কাছে জিরাড গ্রামে পাঁচ একরের বেশি জমি কেনেন বিরাট ও আনুশকা। জমিটির মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৮৬ লাখ রুপি।

    এর আগে ২০২২ সালে আলিবাগেই প্রায় আট একর জমি ১৯ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন তারা। পরে সেখানে একটি বিলাসবহুল ভিলা নির্মাণ করেন। সেই ভিলায় রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইমিং পুল, বিশেষ নকশার রান্নাঘর, চারটি বাথরুম, জাকুজি, বড় ল্যান্ডস্কেপ বাগান, ছাউনি দেওয়া পার্কিং এবং কর্মীদের থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

  • আইসোলেশনে শাবানা আজমি

    আইসোলেশনে শাবানা আজমি

    বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন এ অভিনেত্রী। সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। সে কারণে আগে থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশটিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেননি তিনি।

    একটি ছাত্র সংগঠনের আয়োজনে প্রতিবাদসভায় তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন শাবানা আজমি। তবে হঠাৎ সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ায় চিকিৎসক তাকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। সংক্রমণ যাতে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্যই তাকে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শাবানা আজমি বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় তিনি হতাশ। শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও শিক্ষার্থীদের প্রতি তার সমর্থন সবসময় থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে প্রার্থনা কামনা করেছেন অভিনেত্রী।

    শাবানার অসুস্থতার খবর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর তার ভক্ত-অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

    সোয়াইন ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এ রোগে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও হতে পারে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, অভিনেত্রী শাবানা আজমি দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজের মতপ্রকাশ করে আসছেন। ছাত্র আন্দোলন, মানবাধিকার ও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাকে সরব হতে দেখা গেছে। এবার অসুস্থতার কারণে ছাত্রদের ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। এর আগে গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজারো নাগরিকের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন শাবানা আজমি।

  • জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি ।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্সে দেওয়া বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আন্দোলনকে আরো জোরালো করে তোলে, যার ফলে সরকারকে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

  • এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন।

    এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’

    শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।

    এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে। ছবি: এএফপি

    পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত
    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।

    আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।

    আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।

  • তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণপত্র ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
    তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঠিয়েছি।

    আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

    সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তাদের জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে বলে ঢাকা আশা করে।

    এ সময় আগামী ৩০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সম্ভাব্য ঢাকা সফরের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমান সরকারের আমলে আরও জোরদার হচ্ছে। আসন্ন সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাবে বলে সরকার আশা করছে।

    এ ছাড়া প্রেসিডেন্টকে ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো তথ্য সত্য প্রমাণিত হলে সরকার প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে।
    পাসপোর্টের অবনমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান কমেনি। বিভিন্ন দেশে ভিসা-সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো সমাধানে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। অবৈধ অভিবাসন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

  • কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তাঘাটে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়, মেসির গোলে উল্লাস সবই যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই উল্লাসে নিজের দেশের কোনো দল নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারছে না এসব দেশ?

    বার্তাসংস্থা বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু জনসংখ্যা নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ এসবই একটি দেশের বিশ্বকাপে সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ঢাকায় মেসির গোলেই উৎসব, কিন্তু মাঠে নেই বাংলাদেশ

    ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করার পর ঢাকার বিভিন্ন খোলা প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো সমর্থক। অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কিন্তু সেই দর্শকদের একজনও আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন না; তারা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী।

    ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিজেদের দল বিশ্বকাপে না থাকায় অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলকে সমর্থন করেন।

    জনসংখ্যা বড় হলেই সাফল্য আসে না

    তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন তার উদাহরণ।

    তবে ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। মাত্র সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষের দেশটি দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও ‘সকারনোমিকস’ বইয়ের সহলেখক স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়।

    তার ভাষায়, ‘একটি দেশের ফুটবলে সফল হতে মানুষের পাশাপাশি অর্থ, অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।’

    সিজমানস্কি বলেন, যেসব দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

    তার গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকাপ জিততে মাথাপিছু গড় আয় ১৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া দরকার। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম আয় নিয়েও সফল হয়েছে, কারণ তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ।

    বাংলাদেশে কাঠামোগত দুর্বলতা

    বাংলাদেশের অভিনেতা, লেখক ও ফুটবল বিশ্লেষক অদিতি করিম বিবিসিকে বলেন, ‘লাখো-কোটি ফুটবল সমর্থক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এত পিছিয়ে থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তার মতে, ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া কোনো অজুহাত নয়।

    তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেট পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলছে। আমাদের সমস্যা জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও কাঠামোর অভাব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে নিজেদের কখনো দূরে রাখবেন না।’

    ভারতের সমস্যা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা

    ভারতের সাবেক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা।

    তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটে উৎসাহিত করছে।

    তবে তার বিশ্বাস, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো আয় করা সম্ভব এই বার্তাটি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো জরুরি।

    চীনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

    চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি, যদিও গত এক দশকে ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    বেইজিংভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক মার্ক ড্রেয়ারের মতে, সমস্যার মূল কারণ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

    তার ভাষায়, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেওয়া উচিত। কিন্তু চীনে সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে।’

    ইন্দোনেশিয়ার ভিন্ন পথ

    ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম নেওয়া ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার জেরোম উইরাওয়ান জানান, অনেক ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট বা নয়জন ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলার খেলেছেন।

    অবকাঠামো সংকটে ইথিওপিয়া

    ইথিওপিয়াও কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। দেশটির পেশাদার লিগ বর্তমানে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের সংকটে ভুগছে।

    ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কিফলে সাইফে জানান, চলতি মৌসুমে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘হোম ম্যাচ’ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হতাশা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ছয় ম্যাচে কোনো জয়ই পায়নি তারা।

    এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সংকটের কারণে পাকিস্তানকে তিনবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

    বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিচালনাই বিশ্বকাপে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। আর এসব ক্ষেত্রেই এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে থামাতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মোদি সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি—সবিনয়ে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের যে চিফ মিনিস্টার শুভেন্দু বাবু, তাঁকে থামান। বাংলাদেশ বিরোধী যে সমস্ত বক্তব্য আসছে মাঝেমধ্যে, যে সমস্ত বক্তব্য তিনি দিচ্ছেন, এই বক্তব্য…ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের অন্তরায় হয়ে গেছে।’

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমি আহ্বান করি যে, এখানে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নাই। বাংলাদেশে উনি নাই হয়ে গেছে। আউট অফ সিন অ্যান্ড সে কোনো দিনই বাংলাদেশে…।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা সবাই চাই, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব সম্মানজনকভাবে টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, ভারত আমাদের প্রতিবেশী। দুই বন্ধুর বন্ধুত্ব ক্ষণস্থায়ী হয়, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর কিন্তু সম্পর্কে ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী এসে বলেছেন ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে’।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জিএম সিরাজ বলেন, আমরা বলতে চাই—আসুন মানুষের হৃদয় জয় করুন। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই, ভারত বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ বিরোধিতা যাতে না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে চাই। সে ক্ষেত্রে ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি আমার সবিনয় অনুরোধ, আপনারা দয়া করে পুশ ইন বন্ধ করুন।

    জিএম সিরাজ পুশ ইনের পাশাপাশি ভারত সীমান্তে মাদক তৈরির কারখানাগুলো বন্ধ করারও দাবি জানান।

  • ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যাখ্যা চান।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার সকালে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে জামায়াত আমীর বলেন, “গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেয়া। ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।”

  • চিকেনস নেক ঘিরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক

    চিকেনস নেক ঘিরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক

    রাশিদুল ইসলাম : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃবাহিনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় স্টেট সাবসিডিয়ারি মাল্টি এজেন্সি সেন্টারের (এসএমএসি-এর রাজ্য শাখা) ব্যানারে, যেখানে ভারতের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ভারতীয় সেনাবাহিনী, আর্মি ইন্টেলিজেন্স, ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ), বিএসএফ, এসএসবি, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, আরপিএফ, জিআরপি, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের একাধিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল- চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, সীমান্ত নজরদারি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ এবং আন্তঃসংস্থাগত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা।

    দিল্লির বিস্ফোরণ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৈঠকের তাৎপর্য : ভারতের সংবাদমাধ্যম ইটিভি ভারতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির লাল কেল্লার নিকটে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোর অঞ্চল নতুন করে নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণে চলে এসেছে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশগুলো- বিশেষ করে বাংলাদেশ ও নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহ, এবং ভুটান-চীন সীমান্ত পরিস্থিতির সংশ্লিষ্টতা এই বৈঠককে নতুন গুরুত্ব দিয়েছে।

    যদিও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এই বৈঠককে ‘রুটিন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব নয়- এটি আমাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।’ তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বৈঠক প্রতীকীভাবে রুটিনের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

    রেল, সড়ক ও বিমান নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা : বৈঠক শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যাত্রী তথ্য যাচাই ও আচরণগত স্ক্রিনিং শুরু করা হয়েছে; এনজেপি, শিলিগুড়ি জংশন, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার স্টেশনে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে; রাজধানী এক্সপ্রেস ও বন্দে ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোতে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জাতীয় মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল শুরু করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি : ভারত সরকার একইসাথে তিনটি সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভারত-নেপাল সীমান্ত, ভারত-ভুটান সীমান্ত ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বিশেষভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) মেশিন স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যা সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের তথ্য রিয়েল টাইমে সংগ্রহে সহায়তা করবে।

    রাফাল বিমান ও আধুনিক যুদ্ধসজ্জার বার্তা : বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চিকেনস নেক-সংলগ্ন বিমান ঘাঁটিতে রাফাল যুদ্ধবিমানসহ অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক প্রতীকী বার্তা-বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি।

    চিকেনস নেক কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ : চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি ভূখণ্ড, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে। এই সঙ্কীর্ণ করিডোরের চারপাশে রয়েছে- পশ্চিমে নেপাল, দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং উত্তরে ভুটান ও চীন সীমান্ত। ফলে, এই একটি করিডোরের নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা ভারতের জাতীয় সংহতি ও সামরিক নিরাপত্তার জন্য জীবনরক্ষাকারী ধমনীস্বরূপ।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারতীয় উদ্বেগ : বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের পেছনে একটি বড় অপ্রকাশ্য প্রেক্ষাপট রয়েছে- বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতা বিরোধি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক ঘোষণা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপ এবং সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা। এসব বিষয় ভারতের দৃষ্টিতে চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরো স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

    নিছক রুটিন, নাকি কৌশলগত প্রস্তুতি : সরকারি ভাষ্যে এটি ‘রুটিন বৈঠক’ হলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন নিরাপত্তা ভারসাম্যের প্রস্তুতি, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে ভারতের কৌশলগত বার্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতির রূপরেখা হতে পারে।

    ভূরাজনীতিবিদদের মতে- চিকেনস নেক এখন কেবল একটি ভূগোল নয়- এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ শক্তি-সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    ভারত চিকেন নেককে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলে নিয়ে গণ্ডারের ঘাড়ে পরিণত করতে চায় : ড. শাহীদুজ্জামান

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, এটা স্পষ্ট যে চিকেনস নেক এখন আঞ্চলিক উত্তেজনা ও দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা দিতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটে বাংলাদেশে যে বিমানঘাঁটি উন্নয়ন করছে, মিলিটারি কনস্ট্রাকশন হচ্ছে, হ্যাঙ্গার তৈরি হচ্ছে, চীন কিংবা পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পর সেখানে মোতায়েনের কথা শোনা যাচ্ছে, নিশ্চিতভাবে বলা যায় লালমনিরহাট এখন বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে। চীন সেখানে ইনভলভড হবে কিন্তু এটা ভারত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, যেটাকে ওরা চিকেন নেক বলে যা ২২ কিলোমিটার চওড়া সেটাকে তারা গণ্ডারের ঘাড় বা রাইনো নেকে পরিণত করতে চায়। ভারত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের রংপুরের ভূখণ্ডের বেশ কিছুটা ভেতরে ঢুকে যেতে চাচ্ছে। চিকেন নেকের ২২ কিলোমিটার অংশকে তারা কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটারে বর্ধিত করতে চায়। সেখানে যে ভারত কৌশলগতভাবে তিনটি গ্যারিসন স্থাপন করেছে, সেনা মোতায়েন করেছে এসব পরিকল্পনা মাথায় রেখেই। তারা সমর বিন্যাস এমনভাবে করছে, সেনা মোতায়েন এমনভাবে করছে যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যেন চিকেন নেক দখলে নিয়ে নিতে পারে। চীনভীতি ও বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতেই ভারত এসব করছে।

    এম শাহীদুজ্জামান বলেন, ভারতের আভাস থেকে সুস্পষ্ট যে চিকেন নেক দখল বা সেখানকার পরিধি বাড়াতে তারা বাংলাদেশের ভূমি প্রয়োজনে দখলে নেবে। এ কারণেই তিনটি গ্যারিসনে সেনা মোতায়েন করছে তারা। ভারত যদি চূড়ান্তভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনসহ অন্যান্য আইন ভাঙতে চায় তাহলে তারা সেটাই করবে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের ওপর ভারত চাপ সৃষ্টি করছে বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু ভারত যদি তা করতে চায় তাহলে বাংলাদেশে আঘাত করেই চিকেন নেকের সম্প্রসারণ ঘটাবে। ভারত বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে লালমনিরহাট বিমানবন্দর উন্নয়নকাজ বন্ধ করার জন্যই।

    চীনভীতি থেকে এই তৎপরতা

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন বলেন, ভারত চিকেন নেকের আশেপাশে যে তিনটি সেনাঘাঁটি করেছে বা সম্প্রতি বিষয়টি একাধিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছে, মূলত দেশটি এসব করছে চীনভীতি থেকে। চীন যেকোনো সময় চিকেন নেকের আশেপাশে এলাকা দখল করে নিতে পারে এমন ভীতি কাজ করছে ভারতের মধ্যে। এ কারণেই চিকেন নেক ঘিরে তাদের সামরিক ও বেসামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের অংশ হিসেবেও ভারত এ ধরনের আচরণ করছে। যেমন- লালমনিরহাটের উল্টা পাশে ভারত রাফায়েল বিমান ও সেনা মোতায়েন করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে।

    তিনি বলেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে। তিব্বত সীমান্তে ভারতের সাথে চীনের বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত পুশইন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ভারত উসকানি দেয়ায় তারা ফের তৎপর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই ভারত এসব করছে। বিশেষ করে কেএনএফকে ভারত টোপ দিয়ে ও দীর্ঘদিন থেকে সন্তু লারমার সমর্থিত গোষ্ঠীকে ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য ব্যবহার করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এ সময়ে ভারতের এ ধরনের অপতৎপরতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনো সরকারই আসুক ভারত সে সরকারকে চাপে রাখতে চায় বলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি প্রেশার পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। ( সুত্র : নয়াদিগন্ত)