বঙ্গভবন

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ সোমবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এছাড়া বিচার বিভাগের উন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে।

    গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে শপথগ্রহণের পর গতকাল রোববার বঙ্গভবনে ওঠেন রাষ্ট্রপতি।

  • বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু

    বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মত বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতি আজ রবিবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রধান ফটক-২ এ বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এর একটি সু-সজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রপতিকে ক্রেডেনশিয়াল মাঠে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

    গার্ড অব অনার প্রদান শেষে বঙ্গভবনের অক্টাগনালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

    বঙ্গভবনে অফিস শুরুর প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি তার অফিস কক্ষে অবস্থান করে দাপ্তরিক নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। বাসস

  • বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না?

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না?

    দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমদকে হারিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং এই পদের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে নতুন করে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠেছে, সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক হয়েও রাষ্ট্রপতি আসলে কী করতে পারেন আর কী পারেন না?

    এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে বিবিসি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদটির ভূমিকা অনেকটাই ‘আলংকারিক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের চলমান সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের মূল নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার হাতে, আর রাষ্ট্রপতি হন কেবল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান।

    সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বিবিসি বাংলা জানায়, রাষ্ট্রপতি কেবল দুটি কাজ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে করতে পারেন। আর এই কাজ দুটি হলো, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

    সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সব কাজ সম্পাদনে রাষ্ট্রপতিকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। সংসদ আহ্বান করা, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়া, বিলে সই করা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, যুদ্ধ ঘোষণা বা ক্ষমা প্রদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ চূড়ান্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী আসলেই রাষ্ট্রপতিকে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে দেশের কোনো আদালতও প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো ক্ষমতা নাই।’ তিনি মনে করেন, শাসন ব্যবস্থায় যারা বাস্তবে ক্ষমতায় থাকেন, তাদের ইচ্ছার বাইরে রাষ্ট্রপতির তেমন কিছু করার সুযোগ থাকে না।

    বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষমতার মূল উৎস

    কাগজে-কলমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশেষ বা আপদকালীন পরিস্থিতিতে এই পদটিই হয়ে উঠতে পারে ক্ষমতার মূল উৎস। বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি ক্ষমতার নেপথ্যে থাকা কোনো শক্তি, আন্তর্জাতিক চাপ বা সমর্থন থাকে, তবে রাষ্ট্রপতি অনেক সময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

    অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ক্ষমতার আড়ালে থাকা খেলোয়াড়রা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে যদি কিছু করাতে চান, তাহলে ওনার অনেক ক্ষমতা। উনি সেনা সমর্থিত সরকার আনতে পারেন, জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন, সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।’

    এছাড়া সংবিধানই রাষ্ট্রপতি পদকে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দিয়েছে। অর্থাৎ,অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে যেমন কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তেমনি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা যাবে না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সব বিধিনিষেধের ঊর্ধ্বে উঠার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতিরই আছে। তার যেকোনো উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে না কেউ।

    ঐতিহাসিক সংকট ও রাষ্ট্রপতিদের ভূমিকা

    সংসদীয় পদ্ধতি চালু হওয়ার পরও বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বেশ কয়েকটি সংকটময় মুহূর্ত এসেছে, যখন রাষ্ট্রপতিকে একক বা স্বাধীনভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। বিবিসি বাংলার সংকলিত তথ্যে এমন কিছু নজির উঠে এসেছে।

    ১৯৯৬ সালের সেনা বিদ্রোহ প্রতিহতকরণ: ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাথে তৎকালীন সেনাপ্রধানের তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেনাপ্রধানের নির্দেশে ঢাকায় সৈন্য সমাবেশ করার চেষ্টা করা হলে রাষ্ট্রপতি অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেন এবং সেনাপ্রধানকে অব্যাহতি দিয়ে আটক করা হয়।

    সাহাবুদ্দীন আহমদের দৃঢ়তা: ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে সাবেক বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল। তবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ‘জননিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান, যা সরকারের সাথে তার তিক্ততা তৈরি করে। পাঁচ বছরের মেয়াদে তার নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ছিলেন।

    বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ: ২০০২ সালে বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে তার দল জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে কবরে শ্রদ্ধা না জানানো এবং স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করার জেরে মাত্র ৭ মাসের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করে ।

    ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ: ২০০৬ সালে তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রয়োগ।

    দলীয় আধিপত্য বনাম ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব

    বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দলীয় আধিপত্যের কারণে রাষ্ট্রপতিকে তার স্বাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে দেওয়া হয় না, কারণ দলগুলো সবসময়ই তাদের অনুগত বা পছন্দের ব্যক্তিকে এই পদে বসাতে চায়।

    অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাষ্ট্রপতি, যদি তিনি কাজ করতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তা করতে দেওয়া হয় না। দলগুলোই রাষ্ট্রপতিকে পদে বসায়, তাই তিনি স্বাধীন নন।’

    একই সুর শোনা যায় লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের কণ্ঠেও। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একসময় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতি চালুর পর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংকুচিত করা হয় এবং দলগুলো তাদের অনুগতদেরই এই আসনে বসাতে পছন্দ করে। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নিরপেক্ষতার পুরো বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এবং তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ধরনের ওপর। নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন এই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার ঐতিহ্য বজায় রাখার এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

  • রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    জোড়া অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

    জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। আর রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে।

    বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে আসবেন। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে আসবেন। তারপর সবাই বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করবেন।

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। শুরুতে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

    বঙ্গভবনের আচার–অনুষ্ঠানের রীতি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করার জন্য বসবেন। এ সময় দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। নতুন রাষ্ট্রপতি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর মাঝখানের চেয়ারে বসবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থাৎ তখন থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হবেন। এ সময় মেজর হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন।

    শপথ অনুষ্ঠান শেষে আরেক দফা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। এরপর আছে আপ্যায়নের ব্যবস্থা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হতে যাওয়া চার সদস্যের শপথ পাঠ করাবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে তিনজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। তাঁদের জন্য গাড়িও প্রস্তুত করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

    তবে, বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন। অসুস্থজনিত কারণে ভোট দিতে আসেননি তিনি। আর নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। এরপর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এ সংসদ সদস্যকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ভোট দেননি মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অপর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট না দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তারপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।

  • নির্বাচনের পর দিনই নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

    নির্বাচনের পর দিনই নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

    আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তিনি পরের দিন শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে করা ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    তিনি বলেন, ‘৩৫ বছর পর আমরা বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেব ইনশাল্লাহ। ২টা থেকে ভোট শুরু হবে, চলবে ৫টা পর্যন্ত। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব আছেন, তারা ভোট দেবেন, সেটা লাইভ দেখানো হবে।’

    নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারপর সব রেকর্ড করা হবে। আবার নির্বাচন শেষ হবার পাঁচ মিনিট আগে আমরা লাইভ টেলিকাস্ট শুরু করব। এরপর ফল ঘোষণাটিও আমরা লাইভ দেখাব। আপনারা দেখবেন, আগামীকালকে একটা ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হবে, ইতিহাসের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন।’

    দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা মনে করি যে তারেক রহমান আমাদের নেতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। সংগ্রাম করার পরে যে কাজটা হয়েছে তা হলো এই যে, আমরা নির্বাচিত হয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে সরকার এসছি। আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। সরকার এবং বিরোধীদল ইনক্লুসিভ হয়ে দেশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং দেশের অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে চাই। সেই কারণে দেখবেন, রাষ্ট্রপতির প্রার্থী ড. অলি আহমদ, আরেকজন হলো আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব। ভোট হবে। এদেশের মানুষ ভোট কীভাবে ভোট দেয় সেটা আবার প্রত্যক্ষ করবে দেশের মানুষ। ইনশাল্লাহ আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারব।’

    ব্রিফিংয়ে সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জি কে গউস, সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, খন্দকার আবু আশফাক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরর সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ৪টা ৪০ মিনিটে। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।

    দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহন হয়েছিলো। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ( ৯২ ভোট) পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস (১৭২ ভোট)।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুজন প্রার্থীর কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট (বৃহম্পতিবার) প্রায় ৩৫ বছর পরে দেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়।

    বিকেল চারটার পরে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে ভোটের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

    ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ প্রতদ্বিন্দ্বিতা করছেন।

    ইসি সচিব বলেন, আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের (ভোটার) ভোটগ্রহণের পদ্ধতিটা সম্পর্কে জানাবেন।

    ইসি সচিব জানান, আজই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে। ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে সংসদ সদস্য ব্যালট গ্রহণ করবেন।

    ইসি সচিব বলেন, ‘একটা স্পেসে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটটা গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো হবে। সেই অনুযায়ী তাঁদের নাম প্রিন্ট করা থাকবে এবং প্রিন্টের পাশে ডানদিকে স্পেস থাকবে যেখানে তাঁরা সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপরে নির্ধারিত ব্যালট বক্সে তাঁরা ব্যালট পেপারটা জমা দিবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। ৫টার পরে ব্যালট কাউন্ট করা হবে। ব্যালটের রঙটা হচ্ছে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।’

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন এমপি। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গত ১৩ আগস্ট রিটটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের গত ৬ আগস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ হয়েছে। ২০ আগস্ট ভোট হবে। প্রাথমিক সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ২৪৭ এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

    সংখ্যার এই ব্যবধানে জয়-পরাজয় নিয়ে কার্যত কোনো অনিশ্চয়তা নেই। মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত। এরপরও ভোটটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। তবে সেটি ফলাফলের চেয়ে অলি আহমদ কত ভোট পান, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকে কি না এবং দুই শিবিরের বাইরের সংসদ সদস্যরা কোন দিকে যান—এসব প্রশ্নকে ঘিরে।

    আজ রোববার রাষ্ট্রপতি পদে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ—দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নাই। ফলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে। ভোটার হবেন সংসদ সদস্যরা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুসারে, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ; রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী তাঁরা ফাইল ছবি

    সংখ্যার চেয়ে ভোটের বিন্যাসে নজর

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য ৯০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। ফলে আসনটি শূন্য রয়েছে।

    দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সদস্যের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য একজন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র; তাঁদের প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    এই সমীকরণে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও বাকি ১২টি ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অলি আহমদ স্বতন্ত্র কিংবা ইসলামী আন্দোলনের ভোট টানতে পারলে বিরোধী জোট সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল বিএনপির বাইরের ভোট পেলে ক্ষমতাসীন দল তাঁর প্রতি বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বার্তা দিতে পারবে।

    অলি আহমদের সামনে মূল লক্ষ্য তাই রাষ্ট্রপতি হওয়া নয়; নিজের জোটের ভোট অটুট রেখে এর বাইরে কতটি ভোট পাওয়া যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ভোট প্রকাশ্য, ৭০ অনুচ্ছেদে বিতর্ক

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেন। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশাপাশি ভোটদাতা সদস্যের নাম ও আসন নম্বরও উল্লেখ করতে হয়। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা যায়।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ১১ আগস্ট বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

    জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি ফাইল ছবি

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এতে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন আইনি মত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে দেওয়া বৈধ ভোট বাতিলেরও কোনো বিধান নেই।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আইনি ব্যাখ্যা যা-ই হোক, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দেবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছিল। ওই সংসদে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দলের সদস্য ছিলেন। মোট ৩৩০ সদস্যের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দেননি। এবারের সংসদের প্রায় সব সদস্যই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—এই দুই রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত। ফলে বড় ধরনের ভোট-বিচ্যুতির সম্ভাবনা আরও কম।

    অলির প্রার্থিতায় রাজনৈতিক বার্তা

    অলি আহমদ শুধু একজন বিরোধী প্রার্থী নন। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

    অর্থাৎ একসময়ে বিএনপির ঘরের মানুষ অলি আহমদ এখন বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতার এই প্রতীকী দিকটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করে জোটটি আলাদা রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচনের আগেও অলি আহমদকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিল জামায়াত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

    জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে এসেছিল। ফলে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তাঁকে প্রার্থী করা একদিকে সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে বিরোধী পক্ষের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা।

    জাতীয় নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলোর ঐক্য কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেই ঐক্যের পরীক্ষা হবে। অলি আহমদ জোটের ৯০টি ভোটের সব কটি পেলে বিরোধীরা ঐক্যের বার্তা দিতে পারবে। ভোট কমে গেলে জোটের ভেতরের দুর্বলতাও প্রকাশ পাবে।

    মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দেশের বাইরে থাকার সময়ে তিনি দলের কঠিন সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিনের একজন পরীক্ষিত নেতাকে সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর ভিন্ন ভূমিকায় নিয়ে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রায় নিশ্চিত হলেও ২০ আগস্টের ভোট তাই অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতা নয়। ফখরুলের জয়ের চেয়ে অলি কত ভোট পেলেন, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকল কি না, দুই শিবিরের বাইরের ভোট কোন দিকে গেল এবং কোনো ভোট-বিচ্যুতি ঘটল কি না, ভোটের পরের রাজনীতিতে এসব প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর: গয়েশ্বর

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর: গয়েশ্বর

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অবান্তর।

    রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

    গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট। এ মাসের ১৩ তারিখে আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি এবং আজকে বাছাই পর্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলাম আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এর প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। সমর্থনকারী হিসেবে ছিলাম আমি।

    তিনি বলেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকবো, ২০ তারিখের নির্বাচনের জন্য।

    জামায়াতের প্রতিনিধি, অর্থাৎ ১১ দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ‘সেটা পরের চ্যাপ্টার। পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই প্রশ্নটা অবান্তর। একটা কনফিউশন সৃষ্টি করে লাভ নেই।’

    ‘১১ দলীয় জোট বলছে এটা বড় অন্তরায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটা বড় বাধা’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘না, বড় বাধা না। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী, আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকেই সংশোধন করতে হবে।’

    এ সময় দলের মহাসচিব নিয়ে কি কোনো চিন্তাভাবনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের মহাসচিব তো নির্বাচন কমিশনের চিন্তাভাবনা না। ওটা আমাদের গুলশান অফিসে আমাদের স্থায়ী কমিটির চিন্তা।’

    এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় জেনেও যে কারণে প্রার্থী দিল জামায়াত জোট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় জেনেও যে কারণে প্রার্থী দিল জামায়াত জোট

    নির্বাচন কমিশনে একাধিক মনোনয়ন জমা হওয়ায় দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের পথে হাঁটছে দেশ। কিন্তু এই নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

    সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যগণের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। অর্থাৎ সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই যে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন এটি নিশ্চিত।

    অতীতে কেবল ১৯৯১ সালেই একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশে। সেবার এই পদে সরকারি দল বিএনপির বিপরীতে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ।

    এরপর থেকে গত ৩৫ বছরে যে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে, তার প্রতিবারই একক প্রার্থী থাকায় কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপির মোট সংসদ সদস্যের সংখ্যা ২৪৭। অর্থাৎ সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

    এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা যদি নিজ দলের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারতেন, তাহলেও হয়তো কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতো। কিন্তু সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই পথও বন্ধ। তার মানে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই যে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, এটি মোটামুটি নিশ্চিত।

    এমন প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট কেন প্রার্থী দিল, এর মধ্যে কি রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে নাকি নামে মাত্র অংশগ্রহণ-এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত রাজনৈতিক কৌশল দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জামায়াত নিজেদের সরকারবিরোধী অবস্থান যেমন জানান দিচ্ছে, তেমনি প্রার্থী হিসেবে একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে বেছে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কৌশলে একটি রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    জামায়াত জোট যা বলছে

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এই আলোচনা চলছে। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক।

    অবশেষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শুরু হলো। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এর মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের প্রতিনিধি দল।

    এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতেই’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    ‘আমরা এখানে জিতব কি হারব, এটা বিষয় নয়। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক সেটা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে আযাদ বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার পেছনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। আর্টিকেল ৭০ এ অনাস্থা এবং অর্থবিল ছাড়া সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন, ভোট দিতে পারবেন- ঐকমত্য কমিশনে এই বিষয়ে আমরা সবাই চেয়েছি। কিন্তু একগুঁয়েমি এবং দলীয় সংকীর্ণতার কারণে গণভোটের রায় উনারা বাস্তবায়ন করছেন না।

    এ সময় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির দলীয় ফোরামের বৈঠক নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা, এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে এরকম অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নেই।’

    এদিন দুপুরের পর রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রার্থী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেয় বিএনপির প্রতিনিধি দলও। এ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোটের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

    তিনি বলেন, ‘এটি কোনোমতেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়। সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী যেটা হওয়ার সেটাই হচ্ছে।’ এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর, ১৬ আগস্ট বাছাই ও ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারণ করা রয়েছে। আর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট শেষে ঘোষণা করা হবে বেসরকারি ফলাফল।

    পরাজয় জেনেও কেন নির্বাচন?

    ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। সেবার বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বিপরীতে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল আওয়ামী লীগ। এরপর ৩৫ বছরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও একক প্রার্থী থাকায় কোনোবারই ভোট হয়নি। এবার সেই ধারা ভাঙছে। ফলে ১৯৯১ সালের পর এটাই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

    কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক নিয়মকানুন অনুযায়ী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীই যে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, এটি নিশ্চিত। কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পেছনে কয়েকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যেখানে রাজনৈতিক অবস্থানের জানান দেওয়া, ভবিষ্যতের দরকষাকষি ও সংস্কার আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

    এছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোট যাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে, সেটি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের জন্য বড় হাতিয়ার হতে পারে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ।

    তিনি বলেন, জামায়াত ভোটে জিতবে না এটা তারাও জানে, কিন্তু তাদের জন্য এটা একটা বড়ো পলিটিক্যাল গেইন বা অর্জন যে তারা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    তবে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণার আগে বিএনপি যদি বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী দিত, তাহলে জামায়াত জোট এই নির্বাচনে প্রার্থী নাও দিতে পারতো বলেই মনে করেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

    তার মতে, রাষ্ট্রের অভিভাবক সুলভ পদ হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি ঐকমত্যের ভিত্তিতে হলেই সব থেকে সুবিধাজনক হত। ‘এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে যে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাভাবিক সৌজন্য এবং সংলাপের যে পরিবেশটা থাকা দরকার ছিল সেটা আর নাই।’

  • অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

    অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তিনি বৈধ প্রার্থী বলে বিবেচিত হন।

    রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে, তা জানা যাবে শেষ মুহূর্তে। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তবে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র। আর বিএনপির প্রার্থীই যে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এটি নিয়ে আর কোনো সংশয় নাই। কারণ সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতা বিএনপির।

    বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা বুধবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, যেহেতু দলের স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে, সেজন্য দল কোনো আগাম ঘোষণা দেবে না। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় জানা যাবে, প্রার্থী কে।

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফশিল অনুসারে, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।

    এদিকে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

    ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দিক থেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। দুদিন আগে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।

    এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা একটি লিখিত সম্মতি বিবৃতি দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, গত শনিবার ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল সই করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

    বিএনপির সূত্র বলছে, ১৯৯১ সালে সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর পর আগে সেই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন মির্জা ফখরুল। যিনি এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রথম পছন্দ। ২০ আগস্ট যে ভোট হবে তার কেন্দ্রে থাকবেন তিনিই।

    ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

    তিনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে হেরে গেলেও, থেমে যাননি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জয়লাভ করে প্রথমবার সংসদে যান। শুধু প্রখর ব্যক্তিত্বের কারণে ঠাঁই পান খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়।

    প্রথমে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তন্নতন্ন করেও বের করতে পারেনি ওয়ান ইলেভেনের সরকার।

    মির্জা ফখরুল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েও, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় নিজের ব্যক্তিগত ইমেজের রাজনীতি করে যান। তবে তার ঘাড়ে দায়িত্ব পড়ে বিএনপি সামলানোর। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব, মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ভারমুক্ত হয়ে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

    রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থেকে প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    ইসি সচিব জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন ও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্বিক নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    তিনি জানান, তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।

    সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সময়সূচি ঘোষণার পর কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আপাতত কেবল নির্বাচনের তফসিলই প্রকাশ করা হলো, পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়েই জোর আলোচনা চলছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে এই চারজনের মধ্যে একজনের নাম এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জোরারো আলোচনায় থাকা বাকি তিন জন হলেন— ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তাদের প্রথম দুজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। পরের জন স্পীকার ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। এই চারজনই বিএনপিতে পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে সমাদৃত। তাদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।

    নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    মির্জা ফখরুল, ড. মোশাররফ, ড. মঈন ও হাফিজ উদ্দিন নিজ নিজ গুণে দেশবাসীর কাছে পরিচিত। শুধু দলের গণ্ডির মধ্যেই সমাদৃত নন; বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ব্যক্তিত্ব, সদাচার, মার্জিত আচরণ, অহিংস, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অগ্রসেনানী ও দেশপ্রেমিক হিসেবে তাদের আলাদা কদর আছে।

    বিএনপির পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে কার কী অবদান, তা নিয়ে চলছে মূল্যায়নও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান। ফলে সবার নজর এখন তারেক রহমানের দিকে। ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দিয়েছেন দলটির নেতারা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাজনীতির পাশাপাশি একজন ভূতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসাবেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সারা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং বিএনপির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে। দল পুনর্গঠন ও সংকটের সময় তার অবদান অনস্বীকার্র্য। প্রবীণ এই নেতা সংকটকালে কখনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। হাসিনা সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়।

    রাজনীতির বাইরেও তার রয়েছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে আরেকটি ডিগ্রি নেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি এবং ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে জুনিয়র লেকচারার হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে তিনি প্রবাসীদের সংগঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসাবেও নেতৃত্ব দেন।

    ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলের প্রবীণ নেতা হিসাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ফলে দলের ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আসা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে বর্তমানে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতা থাকার কারণে তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নানা দিক থেকে চিন্তা করতে হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ও আন্দোলনে তার ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা সর্বস্তরে প্রশংসিত। মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করে দলের ভেতরে-বাইরে সমান গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন তিনি।

    একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসাবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গেও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক আলোচনায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও অত্যন্ত পছন্দ ও স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

    তিনবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির এই মহাসচিব বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। নানা প্রোপাগান্ডায় এক-এগারোর আগে ও পরে বিএনপি কিছুটা ভাবমূর্তির সংকটে পড়লে স্বচ্ছ ইমেজের নেতা হিসাবে মির্জা ফখরুলকে সামনে আনা হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসাবে গণমাধ্যমে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।

    ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলাওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

    ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১ বার তিনি কারাবরণ করেছেন। হাসিনা সরকার দল ভাঙতে মির্জা ফখরুলকে চাপের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভনও দিয়েছেন বলে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা আছে। কিন্তু তাকে টলাতে পারেননি। অনেকের মতে, নির্লোভ ফখরুল দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তারেক রহমান লন্ডনে এবং বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় দেশে দল ও আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন মির্জা ফখরুল। এসব কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

    এ দুজনের বাইরে ড. আবদুল মঈন খানের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যন্ত পছন্দের লোক হিসাবে পরিচিত তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাসায় প্রায় বিদেশি কূটনীতিকরা বৈঠকে বসতেন। একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসাবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র ড. খান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও পেয়েছেন।

    ইংল্যান্ডে পিএইচডি গবেষণার সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার বৃত্তি ও নাগরিকত্ব বাতিল করে। পরে ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তির সহায়তায় তিনি উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান। রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

    বিএনপির আন্দোলনের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন দলের প্রতি আনুগত্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে অন্যতম দাবিদার হিসাবে তার নামও বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কর্মময় জীবন যেন সাফল্যের এক বিশাল ক্যানভাস। তিনি একাধারে ফিফা-স্বীকৃত ফুটবলার, বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা, সাতবারের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য এবং একাধিকবারের অভিজ্ঞ মন্ত্রী।

    ছয় দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি রাজনীতি, সামরিক বাহিনী, ক্রীড়া ও জনপ্রশাসনে গুরুপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সর্বশেষ তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় নানা চাপ ও প্রলোভন সত্ত্বেও শেষ পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সংসদ-সদস্য পদে মনোনয়ন, পরে মন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে সংসদের স্পিকার হিসাবে হাফিজ উদ্দিনকে বেছে নিয়েছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, রাষ্ট্রের মর্যাদা যেন দেশে এবং বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন-এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত হবে। এখানে বিএনপিকেই চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির যে চিন্তা, আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী যে কমিটমেন্ট করে ক্ষমতায় এসেছেন, সেগুলোকে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়েরও একটা সহযোগিতা তারেক রহমানের লাগবে। তাছাড়া যিনি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, আলোচনায় থাকা সবারই অবদান রয়েছে। প্রত্যেক মানুষই একজন আরেকজন থেকে আলাদা। তাদের চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাদীক্ষা-সবদিক থেকেই ভিন্ন। তাই ব্যক্তির মধ্যে তুলনা করা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, আলোচনায় থাকা চারজনের প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ, যোগ্য, উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা আছে। আমি যতটুকু শুনেছি, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বোচ্চ বিবেচনা শক্তি ব্যবহার করে তাদের মধ্য থেকেই বেছে নিয়ে একজনের নাম রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত করবেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের স্বল্পমেয়াদি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে।’ তবে অধিবেশনটি কবে আহ্বান করা হবে— সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

    ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

    আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। তবে যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, সেক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

    এর আগে গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংদ সদস্য ভোট দেবেন। সেখানে নৈতিক স্থলনের দায়ে দল থেকে বহিস্কৃত জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচত সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়ার পর এই ভোটার তালিকা বৃহস্পতিবার রাতে গেজেট আকারে প্রকাশ করে ইসি। একই দিন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিলও ঘোষণা করেন।

    গেজেট অনুযায়ী, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তাদের মধ্যে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্য সংখ্যা ২৯৯ জন। আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন। আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন।

    এদিকে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নামও ভোটার তালিকায় থাকা প্রসঙ্গে ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি এখনও সংসদ সদস্য পদে আছেন। স্পিকারের কাছে জামায়াতের উত্থাপিত অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কাজেই এখন পর্যন্ত যারা সংসদ সদস্য পদে রয়েছেন, আইন অনুযায়ী তারাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হবেন।

    সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দল থেকে বহিষ্কারের পর নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিও দেয়। তবে চিঠির ভিত্তিতে এখনও তাঁর এমপি পদ শূন্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত। তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে একক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। সেক্ষেত্রে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না।

    ২৪ জুলাই অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

    মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

    রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তবে এ বিষয়ে এখনো দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি দলের আরও তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও উঠে আসছে।

    দলীয় রাষ্ট্রপতি মনোয়নে শীর্ষ নেতা ছাড়াও সবচেয়ে সক্রিয়া ভূমিকা রাখে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। তবে এই কমিটি এবার রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ভার দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে রেখেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দলের শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ওই আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

    দলীয় নেতাদের মতে, বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিককে দেখতে চায়। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে।

    তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে।

    শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।

    বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন।

    মির্জা ফখরুলের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির একাধিক নেতা বলছেন।

    তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে।

    একইসঙ্গে তারা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

    এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা।

    এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভেতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

    মির্জা ফখরুল ছাড়াও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

    মির্জা ফখরুলকে নিয়ে দলটির ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মত, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় ভূমিকা এখনও প্রয়োজন। দল অনেকটাই ভারসাম্যহীনতায় ভুগবে তাকে রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠালে। এছাড়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দিতে হবে বিএনপিকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিতে হবে।

    উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

    রাষ্ট্রপতি পদে কাকে বিএনপি মনোনয়ন দেবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ওই দিন বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।

  • ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক; রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে আলোচনা হলো- জানালেন সিইসি 

    ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক; রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে আলোচনা হলো- জানালেন সিইসি 

    জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।

    বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে কমিশন। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি।

    সিইসি জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ–সংক্রান্ত আইনে নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সে জন্য নির্বাচন কমিশন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশন থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।

    সিইসি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, তা জানানো হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে, এ জন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।

    ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে ইসির বৈঠক

    তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। এ আসনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় পদক্ষেপ নিতে বললে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

    বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে সোমবার এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংসদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ২-এর বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের কারণে এই পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর ৫ ধারার (২) ও (৩) উপ-ধারার বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সাথে আলোচনাক্রমে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষণা করতে হবে। এ বিষয়ে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

  • দায়িত্ব ছাড়লে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব: তথ্য উপদেষ্টা

    দায়িত্ব ছাড়লে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব: তথ্য উপদেষ্টা

    পদ ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

    মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

    সাবেক রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষা বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্বে থাকাকালীন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না, তবে পদ ছাড়ার পর যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব এবং বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা থাকলেও বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অনেক কেন্দ্রে এক মিনিটেরও কম সময়ে হাজার হাজার ভোট দেওয়া হয়েছে। তাই ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের প্রতিটি নির্বাচনেরই সঠিক ইনভেস্টিগেশন বা তদন্ত হওয়া দরকার। নৈশকালীন অনিয়মের নির্বাচনগুলো দেশের শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে চরম ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।’

    ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে হওয়ার মতো নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী অপরাধের সঙ্গে যেসব স্তরের কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারিসহ নানা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক দম্পতি

    সাগর-রুনি হত্যা মামলা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে সদিচ্ছার অভাবে এই মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তিনি আরও বলেন, তনু হত্যার তদন্ত যেমন নতুন করে গতি পেয়েছে, তেমনি সাগর-রুনি হত্যাসহ পূর্বে ঘটে যাওয়া এবং ঝুলে থাকা সকল ফৌজদারি অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

    জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহত সাংবাদিকদের সহায়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের জন্য সাধারণ সুবিধার বাইরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর অধীনে বিশেষ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্দোলনে সাংবাদিকদের অসামান্য ত্যাগকে নথিভুক্ত করতে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।

    দেশের শিল্পখাতে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি, অলিগার্কদের সুবিধা দেওয়া ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পরিবর্তে আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর নির্ভরতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংকট কাটাতে দ্রুত ভোলার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো এবং সমুদ্রে নতুন গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রথম ধাপ শুরু হলে পর্যায়ক্রমে সকল স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

    জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি ও ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যেই জুলাই যাদুঘরের উদ্বোধনী ও স্মারক কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

  • যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

    যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর নগরীর টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যথাসময়ে হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, সরকার কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। এছাড়া রংপুর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    মির্জা ফখরুল বিএনপিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। একবার নয়, বিএনপি পাঁচবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। এ সরকার কৃষিবান্ধব ও জনগনের সরকার। বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে অথবা তাদের মানসিকতা সেভাবে গড়ে উঠেছে।

    এর আগে, সকালে তিনি বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিল্পকলা একাডেমিতে সুধী সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

    এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম (এনডিসি), রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’

    আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না। এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’

    সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’র বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ-পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ছয় মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।

    এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’

    এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।

    রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’

    পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

  • সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষ মারা গেলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন, কিন্তু সে সময় তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম-খুন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব অপরাধে তার মৌন সম্মতি ছিল, তাই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

    এদিন ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

    তারা আরও জানান, আইনজীবীরা প্রায়ই একটি কথা বলে থাকেন- সুপিরিয়র রিসপনসিবিলিটি। অর্থাৎ, একটি গণহত্যার সময় সেখানে রাষ্ট্রের বা দলের সর্বোচ্চ যে ব্যক্তি থাকেন, তার ওপর মূলত ওই অপরাধের দায় বর্তায়। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান হয়েও যারা ফ্যাস্টিস্ট সরকারকে সহায়তা দিয়েছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন, অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়েছেন সেজন্য তারা এসব অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম। আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ অভিযোগের আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

  • হাসিমুখে বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    হাসিমুখে বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    হাসিমুখে বঙ্গভবন ছেড়েছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ রবিবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে যান।

    মো. সাহাবুদ্দিন এখন তার গুলশানের বাড়িতে উঠবেন বলে জানা গেছে।

    বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল শনিবারই বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন।

    গত শুক্রবার অপরাহ্ণে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির পদকে বিদায় জানান মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগে সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেও জাতীয় সংসদে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন হাফিজ উদ্দিন। তবে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করবেন।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সম্ভব হবে।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সংসদ অধিবেশন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে তারা।

    এ বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যেই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি আরও বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে।

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাসের মেয়াদে আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি এই তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ পড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি মনোনীত হওয়া থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত নানা কারণে রাজনৈতিক আলোচনায় ছিলেন তিনি।

  • বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে চায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটি আমলা অথবা শিক্ষকের বদলে বেছে নিতে পারে দলের অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিককেই। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের পর্যবেক্ষণ— রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে চাপ নিতে পারেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির বাইরে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করে অতীতে তারা পড়েছিলেন সংকটের মুখে। দলের নেতারা উদাহরণ টানলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে বিএনপির নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বিদায় নিয়েছিলেন চাপের মুখে। এতে করে পথ প্রশস্ত হয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ এক রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে যায় বিএনপি। অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার অত্যন্ত সতর্ক বিএনপি।

    দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব পর্যায়ে অভিমত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, দলের নীতি-আদর্শ-দর্শন ধারণ করেন, রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংকটে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম— রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া উচিত। তারা বলছেন, সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির এই হঠাৎ পদত্যাগের ক্ষেত্রে জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে ‘সবুজসংকেত’ পেয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন। সরকার চাইছিল যে তিনি পদত্যাগ করুক। কেননা, গত কয়েক মাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে এক ধরনের শিথিলতা তৈরি হয়, যেটা দৃশ্যমানও হয়।

    সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিতের রেওয়াজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন— এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি। তাই অনেকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার কথা বলছিলেন।

    বিএনপির ভেতর থেকে কেউ কেউ বলছেন, গত মে মাসে রাষ্ট্রপতি (সদ্য সাবেক) মো. সাহাবুদ্দিন যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান, তখন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মারফতে ওই ফোনালাপের বিষয়টি সরকারের কাছে চলে আসে, যেটাকে গুরুত্বসহকারে আমলে নেয় সরকার। এরপরই মূলত সরকার থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাদের ধারণা, সেই সূত্র ধরেই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন ওই ফোনালাপের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে এটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছেন।

    অনেকের ধারণা, ওই ফোনালাপই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অন্যতম কারণ। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেছেন যে মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর তাদের যে আস্থা ছিল, ওই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে চিড় ধরেছে তাতে। তবে এটাও ঠিক, মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ। পদত্যাগপত্রে সেটি তিনি উল্লেখও করেছেন।

    সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলটি মনে করছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ চার নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে কেউ কেউ বলছেন, তাদের বাইরে থেকেও চমক আসতে পারে। সেটি একান্তই নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদের আগামী অধিবেশনে সেটি হতে পারে।’

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বললেন, ‘সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হয়। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। এতে করে হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।’

    ‘রাষ্ট্রপতি পদে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে হয়তো কথা বলবেন’— যোগ করেন নূরুল ইসলাম মনি।

  • ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। বিকেল পাঁচটায় এই সংবাদ সম্মেলন হবে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার সহকারী পরিচালকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলন জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    স্পিকার আজ শুক্রবার দুপুরে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন। গত ১৯ জুলাই তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে যান।

    দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন না করবেন, সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করবেন না করবেন, তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছে করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংসদীয় রীতি।’

    সফর সংক্ষিপ্ত করলেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমার ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে। আর গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই আমি দেশে ফিরে এসেছি।’

    রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ট্র্যাডিশনাল বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ, সেটি তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটাই সংসদের পজিশন।’

    ১৯ জুলাই স্পিকার ঢাকা থেকে ব্যাংককে যান চিকিৎসার জন্য। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তিনি দেশে ফিরলেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।

    কয় দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায়। তিনি আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন বলে বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

  • গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। স্পিকার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন

    আজ বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামের রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    রাষ্ট্রপতি আরও লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

  • রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

    সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

    আরও পড়ুন

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

    দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার। তবে দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

  • ‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’— পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি

    ‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’— পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি

    সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’

    পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’

    এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার।

    রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

    সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে।

    আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রবিবার তার ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

  • পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

    পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

    পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।’

    তিনি লেখেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’

    পদত্যাগের কারণ নিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    সবশেষে তিনি লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল।’

    প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে।

  • রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

    পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনে ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়ে কথা বলবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরই মধ্যে সংসদে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রটোকল প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল।

    দুদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করা হয়নি। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। আজ দুপুরের দিকে নির্ধারিত সফরসূচির দুদিন আগেই দেশে ফেরেন তিনি।

  • রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেই।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে, স্বাস্থ্যগত কারণে বা অন্য যেকোনো কারণে, তাঁর সেই সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় যা দেখছেন, সেটাই দেখছেন। যদি এমন কিছু ঘটে, তখন আমরাও দেখব।’

    রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে চলা গুঞ্জনের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনিই তো বললেন, এটি গুঞ্জন। গুঞ্জন তো গুঞ্জনই।’ স্বাস্থ্যগত কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তাঁকেই (রাষ্ট্রপতি) জিজ্ঞেস করতে হবে।’

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় তিনি অপমানবোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁর দুঃসময়ে বিএনপি শতভাগ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল।