ফ্রান্স

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ জিদান

    ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ জিদান

    দিদিয়ে দেশমের দীর্ঘ ১৪ বছরের পথচলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফরাসি ফুটবলের মহানায়ক জিনেদিন জিদানকেই কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর বহু চড়াই-উতরাই ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের আজন্ম লালিত স্বপ্নের চেয়ারে বসলেন এই ফরাসি কিংবদন্তি। এফএফএফ অফিশিয়ালি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    জিদানের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। এর ফলে ইউরো ২০২৮ এবং ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে লে ব্লুদের ডাগআউটে দেখা যাবে সাবেক এই বিশ্বজয়ীকে।

    জিদানকে কোচ হিসেবে ঘোষণা করার পর এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো একে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি এক অসাধারণ ও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফেডারেশন নতুন কোনো প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পেল। আমি দেশমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই। দীর্ঘ ১৪টি বছর তিনি ফরাসি ফুটবলকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ চূড়ায় ধরে রেখেছিলেন। মাঠের ফুটবলে লে ব্লুদের ভাবমূর্তি তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার অবদানকে যথাযথ সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি।’

    প্যারিসের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বাস আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জিদানও। দায়িত্ব পেয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য এক অসীম আনন্দের মুহূর্ত। আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত ও শিহরিত। এই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এটি আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।’

    রিয়াল মাদ্রিদে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর বিভিন্ন নামি ক্লাবের প্রস্তাব ফেরালেও জিদানের পাখির চোখ ছিল কেবলই ফ্রান্স দলের ওপর। নিজের পুরোনো স্মৃতি ও ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করে জিদান আরও বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদে কোচিং পর্ব শেষ করার পর ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল আমার একমাত্র ইচ্ছা। আমি অন্য সব ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি শুধু ফরাসি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য। শৈশব থেকেই এই লালিত স্বপ্নের কথা আমি জানি; ফরাসি যুব দল থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে একসময় মূল জাতীয় দলে খেলেছি, যা একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়া। এই দলের জন্য কাজ করা এবং তাদের একের পর এক জয় সুনিশ্চিত করা-এটিই এখন আমার একমাত্র অনুপ্রেরণা।’

    খেলোয়াড় হিসেবে দেশের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরোজয়ী জিদান কোচিং ক্যারিয়ারেও রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। দেশমের বিদায়ের পর ডাগআউটে জিদানের মতো ব্যক্তিত্বের আগমন ফরাসি ফুটবলে এক নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, খেলোয়াড় ও ক্লাব কোচের সাফল্য তিনি ফরাসি ডাগআউটে কতটা ধরে রাখতে পারেন।

  • সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ফ্যামিলি কার্ড, এমসিবিপি, মিড-ডে মিল, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    মন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ফ্রান্স সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য মন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনু্যায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন। যা বর্তমান সরকারের নারী নীতিরই অংশ।

    মন্ত্রী আরও বলেন, নারী শিক্ষাকে স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করায় দেশে নারী শিক্ষার হার বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মজীবী নারীরা যাতে তাদের সন্তানদের নিরাপদে রেখে কাজে যেতে পারেন, সেজন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শনও করেছেন।

    সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা অর্জন এবং দুস্থ শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগসমূহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মত প্রকাশ করেন।

    এছাড়া রাষ্ট্রদূত নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

    আলোচনাকালে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কেয়ার ইকোনোমিকে গুরুত্ব দিয়ে নারীদেরকে কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ করে তুলছে। ইতোমধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে আরব দেশগুলোতে গমন করেছেন, ফ্রান্সেও যাতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশের নারীরা যাতে তাদের হাতে তৈরি পণ্যসমূহ ফ্রান্সে রপ্তানি করতে পারে, সে ব্যাপারে মন্ত্রী বিশেষ সহায়তা চাইলে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    সবশেষে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফেমিনিস্ট ফরেন পলিসি (এফএফপি) বিষয়ক সম্মেলনে মন্ত্রীকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

    অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অনেকেই অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয় পুলিশ। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

    তবে পুরো ঘটনায় স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

  • ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন

    ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে দেখা গেল সেটাই। মাঠে ফ্রান্স ছিল। তবে বেশিরভাগ সময় তারা শুধু বলের পেছনে দৌড়েছে। আর ফুটবলটা শুধু খেলেছে যেন স্পেন।

    মাঠে ছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু আলো কেড়েছে ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল, রদ্রি, ফ্যাবিয়ানরা। মাঠে ছিল গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ। কিন্তু ফুটবল খেলেছে যেন আগামী দিনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।২-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। আর কাগজে-কলমে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স ধরল বাড়ি ফেরার বিমান।

    ম্যাচ শুরুর আগে সব হিসাব ছিল ফরাসিদের পক্ষে। এমবাপ্পের বিস্ফোরণ, দেম্বেলের গতি, ওলিসের সৃজনশীলতা, বারকোলার ড্রিবল—এই চার অস্ত্রই ছিল ফ্রান্স কোচ দেশমের সবচেয়ে বড় ভরসা। এই আক্রমণভাগই তাদের সেমিফাইনালে এনে দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু ফুটবল কেবল তারকার খেলা নয়; ফুটবল কৌশলেরও খেলা। আর সেই কৌশলের দাবার বোর্ডে শুরু থেকেই ফ্রান্সকে কিস্তিমাত করে দেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    প্রথম বাঁশি থেকেই স্পেন যেন ঘোষণা করে দেয়—আজ বল আমাদের, ছন্দও আমাদের। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা বল পেলেই চারদিক থেকে লাল জার্সির ঢেউ। মাঝমাঠে এক সেকেন্ড সময় নেই। ডান দিকে পথ বন্ধ। বাঁ দিকে ফাঁদ। সামনে প্রেস। পেছনে কভার। আধুনিক ফুটবলের

    ‘পজিশনাল প্রেস’ আর ফাইভ সেকেন্ড ‘কাউন্টার প্রেস’-এর এমন নিখুঁত প্রয়োগ এই বিশ্বকাপে খুব কমই দেখা গেছে। ফলও মিলেছে হাতেনাতে।

    এমবাপ্পে কখনো একা বল পেলেনই না তেমন। দেম্বেলের সামনে তৈরি হয়নি একটিও স্বাভাবিক ওয়ান টু ওয়ান। ওলিসে বল পেলেই পাশে হাজির দুজন স্প্যানিশ। বারকোলার গতি শুরু হওয়ার আগেই থেমে গেছে। ফ্রান্সের আক্রমণ যেন কর্ক লাগানো বোতলের ভেতর বন্দি। শক্তি আছে, বিস্ফোরণ নেই।

    ১৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে স্পেন প্রথম ধাক্কাটা দিল। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। পেছন থেকে তার পায়ে আঘাত করেন লুকাস ডিগনে

    রেফারি ইভান বার্টনের বাঁশি বাজতে সময় লাগেনি।

    পেনাল্টি। স্পটে দাঁড়ালেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ফরাসি গোলকিপার মাইক মেইনিয়ান ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু শট গোলরক্ষকের জন্য নয়। ইতিহাসের জন্য। ওয়ারজাবালের ডান পায়ের শট তীরের মতো ছুটে জড়িয়ে গেল জালের উপরের কোণে। ম্যাচে স্পেনের লিড ১-০।

    গোলের পর রক্ষণে নামেনি স্পেন। বরং আরো সাহসী হয়েছে। আরো উঁচুতে উঠেছে। আরো দ্রুত বল ঘুরিয়েছে। পুরো মাঠকে করেছে বিশাল। আর ফ্রান্সকে আটকে দিল সেই প্রশস্ত সবুজ চত্বরে।

    মাঝমাঠে রদ্রি যেন অর্কেস্ট্রার পরিচালক। তার একেকটি পাসে বদলে গেছে আক্রমণের দিক। ফ্যাবিয়ান রুইজ ছন্দ বুনেছেন। দানি ওলমো দুই লাইনের মাঝখানে ঘুরে ঘুরে ফরাসি মিডফিল্ডকে টেনে বের করেছেন। আর ইয়ামাল? মাত্র কয়েক সেকেন্ডে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বয়স ক্যালেন্ডারে লেখা থাকে, ফুটবলে নয়। উনিশ নম্বর জন্মদিনটা দারুণ জয়ে উপভোগ করলেন স্পেনের প্লেমেকার।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পে একবার রাবিওর থ্রু বলে ছুটে উঠেছিলেন। কিন্তু বক্সের অনেক বাইরে উঠে এসে উনাই সিমন মুহূর্তেই নিভিয়ে দেন সেই আশার প্রদীপ। বিরতিতে মনে হচ্ছিল, এক গোলের নয়; দুই ফুটবল দর্শনের লড়াই চলছে।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করে ফ্রান্স। কিন্তু যতই সামনে উঠেছে, ততই স্পেনের জন্য খুলেছে নতুন নতুন পথ।

    আর সেখানেই আসে শেষ আঘাত। ৬৭ মিনিটে মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে চোখের পলকে আক্রমণে যায় স্পেন। রদ্রির নিখুঁত পাস থেকে ওলমো বাম দিকে ছেড়ে দেন পেদ্রো পারোর জন্য। পারো এক স্পর্শে সামনে এগিয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু ক্রসে বল পাঠান ফ্রান্সের জালে। বেচারা ফ্রান্সের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

    স্কোর তাতেই ২-০। ফ্রান্সের জন্য ম্যাচও কার্যত ওখানেই শেষ।

    শেষ বিশ মিনিটে ফ্রান্সের শরীর ছিল

    মাঠে, মন যেন বিমানে। এমবাপ্পে ক্রমশ হতাশ। দেম্বেলের পাসে ধার নেই। ওলিসে হারিয়ে গেছেন স্প্যানিশ প্রেসের ভেতর। বারকোলার পা থেকে উধাও গতি। যে আক্রমণভাগকে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলা হচ্ছিল, তারা যেন একসঙ্গে ফর্ম হারিয়ে ফেলেছে।

    আসলে তারা ফর্ম হারায়নি। স্পেন তাদের খেলতেই দেয়নি। এই জয়ের নায়ক শুধু গোলদাতারা নন। এই জয়ের নায়ক ছিল একটি পরিকল্পনা। একটি দর্শন। একটি সংগঠিত দল।

    স্পেন এ রাতে শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি। জিতেছে মাঝমাঠ। জিতেছে কৌশলের যুদ্ধ। জিতেছে মানসিক লড়াই। সবচেয়ে বড় কথা, জিতেছে ফুটবলের সৌন্দর্য। ফাইনালে উঠে এখন তাদের সামনে আর মাত্র একটি ধাপ।

    আর ফ্রান্স? তারা ডালাস ছাড়ছে একটি কঠিন শিক্ষা নিয়ে। বিশ্বকাপে শুধু বড় নাম যথেষ্ট নয়। এই সেমিফাইনাল আরেকবার চিরসত্য সেই কথাটাই জানিয়ে গেল, তারকারা ম্যাচ জেতাতে পারে। কিন্তু ইতিহাস লেখে পুরো একটা সম্মিলিত দল।

    আর সেই ইতিহাসের পাতায়, বিশ্বকাপে ডালাসের এই রাতটি একটি নামেই—স্পেন।

    সেই স্পেন এখন ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে অপেক্ষা করছে হয় আর্জেন্টিনা না হয় ইংল্যান্ডের জন্য।

  • ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিজেদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচশেষে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা যা করেছি, তা কোনোভাবেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মানের ছিল না। আমরা প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দুই দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছি।’

    এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘বল পুনরুদ্ধার করার পরও আমাদের আক্রমণ, পাস এবং প্রথম স্পর্শ; এসব কিছুই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উপযুক্ত ছিল না। সত্যি বলতে, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো যা দরকার, তা আমাদের মধ্যে ছিল না।’

    স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে মার্ক কুকুরেয়া, আয়মেরিক লাপোর্তে ও উনাই সিমনের দৃঢ় প্রতিরোধে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন ফ্রান্সের এই তারকা।

  • ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে।

    দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।

    সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।

    অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যান

    এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।

    তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। তাই এবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো স্মৃতি ফিরবে—সেই উত্তর মিলবে ডালাসের মাঠেই।

  • কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালসহ আর মাত্র চারটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা আসরের। ৪৮ দলের মহারণ পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ৪টি দলেরই সেমিফাইনালে খেলার কথা বলেছিল ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। সেই সুপারকম্পিউটার এবার নেমেছে চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ে। নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর তারা জানিয়েছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নামও।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেমিফাইনালের ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিক থেকে তারা ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    সুপারকম্পিউটারের ধারণা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের হাতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা স্পেনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালের মঞ্চে খেলার সম্ভাবনা ৫০.৯ শতাংশ।

    এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০.৬ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জয়ের পূর্বাভাস প্রায় সমানে সমান। ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৯.১ শতাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে। অর্থাৎ, এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

    প্রসঙ্গত, অপ্টার সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য প্রায় ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালায়। এছাড়াও দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা, অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বেছে নেওয়া চারটি দলই কোয়ার্টারের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

    এর আগে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ৬টির ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচের বিজয়ীও তারা সিমুলেশনের মাধ্যমে আগেভাবেই নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

  • ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইকে ঘিরে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। সেই বিতর্কে এবার জড়িয়ে পড়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়।

    ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল দিবাতে-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফ্রান্স জাতীয় দল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, তবে তার দাবি, দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’, তারপরও তারা দুর্দান্ত খেলছে।

    রাহয়ের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ফ্রান্সে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তার বক্তব্যকে বর্ণবাদী ও বিভাজনমূলক বলে আখ্যা দেন।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার বিএফএম টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাহয়ের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে বৈচিত্র্যই শক্তি, আর বিভিন্ন পটভূমির মানুষ সমানভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পায়।

    শুধু ফ্রান্সেই নয়, রাহয়ের বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে স্পেনেও। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি তিনি রাহয়ের নিজেকে মধ্যপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

    স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এখনও এমন মানুষ রয়েছেন যারা কোনো দেশের নাগরিকত্বকে পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে বিচার করেন। অথচ প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা এবং অবদানের ভিত্তিতে। তিনি রাহয়ের মন্তব্যকে বিদেশিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন।

  • ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়ামকে। ফুটবলপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত এই লড়াইকে ফাইনালের আগেই ‘ফাইনাল’ বলে মনে করছেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। তার বিশ্বাস, এই ম্যাচের বিজয়ী দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠে আসে স্পেন। আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টা) ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

    বেলজিয়ামের বিদায়ের ম্যাচে শেষদিকে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় কর্তোয়াকে। তার পরিবর্তে নামা সেনে ল্যামেন্সের উপস্থিতিতেই স্পেন জয়সূচক গোলটি করে। ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক।

    কর্তোয়া বলেন, “আমার বিশ্বাস, ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনালের বিজয়ী দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে স্পেনই ফেভারিট। তারা ফ্রান্স কিংবা অন্য যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে, সেটি তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পেনের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি। অনেকে যেমনটা ভেবেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পেরেছি।”

    পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুতগতির পাসিং এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সও অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

  • ফ্রান্সের বিপক্ষে পরিসংখ্যানের ‘সুখস্মৃতিই’ স্পেনের অনুপ্রেরণা

    ফ্রান্সের বিপক্ষে পরিসংখ্যানের ‘সুখস্মৃতিই’ স্পেনের অনুপ্রেরণা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া স্পেনের জন্য এই ম্যাচের আগে আশার বার্তা হয়ে এসেছে সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান। কারণ, সবশেষ দুই দেখাতেই জয় পেয়েছে লা রোহা।

    দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে। সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৫-৪ গোলের জয় তুলে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। তারও আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। পরে শিরোপাও জেতে তারা।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও সামান্য এগিয়ে স্পেন। প্রীতি ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮ দেখায় স্প্যানিশদের জয় ১৮টি, ফ্রান্সের ১৩টি। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে শুধু অফিসিয়াল প্রতিযোগিতার হিসাব করলে চিত্রটা ভিন্ন। সেখানে ১০ ম্যাচে ফ্রান্সের জয় ছয়টি, স্পেনের চারটি।

    বিশ্বকাপে অবশ্য একবারই মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেনকে। সেবার ফাইনালেও উঠেছিল লে ব্লুরা।

    তবে বিশ্বকাপে এবার নতুন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে স্পেন। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে খেলছে তারা। সেই সুখস্মৃতি আবারও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে স্প্যানিশ শিবিরকে।

    অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় মঞ্চে স্পেনের কাছে টানা দুই পরাজয় ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ফ্রান্স। তাই সেমিফাইনালের এই লড়াই শুধু ফাইনালের টিকিট নয়, সাম্প্রতিক হিসাব-নিকাশ মেটানোরও মঞ্চ হতে যাচ্ছে।

    আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। ইউরোপের দুই জায়ান্টের লড়াইয়ে কে পাবে ফাইনালের টিকিট, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

  • মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

    মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

    এই ফ্রান্সকে থামাবে কে? কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কীভাবে থামাবেন? যদি তাঁকে কোনোভাবে আটকালেও, সামনে অপেক্ষা করছেন দেজিরে দুয়ে, মাইকেল অলিসে কিংবা ওসমান দেম্বেলে। একজনকে থামানো যায়, দুজনকেও হয়তো। কিন্তু চার দিক থেকে একসঙ্গে ছুটে আসা এই নীল ঝড়কে?

    বোস্টনের রাত আবারও সেই প্রশ্নই তুলে দিল।

    প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মনে হচ্ছিল, হয়তো আজ ভাগ্য তাঁর পাশে নেই। কিন্তু বড় খেলোয়াড়দের গল্প তো এখানেই আলাদা। বিরতির পর ওপেন প্লে থেকে এমন এক অনবদ্য গোল করলেন, যা মুহূর্তেই মুছে দিল পেনাল্টি মিসের সব হতাশা। ছয় মিনিটেরও কম সময় পরে বক্সের বাইরে থেকে ওসমান দেম্বেলের আরেকটি দুর্দান্ত শট মরক্কোর শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দিল।

    ম্যাচের ফল-ফ্রান্স ২, মরক্কো ০।

    ফ্রান্স উঠে গেল সেমিফাইনালে। আর মরক্কোর বিশ্বকাপ-স্বপ্ন থামল ঠিক চার বছর আগের সেই পরিচিত প্রতিপক্ষের সামনেই। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছেই ২-০ গোলে হেরেছিল আটলাস লায়ন্সরা। এবার বিদায়টা এল আরও এক ধাপ আগে—কোয়ার্টার ফাইনালে।

    প্রথমার্ধে স্কোরলাইন গোলশূন্য হলেও মাঠের চিত্র ছিল একমুখী। বল দখল, গতি আর আক্রমণের ধার—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। শুরু থেকেই মরক্কোর রক্ষণকে চাপে রেখেছিল দিদিয়ে দেশমের দল। উপামেকানোর কাছ থেকে হেড, এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট—একটির পর একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু প্রতিবারই সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইয়াসিন বুনো।

    ২৬ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। দুরন্ত গতিতে বক্সে ঢুকে নুসাইর মাজরাউইকে কাটিয়ে যাওয়ার সময় ফাউলের শিকার হন এমবাপ্পে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

    এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। পেনাল্টি হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত হতে ভিএআর লম্বা সময় নেয়। প্রায় তিন মিনিট ১২ সেকেন্ড বল নিয়ে পেনাল্টি স্পটে দাঁড়িয়েছিলেন এমবাপ্পে। সম্ভবত তাতেই তার মনোযোগটা নষ্ট হয়। স্পট-কিক নিতে এসে যেন নিজের স্বাভাবিক ছন্দটাই হারিয়ে ফেলেন ফরাসি অধিনায়ক। তাঁর দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন বুনো। এই অর্ধে লুকাস দিঞ্জের দুর্দান্ত শট আবারও হতাশ করে ফ্রান্সকে। বল আঘাত হানে ক্রসবারে। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য, কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনও পুরোপুরি ফ্রান্সের হাতেই।

    দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সাহস নিয়ে খেলতে শুরু করেছিল মরক্কো। মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা হয়তো সমানে সমান লড়াইয়েই এগোবে। কিন্তু ৬০ মিনিটে সব হিসাব পাল্টে দেন এমবাপ্পে।

    বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে এক মুহূর্তে দিওপকে কাটিয়ে বাঁকানো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের ওপরের কোণায়। বুনো ঝাঁপিয়েছিলেন, কিন্তু সেই শট ছিল গোলরক্ষকের নাগালের অনেক বাইরে।

    এটাই খেলার মাঠে সুপারস্টারদের আসল পরিচয়। পেনাল্টি মিসের হতাশা তাঁরা বেশিক্ষণ বহন করেন না। পরের সুযোগেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২০। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আবারও লিওনেল মেসির পাশে নিজের নাম তুলে আনেন তিনি। দুজনের গোল এই বিশ্বকাপে এখন আটটি করে।

    আর কি অবাক করা কাণ্ড! আগের ম্যাচে মেসি পেনাল্টি মিস করে ওপেন ফিল্ড থেকে গোল করে তার দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। ঠিক একই ঘটনা ঘটালেন এমবাপ্পে এই ম্যাচেও।

    মরক্কো সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আসে দ্বিতীয় আঘাত। ৬৬ মিনিটে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে এসে বক্সের বাইরে থেকেই জোরালো শট নেন ওসমান দেম্বেলে। নিখুঁত সেই শট বুনোর প্রসারিত হাত ছুঁয়েও জালে জড়িয়ে যায়।

    ছয় মিনিটে দুই গোল। ম্যাচের ভাগ্যও সেখানেই নির্ধারিত হয়ে যায়।

    এই গোলের মাধ্যমে আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়ে ফ্রান্স। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদো ও রিভালদোর পর প্রথমবারের মতো একই বিশ্বকাপে একটি দলের দুই ফুটবলার পাঁচ বা তার বেশি গোলের দেখা পেলেন। এমবাপ্পের ২০ গোলের পাশে দেম্বেলের নামেও এখন পাঁচ গোল।

    ৭৮ মিনিটে সামান্য চোটের ইঙ্গিত নিয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। তাঁর জায়গায় নামেন জঁ-ফিলিপ মাতেতা। এরপর আরও সরাসরি ফুটবলে চলে যায় ফ্রান্স। মরক্কো শেষদিকে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ফরাসি রক্ষণ তাদের খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। ম্যাচ যত শেষের দিকে এগিয়েছে, ততই পরিষ্কার হয়েছে—আজকের রাতটি ফ্রান্সের।

    শেষ বাঁশি বাজতেই আবারও একই স্কোরলাইন। ফ্রান্স ২, মরক্কো ০।

    ইতিহাস যেন নিজেরই প্রতিচ্ছবি আঁকল। চার বছর আগে সেমিফাইনালে যে প্রতিপক্ষ মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙেছিল, এবার সেই ফ্রান্সই বিদায় লিখে দিল কোয়ার্টার ফাইনালে।

    আর বিশ্বকাপ পেল নতুন এক প্রশ্ন— এই ফ্রান্সকে থামাবে কে?

  • একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    এক ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত ফুটবল মহাকাব্যের পর আজ একটি মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি ফ্রান্স এবং দুনিয়াকে চমকে দেয়া দল মরক্কো। তাই ফুটবলপণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের মহারণ। যেখানে মরক্কোর স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আর এটা করেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে এবার কিন্তু প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

    একদিকে ফরাসিদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে পৌঁছানোর অদম্য জেদ, অন্যদিকে মরক্কোর বুকে জ্বলছে বদলার আগুন। আমরা সাধারণত কী দেখি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই দুই দলের লড়াই কেবল ট্যাকটিক্স বা গোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে রাজনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সুপারস্টার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা। এবার যখন দল দুটো মুখোমুখি হচ্ছে তখন সামনে আসছে ২০২২-এর এক অসম্পূর্ণ রূপকথার গল্প। বরাবরই ফ্রান্সে বসবাসকারী বিশাল মরক্কান ডায়াসপোরা এই ম্যাচটিকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যায়। ২০২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর।

    কাতারে আল বাইত স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। তখন প্যারিসের রাস্তায় উৎসব আর কান্নার অদ্ভুত মিশ্রণ দেখা গিয়েছিল। মরক্কো প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল। চমক সৃষ্টি হয়েছিল ফুটবল দুনিয়ায়। তাদের সেই ঐতিহাসিক দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল ফরাসিরা। এ কারণেই বলা হচ্ছে, এই ম্যাচটি কেবল মরক্কোর জন্য কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, এটি অসম্পূর্ণ গল্পের নতুন এক অধ্যায়। যার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করছে মরক্কো। সেই রাতে মরক্কান খেলোয়াড়দের চোখে ছিল পানি। বোস্টনের মাঠে সেই পানি রূপান্তরিত হতে চলেছে শক্তিতে। এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য। মরক্কোর পুনরুত্থান থামাতে চান। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই এই খেলাটিকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফরাসিদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে প্যারাগুয়ের সঙ্গে। অনেকটা কষ্টে এমবাপ্পের দল ১-০ গোলে জয় পায়।

    কড়া মার্কিংয়ের মধ্যে ছিলেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে, ২০২২ সালের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। তাদের রক্ষণভাগ আগের মতোই ইস্পাত কঠিন। আক্রমণভাগ এখন আরও বেশি গতিসম্পন্ন। হাকিম জিয়েশ, ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন তারা যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আর্জেন্টিনা মিশরের ম্যাচের পর মাঠের বাইরে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক জারি রয়েছে। এই খেলায় রেফারি ল্যাতেজিয়ারের ভূমিকা ছিল অনেকটাই রহস্যজনক। বিতর্কিত রেফারি খেলাটির গতি বারবার থামিয়ে দেন। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলার আগেই নতুন এক বিতর্ক। এই বিতর্ক খেলা ছেড়ে রেফারিদের নিয়েই। ফিফা এই হাইভোল্টেজের কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টিয়ান রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে। মূল রেফারি ফাকুন্দো তেলো, সঙ্গে দুই আর্জেন্টাইন সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি এবং গ্যাব্রিয়েল এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

    এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফ্রান্সের সমর্থকরা মনে করছেন- এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কারণ ফ্রান্স যদি এই ম্যাচ জেতে তবে সেমিফাইনাল পেরিয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যাওয়ার স্মৃতি ফরাসিরা এখনো ভুলতে পারেনি। মিশর-আর্জেন্টিনার মধ্যকার সামপ্রতিক ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার পক্ষে একটি স্টপেজ টাইম গোল এবং মিশরের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ফিফা এবং রেফারিকে অভিযুক্ত করছেন ফুটবলভক্তরা। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলায় আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগকে অনেকে ফিফা’র পাল্টা চাল হিসেবে দেখছেন। এসবের মধ্যেও দুই তারকার লড়াই জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    একদিকে এমবাপ্পে অন্যদিকে হাকিমি। পিএসজি’র প্রাক্তন সতীর্থ বাস্তবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মজার ব্যাপার হচ্ছে- দেশের জার্সিতে একে অপরের বিপক্ষে যখন মাঠে নামেন তখন বন্ধুত্বের কোনো জায়গা থাকে না। বলতেই হয়, এমবাপ্পে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের একজন অবিসংবাদিত সম্রাট। পেলে বা ম্যারাডোনার মতো সর্বকালের সেরাদের তালিকায় পাকাপাকিভাবে নিজের নাম লেখানোর ব্যাপারে তিনি মরিয়া। তার অন্যতম লক্ষ্য টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা। যা ফুটবলের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে সারাক্ষণ ছিলেন মার্কিংয়ে। মরক্কোর বিরুদ্ধে তিনি জ্বলে উঠতে চান- এমনটাই বলছেন সংবাদমাধ্যমকে। অন্যদিকে আশরাফ হাকিমি মরক্কোর রক্ষণভাগে আক্রমণের মূল উৎস।

    হাকিমি যদি এমবাপ্পেকে আটকাতে পারেন তবেই তা হবে মরক্কোর জয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। এই ম্যাচে নতুন কোনো সুপারস্টারের জন্ম হতে পারে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরক্কোর তরুণ প্রতিভাদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ইয়াসিন বুনু যদি গোলপোস্টের নিচে আরও একবার দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন তাহলে এমবাপ্পেকে থামানো সম্ভব।

    অন্যথায় নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এটা নিছক ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়। ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছে, খেলাটি হবে অভিবাসন ও ইতিহাসের এক জটিল ক্যানভাস। আমরা সবাই জানি, ফরাসি দলের অনেক খেলোয়াড়ের শেকড় আফ্রিকায়। যা এই ম্যাচটিকে একটি অদ্ভুত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বা তীব্র প্রতিযোগিতামূলক রূপ দেবে। মরক্কোর কাছে এটি শুধু আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব নয়। এটা প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

    ফ্রান্স শিবিরে তাই টানটান উত্তেজনা। যদি কোনো কারণে ফ্রান্স হেরে যায়- তা হবে এক সোনালি প্রজন্মের আধিপত্যের আকস্মিক পতন। মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত ইউরোপ, ল্যাতিন আমেরিকার মেরূকরণ ভেঙে নতুন এক বিশ্ব শক্তির চূড়ান্ত উত্থান। বোস্টনের মাঠে যখন রেফারির বাঁশি বাজবে তখন দুই দলের সামনেই থাকবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বলুন তো ফরাসি নীল না মরক্কান লাল? কার রঙে বিশ্বকাপের আকাশ রঙিন হবে।

  • মরক্কো ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স

    মরক্কো ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে বড় এক ধাক্কা খেল ফ্রান্স। রাউন্ড অব সিক্সটিনে পাওয়া মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড বাতিলের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

    প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার মাতিয়াস গ্যালারজার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ঘটনাটির রিপ্লেতে দেখা যায়, ওলিস মূলত গ্যালারজার জার্সি টেনে ধরলেও তিনি মুখে আঘাত পাওয়ার ভঙ্গিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই ঘটনার জেরেই উজবেকিস্তানের রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ ওলিসকে সতর্ক করেন।

    ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ-এর তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি ফিফা।
    ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আজ (বুধবার) সকালে আমরা ফিফার সিদ্ধান্ত পেয়েছি। ওলিসের ব্যাপারে আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে।”

    ফিফার এই সিদ্ধান্তে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে ওলিসকে। কারণ, কোয়ার্টার-ফাইনালে তিনি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। সেক্ষেত্রে ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠতে পারলেও সম্ভাব্য স্পেন বা বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না।

    এ কারণে মরক্কোর বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে শুধু জয় নয়, ওলিসকে অপ্রয়োজনীয় কার্ড থেকে দূরে রাখাও এখন ফ্রান্সের কোচিং স্টাফের অন্যতম বড় ভাবনার বিষয়।

  • বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের নজিরও রয়েছে দিদিয়ের দেশমের। ১৯৯৮ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ফুটবলাররা বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচেই কোনও না কোনও নজির গড়ছেন। রোববার কোচ হিসেবে জোড়া নজির গড়েছেন ফ্র্যান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। যা বিশ্বে আর কারও নেই।

    প্যারাগুয়কে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ফ্রান্স। কঠিন লড়াই করে জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। তাদের এই জয়েই নজির গড়েছেন কোচ দেশম। বলা যায়, ছাত্রদের সাফল্যে কোচের নজির। বিশ্বের প্রথম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ১০টি ম্যাচ জিতলেন দেশম।

    পাশাপাশি আরও একটি নজির গড়েছেন দেশম। ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির সাবেক কোচ হেলমুট শনের রেকর্ড। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচ জিতেছেন ফ্র্যান্সের কোচ দেশম। শনের কোচিংয়ে জার্মানি বিশ্বকাপের ১৬টি ম্যাচ জিতেছিল। অর্থাৎ রোববার থেকে ম্যাচ জয়ের নিরিখে দেশম হলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম কোচ। একসঙ্গে জোড়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।

  • বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয় প্রত্যাশিত ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ৩–০ গোলের ব্যবধানে জয় পায় ফ্র্যান্স। জোড়া গোল করে ফরাসি অধিনায়ক দলকে শেষ ষোলোতে তুলেছেন।

    বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডে গড়েন ২৭ বছর বয়সী এই অধিনায়ক।

    সুইডেনের বিপক্ষে দুই গোল করায় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। এর আগে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি লিওনিদাস। তাদের ছাড়িয়ে এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের একক মালিক এমবাপ্পে।

    শুধু এই রেকর্ডই নয়, চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও বাড়িয়ে ৬-এ নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ফলে এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৬।

    সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৮। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি এখন মাত্র এক গোল পিছিয়ে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শেষ ষোলোতেই সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলতে পারেন ফরাসি মহাতারকা।

  • এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

    এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আরও একটি একতরফা ম্যাচ উপহার দিলো ফ্রান্স। নকআউটের খেলায় যেমন লড়াই করার কথা ছিল না, পারলো না সুইডেন। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ভর করে সুইডিশদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।

    এতে চলতি বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় হয়ে গেছে সুইডেনের। ফ্রান্স নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলো।

  • বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের চলতি আসরে ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিটের বিরতি! ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রপাতের কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার ঘটনা প্রথম ঘটল।

    খেলোয়াড়, সমর্থকদের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য খেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। যে কারলে ম্যাচ শেষ হতে প্রায় চার ঘণ্টা লেগে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই দীর্ঘতম ম্যাচ।

    স্থানীয় সময় ৫টা ৪৯ মিনিটে বিরতি হয়। কিন্তু ১৫ মিনিটের হাফ টাইম ২ ঘণ্টা দীর্ঘায়িত হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত খেলা শুরু হয়নি। বজ্রপাতের পাশাপাশি বৃষ্টিও শুরু হয়। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। যার ফলে খেলা শুরু করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হওয়ার চার ঘণ্টা পরে শেষ হয়। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পায় ফ্রান্স। জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। একটি গোল করেন উসমানে ডেম্বেলে।

    ফ্রান্স এক গোলে এগিয়ে থাকাকালীন বিরতিতে সাপোর্টারদের গ্যালারি ছেড়ে কভার জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়, ঝড় ধেয়ে আসছে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার ম্যাচ শুরুর ক্লিয়ারেন্স দেয় সংগঠকরা। প্রথমে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত খেলা শুরু হতে ৮টা বেজে যায়।

  • এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    কিলিয়ান এমবাপ্পেকে থামানো যেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার ও কোচরাও ফরাসি এই তারকাকে আটকানোর নানা কৌশল খুঁজে থাকেন। কিন্তু তাকে রুখতে ব্যতিক্রমী এক ‘সমাধান’ দিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড— একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে!

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত তিনটায় গ্রুপ ‘আই’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইরাক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরসের ছলে আর্নল্ড বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমরা কি একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলাতে পারি? কিন্তু তারা সেটি অনুমোদন করেনি।

    ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় তিনি কিংবদন্তি পেলেকেও ছাড়িয়ে গেছেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার দখলে।

    ইরাকের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক জালাল হাসান সর্বশেষ নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে চারটি গোল হজম করেছিলেন। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কে গোলপোস্ট সামলাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি আর্নল্ড।

    ইরাকি কোচ বলেন, ফ্রান্স কীভাবে খেলবে, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে নিজেদের পারফরম্যান্স আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে নিজেদের সামর্থ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরুক।

    অন্যদিকে ফ্রান্স শিবিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন।

    এই অর্জন নিয়ে এমবাপে বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় কিছু নেই। ফ্রান্সের হয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আর সেটি যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে তা আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

  • ইরানের উপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সরাতে শর্ত দিল ফ্রান্স

    ইরানের উপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সরাতে শর্ত দিল ফ্রান্স

    আর্ন্তাজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আসন্ন আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় ফ্রান্স। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির শর্তে সন্তুষ্ট না হলে জাতিসংঘের ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

    শুক্রবার তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচিই নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

    বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড়ের বিনিময়েই জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও ভেটোক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য হিসেবে ফ্রান্সের সম্মতি ছাড়া এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়।

    তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এবার পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।