ক্লাব ফুটবল

  • ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ছয়টা ম্যাচ, সাতটা শট, সাতটা গোল!
    একজন নাম্বার নাইনের কাছে দল আর কী চাইতে পারে। তার ওপর সেই নাম্বার নাইন যদি দলের মূল স্ট্রাইকার না হন, যদি তিনি খেলেন স্রেফ বদলি নেমে, তাহলে এই পরিসংখ্যানটা কীভাবে দেখবেন? দুর্দান্ত নয় কি? পিএসজির সেই নাম্বার নাইনের নাম ফেরান তোরেস।

    বিশ্ব ফুটবলে ঠিক ওই অর্থে তিনি বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। অথচ স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়া গোলটা তাঁর। দুই মাস আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের একমাত্র গোল তাঁকে এনে দিয়েছিল ম্যাচসেরার পুরস্কারও। কী কাকতাল, ওই ম্যাচেও তিনি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। বদলি নেমেছিলেন ৬২ মিনিটে।

    প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ইনস্টাগ্রাম

    বিশ্বকাপে ওই রকম একটা কীর্তির পরও কিন্তু স্পেন দলে রদ্রি বা ইয়ামালদের যে তারকাখ্যাতি, ফেরান তোরেস তার ধারেকাছে যেতে পারেননি। কিছুটা অলক্ষ্যেই তাই নতুন মৌসুমে দলবদল করে বার্সেলোনা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্যারিসে। পিএসজিও তাঁকে নিয়ে কোনো ঢাকঢোল পেটায়নি, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। আসলে লুইস এনরিকে তাঁকে নিজের দলে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে নেননি, নিয়েছিলেন বিকল্প হিসেবে। কিন্তু তোরেস শুধু বিকল্প হয়ে থাকতে চাননি যে!

    প্যারিসে পা রাখার পর তাই তিনি খুব বেশি সময় নিলেন না। লিগ আঁ-তে রেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বদলি নেমে জোড়া গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির জার্সিতে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক, কী অবিশ্বাস্য শুরু! বার্সেলোনায় তিনি যে তোরেস ছিলেন, প্যারিসে গিয়ে যেন হয়ে উঠেছেন সেটারই এক আপগ্রেড ভার্সন। আরও ধারালো, আরও নির্দয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লুইস এনরিকের দলে তাই তিনি হয়ে উঠেছেন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তোরেস।ইনস্টাগ্রাম

    গত রাতে মার্শেইয়ের বিপক্ষে ক্লাসিকো ম্যাচটাই দেখুন না। গোল পাচ্ছিল না পিএসজি। কোচ এনরিকের তখন এমন কাউকে দরকার, যে গোল করতে পারবে, ম্যাচ বদলে দিতে পারবে। ৫৯ মিনিটে বদলি নামানো হলো তোরেসকে। ৬৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দিলেন পিএসজিকে। ছয় মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে মার্শেই, গোল করেন অ্যাঞ্জেল গোমেস। কিন্তু সেই সমতা টিকল মাত্র তিন মিনিট। ৭৫ মিনিটে মার্কিনিওস গোল করে আবার এগিয়ে দেন পিএসজিকে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানেই জয়।

    জয়টা শুধু পিএসজিকে তিন পয়েন্টই দেয়নি, দিয়েছে মৌসুমের শুরুর দিকের জড়তা কাটিয়ে জেগে ওঠার আত্মবিশ্বাসও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন জয় বলছে, পিএসজি আবার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। আর সেই ছন্দের কেন্দ্রে তোরেস।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। তিনটায় শুরুর একাদশে, কোনোটিতেই পুরো সময় খেলেননি। বাকি তিনটায় বদলি হিসেবে। সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, গোলমুখে সাতটা শট নিয়েছেন, সাতটাই গোল! প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’ জানাচ্ছে, পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। পিএসজিতে প্রথম ছয় ম্যাচে তাঁর গোল ছিল আটটি। তোরেস কি আরও একজন ইব্রা হতে যাচ্ছেন?

    পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ইনস্টাগ্রাম

    তুলনাটা এখন আর শুধু কথার কথা নয়, সংখ্যাই বলছে। তবে তোরেস নিজে সংখ্যার মোহে ভাসতে চান না। তাঁর সহজ-সরল কথা, ‘সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে হয়। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় বারবার।’

    কিন্তু এই পরিসংখ্যান শুধু ভাগ্যের ছোঁয়া পাওয়ার গল্প নয়। বক্সে অবস্থান নেওয়া, সতীর্থদের মুভমেন্ট পড়া, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া আর শেষ ছোঁয়ার যথার্থতা—সব মিলিয়ে নিখুঁত এক স্ট্রাইকার, যেমনটা একজন কোচ চান।

    তোরেসের এমন পারফরম্যান্স তাই দোটানায় ফেলে দিয়েছে এনরিকেকেও। আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, খিচা কাভারাস্কেইয়া, দেজিরে দুয়ের মতো তারকার ছড়াছড়ি পিএসজিতে। সেখানে বেঞ্চের বিকল্প হিসেবে প্যারিসে পা রাখা তোরেস এখন শুরুর একাদশের জন্য তীব্র দর-কষাকষি শুরু করেছেন। ৪ গোল নিয়ে এখন তিনি লিগ আঁ-তে দলটির শীর্ষ গোলদাতাও। তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে।

    ৪ গোল নিয়ে এখন তোরেস লিগ আঁ-তে পিএসজির শীর্ষ গোলদাতা। ইনস্টাগ্রাম

    লুইস এনরিকেও তা বুঝছেন। নতুন এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সন্তুষ্টির কথা লুকাননি তিনি। বলেছেন, ‘নতুন যারা এসেছে, সবাই দলকে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ফেরান অসাধারণ খেলছে। ডিফেন্সের পেছনে ফাঁকা জায়গা বের করা এবং তা কাজে লাগানোর চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে তার। মাঝমাঠে যখন ওর মতো খেলোয়াড় থাকে, খেলা সহজ হয়ে যায়। ও এখন নিজের সেরা ছন্দে আছে।’

    আর তোরেস? শুরুর একাদশে নিয়মিত না থাকা নিয়ে কথা বলতে তিনি খুব একটা আগ্রহী নন। বলার দরকারও নেই অবশ্য। সংখ্যাই তো তাঁর হয়ে কথা বলছে, এনরিকেকে চাপ দিচ্ছে। সেই চাপ খুব বেশি দিন উপেক্ষা করা মনে হয় সম্ভব হবে না পিএসজি কোচের জন্য।

  • মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০১তম গোল করলেও সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে জয় দেখা পায়নি দলটি। রোববার রাতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।

    এই নিয়ে এমএলএসে টানা চতুর্থ ম্যাচে ড্র করল মায়ামি। ক্লাবটির নতুন কোচ কিলি গঞ্জালেসের অধীনে এটি ছিল লিগে প্রথম ম্যাচ। শেষদিকে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    ১২ মিনিটে জেপ্পে টভার্সকভের পাস থেকে গোল করে সান দিয়েগোকে এগিয়ে দেন আন্দের্স ড্রায়ার। গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট-ক্লেয়ারকে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি।

    ২৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। ডান দিক থেকে তার নেওয়া ফ্রি-কিক বক্সের ভেতর কাউকে স্পর্শ না করে সরাসরি দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এটি চলতি মৌসুমে এমএলএসে মেসির ২০তম গোল।

    চার দিন আগেই মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মায়ামির হয়ে নিজের শততম গোল করেছিলেন মেসি। এমএলএসে ২০২৩ সালে যোগ দেওয়ার পর ফ্রি-কিক থেকে এটি তার অষ্টম গোল যা কি না এই সময়ে লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

    দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামি আক্রমণে গতি বাড়ায়। ৭৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিউ ইংল্যান্ডকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মায়ামির।

    তবে আট মিনিট পরই আবার সমতায় ফেরে সান দিয়েগো। হেরন্সদের রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে আসা বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ড্রায়ার।

    ম্যাচ শেষে গঞ্জালেস মায়ামির রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের রক্ষণে আরও শক্ত হতে হবে এবং এ ধরনের ভুলের জন্য বড় মূল্য দিতে হয়। মাত্র চার দিন আগে দায়িত্ব নেওয়ায় দলকে ঠিকমতো অনুশীলন করানোর সুযোগ পাননি বলেও জানান তিনি।

    এই ড্রয়ে ১২ জয়, ৪ হার ও ১০ ড্রয়ে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের তৃতীয় স্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।

    আগামী রোববার এমএলএসে কলম্বাস ক্রুর মাঠে খেলবে মায়ামি। আর শনিবার অস্টিন এফসির বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলবে সান দিয়েগো।

  • বার্সার সাতে সাত

    বার্সার সাতে সাত

    লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রাফিনিয়া। সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলের জয় এনে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে একুশ শতকে লা লিগার কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে গোল করার দিক থেকে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

    সেভিয়ার মাঠে গত শনিবার রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। র‌্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে ১৯ মিনিটে ইউসুফ ফোফানার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চার মিনিট পরই রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তারকা ফুটবলার। অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি।

    এই জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ও তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বেটিসের চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট এগিয়ে। তবে বার্সা একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে।

    ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যায় সেভিয়াই। ১৯ মিনিটে ফেলিক্স কোরেইয়ার ক্রস থেকে জাল খুঁজে নেন ইউসুফ ফোফানা। হেড থেকে গোল করেন তিনি।

    তবে মিনিট তিনেকের মধ্যেই বার্সাকে সমতায় ফেরান রাফিনহা। ভেতরের দিকে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে সেভিয়ার গোলরক্ষক ওদিসেয়াস ভ্লাখোদিমোসকে পরাস্ত করেন তিনি।

    পরের দুই গোলেই রাফিনহাকে সহায়তা করেন লামিনে ইয়ামাল। ৫২ মিনিটে গোলমুখ থেকে দূরে সরে গিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ইয়ামাল ক্রস বাড়ান রাফিনিয়ার উদ্দেশে। সাবেক লিডস ফরোয়ার্ড হেডে বল জালে পাঠান।

    এরপর ৬৯ মিনিটে আবারও রাফিনিয়ার গোলের কারিগর ইয়ামাল। অসাধারণ এক পাসে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এরপর চমৎকার কৌশলে বলটি ভ্লাখোদিমোসের মাথার ওপর দিয়ে তুলে জালে পাঠান। লামিনে ইয়ামালের সহায়তায় দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনহা।

    রাফিনিয়ার এই হ্যাটট্রিকেই নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার টানা সপ্তম জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা অষ্টম জয়। এই হারের পরও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পঞ্চম স্থানে রয়েছে সেভিয়া।

  • এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফরাসি ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাবে ইয়ামাল বলেছেন, গত মৌসুমের সাফল্য বিবেচনায় এই পুরস্কার তারই প্রাপ্য।

    মুভিস্টার প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার মতে, এমবাপ্পে আর আমিই এখন বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। সত্যিই বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে আমরা দুজনই আছি। তবে এ বছর আমি যে শিরোপাগুলো জিতেছি, সেই বিচারে ব্যালন ডি’অরটা আমারই প্রাপ্য।’

    গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার পারফরম্যান্সে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে কাতালান ক্লাবটি। স্পেনের হয়ে ১২ ম্যাচে এক গোল ও তিন অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।

    তবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আট অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন।

    এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত প্যারিসের থিয়েটার দ্যু শাতলেতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল অনুষ্ঠানটি।

  • হামজার সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি বার্সেলোনার

    হামজার সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি বার্সেলোনার

    মিশরীয় ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিমের সঙ্গে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা।

    আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় (সিইএসটি) বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করবেন আবদেলকারিম। এরপর ক্লাবের কমার্শিয়াল অফিসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন তিনি।

    ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ধারে বার্সেলোনায় যোগ দেন এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ধারে খেলার কথা থাকলেও খুব দ্রুতই নজর কাড়েন তিনি। ৮ মার্চ উস্কার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন আবদেলকারিম।

    মাত্র ছয়টি লিগ ম্যাচে নয় গোল করেন তিনি। এর মধ্যে মন্টেকার্লোর বিপক্ষে বার্সেলোনার ৯-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিকও করেন। ওই ম্যাচেই বার্সেলোনা División d’Honor শিরোপা নিশ্চিত করে।

    ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আবদেলকারিমকে স্থায়ীভাবে দলে নেয় বার্সেলোনা। এরপর হান্সি ফ্লিকের অধীনে প্রথম দলের সঙ্গে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে অংশ নেন তিনি। প্রাক-মৌসুমে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন এই ফরোয়ার্ড।

    গত ৩১ আগস্ট স্প্যানিশ লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে অভিষেক হয় আবদেলকারিমের।

  • এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু

    এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু

    রবি ঠাকুরের কবিতার লাইনগুলো নিশ্চয়ই জানা? ‘বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে/ বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে/ দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা/ দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু…।’

    পরের লাইনগুলোয় একটু পরে আসা যাবে। আগে এই লাইনগুলোর তরজমা হোক। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেস চলে যাওয়ার পর হন্যে হয়ে স্ট্রাইকার খুঁজেছে বার্সেলোনা। পছন্দ ছিল একটাই—আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজ। সে জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চেষ্টা করেছে বার্সা। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার যত ইচ্ছাই থাকুক, আতলেতিকো তাঁকে ছাড়বে কেন! একে তো অমন একটা স্ট্রাইকারকে ছাড়লে তাদের লোকসান, তার ওপর লিগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে আলভারেজকে তুলে দেওয়ার অর্থ হলো নিজেদের পায়েই কুড়াল মারা।

    অতএব আলভারেজ মিশনে বহুদিন ধরে বহুভাবে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছে বার্সা। মৌসুম শুরুর আগে তাই প্রশ্ন উঠেছিল কাতালান ক্লাবটির সেন্টার ফরোয়ার্ড হবেন কে? স্বয়ং বার্সার এক বোর্ড সদস্যই প্রাক্‌–মৌসুমে সেন্ট জর্জেস পার্কে বার্সার অনুশীলনে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফুটিয়ে বলেছিলেন, ‘(দলে) কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড নেই।’

    কিন্তু এখন আর সেই প্রশ্নের অস্তিত্ব নেই। রসিকতা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, বার্সার নীতিনির্ধারকদের হয়তো বিশ্বকবির ওই কবিতার পরের লাইনগুলো জানা ছিল! সে যাহোক, পরের লাইনগুলোয় ফিরে দেখা যাক—‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু।’

    রাফিনিয়া এখন বার্সার সেই ‘শিশিরবিন্দু’।

    ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে আগে রবি ঠাকুরের লাইনগুলোর সারমর্ম একটু বুঝিয়ে বলতে হয়। কবি বলছেন, প্রচুর অর্থ ও সময় খরচ করে মানুষ দূর-দূরান্তে সৌন্দর্য দেখতে ছুটে যায়, কিন্তু ঘরে কিংবা ঘরের কাছে থাকা সুন্দর রূপটি অনেক সময় অদেখাই থেকে যায়।

    এই রাফিনিয়াকে আগে দেখা যায়নি রয়টার্স

    বার্সার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরকার সেই ‘সৌন্দর্য’ অদেখা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চোখ ও মস্তিস্কের রাডারে ব্যাপারটা ধরা পড়েছে। তার আগে অবশ্য ক্যাম্প ন্যুর চৌকাঠের ওপাশে দু–পা ফেলে মাদ্রিদে গিয়ে আলভারেজ নামে আর্জেন্টাইন সৌন্দর্যের সন্ধান করেছেন বার্সার নীতিনির্ধারকেরা। সেখান থেকে ব্যর্থ মনোরথে ঘরে ফিরে বার্সার টিম ম্যানেজমেন্ট যেন হঠাৎ করেই ব্রাজিলিয়ান সেই ‘শিশিরবিন্দু’ আবিষ্কার করে ফেললেন! দরকার ছিল শুধু সেই ‘শিশিরবিন্দু’র অবস্থানটা একটু পাল্টানো। কোচ হান্সি ফ্লিক সেটা করার পর ফলটা মিলছে হাতেনাতে।

    চলতি মৌসুমে ৫ ম্যাচ খেলেছে বার্সা। সবগুলো ম্যাচেই শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামেন রাফিনিয়া। তবে একটু অন্য ভূমিকায়। উইঙ্গার হিসেবে এত দিন খেললেও চলতি মৌসুমে রাফিনিয়াকে দেখা যাচ্ছে মুক্ত ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়। তাতে ৫ ম্যাচে পেয়েছেন ৮ গোল, অ্যাসিস্ট ১টি। কিন্তু এটা তো মাঠের ফল। বার্সার নীতিনির্ধারকদের মনেও একটা প্রভাব পড়ার কথা। আলভারেজকে তাঁরা নিশ্চয়ই ভুলে গেছেন! কিংবা এভাবেও বলা যায়, উইঙ্গার থেকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে রাফিনিয়া বার্সার আলভারেজ–বিরহ ভুলিয়ে ছেড়েছেন।

    বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।

    বার্সার সমর্থকেরা সে জন্য তাঁদের ক্লাবকে একটা ধন্যবাদও জানাতে পারেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপ থেকে বার্সা আলভারেজের পেছনে ছুটতে শুরু করেছিল বলেই তো এই মৌসুমে রাফিনিয়ার ভেতরকার ফরোয়ার্ড–সত্তাটা জেগে উঠল! আর সেই সত্তায় শুধু গোল এবং অ্যাসিস্ট নয়, ফুটছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেই ছন্দময় গতি, ড্রিবলিং, স্ট্যামিনা ও ফিনিশিং দক্ষতা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম গোলকেই উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন।

    বক্সে দৌড়ের ওপর রাফিনিয়ার পায়ে বল। তাঁকে ঠেকাতে ডাচ ক্লাবটির দুজন ডিফেন্ডার একসঙ্গে স্লাইডিং ডাইভে সামনে চলে এলেন। তখন রাফিনিয়ার বাঁ পায়ে যেন ফুটবল কবিতার ছন্দ! আলতো স্পর্শে বলটা বাঁ দিকে যখন সরালেন, দুই ডিফেন্ডার তখন তাঁর সামনে দিয়ে স্লাইড করে যেন নেদারল্যান্ডসে চলে গেলেন! তারপর বাঁ পায়ের শটে গোল। জার্সি নম্বর ১১ হলেও কে বলবে এই রাফিনিয়া ৯ নম্বর নয়!

    রাফিনিয়াকে আটকাতে যাওয়া দুই ফেইনুর্ড ডিফেন্ডার স্লাইডে দূরে সরে শুধু গোল হতে দেখলেন রয়টার্স

    বার্সার গোলের সমস্যা সমাধানে রাফিনিয়ার এগিয়ে আসা নতুন কিছু না। ২০২৪-২৫ মৌসুমে করেছিলেন ৩৪টি গোল ও ২৬টি অ্যাসিস্ট; যার মধ্যে লিগে অবদান ছিল ৩০ গোলে (১৮টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট)। বার্সাও জিতেছিল লা লিগা শিরোপা। আর রাফিনিয়াও উইঙ্গার পজিশন থেকে প্রথাগত ফরোয়ার্ডদের মতো বক্সে ঢুকে কিংবা তার আশপাশ থেকে গোলগুলো করেন এবং করান। সরাসরি সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে তখনো খেলা শুরু করেননি।

    পরের মৌসুমে চোটের কারণে মাসের পর মাস মাঠের বাইরে থাকতে হলেও তাঁর কার্যকারিতা ছিল দেখার মতো। সেবারও ২১ গোল করার পাশাপাশি ৮ অ্যাসিস্ট করে বার্সার লিগ শিরোপা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু বিশ্বকাপেও চোটে পড়ায় হলুদ জার্সিতে সেই রাফিনিয়াকে দেখা যায়নি।

    মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে খেলেছেন। গোল পাননি। চোটে পড়েন হাইতি ম্যাচে। সুস্থ হয়ে শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও গোল পাননি। ব্রাজিলও হেরে বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকে। এই বিশ্বকাপ চলার মাঝেই বার্সার আলভারেজের পিছু ছোটার খবর বেশি করে চাউর হয় সংবাদমাধ্যমে। রাফিনিয়ার কি তখন আঁতে ঘা লেগেছিল? কে জানে!

    বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি রাফিনিয়া।

    বার্সার জার্মান কোচ ফ্লিক কৌশলে দূরদর্শী মানুষ। বিশ্বকাপ শেষে এবারের মৌসুম শুরুর আগে রাফিনিয়ার পজিশন নিয়ে বার্সার অনুশীলনে বেশ কাজ করেন ফ্লিক। উইঙ্গার পজিশন থেকে তাঁকে সরিয়ে এনে মাঠের ভেতরে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। মুক্ত ফরোয়ার্ড হয়ে আক্রমণভাগ চষে বেড়ানোর ভার দেন রাফিনিয়ার কাঁধে। এতে শুধু বার্সার খেলার কৌশল বদলায়নি, আক্রমণভাগ নিয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার অবসানও হয়েছে।

    তবে সন্দেহও ছিল। উইং পজিশনটা সাধারণত বল নিয়ে লম্বা দৌড়ের। সামনে প্রতিপক্ষ পেলে হয় পাস দিয়ে বল ছাড়তে হয় কিংবা ড্রিবলিং করে বেরিয়ে যেতে হয়। রাফিনিয়া এত দিন সেভাবেই অভ্যস্ত ছিলেন। সেখান থেকে একদম বক্সে কিংবা তার আশপাশে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলার কিছু ঝামেলা ছিল।

    জায়গাটা সংকীর্ণ, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জটলায় খেলার জায়গাও খুব কম মেলে। বার্সার খেলার ধাঁচের সঙ্গে মিলিয়ে ওই পজিশনে সফল হতে হলে পায়ের কারুকাজ থাকা বাধ্যতামূলক। এর সঙ্গে ফিনিশ করার সহজাত ক্ষমতাও লাগে। প্রশ্ন ছিল, রাফিনিয়া কি ওই পজিশনে মানিয়ে নিতে পারবেন?

    ২০২৬–২৭ মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৮ গোল করে রাফিনিয়া এখন উড়ছেন রয়টার্স

    উত্তর মিলছে মাঠেই। কতটা মানিয়ে নিয়েছেন এ মৌসুমে গোল–পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। আর গোল করার বাইরে সতীর্থদের নিয়ে যেভাবে খেলে যাচ্ছেন, তা হয়তো আরও বড় প্রমাণ। বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।

    সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার, রাফিনিয়ার খেলা দেখে মনে হচ্ছে এটাই তাঁর চিরাচরিত পজিশন। বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি।

    আরও মজার বিষয়, ২০২২ সালে বার্সায় যোগ দেওয়ার সময় রাফিনিয়া কিন্তু বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার ছিলেন না। ডান প্রান্তের উইঙ্গার হয়ে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে দেম্বেলে ও তারপর ইয়ামালের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সরে যান বাঁয়ে। ক্লাবের প্রয়োজনেই সেই রাফিনিয়া এখন ফরোয়ার্ড—ফোঁটা ফোঁটা শিশিরবিন্দুর মতো তাঁর একেকটি গোলে ব্রাজিলিয়ানের সবচেয়ে সুন্দর রূপটি কি দেখছে বার্সা?

    উত্তর আপনার কাছে।

  • মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই তারকা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৬২ মিনিট খেলেছেন। ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।

    জার্মান কোচের মতে, বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই রদ্রির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতিতেও তার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক।

    ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে রদ্রির প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘সে আমাদের দলে আছে বলে আমরা খুশি। মাঠে বল পায়ে সে যা কিছু করে, সবকিছুর মধ্যেই যুক্তি আছে। আক্রমণে বল পায়ে দলকে কাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি বল ছাড়া অবস্থায়ও সে গুরুত্বপূর্ণ।’

    তরুণ মিডফিল্ডারদের জন্য রদ্রির উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘বার্নালও দারুণ কাজ করছে। তার জন্য এটি একটি ভালো পরিস্থিতি। সে যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে উন্নতি করবে এবং ক্রমেই আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। এই দলবদলের মাধ্যমে আমরাও সেটিই চেয়েছিলাম। রদ্রি অসাধারণ। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেও সে একজন অসাধারণ নেতা। তাকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।’

    এদিকে স্পেন জাতীয় দলেও রদ্রি ও পেদ্রি একসঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বকাপের শুরুতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও পরে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে পেদ্রির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি দুজন একসঙ্গে খেললে কার্যকর হবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

    তবে রদ্রির সঙ্গে খেলা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পেদ্রি। তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে যে আমরা একসঙ্গে ভালো কাজ করি না। কিন্তু রদ্রির সঙ্গে খেলা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের।’

    স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘সে প্রায় কখনোই বল হারায় না, আর সেটা রক্ষণে অনেক সাহায্য করে। আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব এবং যত বেশি ম্যাচ খেলব, আমাদের বোঝাপড়াও তত উন্নত হবে।’

  • বার্সার পাঁচ গোলে ইয়ামালের দুই

    বার্সার পাঁচ গোলে ইয়ামালের দুই

    শুরু এবং শেষ—দুই দৃশ্যেই একজন: লামিনে ইয়ামাল। গোল করেছেন দুটি, শানিয়েছেন একের পর এক আক্রমণ। তাতেই লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়া নিজেদের মাঠ এস্তাদিও মেস্তায়ায় ৫–০ গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনার কাছে।

    এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আরও একধাপ শক্ত অবস্থান নিল বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে এখনো কোনো জয় না পাওয়া ভ্যালেন্সিয়া আছে ২০ নম্বরে।

    প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুতেই ইয়ামাল-ঝড়; ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই বার্সাকে এগিয়ে দেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ফেরমিন লোপেসের দারুণ পাস থেকে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান ইয়ামাল। এর দুই মিনিট পর আবারও লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এবারও বলের যোগানদাতা লোপেস, দারুণ শটে মুহূর্তেই জাল কাঁপান ইয়ামাল। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

    গোল করেছেন, আবার গোল বানিয়েও দিয়েছেন লোপেস। এমন উচ্ছ্বাস তাকেই তো মানায় এএফপি

    তবু দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সাকে। ২২ মিনিটে প্রথম গোলের জোগানদাতা লোপেস নিজেই স্কোরবোর্ডে নাম লেখান। ভ্যালেন্সিয়ার এলোমেলো রক্ষণের সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান এই তরুণ মিডফিল্ডার। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। চলতি লা লিগায় এটি লোপেসের চতুর্থ গোল। ২০১১-১২ মৌসুমে সেস্ক ফাব্রেগাসের পর লোপেসই প্রথম কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড়, যিনি লিগে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে অন্তত চারটি গোল করলেন।

    ২৪ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়াকে তৃতীয় গোল খাওয়া থেকে বাঁচান স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কি। ইয়ামালের বাঁকানো শট দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন ভ্যালেন্সিয়ার এই গোলরক্ষক।

    ৩৯ মিনিটে আরেকটা বড় সুযোগ পায় বার্সা। আবারও লোপেসের সঙ্গে ইয়ামালের চমৎকার বোঝাপড়া। ইয়ামালের দৌড়ের পথেই বক্সের ভেতর পাস বাড়িয়ে দেন লোপেস। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে নিচু শট নেন ইয়ামাল, কিন্তু বলটি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

    ২–০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বার্সা। দ্বিতীয় পর্বেও আক্রমণের একই রূপ। তৃতীয় গোলটাও তারা পেয়ে যায় দ্রুত। লোপেসের বাড়ানো বল আলতো টোকায় জালে জড়ান রাফিনিয়া।

    এই গোলে বার্সেলোনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির একটি তথ্য মনে করিয়ে দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। ২০১২–১৩ ও ২০১৩–১৪ মৌসুমে লিগে বার্সার প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি করে গোল করেছিলেন মেসি। একুশ শতকে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে লা লিগায় নিজ দলের প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি গোলে (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) সরাসরি অবদান রাখলেন রাফিনিয়া।

    তিন গোল করেও আক্রমণের ধার কমেনি বার্সার। ৭৯ মিনিটে চার নম্বর গোলটি পায় কাতালানরা। দানি ওলমোর বাড়ানো বল চমৎকার শটে নিশানাভেদ করেন পেদ্রি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ভ্যালেন্সিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইয়ামাল (৫–০)।

  • শমিতের জোড়া অ্যাসিস্টে পেলের ক্লাবের বড় জয়

    শমিতের জোড়া অ্যাসিস্টে পেলের ক্লাবের বড় জয়

    ২৯তম জন্মদিনের পরদিনই নিউইয়র্ক কসমসের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখালেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার শমিত সোম। ইউএসএল লিগ ওয়ানের ম্যাচে ফোর্ট ওয়েন এফসির বিপক্ষে কসমসের ৪-২ গোলের জয়ে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।

    শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কসমসের হাতে। মাঝমাঠে শমিতের পাসিং ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতা দলকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখে। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে তার নিখুঁত থ্রু পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন জাওনেহ লামিন। এতে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কসমস।

    বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে নিউইয়র্কের দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার শমিতের পাস থেকে গোল করেন লামিন। রক্ষণভেদ করে দেওয়া তার দারুণ থ্রু বলটি কাজে লাগিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। পরে লামিন হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ফোর্ট ওয়েন দুটি গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কসমস।

    গোল করাতে অবদান রাখার পাশাপাশি পুরো ম্যাচেই কার্যকর ছিলেন শমিত। ৪৫ বার বল স্পর্শ করা এই মিডফিল্ডার ৩৬টি পাসের মধ্যে ৩০টি সফল করেন। তার পাসিং সাফল্যের হার ছিল ৮৩ শতাংশ। পাঁচটি লং বলের চারটিও ছিল সফল। জোড়া অ্যাসিস্টের পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য একটি বড় গোলের সুযোগও তৈরি করেন তিনি।

    রক্ষণেও দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন শমিত। ম্যাচে তিনটি ট্যাকল, দুটি ক্লিয়ারেন্স ও দুটি বল রিকভারি করেন তিনি। একটি শটও ব্লক করেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।

    ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের সাবেক ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলেছেন শমিত। তিনটিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে। নিজের তৃতীয় ম্যাচেই জোড়া অ্যাসিস্টে দলকে জয় এনে দিয়ে নতুন ক্লাবে নিজের আগমনের জানান দিলেন ২৯ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি।

  • মেসিদের লিগে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সুলিভানের

    মেসিদের লিগে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সুলিভানের

    মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন।

    রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান। দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।

    এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।

    এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।

    এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।

  • মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পর প্রথমবারের মতো ইন্টার মায়ামির জার্সিতে নামলেন লিওনেল মেসি। নেমেই গড়লেন ইতিহাস। মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে মেজর লীগ সকারে (এমএলএস) অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ঘরের মাঠে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও গ্যালারির উত্তাপ ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচটি রূপ নেয় এক ভিন্ন চিত্রে।

    বাংলাদেশ সময় আজ সকালের এই ম্যাচে বল মাঠে গড়ানোর আগে শুরু হয় তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত। ফলে ৯০ মিনিটের এক বাধ্যতামূলক আবহাওয়া বিলম্ব ঘটে। তবে খেলা শুরু হতেই নিজের চিরচেনা ছন্দে জ্বলে ওঠেন মেসি। ৩২ মিনিটে তার নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলের তারকা কাসেমিরো। এর কিছুক্ষণ পর সাবেক প্রিমিয়ার লীগ তারকা মিগুয়েল আলমিরন গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান। তবে প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে লুইস সুয়ারেজের চমৎকার ফিনিশিংয়ে আবারও লিড পায় মায়ামি।

    এই জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে চলতি মৌসুমে মেসির মোট গোল অবদান ১৮ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে পৌঁছে গেল ঠিক ৩০টিতে। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন তিন মৌসুমে ৩০ বা তার বেশি গোল অবদানের রেকর্ড গড়েন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দেনিস বোয়াঙ্গা কিংবা সিনসিনাটির এভান্ডারের মতো হেভিওয়েট তারকাদের পেছনে ফেলে এই কীর্তি গড়লেন এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। চলতি বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ভুলে যাওয়ার মতো এক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি। তবে ক্লাব ফুটবলে তার জাদুকরি ফর্ম এতটুকুও ম্লান হয়নি।

    মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচটি আলোচনায় ছিল গ্যালারির উত্তেজনার কারনেও। কাসেমিরোর গোলের পর আটলান্টা ইউনাইটেডের সমর্থকরা মাঠে মেসির বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘পেসি’ ব্যানার উন্মোচন করেন, যা পুরো স্টেডিয়ামের আবহকে আরও উসকে দেয়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন মায়ামি শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আটলান্টার নতুন খেলোয়াড় ও সুইস স্ট্রাইকার ব্রেয়েল এমবোলো পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান।

    ইনজুরি টাইমে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে। আটলান্টার ম্যাথিউ এডওয়ার্ডস অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মায়ামিকে। ফলে এমএলএসের শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়লো ফ্লোরিডার ক্লাবটির জন্য। ২৩ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে মেসিরা। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ায় ন্যাশভিল।

  • এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    গোলের একের পর এক সুযোগ নষ্ট, তিনবার পোস্টে আঘাত আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস; সব মিলিয়ে হতাশার এক রাত কাটল রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল।

    সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচটি ৮০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। তবে এরপর ট্রয় প্যারোটের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বেটিস। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল মাদ্রিদের দল। ১৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পেও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে দুইবার চেষ্টা করেও বল জালে পাঠাতে পারেননি।

    বিরতির আগে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকান বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। পরে ডিন হুইজসেনের হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।

    দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ফিরতি বলে গোল করেন বেটিসের ট্রয় প্যারোট। এরপর রিয়াল একটি গোল করলেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। দায়িত্ব নেন এমবাপ্পে। তবে তার স্পট কিকের দিক আগে থেকেই বুঝে ফেলেন গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

    এর আগে লা লিগার প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বেটিসের বিপক্ষে তিনটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি পেনাল্টিও মিস করেন ফরাসি তারকা।

    চার ম্যাচ শেষে প্রথম হারের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেটিস, আর এক ম্যাচ কম খেলেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

  • ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছে বার্সেলোনা। শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে ছিলেন না লামিন ইয়ামাল। ফলে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

    ২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে হানসি ফ্লিকের দল। তবে ম্যাচের আগমুহূর্তে ইয়ামালের অনুপস্থিতি সেই প্রস্তুতিতে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেস্তায়ায় কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে অপ্রত্যাশিতভাবেই ছিলেন না ইয়ামাল।

    রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই তার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার দল ম্যাচের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন ক্লাবের চিকিৎসকেরা। এরপর ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন কোচ ফ্লিক।

    ইয়ামালের চোটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বার্সেলোনা। তবে অনুশীলনে তার অনুপস্থিতির সময়টা তরুণ এই তারকার জন্য হতাশাজনকই। কারণ সতীর্থদের ভোটে নতুন সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার সুখবর পাওয়ার দিনই অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকতে হলো তাকে। মুন্দো দেপোর্তিভোর খবর অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমের ভোটে ইয়ামালকে বার্সেলোনার নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

    ইয়ামালকে না পেলে কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে ফ্লিককে। বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জার্মান কোচ হাই-প্রেসিং ফুটবল অনুসরণ করছেন। এই কৌশলে ইয়ামাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আক্রমণে তার কার্যকারিতার পাশাপাশি বল দখলের জন্য তার নিরলস পরিশ্রমও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • চোটে পড়ে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ নেইমারের, প্রতিপক্ষ দিল খোঁচা

    চোটে পড়ে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ নেইমারের, প্রতিপক্ষ দিল খোঁচা

    এক ম্যাচে তিন চোট। এর মধ্যে একজন নেইমার। চোটের জন্য মাঠ ছাড়ার পরই সান্তোসের মাঠ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে তাঁর এসব কথাকে অজুহাত হিসেবেই দেখছে প্রতিপক্ষ পালমেইরাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তারা খোঁচাই দিয়েছে নেইমারকে।

    বুধবার ব্রাজিলিয়ান কাপে পালমেইরাসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য ড্র করে সান্তোস। প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় নেইমারের দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোর বেহাল দশা এবং চোটের মিছিল।

    প্রথমার্ধেই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার। তাঁর সঙ্গে চোটে পড়েন সান্তোসের উইঙ্গার আলভারো বারেয়াল ও ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারকে কাঁদতেও দেখা যায়।

    এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠের অবস্থা নিয়ে খোঁচা দিয়ে নেইমার লেখেন, ‘ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের মাঠের দায়িত্বে যিনি আছেন, তাঁকে অভিনন্দিত করতে চাই।’

    এরপরই তাঁর সেই খোঁচা পরিণত হলো তীব্র আগুনে, ‘গতকাল যা দেখলাম, তা ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে মাঠ। ম্যাচের ঠিক আগের দিন কাজ করার কারণে পুরো মাঠ গর্তে ভরা ছিল। অবিশ্বাস্য! প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আমাদের মাঠের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে।’

    ব্রাজিলিয়ান কাপ থেকে সান্তোসের ছিটকে যাওয়ার দিনে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন নেইমার ইনস্টাগ্রাম/নেইমার

    ক্ষোভের রেশ টেনে এখানেই থামেননি নেইমার। মাঠের বেহাল দশা কীভাবে তাঁদের টেনে নামাল, সেই হিসাব কষে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, মাঠের এই জঘন্য অবস্থার কারণে আমাদের বাড়তি শারীরিক শক্তি খরচ করতে হয়েছে। প্রথমার্ধেই যে তিনজন খেলোয়াড় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দারুণ কাজ করেছেন সত্যিই…খুবই নিম্নমানের কাজ!’

    নেইমারের এই বিলাপের আগুনে পালমেইরাস বাণ মারতে ছাড়েনি। চরম নাটকীয়তায় সুযোগ বুঝে নিজেদের মাঠের প্রশংসা করে এক খোঁচাপূর্ণ বিবৃতি ছাড়ে ক্লাবটি।

    নিজেদের মাঠের নিয়মিত পরিচর্যা ও গুণগত মান নিয়ে খোঁচা দিয়ে পালমেইরাস লেখে, ‘নুবাঙ্ক পারকের মাঠের দায়িত্বপ্রাপ্তদের আমরা অভিনন্দন জানাতে চাই…দিন যা-ই হোক না কেন, এখানকার ঘাস সব সময় নিখুঁত আর গর্তমুক্ত থাকে। কারণ, প্রতিদিন এর যত্ন নেওয়া হয়। বিশ্বাস করুন আর না–ই করুন, প্রতিপক্ষকে ভালো মাঠ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের খেলোয়াড়েরাও এখানে দৌড়ানোর সময় নিরাপদ বোধ করে। কারণ, পুরো উপরিভাগ সব সময় সমান থাকে। অমনি তো আর গত পাঁচ বছরে সিরি আ-তে পালমেইরাসের খেলোয়াড়েরা সবচেয়ে কম চোটে পড়েনি…সত্যিই অভিনন্দন। দুর্দান্ত কাজ!’

    এখানেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। যেন সমস্যার সহজ সমাধান শেখাতে গিয়ে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল, ‘বাজে মাঠের একমাত্র সমাধান হলো একটি ভালো মাঠ তৈরি করা, সহজ বিষয়।’

    লিগ টেবিলে সান্তোস এখন ১৪ নম্বরে, অবনমন অঞ্চল থেকে মোটে চার পয়েন্ট দূরে।

  • মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    বল নিয়ে কাড়াকাড়ি তাঁরা করেননি। একজন ছিলেন মাঠে, অন্যজন ডাগআউটে। তবু একসময় এল ক্লাসিকোতে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ফুটবল–বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি। একজনের পায়ের নৈপুণ্য আর অন্যজনের মাথার ট্যাকটিকসের লড়াই অনেকের কাছেই ছিল উপভোগ্য।

    এরপর অবশ্য এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মরিনিও বলেছেন, মেসির মতো খেলোয়াড়কে তিনি সব সময়ই মিস করবেন।

    আগামীকাল লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মরিনিও বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে কথা বলা কঠিন। তার খেলোয়াড়ি মান নিয়ে বলার মতো খুব বেশি কিছু নেই। এমনকি এই যে বিশ্বকাপ, সেখানে ৩৮ বা ৩৯ বছর বয়সেও সে আমাদের দেখিয়েছে, সে কী করতে পারে।’

    ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি এবারও দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপরই ঘোষণা দেন—জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলা শেষ। মেসির বিদায় যে ফুটবলের একটি যুগেরও অবসান, মরিনিওর কথায় সেটিই ফুটে উঠেছে, ‘কখনো কখনো এমন খেলোয়াড় থাকে, যাদের আপনি মিস করবেন। তার শেষ কয়েক বছর বা মৌসুমগুলোকে উপভোগ করতে আমাদের হয়তো কিছু এমএলএস ম্যাচ দেখতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা এমএলএস দেখতে পছন্দ করি না, কিন্তু তাকে দেখতে হলে দেখতে হবে। কারণ, সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আপনি সব সময়ই মিস করবেন।’

    যখন মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়, মরিনিও রিয়ালেছবি: এক্স

    মরিনিও ও মেসি কখনো সরাসরি একই দলের হয়ে কাজ করেননি বা খেলেননি। মেসি বার্সেলোনায় থাকার সময় ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনিও। সেই সময়ের এল ক্লাসিকো উত্তাপ ও বিতর্ক মিলিয়ে উত্তেজনাময় ছিল। কোচ হিসেবে মরিনিওকে বারবারই মোকাবিলা করতে হয়েছে মেসির বার্সেলোনাকে।

    তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেসির প্রতি মরিনিওর শ্রদ্ধা কমাতে পারেনি। পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘গত দুই দশকে আমাদের প্রজন্মের জন্য সে কী প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা আমরা সবাই জানি।’

  • বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    হুলিয়ান আলভারেজের জন্য যে এখনো আকুল হয়ে আছে বার্সেলোনা সেটা সবারই জানা। তবে আর্জেন্টাইন এই তারকা ফরোয়ার্ডকে শেষ পর্যন্ত না পেলে বিকল্প একাধিক পরিকল্পনাও নাকি ছিল কাতালান ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আলভারেজের জাতীয় দলের সতীর্থ লাউতারো মার্তিনেজকেও বিবেচনায় রেখেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

    ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন লাউতারো মার্টিনেজ। ‘গ্রান গালা দেল ক্যালসিও’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ইন্টার মিলানের এই অধিনায়ক কথা বলেন ‘স্কাই ইতালি’র সামনে। বার্সেলোনায় হুলিয়ান আলভারেজের সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর মার্তিনেজকে জড়িয়ে যেসব দলবদলের গুঞ্জন চাউর হয়েছিল, সে বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে একদমই পিছপা হননি তিনি।

    দলবদলের এই গুঞ্জন নিয়ে সরাসরিই মার্তিনেজ বলেন, ‘এই ধরনের কোনো প্রস্তাব আসলে সত্যি বলতে বেশ ভালো লাগে, কারণ নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার জন্যই তো আমরা দিনরাত কষ্ট করি। গুঞ্জনগুলো কিন্তু মিথ্যে ছিল না, তবে আমার চিন্তাভাবনা শুরু থেকেই একদম পরিষ্কার ছিল—আমি ইন্টারের সতীর্থ আর আমাদের এই অসাধারণ সমর্থকদের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাকে যত দিন চাইবে, আমি এখানেই থাকব; এমনকি সারা জীবন থেকে যেতে বললেও আমার আপত্তি নেই।’

    অবশ্য পেশাদার ফুটবলে যে ভিন্ন বাস্তবতাও আছে সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মার্তিনেজ, ‘তবে এই পেশার নির্মম বাস্তবতা তো আমাদের সবারই জানা—যখন তুমি আর কারো কাজে আসবে না, তখন তোমাকে ছুড়ে ফেলা হবে। ইন্টার আমার কাছে সবকিছু—আমার গর্ব, আমার আনন্দ আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রেরণা। তাই আবারও এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইন্টারের হয়ে দারুণ কিছু করে দেখাতে চাই।’

    ২৯ বছর বয়সি মার্তিনেজ আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ রানার্সআপ হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিলেন। আবার অধিনায়ক হিসেবে ইন্টারের ঝুলিতে তুলে দিয়েছেন আরও একটি ‘স্কুদেত্তো’। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার পা থেকে এসেছে ২২টি গোল।

    ক্লাবে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ইন্টারের তারকা ফরোয়ার্ড আরও যোগ করেন, ‘আমি এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এখানে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি এবং ইন্টারের হয়ে দারুণ সব সাফল্য পেতে চাই।’

    ২০১৮ সালে ইন্টার মিলানে নাম লিখিয়ে ক্লাবটির হয়ে অনেক সাফল্যই পেয়েছেন মার্তিনেজ। ৩৭৮ ম্যাচে ইতালি জায়ান্ট ক্লাবটির জার্সিতে করেছেন ১৭৫ গোল। তিনটি লিগ শিরোপা সহ জিতেছেন মোট নয়টি ট্রফি।

    ইন্টার মিলানের হয়ে এতটা সাফল্য পাওয়ার কথা কখনো কল্পনাতেও নাকি ছিল না মার্তিনেজের। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড বলেন, ‘ইন্টারে নিজের ক্যারিয়ার এই পর্যায়ে পৌঁছাবে কিংবা সব স্বপ্ন পূরণ হবে—এমনটা আগে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। তবে এই সাফল্যই আমাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে; শুরু থেকেই আমার মানসিকতা এমন। প্রতিটি ট্রেনিং সেশনেই আমি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করি। ফুটবলে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আগে থেকে বলা অসম্ভব, তবে বর্তমান চুক্তিতে আমি অত্যন্ত সুখী। এখানে আমি বেশ ভালো আছি এবং ইন্টারের হয়ে আরও বড় বড় অর্জন ছুঁতে চাই বলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    ইন্টার মিলানের সঙ্গে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মার্তিনেজের। অন্যদিকে ইন্টার কর্তৃপক্ষও ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মূল্যেই হোক নিজেদের অধিনায়ককে হাতছাড়া করতে রাজি নয় তারা।

  • রাফিনিয়া-ইয়ামালের জোড়া গোলে বার্সার দাপুটে জয়

    রাফিনিয়া-ইয়ামালের জোড়া গোলে বার্সার দাপুটে জয়

    রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল দুজনই জোড়া গোল করেছেন। তাদের নৈপুণ্যে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ গোলে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা।

    ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার বাড়ানো বল থেকে গোল করে রায়োকে এগিয়ে দেন সার্জিও কামেয়ো। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। ১৯ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান রাফিনিয়া। দুই মিনিট পর দারুণ এক গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল।

    মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই বার্সেলোনা এখন ১২ গোল করেছে।

    ম্যাচ শেষে কোচ হান্সি ফ্লিক বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিন পয়েন্ট। মৌসুমের শুরুটা আমাদের ভালো হয়েছে, আমরা এটাই চেয়েছিলাম। প্রথমার্ধে আমরা খুব ভালো খেলেছি। যা দেখেছি, তা আমার খুব ভালো লেগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হয়ে ওঠে, ভালোভাবে চাপ তৈরি করে এবং গোলও করে। তখন আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। তবে রায়ো প্রথম ও দ্বিতীয় গোল করার পর আমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি, তা ভালো ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছু মুহূর্তে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে। কারণ বল নিজেদের দখলে রেখে খেলাটাও আমাদের কৌশলের অংশ। বল নিজেদের কাছে থাকলে শক্তি পুনরুদ্ধার করাও সহজ হয়। শেষ পর্যন্ত এসব জায়গায় আমাদের আরও কিছুটা উন্নতি করতে হবে।’

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামালের প্রথমার্ধের দুর্দান্ত গোলটি ছিল ২০২৬-২৭ মৌসুমে তাঁর প্রথম। তবে সেটিই শেষ নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একবার জালের দেখা পান তিনি।

    ইয়ামালকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘সে সবসময় উন্নতি করতে চায় এবং সে তা পারেও। আমি তাকে নিয়ে খুবই খুশি। আজ সে যেভাবে খেলেছে, ফুটবল যেভাবে খেলেছে, তা দেখাটা অসাধারণ। আমার কাছে সে অবিশ্বাস্য এক পর্যায়ে রয়েছে।’

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে বসেন রায়োর ফ্লোরিয়ান লেজুন। এরপর কামেয়ো নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমালেও রাফিনিয়া ও ইয়ামালের আরও দুই গোলে শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

    প্রথম দুই ম্যাচে জয় না পাওয়া রায়ো শুরু থেকেই বার্সেলোনার ওপর আক্রমণাত্মক চাপ তৈরি করে। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার নিখুঁত পাস থেকে কামেয়োর গোলেই নু ক্যাম্পের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় তারা।

    চলতি মৌসুমে এটাই ছিল বার্সেলোনার হজম করা প্রথম গোল। তবে গোল খেয়েই দ্রুত জেগে ওঠে স্বাগতিকরা।

    রাফিনিয়ার শট সরাসরি রায়োর গোলরক্ষক দানি কার্দেনাসের হাতে জমা পড়ে। ইয়ামালও অল্পের জন্য গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ১৯ মিনিটে রাফিনিয়া রায়োর রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।

    এর মাত্র দুই মিনিট পরই ইয়ামাল নিজের প্রথম গোলটি করেন। বক্সের ভেতরে ঢুকে ওপরের কোণে দুর্দান্ত শটে বল পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন তিনি।

    ইংল্যান্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনও বার্সেলোনার হয়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন কার্দেনাস। এরপর মার্ক বার্নালের শটও ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন রায়োর গোলরক্ষক।

    গর্ডনকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই গর্ডনের অনেক গতি ছিল এবং বল পায়ে সে খুবই পরিষ্কার ছিল। গোলের আগে দুটি পাসেও সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের দলে তাকে পাওয়া, পাশাপাশি করিম, রাফা ও লামিনেকে পাওয়া—এই জায়গাগুলোতে আমাদের গতি বাড়িয়েছে। এটা ভালো বিষয়। আমি তাদের নিয়ে খুশি।’

    দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় বার্সেলোনার তৃতীয় গোল আসে কিছুটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে। বল নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন রায়োর লেজুন। এরপর বার্সেলোনার জুল কুন্দের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

    তবে রায়ো হাল ছাড়েনি। ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে উনাই লোপেসের কর্নার থেকে পায়ে বল লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন কামেয়ো।

    গর্ডন এরপরও রায়োর রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতে থাকেন। একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর, যার মধ্যে বক্সের ভেতরে ফেরমিন লোপেসের শট আটকে যাওয়াও ছিল, গর্ডনের দারুণ এক ব্যাকহিল পাস থেকে চতুর্থ গোলটি করেন রাফিনিয়া।

    নম্বর নয় পজিশনে রাফিনিয়ার খেলা নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই আমি তার কাছ থেকে এমনটাই আশা করি। সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়, বিশ্বমানের খেলোয়াড়। অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়াটাও তার জন্য ইতিবাচক বিষয়। এই মুহূর্তে সে ঠিক সেটাই দেখাচ্ছে, যা আমাদের তার কাছ থেকে প্রয়োজন।’

    শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও রায়ো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ম্যাচের শেষ মিনিটে করিম আদেয়েমির বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। তাতেই ৫-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা এবং মৌসুমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে আবারও লা লিগার শীর্ষে উঠে যায় তারা।

  • হালান্ডের জোড়া গোল, বড় জয় সিটির

    হালান্ডের জোড়া গোল, বড় জয় সিটির

    ম্যানচেস্টার সিটি শুক্রবার রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। রায়ান চেরকি ও আর্লিং হালান্ড দুজনেই জোড়া গোল করেছেন। এই জয়ে সিটি প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ম্যাচ জিতল।

    প্যালেস শুরুতে ভালো খেলেছিল। কিন্তু ১৭ মিনিটে তারা পিছিয়ে পড়ে। অ্যান্টোইন সেমেনিওর ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করেন হালান্ড। গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন বল ধরতে পারেননি। এটি ছিল নতুন মৌসুমে হালান্ডের প্রথম গোল।

    ২১ মিনিটে ফিল ফোডেন বল বাইরে মারেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এডি এনকেতিয়াও একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ৫৪ মিনিটে চেরকি প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে গোল করেন।

    দুই মিনিট পর প্যালেস একটি গোল শোধ করে। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি কিক ক্রসবারে লাগে। এরপর বল সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার গায়ে লেগে পোস্টে লেগে জালে ঢোকে।

    তবে প্যালেসের ফেরার আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। ৫৯ মিনিটে চেরকি আবার গোল করেন। তার শট ক্রিস রিচার্ডসের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। এটি ছিল তার রাতের দ্বিতীয় গোল।

    ৮৫ মিনিটে হালান্ডও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ফোডেনের পাস থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন তিনি। এই গোলে সিটির জয় নিশ্চিত হয়। কোচ এনজো মারেস্কার দল প্রথম দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট পেল।

    এই জয়ের পর সিটি প্রায় এক সপ্তাহ বিশ্রাম পাবে। এরপর তাদের পরের ম্যাচ নতুন প্রমোশন পাওয়া দল কভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে।

    তার পরের সপ্তাহে তারা ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যাবে। সেখানে তারা এই মৌসুমের প্রথম ডার্বি ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে।

  • পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়দের মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বার্সেলোনা।

    তবে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী প্রতীক এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার পর সেই আয়োজন বাতিল করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    বৃহস্পতিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে স্প্যানিশ লিগের হোম ম্যাচে নামার আগে ক্যাম্প ন্যুতে এস্তেলাদার সমর্থনে একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় একটি সংগঠনের আয়োজনে সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ছোট পতাকা বিতরণ করা হয়। গ্যালারিতেও দেখা যায় বড় আকারের বেশ কিছু পতাকা ও ব্যানার। বার্সার সংগীত বাজানোর সময় সমর্থকেরা পতাকাগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

    ম্যাচের আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার সমর্থক ক্যাম্প ন্যুর আশপাশে এস্তেলাদা হাতে মিছিলও করেন।

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলে বার্সার আটজন খেলোয়াড় ছিলেন। এরা হলেন জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পেদ্রি, পাউ কুবার্সি, গাভি, রদ্রি, দানি ওলমো ও লামিনে ইয়ামাল। কোনো ক্লাবের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ কারণেই তাঁদের সম্মান জানাতে বিশেষ সংবর্ধনার পরিকল্পনা করেছিল বার্সা।

    তবে গত সপ্তাহে এলচের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বার্সার এক তরুণ সমর্থকের কাছ থেকে পুলিশ এস্তেলাদা পতাকা নিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই সমর্থক পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে আটক করা হয়।

    এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বার্সা। ক্লাবটির দাবি, এস্তেলাদা একটি আইনসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রতীক এবং এটি প্রদর্শন করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বৈধ প্রয়োগ। একই সঙ্গে সমর্থককে আটকের পদ্ধতিকেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে বার্সা। পুলিশের বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যৌক্তিকতা ছিল না বলে মনে করে ক্লাবটি।

    বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা বাতিলের ব্যাখ্যায় বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন কিছু আয়োজন করা যাচ্ছে না। ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা উচিত। সংঘাত তৈরি করা যাবে না।’

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে এর আগে দেশটির অন্যান্য ক্লাবও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন আয়োজন করেছে। সেসব অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনের পাশাপাশি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকেও উপস্থিত রাখা হয়েছিল। তবে বার্সার ক্ষেত্রে এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে তৈরি উত্তেজনার কারণে সেই ধারাবাহিকতা আর থাকল না।

  • এলচেকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু

    এলচেকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু

    লা লিগায় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানটায় দুর্দান্ত শুরু করেছে বার্সেলোনা। নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এলচের মাঠে গোলের উৎসব করেছে হানসি ফ্লিকের দল। স্বাগতিকদের ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বড় জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    বার্সেলোনার বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেস। অভিষেকেই গোলের দেখা পেয়েছেন নতুন সাইনিং করিম আদেইয়েমি। আর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুই গোলে সহায়তা করে নজর কেড়েছেন অ্যান্থনি গর্ডন।

    ম্যাচের শুরু থেকেই এলচের ওপর চাপ তৈরি করে বার্সেলোনা। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আদেইয়েমি। রাফিনিয়ার পাস কাজে লাগিয়ে বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের অভিষেকটা গোল দিয়ে রাঙান তিনি।

    বিরতির পর বার্সেলোনার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। বদলি হিসেবে নামা গর্ডনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। এরপর গর্ডনের আরেকটি অ্যাসিস্ট কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইন ৪-০ করেন ফেরমিন। চার গোলে এগিয়েও আক্রমণের ধার কমায়নি ফ্লিকের দল। ম্যাচের শেষ দিকে জাভি এস্পার্তের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফেরমিন। তাতে ৫-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয় কাতালানদের।

    নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই পাঁচ গোলের জয় দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও বার্তা দিয়ে রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরুতেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল বার্সেলোনা। এর আগের দিন জয় দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদও। এস্পানিওলের মাঠে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় হোসে মরিনহোর দল।

  • বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কুইন সুলিভানকে চড় মারার ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসিকে। তবে জরিমানার পরিমাণ প্রকাশ করেনি টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

    গত ২০ আগস্ট ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের শেষ দিকে সুলিভানের মাথার পেছনে চড় মারেন মেসি। বল খেলার পর সুলিভান তাঁকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন—এমন অভিযোগ করতে গিয়ে ওই ঘটনার সূত্রপাত। মেসির চড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান সুলিভান। পরে রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    এই ম্যাচে মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল। ৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় ছিলেন মেসি।

    সুলিভানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মেসিই একমাত্র শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড় নন। মায়ামির ইয়ান ফ্রেকেও জরিমানা করা হয়েছে। বক্সের মধ্যে সুলিভান পড়ে যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরেছিলেন ফ্রে।

    উত্তপ্ত ম্যাচটিতে যোগ করা সময়ে দুটি লাল কার্ডও দেখা যায়। মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট এবং ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভানকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে পর্যালোচনার পর কাভানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    এদিকে, ইস্টার্ন কনফারেন্সে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।

    বাবার মৃত্যুর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। বাবাকে স্মরণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ইঙ্গিত দেন, ফুটবলে তাঁর পথচলা হয়তো আর খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।

  • অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া। হারের হতাশার মধ্যেই অবসরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার।

    বৃহস্পতিবার কোপা লিবার্তাদোরেসের রাউন্ড অব ১৬-এর দ্বিতীয় লেগে করিন্থিয়ানসের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় রোজারিও সেন্ট্রাল। সেই হারের পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন দি মারিয়া। আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে মুহূর্তটি, কারণ ১২ বছর আগে একই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলই তাকে নিয়ে গিয়েছিল ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের পথে।

    ম্যাচ শেষে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান দি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন মুহূর্ত। আমার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। ইচ্ছা ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়ার। তবে এটাই ফুটবল। এখন আমাকে চিন্তা করে দেখতে হবে আমি সামনে কী করতে চাই।’

    ফক্স স্পোর্টসের কাছেও ম্যাচের হতাশা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার ভাষায়, ‘আমাদের গোল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম ম্যাচটি সেভাবে এগোয়নি। আমরা বেশ লড়াই করেছি, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’

    দীর্ঘ ১৮ বছর ইউরোপের ফুটবলে দাপট দেখানোর পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে আসেন দি মারিয়া। এরপর গত জুনে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ান তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকার কথা রয়েছে তার। সে সময় তার বয়স হবে ৩৯ বছর।

    তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আর্জেন্টিনার অন্যতম সফল এই ফুটবলার। সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনই আভাস পাওয়া গেছে।

    রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। এই সময়ে ১৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭টি গোল। তবে কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে বিদায়ের পর তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে ভক্তরা।

  • ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। লা লিগার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার পর এবার ক্লাবের অনুশীলনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।

    অনুশীলন মাঠের সামনে ‘হুলিয়ান আউট’ লেখা ব্যানার টানানো হয়। কোথাও কোথাও আলভারেসের ১৯ নম্বর জার্সির ওপর ক্রস চিহ্ন এঁকে তাঁর বিদায়ও দাবি করেছেন ভক্তরা। বার্সায় যেতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকেই সমর্থকদের বড় একটি অংশ আলভারেসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন আতলেতিকোর প্রধান কোচ দিয়েগো সিমিওনে। মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আলভারেসকে দলে না রাখার কারণ দলবদলের গুঞ্জন নয়, ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক প্রস্তুতির অভাব। সে এখনো আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে আমার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করছি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সে খেলবে।’

    ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আতলেতিকোতে যোগ দেন আলভারেস। এরপর ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি।

    আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকোর চুক্তি ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আতলেতিকো আর্সেনালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও আলভারেস যেতে চান বার্সাতেই। কিন্তু মাদ্রিদের ক্লাবটি কাতালানদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে রাজি হয়নি। ফলে আক্রমণভাগের জন্য বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে শুরু করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    শনিবার দিবাগত রাতে ভিয়ারিয়ালকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো। চোটের কারণে আলেকজান্ডার সরলথ না থাকায় সে ম্যাচে আলভারেসের মাঠের নামার সম্ভাবনা বেশি। শেষ পর্যন্ত খেলতে নামলে তাঁর সামনে আরেকটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। ঘরের মাঠে আরও একবার আতলেতিকোর দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

  • জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি তিনি দেখতে চান পিএসজির জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিচা কাভারৎস্খেলিয়ার হাতে।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাতো’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্রুসের চোখে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কাভারৎস্খেলিয়াই এক নম্বর পছন্দ। নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে সাবেক এই জার্মান তারকা বলেন, ‘আমার কাছে সে এখন এক নম্বর খেলোয়াড়।’

    ক্রুসের এই পছন্দে অবশ্য অনেকেই অবাক হতে পারেন। কারণ ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা রদ্রি, লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের তিনি এগিয়ে রাখেননি। তার মতে, ক্লাবের হয়ে এমন অসাধারণ মৌসুম কাটাতে পারেননি তারা, যা দিয়ে এই পুরস্কারের জন্য শক্তিশালী দাবি তোলা যায়।

    অন্যদিকে কাভারৎস্খেলিয়ার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স ক্রুসকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জর্জিয়ান উইঙ্গারকে ‘গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘বিশ্বের সেরা ফুটবল দলের বর্তমান সেরা খেলোয়াড়’ বলেও প্রশংসা করেছেন।

    পরিসংখ্যানও কাভারৎস্খেলিয়ার পক্ষে কথা বলছে। পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৯ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও নজরকাড়া। ১৬ ম্যাচে ১০ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে ৭টি গোল করিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা।

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বেও কাভারৎস্খেলিয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মোনাকো, চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    এমন পারফরম্যান্সের পর কাভারৎস্খেলিয়াকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকার মতো একজন তারকা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জর্জিয়ান এই ফুটবলারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

    তবে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল, রদ্রি কিংবা রানার্সআপ মেসির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে কাভারৎস্খেলিয়ার ব্যালন ডি’অর জেতা নিঃসন্দেহে বড় চমক হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন।

  • মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল করে আবেগে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তার গোলে ইন্টার মায়ামি এগিয়েও গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মায়ামিকে। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান।

    বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে সুবারু পার্কে ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ১২ মিনিট। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে ফিলাডেলফিয়ার কুইন সুলিভান ও মায়ামির ইয়ান ফ্রের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। কুইনকে ফাউল করা হয়েছে, এমন অভিযোগ থেকেই দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

    ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন কাভান। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার কাভানের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর রেফারি ফিলিপ দুজিচ দুজনকেই সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ঘটনার শুরুতে জড়িয়ে পড়া কুইন সুলিভান অবশ্য লাল কার্ড দেখেননি। তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন কাভান। পুরো ম্যাচ খেললেও আক্রমণে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। ৩৫ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে মায়ামির গোলমুখে একটি চেষ্টা করেছিলেন কাভান, তবে সেটি রুখে দেন গোলরক্ষক ডেইন সেইন্ট ক্লেয়ার। কুইন অবশ্য শুরু থেকে একাদশে ছিলেন না। ৬৮ মিনিটে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচের ১১ মিনিটে এই ভাসিলেভই ফিলাডেলফিয়ার হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন।

    এদিকে ম্যাচে লিওনেল মেসির সঙ্গে কুইনের কিছুটা বাক্যবিনিময় হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কুইনের মাথার পেছনে হালকা চাপড় দিতে দেখা যায় মেসিকে। বিষয়টি বড় কোনো সংঘর্ষে রূপ নেয়নি।

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান পরিবারের ফুটবল গল্প অবশ্য এখানেই শেষ নয়। কাভান ও কুইনের দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে এ বছর অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ডেকলান টুর্নামেন্টে বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ না পেলেও রোনান ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়। পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছিলেন রোনান। পরে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পেনাল্টিতে পানেনকা শটে গোল করে তাঁ জার্সি খুলে উদ্‌যাপনের দৃশ্যও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেয়।

    এদিকে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ড্র করেও এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। ২০ ম্যাচে ১১ জয়, ৬ ড্র ও ৩ হারে তাদের পয়েন্ট ৩৯। ২০ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল।

  • ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে মাঠেই ঢলে পড়েন বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জামাল মুসিয়ালা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান সবাই। তেইশ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গোল করার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনা ঘটে। তবে বায়ার্ন জানিয়েছে, তাদের এই তারকা খেলোয়াড় এখন ভালো আছেন।

    বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন মুসিয়ালা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে গোল করেন তিনি। এই ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় বায়ার্ন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মুসিয়ালাকে নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবারল।

    এবারল বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ভালো আছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।’ তবে মুসিয়ালা কেন মাঠে ঢলে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

    মাঠে নামার প্রায় পনেরো মিনিট পরই ঢলে পড়েন মুসিয়ালা। এরপর দুই দলের চিকিৎসক দলই তার শুশ্রূষায় এগিয়ে আসেন। পরে নিজে থেকেই উঠে দাঁড়ান তিনি এবং হেঁটে টানেলের দিকে চলে যান। তবে তাকে বেশ ভীত দেখাচ্ছিল। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয় মাঠ থেকে।

    জার্মানির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হঠাৎ মাথা ঘোরার কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সেসময় মিউনিখের তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। তবে এই ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি বায়ার্ন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখবে ক্লাবটি।

    এই ঘটনার সময় নিয়েই স্বাভাবিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে মুসিয়ালার সাম্প্রতিক ইনজুরি সমস্যার কথা। গত গ্রীষ্মে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে গুরুতর পায়ের চোট পান তিনি। এতে তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায়। এরপর বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

    জানুয়ারিতে মাঠে ফেরেন মুসিয়ালা এবং এরপর থেকে নিজের সেরা ফর্মে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন তিনি। তার রিকভারি নিয়ে যেভাবে সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, তাতে এই সাম্প্রতিক ঘটনা সবাইকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

    ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণের পর সম্প্রতি দলগত অনুশীলনে ফেরেন তেইশ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তার খেলার চাপ নিয়েও সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করছিল বায়ার্ন। পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার জন্য গ্রীষ্মের ছুটিও কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    তবে আপাতত প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিবাচক। বায়ার্ন আশা করছে, গরম বা মাথা ঘোরার কারণে সাময়িক এই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, এই মৌসুমে যাকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা রয়েছে সেই খেলোয়াড়ের জন্য এটি নতুন কোনো ধাক্কা নয়।

  • লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    ক্লাব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় আসর ‘লা লিগা’ মাঠে গড়াচ্ছে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় দেপোর্টিভো আলভেস-গেতাফে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ এ লড়াই। তবে প্রথম সপ্তাহে লা লিগার দুই জায়ান্টের কোনো ম্যাচ নেই। ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    রিয়াল-বার্সার ম্যাচ এত দেরিতে শুরু হওয়ার কারণ, এ দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলে ক্লান্ত। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতেই সপ্তাহখানেক দেরিতে ফেলা হয়েছে দুই জায়ান্টের ম্যাচ। এর মধ্যে বার্সার জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অন্য রকম একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছেন। একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার চারজন কোচ তাদের প্রথম দুই মৌসুমেই টানা লা লিগে জিতেছেন। তাদের মধ্যে কেবল পেপ গার্দিওলাই লা লিগার হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পেরেছিলেন। হ্যান্সি ফ্লিক কি পারবেন তাঁকে স্পর্শ করতে? তাঁর জন্য কাজটা ভীষণ কঠিন হতে চলেছে। কারণ সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়াই লিগ শুরু করতে হচ্ছে বার্সাকে।

    আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা পাকা করে রেখেছিল বার্সা। কিন্তু অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ বেঁকে বসায় আলভারেজের বার্সায় আসা হচ্ছে না। এরই মধ্যে বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড রবাট লেভানডস্কিকে ছেড়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও পিএসজিতে চলে গেছেন। তাদের অভাব পূরণে বার্সা এখন কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড পাচ্ছে না। হ্যান্সি ফ্লিক ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এখন হন্যে হয়ে সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজছেন। শেষ পর্যন্ত তারা স্পোর্টিং লিসবন থেকে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকে আনার চেষ্টা করছেন। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা রদ্রির ট্রান্সফার নিয়েও ম্যানসিটির সঙ্গে দর কষাকষি চলেছে। এর পরও লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, কুবার্সিরা রয়েছেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে তরুণ জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদিয়েমিকে টেনেছে তারা।

    বার্সার এই হ্যাটট্রিক শিরোপা ছিনিয়ে নিতে ১৩ বছর পর আবার হোসে মরিনহোকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদলের বাজারেও ভীষণ সক্রিয় তারা। মরিনহোর চাওয়া মতো এরই মধ্যে চেলসি থেকে বিশ্বকাপজয়ী লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া, লিভারপুল থেকে ফরাসি সেন্টার ব্যাক ইব্রাহিম কোনাতে, ম্যানসিটি থেকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা, ইন্টার মিলান থেকে রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। লাইপজিগ থেকে রেকর্ড ১৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দলে টেনেছে তরুণ আইভরিয়ান প্রতিভা ইয়ান দিয়ামান্দেকে।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা। টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে যে রিয়ালের তারকাপুঞ্জে সবচেয়ে বড় তারা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভিনিও কম যান না, নতুন চুক্তিই প্রমাণ করে রিয়ালের কাছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জার্সিতে গত বিশ্বকাপে ৭ গোল করা জুড বেলিংহামও কম যান না। এই ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করছে রিয়ালের শিরোপা উদ্ধার মিশন।

  • অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ভবিষ্যত নিয়ে চলছে তুমুল গুঞ্জন। নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে বার্সেলোনায় পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এই তারকা ফুটবলার। তবে আতলেতিকো তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়তে নারাজ। এই টানাপোড়েন ও জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্লাবের কোচ দিয়েগো সিমিওনে।

    সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সফার জটিলতা ও আলভারেজের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিমিওনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি একদম পরিষ্কার। ক্লাবের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা মিগেল অ্যাঞ্জেল খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, হুলিয়ানের মতো একজন খেলোয়াড়কে দলে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সে যেন ক্রমাগত আরও উন্নতি করতে পারে এবং আরও বড় হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য আমরা তাকে সব ধরনের সহায়তা করব।’

    আলভারেজের বর্তমান দলবদল পরিস্থিতির তুলনামূলক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা অঁতোয়ান গ্রিজমানের দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে দেন সিমিওনে। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা গ্রিজমানের সঙ্গেও এমন একটি সময় পার করেছি, যখন তাকে বাধ্য হয়ে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি আবারও ফিরে এসেছিলেন। ফিরে আসার পর নিজের মান এবং ফুটবলে নিজের মর্যাদা কী—তা তাকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করতে হয়েছিল।’

    বার্সেলোনা এই মুহূর্তে আলভারেজকে দলে নিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ, আর্সেনাল এবং প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর মতো ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলোও এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের দিকে নজর রাখছে। তবে আতলেতিকোর অনমনীয় অবস্থানের কারণে প্রস্তাব ও দরকষাকষি বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে।

    খেলোয়াড়ের দলবদল নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে সিমিওনে সবশেষে মন্তব্য করেছেন, ‘সব বিষয়ই সময়ে সুরাহা হয়ে যাবে এবং সমাধান খুঁজে পাবে।’

  • মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে আতলেতিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। বৃষ্টিস্নাত রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সহজ জয় পায় ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে জোড়া গোল করে লিগ কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে শীর্ষে উঠে এলেন মেসি।

    ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে ওই এলাকায় বজ্রপাতের কারণে খেলা ৩০ মিনিট বিলম্বিত হয়।

    মেসি ম্যাচের ১১ ও ৪৪তম মিনিটে গোল করেন। ১২টি লিগ কাপ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ১৪টি—যা টুর্নামেন্টের চার বছরের ইতিহাসে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বোয়াঙ্গার চেয়ে এক গোল বেশি এবং এর মাধ্যমে তিনি এখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    মেসি বাদেও তেলাস্কো সেগোভিয়া এবং ডিফেন্ডার মাইকায়েল একটি করে গোল করেছেন এবং নোয়াহ অ্যালেন তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এর সুবাদে টানা ৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রইলো ইন্টার মায়ামি।

    এদিন বিশ্বকাপের পর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলেছিলেন, তবে লা আলবিসেলেস্তেরা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা শনিবার কলম্বাস ক্রুর সাথে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৩৭ মিনিট মাঠে ছিলেন।

    কলম্বাসের বিপক্ষে গোলবঞ্চিত থাকার পর, বুধবার প্রভাব বিস্তার করতে মেসির বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় ডেভিড রদ্রিগেজ হেডে গোল করে সান লুইসকে এগিয়ে নেওয়ার পর, অ্যালেনের বাড়ানো একটি লম্বা ক্রস থেকে আন্দ্রেস সানচেজকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মেসি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে তিনি খুব কাছ থেকে ফিনিশ করে আরও একটি গোল করেন এবং স্টপেজ টাইমে মাইকায়েলের হেডে করা গোলেও অ্যাসিস্ট করেন।

    ২০২৩ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরপরই মেসি মায়ামিকে লিগ কাপের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। ইন্টার মায়ামি গত বছরও ফাইনালে পৌঁছেছিল, তবে সিয়াটলের কাছে তারা ৩-০ গোলে হেরে যায়।

  • এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    দেশব্যাপী আয়োজিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতাকে সফল করতে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবল দল গঠনের আহ্বান জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো প্রতিষ্ঠান দল গঠন না করলে তাদের এমপিও সুবিধা স্থগিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। সভায় আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দেশব্যাপী এ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করবে।

    আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।

    সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি করে এবং মেয়েদের জন্য নির্ধারিত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া আয়োজন। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে সমান সুযোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

  • চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চিলিতে পৌঁছেছেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কলো-কোলোতে যোগ দিতে সান্তিয়াগোয় পা রাখতেই ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

    সান্তিয়াগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোজিনহাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। ব্যানার, পতাকা, ড্রাম আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেন সমর্থকেরা।

    সমর্থকদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। খুব শিগগিরই মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    গত ২৪ জুলাই কলো-কোলো ভোজিনহাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দেয়। যদিও চিলিতে তার আগমন কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণেও সফরের সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। এ সময় মরক্কোর ক্লাব আরএস বারকানসহ অন্য কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহ নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে সান্তিয়াগোয় পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে কলো-কোলোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবং সাবেক তারকা ড্যানিয়েল মোরন ভোজিনহাকে স্বাগত জানান।

    পর্তুগিজ ক্লাব শাভেসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন ভোজিনহা। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে কেপ ভার্দেকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টে ১৮টি সেভের পাশাপাশি স্পেনের বিপক্ষে স্মরণীয় ক্লিন শিট রেখে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও।

    ভোজিনহার আগমনকে সামনে রেখে চিলির ফুটবলেও ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিশেষ অনুমতি দিয়ে কলো-কোলোর জার্সির পেছনে তার পারিবারিক নামের পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ডাকনাম ভোজিনহা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

    কোচ ফার্নান্দো অর্টিজের অধীনে প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের চুক্তিতে খেলবেন ভোজিনহা। চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

  • হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি পায়নি বার্সেলোনা, নতুন নির্দেশনা উয়েফার

    হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি পায়নি বার্সেলোনা, নতুন নির্দেশনা উয়েফার

    প্রায় ৪ মাস পর বার্সেলোনা অবশেষে একটা নৈতিক জয় পেয়েছে। উয়েফা এখন রেফারিদের জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে। পেনাল্টির জন্য এই নির্দেশনাটি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থা।

    মাঠের কোনো খেলোয়াড় যদি নিজের বক্সের ভেতরে ইচ্ছা করে হাত দিয়ে বল ধরে, আর তখন বল খেলার মধ্যেই থাকে, তাহলে রেফারিকে অবশ্যই পেনাল্টি দিতে হবে। উয়েফা বলেছে, এই ধরনের ঘটনায় আর কোনো ব্যাখ্যা বা তথাকথিত ‘কমন সেন্স’ খাটানো যাবে না।

    এই নতুন নির্দেশনা মূলত এল চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের একটা বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিত। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মধ্যে সেই ম্যাচ হয়েছিল।

    গোলকিক থেকে আতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসো বল বাড়ান মার্ক পিউবিলের কাছে। পিউবিল তখন নিজের বক্সের ভেতরে হাত দিয়ে বলটা থামিয়ে দেন, যদিও তখন বল খেলার মধ্যেই ছিল। কিন্তু প্রধান রেফারি ইস্তভান কোভাচ পেনাল্টি দেননি, আর ভিএআরও তাকে ঘটনাটা আবার দেখার জন্য ডাকেনি।

    বার্সেলোনা এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করে। তারা দাবি করে, রেফারির এই ভুল স্বীকার করতে হবে। কিন্তু উয়েফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়ে দেয়। এখন নতুন নির্দেশনা দিয়ে উয়েফা ঘুরিয়ে হলেও বার্সেলোনার কথাকেই সঠিক বলে মেনে নিল।

    উল্লেখ্য, সেই বিতর্কিত ঘটনার সময় বার্সেলোনা আতলেতিকোর কাছে ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা তারা ০-২ গোলে হারে। দুই লেগ মিলিয়ে মাদ্রিদের দলের কাছে হেরে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে যেতে পারেনি।

  • বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    নতুন মৌসুম শুরুর আগে ধাক্কা খেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, হোয়াও ফেলিক্সদের সৌদি প্রো লিগ। গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে বিশ্বের সেরা লিগের তালিকায় ত্রিশের বাইরে চলে গেছে সৌদি আরবের এ লিগ। অন্য দিকে সেরা দশে উঠে এসেছে লিওনেল মেসিদের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)।

    ফিফা বিশ্বকাপ শেষে আপাতত নতুন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় এসপিএল। আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলা। অন্য দিকে বিশ্বকাপের বিরতির পর এরই মধ্যে মাঠে গড়িয়েছে এমএলএসের অসমাপ্ত মৌসুমের খেলা।

    এর মাঝে বিশ্বের ফুটবল লিগগুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিং ওয়েবসাইট। যেখানে ৭৯.৩ পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে অবস্থান করছে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। অন্যদিকে ৭৫.১ পয়েন্ট নিয়ে ৩৬ নম্বরে আছে সৌদি প্রো লিগ।

    এছাড়া নির্দিষ্ট ক্লাবের হিসেবে এমএলএসের ক্লাবগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে মেসির ইন্টার মায়ামি। গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৪.৯ পয়েন্ট নিয়ে ৭৯ নম্বরে আছে তারা। আর এসপিএলের ক্লাবগুলোর মধ্যে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৫ নম্বরে আল আহলি।

    রোনালদো-ফেলিক্সদের আল নাসর আপাতত সেরা একশতেও নেই। তারা ৮৩.৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ১১৬ নম্বরে।

    বিশ্বের সেরা লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ডের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। একমাত্র লিগ হিসেবে নব্বইয়ের বেশি (৯১.৮) পয়েন্ট তাদের।

    এছাড়া চমকে দেওয়ার মতো উন্নতি হয়েছে ইতালিয়ান সিরি আ’র। স্প্যানিশ লা লিগাকে (৮৬) টপকে ৮৬.১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে গেছে ইতালির লিগটি। এছাড়া সেরা পাঁচে আছে ফ্রান্সের লিগ ওয়ান (৮৫.৬) ও জার্মানির বুন্দেসলিগা (৮৫.৪)।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ লিগ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি এন্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬২৬.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ২৭ নম্বরে সৌদি আরবের লিগ। আর ১৭০৭.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ৪৮ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ।

  • ‘হয় থাকো, নয়তো চলে যাও’—ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বার্তা

    ‘হয় থাকো, নয়তো চলে যাও’—ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বার্তা

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার দাবি, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সামনে এখন দুটি রাস্তা খোলা রেখেছে ইউরোপের অন্যতম সফল ক্লাবটি।

    ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি আছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারকা ফুটবলারের প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হয়তো চুক্তি নবায়ন করে থেকে যেতে হবে, অন্যথায় চলতি গ্রীষ্মেই তাঁকে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোবে রিয়াল।

    গত কয়েক মাস ধরে ভিনিসিয়ুস-রিয়াল চুক্তির আলোচনা আলোর মুখ দেখছে না। কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় কেবল অনিশ্চয়তাই বেড়েছে। এর মধ্যে ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়াতে আর্সেনালের আগ্রহ রিয়ালকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা যোগ দেওয়ায় তারকা উইঙ্গারের দলবদল নিয়ে আর সময়ক্ষেপন করতে চাইছে না রিয়াল।

    মার্কার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের রিয়াল জানিয়েছে, বর্তমান প্রস্তাবের বাইরে আর কোনো বেতন বৃদ্ধি বা নতুন করে আলোচনার সুযোগ নেই। ক্লাবের বার্তা পরিষ্কার—ভিনিসিয়ুস প্রস্তাব গ্রহণ করলে চুক্তি নবায়ন হবে। সেটা না হলে ভিনিসিয়ুসকে ধরে রাখতে আগ্রহী নয় রিয়াল। ভবিষ্যতে বিনা ট্রান্সফার ফিতে হারানোর ঝুঁকি এড়াতেই এই পথে হাঁটতে চায় চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ড শিরোপাজয়ীরা।

    কড়া অবস্থান নিলেও রিয়াল এখনো ভিনিসিয়ুসকে নিজেদের প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেই বিবেচনা করছে। গত কয়েক মৌসুমে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য আর্থিক উন্নতির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে নিজেদের নীতি থেকে একচুলও সরে আসতে রাজি নয় রিয়াল। ক্লাবের অবস্থান, কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই দলের নির্ধারিত বেতন কাঠামো ভাঙা হবে না, তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন।

    রিয়ালের ডাগআউটে ফেরার পর দলবদলে পরিবর্তনের হাওয়া এনেছেন জোসে মরিনিয়ো। ভিনিসিয়ুস থেকে গেলেও তাই একাদশে আগের মতো নিয়মিত হতে পারবেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। দুই উইংয়েই খেলতে সক্ষম দিয়োমান্দের সম্ভাব্য আগমন মরিনিয়োর জন্য ভালো বিকল্প হবেন। যেটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমিয়ে দেবে। এসব বিবেচনায় ভবিষ্যত নিয়ে এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হচ্ছে ভিনিসিয়ুসকে।

  • বার্সেলোনায় যেতে মরিয়া আলভারেজ, আতলেতিকোর ওপর ক্ষুব্ধ

    বার্সেলোনায় যেতে মরিয়া আলভারেজ, আতলেতিকোর ওপর ক্ষুব্ধ

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা আরও স্পষ্ট করেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে ক্লাব ছাড়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট জানিয়েছে, আগস্টের শুরুতেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলভারেজের দাবি, আতলেতিকো কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে কোনো বড় ক্লাব থেকে উপযুক্ত প্রস্তাব এলে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। তবে বার্সেলোনা ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়ার পরও সেটি নিয়ে আলোচনায় বসেনি মাদ্রিদের ক্লাবটি। এতে ক্লাবের অবস্থানে অসন্তুষ্ট আলভারেজ।

    ২০৩১ সাল পর্যন্ত আতলেতিকোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই ফরোয়ার্ডের বাই-আউট ক্লজ ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। ক্লাবটি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় দলবদল প্রক্রিয়া আপাতত অচলাবস্থায় রয়েছে। স্পোর্ট-এর দাবি, পরিস্থিতি বদলাতে এবার নিজেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার কথা ভাবছেন আলভারেজ।

    বিশ্বকাপ চলাকালীনই ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আলভারেজ। তিনি বলেছিলেন, ‘ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে দলবদল সবার জন্যই ভালো হবে এবং আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত অন্য কোনো ক্লাবে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন তিনি। আর্সেনালের আগ্রহের গুঞ্জন থাকলেও সেটি আর এগোয়নি। অন্যদিকে বার্সেলোনার কোচিং স্টাফ আলভারেজকে আক্রমণভাগের জন্য আদর্শ সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বার্সা কেবল তখনই নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবে, যখন আলভারেজ নিজেই আতলেতিকোর বরফ গলাতে সক্ষম হবেন।

    আগামী ১০ আগস্ট দিয়েগো সিমিওনের অধীনে আতলেতিকোর প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তার আগেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন আলভারেজ।

  • ম্যানসিটি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন রদ্রি

    ম্যানসিটি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন রদ্রি

    বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে পারলেন না ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ এনজো মারেস্কা। রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখাতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বল’জয়ী রদ্রি। এরই মধ্যে ৩০ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তাবলি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রিয়াল। এখন শুধু দুই ক্লাবের মধ্যে ট্রান্সফার ফি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো বাকি।

    স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো মিডফিল্ডার রদ্রিকে কিনতে চেয়েছিল পিএসজি-বার্সেলোনাও। দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি নাকি ম্যানসিটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলো। তবে ম্যানসিটি তাঁকে ছাড়তে চায়নি। পেপ গার্দিওলার কাছ থেকে সিটির দায়িত্ব নেওয়া এনজো মারেস্কা রদ্রিকে কেন্দ্র করেই মাঝমাঠ সাজাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারকা এ মিডফিল্ডারের অনীহায় তা সম্ভব হচ্ছে না। স্প্যানিশ এ ফুটবলারের সঙ্গে মাত্র এক বছরের চুক্তি বাকি সিটির। সে কারণে গত এপ্রিলে তাঁকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল সিটি। কিন্তু রদ্রি সাড়া দেননি। তারকা এ মিডফিল্ডার মাদ্রিদে ফিরে যেতে চান। ২০১৯ সালে ম্যানসিটিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মাদ্রিদের অন্য ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে এক বছর ছিলেন। মূলত পরিবারের জন্যই তিনি নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। এ সপ্তাহের শুরুতেই রদ্রির এজেন্ট রিয়াল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে ইংলিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল।

    এখন ট্রান্সফার ফি নিয়ে দুই ক্লাবের সমঝোতার অপেক্ষায় রদ্রি। ধারণা করা হচ্ছে, মোটা ট্রান্সফার ফি হাঁকতে পারে সিটি। তাতেও অবশ্য কাজ হবে না। একে তো মাত্র এক বছর চুক্তি বাকি, তার ওপর রদ্রিও থাকতে চাইছেন না। আর সিটি এরই মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মিডফিল্ডার এলিয়ট এন্ডারসনকে দলে নিয়ে ফেলেছে। বিশ্বকাপে সাড়া জাগানো তরুণ মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও দলে নেওয়ার ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়ে গেছে তারা। তাই রদ্রিকে বিক্রি করে অর্থ জোগাড়ই তাদের লক্ষ্য।

    দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়া হোসে মরিনহোর আগ্রহেই রদ্রিকে দলে নিচ্ছে রিয়াল। পর্তুগিজ এ কোচ মাঝমাঠে রদ্রির মতো সিনিয়র একজনকে নেতা হিসেবে চান। মরিনহোর কৌশলে রদ্রি খুবভাবে ফিট হয়ে যাবেন বলেও ধারণা। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর জন্য এখানে আরও একটি হিসাব আছে। রদ্রিকে দলে নেওয়া মানে ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ছেড়ে দেবে রিয়াল। আরেক ফরাসি মিডফিল্ডার আরেলিও চুয়েমেনিও নিয়মিত খেলার সুযোগ হারাবেন। তাই তিনিও রিয়াল ছাড়তে পারেন। তাদের কেনার জন্য ওত পেতে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো।

  • পেরেজ আবার প্রেসিডেন্ট হলে রিয়ালের নতুন কোচ হবেন মরিনিও

    পেরেজ আবার প্রেসিডেন্ট হলে রিয়ালের নতুন কোচ হবেন মরিনিও

    রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ কে হবেন, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ক্লাবটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আসন্ন নির্বাচনে তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে হোসে মরিনিওকে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বেইন স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ ঘোষণা দেন পেরেজ।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিওর বহুল আলোচিত প্রত্যাবর্তনের পথ উন্মুক্ত হলো। বেনফিকায় দায়িত্ব পালনের পর এবার রিয়াল মাদ্রিদে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ এই কোচ।

    ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ‘আরও ইতিহাস তৈরির পথে’ স্লোগানসংবলিত ভিডিওতে রিয়ালের জার্সি পরিহিত মরিনিওকে দেখা যায়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘হ্যাঁ’।

    রিয়াল মাদ্রিদে মরিনিওর প্রথম মেয়াদ ছিল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। সেই সময়ে তার অধীনে দলটি একটি লা লিগা, একটি কোপা দেল রে এবং একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা জেতে। এছাড়া তার নেতৃত্বেই রিয়াল মাদ্রিদ লিগে ঐতিহাসিক ১০০ পয়েন্ট অর্জনের কীর্তি গড়ে।

    তবে প্রথম মেয়াদে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেননি মরিনিও। ফলে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিলে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব ট্রফিটি জয় করাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    এদিকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় অধ্যায়ে মরিনিওকে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেটি হলো, রিয়াল মাদ্রিদের দুই মৌসুমের শিরোপা খরা দূর করে দলকে আবারও সাফল্যের ধারায় ফিরিয়ে আনা।