হয়রানি

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে হয়রানি বন্ধের দাবি ডাকসুর

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে হয়রানি বন্ধের দাবি ডাকসুর

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। পুলিশ, এনএসআই ও ডিএসবির ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে বহু প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে ‘ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি’ বন্ধ এবং বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়োগের শেষ ধাপে একজন প্রার্থীকে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মধ্যে রাখা অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য। এতে প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার, মেধা ও যোগ্যতার প্রতি অবহেলা করা হয়।

    কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তার সুনির্দিষ্ট, প্রমাণযোগ্য ও আইনসম্মত ভিত্তি থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ব্যাখ্যা ও প্রতিকারের সুযোগ দিতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীকে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে বৈষম্যের কাঠামো দূর করা। প্রায় ১৪শ মানুষের আত্মত্যাগের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পুরোনো বৈষম্যমূলক চর্চার নতুন কোনো রূপ মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

    তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ কোটা-ভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল। এখন ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি কিংবা মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হলে তা নব্য কোটা ব্যবস্থারই নামান্তর হবে। বৈষম্যের পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন নামে বৈষম্যের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নিয়োগের প্রতিটি ধাপের মানদণ্ড, নম্বর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান তিনি।

    বিবৃতিতে ডাকসু প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয় দ্রুত যাচাই করে প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করা, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং অন্যায্যভাবে বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু।