ট্যাগ হ্যান্সি ফ্লিক

  • ৫–০ গোলের জয়েও সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ

    ৫–০ গোলের জয়েও সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ

    দল জিতেছে ৫-০ গোলে। মৌসুমের শুরুটা হয়েছে চার ম্যাচে চার জয়ে। পয়েন্ট টেবিলেও অবস্থান শীর্ষে। কিন্তু এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তাঁর চোখে, এই বার্সেলোনার আরও ভালো করার জায়গা আছে।

    রোববার রাতে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামাল করেছেন জোড়া গোল, গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া, ফেরমিন লোপেজ আর পেদ্রিও। এই জয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে বার্সার মৌসুমটাই শুরু হলো শিরোপার বড় দাবিদার হিসেবে। আগের দিন রিয়াল বেতিসের কাছে হেরে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ আছে পয়েন্ট তালিকার তিনে, মাঝে দুইয়ে আলাভেস।

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফ্লিকের মুখে শুধু প্রশংসাই ছিল না; বরং ৫-০ গোলের জয়ের পরও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিখুঁত বলে কিছু নেই, ‘আজ আমরা দারুণ খেলেছি, প্রায় নিখুঁতই বলা যায়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে ছিল, আমরা আধিপত্য দেখিয়েছি। আমি এটাই চাই। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং জায়গা খুঁজে নেওয়া। আমরা সেটা করতে পেরেছি।’

    এরপরই সতর্ক করেছেন, ‘কিন্তু কিছুই নিখুঁত নয়। সব সময়ই উন্নতির জায়গা থাকে। আমরা আরও ভালো করতে পারি।’

    ভ্যালেন্সিয়ার জালে পাঁচবার বল পাঠিয়েছে বার্সেলোনা

    ভ্যালেন্সিয়ার জালে পাঁচবার বল পাঠিয়েছে বার্সেলোনা এএফপি

    শুধু জয় নয়, বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারও চোখে পড়ছে শুরু থেকেই। চার ম্যাচের তিনটিতেই ৫ গোল করেছে বার্সা। সব মিলিয়ে ১৭ গোল হয়ে গেছে এরই মধ্যে। রাফিনিয়া স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলে করেছেন ৬ গোল। ফেরমিন ও ইয়ামালের গোল ৪টি করে।

    এমন গোল-উৎসবের মধ্যেই অবশ্য বার্সেলোনার একজন প্রকৃত ‘নাম্বার নাইন’ দরকার কি না, সে আলোচনাও চলছে। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজে ছিল বার্সেলোনা। আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজকে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দলে এনেছে তারা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেই বদলি হিসেবে অভিষেক হয়েছে তাঁর।

    তবে জেসুসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বার্সেলোনা এভাবে গোল করতে থাকলে। ফ্লিক অবশ্য একজন স্ট্রাইকার এখনো দরকার মনে করছেন, ‘আমাদের একজন প্রকৃত নাম্বার নাইন দরকার, এটা পরিষ্কার। তবে আক্রমণভাগে আমাদের অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। মাঝমাঠেও আছে, যারা গোল করতে পারে।’

    বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক

    বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক এএফপি

    ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচ দিয়ে বার্সার প্রথম একাদশে অভিষেক হয়েছে রদ্রির। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা এই মিডফিল্ডার এক ঘণ্টা মাঠে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮১টি সফল পাস ছিল তাঁর। রদ্রির প্রশংসায় ফ্লিক বলেছেন, ‘রদ্রি আমাদের দলে আছে, এটা নিয়ে আমরা খুবই খুশি। বল পায়ে সে যা করে, মাঠে যেভাবে খেলে, সবকিছুতেই যুক্তি আছে। বল আমাদের দখলে থাকলে সে দলের কাঠামো ঠিক রাখে, আবার বল ছাড়া সময়েও সাহায্য করে।’

    লা লিগায় বার্সেলোনার পরের ম্যাচ ১৩ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্লিকের দল খেলবে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে।

  • মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই তারকা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৬২ মিনিট খেলেছেন। ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।

    জার্মান কোচের মতে, বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই রদ্রির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতিতেও তার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক।

    ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে রদ্রির প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘সে আমাদের দলে আছে বলে আমরা খুশি। মাঠে বল পায়ে সে যা কিছু করে, সবকিছুর মধ্যেই যুক্তি আছে। আক্রমণে বল পায়ে দলকে কাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি বল ছাড়া অবস্থায়ও সে গুরুত্বপূর্ণ।’

    তরুণ মিডফিল্ডারদের জন্য রদ্রির উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘বার্নালও দারুণ কাজ করছে। তার জন্য এটি একটি ভালো পরিস্থিতি। সে যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে উন্নতি করবে এবং ক্রমেই আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। এই দলবদলের মাধ্যমে আমরাও সেটিই চেয়েছিলাম। রদ্রি অসাধারণ। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেও সে একজন অসাধারণ নেতা। তাকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।’

    এদিকে স্পেন জাতীয় দলেও রদ্রি ও পেদ্রি একসঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বকাপের শুরুতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও পরে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে পেদ্রির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি দুজন একসঙ্গে খেললে কার্যকর হবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

    তবে রদ্রির সঙ্গে খেলা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পেদ্রি। তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে যে আমরা একসঙ্গে ভালো কাজ করি না। কিন্তু রদ্রির সঙ্গে খেলা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের।’

    স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘সে প্রায় কখনোই বল হারায় না, আর সেটা রক্ষণে অনেক সাহায্য করে। আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব এবং যত বেশি ম্যাচ খেলব, আমাদের বোঝাপড়াও তত উন্নত হবে।’