হিজাব

  • এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    বোরকা-নিকাব নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রী সংস্থা। সোমবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে সংগঠনটির নেত্রীরা এসব দাবি উত্থাপন করেন। মানববন্ধনে ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরা বোরকা-নিকাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘আমার পোশাক হিজাব-নিকাব, আমার আভিজাত্য’, ‘ধর্মীয় অবমাননার শেষ কোথায়?’, ‘পর্দা আমার ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার’, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার স্বাধীনতা হতে পারে না’ প্রভৃতি।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চবি শাখা ছাত্রী সংস্থার সেক্রেটারি জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য বোরকা-নিকাবকে বউ বদলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বিরোধী দলীয় নারী সংসদ সদস্যদেরও কটাক্ষ করেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করে না।”

    তিনি আরও বলেন, “একজন সংসদ সদস্য যখন জাতীয় সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেন, তখন দেশের নারী সমাজ ব্যথিত হয়। আমরা তার এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দেশের নারী সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি।”

    মানববন্ধন শেষে সংগঠনের প্রচার সম্পাদিকা তাওফিকা রহমান আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সংসদে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে দেওয়া অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা; জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা; ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে নারীদের প্রতি বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন; দেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।

    এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

    সংগঠনটির নেত্রীরা বলেন, নারীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

  • হিজাব পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা

    হিজাব পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা

    ভারতের টিভি ও রুপালি পর্দার অভিনেত্রী অঙ্কিতা লোখান্ডে। সম্প্রতি স্বামী ভিকি জৈনের সঙ্গে দুবাই ও আবুধাবিতে ছুটি কাটানোর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। ছবিগুলোতে তাকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা যায়।

    মূলত আবুধাবির একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ পরিদর্শনের সময় তিনি হিজাব পরেন বলে জানা যায়। ছবিগুলো পোস্ট করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন অঙ্কিতা। নেটিজেনদের অনেকেই একে ধর্মীয় রীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেত্রীকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।

    তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি অংশ অভিনেত্রীর কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন অঙ্কিতা। যার মধ্যে আবুধাবির একটি বিখ্যাত মসজিদে যাওয়ার ছবিও ছিল। মসজিদের দর্শনার্থী নির্দেশিকা ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে অঙ্কিতা সেখানে প্রথাগত স্কার্ফ দিয়ে নিজের মাথা ঢেকেছিলেন।

    ছবিগুলো সামনে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ অঙ্কিতাকে ট্রল করা শুরু করে। নেটিজেনদের অনেকেই তার এই পোশাকের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিষয়টিকে কদিন আগেই তার সনাতন ধর্মীয় আচার পালনের সঙ্গে তুলনা করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একজন লিখেছেন, ‘এখন ওই মুসলিম নারীদের গিয়ে শাড়ি পরতে বলুন।’

    আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘কিছু হিন্দু সবসময় ধর্মনিরপেক্ষ সাজে, কিন্তু কোনো মুসলিম সেক্যুলার হয় না! এটাই তিক্ত সত্য… কেন হিজাব পরতে হবে?’ অন্য একজন জৈন ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘আপনি একজন জৈন, আর আপনি কী পোশাক পরেছেন একটু তো ভাবুন।’

    তবে তীব্র সমালোচনার বিপরীতে বহু ভক্ত ও সাধারণ মানুষ অভিনেত্রীর পাশেও দাঁড়িয়েছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন, যেকোনো ধর্মের মানুষই হোক না কেন, মসজিদে প্রবেশ করতে হলে মাথা ঢেকে রাখা সেখানকার একটি সাধারণ ও বাধ্যতামূলক নিয়ম। তারা আরও উল্লেখ করেন, অঙ্কিতা শুধু মসজিদের ভেতরেই নিয়ম মেনে স্কার্ফ পরেছিলেন, কারণ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পর তার বাকি ছবিগুলোতে হিজাব ছিল না।

    উল্লেখ্য, হিজাব বা মুসলিম সংস্কৃতি সংক্রান্ত পোশাক পরায় অঙ্কিতা এবারই প্রথম সমালোচনার মুখে পড়েছেন তা নয়। এর আগে ২০২৫ সালেও মুম্বাই বিমানবন্দরে হিজাব পরা এবং ফটো সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ‘আদাব’ বলে অভিবাদন জানানোর কারণে তিনি নেটদুনিয়ায় তীব্র ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন।

    একতা কাপুরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পবিত্র রিশতা’র মাধ্যমে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বিপরীতে অভিনয় করে অঙ্কিতা লোখান্ডে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। পরবর্তীতে ওটিটি ও বড় পর্দায় কাজ শুরু করে তিনি ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’, ‘বাঘি ৩’ এবং ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ এর মতো চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।