আইন-আদালত
হামে আক্রান্ত এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আইন-আদালত
হামে আক্রান্ত এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫টি শিশু।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম–বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে মোট ৭৩৯ শিশু। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৬ শিশুর। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৮৩৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৫ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গজনিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৭০ জন। এ সময়ে ৮১৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৫৫ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৭৪ জনের।
এ সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৮২ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

বর্ষাকালে ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়তে দেখা যায়। এছাড়া বায়ুদূষণ, দীর্ঘদিনের কাশি ইত্যাদি বিষয়ে আজ আমরা হ্যালো ডাক্তার বিভাগে কথা বলব বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঙ্গে।
প্রশ্ন : হামে আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নিউমোনিয়াকে একটি বড় জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার সম্পর্ক কী এবং এটি কেন এতটা প্রাণঘাতী হয়?
উত্তর : হাম হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত শিশুদের হয়ে থাকে। অতীতে দেখা গেছে, ৯ মাস থেকে ৫ বা ৬ বছর বয়সিদের মধ্যে বেশি হয়। হাম হলে শরীরে জ্বর হয়, সর্দি হবে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। তিন থেকে চার দিন পরে শরীরে একধরনের র্যাশ হয়, যেটিকে ফুসকুড়ি বলা হয়। এর সঙ্গে নিউমোনিয়ার সম্পর্ক হলো দ্বিতীয় ধাপে। যাদের হাম হয়, তাদের সেকেন্ডারি ইনফেকশনের মাধ্যমে নিউমোনিয়া হতে পারে। এছাড়া ভাইরাসজনিত রোগে এক ধরনের ফুসফুসের প্রদাহ হয়, যেটিকে আমরা এআরডিএস (ARDS) লাইক সিন্ড্রোম বলি। যখন এআরডিএস লাইক সিন্ড্রোম হয় অথবা নিউমোনিয়া খুব বেশি হয়ে যায়, তখন বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হয়। বাচ্চার অক্সিজেন স্যাচুরেশন বা অক্সিজেন নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, তখন বাচ্চা আস্তে আস্তে খারাপ হয়ে যায়।
প্রশ্ন : বায়ুদূষণ ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে? এ থেকে বাঁচার উপায় কী?
উত্তর : বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন : কাশি হবে, শ্বাসকষ্ট হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদের জন্য সিওপিডি (COPD) অথবা এমফাইসিমা হতে পারে। এর কারণে বয়স্কজনিত দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়; শ্বাসকষ্ট হলে রোগী হাঁটতে হাঁপিয়ে যান। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। এজন্য আমাদের উচিত বায়ুদূষণ রোধ করা। যেসব কারণে বায়ুদূষণ হয়, সেগুলো থেকে আমাদের সবাইকে বিরত এবং সচেতন থাকতে হবে।
প্রশ্ন : দীর্ঘদিনের কাশি হলে কোন লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
উত্তর : প্রথমত, তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে রোগীর যক্ষ্মা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের কাশি হলে তার ব্রংকাইটিস, কাশিজনিত বা শ্বাসকষ্টের রোগীরও বিভিন্ন ধরনের সময় কাশি হয়। আমরা যেটিকে বলি ‘কাফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা’, যদি এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে সেটি হাঁপানি রোগী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রশ্ন : বর্ষাকালে ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শ্বাসকষ্টজনিত রোগ কেন বেড়ে যায়?
উত্তর : ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ারও পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণও হয়। বিশেষ করে, শীতকালে যখন বৃষ্টি না হয়, তখন ধুলাবালি বেশি থাকে। সেখানে পরাগরেণু থাকে এবং সেটিও শ্বাসকষ্টের একটা অন্যতম কারণ। এ ছাড়া বর্ষাকালে বৃষ্টি, ঠান্ডা বাতাস ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। এসব রোগে আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন : এ সময়টায় কোন ধরনের রোগী বেশি পাচ্ছেন?
উত্তর : বর্তমানে আমরা সবচেয়ে বেশি পাচ্ছি ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী, যাদের মধ্যে সর্দি-কাশির উপসর্গও রয়েছে। এ ছাড়া যাদের অ্যাজমা ও সিওপিডি রয়েছে, বর্ষাকালে বৃষ্টি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং রোগের উপসর্গ তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমানে নিউমোনিয়ার রোগীও বাড়ছে। সাধারণ জ্বরের সঙ্গে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও এখন তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২৩ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১৬।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১ হাজার ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২১১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪১ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৮৫১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮০ হাজার ১৯৩ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬১৯ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১২।
আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১৬ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৯ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জনের। সবমিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ১৩৫ জন।
এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে অর্থাৎ একশ একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬ হাজার ৬১ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৮৬ জনের। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর এবং ৫৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৯৪ হাজার ৭৬৪ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১১ হাজার ২৯৭ জন। আর এই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ হাজার ৭১৬ জন। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৯৭১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে রয়েছে। আর ‘সন্দেহজনক’ আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে রোগী পাওয়া গেছে ৪৫৩ জন। এর মধ্যে ৭৬ জনের নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ৩০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৫৭ শিশু এবং সন্দেহজনক হাম মৃত্যু হয়েছে ২৫১ জনের। এরপরেই রাজশাহী বিভাগে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে দুইজনসহ মোট ৯০ জন, সিলেটে তিনজনসহ ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ১০ জনসহ ৬০ জন, বরিশালে ১৯ জনসহ ৫৮ জন, ময়মনসিংহে দুইজনসহ ৫৭ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ২৭ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) দেশে আরও তিন শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১২৫ জন। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬০ জনের।
হামের উপসর্গে তিন শিশু রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে মারা গেছে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৯০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট ৬৮৩ শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৩ হাজার ৭৫৫ শিশুর। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৭১ শিশুর। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ চার হাজার ৯২৬ শিশু।
এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৭৩ হাজার ৯৮৫ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ৮৮৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর হাসপাতাল ছেড়েছে এক হাজার ১৩৬ শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৬৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮৮ হাজার ৮৯৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৬৩৪ জন।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হলেও নিশ্চিত হাম রোগে এ সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৬৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৩ জন।

বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে মহামারি আকারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হাম ও এই রোগের উপসর্গে সংক্রমণের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৫২ শিশু। এত মৃত্যুর জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘সরকারের মিস ম্যানেজমেন্টের জন্যই এত মৃত্যু হয়েছে। যদি ম্যানেজমেন্টটা ভালো করা যেত, তাহলে এত মৃত্যু হতো না।’
তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরও হামকে মহামারি ঘোষণা করে সারা দেশে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি না করাটা সরকারের একটা ‘বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’।
তবে অব্যবস্থাপনার কারণে হামে মৃত্যু বেড়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সেই সঙ্গে দাবি করেছেন, সরকার যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে হামে তুলনামূলক কম শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুহিত বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিন পরেই হামের এটা শুরু হলো। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিতাম, তাহলে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হতো।’
হাসপাতালের পরিস্থিতি এখন কেমন?
সন্তানদের প্রাণ বাঁচাতে গত এক মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন সালমা বেগম ও আব্দুল গণি দম্পতি। তার পরও বাঁচাতে পারেননি প্রথম সন্তান ইব্রাহীমকে। সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে তিন সপ্তাহ আগে মারা গেছে আড়াই বছর বয়সি শিশুটি।
শিশুর মা সালমা বেগম বলেন, ‘শুরুতে ওর জ্বর আর ঠান্ডা ছিল। পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তখন আমরা প্রথমে একটা ক্লিনিকে নিলাম। শ্বাসকষ্ট না কমায় পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। তার পরও আমার বড় ছেলেটারে বাঁচাতে পারলাম না।’
সেই শোক না কাটতেই আরেক ছেলের শরীরেও দেখা দিয়েছে হামের লক্ষণ। তীব্র জ্বর, ঠান্ডা এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা আট মাসের ওই শিশুর প্রাণ বাঁচাতে রাত-দিন এক করে এখন ঢাকার শেরেবাংলা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে পড়ে আছেন এই বাবা-মা।
সালমা বেগম বলেন, ‘বড় বাচ্চাটা কিছুদিন আগে মারা গেছে, আর ঈদের পর এই বাচ্চাটারও গায়ে হাম, ঠান্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট—এগুলা শুরু হইছে। এখন এক সপ্তাহের মতো হইলো আমরা এই হাসপাতালে ভর্তি করছি।’শিশুটির বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। ধার-দেনা করে তিনি ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছেন বলে জানা
ন তিনি।
শিশুর বাবা আব্দুল গণি বলেন, ‘কাছে টাকা-পয়সা যা ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে ছেলের চিকিৎসা করতেছি। কত দিন পারব, কইতে পারি না। দোয়া কইরেন, আল্লাহ যেন সুস্থ করে দেয় আমার ছেলেটারে।’
হাসপাতালে তাদের বিছানার সামনেই আরেকটি বিছানায় মেয়ের সঙ্গে খেলছিলেন সাইমা খান। ফরিদপুর থেকে আসা এই মা জানাচ্ছিলেন গত এক সপ্তাহে কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা নিঃশ্বাস নিতে পারতেছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল খুব। সে কারণে হাসপাতালে আনার পরেই ওরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আশপাশের বেডে বাচ্চারা মারা যাচ্ছে, লাইফ সাপোর্টে নিচ্ছে। এগুলো দেখে আমার মনে অনেক ভয় কাজ করতেছিল। একপর্যায়ে এটাও মনে হচ্ছিল না যে, ও সুস্থ হবে।’
কিন্তু তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখার পর সাইমা খানের মেয়ের শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়।
আমার বাচ্চাটা এখন আল্লার রহমতে ভালোই খাচ্ছে-দাচ্ছে, হাসতেছে-খেলতেছে। মা হিসেবে এই দৃশ্য দেখাটা যে কত শান্তির, বলে বোঝাতে পারবে না’, বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাইমা খান।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার আরো বেশ কিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই হামের ওয়ার্ডগুলোতে রোগী প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ।
রোগীর চাপ আরো অনেক বেশি ছিল। গত সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানান বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আতিকুল ইসলাম।
সরকারের দায় কতটা?
চলতি বছরের মার্চে প্রাদুর্ভাব ঘটার পর গত তিন মাসে হামে ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ইতোমধ্যে পৌনে এক লাখে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে মারা গেছে প্রায় ৩৬ জনের মতো, যাদের বড় অংশই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যথা সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ডা. ইসলাম বলেন,‘ঢাকার বাইরে থেকে কিছু কিছু মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আসতেছে। যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছে, এখন কমপ্লিকেশন ডেভেলপ (জটিলতা তৈরি) করেছে, বিশেষ করে নিউমোনিয়া। এ জন্য আতঙ্ক ও শঙ্কা থেকে ভালো চিকিৎসার জন্য অনেকেই বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকায় আসতেছে। কিছু কিছু রোগি এর মধ্য থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মারা যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম পুনরায় কীভাবে ফিরে এলো এবং এর জন্য দায়ী কারা, সেটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও বিতর্ক হতে দেখা যাচ্ছে।
বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চলমান হাম পরিস্থিতির জন্য বিগত আওয়ামী লীগ এবং অর্ন্তবর্তী সরকার দায়ী।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই হাম সংক্রমণের পেছনে বিগত দুই সরকার দায়ী। প্রতি চার বছর পরপর এমআর টিকার ক্যাম্পেইনিং করার কথা ছিল। কিন্তু ২০২০-এর ডিসেম্বরের পরে তারা সেটি করেনি। এর প্রভাব আমাদের ওপরে এসে পড়েছে।’
হামের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে আগের দুই সরকারের মধ্যে কে কতটুকু দায়ী, সেবিষয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সেই সঙ্গে, হাম পরিস্থিতি কীভাবে এবং কেন এমন পর্যায়ে এলো, তা জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) একটি ‘স্বাধীন তদন্ত’ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে।
কিন্তু প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে ভূমিকা না থাকলেও হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাসেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা এবং এর ফলে যত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য বর্তমান সরকারের দায় রয়েছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা জারি না করা এবং জেলা পর্যায়ে হামের ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারার কারণে মৃত্যু বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম এটা মহামারি ঘোষণা করে দেওয়া বা একটা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার। সেটা করলে সর্বাত্মক একটা ব্যবস্থা নেওয়া যেত সবগুলো ফ্রন্ট থেকে। আর সবগুলো ফ্রন্ট থেকে যদি হামের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করা যেত, তাহলে হাম এত দীর্ঘায়িত হতো না।’
প্রাদুর্ভাবের শুরুতে হামকে মহামারি ঘোষণা করে সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করলে এত বিপুলসংখ্যক শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হতো না বলেও মনে করেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।
ডা. আহমেদ বলেন, ‘শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে সরকার যদি হামকে মহামারি ঘোষণা করতো এবং মিস ম্যানেজমেন্টের বদলে আরো বেশি ফোকাসড ম্যানেজমেন্ট করতে পারতো, আইসিইউ ফ্যাসিলিটিস বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাড়ানো যেত এবং ডাক্তার ও নার্সদের এ বিষয়ে ট্রেনিং দিতে পারতো, তাহলে হাম এত বেশি ছড়াতো না, মৃত্যুও কম হতো।’
সরকার কী বলছে?
বিশেষজ্ঞরা অব্যবস্থাপনার যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি অস্বীকার করেছে সরকার।
কর্মকর্তারা উল্টো দাবি করেছেন, হামের প্রাদুর্ভাবের পরপরও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
‘কিন্তু এত শিশু আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার পরও সরকার কেন হামকে মহামারি ঘোষণা করল না কিংবা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা কেন হলো না?’ প্রশ্ন তোলেন ডা. আহমেদ।
বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও দাবি করেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের চেষ্টার কমতি নেই।
তবে বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করার সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনীতি থাকতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘এটা ইমার্জেন্সি ঘোষণা করলে সরকারের দিক থেকে সত্যিকার অর্থে কোনো ক্ষতি ছিল না। এটা একটা রাজনৈতিক স্ট্যান্ড বা অবস্থান।’
বিষয়টি আরেকটু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘সে অবস্থানটা এরকম যে, আমাদের সময় একটা হেলথ ইমার্জেন্সি বা একটা মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে, এটা আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের দুর্বলতা। কিন্তু আসলে এটা একটা ভুল ধারণা। কেননা এখন পর্যন্ত কেউই বলছে না যে, এই মহামারিটা হওয়ার দায় এই সরকারের। বলতেছে, এটা পূর্বাতন সরকারের।’
ডা. আহমেদ বলেন, ‘কাজেই মহামারি যদি ঘোষণা করা হতো, কিন্তু দায় তাদের হতো না- এটা ধরেই নেওয়া যায়। বরং মহামারি ঘোষণা করার পরে যদি এই অল আউট ইফোর্টস গুলো নিতো, তড়িৎ ব্যবস্থা নিতো এবং খুব দ্রুত মহামারিটাকে থামিয়ে আনতো, মৃত্যু হতে দিতো না এত, তাহলে কিন্তু বরঞ্চ সরকার প্রশংসা পেত এবং তাদের এটা ক্রেডিট হিসেবে গণ্য হতো।
কর্মকর্তারা বলছেন, শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ বলয় বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলার মাধ্যমে হাম পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্য দুই মাস আগে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও এখনও শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যে আবার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে হাম পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সরকারের জন্য সামনের দিনগুলোতে কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় নতুন করে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর মধ্যে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা যাওয়া নয় শিশুর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। দেশজুড়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুই বরিশাল বিভাগের। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে তিনজন ঢাকা, দুজন খুলনা এবং একজন সিলেট বিভাগের।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১ হাজার ৪৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৯ জন।
এ নিয়ে গত ৫৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে।