ট্যাগ হাইকোর্ট

  • আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা যাবে না- হাইকোর্টের রায়

    আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা যাবে না- হাইকোর্টের রায়

    আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হরতাল বা ধর্মঘট কর্মসূচি ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আগের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জৈষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসদ। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. রাফিউল ইসলাম।

    ২০১১ সালের আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি গাড়ির আরোহী তারেক মাসুদ ও মিশুক মনিরসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ড্রাইভারকে সাজা দেন।

    ওই সাজার প্রেক্ষিতে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল ডাকলে এবং তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট করে। ওই রিট শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ রুল জারি করে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান।

    আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে শুনানি শেষে আজ রুল মঞ্জুর করে রায় দেন। আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসিকে।

    আদালত রায়ে বলেছেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।

  • ৮ মাসেই আপিল বিভাগে ১১ হাজার ও হাইকোর্টে ৮৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

    ৮ মাসেই আপিল বিভাগে ১১ হাজার ও হাইকোর্টে ৮৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

    আইন-আদালত ডেস্ক:

    মামলাজট নিরসন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণে নজিরবিহীন গতি ফিরেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে।

    ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই (জানুয়ারি–আগস্ট) আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি এবং হাইকোর্ট বিভাগে সাড়ে ৮৭ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

    রবিবার সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির নতুন নজির: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আপিল বিভাগে মোট ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বিপরীতে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি। ফলে দায়েরকৃত মামলার তুলনায় প্রায় ২ হাজার (১,৯৯৭টি) মামলা বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে।

    বিগত পাঁচ বছরের (২০২১–২০২৫) গড় বার্ষিক নিষ্পত্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার ৯৬টি। অথচ ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই নিষ্পত্তি ছাড়িয়েছে ১১ হাজার। চলতি বছরের আট মাসের মোট ১৩২ কর্মদিবসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৪টি করে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২,৭০৫টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ২,৭২৪টি, মার্চে ১,১০৭টি, এপ্রিলে ১,৩২১টি, মে মাসে ৬৩৮টি, জুনে ১,৩২১টি, জুলাইয়ে ৬৮৭টি এবং আগস্টে ৬৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।

    ফলে বছরের শুরুতে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪১ হাজার ৫৫১টি থাকলেও আগস্ট শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫৪টিতে।হাইকোর্ট বিভাগে বড় অগ্রগতি: হাইকোর্ট বিভাগেও মামলা নিষ্পত্তির গতিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বছরের প্রথম আট মাসে মোট ৮৭ হাজার ৫৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৯৫০টি। বিগত পাঁচ বছরের যেকোনো পূর্ণ বছরের নিষ্পত্তির তুলনায় চলতি বছরের এই আট মাসের নিষ্পত্তির সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে ২০২৫ সালের পুরো বছরের (৫৫ হাজার ৭৫৬টি) তুলনায় চলতি বছরের আট মাসেই ৩১ হাজার ৮৪০টি বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

    চলতি বছরের প্রথম কোয়ার্টারে (জানুয়ারি–মার্চ) ৭ হাজার ৭৩৯টি, দ্বিতীয় কোয়ার্টারে (এপ্রিল–জুন) ২৭ হাজার ৫৬০টি, জুলাই মাসে ৩২ হাজার ২১১টি এবং আগস্টে ২০ হাজার ৮৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। এতে বছরের শুরুতে হাইকোর্টে থাকা ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৬টি বিচারাধীন মামলা থেকে ১২ হাজার ৯৮০টি কমে বর্তমানে তা ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৬টিতে নেমে এসেছে।ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ: নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং সংশ্লিষ্ট আপিলগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।


    চলতি বছরের জুন মাসে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি গঠনের পর এ পর্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২২টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা গুরুতর ফৌজদারি মামলার জট নিরসনে ভূমিকা রাখছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচারিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং মামলাজট ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সুপ্রিম কোর্ট এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

  • এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    একই দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে আরও তিন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন—ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বেলা ৩টার দিকে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    এর আগে সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞাকে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকের সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

  • একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ৩ আইন কর্মকর্তা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

    পদত্যাগ করা ওই ৩ আইন কর্মকর্তা হলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    এর আগে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

    তারও আগে গত জুন মাসে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই সময় পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা যৌথভাবে পদত্যাগ করেছেন।

  • সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টসহ বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ও যৌক্তিক বাজেট বরাদ্দ, বিচারক নিয়োগ এবং দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী।

    জনস্বার্থে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ নাগরিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠান।

    নোটিশে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে।

    নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে প্রায় ৩১ হাজার ১২০টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন ছিল।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে ৬ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০৩ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    এতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৬ হাজার করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আপিল বিভাগে ন্যূনতম ৭ জন বিচারপতি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৪ জন মানুষের বিপরীতে একজন বিচারক রয়েছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ অনুপাতও কম বলে দাবি করা হয়েছে।

    হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বেঞ্চ বাড়ানোর দাবি

    হাইকোর্ট বিভাগে বাণিজ্যিক মামলা নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে মাত্র দুটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।

    অন্যদিকে, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতি থাকলেও বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে একাধিক বেঞ্চ পরিচালনা ও বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের হওয়া মামলার মাত্র ৩৫ শতাংশ এবং আপিল বিভাগে ১৮ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি

    নোটিশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার জায়গা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, লাইব্রেরি এবং ডিজিটাল সুবিধার ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় আদালতের করিডোরে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে এজলাস সংকট ও ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে বিচার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

    নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে বিচারিক কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    বাকি দাবিগুলো হচ্ছে

    – আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা;

    – প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যৌক্তিক বাজেট কাঠামো প্রণয়ন;

    – আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চ গঠন;

    – মামলার সংখ্যা, নিষ্পত্তির হার ও নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় বিচারক ও বেঞ্চের সংখ্যা নির্ধারণ;

    – এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ;

    – বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ বার্ষিক হিসাব প্রকাশ।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক হিসেবে সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে আইনজীবীদের সংবিধান লঙ্ঘন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ ও অবকাঠামোগত সহায়তা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। দেশের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় সুপ্রিম কোর্টের জন্য এ বরাদ্দ অত্যন্ত কম বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    নোটিশে বিচার বিভাগের সামগ্রিক বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, পুরো বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অথচ বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রয়েছে।

    আইনজীবীদের মতে, বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা বিচার বিভাগের জন্য এ ধরনের বরাদ্দ রাষ্ট্রের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রতি অপ্রতুল বরাদ্দের বিষয়টি নতুন নয়। গত দুই দশকে জাতীয় বাজেটের গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কোনো কোনো বছর সুপ্রিম কোর্টের উন্নয়ন খাতেও বরাদ্দ ছিল না বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ও অবকাঠামো বাড়ানো হয়নি। এর ফলে বিচারক ও মামলার সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক মামলা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের জন্য শুধু ব্যয়ের খাত নয়। কোর্ট ফি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প শুল্ক, প্রসেস ফি ও জরিমানার মাধ্যমে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য রাজস্বও যোগ করে। তবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, এটি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    অন্যথায় সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

  • হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

    হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

    আইন-আদালত

    হামে আক্রান্ত এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

    আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    বিয়েতে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেছেন। এতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’-কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে সৃষ্ট ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

    আবেদনে বলা হয়, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান বিয়ের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত এবং যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

    এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত না করে কাবিননামা হালনাগাদে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং নাগরিকদের পারিবারিক জীবন সুরক্ষায় ফরমটি সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না। এ মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

  • দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পরিপত্র জারির নির্দেশ

    দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পরিপত্র জারির নির্দেশ

    দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যে কোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অবিলম্বে একটি পরিপত্র জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত জারি করা এক রুল আংশিক মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইন সংশোধন করে সব দুর্ঘটনার বিষয় নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিধি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম। সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

    রায়ের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে নির্দেশ জারি করে সার্কুলার ইস্যু করেন। সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাইকারীর আক্রমণ বা যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি আসলে তাকে যেন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়; পরবর্তীতে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

    ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট আবেদন দায়ের করে।

  • সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৪টি করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।

    আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।

    এসব রিট আবেদনের পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরমধ্যে আপিল বিভাগ ১৪টি আবেদন নিস্পত্তি করেন। একটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হবে।

    বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতো না।

    তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর অর্থ হচ্ছে ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত ব্যক্তির এজাহারে নাম নাও থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।

    আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আদালতের আদেশ অমান্য করায় শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহাপরিচালক অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ আজাদ খান ও অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১২ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। পরে অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মাদারীপুরের রাজৈর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্য একজন ব্যক্তিকে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আয়ন-ব্যায়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিট পিটিশনে স্থগিত আদেশ থাকার পরও শিক্ষা অধিদপ্তর এই আদেশ স্থগিত করে কোনো চিঠি পাঠাননি। যার ফলে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা। ওই আদালত অবমাননার মামলায় আজ আদালত শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ২ মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান ও প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নানকে স্ব-শরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।