ট্যাগ হলিউড

  • ছোটবেলায় অভিনয় শুরু, তিন দশক পর কারিশমার উপলব্ধি

    ছোটবেলায় অভিনয় শুরু, তিন দশক পর কারিশমার উপলব্ধি

    বলিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর। কিশোরী বয়সে অভিনয় শুরু করা এই তারকা মনে করেন, একজন শিল্পীর শেখার প্রক্রিয়া কখনোই শেষ হয় না। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়াই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় গুণ।

    সম্প্রতি বোম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারিশমা বলেন, ‘অভিনয় মানেই প্রতিদিন নিজেকে বদলে নেওয়া। শুধু প্রতিটি সিনেমা নয়, প্রতিটি দিনই আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে। বিভিন্ন মানুষ ও শুটিং সেট থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এই ধারাবাহিক শেখার মধ্য দিয়েই একজন শিল্পীর বিকাশ ঘটে।’

    মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিনয়জীবন শুরু করেন কারিশমা। তাঁর প্রথম ছবি প্রেম কায়েদি মুক্তি পায় ১৭তম জন্মদিনের মাত্র চার দিন আগে। তাই চলচ্চিত্র অঙ্গনেই তাঁর বেড়ে ওঠা বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    কারিশমার ভাষায়, ‘আমি খুব অল্প বয়সে কাজ শুরু করেছি। তাই ইন্ডাস্ট্রিতেই আমার বড় হওয়া। জীবনের উত্থান-পতন ও অভিজ্ঞতা থেকেই শিখেছি। ধাপে ধাপে এগিয়েছি। যখন পেছনে তাকিয়ে মনে হয় কিছু বিষয় ভিন্নভাবে করা যেত, তখন বুঝি একজন অভিনেতা হিসেবে আমি আরও পরিণত হয়েছি।’

    সম্প্রতি মেন্টালহুড ও ব্রাউন-এর মতো ওটিটি কনটেন্টে কাজ করেছেন কারিশমা। তার মতে, সিনেমা, টেলিভিশন ও ওটিটির কাজের ধরন একেবারেই আলাদা।

    তিনি বলেন, ‘ওটিটি চলচ্চিত্রের চেয়ে অনেক ভিন্ন। আমার কাছে এটি বেশ কঠিন মনে হয়েছে। কারণ, একটি সিরিজে একদিনে হয়তো প্রথম পর্বের দৃশ্যের পাশাপাশি সপ্তম পর্বের দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। তাই কাজের গতি ও পদ্ধতি আলাদা। সিনেমার অভিনেতাদের জন্য ওটিটি নতুনভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়।’

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রামকারিশমা জানান, তিনি কখনোই খুব পরিকল্পনা করে ক্যারিয়ার এগিয়ে নেননি। বরং নিজের ইচ্ছা ও অনুভূতিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

    ‘আমি সব সময় এমন মানুষ ছিলাম যে, কোনো কাজ করতে চাইলে করেছি, না চাইলে করিনি। ক্যারিয়ার নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করিনি। তবে সৌভাগ্যক্রমে অনেক স্মরণীয় সিনেমা ও অসাধারণ চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি,’ বলেন রাজা হিন্দুস্তানি তারকা।

    বর্তমানে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইন্ডিয়াজ বেস্ট ড্যান্সার-এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন কারিশমা। তবে পেশাগত জীবনের অনেক আগেই নাচ তাঁর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল।

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    শৈশবের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ছোট বোন কারিনা কাপুর খানের সঙ্গে সিনেমার গান শুনে বাড়িতে নাচতেন তারা। বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর বড় ভক্ত ছিলেন কারিশমা। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি শ্রীদেবীর বড় ভক্ত ছিলাম। কারিনা আর আমি বাবা-মায়ের সামনে “তাথাইয়া তাথাইয়া, নয়নো মে সপ্না” গানে নাচতাম। নাচ সবসময়ই আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

    অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমাদের পরিবারে নাচের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। শাম্মি কপূর, ঋষি কপূর ও শশী কপূর—প্রত্যেকেরই নিজস্ব নাচের ধরন ছিল। তাই নাচ সবসময়ই আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।’ সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    ঐতিহাসিক ও মহাকাব্যিক গল্পের ক্ষেত্রে হলিউড পরিচালকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় লোকেশন মরক্কোর ওয়ারজাজাত শহর। রিডলি স্কটের সাম্প্রতিক সৃষ্টি ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’সহ অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমার সেট পড়েছে সেখানে। এবার সেই ওয়ারজাজাতকে কেন্দ্র করে ফিল্ম সিটি নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে মরক্কো সরকার। সেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল ফিল্ম প্রোডাকশন হাব, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা সিটি’।

    মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত ২৭ জুন। ওয়ারজাজাত শহরের মূল প্রবেশদ্বারে ২৪ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই সুবিশাল সিনেমা সিটি। মরক্কো সরকার এই প্রকল্পে ২৪০ মিলিয়ন মরোক্কান দিরহাম বিনিয়োগ করছে।

    অ্যাটলাস পর্বতমালা ও সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী এই সিনেমা সিটি মূলত একটি ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একটি সিনেমা বা সিরিজের প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে শুটিং, ভিএফএক্স এবং মুক্তি পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন, তার সবই মিলবে এক ছাদের নিচে।

    এই সিনেমা সিটিতে থাকবে বিশ্বমানের একাধিক সাউন্ড স্টেজ, এডিটিং ও স্ক্রিনিং রুম। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ইমারসিভ প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে আলাদা ডেডিকেটেড স্পেস। স্থানীয় কলাকুশলী ও নতুন প্রতিভার ব্যক্তিদের বিভিন্ন কারিগরি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি শুটিং টিমের আবাসের জন্য আধুনিক হোটেল সুবিধা।

    বর্তমানে হলিউডে সিনেমা নির্মাণের খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় সেখানকার বড় বড় স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কম খরচে উন্নত সুবিধার খোঁজে মরক্কোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে। মরক্কো সরকারও এই সুযোগ লুফে নিতে আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ রিবেট, সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি, শুটিংয়ের যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।

    গত কয়েক বছরে ওয়ারজাজাত শহরে ইন্ডিয়ানা জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’, নিকোলাস কেজের ‘লর্ড অব ওয়ার’-এর সিকুয়েল, ফরাসি ঐতিহাসিক এপিক ‘ডি গল: রেজিস্ট্যান্স’সহ অনেক আলোচিত সিনেমার শুটিং হয়েছে। এর বাইরেও বিশ্বখ্যাত সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর কিছু অংশ এবং মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’-এর মতো ইতিহাস কাঁপানো প্রজেক্টের সেটও বসেছিল সেখানে।

    মরক্কো সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মরক্কোয় শুটিং হওয়া বিদেশি প্রজেক্টগুলো থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। নতুন সিনেমা সিটি চালু হলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।