ট্যাগ হরিপুর

  • প্রধান শিক্ষক নেই হরিপুরের ৩৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    প্রধান শিক্ষক নেই হরিপুরের ৩৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এর সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৯৭টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ফলে একদিকে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নিতে গিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে তাদের।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশনা মানতে অনেকেই অনীহা দেখান। ফলে শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে কাজ করেন, যার প্রভাব পড়ে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হরিপুরে ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদের সংখ্যা ৬৮৭টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত পদ রয়েছে ১৯টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক ৫২৫ জন। সব মিলিয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও সংরক্ষিত পদে শূন্য রয়েছে ১৮১টি পদ।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বকুয়া ইউনিয়নের তাঁতীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় মাস ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, একসঙ্গে প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান সামলাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘একা দুই দিক সামলাতে হচ্ছে। একটা করতে গেলে আরেকটা ঠিকমতো করা সম্ভব হয় না।’

    ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ ও ভুতডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষকের ১৬টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ১৮টি বিদ্যালয়ের এ ইউনিয়নে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।

    প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই এসব পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০২৫ সালে মারা যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুই শিফটে পাঠদান চলছে। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের শীতলপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ বকস সরকার গত তিন মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। দুই দিক একসঙ্গে ঠিকমতো সামলানো কঠিন।’

    প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও।

    বুজরুক গ্রামের বাসিন্দা মহসিম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘এমনিতেই বাচ্চাদের পড়াশোনার উন্নতি নেই। তার ওপর শিক্ষক সংকটে মাঝেমধ্যে ক্লাস না হওয়ার কথাও শোনা যায়। শিক্ষক সংকটে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। তাই বাচ্চাদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করিয়েছি।’

    অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের হলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং অভিভাবকদের একটি অংশ সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    হরিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ‘শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো অচিরেই পূরণ হবে।’