হরমুজ

  • ইরান ও মক্কা চুক্তির দেশগুলো আলোচনা চালাবে, হরমুজে সমাধানের ঘোষণা নেই

    ইরান ও মক্কা চুক্তির দেশগুলো আলোচনা চালাবে, হরমুজে সমাধানের ঘোষণা নেই

    ইরান ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন সদস্য দেশ সোমবার, ২৬ অক্টোবর নিরাপত্তা আলোচনা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি নিয়ে একটি অপ্রকাশিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    স্বাভাবিক চলাচল ফেরানো এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। যৌথ বিবৃতিতে আরও আলোচনার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়নের সময়সূচি নেই।

    ইরান ও আরব উপদ্বীপের মাঝখানে হরমুজ প্রণালি, নাসার টেরা উপগ্রহ থেকে তোলা। পাবলিক ডোমেইন, নাসা, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান সোমবার তেহরানে ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। আয়োজক ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ী।
    • চার দেশের যৌথ বিবৃতিতে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা আছে। কোনো তারিখ, বাস্তবায়নব্যবস্থা বা সমঝোতা নেই। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটনের সম্মতি নিয়ে বৈঠকেই একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গৃহীত হলে চুক্তির দেশগুলো ও কাতার এর নিশ্চয়তা দিতে পারে।
    • অতিথি তিন দেশ আগস্টে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য। এর অধীনে এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
    • হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। জুনে প্রণালি খোলার জন্য করা সমঝোতা স্মারক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে পড়ে। এখন এর শর্ত নিয়ে বিরোধ: ইরান বলছে, প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শেষ করাসহ অন্য শর্ত পূরণ করতে হবে। ওয়াশিংটন এসব শর্ত মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। শনিবার ইরান নিজে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর কথা অস্বীকার করে।
    • সোমবার সকালের লেনদেনে তেলের দাম কমে। ওই সকালের একটি প্রতিবেদনে আগের ২৪ ঘণ্টায় আটটি জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার কথা বলা হয়। যুদ্ধের আগে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ৬০।

    তেহরানে বৈঠক

    বৈঠকের প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান, ইরানের সমর্থনে তা অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গত সপ্তাহে নিজের তেহরান সফরে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সৌদি আরব পাঠায় যুবরাজের ছোট ভাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানকে। তুরস্ক পাঠায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিনকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ছিলেন। আলোচনার আগে অতিথিরা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেখা করেন।

    ইরানের ভাষ্যে আলোচ্যসূচিতে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা, এ বছর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিণতি এবং ফিলিস্তিন ও লেবানন। পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক অনাক্রমণ নেটওয়ার্ক গড়া। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, হুতিদের হামলা, প্রণালি ও অবরোধও ছিল। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সফরের মাধ্যমে নতুন করে উত্তেজনা ঠেকাতে যোগাযোগের পথ খোলা হবে। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে একই বিষয় নিয়ে কাজ করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে।

    পেজেশকিয়ান অতিথিদের বলেন, ইরান আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত এবং অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই মতভেদ মেটাতে চায়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না বলেও তিনি আবার জানান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বৈঠকটিকে অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের গড়া নিরাপত্তা কাঠামোর পথে বাস্তব পদক্ষেপ বলেন। একই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান টেলিভিশন ভাষণে সতর্ক করেন, ইরানে নতুন হামলা অঞ্চলকে সহিংসতার নতুন চক্রে টেনে নেবে। দিনের শেষে রেজায়ী বলেন, এমন সহযোগিতা অনেক আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল।

    আলোচনায় প্রতিরক্ষা চুক্তি

    অতিথি তিন দেশ ৭ আগস্ট মক্কায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। সই করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, সৌদি যুবরাজ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। এর মূলনীতি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা: এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা সবার ওপর হামলা। পাকিস্তান গত সপ্তাহে চুক্তিটি অনুসমর্থন করেছে। সোমবারের বৈঠক নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের অনুসমর্থনের প্রক্রিয়া তখনো চলছিল।

    চুক্তির সদস্যদের জড়িয়ে হামলার পর এই বৈঠক হলো। গত মাসে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা দখলের পর সৌদি আরব তাদের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা বারবার সৌদি তেল স্থাপনায় আঘাত করেছে। সোমবার তারা সৌদি পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলার দাবি করে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সৌদি আরব তা নিশ্চিত করেনি। চুক্তির রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি অক্টোবরের শুরুর দিকে রিয়াদে জরুরি বৈঠক করে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় একমত হয়।

    আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট চুক্তিটিকে ইতিবাচক বলেছেন। মিসরের সংসদ সোমবার ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে অনুমতি দিয়েছে, রিয়াদ চাইলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দিতে। কায়রো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে।

    বৈঠকের বাইরে সমঝোতার শর্ত

    সংঘাতের আট মাসে ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ইরানের নিজের বন্ধ রাখার কারণে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ। লিখিত শর্তগুলো রয়েছে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে: জাহাজ চলাচল ফিরবে, অবরোধ উঠবে, এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। দুই পক্ষ হামলা আবার শুরু করায় কয়েক সপ্তাহেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। এখনো এর শর্ত নিয়ে বিরোধ রয়ে গেছে। সোমবারের বৈঠকের আগে ইরান একটি সীমা জানায়। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করতে তেহরানের শর্ত যুক্তরাষ্ট্র না মানা পর্যন্ত অতিথি তিন দেশের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা হবে না। শর্তের মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া ও তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা আছে।

    ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ৪ অক্টোবর বলেন, স্মারকের সাত শর্ত পূরণ না হলে প্রণালি বন্ধ থাকবে। ১৭ অক্টোবরের বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, অবরোধ, তেল নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতা শেষ হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়ার ইরানের প্রস্তাব বহাল আছে।

    প্রতিবেদনে আসা প্রস্তাবগুলোর প্রেরক ও তারিখ আলাদা। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কূটনীতির চেষ্টায় ট্রাম্পের সম্মতি নিয়ে মুনির সোমবারের বৈঠকে ইরানকে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের জন্য কিছু আছে। গৃহীত হলে চুক্তির দেশগুলো ও কাতার নিশ্চয়তাদাতা হতে পারে। বৈঠকের আগে আল আরাবিয়া জানিয়েছিল, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। শনিবার ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নতুন ইরানি প্রস্তাব পাঠানো অস্বীকার করে। এই অস্বীকৃতি পাকিস্তানি কর্মকর্তার বর্ণিত সোমবার ইরানকে দেওয়া প্রস্তাবের আগের। প্রকাশিত বিবরণে দুটি একই প্রস্তাব কি না, তা প্রতিষ্ঠিত হয় না। আলাদাভাবে ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, অবরোধ শেষ হলে প্রণালি খুলতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    সপ্তাহান্তজুড়ে ট্রাম্প নিজের বক্তব্যে দুই পথই খোলা রেখেছেন। ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৮ অক্টোবর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি সামরিক অভিযান চালাতে পারে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা করলে উপসাগরের সমুদ্রতলের তারে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে তেহরান। ফ্লোরিডার এক সমাবেশেও ট্রাম্প বলেন, তেহরান রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালাতে পারে। এ বছরের ইরানবিরোধী অভিযানের নাম অনুসারে তিনি একে আরেকটি এপিক ফিউরি বলেন। রোববারও তিনি নিজেকে চুক্তি ও নতুন পদক্ষেপের মধ্যে সিদ্ধান্তহীন বলে বর্ণনা করেন। মধ্যস্থতাকারীদের সময়সূচির সামনে দুটি নির্বাচন: ইসরায়েলে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর। চুক্তির দেশগুলো যে অন্তর্বর্তী উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে, তার লক্ষ্য ওই সময়সীমা।

    ২৪ ঘণ্টায় আট জাহাজের চলাচল

    সোমবার সকালের লেনদেনে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে বলে ডিটিএন জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল সময় ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাহাজ পর্যবেক্ষণের তথ্য দিয়ে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় আটটি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। যুদ্ধের আগে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ৬০। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের চলাচলের হিসাব; নিয়মিত দিনে আটটি জাহাজ চলার হার নয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আলাদাভাবে বলেছে, প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর তারা হরমুজ দিয়ে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল বের করতে সহায়তা করেছে। পুঞ্জীভূত তেলের পরিমাণ ও এক দিনের জাহাজের সংখ্যা ভিন্ন সময় ও এককের হিসাব। এগুলো সরাসরি একই কার্যক্রমের পরিমাপ নয়।

    এরপর কী

    • চার দেশ আলোচনা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠকের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
    • ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হয়েছে। আঞ্চলিক কূটনীতির পাশাপাশি ফল ও পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনা চলবে।
    • ওয়াশিংটনকে অবরোধনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তেহরানকে জাহাজ চলাচল ও গ্রহণযোগ্য শর্ত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাকিস্তানি কর্মকর্তার বর্ণিত প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়নি।
    • দ্বিতীয় বৈঠক বা ওই প্রস্তাব গ্রহণের প্রকাশ্য জবাব ঘোষিত আলোচনার পরের পরীক্ষা হবে। আলোচনাকে স্বাগত জানানোর বক্তব্য নিজে থেকে জাহাজ চলাচলের সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করে না। যৌথ বিবৃতিতে এমন কোনো সমঝোতা ঘোষণা করা হয়নি।
  • হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত করল ওমান

    হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত করল ওমান

    হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ চালুর বিষয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছে ওমান।

    সোমবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সালালাহতে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। তবে ‘গঠনমূলক আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরির কথা জানিয়ে বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা আসে এর মাত্র এক দিন আগে বাহরাইন ইরানের সঙ্গে কোনো যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ না নেওয়ার কথা জানায়।

    রোববার রাতে বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দেয় ওমান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গঠনমূলক আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে বৈঠকটি পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং এ অঞ্চলের মানুষের সহযোগিতা ও শান্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণে কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো পরিবেশ তৈরিই এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য।

    ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ঐকমত্যের স্বার্থে আগামীকাল সালালাহতে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য সহায়ক সংলাপ এগিয়ে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    বদর আলবুসাইদি তার পোস্টের সঙ্গে বাহরাইন, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের পতাকা দিয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এসব দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের নতুন তারিখ জানাননি তিনি। কেন বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু বলেননি।

    বৈঠক থেকে সরে দাঁড়ায় বাহরাইন

    ওমান বৈঠক স্থগিত করার এক দিন আগে ইরানকে নিয়ে প্রস্তাবিত আঞ্চলিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয় বাহরাইন।

    শনিবার বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আগে তেহরানের সঙ্গে কোনো যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবে না মানামা।

    হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাহরাইন এই অবস্থান জানায়।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত শুক্রবার জানিয়েছিলেন, ওমানের আয়োজনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ওই বৈঠকে অংশ নেবে তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলবর্তী আটটি দেশেরও বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার লন্ডনভিত্তিক আরবি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদকে বলেন, বৈঠকের ‘মূল এবং প্রকৃতপক্ষে একমাত্র আলোচ্য বিষয়’ হবে হরমুজ প্রণালির নতুন নৌপথ।

    আরাগচি বলেন, নতুন নৌপথের বিষয়ে ইরান ও ওমান একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এতে নৌপথের মানচিত্র এবং এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিও রয়েছে।

    তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওমানের সঙ্গে এই চুক্তির অর্থ কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া নয়।

    বাহরাইনের সঙ্গে ইরানের টানাপোড়েন

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইনও রয়েছে। তেহরান এর আগে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইসা বিমানঘাঁটিও রয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছিল বলে তেহরানের দাবি।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও ইসরাইল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

    এরপর জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ সই করে। তবে পরে হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।এরপর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ওয়াশিংটনের মিত্র আরব দেশগুলোর কয়েকটি স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় আবারও ব্যাপক হামলা চালায়।

  • হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করল ইরান

    হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করল ইরান

    হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে একটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জব্দ করা যানটি হলো ‘ডাইভ-এলডি’। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি একটি বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান (আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল)।

    প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯ ফুট (৫ দশমিক ৮ মিটার) দীর্ঘ এই সাবমেরিনটি সমুদ্রতলে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পানির নিচের কেবল ও পাইপলাইনের মতো অবকাঠামো পরিদর্শনের কাজে ব্যবহার করা যায়।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আমরা মার্কিন ‘সন্ত্রাসী’ বাহিনীর অন্যতম আধুনিক, বুদ্ধিমান ও চালকবিহীন সাবমেরিন আটক করেছি। এই ডুবোযানটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।’

    তবে ইরানের দাবির জবাবে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, একটি পানির নিচের ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল।

    পেন্টাগনের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘চলমান সামরিক অভিযানের সহায়তায় এটি আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল। বিকল হয়ে যাওয়া ড্রোনটি ছিল পুরোনো মডেলের। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা ছিল না এবং কোনো রাডার সরঞ্জামও ছিল না।’

    অ্যান্ডুরিলও তাদের একটি যান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছে।

    অ্যান্ডুরিলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ডাইভ-এলডি একটি ‘অ্যাট্রিটেবল’ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। অর্থাৎ বিপজ্জনক পরিবেশে পরিচালনার বিষয়টি মাথায় রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে যানটি হারানোর সম্ভাবনাও প্রত্যাশিত।’

    সামুদ্রিক বিশাল এলাকাজুড়ে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী পানির নিচে ও পানির ওপর চলাচলকারী চালকবিহীন নৌযানে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এর লক্ষ্য হলো নাবিকদের ঝুঁকিতে না ফেলে তুলনামূলক কম খরচে এসব কাজ পরিচালনা করা।

    অ্যান্ডুরিলের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়েই সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত পানির নিচে কাজ করতে পারে। এটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার (১৯ হাজার ৭০০ ফুট) গভীরতায় ডুব দেওয়ার জন্য তৈরি। মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ-এলডির দাম প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।

    সূত্র: রয়টার্স

  • হরমুজে ২ মার্কিন জাহাজ ও ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা

    হরমুজে ২ মার্কিন জাহাজ ও ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

    আইআরজিসি বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর এর জবাব হিসেবে তারা এসব জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    আইআরজিসি আরো জানায়, তারা আরো ১০টি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে’ লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ‘উসকানি ও সমর্থনে’ হরমুজ প্রণালির একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায়’ প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেছে ইরান।

    আইআরজিসি বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের ‘শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার’ আওতায় রয়েছে।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ইরানের শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ: আইআরজিসি

    ইরানের শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ: আইআরজিসি

    ইরানের শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মেনে নিলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালুর বিষয়টি ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ‘নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত’ রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলেই কেবল গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলবে।

    সারদার মোহেবি বলেন, আমাদের কাছে হরমুজ প্রণালি শুধু একটি অর্থনৈতিক নৌপথ নয়; এটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তিরও একটি উপাদান।

    তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্তগুলো ‘পুরোপুরি মেনে নিতে হবে’ এবং আঞ্চলিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

    মোহেবির ভাষায়, যখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।

    তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি চালুর সিদ্ধান্তকে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা বা সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার সঙ্গে এক করে দেখছে না। বরং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানের নিজস্ব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

  • হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়-ইরান

    হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়-ইরান

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান নির্ধারিত সামুদ্রিক রুট অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অন্যথায় এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের জবাব সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত ও কঠোরভাবে দেবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি আগ্রাসী আমেরিকার খেলার মাঠ নয়; এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্বের অংশ।

    সামরিক বাহিনী তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি রেড লাইন।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জনগণ বা শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেল আবিবে থাকা পোষ্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি তাদের প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে, তবে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে।

    আরাগচির এক্স পোস্টটি ছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া। কাটজ দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।