স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা

  • স্বাস্থ্যকর ভেবে চিনি ছাড়ছেন? বাড়তে পারে ঝুঁকি!

    স্বাস্থ্যকর ভেবে চিনি ছাড়ছেন? বাড়তে পারে ঝুঁকি!

    খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বা শর্করা কমানো সাধারণত স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হলেও, নতুন এক গবেষণা বলছে—চিনি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া সবসময় উপকারী নাও হতে পারে। বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত ‘এন্ডো ২০২৬’ চিকিৎসা সম্মেলনে এ গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাটি মূলত প্রাণীর ওপর পরিচালিত হয়েছে, যেখানে সুক্রোজ বা সাধারণ টেবিল সুগার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়।

    গবেষকরা ইঁদুরের ওপর দীর্ঘ ১৬ সপ্তাহ ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। এ জন্য ইঁদুরগুলোকে দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল।

    প্রথম দলের ইঁদুরগুলোকে কম চর্বিযুক্ত খাবার দেওয়া হয়, যার মধ্যে চিনি (সুক্রোজ) অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দলের ইঁদুরগুলোকেও প্রায় একই রকম কম চর্বিযুক্ত খাবার দেওয়া হয়, তবে তাতে কোনো চিনি ছিল না।

    ১৬ সপ্তাহের এই পুরো সময় জুড়ে উভয় দলের ইঁদুরের শরীরের ওজন প্রায় একই রকম ছিল। তবে বিপত্তি ঘটে অন্য জায়গায়—যারা সম্পূর্ণ চিনিহীন খাবার খেয়েছিল, তাদের শরীরে বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।

    গবেষকদের তথ্যমতে, চিনি থেকে বঞ্চিত ইঁদুরগুলোর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তাদের শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।

    মেটাবলিক ডিসফাংশন বা বিপাকীয় এই কর্মহীনতা ইঙ্গিত করে যে, খাদ্যতালিকা থেকে চিনি সম্পূর্ণ দূর করে দিলে শরীর তার শক্তি প্রক্রিয়াকরণ এবং তা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

    অন্ত্রের স্বাস্থ্যের অবনতি

    বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চিনি বর্জনকারী ইঁদুরগুলোর অন্ত্রে থাকা উপকারি ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি তাদের অন্ত্রে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বৃদ্ধির লক্ষণও দেখা গেছে।

    গবেষকদের মতে, মানুষের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া পুরো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে চিনি একেবারে বাদ দেওয়ার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ার একটি সরাসরি যোগসূত্র থাকতে পারে।

    লিভারেও ক্ষতিকর পরিবর্তন

    বিপাকীয় এবং পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার পাশাপাশি, চিনিহীন খাবার খাওয়া ইঁদুরগুলোর লিভার বা যকৃতেও পরিবর্তন ধরা পড়েছে। গবেষকরা জানান, এই পরিবর্তনগুলো সাধারণত ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা লিভারে চর্বি জমার সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি খাদ্যতালিকা থেকে নির্দিষ্ট কোনো উপাদান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

    প্রয়োজন সুষম খাদ্যতালিকা

    প্রধান গবেষক উল্লেখ করেছেন যে, এই ফলাফলগুলো মূলত একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্যের গুরুত্বকে তুলে ধরে। গবেষণা দলের মতে, কেবল একটি উপাদানকে জীবন থেকে পুরোপুরি বাদ দিলেই শরীর সুস্থ হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়; বরং এটি শরীরের মেটাবলিক সিস্টেমে উল্টো ও অপ্রত্যাশিত ধাক্কা দিতে পারে। সুক্রোজ সম্পূর্ণ বাদ দিলে তা উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার গঠনকে ব্যাহত করে, যা সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

    তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যেহেতু এই গবেষণাটি প্রাণীদের (ইঁদুর) ওপর করা হয়েছে, তাই এর ফলাফল এখনই সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না। যারা চিনি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রভাব পড়ে কিনা, তা নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা গবেষণার প্রয়োজন।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—ভবিষ্যতের ডায়েট চার্ট বা খাদ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলো শুধুমাত্র চিনি বর্জনের ওপর জোর না দিয়ে সামগ্রিক পুষ্টির ভারসাম্য, স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার ওপর ফোকাস করা উচিত।

    অতিরিক্ত চিনি খাওয়া অবশ্যই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তবে সব পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ বর্জন করা হয়তো সেরা কৌশল নাও হতে পারে। বরং পরিমিতিবোধ এবং একটি সুষম খাদ্যতালিকাই দীর্ঘমেয়াদে ভালো স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে।

  • বর্ষায় পিছলে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন

    বর্ষায় পিছলে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন

    বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রীষ্মের উত্তপ্ত প্রকৃতি হয় শান্ত। তবে এর সাথে সাথে বিপদের ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পিচ্ছিল থাকায় হঠাৎ করে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিসহ যাতায়তে নানা বিড়ম্বনা দেখা দেয়।

    পিছলে পড়লে অনেকের ক্ষেত্রে আঘাত সামান্য হলেও, বয়স্কদের জন্য তা অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। ভারতের পুনের অ্যাপোলো হাসপাতালের কনসালটেন্ট অর্থোপেডিকস এবং স্পোর্টস ইনজুরি ও রোবোটিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বিশেষজ্ঞ ডা. নিশিত জয়ন্ত শাহের মতে, বর্ষাকালে পড়ে যাওয়ার ফলে দ্রুত চিকিৎসা না করালে হাড় ভাঙা, লিগামেন্টের আঘাত এবং দীর্ঘমেয়াদী চলাফেরার সমস্যা হতে পারে।

    বর্ষাকালে তরুণরা কেন প্রায়ই লিগামেন্টের আঘাতে ভোগেন

    বৃষ্টির পানি রাস্তা, সিঁড়ি, ফুটপাত এবং খেলার মাঠ পিচ্ছিল করে তুলতে পারে। এর ফলে, শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা বর্ষাকালে প্রায়শই গোড়ালি মচকানো, হাঁটুর আঘাত এবং পা মচকে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার শিকার হন।

    ডা. শাহ বলেন, গোড়ালি মচকানো বর্ষাকালে হওয়া সবচেয়ে সাধারণ আঘাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। অসমতল পৃষ্ঠ এবং পিচ্ছিল মাটির কারণে পা অপ্রত্যাশিতভাবে মোচড় খেতে পারে।

    তার মতে, দৌড়ানোর সময় বা খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন করলে হাঁটুর লিগামেন্টে আঘাত লাগতে পারে। বর্ষাকালে রাস্তার ঘর্ষণ কমে যাওয়ায় মোটরসাইকেল এবং সাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে

    জোড়ের চারপাশে ব্যথা
    ফোলাভাব
    হাঁটতে অসুবিধা
    অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
    কালশিটের দাগ
    অস্থিরতা বোধ করা

    বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি কেন
    বয়স্কদের জন্য ,সামান্য পিছলে পড়ে যাওয়াও দ্রুত একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

    বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেশি শক্তি স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়, ভারসাম্য কম স্থিতিশীল হয়ে পড়ে। বয়স্করা হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেলে তা সামলে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।

    ডা. শাহ বলেন, বর্ষাকালে বয়স্ক রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর আঘাতগুলোর মধ্যে হিপ ফ্র্যাকচার অন্যতম।

    ডা. শাহ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন-
    ভালো গ্রিপযুক্ত জুতো পরুন
    যখনই সম্ভব হ্যান্ডরেল ব্যবহার করুন
    ভেজা জায়গায় সাবধানে হাঁটুন
    পিচ্ছিল সিঁড়িতে তাড়াহুড়ো করবেন না
    পড়ে যাওয়ার পর, আঘাত সামান্য মনে হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
    শক্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখতে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন
    তিনি বলেন, বর্ষাকালে পড়ে যাওয়া প্রাথমিকভাবে সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। বেশিরভাগ আঘাতেরই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব
    বর্ষাকালে হওয়া অনেক আঘাত বিশ্রাম, ওষুধ এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সামলানো যায়। তবে, গুরুতর ফ্র্যাকচার বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

  • লাল আলুর স্বাস্থ্য উপকারিতা

    লাল আলুর স্বাস্থ্য উপকারিতা

    সাধারণ সাদা আলুর পাশাপাশি লাল আলুও আমাদের দেশে সহজলভ্য। সাদা আলুর মতোই এটি রান্না, সিদ্ধ কিংবা বেক করে খাওয়া যায়। তবে লাল আলুর খোসায় সাধারণ আলুর চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এ কারণে খোসাসহ লাল আলু খেলে বেশি উপকারিতা মেলে।

    নিয়মিত লাল আলু খেলে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা মিলবে তা জানানো হয়েছে ‘হেলদি বিল্ডার্জড’ এর এক প্রতিবেদনে।

    শক্তি বৃদ্ধি
    লাল আলু জটিল শর্করার চমৎকার উৎস। এটি কোষকে শক্তি জোগায়।

    মানসিক চাপ কমায়
    আজকাল মানসিক চাপে থাকা একটি সাধারণ ব্যাপার। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ায়। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত লাল আলু খেতে পারেন। কারণ এটি মানসিক চাপ কমানোর জন্য উপকারী বি ভিটামিনের একটি চমৎকার উৎস।

    উচ্চ রক্তচাপ কমায়

    লাল আলু কলার মতোই পটাশিয়ামের একটি অসাধারণ উৎস। নিয়মিত লাল আলু খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
    লাল আলু ভিটামিন সি-এরও একটি চমৎকার উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। আপনি যদি প্রায়ই সর্দি বা ফ্লুতে আক্রান্ত হন তাহলে নিয়মিত লাল আলু এবং অন্যান্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান। তাহলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

    ওজন কমায়
    আপনার খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে আলু—তা লাল হোক বা অন্য যেকোনো রঙের—অন্তর্ভুক্ত করলে তা অবাঞ্ছিত ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারণ এগুলো চর্বিহীন এবং ফাইবারে ভরপুর খাবার।

    কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায়
    লাল আলুর মতো ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে।

  • করলা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশি খেলেই বিপদ!

    করলা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশি খেলেই বিপদ!

    ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি করে করলা খান। কখনো জুস করে আবার কখনো করলার ভাজি বা তরকারি খেয়ে থাকেন। ডায়াবেটিক রোগী ছাড়াও গরমে আরাম পেতে অনেকেই উচ্ছে বা করলার তরকারি ও ঝোল রাঁধেন। এই সবজি অনেক উপকারী, তবে বেশি করলা হতে পারে বিপদের কারণ। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দুস্থান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশি করলা খাওয়ার অভ্যাস লিভার ও অন্ত্রের মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

    বেশি করলা খেলে যেসব ক্ষতি হতে পারে

    রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া
    উচ্ছে বা করলার বড় গুণ হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত সুগারের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাত্রায় করলা, উচ্ছে বা উচ্ছের রস খান, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’। এর ফলে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, শরীরে কাঁপুনি, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। এমনকি রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন।

    লিভার বা যকৃতের ক্ষতি
    উচ্ছে ও করলায় ‘মোমোরচারিন’ নামক এক ধরণের প্রোটিন থাকে। অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে এই উপাদানটি লিভারের এনজাইমগুলোর ক্ষরণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকরা একে লিভার টক্সিসিটি বা যকৃতের ক্ষতি বলে থাকেন। ডায়রিয়া ও পেটের তীব্র সমস্যা
    উচ্ছেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ল্যাক্সেটিভ উপাদান থাকে। তবে অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে পাকস্থলীর কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে পেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা, বদহজম, গ্যাসের সমস্যা এবং বারবার পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।গর্ভবতী নারীদের জন্য ক্ষতিকর
    গর্ভবতী নারীদের জন্য উচ্ছে অতিরিক্ত খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। উচ্ছের মধ্যে থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান জরায়ুকে সংকুচিত করতে পারে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তপাত শুরু হতে পারে এবং চরম ক্ষেত্রে গর্ভপাতের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়েটে উচ্ছে রাখার আগে অবশ্যই গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায়

    বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায়

    বর্ষাকাল প্রকৃতির জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য নানা ধরনের ঝুঁকিও নিয়ে আসে। বিশেষ করে নারীরা এ সময়ে সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ত্বকের সংক্রমণ, প্রস্রাবের সংক্রমণ, ছত্রাকজনিত রোগ, ডেঙ্গু, মশাবাহিত রোগ এবং পুষ্টিজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হতে পারে। তাই বর্ষাকালে নারীদের প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা ও স্বাস্থ্যচর্চা।সকাল : দিনের শুরু হোক স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে

    ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই এক থেকে দুই গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে।

    সকালের নাশতায় পুষ্টিকর খাবার, যেমন ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার রাখা জরুরি। বর্ষাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, যেমন আমলকী, পেয়ারা, মাল্টা ও লেবু উপকারী। বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, কারণ এসব স্থানে মশার বংশবিস্তার ঘটে।

    কর্মস্থল বা বাইরে যাওয়ার সময়

    বৃষ্টি হলে ভেজা কাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকা উচিত নয়। ভেজা পোশাক দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। সম্ভব হলে অতিরিক্ত কাপড়, ওড়না বা স্কার্ফ সঙ্গে রাখা ভালো। পা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি ও দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই বাইরে থেকে ফিরে পা সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকনো রাখতে হবে।

    বাইরের খোলা খাবার, কাটা ফল, অপরিষ্কার শরবত বা দূষিত পানি এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ বর্ষাকালে খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

    দুপুর : খাদ্য ও বিশ্রামে সচেতনতা

    দুপুরের খাবারে ভাত, মাছ, ডাল, শাকসবজি ও সালাদের সমন্বয় থাকা উচিত। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে হজমজনিত সমস্যা কম হয়। খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। এটি ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

    বিকাল : শরীরচর্চা ও মানসিক সুস্থতা

    অনেকে বর্ষাকালে ঘরে বেশি সময় কাটান, ফলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে। ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক ও জীবাণুর বৃদ্ধি বেশি হয়, যা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক সুস্থতার জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির বা সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণ উপকারী।

    সন্ধ্যা : পরিচ্ছন্নতার বিশেষ যত্ন

    বাইরে থেকে ফিরে হাত, মুখ ও পা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজন হলে গোসল করা উত্তম।

    বর্ষাকালে নারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ত্বক ও পায়ের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। সামান্য ক্ষত বা সংক্রমণও অবহেলা করা যাবে না।

    রাত : সুস্থ ঘুম ও রোগ প্রতিরোধ

    রাতের খাবার হালকা ও সহজপাচ্য হওয়া উচিত। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করা ভালো। ঘুমানোর আগে মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

    বর্ষাকালে নারীদের সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি

    ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)

    কম পানি পান, দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরা এবং অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

    ছত্রাকজনিত সংক্রমণ

    শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থান, পায়ের আঙুলের ফাঁক ও গোপনাঙ্গে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। শরীর শুকনো রাখলে ও পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে।

    ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ

    জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ত্বকের সমস্যা

    অ্যালার্জি, ঘামাচি, চুলকানি ও বিভিন্ন ত্বকসংক্রান্ত সংক্রমণ বর্ষায় বেশি দেখা যায়। পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পোশাক নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করাই উত্তম।

    পরিশেষে বলা যায়, বর্ষাকালে নারীর সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, বিশুদ্ধ পানি পান, মশা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক প্রশান্তি। দিনের প্রতিটি সময় সচেতনভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বর্ষার সাধারণ রোগব্যাধি থেকে অনেকাংশে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • মুখে ঘা কেন হয়?

    মুখে ঘা কেন হয়?

    মুখে ঘা কেন হয়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    মুখে ঘা বা আলসারের সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভোগেন। দেখতে ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও এটি দৈনন্দিন জীবনে বেশ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একবার মুখে ঘা হলে কথা বলা, খাবার খাওয়া এমনকি প্রিয় ঝাল খাবার উপভোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দ্রুত আরাম পেতে নানা ধরনের ঘরোয়া ও চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নেন ভুক্তভোগীরা।

    সাধারণত মুখের ঘা এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। এ কারণে অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবহেলা কখনো কখনো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

    ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনিকেত মুলে জানিয়েছেন, মুখের ঘা সব সময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুরুতর কোনো রোগ বা স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইঙ্গিত বহন করে। তাই ঘন ঘন মুখে ঘা হওয়া বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    মুখে ঘা হওয়ার কারণ: মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মুখে এ ধরনের ঘা হয়ে থাকে। আবার খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গালে বা জিভে কামড় লাগা, অতিরিক্ত ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া, শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এবং শরীরে ভিটামিন বা পুষ্টির কিছুটা অভাব থাকলেও এ ধরনের ঘা হয়ে থাকে।

    কোন কোন রোগের কারণে এমন হতে পারে: মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য অনেক সময় শরীরের ভেতরের বিভিন্ন গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। যেমন, বারবার মুখে ঘা হওয়া শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন বা ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার (ইমিউন ডিজঅর্ডার) সমস্যা থাকলে, মেটাবলিক কন্ডিশন বা অন্য কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্রনিক রোগের সংকেত হিসেবেও মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।

    কখন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হবেন: এ ব্যাপারে চিকিৎসক অনিকেত জানিয়েছেন- মুখের ঘা যদি দু-এক সপ্তাহের মধ্যে মিলিয়ে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু ঠিক না হয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। যেমন- মুখের ঘা যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং তা যদি না কমে। আবার ঘা যদি বারবার হতে থাকে বা আকারে বেশ বড় হতে থাকে। ঘা থেকে রক্ত বের হতে থাকলে। এছাড়া ঘা হওয়ার পর যদি ক্রমশ মুখে ব্যথা, খাবার গিলতে অসুবিধা, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।সঠিক চিকিৎসা: অনেকেই মুখে ঘা হলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে নিকটস্থ কোনো ফার্মেসি বা দোকান থেকে জেল বা ঘরোয়া টোটকা পালন করেন। এসবে সাময়িক সময়ের জন্য স্বস্তি মিললেও পরিপূর্ণ সুস্থতা পাওয়া যায় না। ফলে পরবর্তীতে সমস্যা জটিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘার স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ঘা ঠিক হওয়ার পরিবর্তে যদি বাড়তে থাকে বা জটিলতা দেখা দিতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।