ট্যাগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে

    সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’।

    আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার পলাশী মোড়ে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই “সবার আগে বাংলাদেশি”। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’

    অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’; এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন। আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।’

    সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।’

    তিনি বলেন, ‘সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবী রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

    ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সচরাচর “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি “সাম্প্রদায়িক” শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।’

    মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ‘হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    উল্লেখ্য, জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

  • ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হতে আরও সময় লাগবে, তবে বর্তমান চিত্র অনুযায়ী আমরা সন্তুষ্ট।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো, এটা হচ্ছে আমাদের সরকারি সূত্র। আপনারা চাইলে যাচাই করতে পারেন। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। এসব তথ্যের সঙ্গে আগের বছরের পরিসংখ্যান তুলনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

    অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের বিরোধ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কারও কাছে ভিন্ন কোনো পরিসংখ্যান থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশকে দিতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিটি জেলা থেকে মাসিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংকলন করে সারাদেশের অপরাধচিত্র তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

    সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।’

    ছিনতাইকারীরা এখনো সক্রিয়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ছিনতাইয়ের প্রবণতা এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে।’

    বাহিনীর ভেতরে থাকা কিছু পুলিশ সদস্য সরকারকে বিব্রত করতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গোপনে বাধা দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে হবে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সেখান থেকেও বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়। আপনার কাছে তথ্য থাকলে দেন, আমরা যাচাই করবো।’

  • গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিনকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে।

    আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

    ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর থেকে দিবসটি পালনের সূচনা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো-‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাও’ (প্রথমে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ)।

    ‘গুম প্রতিরোধ’ দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে আজ সামনে এসেছে দেশের সবচেয়ে আলোচিত গুমের ঘটনাটি। অনেকেরই জানার আগ্রহ-ঠিক কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে, কোন জায়গা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল?

    ঢাকার উত্তরায় যার ফ্ল্যাট থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম হয়েছিলেন তিনি বাসসকে সেই ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬ জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়।

    তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাখে কড়া নজরদারিতে। ৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতাকে এক এক করে গ্রেপ্তার করে চলেছে সরকার।

    এরই মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই অবস্থায় যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    সেই দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং গুম করে রাখে। ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তার সন্ধান মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

    গুম হওয়ার আগে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন-সেই নির্মম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী সালাহউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়ার মিয়াবাড়ির কৃতী সন্তান সৈয়দ হাবিব হাসনাত সে সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    সৈয়দ হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে এবং সন্দেহজনক সব জায়গায় হন্যে হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি গুলশানে নানা কায়দায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান করে এবং স্থান বদল করে দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তার গুলশানে অবস্থানের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে যায়; যদিও তিনি ঠিক কোন বাড়ি বা কোন ফ্ল্যাটে আছেন, তা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাকে ধরে ফেলবে-এমনটাই ছিল পরিস্থিতি।’

    তিনি বলেন, ‘গুলশানকেন্দ্রিক গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিন ভাই দলের পরামর্শে দ্রুত এলাকা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। আমি তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, গুলশানে তিনি যেখানে থাকেন, তার কিছুটা দূরেই ছিল আমার অফিস। দল ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাকে স্থান বদলের জন্য বিকল্প কয়েকটি জায়গার কথা বলা হলে, তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটেই যাওয়ার মনস্থির করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত শেষ দিন, দুপুরে লাঞ্চ করতে যাব-এমন সময় সালাহউদ্দিন ভাই ফোন করলেন। তিনি বললেন, দ্রুত গুলশান থেকে সরে পড়তে হবে এবং তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনাকে আমিই নিয়ে যাব। সন্ধ্যার পরই আসব, প্রস্তুত থাকবেন।’

    ‘কথামতো বিকেল ৫টার দিকে আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। গুলশানে তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, তা আমরা খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানত না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী এবং দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা শুধু বিষয়টি জানতেন। আমি ওই বাড়ির কিছুটা অদূরে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম, পাশে একটি মিষ্টির দোকান আছে, তুমি গিয়ে মিষ্টি খাও। কারণ, ড্রাইভারকে তো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি নিজে ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে বাড়িটির নিচে গেলাম এবং সালাহউদ্দিন ভাইকে ফোন করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেমে এলেন, তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। তাদের দুজনকে পেছনের সিটে বসিয়ে আমি উত্তরার উদ্দেশে গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। উত্তরা যাওয়ার পথে এমন সব রুট বেছে নিলাম, যেদিকে কোনো পুলিশের চেকপোস্ট ছিল না। তাদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যার কিছু পর উত্তরার বাড়িতে পৌঁছলাম। সেখানে তো দারোয়ানদের জানতে দেওয়া যাবে না। তাই সেখানে দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ডেকে বললাম, আমি তো ওপরে যাচ্ছি, তুমি আমার জন্য দুই প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো, আমি গেটেই দাঁড়াচ্ছি।’

    ‘দারোয়ান বাইরে পা রাখা মাত্রই আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম-সালাহউদ্দিন ভাই এবং তাবিথ নেমে গেলেন। বললাম, দ্রুত অমুক তলার অত নম্বর ফ্ল্যাটে উঠে যান। সেখানে একজন বাবুর্চি ও সহকারীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, তাদের বলে দিলাম-‘মেহমান এখানে থাকবেন, সব ধরনের সেবাযত্ন তোমরা করবে।’ এরপর অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠলাম। তারপর সেই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন ভাই দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকলেন। আন্দোলন চলছিল, সরকারও তাকে খুঁজছিল-এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল।’

    হাবিব হাসনাত বলেন, ‘১০ মার্চ আমি উত্তরায় যাই। সন্ধ্যার পর উত্তরা এলাকার প্রতিদিনের দৃশ্যপট কেমন, তা আমার ভালোভাবেই পরিচিত। সেদিন উত্তরা এলাকায় ঢোকার পর থেকেই একধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলাম; কিছু সড়কের বাতি নেভানো, কোথাও কোথাও এক গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে কোনো মানুষের দেখা মিলছে না। আবাসিকের দোকানপাটগুলোও বন্ধ। এলাকার ভেতরে কয়েকটি খেলার মাঠ আছে, যেগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই তরুণরা খেলাধুলা করে, কিন্তু আজ দেখলাম সেখানেও কেউ নেই! আমার মনে দারুণ এক খটকা লাগল। বাড়ির অদূরে যেতেই দেখা গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থান। আমি সাহস সঞ্চয় করে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। দারোয়ানটাকে খুব মনমরা দেখলাম, কিন্তু সে কিছু বলল না। ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়েই চমকে উঠলাম-দরজা ভাঙা! আমাকে দেখেই ভেতর থেকে হাউমাউ করে কেঁদে সামনে এল বাবুর্চি আর সহকারী। তারা দুজন কাঁদতে কাঁদতে বলল, মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে!’

    ‘আমি ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি যদি ধরা পড়ি, আমাকেও গুম করা হবে-সেটা বুঝতে বাকি রইল না। আবার আমি যদি বাইরে না থাকি, তাহলে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের আসলে কী ঘটেছে, তা বলারও কেউ থাকবে না। এই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। আমার ভিসা করা ছিল; ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার স্ত্রী থাকত, তাকে সে অবস্থাতেই সঙ্গে নিয়ে এক কাপড়ে এয়ারপোর্টে চলে গেলাম, আমার সহযোগীরা দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা করল। বিমান যখন দুবাই এয়ারপোর্টে, তখনই উত্তরা থানার ওসির ফোন পেলাম-তিনি আমাকে খুঁজছেন!’

    হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘আমেরিকায় বাঙালি কম থাকে-এমন একটি এলাকায় গিয়ে উঠলাম। সেখান থেকে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। এরই মধ্যে সরকারের তরফে সালাহউদ্দিন ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলো। ভাবী হাসিনা আহমদ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়নি, বরং তিনি ‘আত্মগোপনে গেছেন’-এমন অপপ্রচার চালিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে একদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে বললেন, আমি যেন আমেরিকা বা দুবাইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। সংবাদ সম্মেলন করে বলি যে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, তিনি আমার ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। আমিও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম; কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বলা হলো-“চুপ! একদম চুপচাপ থাকবেন। যদি একটি কথাও বলেন, তাহলে চিরজীবন আর দেশেও আসতে পারবেন না।’ এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হলো! এই কারণে আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এভাবেই আমেরিকার মাটিতে কেটেছে আমার অনেক দিন।’

    তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমি নিজেও সে সময়ে জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে, তারুণ্যের রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে আমরা সেই জালিমের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখন আমাদের সবার উচিত বিভেদ-বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব-কথাটি আমাদের সব সময়ই মনে রাখতে হবে।’

    ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা

    সালাহউদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তাঁর দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের খোঁজে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় র‌্যাব (উল্লেখ্য, সেই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক সৈয়দ হাবিব হাসনাত)। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। এর মাঝে একাধিকবার তাঁর গুলশানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বাসার গেটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পাহারা বসানো হয়েছিল।

    ১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিকে (প্রথম আলো ও নিউ এজ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সালাহউদ্দিনকে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নিয়ে গেছে, এ বিষয়ে ওই এলাকায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পত্রিকা দুটির কাছে এর বর্ণনা দিয়েছেন।’

    উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যম সে সময় প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। ওই পিকআপে আসা সদস্যরা সেখানে কর্তব্যরত ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কটির অবস্থান জানতেও চেয়েছিলেন। ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।

    তবে ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে একধরনের উপহাস করে আসছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। সে বছর ১৪ মার্চ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাকে (সালাহউদ্দিনকে) অ্যারেস্ট করার জন্য খুঁজছি। তিনি কোথায়, তার জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে। সালাহউদ্দিন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই জানে, তিনি ওখান থেকেই (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাঁকেও কোথাও পাচার করে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে।’

    এরপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন-এমন ইঙ্গিত করে বা সরাসরি উল্লেখ করে ঢালাও বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদের খোঁজ মেলার পরও সেই বক্তব্যের রেশ থামেনি।

    ওইদিনই (১৩ মে) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা (প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়-এটি আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস নয়। এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে-এই আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশেই করা হয়েছে।’

  • কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটিকে তিনি বিশ্বব্যাপী লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    নিজে গুমের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে গুমের শিকার হওয়ার পর এই আইন দুর্বল হোক, সেটা কী চাইতে পারি?’ তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না।

    বিরোধী দলের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও ওয়াকআউটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। বরং সব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো কিছু না বলে বা না শুনে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের বক্তব্য থেকে বঞ্চিত হবে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তুলনায় গুমবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। গুমের শিকার ব্যক্তিরা মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

  • অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করতে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

    অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

    এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুট হওয়া টিয়ার গ্যাসের শেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীদের ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

    তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল করা অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দেওয়া হলে সেগুলোকে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ধরনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    অপরাধ দমনে পুলিশের জবাবদিহির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের সব মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং, উলটোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় এআই ক্যামেরার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপন করা এআই ক্যামেরায় কোনো ভুল বা ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    তিনি বলেন, মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটি মালিকপক্ষ থেকে হোক বা শ্রমিকপক্ষ থেকে সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। এতে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমে আসবে।

    থ্রি হুইলার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের কোনো মহাসড়কেই থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না। কোনো অবস্থাতেই তারা মহাসড়কে উঠতে পারবে না। মহাসড়কে উঠলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নতুন চালু হওয়া অটো ফাইন সিস্টেমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, উলটোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করবে এআই ক্যামেরা। আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য ও জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে।

    এতে অপরাধের ধরন ও জরিমানার পরিমাণও জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

    হাইওয়ে পুলিশের প্রত্যাশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা ট্রাফিক আইন প্রয়োগকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং আইন মানার প্রবণতা বাড়বে।

    সড়ক দুর্ঘটনা কমাতেও এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে হাইওয়ে পুলিশ। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চলাচল ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এতদিন মহাসড়কে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে পুলিশের সরাসরি নজরদারি ও মামলা করার ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জবাবদিহিতা ও নজরদারি আরও বাড়বে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সম্প্রতি ভারতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী।

    শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ভারতের মুখপাত্র বলছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াটা সমর্থন করে? এইভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ আমরা পারস্পরিক সম্পর্ক রাখব। আমাদের এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে আন্তঃনির্ভরশীলতা আছে, এটিকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।

    তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে পারস্পরিক সম্মান-মর্যাদা, সমান সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই নয় আপনারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটো বিপরীতমুখী। আশা করি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

    তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে- তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাহউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারে, হাসিনার দোষ কী? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে। আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে। এটা হচ্ছে হাসিনার সাথে আমাদের ব্যবধান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিলেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গিয়েছেন এবং এয়ারপোর্টে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম আছে। আমাদের বস্তাবন্দী করে হাত-পা, চোখ বেঁধে তারপর বস্তাসহকারে ওখানে ফেলে দিয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪০০ এরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন, সেখানে নারী-শিশুর হার ছিল ১৩-১৪ শতাংশ এবং আসমান থেকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করেছেন। এরপরেও কি তাকে ডেমোক্রেটিক কালচারের কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি? এই প্রশ্ন আমার রইল।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলেছি। আর্টিকেল ৪৭ অনুসারে সেই আইনটা করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টে সেটা আছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ী সময়ের জন্য স্থগিত হবে কি হবে না এই বিধানগুলো সেখানে দেওয়া আছে। তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কিনা সেটাও ওখানে বলা আছে সেই আইনে। তদন্ত হচ্ছে, আমরা আশা করব সে তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো এখন ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারগুলো চলবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নাই। বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখপ্রকাশ করেননি। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে। যদি অপতৎপরতা এবং মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হতো, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

  • হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের অনেকে।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলা সুযোগ দেওয়া হলো।’

    ‘বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিলে’—এই প্রশ্নও রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পাঁচই আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মাঝেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন।

    বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না, নয়াদিল্লির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি।

    ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে একপক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে; একপক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্যপক্ষেরও সে অধিকার আছে।

    দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাদের কোনো অনুশোচনা না থাকায় বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।’

    ‘বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ,’ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতন হলে সে সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান এনে ওই অধ্যাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস করে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।

    নয়া দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাদের দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির ব্যাপারে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা তো (আওয়ামী লীগ) আদালতে যায়নি। আদালত থেকেই যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই সরকার কাজ করবে।’

    একইসাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, ‘জনগণও বিচার করবে। জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের দীর্ঘ শাসনে বিরোধী দল ও মতের মানষকে দমন-পীড়ণ চালিয়েছে; গুম, খুন করেছে। ফলে তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের ব্যাপারে জনগণও বিচার করবে।’

    এদিকে, ভারতের নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন, এমন খবর যখন আলোচনায় আসে, তখনই বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত সোমবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম না চালায়, সেজন্য ভারত সরকারের সহযোগিতা চান।

    একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে আহ্বান জানান।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া এরপর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য বিবরণীতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করতে অনুরোধ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।

    যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনটি বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। এরসাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক নেই। এবং সেখানে যে বক্তব্য আসবে, তা ভারত সরকার সমর্থন করে না।

    কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরও নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং তাতে শেখ হাসিনা সরাসরি বক্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

    বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্যই দেওয়া হোক না কেন, তাদের সমর্থন ছাড়া নয়া দিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

    আর সেকারণে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

  • ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দলটি একদিকে নিষিদ্ধঘোষিত (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), আবার মাফিয়া শক্তি। তারা মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে। এর বেশি কিছু দেখা যায় না।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্নে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল। ৫ আগস্টের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকে নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। সেই শক্তিও এই দলটির এখন আর নেই।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনের খবরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত ল ফার্মকে (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) অনুরোধ করা হয়েছে, দ্রুত বেনজীরের জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করার জন্য।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে, তা এখনই তিনি বলতে পারছেন না। বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সম্প্রতি মেট্রোস্টেশনে ‘বোমাসদৃশ বস্তু’ পাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চেয়েছিল। এর পেছনে কারা আছে, সেটি খুঁজতে তদন্ত চলছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের তুলনায় উগ্রবাদী তৎপরতা বর্তমানে অনেক কম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশে উগ্রবাদী তৎপরতা বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। কোনোভাবেই যেন উগ্রবাদী ও মৌলবাদীরা মাথা চাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁর বাংলাদেশ সফর তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি নিজেই বলে গেছেন, তারেক রহমান সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’

    আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না। এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’

    সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’র বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ-পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ছয় মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।

    এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’

    এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।

    রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’

    পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।