ট্যাগ স্পেন

  • পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়দের মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বার্সেলোনা।

    তবে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী প্রতীক এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার পর সেই আয়োজন বাতিল করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    বৃহস্পতিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে স্প্যানিশ লিগের হোম ম্যাচে নামার আগে ক্যাম্প ন্যুতে এস্তেলাদার সমর্থনে একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় একটি সংগঠনের আয়োজনে সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ছোট পতাকা বিতরণ করা হয়। গ্যালারিতেও দেখা যায় বড় আকারের বেশ কিছু পতাকা ও ব্যানার। বার্সার সংগীত বাজানোর সময় সমর্থকেরা পতাকাগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

    ম্যাচের আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার সমর্থক ক্যাম্প ন্যুর আশপাশে এস্তেলাদা হাতে মিছিলও করেন।

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলে বার্সার আটজন খেলোয়াড় ছিলেন। এরা হলেন জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পেদ্রি, পাউ কুবার্সি, গাভি, রদ্রি, দানি ওলমো ও লামিনে ইয়ামাল। কোনো ক্লাবের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ কারণেই তাঁদের সম্মান জানাতে বিশেষ সংবর্ধনার পরিকল্পনা করেছিল বার্সা।

    তবে গত সপ্তাহে এলচের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বার্সার এক তরুণ সমর্থকের কাছ থেকে পুলিশ এস্তেলাদা পতাকা নিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই সমর্থক পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে আটক করা হয়।

    এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বার্সা। ক্লাবটির দাবি, এস্তেলাদা একটি আইনসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রতীক এবং এটি প্রদর্শন করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বৈধ প্রয়োগ। একই সঙ্গে সমর্থককে আটকের পদ্ধতিকেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে বার্সা। পুলিশের বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যৌক্তিকতা ছিল না বলে মনে করে ক্লাবটি।

    বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা বাতিলের ব্যাখ্যায় বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন কিছু আয়োজন করা যাচ্ছে না। ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা উচিত। সংঘাত তৈরি করা যাবে না।’

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে এর আগে দেশটির অন্যান্য ক্লাবও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন আয়োজন করেছে। সেসব অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনের পাশাপাশি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকেও উপস্থিত রাখা হয়েছিল। তবে বার্সার ক্ষেত্রে এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে তৈরি উত্তেজনার কারণে সেই ধারাবাহিকতা আর থাকল না।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • স্পেন-মরক্কোর সংকটে কলকাঠি নেড়েছে ইসরাইল

    স্পেন-মরক্কোর সংকটে কলকাঠি নেড়েছে ইসরাইল

    সম্প্রতি মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটায় প্রবেশ করেছিল। এই ঘটনার পেছনে ইসরাইলের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেনের এক মন্ত্রী।

    জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন শুক্রবার এক্সে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘স্পেন, যারা ইসরাইলকে জ্ঞান দেওয়ার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করে না, তারা এখন তাদের অভিবাসন নীতি নিয়ে সংকটের মুখে সেউটায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের জ্ঞান দেওয়ার আগে হয়তো তাদের বিশ্বকে ব্যাখ্যা করা উচিত, কেন তারা এখনো আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক ছিটমহল ধরে রেখেছে।’

    ড্যাননের এই পোস্ট শেয়ার করে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে মন্তব্য করেন, ‘বেশ, পুরো ব্যাপারটা এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।’

    স্পেনের অনেক রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষক আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতা করার প্রতিশোধ হিসেবে স্পেনের জন্য সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

    বামপন্থী দল রিপাবলিকান লেফট অব কাতালোনিয়ার সংসদীয় মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল রুফিয়ানও দাবি করেন, এই সংকট আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থই রক্ষা করছে।

    স্পেনের সাংবাদিক হোসে ভিজনার এদিকে ২০১৯ সালের একটি পুরোনো পোস্ট শেয়ার করেন। এটি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুর করা একটি পোস্ট, যেখানে সেউটায় বিচ্ছিন্নতাবাদে ইসরাইলের সমর্থনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

    স্পেনের বিখ্যাত অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমও একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিযোগ করেন, এই সীমান্ত পারাপারের পেছনে ইসরাইলের হাত রয়েছে।

    পর্তুগালের সাবেক মন্ত্রী ও বিশ্লেষক ব্রুনো মাকায়েস বলেন, ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত না হলেও ঘটনার পর তারা গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্তমান স্পেন সরকারের বিরুদ্ধে এই ঘটনাকে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল তারা।

    মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত সেউটা স্পেনের একটি অঞ্চল। দেশটির উত্তর উপকূলে আরেকটি স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিয়া। এই দুটি জায়গাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার মধ্যে একমাত্র স্থল সীমান্ত।

    স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউটায় প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিশু।

    অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তের বেষ্টনী ঘুরে সাঁতরে ছিটমহলে ঢুকছেন অনেকে। কেউ কেউ সাঁতারের পোশাক পরে ও ভাসমান রিং ব্যবহার করে এই বিপজ্জনক যাত্রা করেন।

    ফ্রান্স জানায়, তারা স্পেনের সাথে তাদের সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইতালি হুমকি দেয়, ইইউর মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা থেকে স্পেনকে স্থগিত করা হতে পারে।

    তবে শনিবার স্পেন জানায়, প্রায় ৪৮ হাজার অভিবাসী ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেছে। স্পেনের সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

    অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু অভিবাসী সুড়ঙ্গে লুকিয়ে আছেন, আবার কেউ কেউ সেউটার রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন।

    ছিটমহলে পৌঁছাতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কী কারণে এই পারাপারের স্রোত শুরু হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের মে মাসে পশ্চিম সাহারা নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মরক্কান নাগরিক সেউটায় প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় স্পেন অভিযোগ করেছিল, মরক্কো অভিবাসীদের চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে। জবাবে মরক্কোর এক মন্ত্রী বলেছিলেন, কূটনৈতিক বিরোধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা তাদের জন্য যৌক্তিক ছিল।

    কিছু বিশ্লেষক এবার মরক্কোকেও দোষারোপ করছেন। তাদের মতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সম্প্রতি আলজেরিয়া সফরে ক্ষুব্ধ হয়েছে মরক্কো সরকার। আলজেরিয়া স্পেনের সবচেয়ে বড় গ্যাস সরবরাহকারী দেশ।

    বার্সেলোনার পম্পেউ ফাব্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেনজো গাব্রিয়েলি সেউটায় অভিবাসন নিয়ে গবেষণা করেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এক দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মরক্কো-স্পেন সীমান্ত পার হওয়া, মরক্কোর সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়।’

    সেউটার প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস এই অভিবাসনকে স্পেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানান।

    স্পেনে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত কারিমা বেনইয়াইচ বলেন, ‘আমরা সবসময় সবার জন্য বৈধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সীমান্ত পারাপার মরক্কো সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ঘটেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় না থাকলে আমাদের দেশ এমন মাত্রায় আক্রান্ত হবে, যার তুলনায় স্পেনের ঘটনাকে সামান্যই মনে হবে।’

  • রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে রোদ্রিকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইয়ান দিওমান্দের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।

    স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘মার্কা’–এর দাবি, রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস ৩০ বছর বয়সী রোদ্রিকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনায় এরই মধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ালের প্রধান কোচ হোসে মরিনহো প্রথমে মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে এনসো ফের্নান্দেস এবং মাতেউস ফের্নান্দেস সহ আরও কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রোদ্রিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে রোদ্রির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং গোল্ডেন বল জেতা এই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।

    রোদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ৬ কোটি ইউরোর বিনিময়ে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানো সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করছে রিয়াল মাদ্রিদ।

  • ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    বিশ্বকাপজয়ী দলের কথা উঠলে সাধারণত আলোচনায় আসে কৌশল, ফরমেশন কিংবা তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স। কিন্তু স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের আরেকটি বড় সূত্র আছে। তাঁর ভাষায়, দলে শুধু ভালো ফুটবলার থাকলেই হয় না, ভালো মানুষও থাকতে হয়।

    বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্পেনের সাফল্যের নেপথ্যের দর্শন তুলে ধরেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে একই ফুটবল-দর্শনে অবিচল থাকা, সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ধরে রাখা স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে।

    ভালো ফুটবলারের পাশাপাশি ভালো মানুষ কেন দরকার, সেই ব্যাখ্যায় ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে একসঙ্গে ৫২ দিন কাটিয়েছি, অলিম্পিকে ৪৫ দিন এবং অনূর্ধ্ব-২১ দলের সঙ্গে ৪৩ দিন থেকেছি। ভালো মানসিকতার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে চাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। এতে দল পরিচালনা করাটা অনেক সহজ হয়।’

    ফুয়েন্তে জানান, স্পেনের দীর্ঘ সময়ের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে একটি সমস্যাও হয়নি। এমনকি যাঁরা এক মিনিটও খেলেননি, তাঁরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, ‘বয়সভিত্তিক ফুটবলে বহু বছর কাজ করার কারণে তাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই আমরা খুব ভালোভাবে চিনি। তারা আমাদের কাঁচামাল। আমরা জানি কারা মানসিকভাবে শক্ত, বা ক্যাম্পের ৫২ দিন এক মিনিটও খেলার সুযোগ না পেলেও কারা মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে না।’

    ফুয়েন্তেকে জিজ্ঞাসা করা হয় ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সঙ্গে এই দলের কী কী মিল তিনি দেখতে পান? এই স্পেনও কি সেই ‘টিকিটাকা’র ধারকবাহক কি না। জবাবে মূল মডেল একই আছে জানিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘টিকিটাকার মতো বহুল প্রচলিত শব্দের আমার পছন্দ নয়। এটাকে আমার ‘কম্বিনেশন ফুটবল’ বলতে ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে ‘টিকিটাকা’ শব্দটিকে কিছুটা নেতিবাচকভাবেও ব্যবহার করা হতো। তা সত্ত্বেও এই ফুটবল দর্শন স্প্যানিশ ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে, যার সূচনা হয় ক্লাব পর্যায়ে। জাতীয় দল কেবল এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছে।’

    ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেনএএফপি

    ফুয়েন্তের মতে এখনকার ফুটবলে শুধু বল দখলে রাখলেই সাফল্য সম্ভব নয়। একটি দল ৩০ শতাংশ বলের দখল রেখেও ৩-১ ব্যবধানে জিততে পারে। স্পেন বর্তমানে যে মডেল ব্যবহার করে, সেটি বোঝার জন্য ইউরোপের অন্য পরাশক্তিরা জানতে আসে বলেও জানান ফুয়েন্তে, ‘ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি—সবাই এসেছে। একটা সময় ইতালি খুব ঘনঘন আসত। জার্মানিরও একটা সময় আমাদের মতো খুব শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। তবে এটি খুব সহজ নয়, বেশ জটিল। প্রথমত, এর জন্য বছরের পর বছর কাজ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, এটি ক্লাবগুলোর ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করে। কারণ, ক্লাবের কোচেরাই তরুণদের গড়ে তোলেন। একদম ছোটবেলা থেকে পাওয়া এই শিক্ষার কারণেই ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা বিশ্বের সেরা।’

  • বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন ফুটবল দল। সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা এবং রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা।

    মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর দলের প্রথম গন্তব্য ছিল সারসুয়েলা প্রাসাদ। সেখানে স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানান। এ সময় রাজা ফেলিপে বলেন, ‘এই শিরোপা শুধু একটি দলের অর্জন নয়, এটি পুরো স্পেনের গর্ব।’

    এরপর দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো সমর্থক করতালি, পতাকা ও স্লোগানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান।

    প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কোয়ার। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০ লাখ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। আলোকসজ্জা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে উঠে খেলোয়াড়রাও সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।

    উৎসবের মঞ্চে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। দুই বছর আগে বলেছিলাম, আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী। আজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখলাম।’

    মাদ্রিদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। আগামী কয়েক দিনে স্পেনের বিভিন্ন শহরেও দলটির সম্মানে সংবর্ধনা ও বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

  • মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবারসির

    মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবারসির

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর উচ্ছ্বাসের মধ্যেও প্রতিপক্ষের কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সি সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি।

    শৈশব থেকেই মেসিকে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখে আসা কুবারসি বলেন, প্রিয় খেলোয়াড়কে পরাজিত হতে দেখা তার জন্য সহজ ছিল না। তার ভাষায়, ‘তিনি আমার আদর্শ। তাই তাকে এভাবে হারতে দেখা আমার ভালো লাগেনি।’

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার প্রতি কুবারসির এই আবেগঘন মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে ফাইনালেই। তবে পরাজয়ের বেদনার মাঝেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাতে ভোলেননি লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেসি লিখেছেন, “ব্যথাটা অনেক গভীর এবং এই ক্ষত শুকাতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু আমি ভালো স্মৃতিগুলোকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই।”

    টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার নামের পাশে এখন ২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট।

    তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত সাফল্যই যে তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই ফুটে উঠেছে পুরো বার্তাজুড়ে। তিনি লিখেছেন, “যে ম্যাচগুলোতে আমরা সবটুকু উজাড় করে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, সেগুলো চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে থাকবে। পুরো দেশের সমর্থন এবং এই দলের পরিশ্রম আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে জায়গা করে দিয়েছে। আজ আমরা যা করেছি, তার মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে।”

    সমর্থকদের উদ্দেশেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, “প্রতিটি শুভেচ্ছা এবং বার্তার জন্য হৃদয় থেকে অনেক ধন্যবাদ। আবারও আমরা দেশ হিসেবে একত্রিত হতে পেরেছি এবং সবাই একসঙ্গে আর্জেন্টাইন হওয়ার বিশাল গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।”

    নিজেদের স্বপ্নভঙ্গের মাঝেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। পোস্টের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, “আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।”

    ফাইনালের পর মেসির এই বার্তা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। হতাশা, কৃতজ্ঞতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান—সবকিছু মিলিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এই পোস্টকে অনেকেই একজন সত্যিকারের কিংবদন্তির ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

  • ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। অবিশ্বাস্য এই ফাইনাল শেষে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মনে হয়েছে, ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।

    রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন তোরেস। তার সেই গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন।

    ম্যাচ শেষে ফিফার সম্প্রচারমাধ্যমকে তোরেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত এই গোলটি শুধু আমাদের কয়েকজনের নয়, স্পেনের ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। এই শিরোপা আমাদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। আজ আমরা আমাদের দেশের মানুষ থেকে অনেক দূরে আছি, কিন্তু যতটা সম্ভব তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল সব সময়ই কঠিন হয়। প্রতিপক্ষে যখন লিওনেল মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকে, তখন অবশ্যই কিছুটা দুশ্চিন্ত থাকে। কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, সেটি আমরা আবারও করে দেখাতে পেরেছি।’

    গোলের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোল করতে পেরে বিশাল স্বস্তি পেয়েছি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি সব সময় আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন। আর শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মানুষদেরই প্রাপ্য জিনিসটি দেন, যারা সত্যিই তার যোগ্য।’

  • গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

    গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। এই সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি। গোল কিংবা অ্যাসিস্টের ঝলক না থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতে নিয়েছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট ছাড়া কীভাবে সেরা হলেন তিনি?

    একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রির মূল দায়িত্ব গোলের হিসাব মেলানো নয়, বরং খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের মাঝমাঠকে সুতোয় বেঁধে রেখেছিলেন। বলের দখল রাখা, রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে ওঠার সংযোগ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই তা নস্যাৎ করে দেওয়ায় রদ্রি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। স্পেনের রক্ষণভাগ যে পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করেছে, তার পেছনে রদ্রির রক্ষণাত্মক দক্ষতার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।

    রদ্রির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানের পাতায়। টুর্নামেন্টের ৮ ম্যাচে তিনি সফল পাস দিয়েছেন ৬৫০টিরও বেশি। মাঠে তার দৌড়ের পরিধি এবং উচ্চগতির দৌড়ের সংখ্যা ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিলেন রদ্রি। দলের প্রতিটি আক্রমণ বা রক্ষণাত্মক জমাট বাঁধার মুহূর্তে তিনি ছিলেন এক অবিচল স্তম্ভ।

    কেন মেসিকেও পেছনে ফেললেন রদ্রি?ফাইনালে হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেও গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে হেরেছেন রদ্রির কাছে। অনেকের কাছে এটি অবাক করা বিষয় হলেও, ফিফার মূল্যায়নের মানদণ্ড ভিন্ন। ফিফা শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান বা গোল-অ্যাসিস্ট দেখে সেরা নির্বাচন করে না। একজন ফুটবলারের খেলার সামগ্রিক প্রভাব, দলের প্রতি অবদান, ধারাবাহিকতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। রদ্রি টুর্নামেন্টজুড়ে যে অসামান্য ভারসাম্য এবং দলগত শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন, সেটিই তাকে সবকিছুর উর্ধ্বে জায়গা করে দিয়েছে।