ট্যাগ সৌদি

  • সৌদি সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরগামী একটি গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই জনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।

    সোমবার দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কানাইঘাটের দুই প্রবাসী হলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। তারা উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা।তবে অন্য দুই জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তারা।

    দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

    দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর পাওয়ার পর তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা দেন। এ ঘটনাকে পরিবার দুটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। এরপর জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে তায়েফে নতুন করে দুই কানাইঘাট প্রবাসীর প্রাণহানির ঘটনায় উপজেলাজুড়ে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • ইরান-সৌদি ‘গোপন সমঝোতা’, নেপথ্যে পাক সেনাপ্রধান?

    ইরান-সৌদি ‘গোপন সমঝোতা’, নেপথ্যে পাক সেনাপ্রধান?

    সৌদি আরবকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে গোপনে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি-সদৃশ সমঝোতা করাতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল চাঞ্চল্যকর এক রিপোর্টে এমন দাবি করেছে।
    রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার বিনিময়ে ইরানের তেল গোপনে পাকিস্তানে রপ্তানির ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় গত মার্চের শেষ দিকে এই সমঝোতা হয়েছে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল।

    যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থতা
    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কর্মকর্তার বরাতে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, আসিম মুনির ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদির সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত একটি তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি সামনে এনে এই সমঝোতায় মধ্যস্থতা করেন।
    রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত বছরের শেষ দিক থেকে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নীরবে ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল পরিবহন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি দুই সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধের মধ্যেও তাদের জন্য বিপুল আর্থিক সুবিধা তৈরি করেছে।

    সমঝোতার পর সৌদির ওপর হামলা কমে যায়
    যুদ্ধের প্রথম মাসে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ বারবার ইরানের হামলার মুখে পড়ে। তবে সমঝোতা হওয়ার পর সৌদি আরবের ওপর হামলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ তথ্য দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকজন কর্মকর্তা।
    তবে প্রায় তিন মাস কোনো উল্লেখযোগ্য হামলা না হওয়ার পর গত সপ্তাহান্তে ইরান সৌদি আরবের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
    এরপর আসিম মুনির আইআরজিসি প্রধান আহমাদ বাহিদিকে সতর্কবার্তা পাঠান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মুনির জানান যে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এরপর থেকে সৌদির দিকে ইরানের আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।

    কেন সক্রিয় ছিল পাকিস্তান?
    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে- দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
    এ ছাড়া সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং রিয়াদকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তোলার আগ্রহও পাকিস্তানের ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ কারণেই আসিম মুনির এই মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

    সমালোচনার মুখে সমঝোতা
    মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক এই সমঝোচনার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কার্যত এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা চলমান যুদ্ধে হামলার লক্ষ্যবস্তু না হওয়ার বিনিময়ে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে যে অর্থ বা সুবিধা দাবি করছে, তাকে এক ধরনের “মুক্তিপণ” হিসেবে বৈধতা দিয়েছে।
    তবে গোপন এই সমঝোতার বিষয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • বাংলাদেশকে ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব

    বাংলাদেশকে ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

    বৈঠকে সৌদি সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সৌদি আরব কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে প্রবেশকে আরও সহজ করা এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া হজ ও ওমরাহ, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে রাষ্ট্রদূতের আলাপ হয়।

    বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি সৌদি আরবের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পা

    ঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় সরকার গুরুত্বারোপ করে।

    সাক্ষাতে সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস অ্যাম্বাসেডর খালিদ সাঈদ এম. আল হাদাল এবং ডেপুটি হেড অব দ্যা কনসুলার সেকশন মুহাম্মদ ফাহাদ ধি. আল সুহাইমি।

  • বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র টাইমস অব ইসরাইলকে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে এনে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এ অভিযানে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। তবে সৌদি সরকার এতে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

    সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউস রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়। সৌদি আরব এসব ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করছিল।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সৌদি আরবে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন গেলেও সৌদি আরব সফর করেননি। রিয়াদ এটিকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর এক সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা সফল না হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করলে সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে এ ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরও মার্কিন নীতিনির্ধারণে তাদের প্রভাব খুবই সীমিত।

    যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমে অনীহা থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়। কারণ, ইরানের পাল্টা হামলার বড় চাপ তাদেরই মোকাবিলা করতে হচ্ছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে কয়েকটি হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় রিয়াদ।

    বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। রিয়াদ চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেন আমিরাতকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে চাপ দেয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, ইরান ইস্যু তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিলে আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট থেকে সরে যায়।

    যুদ্ধ চলার সময় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়ারও অনুরোধ জানায়। তবে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে রাজি হননি।

    পরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় ওই সমঝোতা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন, এই সময়সীমা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতা আলোচনায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা ছিল না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তবে সমঝোতার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের জন্য যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

    এদিকে ইসরাইলের কর্মকর্তারা এই সমঝোতার বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এতে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি- কোনোটিই অর্জিত হয়নি।