ট্যাগ সৌদি আরব

  • নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতি। সেই মদিনার মাটিতেই যুগের পর যুগ ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে খেজুর চাষ। শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মরূদ্যান ও খেজুরবাগানে ফলছে নানা জাতের খেজুর।

    আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই নগরী কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।

    মদিনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে অঞ্চলটিতে কৃষি খাতের বাণিজ্যিক নিবন্ধন ছিল ৩৭৫টি। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৫৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনা সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেখানে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন খেজুর উৎপাদন হয়, যা দেশটির মোট খেজুর উৎপাদনের ১৮ শতাংশ।

    মদিনায় ২৬ হাজারের বেশি খেজুরের খামার রয়েছে। এসব খামারে খেজুরগাছের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। বিভিন্ন জাতের খেজুর উৎপাদন করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

    প্রতি বছর মদিনা অঞ্চল থেকে ৪ কোটি ১৫ লাখ কেজির বেশি খেজুর ৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। সৌদি আরবের মোট খেজুর রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মদিনায় ৩৯টি খেজুর কারখানা রয়েছে। দেশের ১৬১টি অঞ্চলের মধ্যে খেজুর কারখানার সংখ্যায় মদিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

    এসব কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন খেজুরজাত পণ্য ও উপজাত উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টন খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি মদিনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের রপ্তানি খাতও শক্তিশালী হচ্ছে।

    সূত্র: আরব নিউজ

  • আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। পরে জর্ডানের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের।

    এখন প্রশ্ন একটাই—লিওনেল মেসিদের সামনে কে আসছে? স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে নাকি সৌদি আরব?

    ‘এইচ’ গ্রুপে এখনও প্রতিটি দলের একটি করে ম্যাচ বাকি। শেষ রাউন্ডে স্পেন খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে, আর কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। এই দুই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কেপ ভার্দে। আফ্রিকার ছোট দেশটি যদি সৌদি আরবকে হারাতে পারে এবং স্পেন নিজেদের ম্যাচে উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে স্পেন গ্রুপসেরা হবে আর কেপ ভার্দে রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার সামনে পড়বে।

    অন্যদিকে, স্পেন যদি উরুগুয়ের কাছে হেরে যায়, তখন সমীকরণ বদলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কেপ ভার্দে-সৌদি ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে রানার্সআপ হতে পারে স্পেনও। তখন নকআউটে মেসিদের প্রতিপক্ষ হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    সৌদি আরবের সামনেও সুযোগ রয়েছে। তারা যদি কেপ ভার্দেকে হারায় এবং একই সঙ্গে স্পেন উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে সৌদিরা রানার্সআপ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া সৌদি আরবের সঙ্গে আবারও দেখা হয়ে যেতে পারে মেসিদের।

    তবে সবচেয়ে জটিল সমীকরণ উরুগুয়েকে ঘিরে। যদি উরুগুয়ে স্পেনকে হারায় এবং একই সময়ে কেপ ভার্দেও সৌদির বিপক্ষে জয় পায়, তাহলে রানার্সআপ নির্ধারণে আসবে গোল ব্যবধান। বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান সমান। গোল ব্যবধানও সমান থাকলে দেখা হবে কারা বেশি গোল করেছে। সেখানেও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    ফলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় এখনও চারটি দলেরই নাম রয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী কেপ ভার্দেই সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ। যদিও শেষ রাউন্ডের দুটি ম্যাচ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র।

    গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচগুলো তাই শুধু ওই চার দলের জন্য নয়, আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্যও সমান গুরুত্ব বহন করছে।