সৌদি আরব

  • ইরান ও মক্কা চুক্তির দেশগুলো আলোচনা চালাবে, হরমুজে সমাধানের ঘোষণা নেই

    ইরান ও মক্কা চুক্তির দেশগুলো আলোচনা চালাবে, হরমুজে সমাধানের ঘোষণা নেই

    ইরান ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন সদস্য দেশ সোমবার, ২৬ অক্টোবর নিরাপত্তা আলোচনা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি নিয়ে একটি অপ্রকাশিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    স্বাভাবিক চলাচল ফেরানো এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। যৌথ বিবৃতিতে আরও আলোচনার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়নের সময়সূচি নেই।

    ইরান ও আরব উপদ্বীপের মাঝখানে হরমুজ প্রণালি, নাসার টেরা উপগ্রহ থেকে তোলা। পাবলিক ডোমেইন, নাসা, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান সোমবার তেহরানে ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। আয়োজক ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ী।
    • চার দেশের যৌথ বিবৃতিতে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা আছে। কোনো তারিখ, বাস্তবায়নব্যবস্থা বা সমঝোতা নেই। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটনের সম্মতি নিয়ে বৈঠকেই একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গৃহীত হলে চুক্তির দেশগুলো ও কাতার এর নিশ্চয়তা দিতে পারে।
    • অতিথি তিন দেশ আগস্টে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য। এর অধীনে এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
    • হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। জুনে প্রণালি খোলার জন্য করা সমঝোতা স্মারক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে পড়ে। এখন এর শর্ত নিয়ে বিরোধ: ইরান বলছে, প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শেষ করাসহ অন্য শর্ত পূরণ করতে হবে। ওয়াশিংটন এসব শর্ত মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। শনিবার ইরান নিজে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর কথা অস্বীকার করে।
    • সোমবার সকালের লেনদেনে তেলের দাম কমে। ওই সকালের একটি প্রতিবেদনে আগের ২৪ ঘণ্টায় আটটি জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার কথা বলা হয়। যুদ্ধের আগে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ৬০।

    তেহরানে বৈঠক

    বৈঠকের প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান, ইরানের সমর্থনে তা অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গত সপ্তাহে নিজের তেহরান সফরে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সৌদি আরব পাঠায় যুবরাজের ছোট ভাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানকে। তুরস্ক পাঠায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিনকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ছিলেন। আলোচনার আগে অতিথিরা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেখা করেন।

    ইরানের ভাষ্যে আলোচ্যসূচিতে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা, এ বছর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিণতি এবং ফিলিস্তিন ও লেবানন। পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক অনাক্রমণ নেটওয়ার্ক গড়া। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, হুতিদের হামলা, প্রণালি ও অবরোধও ছিল। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সফরের মাধ্যমে নতুন করে উত্তেজনা ঠেকাতে যোগাযোগের পথ খোলা হবে। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে একই বিষয় নিয়ে কাজ করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে।

    পেজেশকিয়ান অতিথিদের বলেন, ইরান আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত এবং অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই মতভেদ মেটাতে চায়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না বলেও তিনি আবার জানান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বৈঠকটিকে অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের গড়া নিরাপত্তা কাঠামোর পথে বাস্তব পদক্ষেপ বলেন। একই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান টেলিভিশন ভাষণে সতর্ক করেন, ইরানে নতুন হামলা অঞ্চলকে সহিংসতার নতুন চক্রে টেনে নেবে। দিনের শেষে রেজায়ী বলেন, এমন সহযোগিতা অনেক আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল।

    আলোচনায় প্রতিরক্ষা চুক্তি

    অতিথি তিন দেশ ৭ আগস্ট মক্কায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। সই করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, সৌদি যুবরাজ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। এর মূলনীতি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা: এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা সবার ওপর হামলা। পাকিস্তান গত সপ্তাহে চুক্তিটি অনুসমর্থন করেছে। সোমবারের বৈঠক নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের অনুসমর্থনের প্রক্রিয়া তখনো চলছিল।

    চুক্তির সদস্যদের জড়িয়ে হামলার পর এই বৈঠক হলো। গত মাসে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা দখলের পর সৌদি আরব তাদের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা বারবার সৌদি তেল স্থাপনায় আঘাত করেছে। সোমবার তারা সৌদি পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলার দাবি করে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সৌদি আরব তা নিশ্চিত করেনি। চুক্তির রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি অক্টোবরের শুরুর দিকে রিয়াদে জরুরি বৈঠক করে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় একমত হয়।

    আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট চুক্তিটিকে ইতিবাচক বলেছেন। মিসরের সংসদ সোমবার ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে অনুমতি দিয়েছে, রিয়াদ চাইলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দিতে। কায়রো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে।

    বৈঠকের বাইরে সমঝোতার শর্ত

    সংঘাতের আট মাসে ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ইরানের নিজের বন্ধ রাখার কারণে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ। লিখিত শর্তগুলো রয়েছে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে: জাহাজ চলাচল ফিরবে, অবরোধ উঠবে, এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। দুই পক্ষ হামলা আবার শুরু করায় কয়েক সপ্তাহেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। এখনো এর শর্ত নিয়ে বিরোধ রয়ে গেছে। সোমবারের বৈঠকের আগে ইরান একটি সীমা জানায়। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করতে তেহরানের শর্ত যুক্তরাষ্ট্র না মানা পর্যন্ত অতিথি তিন দেশের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা হবে না। শর্তের মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া ও তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা আছে।

    ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ৪ অক্টোবর বলেন, স্মারকের সাত শর্ত পূরণ না হলে প্রণালি বন্ধ থাকবে। ১৭ অক্টোবরের বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, অবরোধ, তেল নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতা শেষ হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়ার ইরানের প্রস্তাব বহাল আছে।

    প্রতিবেদনে আসা প্রস্তাবগুলোর প্রেরক ও তারিখ আলাদা। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কূটনীতির চেষ্টায় ট্রাম্পের সম্মতি নিয়ে মুনির সোমবারের বৈঠকে ইরানকে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের জন্য কিছু আছে। গৃহীত হলে চুক্তির দেশগুলো ও কাতার নিশ্চয়তাদাতা হতে পারে। বৈঠকের আগে আল আরাবিয়া জানিয়েছিল, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। শনিবার ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নতুন ইরানি প্রস্তাব পাঠানো অস্বীকার করে। এই অস্বীকৃতি পাকিস্তানি কর্মকর্তার বর্ণিত সোমবার ইরানকে দেওয়া প্রস্তাবের আগের। প্রকাশিত বিবরণে দুটি একই প্রস্তাব কি না, তা প্রতিষ্ঠিত হয় না। আলাদাভাবে ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, অবরোধ শেষ হলে প্রণালি খুলতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    সপ্তাহান্তজুড়ে ট্রাম্প নিজের বক্তব্যে দুই পথই খোলা রেখেছেন। ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৮ অক্টোবর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি সামরিক অভিযান চালাতে পারে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা করলে উপসাগরের সমুদ্রতলের তারে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে তেহরান। ফ্লোরিডার এক সমাবেশেও ট্রাম্প বলেন, তেহরান রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালাতে পারে। এ বছরের ইরানবিরোধী অভিযানের নাম অনুসারে তিনি একে আরেকটি এপিক ফিউরি বলেন। রোববারও তিনি নিজেকে চুক্তি ও নতুন পদক্ষেপের মধ্যে সিদ্ধান্তহীন বলে বর্ণনা করেন। মধ্যস্থতাকারীদের সময়সূচির সামনে দুটি নির্বাচন: ইসরায়েলে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর। চুক্তির দেশগুলো যে অন্তর্বর্তী উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে, তার লক্ষ্য ওই সময়সীমা।

    ২৪ ঘণ্টায় আট জাহাজের চলাচল

    সোমবার সকালের লেনদেনে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে বলে ডিটিএন জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল সময় ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাহাজ পর্যবেক্ষণের তথ্য দিয়ে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় আটটি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। যুদ্ধের আগে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ৬০। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের চলাচলের হিসাব; নিয়মিত দিনে আটটি জাহাজ চলার হার নয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আলাদাভাবে বলেছে, প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর তারা হরমুজ দিয়ে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল বের করতে সহায়তা করেছে। পুঞ্জীভূত তেলের পরিমাণ ও এক দিনের জাহাজের সংখ্যা ভিন্ন সময় ও এককের হিসাব। এগুলো সরাসরি একই কার্যক্রমের পরিমাপ নয়।

    এরপর কী

    • চার দেশ আলোচনা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠকের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
    • ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হয়েছে। আঞ্চলিক কূটনীতির পাশাপাশি ফল ও পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনা চলবে।
    • ওয়াশিংটনকে অবরোধনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তেহরানকে জাহাজ চলাচল ও গ্রহণযোগ্য শর্ত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাকিস্তানি কর্মকর্তার বর্ণিত প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়নি।
    • দ্বিতীয় বৈঠক বা ওই প্রস্তাব গ্রহণের প্রকাশ্য জবাব ঘোষিত আলোচনার পরের পরীক্ষা হবে। আলোচনাকে স্বাগত জানানোর বক্তব্য নিজে থেকে জাহাজ চলাচলের সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করে না। যৌথ বিবৃতিতে এমন কোনো সমঝোতা ঘোষণা করা হয়নি।
  • নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতি। সেই মদিনার মাটিতেই যুগের পর যুগ ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে খেজুর চাষ। শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মরূদ্যান ও খেজুরবাগানে ফলছে নানা জাতের খেজুর।

    আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই নগরী কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।

    মদিনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে অঞ্চলটিতে কৃষি খাতের বাণিজ্যিক নিবন্ধন ছিল ৩৭৫টি। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৫৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনা সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেখানে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন খেজুর উৎপাদন হয়, যা দেশটির মোট খেজুর উৎপাদনের ১৮ শতাংশ।

    মদিনায় ২৬ হাজারের বেশি খেজুরের খামার রয়েছে। এসব খামারে খেজুরগাছের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। বিভিন্ন জাতের খেজুর উৎপাদন করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

    প্রতি বছর মদিনা অঞ্চল থেকে ৪ কোটি ১৫ লাখ কেজির বেশি খেজুর ৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। সৌদি আরবের মোট খেজুর রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মদিনায় ৩৯টি খেজুর কারখানা রয়েছে। দেশের ১৬১টি অঞ্চলের মধ্যে খেজুর কারখানার সংখ্যায় মদিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

    এসব কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন খেজুরজাত পণ্য ও উপজাত উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টন খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি মদিনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের রপ্তানি খাতও শক্তিশালী হচ্ছে।

    সূত্র: আরব নিউজ

  • আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। পরে জর্ডানের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের।

    এখন প্রশ্ন একটাই—লিওনেল মেসিদের সামনে কে আসছে? স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে নাকি সৌদি আরব?

    ‘এইচ’ গ্রুপে এখনও প্রতিটি দলের একটি করে ম্যাচ বাকি। শেষ রাউন্ডে স্পেন খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে, আর কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। এই দুই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কেপ ভার্দে। আফ্রিকার ছোট দেশটি যদি সৌদি আরবকে হারাতে পারে এবং স্পেন নিজেদের ম্যাচে উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে স্পেন গ্রুপসেরা হবে আর কেপ ভার্দে রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার সামনে পড়বে।

    অন্যদিকে, স্পেন যদি উরুগুয়ের কাছে হেরে যায়, তখন সমীকরণ বদলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কেপ ভার্দে-সৌদি ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে রানার্সআপ হতে পারে স্পেনও। তখন নকআউটে মেসিদের প্রতিপক্ষ হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    সৌদি আরবের সামনেও সুযোগ রয়েছে। তারা যদি কেপ ভার্দেকে হারায় এবং একই সঙ্গে স্পেন উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে সৌদিরা রানার্সআপ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া সৌদি আরবের সঙ্গে আবারও দেখা হয়ে যেতে পারে মেসিদের।

    তবে সবচেয়ে জটিল সমীকরণ উরুগুয়েকে ঘিরে। যদি উরুগুয়ে স্পেনকে হারায় এবং একই সময়ে কেপ ভার্দেও সৌদির বিপক্ষে জয় পায়, তাহলে রানার্সআপ নির্ধারণে আসবে গোল ব্যবধান। বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান সমান। গোল ব্যবধানও সমান থাকলে দেখা হবে কারা বেশি গোল করেছে। সেখানেও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    ফলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় এখনও চারটি দলেরই নাম রয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী কেপ ভার্দেই সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ। যদিও শেষ রাউন্ডের দুটি ম্যাচ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র।

    গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচগুলো তাই শুধু ওই চার দলের জন্য নয়, আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্যও সমান গুরুত্ব বহন করছে।