চার দশকের দাম্পত্য, শৈশবের প্রেম, সংসারের নানা টানাপোড়েন—সবকিছু পেরিয়ে এখন নিজের পরিচয়েই বাঁচতে চান সুনীতা আহুজা। গোবিন্দর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও ভেঙে পড়তে চান না তিনি। বরং ঈশ্বরের ওপর সব ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজ ও জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেতার স্ত্রী।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাম্পত্য জীবন, সন্তান ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সুনীতা।
অভিনয়ে আসার সুযোগ থাকলেও সংসারের জন্য সেই পথ বেছে নেননি সুনীতা। তিনি জানান, গোবিন্দর সঙ্গে ‘তন বদন’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তার বয়স কম। ১৫ বছর বয়সে গোবিন্দর সঙ্গে আংটি বদল হয়েছিল। দশম শ্রেণির পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয়। মায়ের পরামর্শে সংসারে মন দিয়েছিলেন তিনি।

সুনীতা আহুজা ও গোবিন্দ। ছবি:ফেসবুক
নারীদের উদ্দেশে সুনীতার পরামর্শ, জীবনে ইতিবাচক থাকতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘নিজেকে ভালোবাসুন আর ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখুন। পুরুষের ওপর একেবারে পুরোপুরি নির্ভরশীল হবেন না। আমি কাঁদিও ভগবানের কাছে, একা। আমি এত বছর পর গোবিন্দর স্ত্রী থেকে সুনীতা হয়েছি।’
নিজের ভালো থাকার মন্ত্রও জানিয়েছেন তিনি। সুনীতার ভাষায়, ‘আমার কাছে ভালো থাকার মন্ত্র হল নিজেকে ভালোবাসা। নিজের জন্য ভাবো, নিজের জন্য বাঁচো আর আনন্দ করো, ভালোবেসে থাকো। আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। অনেকে আমাকে ট্রোল করেন। যারা ট্রোল করেন তারা অবশ্য মিথ্যা কথা বলেন। আমার বয়স এখন ৫৬। আমার মতো বয়সের মানুষ অনেকে ভাবেন, কাজ করে আর কী হবে। কিন্তু আমি কাজ করতে চাই।’
গোবিন্দ ও তার বান্ধবী কোমল রানিকে ঘিরে নানা আলোচনা প্রসঙ্গে অবশ্য স্বামীর জীবন নিয়ে কথা বলতে চাননি সুনীতা। তিনি বলেন, ‘গোবিন্দর জীবন নিয়ে কিছু বলার নেই আমার। শুধু নিজের বিষয়ে কথা বলব। তবে হ্যাঁ, আমিও মানুষ, আমার খারাপ লাগলে ভগবানের কাছে গিয়ে বসি। আর আমি কর্মে বিশ্বাসী। ভালো মানুষকে যে দুঃখ দিচ্ছেন, যিনি আমাকে কাদাচ্ছেন, যিনি আমার সংসার ভাঙছেন, ভগবান তাকে দেখে নেবেন। তার ওপর সব ছেড়ে দিয়েছি।’

সুনীতা আহুজা। ছবি:ফেসবুক
গোবিন্দর সঙ্গে তার সম্পর্কের দীর্ঘ পথচলার কথাও স্মরণ করেন সুনীতা। ১৫ বছর বয়সে আংটি বদল, ১৮ বছরে বিয়ে এবং ১৯ বছর বয়সে মা হওয়া—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো তারা একসঙ্গেই পার করেছেন।
তার কথায়, ‘জীবনের সব লড়াই আমরা একসঙ্গে লড়েছি। এটা গোবিন্দরও ভাবা উচিত। সব কিছু নারীই কেন ভাববে? তাঁরাই কেন মন খারাপ করে থাকবে সবসময়?’
এরপর সুনীতা বলেন, “এক হাতে তো তালি বাজে না, এটা তার সমস্যা। যেখানে তার খুশি তিনি থাকুন। আমি চাই তিনি ভালো থাকুন। নিশ্চয় চল্লিশ বছরে আমার কাছে তিনি কিছু পাননি, যা এখন তিনি পাচ্ছেন। ভগবান ওদের আশীর্বাদ দিক। গোবিন্দ আমার তো ছোটবেলার প্রেম, আমি তো তাও শক্ত হয়ে আছি, কাজ করে যাচ্ছি। যার সেখানে সুখ, খুশি সেখানে থাকুন, সকলের মুখের হাসি অটুট থাক।”
গোবিন্দ ও সুনীতার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সিনেমায় কাজ করেছেন সুনীতা। ছেলের প্রসঙ্গ উঠতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, “আমি বাচ্চাদের কখনও বলি না, বাবাকে ছেড়ে দাও। এটা বলার কোনো মানে হয় না। ওদের বাবা গোবিন্দ। আমি শুধু বলি, আমার মতো শক্ত হও। আমার ছেলে সিনেমায় আসছে, ও খুব পরিশ্রম করেছে। আমি চাই ওর ছবি সুপারহিট হয়ে যাক। আমি চাই ওর উন্নতি হোক।’

সুনীতা আহুজা। ছবি:ফেসবুক
সম্প্রতি সুনীতাকে আদালতের বাইরে দেখা যাওয়ার পর গুঞ্জন ছড়ায়, তিনি নাকি গোবিন্দকে বিচ্ছেদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোর্টে যাওয়া মানে বিচ্ছেদ চাইতে যাওয়া নয়। সম্পত্তি বাচ্চাদের নামে করার জন্যও যেতে পারি।’
এত আলোচনা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের মধ্যেও ইতিবাচক থাকার বিষয়ে সুনীতার বক্তব্য, ‘কত সুন্দর অভিনয় করছি দেখুন। জীবনে এত চিন্তা, আমি এত হাসছি। একটা তো জীবন দিয়েছেন ভগবান, সকলকে বলি খুব আনন্দ করুন। নিজের কথা ভাবুন। ভালোবাসা, সম্পর্ক সব মিথ্যা হতে পারে। আর জীবনে টাকা সবচেয়ে বড়, আর নিজের নাম। এখন শুধু সুনীতা সুনীতা।’
