ট্যাগ সিনেমা

  • নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করতে খুব একটা সময় লাগেনি দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। তারপরও অন্যান্য তারকাদের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি সেই জুয়েলারি প্রদর্শনীতে পরিহিত তাঁর পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে। নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের এমন অচরণ সহজভাবে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। তাই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে।

    আজকাল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।

    তাঁর কথায়, অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। যারা এ কাজটি করেন, তারা বোঝার চেষ্টা করেন না, পর্দার বাইরেও শিল্পীদের আলাদা একটা জীবন আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অস্বস্তির পোশাকটি নয়; বরং সেখানে উপস্থিত কিছু ফটোগ্রাফারদের আচরণ তাঁকে বিব্রত করেছিল। তাঁর কথায়, ক্যামেরার ফোকাস তাঁর মুখের পরিবর্তে তাঁর শরীরের দিকে ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। নেটিজেনরা তাঁর অস্বস্তি লক্ষ্য করলেও আসল কারণ বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

    ট্রলিংয়ের জবাব দিয়ে অভিনেত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি কেবল কোনো নারীর শরীর বা পোশাকের দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?’

    তাঁর মতে, শালীনতা কেবল পোশাকে থাকে না, মানুষের আচরণেও তার প্রকাশ ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জিডিপি কিংবা বয়স্ক বাবা-মাকে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন নারীর পোশাক নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা হবে– তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন জগতে মহিলাদের পোশাক ও নৈতিকতা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ অভিনেত্রীর এই সাহসী মনোভাবকে সমর্থনও জানিয়েছেন।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিনয়ে ক্যারিয়ার ট্রলে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর কথায়, ‘কুরুপ’-এর সাফল্যের পর দুই বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি। সমালোচক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই এটি ব্যর্থ হয়। কেবল সিনেমা ফ্লপই হয়নি, এর কলাকুশলী বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান ও তিনি ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এই ট্রলিং একটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, মালয়ালম সিনেমায় তাঁর কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।

    তিনি জানান, ওই ঘটনার পর নির্মাতারা তাঁকে অভিনয়ে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং ট্রলিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দুলকারের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে দুলকার সালমানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    আশঙ্কা ছিল, তাদের জুটিকে নিয়ে মানুষ যদি আবারও ট্রল বা উপহাস শুরু করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে হলে, তার পেছনে সঠিক যুক্তি থাকা উচিত।

  • সোহেল রানার ইচ্ছা মনে রেখে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

    সোহেল রানার ইচ্ছা মনে রেখে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

    চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও চিত্রনায়ক রুবেল দুই ভাই। বড় ভাইয়ের প্রতি রুবেলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা অনেকবারই প্রকাশ্যে এসেছে। এবার প্রায় ৪০ বছর আগের একটি ইচ্ছের কথা মনে রেখে সোহেল রানাকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন রুবেল। সেই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে গেছেন সোহেল রানা।

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রায় চার দশক আগের সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন সোহেল রানা। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য একসময় তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, শহীদুল ইসলাম খোকন ও ছোট ভাই রুবেল।

    সোহেল রানা লেখেন, “প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। চিকিৎসার জন্য আমাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কিছু পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক বললেন, “তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ।” মনের আনন্দে হাসপাতাল ছেড়ে হোটেলে উঠলাম। বিকেলে বেরিয়ে গেলাম।”

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    অভিনেতা জানান, দামি ঘড়ি কেনার প্রতি তার বরাবরই আগ্রহ ছিল। তখন তার হাতে রাডোর একটি ঘড়ি ছিল। সেটি অত্যন্ত টেকসই হওয়া সত্ত্বেও নতুন একটি দামি ঘড়ি কেনার ইচ্ছা হয়েছিল তার।

    সোহেল রানা বলেন, ‘দামি ঘড়ি কেনার আমার একটা শখ ছিল। রাডো হাতে ছিল, যার ওপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম। সঙ্গে রুবেল এবং খোকন।’

    দোকানের বিশাল শোরুমে সবচেয়ে দামি একটি ঘড়ি তার সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু দাম শুনে চমকে যান সোহেল রানা। তার কাছে তখন সেই ঘড়ি কেনার মতো অর্থ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঘড়িটি না কিনেই ফিরতে হয় তাঁকে। তবে ঘড়িটির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা রুবেলের চোখ এড়ায়নি।

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    প্রায় ৪০ বছর পর সেই পুরোনো স্মৃতিই আবার ফিরিয়ে আনলেন রুবেল। সেই একই ঘড়ি না হলেও রুবেল যে ঘড়িটি উপহার দিয়েছেন, সেটিও অত্যন্ত দামি।

    সোহেল রানা লেখেছেন, “গতকাল আমার বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল বলল, ‘যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে তার দাম এখন আমার নাগালের বাইরে এক কোটি থেকে দেড় কোটি। কিন্তু তারপরেও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলবো না।”

    তিনি লেখেন, ‘দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে চল্লিশ বছর পরে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এলো।’

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    রুবেল ঘড়িটি পরিয়ে দিয়ে তাকে সব সময় সেটি পরে থাকার কথাও বলেন। ছোট ভাইয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, কথাটা না বললেও চলত। আমৃত্যু এই ঘড়ি আমার হাতেই থাকবে।’

    প্রায় চার দশক আগের একটি ছোট্ট ইচ্ছেকে মনে রেখে ছোট ভাইয়ের এমন উপহার যে সোহেল রানার কাছে শুধু দামি ঘড়ি নয়, বরং ভালোবাসার স্মারক—তাঁর আবেগঘন লেখাতেই সেটি স্পষ্ট।

  • আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব?

    আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব?

    ছোটপর্দার ব্যস্ততা, ওটিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত— সব মিলিয়ে অভিনয় জীবনে নানা ব্যস্ততার মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তবে এবার বড় পর্দাকে ঘিরেও নতুন করে ভাবছেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ বিরতির পর সিনেমায় নিয়মিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ৪টি সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকদের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে।

    অপূর্বর চলচ্চিত্রযাত্রা অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২০১৫ সালে ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ দিয়ে সিনেমায় অভিষেকের পর বড় পর্দা থেকে প্রায় এক দশক দূরে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে টালিউডের ‘চালচিত্র’ দিয়ে আবারও সিনেমায় ফেরেন। এবার সেই বিরতি আর দীর্ঘ করতে চান না। যদিও আলোচনায় থাকা চার সিনেমার কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    এ বিষয়ে অপূর্বের অবস্থানও বেশ সতর্ক। তিনি বলেন, ‘এখনো আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। শুধু এতটুকু বলতে পারি, একসঙ্গে ৪টি সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, শুটিং শুরু হওয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আর হয় না। এ কারণে আগে থেকে বলতে চাই না। কোনো কারণে পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি না হলে দর্শকের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে। যখন বুঝতে পারব আসলেই হচ্ছে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানাব।’

    এদিকে দেশে ফিরেই নাটকের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অপূর্ব। বর্তমানে মাসরিকুল আলমের পরিচালনায় একটি নাটকের শুটিং করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী শার্লিন ফারজানা। দীর্ঘ ছয় বছর পর এই জুটিকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে ছোট পর্দায়।

    একটি নাটকের কাজ শেষ করেই থামছেন না অপূর্ব। পরপর আরও ৭টি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। এসব নাটকের নির্মাতা হিসেবে থাকছেন জাকারিয়া সৌখিন, সৈয়দ শাকিল, মুরসালিন শুভ, মাহমুদুর রহমান হিমি ও রুবেল হাসান। এই ব্যস্ততা শেষ করে ফের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। বছরের শেষ দিকে দেশে ফিরে ঈদের ওটিটি কনটেন্ট ও টেলিভিশন নাটকের কাজে যুক্ত হবেন তিনি।

    অভিনয়ের বাইরে গান নিয়েও সম্প্রতি দর্শকদের সামনে নতুনভাবে হাজির হয়েছেন অপূর্ব। ৮ আগস্ট নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘অপূর্ব মিউজিক্যাল নাইট’-এ প্রায় দুই ঘণ্টা দর্শকদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। গান পরিবেশনের পাশাপাশি গল্পের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি জমিয়ে তোলেন এই অভিনেতা।

    নিউইয়র্কের ওই আয়োজনের সাফল্য এবার নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি শহর থেকে কনসার্টে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন অপূর্ব। তবে একসঙ্গে সব প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা নেই তার। সময় নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই পরবর্তী কনসার্টগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।

    ফলে সামনে অপূর্বর ব্যস্ততা শুধু নাটককেন্দ্রিক থাকছে না। সিনেমায় নতুন কাজ, ওটিটি, টেলিভিশন এবং কনসার্ট—সব মাধ্যমেই নিজের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছেন এই অভিনেতা।

  • ‘আমরা কখনও এটা করিনি’

    ‘আমরা কখনও এটা করিনি’

    চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে সংলাপের সংখ্যা গোনার চেয়ে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও গভীরতাকে প্রাধান্য দেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তার অভিনীত তেমনই একটি সিনেমা ‘মাস্তুল’। আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে এটি। সেই উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

    সিনেমায় বাবুর কোনো সংলাপ নেই, তবে নিখুঁত অভিনয় আর ভাব-অভিব্যক্তিতে পর্দায় চরিত্রটি জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানালেন এই অভিনেতা।

    সিনেমাটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ পাচক মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের সমীকরণে পর্দায় উঠে এসেছে নদী বন্দরের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা, একাকীত্ব, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বেঁচে থাকার লড়াই।

    ‘মকবুল’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাবু। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আমাদের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, যারা স্ক্রিপ্ট পেলে কয়টা সংলাপ আছে তা মার্ক করে। কিন্তু থিয়েটার থেকে আমরা যারা এসেছি, আমরা কখনও এটা করিনি। অভিনয় আসলে শুধু সংলাপ না, এটি অ্যাকশন ও রিঅ্যাকশন। আমার চরিত্রটির জার্নি বা গ্রাফটা কেমন, সেটাই মূল বিষয়। আমরা সবসময় চেষ্টা করি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকার।’

    ‘মাস্তুল’ দেখার আহ্বান জানিয়ে বাবু বলেন, ‘আপনারা সিনেমাটি দেখেছেন, সবাইকে অনুরোধ করব পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখার। সিনেমাটি দেখে একটা গল্প নিয়ে ফিরবেন।’

    এ সিনেমায় ফজলুর রহমান বাবু ছাড়াও অভিনয় করেছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যাসহ অনেকে।

    সিনেমার জন্য অভিনেতা বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাস্টিং ফিলোসফি খুবই সিম্পল। আমার কল্পনার চরিত্রটির সাথে সামনে থাকা একজন রক্ত-মাংসের মানুষের অবয়ব যখন মিলে যায়, তখন তাকেই কাস্ট করি। এই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি অডিশন দিতে হয়েছে “সুকানি” চরিত্রটির জন্য। অনেক নামী অভিনেতা এই চরিত্রের দৌড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমরা দীপক সুমনকে বেছে নিয়েছি, তার কাজের কোনো তুলনা নেই।’

    নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমি যে সিনেমা দেখতে চাই, সেটাই বানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের সিনেমা দেখার মতো একটি দর্শকশ্রেণী বাংলাদেশে আছে। হয়তো সংখ্যায় খুব বড় নয়, কিন্তু দিন দিন সেই দর্শক বাড়ছে।’

    বিশেষ এই প্রদর্শনীতে দেশের শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী শেষে ‘মাস্তুল’র মেকিং ও থিমের প্রশংসা করেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’খ্যাত পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের। তিনি বলেন, ‘পুরো সিনেমাটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। এটি দেখতে অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের মতো মনে হলেও ভেতরে একটি দারুণ গল্প রয়েছে। বিশেষ করে সিনেমায় যে জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা আমাদের অনেকের কাছেই বেশ অচেনা। এমন একটি ভিন্নধর্মী ও সুন্দর থিম নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ।’

    উল্লেখ্য, গত বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার পায় মাস্তুল। এরপর একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

  • জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাষ্ট্র যদি জুলাই নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য ফান্ড না দেয়, তাহলে আমি নিজের গাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে হলেও সেই ফান্ডে টাকা দেব।’ যোগ্য চলচ্চিত্র পরিচালকদের এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফান্ডের জন্য প্রয়োজনে আমার রক্ত বিক্রি করতেও দ্বিধা করব না।’

    শনিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী যারা জুলাই বিপ্লবকে ‘জঙ্গি কর্মকাণ্ড’ বা ‘সিডিআই’ বলে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে সঠিক ইতিহাসের চলচ্চিত্র নির্মাণ খুবই জরুরি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইতিহাসের এই বীরত্বগাথাকে অমর করে রাখতে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জুলাইয়ের ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

    জুলাই বিপ্লবকে একটি মহাকাব্যিক বিপ্লব এবং অসম মহাযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘একপক্ষ অস্ত্র এবং অন্যপক্ষ বুককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ তিনি হাসপাতালে আহতদের ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তৎকালীন স্বৈরশাসকের নির্দেশে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, যার ফলে আহতদের অস্ত্রোপচার করা হয়নি এবং ড্রেসিংয়ের সময় অ্যানেস্থেশিয়া পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

  • যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেড়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, পুরস্কার জেতার খবরও আসছে নিয়মিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) ২০২৬-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা ‘রইদ’, ‘দেলুপি’ ও ‘বালুর নগরীতে’।

    ২ থেকে ৬ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স। চার দিনের এই বঙ্গ সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উদ্‌যাপন করা হয় এই আয়োজনে। উৎসবের শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান। উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন সিনেমাটির। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মানুষের বাগান। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঁচটি গল্প নিয়ে এগিয়েছে মানুষের বাগান সিনেমার কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।

    এদিকে আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর। উৎসবের বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের দেলুপি এবং মেহেদি হাসানের বালুর নগরীতে।

    এই উৎসবে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। এই বিভাগে আরও রয়েছে আফগানিস্তানের দুটি, নেপালের দুটি ও শ্রীলঙ্কার একটি সিনেমা। এর আগে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে রইদ, দেলুপি ও বালুর নগরীতে। রইদ ও দেলুপি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া রইদ এখনো চলছে সিনেপ্লেক্সে

  • হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    ঐতিহাসিক ও মহাকাব্যিক গল্পের ক্ষেত্রে হলিউড পরিচালকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় লোকেশন মরক্কোর ওয়ারজাজাত শহর। রিডলি স্কটের সাম্প্রতিক সৃষ্টি ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’সহ অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমার সেট পড়েছে সেখানে। এবার সেই ওয়ারজাজাতকে কেন্দ্র করে ফিল্ম সিটি নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে মরক্কো সরকার। সেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল ফিল্ম প্রোডাকশন হাব, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা সিটি’।

    মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত ২৭ জুন। ওয়ারজাজাত শহরের মূল প্রবেশদ্বারে ২৪ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই সুবিশাল সিনেমা সিটি। মরক্কো সরকার এই প্রকল্পে ২৪০ মিলিয়ন মরোক্কান দিরহাম বিনিয়োগ করছে।

    অ্যাটলাস পর্বতমালা ও সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী এই সিনেমা সিটি মূলত একটি ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একটি সিনেমা বা সিরিজের প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে শুটিং, ভিএফএক্স এবং মুক্তি পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন, তার সবই মিলবে এক ছাদের নিচে।

    এই সিনেমা সিটিতে থাকবে বিশ্বমানের একাধিক সাউন্ড স্টেজ, এডিটিং ও স্ক্রিনিং রুম। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ইমারসিভ প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে আলাদা ডেডিকেটেড স্পেস। স্থানীয় কলাকুশলী ও নতুন প্রতিভার ব্যক্তিদের বিভিন্ন কারিগরি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি শুটিং টিমের আবাসের জন্য আধুনিক হোটেল সুবিধা।

    বর্তমানে হলিউডে সিনেমা নির্মাণের খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় সেখানকার বড় বড় স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কম খরচে উন্নত সুবিধার খোঁজে মরক্কোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে। মরক্কো সরকারও এই সুযোগ লুফে নিতে আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ রিবেট, সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি, শুটিংয়ের যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।

    গত কয়েক বছরে ওয়ারজাজাত শহরে ইন্ডিয়ানা জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’, নিকোলাস কেজের ‘লর্ড অব ওয়ার’-এর সিকুয়েল, ফরাসি ঐতিহাসিক এপিক ‘ডি গল: রেজিস্ট্যান্স’সহ অনেক আলোচিত সিনেমার শুটিং হয়েছে। এর বাইরেও বিশ্বখ্যাত সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর কিছু অংশ এবং মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’-এর মতো ইতিহাস কাঁপানো প্রজেক্টের সেটও বসেছিল সেখানে।

    মরক্কো সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মরক্কোয় শুটিং হওয়া বিদেশি প্রজেক্টগুলো থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। নতুন সিনেমা সিটি চালু হলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    ভারতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে পাঞ্জাবের বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার পর তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের দর্শকদের জন্য ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। জশবন্ত সিং খালরা নামক এক শিখ মানবাধিকারকর্মীর জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ।

    ছবিটি আকস্মিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার তীব্র নিন্দা করেছেন স্বয়ং দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না।’

    বিখ্যাত বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ দোসাঞ্জ এই ছবিটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্থবহ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ভাই জশবন্ত সিং খালরা জির আত্মত্যাগ এবং মানবতার প্রতি তাঁর অবদানই ছিল এই চলচ্চিত্রে আমার যুক্ত হওয়ার মূল কারণ। আমি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

    ছবিটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা দোসাঞ্জ আগেই করেছিলেন। গত শনিবার এক ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, সোমবারের মধ্যে ছবিটি নামিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো চিন্তা নেই, আপনারা এটি ডাউনলোড করে নিন।’

    সোমবার রাজস্থানে খোলা আকাশের নিচে প্রজেক্টরে ছবিটির একটি গণপ্রদর্শনীর ভিডিও ক্লিপ এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করে দোসাঞ্জ পাঞ্জাবিতে লেখেন, ‘হুন নি রুকনি ফিল্ম। খালরা সাব দি আওয়াজ নু কোই নি দাবা সাকদা।’ (অর্থাৎ, এই ছবি আর থামানো যাবে না। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না)।

    কী বলছে জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ?

    হানি ত্রেহানের পরিচালনায় এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও অর্জুন রামপাল অভিনীত এই ছবিটিতে মূলত ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হাজার হাজার মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণ ও সৎকারের লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের বাইরে ‘জি-ফাইভ গ্লোবাল’ প্ল্যাটফর্মে ছবিটি এখনো দেখা গেলেও, ভারতের ক্যাটালগ থেকে এটি তুলে নেওয়া হয়েছে। জি-ফাইভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ‘মুক্তির পর থেকে “সতলুজ” ছবিটির প্রতি দর্শকদের সাড়া সত্যিই অভিভূত করার মতো। আমরা ছবিটির সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আছি… তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ থাকবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ উপায়ে ছবিটি যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

    রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ

    ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলো একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে।

    শিরোমনি আকালি দল (এসএডি) দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল এক পোস্টে বলেন, ‘এটি আমাদের যৌথ স্মৃতি, সত্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক নির্লজ্জ আঘাত। পাঞ্জাবকে তার অতীতের অপ্রীতিকর ইতিহাসের মুখোমুখি হতে দেওয়া উচিত, তা চাপা দেওয়া কোনো সমাধান নয়।’

    কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা অবিলম্বে ছবিটি পুনরায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ছবিতে প্রদর্শিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আদালতের রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    আম আদমি পার্টির (এএপি) সংসদ সদস্য মালবিন্দর সিং কাং সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এই ছবিটি ব্লক করে বিজেপি তাদের আসল মুখ উন্মোচন করেছে। পাঞ্জাবের সত্য প্রকাশে তাদের ঐতিহাসিক ভয় আবারও স্পষ্ট হলো।’

    শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির (এসজিপিসি) প্রধান সচিব কুলবন্ত সিং মানান বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, পাঞ্জাবের চরমপন্থী সময়কালের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত এই ছবি দেখার এবং সে সম্পর্কে নিজস্ব মতামত তৈরি করার অধিকার জনগণের রয়েছে।

    তিন বছরের সেন্সরশিপ জটিলতা

    চলচ্চিত্রটির এই ওটিটি মুক্তি সহজ ছিল না। মূলত ‘ঘাল্লুঘারা’ (শিখদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক গণহত্যা নির্দেশক শব্দ) নামে ২০২২ সালে ছবিটি প্রথম সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সে সময় বোর্ড ছবিটির ১২৭টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ দেয় এবং ছবির নাম বদলে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ রাখার কথা বলে।

    প্রযোজকেরা প্রথমে বম্বে হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। তিন বছর ধরে জটিলতা চলার পর এবং ২০২৩ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রিমিয়ার থেকে ছবিটিকে সরিয়ে নেওয়ার পর, অবশেষে গত ৩ জুলাই ‘সতলুজ’ নামে ছবিটি ভারতের জি-ফাইভে মুক্তি পায়।

    পরিচালক হানি ত্রেহান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, থিয়েটার রিলিজ পাওয়ার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ওটিটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেন্সর বোর্ডের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘ বিলম্বের পর, ছবির প্রযোজকেরা সেন্সর সার্টিফিকেট ছাড়াই সরাসরি ওটিটি মুক্তির পথ বেছে নেন। দিলজিৎ দোসাঞ্জও দাবি করেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়াই স্ট্রিম করা হয়েছিল।

    কেন জশবন্ত সিং খালরা ও এই চলচ্চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    পাঞ্জাবের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে এই ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। শিখ অধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরা ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাব পুলিশের দ্বারা বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা প্রায় ২৫ হাজার মৃতদেহের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেন। তাঁর এই তদন্তের ফলে শত শত পুলিশ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

    ১৯৯৫ সালে জশবন্ত সিং খালরাকে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) তদন্তের পর ২০০৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

    চলচ্চিত্রটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও পক্ষপাতমূলক সেন্সরশিপের বিতর্ক নতুন করে উসকে গেছে।

    সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে উগ্র ডানপন্থী ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ছবি যেমন—‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (২০২২), ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (২০২৩) বা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (২০২৫) কোনো বাধা ছাড়াই অবাধে প্রদর্শিত ও স্ট্রিম হচ্ছে, সেখানে পাঞ্জাবের বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি মানবাধিকার বিষয়ক চলচ্চিত্রকে কেন সেন্সরশিপের বেড়াজালে আটকে ভারতের দর্শকদের থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।